বন্ধুর বোন যখন ক্রাশ । ভালোবাসার গল্প

বন্ধুর বোন

হাই আমি নীল। বর্তমানে পড়াশোনার প্যারাতে আছি। , একটাই বদ অভ্যাস যদি কারো মোবাইল হাতে পাই.. আগে তার Gallery চেক করবো..
একদিন আমার best friend সোহেল এর Gallery দেখতে দেখতে হঠাৎ থমকে যায়..

হরিণী চোখ.. গোলাপি ঠোট.. মাথার চুল গুলো এলোমেলো.. কালো শাড়ি পড়া অবস্থায়.. একদম পরীর মতো একটা মেয়ের ছবি..
যেনো প্রথম দেখায় বড় আকারের ক্রাশ খেলাম…
:-এই সোহেল এটা কার ছবি রে দোস্ত..? (আমি)
:-আমার বোনের ছবি.. (সোহেল)
:-তোদের বাসায় অনেক বার গিয়েছি, কিন্তুু কখনো দেখি নাই তো.
:-আরে আমার চাচাতো বোন.. (সোহেল)
:-ওও তাই বল..
:[ads2]
এবার তার SHAREIT করে চুপি চুপি ছবি টা মোবাইলে send করে নিলাম😁। যাতে সোহেল না বুঝতে পারে..
এবার আমি মন ভরে জীবনের প্রথম ক্রাশ কে দেখছি, বার বার দেখেও যেনো ওর মন ভরছে না..
সত্যি মেয়েটা অনেক মায়াবতী, আর সেই মায়ার জালে আটকা পড়লাম..
এবার ক্রাশ কে নিজের wallpaper এ save করে নিলাম।
সেদিন সারা রাত সপ্নের পরী কে দেখতে দেখতে পার করেছি..
সোহেল দের বাড়ির পাশে আমার আরো একটা বন্ধু আছে, নাম তার সাজু..
পরেরদিন সাজুদের বাসায় গিয়ে সাজু কে সব খুলে বললাম, এবং তার ক্রাশের ছবিটা দেখালাম.
:-আরে এটা তো সীমার ছবি, ক্লাস 9 এ পড়ে.. (সাজু)
:-তাহলে আমার ক্রাশের নাম সীমা..
:-তাহলে চল.. তোর ক্রাশ কে সরাসরি দেখিয়ে নিয়ে আসি.. (সাজু)
:- okk তুই তো আমার মনের কথা কইছস.. চল দোস্ত..

(আমি)আর সাজু চললাম সীমার বাড়ির দিকে, অতপর সাজু বললো.. দোস্ত ঐ দেখ তোর ক্রাশ..
আমি তো ক্রাশ কে দেখে পুরোই নিস্তব্ধ হয়ে গেলাম.. তাহলে কি ছবিতে ক্রাশ কে দেখতে ভুল হয়ছে..
একটা মানুষ এতটা মায়াবতী হতে পারে কি করে, ছবিতে যেমন টি দেখে ছিলাম,,,বাস্তবে দেখে আরো বেশি মায়ার জালে আটকে গেলাম..
এখন এই মায়ার জাল থেকে ঐ ক্রাশ ছাড়া আর কেউ বের করতে পারবে না..
অতপর দুই বন্ধু আবার সাজুর বাসায় চলে গেলাম,,
:-দোস্ত.. আমি ওরে অনেক ভালো বেসে ফেলছি, যে ভাবেই হোক আমি ওর ভালোবাসা পেতে চায়.,,,।
:-সীমা কে অনেক ছেলেই প্রোপজ করেছে, কিন্তুু সে কারোটা accept করেনি.. (সাজু)
এসব কথা বলতে বলতে হঠাৎ সাজুদের বাসায় একটা মেয়ে আসলো, সাজু রুমের ভিতর থেকে বাহিরে গেল.. আর আমি জানালা দিয়ে দেখার চেষ্টা করলাম, যে বাহিরের মেয়ে টা কে..
কিন্তুু সে আর অন্য কেউ না, সে আমার ক্রাশ..
এবার মন ভরে ক্রাশ দেখলাম,, যত দেখছি ততই যেনো প্রেমের সাগড়ে হাবুডুবু খাচ্ছি,,..
:এবার প্রায় সোহেল” দের বাসায় যেতাম, ক্রাশ কে একটা বার দেখার জন্য..
মাঝে মাঝে একটু করে কথাও বলতাম ক্রাশের সাথে, আর ক্রাশ ও ভাইয়ের বন্ধু হিসাবে কথার reply দিতো..,(maybe)

[ads1]

সোহেলের বড় বোনের বিয়ে, এজন্য invite করার জন্য আমাদের বাসায় আসে,,.
তখন আমি বাসায় ছিল না, এজন্য সোহেল ফোন করে..
:-দোস্ত তুই কোথায়, আমি তোর বাসায় এসেছি তুই শিগ্রই চলে আয়.. (সোহেল)
:-তুই অপেক্ষা কর, আমি আসতেছি.. বাসায় এসেই যেনো আকাশ থেকে পড়লাম। আমার রুমে সীমা বসে আছে।
নিজের চামড়ায় চিমটি কেটে ধরলাম.. শপ্ন দেখছি নাকি বাস্তবে দেখছি,.
কিন্তুু এটা শপ্ন না..
বিয়ের invite করতে সোহেলের সাথে সীমাও এসেছে..
:-আমার ঘর টা যেনো আজ অন্য রকম লাগছে.. মনে হচ্ছে কোনো কিছুর পূর্ণতা পেয়েছে। (আমি)
:-আমি তো দেখছি আগের মতই আছে.. (সোহেল)
তখন সীমা একটু হেসে উঠলো..
:-আগামি শুক্রবার আমার বড় বোনের বিয়ে, বিয়ের আগের দিন তুই আমাদের বাসায় যাবি আর আমার সকল কাজের help করবি..
:-বিয়ের আগের দিন আগে কেন, তুই বললে তো ১ সপ্তাহ আগে যেতে পারবো..
আর কারণ টা তো আপনারা জানেন..
এদিকে আম্মু তাদের জন্য নাস্তা পানি নিয়ে আসলো..
তখন মনে পড়ে গেল একটা উপন্যাসের কথা..
সেই উপন্যানে নায়িকা নায়কদের বাসায় গিয়েছিল, সেখানে লেখা ছিল..
নায়ক একটা বিস্কুট তুলে নায়িকার মুখে দিল, আর নায়িকা বিস্কুটের অর্ধেক মুখে নিয়ে বাকি অর্ধেক নায়কের মুখে ভোরে দিলো.. এক রোমান্টিক মূহত্য..
:-এই নীল তুই কি ভাবছিস.. (সোহেল)
:-কককই কিছু নাতো.)
সাথে সাথে আবারো সীমা হেসে উঠলো, আর সীমার হাসিতে আমার মনের ঘর টা আলোকিত হয়ে উঠলো..
অতপর তারা বিদায় নিয়ে চলে গেল..

আজকে মনে খুব আনন্দ, কিন্তুু কেনো.. আজ ক্রাশ কে এক অপরূপ সাজে দেখবো..
তারপর baike নিয়ে চলে গেলাম বিয়ে বাড়িতে..
গিয়ে দেখি সব গুলোই রং মাখামাখি করে ভুত পেত্নি হয়ে গেছে..
তাদের ভিতর ক্রাশ কে খুব কষ্ট করে খুজে বের করলাম কারণ তারও একই অবস্থা..
:-এই নীল .. তুই আর একটু আগে আসলে তোর ক্রাশের নৃত্য দেখতে পারতিস..(সাজু)
:-ইস্্্্্.. কি যে মিস করলাম..
:-তোর ক্রাশ হেব্বি dance করতে পারে..(সাজু)
:-ঐ শালা.. সেটা আমাকে আগে বলিস নি কেন..
এখন তো বললাম..(সাজু)

এবার Data টা on করে একটু fb তে ঢুকলাম,,,
হঠাৎ মাথায় একটা নরম হাতের স্পর্শ পেলাম, এবং সাথে সাথেই হাতটি ধরে ফেললাম,..
কিন্তুু পিছনে তাকিয়ে দেখি হাতটা আর অন্য কারো না,সীমার হাত..
আর হাতে ছিল হাজার power এর রং..
:-এটা কি হলো…
:-বিয়ে বাড়িতে এসেছেন এটুকু স্বাভাবিক.. (সীমা)
মনে মনে ভাবছি,
তোমার জায়গায় অন্য কেউ থাকলে কসে মেরে দিতাম দুই গালে দুটো চড়..
শালি মুড টায় দিলো নষ্ট করে.. আরে ধূর ওতো আমার শালি না, আমার ক্রাশ মানে হবু বউ..
মাথায় রং নিয়ে ঘোরাঘুরি করা যাবে না, কি আর করার সোহেলের রুমে গিয়ে শুয়ে পড়লাম..
কিচ্ছুক্ষণ পর..
:-নীল ভাইয়া আসতে পারি..(সীমা)
:-হ্যা এসো, তবে ডাকটা change করলে ভালো হতো.
:-মানে..? (সীমা)
:-না কিছু না, কি বলবে বলো
সীমা বলতে লাগলো,
:- I’m really sorry. আসলে আপনার মাথায় রং দেওয়া আমার উচিৎ হয়নি..
:-তাহলে এখানে সরি বলতে এসেছো..
:-জ্বিিিি না.. রং দিতে হবে তো আপনার মুখে যেনো কেউ চিনতে না পারে..
একথা বলেই দুই গালে রং মাখিয়ে দৌড় দিবে, ঠিক তখনি পিছন দিক থেকে সীমার হাতটি ধরে ফেললাম,,,
তারপর পিছন দিক থেকে জড়িয়ে ধরে কানের কাছে মুখ নিয়ে বললাম
:-খুব চালাক হয়ে গেছো তাই না..
:-চালাকের কি হলো, বিয়ে বাড়িতে এরকম কতো মজা হয়..(সীমা)
:-কিন্তুু প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান বিপরীত প্রতিক্রিয়া রয়েছে, সেটা কি জানো..
:-হ্যা জানি, নিউটনের সূত্র..(সীমা)
:-তাহলে এখন তোমার ক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া দেখো..
এ কথা বলেই সীমার হাতে লেগে থাকা রং সীমার মুখে লাগিয়ে দিলাম,,.
সীমা প্রতিবাদ করলেও ব্যার্থ হলো..
:-শাড়ি পড়লে তোমাকে দারুণ লাগবে,,, বিয়ের দিন শাড়ি পড়বে প্লিজ..
:-আমি ঠিক ভাবে শাড়ি পড়তে পারি না..(সীমা)
:-আমার কাছ থেকে শিখে নিও.
:-আপনার কাছ থেকে শিখতে আমার বয়েই গেছে..(সীমা)
এমন সময় সোহেল কোথা থেকে এসে যে হাজির হলো..
সাথে সাথে সীমা সমস্ত মুখে রং মাখা অবস্থায় দৌড়ে পালালো..
:-ধূর শালা.. তুই আর আসার সময় পেলি না..
:-তুই বন্ধুকে শালা বলে ডাকছিস..(সোহেল)
:-আরে ইয়ার.. মাইন্ড করিস না, এখনকার যুগে বন্ধুকে সব কিছু বলে ডাকা যায়..

সেদিন আর একবারও সীমার সাথে দেখা হয়নি, হয়তো সে লজ্জা পেয়েছে..
আর সেই জন্য রুম থেকে বের হচ্ছে না..
এমন একটা ঘটনার জন্য একটুও প্রস্তুত ছিলাম না, সেদিন টা বিভিন্ন কাজের মধ্যো দিয়ে পার হলো..
।[ads2]
আজ শুক্রবার, মানে বিয়ের দিন..
সবাই অনেক আনন্দে নাছ-গান করছে, কিন্তু আমার মনটা যেনো ভালো নেই..
ঐ ঘটনার পর থেকে আর একটি বার ও সীমার সাথে দেখা হয়নি..
বরের গাড়ি চলে এসেছে..
লক্ষ করলাম,,
কোথা থেকে যেনো এক নীল পরী এসে হাজির হলো..
সম্ভবত নীল আসমান থেকেই এসেছে, একদম আমার ক্রাশের মতো দেখতে….
আমি তো নীল পরীর দিকে হা করে তাকিয়ে আছে..
কিন্তুু সেই নীল পরী আর অন্য কেউ না, সে হলো সীমা.
সাজু মাথায় চড় দিয় বললো..
:-ঐ শালা.. এমন হা করে কি দেখছিস..(সাজু)
:-ভুল কথা বলিস ক্যান.. আরে দোলা ভাই বলে ডাকবি..
:+সময় হলে ডাকবো, এখন চল বর কে নিয়ে আসি..(সাজু)
:-তুই যা আমি এদিক টা দেখছি
এবার সীমা কে ডাক দিলাম.
:- hello সীমা.
:-জ্বি বলুন ভাইয়া..(সীমা)
:-আবার ভাইয়া.. যানো
আজ বিয়ে বাড়িতে একটা নীল পরী এসেছে..
:-পরী.. তাও আবার বিয়ে বাড়িতে.. কোথায়.. (সীমা)
:-কেনো.. নিজের দিকে একবার তাকিয়ে দেখো, পরী কে খুজে পাবে.
:-ভাইয়া.. আপনি চোখের ডাক্তার দেখান..(সীমা)
:-একটু হাসি দিয়ে বললাম,,শাড়ি পড়ার জন্য tnx..
:-এটার জন্য আবার tnx এর কি আছে..
:-সেটা বুঝবে না, আর শোনো বর যাত্রীর লোকের সামনে যেনো বেশি ঘোরাঘুরি করবে না
:-ঠিক আছে.. আমি এখন আসি..(সীমা)
:ok…
:-
আমি ভাবছি.
যে ভাবে অর্ডার করলাম,মনে হচ্ছে আমার বিয়ে করা বউ.. কিন্তুু তার মনে কি আমার জন্য একটু জায়গা করতে পেরেছি..

অতপর বিয়ের কাজ শেষ হলো, এখন কন্যার বিদায় নিবার পালা..
কিন্তু এখন আমি যে দৃশ্য টা দেখলাম সেটা কখনো ভাবতেই পারিনি, যে এমন একটা দৃশ্য দেখবো
কন্যার সাথে সাথে সীমাও খুব কান্না করছে, হয়তো আপন বোন না.. চাচাচো বোন..
কিন্তু সম্পর্ক টা হয়তো অনেক গভীর..
সীমার চোখের পানি যেনো মুক্তার মতো ঝিকমিক করছে.. আর সেটা একমাত্র আমি বুঝতে পারছি
মনে মনে ভাবছি বোনের বিয়েতে মেয়েটা এমন করে চোখের পানি ফেলাচ্ছে.. নিজের বিয়ের দিন হয়তো, চোখের পানি দিয়ে আমাকে গোসল করিয়েই দিবে..,,এটা হাস্যকর, এটা জনগনের জন্য হাস্যকর,
সেখানে আর দাড়িয়ে থাকতে পারলাম না, সোহেলের কাছ থেকে বিদায় নিয়েই বাসায় চলে আসলাম..
কিছুদিন পর..
একদিন সাজু আর আমি বাজার থেকে ফেরার পথে ২টি গোলাপ ফুল কিনলাম , সাজু তার gf কে দিবে এজন্য..
কিন্তুু আমি ফুলটা কি করবো আমার তো ক্রাশ ছাড়া আর কেউ নেই..
এগুলো ভাবছি আর হাটছি .
হঠ্যাৎ লক্ষ করলাম সীমা রাস্তার অপর দিক থেকে একা একা আমাদের দিকে আসছে..
তখন হৃদপিন্ড টা জেনো বেলুনের মতো ফুলে গেল..
আমি সীমার সামনে হাটু গেড়ে বসে বলা শুরু করলাম .
সীমা.. যেদিন তোমায় প্রথম দেখেছি, সেদিন থেকেই আমি তোমাকে ভালো বাসতে শুরু করেছি..
তুমি আমার জীবনের প্রথম ক্রাশ, একটু একটু করে তোমায় অনেক বেশি ভালোবেসে ফেলছি..
I Love You..💖💖
কিন্তুু সীমা Love u 2 বলা তো দূরের কথা, ফুলটিও হাতে নিল না.. এবং পাশ কাটিয়ে চলে গেল..
অবশেষে বুকভরা কষ্ট নিয়ে ফুলটি ছিড়ে ফেলে দিলাম.
সীমা বাসায় এসে তার আম্মুর কে বললো..
:-আম্মু সোহেল ভাইয়ার বন্ধু আজকে আমাকে ফুল দিচ্ছিলো, কিন্তু আমি নেয়নি..(সীমা)
:-কোন ছেলেটা..(সীমার আম্মু)
:-সোহেল ভাইয়ার বন্ধু (নীল)..(সীমা)
:-ঠিক আছে, তুই এখন যা আমি দেখছি..(সীমার আম্মু)
কিচ্ছুক্ষণ পর সোহেল কে সীমার আম্মু ডাক দিল..
:-তোর বন্ধু কি নাম যেনো সাব্বির.. সে কি এই রকম, যাকে তাকে ফুল দিয়ে বেড়ায়..(সীমার আম্মু)
:-নাতো কাকিমা, সাব্বির খুব ভালো ছেলে.. কেনো কি করেছে সে..(সোহেল)
:-সীমাকে নাকি ফুল দিতে গেছিলো..(সীমার আম্মু)
:-ও আচ্ছা..
এ বিষয় চিন্তা করা লাগবে না, বিষয় টা আমি দেখছি..(সোহেল)
এদিকে এতদিনের গড়া স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেল, কি করে ভুলে থাকবে তাকে..
১টা সেকেন্ড ও সীমা কে মন থেকে সরাতে পারি না..
এমন সময় সোহেলের ফোন আসলো..
ফোন রিসিভ করে কি করবো না ভাবতে ভাবতে ফোন রিসিভ করেই ফেললাম..
:- hello..(সোহেল)
:-…………
:-কি হলে কথা বল..(সোহেল)
:-কি বলবো.. (আমি)
:-সীমাকে খুব ভালোবাসিস তাই না..(সোহেল)
:-হুম..
:-সাজু আমাকে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সব বলেছে..(সোহেল)
:-এখন আমি কি করবো..
:-তোকে কিচ্ছু করতে হবে না, বিকালে আমার সাথে দেখা কর.. কিছু কথা আছে..
:-thanku so much dos..(আমি)
:-ঐ..এখন থেকে বড় ভাই বলে ডাকবি..(সোহেল)
:- okk শালা বাবু
কিছুদিন পর…
:-ভাইয়া.. আজ তো পহেলা বৈশাখ, আমাকে মেলা দেখাতে নিয়ে যাবি..(সীমা)
:-না.. আমার সময় হবে না..(সোহেল)
:-আম্মু তুমি একটু বলো ভাইয়াকে.. (সীমা)
:-বাবা সোহেল.. মেয়েটা আমারো পিছু ছাড়ছে না, ওকে একবার মেলা দেখিয়ে নিয়ে আই তো..(সীমার আম্মু)
:-ঠিক আছে কাকিমা..(সোহেল)
:-কিরে.. এখন তোর সময় কোথা থেকে আসলো, তোর gf বললে তো নাছতে নাছতে রাজি হয়ে যেতিস..(সীমা)
:-বেশি কথা বলিস নাতো, তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নে..(সোহেল)
:-আচ্ছা..(সীমা)
সোহেল আমার কাছে ফোন দিলো..
:- নীল তুই কোথায়.. (সোহেল)
:-রুমের ভিতর, শুয়ে আছি..
:-আজ তো পহেলা বৈশাখ আর তুই এখনও শুয়ে আছিস, চল মেলা দেখে আসি..(সোহেল)
:-আমার সময় হবে না, এখন ঘুমাবো.. বাই..
:-মেলা দেখতে সীমাও আমার সাথে যাচ্ছে..(সোহেল)
:-আরে ফোন রাখিস না.. ফোন রাখিস না.. কি বললি আরেক বার বল..
:-যেটা শুনেছিস সেটাই, তুই মেলার মাঠে এসে দেখা কর..(সোহেল)
:-ঠিক আছে দোস্ত.. Love u..
খুব দ্রুত রেডি হয়ে মেলার মাঠে চলে গেলাম, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে এখানে অনেক বড় একটা মেলা অনু্ষ্ঠিত হয়..
মেলার মাঠে সোহেলের সাথে দেখা হলো..
:-ঐ নীল.. তুই মেলা দেখতে এসেছিস, তুই আসবি আমাকে বলিস নাই তো..(সোহেল)
শালা নিজেই আমাকে আসতে বলে আমার সাথে নাটক করছে (মনে মনে)
:-আসলে মনটা খারাপ ছিল, এজন্য একা একাই চলে এসেছি..
:-চল ঘুরে দেখি..(সোহেল)
:- ok তুই যখন এতো করে বলছিস, তখন চল যায়..
সীমা মনে মনে ভাবছে..
কি ব্যাপার.. যে ছেলেটা আমাকে দেখার পর চোখের পলক ফেলে না, সারাক্ষণ হা করে তাকিয়ে থাকে.. আর সেই ছেলে এখন আমাকে দেখেও না দেখার ভ্যান করছে.. বাহ..
হঠাৎ সীমার নজর আটকে গেল একটা পুতুলের দোকানে..
:-ভাইয়া ঐ পুতুল টা আমার খুব পছন্দ হয়েছে..(সীমা)
:-এইযে ভাই.. ঐ পুতুল টা এদিকে দেন তো..(সোহেল)
:-এইনেন মিয়া ভাই, অনেক সুন্দার পুতুল.. আপা মনির পছন্দ আছে..(দোকানদার)
:-দাম কত এটার..(সোহেল)
:-বেশি না, মাত্র ৫০ টাকা..(দোকানদার)
:-এই নীল. আমার কাছে ভাংতি টাকা নেই, টাকা টা দিয়ে দে তো..(সোহেল)
:-ঠিক আছে.. এই নেন ভাই টাকা..
সীমা কিছু মনে করলো না, সে পুতুল টায় পেয়ে খুশি..
:-ভাইয়া ঐ দেখ ওরা নাগরদোলায় উঠে কতো মজা করছে, আমিও উঠবো নাগরদোলায়..(সীমা)
:-ভয় পাবি নাতো..(সোহেল)
:-আমি কি এখনও বাচ্চা খুকি যে ভয় পাবো..(সীমা)
:-ঠিক আছে চল..(সোহেল)
নাগরদোলার এক পাশের সিটে ওরা তিন জন বসলো, ডান পাশে সোহেল বাম পাশে আমি আর মাঝখানে ক্রাশ..
নাগরদোলা আস্তে আস্তে ঘুরতে শুরু করলো, সবার মনে উত্তেজনা অবস্থা..
এমন সময় সীমার মাথার এলোমেলো চুল গুলো বাতাসে উড়তে উড়তে আমার মুখের উপর এসে পড়তে লাগলো
আর আমি চুলের সুভাষে এক অন্য জগতে হারিয়ে গেলাম,,,,
:-ভাই নামেন নাগরদোলার পাক শেষ হয়ে গেছে..(নাগরদোলার কর্মচারী)
:-এতো অল্প পাকে শেষ করে দিলেন.
:-আরে ভাই.. সুখের সময়টা খুব সীমিত মনে হয়..(কর্মচারী)
এমন সময় সোহেল যেনো কোথায় হারিয়ে গেল..
:-এইযে মিস্টার.. সোহেল ভাইয়া কোথায় গেলো..(সীমা)
:-ভাইয়া থেকে একবারে মিস্টারে চলে এলাম, আর তোমার ভাইয়া কোথায় চলে গেল সেটা আমি কি করে বলবো..
:-ভাইয়া কে ফোন দেন..(সীমা)
:-আমার ফোনে ব্যালেন্স নেই.
হঠাৎ সাব্বিরএর ফুফাতো ভাই রোমানের সাথে দেখা হলো..
:-এই নীল . কেমন আছিস..(রোমান)
:-এইতো ভালো.
:-আর সাথে এই মেয়েটা কে..(রোমান)
:-আসলে ও আমার….
:-থাম থাম.. আর বলতে হবে না, ভাবিকে আমার খুব পছন্দ হয়েছে..
তুই একদিন ভাবি কে আমাদের বাসায় নিয়ে যাবি, আমার একটা জরুরি কাজ আছে এখন আসি.. ভাবি তুমি আমাদের বাসায় এসো কিন্তু..(রোমান)
একথা বলেই রোমান চলে গেল..
:-এইযে.. ছেলেটা আমাকে ভাবি ভাবি বলছিল, আমি আপনার কোন কালের বউ শুনি..(সীমা)
:-আসলে সে তো কিছু বলারি সুযোগ দিল না.
:-সুযোগ খুজে নিতে হয়..(সীমা)
এমন সময় সোহেলের ফোন আসলো..
অন্য এক পাশে গিয়ে ফোনটা রিসিভ করলাম,,.
:-কোথায় তুই.।।
:-তোদের যেনো ডিস্টার্ব না হয়, এজন্য এক একা একা ঘুরছি..(সোহেল)
:-আমি তোর বোন কে সামলাতে পারবো না তুই দেখা কর..
এমন সময় বুঝতে পারলাম পিছন দিক থেকে কেউ জড়িয়ে ধরেছে, পিছনে তাকিয়ে দেখি ছোট্ট একটা ছেলে..
গায়ের পোষাক গুলোও বেশি ভালে না, সম্ভবত গরীব ঘরের সন্তান..
:-ভাইজান ২টা টাকা দিবেন, খাবার কিনে খেতাম..(ছেলেটি)
নাম কি তোমার….??
:-আমার নাম আব্দুল্লাহ..(ছেলেটি)
:-তোমার বাবা কি করে..
:-বাবা বেঁচে নাই..(আব্দুল্লাহ)
:-মনে কষ্ট দিয়ে ফেললাম ছোট ভাই, এই নাও ৫০ টাকা খাবার কিনে খেয়ো..
পুরো ঘটনা টা সীমা লক্ষ করেছে, আর মনে মনে ভাবছে দয়ার সাগড় কোথা থেকে এলো..
:-কি হলো ভাইয়াকে খুজে পেয়েছেন..(সীমা)
:-খুজে পেলে নিশ্চয় দেখতে পেতে, চলো আমরা অনুষ্ঠান দেখতে থাকি তোমার ভাই আমাদের খুজে নিবে.
:-ঠিক আছে চলুন..(সীমা)
আমি আর সীমা পাশাপাশি চেয়ারে বসে আছি খুব ভালোই লাগছে অনুষ্ঠান দেখতে..
কখনো নৃত্য কখনো গান আবার কখনো কৌতুক নাটক একের পর এক ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান চলছে..
এমন সময় এক বাদাম ওয়ালা তাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো..
:-এই বাদাম… এই বাদাম…(বাদাম ওয়ালা)

সীমা মনে মনে ভাবছে.. যদি সোহেল ভাইয়া সাথে থাকতো, তাহলে বাদাম খেতে পারতাম. আমার ও মনে পড়ে গেল, বাদামের আরেক নাম প্রেম ফল..
:-এইযে ভাই.. আমাদের এখানে ১০০ গ্রাম বাদাম দেন তো..
:-এই নেন বাদাম..(বাদাম ওয়ালা)
সীমা ভাবছে, বাদাম চাইলাম মনে মনে আর সত্যিই বাদাম চলে আসলো, উনি আমার মনের কথা বুঝতে পারে নাকি..
:-কি হলো বাদাম খাচ্ছো না যে..
:-ভাবছিলাম..(সীমা)
:-এখন ভাবা বন্ধ করে বাদাম খাও.

এদিকে সোহেল আমাদের আশে পাশেই আছে, আপনারা হয়তো ভাবছেন সোহেল কি করে বোন কে প্রেম করানোর জন্য help করছে..
আসলে আমি সোহেলের কলিজার টুকরা বন্ধু, সোহেল আর তার gf এর প্রেমের জন্য অনেক কষ্ট করেছি,,.
সীমা যদি সোহেলের নিজের বোনও হতো, তাহলে সে একই কাজ করতো..,

এক সময় ঘড়ির কাটা সংকেত দিলো রাত ৮ টা বেজে গেছে, কিন্তু এখনও সোহেলের দেখা পেলাম না..
:-এইযে.. ভাইয়া হয়তো আমাদের না পেয়ে বাসায় চলে গেছে, চলুন আমারা বাসায় চলে যায়..(সীমা)
:-ঠিক আছে চলো.,,,
আজ পূর্ণিমা রাত, চাঁদ প্রায় মাথার উপরে থাকে..
আঁকা বাকা রাস্তা দিয়ে হেটে চলেছি দুজন, চাঁদের আলো সীমাকে আরো বেশি সুন্দর করে তুলেছে..
:-আমাকে বাসায় দিয়ে আপনি একা একা বাসায় যেতে পারবেন তো..(সীমা)
:-একা কোথায়.. আমি তো আমার ক্রাশ কে মনের ভিতর বসিয়ে রেখেছি.. সে থাকতে আবার ভয় কিসের..
:-এতো ভালোবাসেন কেনো তাকে..(সীমা)
ভালোবাসা কোনো কারণ দিয়ে হয় না, নিজের অজান্তেই হয়ে যায়.
:-লেকচার বাদ দিয়ে যা বলি তাই শুনুন, আজকে রাতে সোহেল ভাইয়ার এখানে থেকে যাবেন..(সীমা)
:-এই তুমি কে.. যে তোমার অর্ডার আমার পালন করতে হবে..
:-দেখতে চান আমি কে😡😡..(সীমা)
:-হ দেখতে চায়.
এমন সময় সীমা যেটা করলো আমি তার জন্য একটুও প্রস্তুত ছিলাম না..
সীমা আমার মাথাটা একটু নিচের দিকে টেনে নিয়ে এক আলতো করে ছোঁয়া দিতে লাগলো, আমিও কোনো উপায় খুজে না পেয়ে দুটো হাত সীমার মাথায় রেখে তার ডাকে সাড়া দিলাম,,..💋💋

এমন সময় ভাবছি,,,আমাকে কষ্ট দেবার মজা এবার দেখাচ্ছি..
:-এই কি করছো এটা.. ছেড়ে দাও বলছি..
:-বুঝিয়ে দিলাম যে আমি তোমার কে..(সীমা)
:এসবের কোনো মানেই হয় না, আমি তোমার কিচ্ছু না..
:-তাহলে সেদিন যে প্রপোজ করলে, তুমি আমাকে ভালোবাসো.. আমি তোমার প্রথম ক্রাশ..(সীমা)
:-তখন বাসতাম.. এখন বাসিনা..
সীমা এবার কেঁদেই দিলো, সেদিন তোমাকে ফিরিয়ে দেবার পর একটা সেকেন্ডের জন্য তোমাকে মন থেকে সরাতে পারি না.. অনেক মিস করি তোমায়..
রাতে ঘুমাতে গেলে তোমার জন্য ঘুম আসে না, অনেক কষ্টে ঘুমানোর পর আবার স্বপ্নের ভিতর তুমি এসে হাজির হও.. আর এটা যদি ভালোবাসা হয়, তাহলে অনেক বেশি ভালোবাসি তোমায়..(সীমা)
সাব্বির ওর চোখের পানি দেখে আর মজা করতে পারলাম না..
:-এই পাগলী.. কাঁদছো কেনো.. আমি তোমাকে আগের মতই ভালোবাসি.
:-তাহলে আমাকে কষ্ট দেবার শাস্তি তোমাকে পেতে হবে, এখন আমাকে প্রপোজ করো..(সীমা)
:-এতো রাতে আমি ফুল পাবো কোথায়..
সীমা এবার কলার চেপে ধরে বললো, প্রপোজ করবে কি না বলো..
:-এমন একটা গুন্ডী মেয়েকে আমি ভালো বেসেছি..
:-গুন্ডামি দেখেছো কি.. যদি কখনো অন্য কোনো মেয়ের সাথে কথা বলতে দেখি, খুন করে ফেলবো..(সীমা)
:-কি..? তুমি আমাকে খুন করতে
পারবে
:-আরে তোমাকে না, সেই মেয়েকে..(সীমা)
এবার মহাবিপদে পড়লাম , এতো রাতে ফাকা রাস্তায় ফুল পাবো কোথায়..
ছুটে চলে গেলাম বিলের মাঝে, শত শত ফুটে থাকা শাপলা ফুলের মধ্যো থেকে একটা ফুল নিয়ে আসলাম..
চাঁদনি রাত, একদম দিনের বেলার মতো পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে..

হাটু গেড়ে বসে বলা শুরু করলাম..
হে আমার মনের রাজ্যের রাজকুমারী,
প্রথম দেখায় তোমার প্রেমে পড়েছি আমি..
এই হৃদয় জুড়ে শুধু যে আছো তুমি,
সত্যি বলছি তোমাকে অনেক ভালোবাসি আমি.. I Love U
:- I Love U 2 ভাইয়া..(সীমা)
এ কথা বলেই সীমাবুকে ঝাপিয়ে পড়ে আমার এই শূন্য বুক পরিপূর্ণ করে দিল..
:-কখনো দূরে সরে যাবে নাতো..(সীমা)
:-তুমি যেভাবে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছো, আমি চাইলেও যেতে পারবো না..
:-কখনো কষ্ট দিবে নাতো..(সীমা)
:-তোমাকে কষ্ট দিলে তার চেয়ে বেশি কষ্ট যে আমি পাবো..
:-কখনো ভুলে যাবে নাতো..(সীমা)
:-ভুলে যাবার জন্য তো ভালো বাসিনি.

এদের ভালোবাসা দেখে আকাশের চাঁদের ও হিংসা হতে লাগলো, অবশেষে চাঁদ টাও মেঘের আড়ালে চলে গেল……

এমন সময় লেখকের মনের মাঝে বেজে উঠলো..
অনেক সাধনার পরে আমি পেলাম তোমার মন, পেলাম খুজে এ ভুবনে আমার আপনজন..
তুমি বুকে টেনে নাও না প্রিয় আমাকে, আমি ভালোবাসি.. ভালোবাসি.. ভালোবাসি তোমাকে….

হঠাৎ একটা আলো আমাদের দিকে আসতে দেখলাম দুজনি ভয় পেয়ে যায়, কিন্তুু সেই আলো ওয়ালা ব্যক্তি আর অন্য কেউ না.. সে হলো সোহেল…….
অনন্ত কাল বেচে থাকুক ভালোবাসা…..
বিঃদ্রঃ গল্পটি কাল্পনিক ছিলো। নিজের কল্পনার থেকে অন্যতম একটি গল্প। কেমন লাগলো জানাবেন। সবাই ভালো থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ
,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,(অভ্র),,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *