পুলিশ যখন বউ। রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প

#পুলিশযখনবৌ
#পিচ্চি_পণ্ডিত
— অভ্র অভ্র?? (আম্মু)
— উউউউ আম্মু।(আমি)
— কি রে কলেজ যাবি নাহ।
— আর একটু ঘুমিয়ে নিই তারপর…
— এই ওঠ বলছি, টাইম দেখেছিস।
— পরে দেখে নিবো আম্মু, এখন যাও তো।
— এই উঠ, ১০ টা বেজে গেছে।
— হায় আল্লাহ, আর একটু আগে ডাকবা তো😲
এবার আমি এক লাফ দিয়ে সোজা ফ্রেশ রুমের দিকে দৌড়ালাম,
শালা এখন আর ভালো লাগেই না, এতো রোদ আর গরম, শালা মনে হচ্ছে এবার মাইয়াদের মতো বোরখা পরে বাইরে বের হওয়া লাগবে, 😭
আমি কিছু নাকে মুখে গুজে বের হয়ে গেলাম,
বুঝলেন না তো কিছু খেয়ে……..
আগে আপনাদের পরিচয়টা দিয়ে ফেলি….
আমি অভ্রনীল, আমি স্টাডি করি অর্নাস ৩য় বর্ষে।
আর কিছু জানতে হলে আমার প্রোফাইল চেক করেন 😊,
আর আমার একটা বদ অভ্যাস মাইয়াদের দেখলেই টিস করতে ইচ্ছে করে, কারন আমার গফ নেই, তাই একটু বানানোর চেষ্টাই😁
আমি এবার রাস্তার মধ্যে হাঁটতেছি, কারন আমার বাসা থেকে কলেজ মাত্র ১৫ মিনিটের রাস্তা।
রাস্তার ওপারে দেখি একটা নীল শাড়ি পরে একটা মাইয়া দাঁড়াই আছে, আরে ভাই আমি বিনা টাকাই ক্রাশ খাইলাম রে প্রতিদিনের মতো না আজ একটু অন্য ফিলিংস আসছে।
আর আমার প্রিয় কালার নীল, ওয়াও😍
মাইয়াকে পুরাই জোশ লাগতাছে……
আমার আবার মাইয়া দেখলে কোনোকিছু মুখে আটকায় না, প্রতিবারের মতো আজও
— এই যে ফুলটুসি, ক্রাশ খাইছি, টাকা দিবেন নাহ, নাম্বার দিবেন।(আমি)
মাইয়াটা কিছুক্ষন পরে আমার দিকে তাকালো,
আরে ভাই তাকিয়েছে মানে ফেসেছে, তাই আমি আমার একটু ক্ষাত চুল গুলারে হাত বুলিয়ে ক্ষাত মার্কা স্টাইল করে নিলাম।
আরে ভাই এ মাইয়া তো আমার দিকে আসছে।
অভ্র তুই খুব লাকি রে, মনে হচ্ছে তোকে আজ প্রপোজ করবে,
মাইয়াটা কাছে আসতেই যেন আমার কেমন হওয়া শুরু হয়ে গেলো……
এবার মাইয়াটা……
— এই মি. আপনি কে? আর আপনাকে টাকাও দিবো না আর নাম্বারো দিবো না।(মাইয়াটা)
— আপনার মতো দজ্জাল মাইয়া মাইরি আমি এই তল্লাটে দেখি নাই।
— ওই দজ্জাল কারে বলো শুনি, আর আমি কে জানেন???(আমি)
— উহুহুহুহুহু কোথাকার কে আসছে রে, আর আপনি দজ্জাল না দজ্জালের শাশুড়ি।
— ওয়েট দেখাচ্ছি মজা।
দেখি এবার মোবাইল বের করলো…..
হায় হায় আল্লাহ, কি সৌভাগ্য আমার😇
ভাইরে ফোন নাম্বার দিবে মনে হচ্ছে😍
আর আমার মতো স্মার্ট পোলারে কেউ নাম্বার না দিয়ে পারে😎
— বুঝলাম, আমায় নাম্বার দিবেন তো।
— তোর দাদারে দিবো, ওয়েট।
দেখি কাকে ফোন দিলো……..
দেখি সঙ্গে সঙ্গে কিছু পুলিশ এসে………
— কি হয়েছে ম্যাম, এনি প্রব্লেম?
ভাইরে এই কথাটা শুনার সাথে সাথে আমার বুকের পাজর গুলা ভাঙতে লাগলো একে একে…….
এবার আমি……….
— তারমানে আপনি পুলিশ 😲
— জ্বি, আর এবার তোরে দেখাবো মজা, আমি দজ্জাল তাই নাহ।
— জ্বি আপনি তো দজ্জাল, এজন্যই আমাকে গনধলাই দেওয়ার জন্য আপনার সাঙ্গুপাঙ্গু দের ডাকছেন।
— এই এই ভালো হবে না বলছি।
— ভালো নেই হোক তবে আপনি আমার ক্রাশ।
— তোর ক্রাশের গুষ্টি কিলাই, বেশি কথা বললে জেলের ঘানি টানাবো।
— দেখেন ম্যাম, এটা প্লিজ করবেন নাহ, আর আপনার জন্য একটা সুখবর আছে?
— কি বলেন?
— লজ্জা করে, যদি আপনাকে বলি আমাকে কোলে তুলে নাচতে শুরু করবেন এই পাব্লিক প্লেসে, সেটা আমি চাই না।
— এই সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছেন আপনি? বলুন কি?
— আপনার মন চুরি হতে চলেছে তাই আমাকে আপনার মনটা দিতে পারেন, খুব যত্নে আমার হৃদয়ে তুলে রাখবো।
— তোর এই সুখবর তাই না।
— জ্বি।
— এইইইই একে থানায় নিয়ে চলো……..
একজন পুলিশকে বললো,
আরে ভাই বলেও কি ফ্যাসাদে পড়লাম মাইরি, আমাকে সোজা থানাই নিয়ে এলো, ভাইরে এখন একটাই ভয় আমার আব্বু যদি জানতে পারে আমার বাসায় ঠাঁই নেই। 😭😭😭😭😭😭😭😭
ভাইরে আমার এখন এমন অবস্থা আপনাদের বললে হয়তো খিল্লি করতে পারেন, মানেটা হলো ভাই পুরা জামা কাপড় ছাড়া আমায় বসিয়ে রাখছে, শালা আমিতো আসামী নয়। আর চোরও নয়।
দেখি এবার আমার দিকে ওই ম্যাম এলো……
— এই যে মি. ক্রাশ পাগল, কেমন মনে হচ্ছে?
শালা পৃথিবীতে এমন কোনো মানুষ নেই যে কাটে ঘায়ে নুনের ছিটা দিতে পারে না, যেমনটা এখন আমায় করছে।
— ম্যাডাম প্লিজ আমায় মাফ কইরে দেন, আমি আপনার মাথা ছুঁয়ে কসম খেয়ে বলবো আর কোনোদিন এসব কাম করুম নাহ😜
— তোর মতো ক্ষাত পোলা আমার মাথায় রেখে এসব বললে আমি এখনি মরে যাবো।
— ম্যাডাম এসব বলবেন নাহ। প্রব্লেম আছে।
— কেন??
— আপনি মারা গেলে আমার কি হবে শুনি।
— এই ছেলে তোর সাহস তো কম নয় থানায় এসে এসব কথা বলিস।
— ম্যাডাম পেয়ার কিয়া তো ডরনা কেয়া😜
হিন্দি সিনেমার ডায়লগটা মেরে দিলাম,,,
— আচ্ছা ম্যাডাম আমায় কি এবার ছেড়ে দেওয়া যায় না।
— আচ্ছা ছেড়ে দিলাম, নেক্সট টাইম এভাবে কোনো মাইয়ার দিকে তাকাবে নাহ।
— জ্বি, আপনার কসম।
— এইইই কুত্তা আবার কসম।
— এই যে ম্যাডাম আমি আপনাকে ভালোবাসি তাই আপনার কিছু হোক সেটা আমি চাই না।
— ওলে বাবালে এতো ভাবো। চুপ কর কুত্তা। চল তোকে তোর বাসায় দিয়ে আছি।
— থাক, অনেক উপকার করছো আর না।
— মানে?
— এই যে আমার জামা প্যান্ট ছাড়াই খারাই রাখছো আবার বাসায় দিয়ে আসবেন বলছেন,
— জ্বি দিয়ে তো আসতেই হবে, এলাকার লোকেরা তবেই তো জানবে আপনি কেমন পোলা মি. ক্ষাত।
— প্লিজ, আর হবে নাহ। আপনি দিতে যাবেন সেটা ঠিক আছে বাট এসব পোশাকে নাহ।
— আমি এই পোশাকেই যামু, চলেন চেঞ্জ করেন।
শালা, কি ফ্যাসাদে পড়লাম মাইরি, আজ আমার ইজ্জতের ফালুদা হয়ে গেলো,
শালিরে আমি পটাবোই,
যাই হোক না হোক মাইয়াটার মধ্যে অনেক মায়া আছে, পুরাই পরীর মতো দেখতে। জাস্ট divine 😍 মানে স্বর্গ থেকে আসা এক পরী।
এবার আমি ম্যাডামের গাড়িতে চেপে যাচ্ছি আমার বাসার দিকে…..
— ম্যাডাম একটা বলবো? (আমি)
— জ্বি বলেন…(ম্যাডাম)
— আপনার নাম কি?
— অধরা, আপনার???
— অভ্রনীল, ম্যাডাম একটা জিনিস লক্ষ করেছেন…..
— কি??
— আপনার আর আমাদের নামের মধ্যে কিছুটা মিল আছে তাই যদি কাপল হয়ে 😁
— আজাইরা বকলে গুলি মেরে খুলি উড়িয়ে দিবো।
— ওরে বাব্বাহ, আমি তাহলে চুপ করে গেলাম।
এবার ম্যাডাম দেখি আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে 😎
— এই যে মি. ক্রাশ খাওয়ার ক্ষাত,(ম্যাডাম)
— জ্বি পুলিশ ম্যাডাম (আমি)
— আপনার ভয় করে না, আমার সাথে তাল মিলিয়ে কথা বলেই চলেছেন।
— আপনার সামনে ভয় কি হুহ, আর আপনি তো আমার দুদিন বাদে ইয়ে হবেন।
— কি?
— নাহ থাক।
— আরে বলবেন তো।
— হবু😊
— হাহাহহহাহাহাহাহ, নিজে কখনো আয়নায় মুখ দেখছেন।
— জ্বি দেখেছি, অনেক স্মার্ট, আর আপনি কখনো দেখছেন।
— জ্বি,
— পুরাই পেত্নি না।
— কিহহহহহহহ😡😡😡😡😡
ওরে বাব্বাহ ম্যাডাম তো রেগেই আগুন, দেখতে কিন্তু পুরা সেই লাগছে ভাই😍
— না না পেত্নি না,
— তবে….
— শ্যাওড়া গাছের শাঁকচুন্নি
— এই যে মি. আপনি এতো কথা বলেন কেন?
— জানি না, তবে আমার কথা শুনে অনেক সবাই প্রেমে পরে যায়, আর আপনিও পরে যেতেও পারেন।
— ইম্পসিবল।
— এই ইম্পসিবল টাকেই পসিবল করার কাজ অভ্রের।
— দেখাই যাক,
এবার আমি ম্যাডামের ফেবু আইডি নিলাম, দেখি দিলো। রিকুয়েস্ট দিয়ে রাখলাম।
এবার গাড়ি বাসার সামনে এসে থামলো, দেখি আব্বু সামনে, আমাকে পুলিশ গাড়ি থেকে নামতে দেখেই আব্বু তার একটা স্যান্ডেল হাতে নিয়ে দাঁড়ালো,
ওরে বাব্বাহ এতো মুক্তি যুদ্ধেও এমন ভাবে দাঁড়াই ছিলো , এবার আব্বু আমাকে তাড়া করতে লাগলো,
অধরা ম্যাডাম এটা দেখেই খুব হাসলো, আর বলে গেলো যেমন কর্ম তেমন ফল বুঝলে।
এবার চলে গেলো, আমি এবার সোজা চলে এলাম…….
প্রতিবারের মতো আজও আম্মু প্রোটেক্ট দিয়ে দিলো।
আব্বু রেগে………..
— ছি ছি ছি, অভ্র তুই এতোটা নীচে নেমে গেছিস, একটা পুলিশ গাড়িতে করে তুই এলাকাই, ছি বলতেও লজ্জা লাগে।(আব্বু)
— আরে আব্বু ওটা হলো আমার ফ্রেন্ড।
— ওগো অভ্রের আম্মু, তোমার পোলার ফ্রেন্ড নাকি পুলিশ।
— জ্বি আব্বু কসম।
— দেখে কিছু শিখ। কিছুই তো করতে পারলি নাহ, বাপের হোটেলে খাচ্ছিস আর দিন রাত ঘুরে বেড়াচ্ছিস।
— আব্বু দেখে দেখে শিখবো মানেটা কি?
তাহলে পাশের বাসার আমিনের সাথে আমার তুলনা করতে ও তো একটা মাইয়ারে নিয়ে পালাইছে তো আমি পালাই তাহলে 😁
— ওরে অভ্রের আম্মু, তোমার পোলারে আমার কাছ থেকে নিয়ে যাও, আমার হার্ট বির্ট বাড়িয়ে দেবে।
— আব্বু এমন কথা বলো না, এসব কেন বল। তোমরা ছাড়া কে আছে বলো আমার? 😭
একটু ইমোশনাল 😁
— অভ্র বেটা, আজ এতো ভালোবাসা, টাকা লাগবে নিশ্চয়।
— না গো আব্বু, আর চাইলে কি দাওনা তুমি, আর নাই দিলেই বা কি, সেতো পকেট কাটার ধান্দা আমার।
— একটা ফাজিল, যা রুমে যা।
সত্যি বলছি ভাই আমার আব্বু গ্রেট, আমায় কোনো দিন কোনো কিছুর অভাব পেতে দেয়নি, কিন্তু ভালোবাসা অধিক হলেও শাসন টা কমম না😁
সারাদিন ম্যাডামের কথা ভেবেই কেটে গেলো….
রাতে ডিনার সেরে ফেবুতে লগ ইন দিলাম, দেখি ম্যাডাম রিকুয়েস্ট এক্সেপ্ট করছে।
ভাইরে অনেক খুশি লাগছে আজ, আমিই সেই পোলা যে কিনা কোনো মাইয়ারে রিকুয়েস্ট দিলে এক্সেপ্টই করে না, শুধু ফলোয়ারে ঝুলিয়ে রাখে…….
একটু ঘুরাঘুরির পর দেখি ম্যাডাম অনলাইনে আসছে….
আমি ম্যাসেজ দিলাম……
— হাই, পুলিশ ম্যাডাম।(আমি)
— হেলো, আর আমাকে নাম ধরে ডাকতে পারেন(অধরা)
— কেন?
— আমার বয়স আপনার থেকে কম।
— ওহ, তা কি করেন?
— কিছু না, আপনি??
— মার্ডার করি😜
— জেলে যাবার ইচ্ছা হচ্ছে নাকি!
— হায় আল্লাহ, মশা মারলেও দেখি আজকাল জেলে যেতে হয় নাকি।
— তো আগে বলবেন তো, আর আপনি এতো মিষ্টি ভাবে কথা বলেন কেন? হুম।
— কিউট মাইয়াদের সাথে একটু মিষ্টি ভাবেই কথা বলতে হয়।
— তো কতগুলা মাইয়ার সাথে কথা বলো।
— শুধু আপনার সাথেই বাট আগে অনেক ট্রাই করছি, কিন্তু ব্লক মারসে,
— ওকে আমিও মারলাম। 143
এটা লেখেই ব্লক মারলো।
দূর শালা ব্লক মারলো কেন? আর 143 টা আবার কি ভাই😲😱

কেউ জানলে নিশ্চয় কমেন্ট বক্সে জানাবেন।
চলবে নাকি ভাইয়ারা…………………….
like, cmnt nd shre mst…. 😍
& follow🙏
w8ing for nxt part…..☺

Related Posts

One thought on “পুলিশ যখন বউ। রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প

  1. আচ্ছা এর পরের অংস তো খুইজাই পাইতেছিনা
    কোথায় গিয়ে পাবো????? 😵😵

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *