বস যখন বউ part-12 & End

  • বস বউ
    Sûmøñ Ãl-Fãrâbî
    Part_12 The Ending Part 


মুমু খুব কান্না করছে,,, আমার ও খুব খারাপ লাগছে ,, ইচ্ছে করছে ওর সামনে গিয়ে ওকে তুলে জড়িয়ে নেই বুকে
ওর কপালে আলতো করে একটা চুমু দিয়ে বলি
এই পাগলী কান্না থামাও আমি আছি তো,,,,
ইচ্ছেরা ওর কাছে যেতে চাচ্ছে
কিন্তু ক্রোধ ক্রমে ওর থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে ,,,
আমি বরাবরই ক্রোধের থেকে ইচ্ছে কে বেশি প্রাধান্য দেই
কিন্তু এবার আর না,,,
এবার আমি আমার ক্রোধ কেই বেশি প্রাধান্য দিলাম ,,,
ওর বোঝা উচিত ,,, কষ্ট কি?
এটার অনুভূতি কেমন,,,,
প্রতিটা মানুকেই কষ্ট কি জিনিস সেটা বুঝাতে কষ্ট দিতে হয়
নয়তো সে কখনোই সুখের যথাযথ মূল্যায়ন করবে না ,,,,

মুমু কান্না করছে আমি শুধু নির্বাক চোখে তাকিয়ে আছি
ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও ওর কাছে যেতে পারছি না ,,,

হাত দিয়ে নিজের মুখটা মুছতে যাবো
কিন্তু খেয়াল করে দেখি আমার অজান্তেই
কখন যেন চোখ দিয়ে পানি বেরিয়ে গেছে

চোখের পানি গুলোও কেমন অদ্ভুত
যার কাছে আমার কোনো মূল্য নেই
তার জন্যই ঝণার মতো ঝড়ে,,,,
চোখটাও প্রিয় মানুষটির দুঃখ সহ্য করতে পারে না,,,,

মুমু উঠে দাঁড়ালো ,,,
হয়তো এখন নিচে আসবে
মুমু যাতে আমায় দেখতে না পারে
তাই জন্য তাড়াতাড়ি করে নিচে আসলাম,,,,

সবাই বসে টিভি দেখছে
আমি ও তাদের সাথে জয়েন করলাম ,,,

“””” ভাইয়া তোমার চোখ লাল হয়ে আছে কেন???
“””” মনে হয় কোনো পোকা পরছে ,,,,

আমরা সবাই গল্প করছি
হঠাৎ সেই সময় মুমু নিচে আসলো,,,
কারো সাথে কোনো কথা না বলেই
সোজা ওর রুমে চলে গেল ,,,,

একটু পরে আমি ওখান থেকে উঠে আমার রুমে চলে আসলাম
শ্বশুর মশাই আমার সাথে রুমে আসলো

“””” সুমন ,,,,
“””” কিছু বলবেন ???
””” হুম ,,,
“””” বলেন ,,,,
“”” তুমি কি সিয়র অনিকের সাথে ওর আর সম্পর্ক থাকবে না ,,,
“””” অলরেডি সম্পর্ক শেষ হয়ে গেছে ,,,
“””” তোমাকে যে কি বলে ধন্যবাদ দিবো,,,,
“””” কি যে বলেন না,,,,
“””” তাহলে এখন তোমাদের সুখের পরিবার,,,
“””” হুম,,, আপনার মেয়ে যাতে সুখে থাকে সেই ব্যবস্থাই করবো,,,
“””” হুম,,, তো আমরা বাসায় চলে যাই,,,
“””” রাত তো অনেক হয়েছে ,,,
“””” বাসা তো বেশি দূরে না,,,
“””” আমি এগিয়ে দিয়ে আসবো,,,
“”” না,, লাগবে না ,,, ড্রাইভার কে ফোন করে দিয়েছি,, এসে আমাদের নিয়ে যাবে,,,,
“””” ওহহহ,, আচ্ছা ,,,,

শ্বশুর মশাই চলে গেল ,,,
আমি আমার ব্যাগ গুছাইলাম,,,
কারণ আমি চাই না কারো
ঘৃণার পাত্র হয়ে থাকতে ,,,

আমি চলে গেলেই হয়তো ও সুখী হবে
আর এতেই আমি সুখী ,,,,

রাতে শুয়ে আছি
কিন্তু চোখে ঘুম আসছে না,,,
বার বার মনে হচ্ছে
আমি একজন ব্যার্থ মানুষ ,,,
নিজের ভালোবাসার মানুষটি কে
নিজের ভালোবাসা বুঝাতে পারলাম না

তিলে তিলে সঞ্চিত আমার এই ভালোবাসা
এখন এক অনাথ শিশুর মতোই অসহায় ,,,

এসব ভাবতে ভাবতে কখন যেন চোখের কোনে
কয়েক ফোঁটা পানি জমে গেছে
পানি গুলো মুছে ,,,
বাথরুমে গিয়ে মুখে পানি দিয়ে এসে শুয়ে পড়লাম

বার বার নিজেকে বোঝাচ্ছি
যে ভাবনা গুলো চোখে পানি এনে দেয়
সেগুলো না ভাবাই ভালো,,,
কিন্তু বেহায়া মনটা কিছু তেই
আমার কথা শুনবে না,,,
বার বার সেই ভাবনা গুলোই ভাবতে থাকবে,,,,

কখন যে ঘুমাই গেছি বুঝতেই পারি নি
মাঝ রাতে বুকের উপর
ভারী কিছু অনুভব করলাম
মনে হচ্ছে বেশ কিছু সময় ধরে এটা
আমার বুকের উপর আছে
বুকটা ব্যাথা হয়ে গেছে,,,,

মাথাটা একটু তুলে দেখি মুমু আমার বুকে মাথা রেখে শুয়ে আছে ,,,
তবে ও এখনো কান্না করছে ,,,,
আমার টি-শার্ট টা প্রায়
সম্পূর্ণ ভিজে গেছে ,,, কিছু
একটা বলতে যাবো কিন্তু আর বলতে পারলাম না
কেন জানি না কিছু বলতে ইচ্ছে করলো না ,,,

তবে বুকের যে ব্যাথা টা অনুভব করলাম এতক্ষণ
সেটা কেমন জানি বিলিন হয়ে গেল ,,,,
তবে মুমু এখনো ঘুমায় নি,,,
কিন্তু আমি এমন ভাবে শুয়ে আছি
যেন আমি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন,,,,

খুব ইচ্ছে করছে মুমুকে জড়িয়ে ধরতে
কিন্তু ধরার সাহস পাচ্ছি না,,,

অনেক ভেবে এবার এমন ভাবে জড়িয়ে ধরলাম
যেন আমি ঘুমের ঘোড়ে আছি,,,
হয়তো আর কোনো দিন এই সুযোগ টা পাবো না,,,,
কারণ কাল বিকেলে আমার ফ্লাইট,,,
আর ভোর বেলা সবাই ঘুম থেকে ওঠার আগেই আমি চলে যাবো,,,,

একটু পরে মুমু ঘুমিয়ে পড়লো,,,
আমি এখনো ওকে জড়িয়ে ধরে আছি,,,
ওর কপালে আলতো করে একটা চুমু দিলাম,,,,


এখন ভোর
আমি চলে যাচ্ছি ,,,
কিন্তু কিছুতেই যেতে ইচ্ছে করছে না,,,
মুমুর মায়াবী মুখটা বার বার দেখতে ইচ্ছে করছে,,,,

না মায়া বাড়ানো যাবে না ,,,,
কারণ মায়া বাড়িয়ে কষ্ট ছাড়া আর কিছুই পাবো না,,,

মায়া বাড়িয়ে যখন লাভ হয় না,,
তখন মায়া কাটাতে শিখতে হয়,,,
আর আমি এখন মায়া কাটাতে ব্যাস্ত ,,,,

মুমুর ফোনটার নিচে একটা চিঠি লিখে রেখে গেলাম ,,,

চিঠি ঃ
পাগলী বউ
সরি,,, তুমি তো আর আমার বউ নও,,, তাই পাগলী বউ বলাটা আমার শোভা পায় না ,,,, বিয়ে করলেই শুধু বউ বর হওয়া যায় না ,,, বউ বর হতে গেলে তাদের মাঝে ভালোবাসাটা থাকতে হয়,,, যেটা আমাদের মাঝে কখনোই ছিলো না,,,, আমি ভালবাসতাম তোমায় আর তুমি অন্য কাউকে ,,,,
আমি তোমার ভালোবাসা পাওয়ার জন্য কত কিছুই না করেছি,,, কিন্তু,,, আমার ভাগ্যে নেই,,,,,,
প্রতিদিন বাইক নিয়ে দাড়িয়ে থাকতাম
কিন্তু তুমি ভুলেও আমার বাইকের দিকে তাকাতে না,,,
যখন তোমার স্বার্থের জন্য আমায় প্রয়োজন হলো
তখন,,,, যাই হোক,,,,
কারো দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তাকে ব্যবহার করাটা ঠিক না,,, যখন সে জানতে পারবে যে সে যাকে ভালোবাসে যার জন্য সে এতটা করলো সে শুধু তার প্রয়োজন ছিলো প্রিয়জন না,,,, তখন যে কি পরিমাণ কষ্ট হয় সেটা তুমি বুঝবে না ,,,,
যাই হোক আমি হয়তো তোমার প্রয়োজন ছিলাম,,,
কিন্তু আমি খুব করে চাইতাম তোমার প্রিয়জন হতে ,,,,
কিন্তু সব সময় অপমান অবঙ্গা করেই গেলে ,,,,
আর কাল যেটা হলো সেটা শুধু মাত্র তোমায় ভুল মানুষের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য,,,,
তোমায় বাঁচানো আমার দায়িত্ব ছিলো,,,,
আমি আমার দায়িত্ব পালন করছি,,,,
আমার বালিশের নিচে দলিলটা আছে ,,,,
আর প্রোজেক্ট পেপার টাও,,,,
তুমি সব সময় চাইতে না
যাতে করে আমার মুখ দেখতে না হয়,,,,
সেই জন্য ডিভোর্স পেপারে সাইন করে রেখে আসছি
সাইন করে নিয়ো,,,,
চলে যাচ্ছি তোমার জীবন থেকে অনেক অনেক দূরে ,,,
কোনো দিন আর আসবো না তোমার শহরে
করবো না কখনোই বিরক্ত আর
বলবো না কখনো স্বামী আমি তেমার
দিতে হবে আমায় সেই অধিকার ,,,
তবে খুব করে বলতে ইচ্ছে হচ্ছে একটি বার
ভালোবাসি খুব খুব খুব ভালোবাসি,,,,


আমার ফ্লাইট বিকেলে হওয়ায় এই সময় টা কাটানোর জন্য
পুরানা সেই মেসে আসলাম,,,
সারা রাত ঘুমাইনি
তাই ফোনটা সাইল্যান্ট করে ঘুমালাম ,,,,
ঘুম থেকে উঠলাম প্রায় দুপুরে

ফোনের স্কিনে দেখলাম অনেক গুলো মিসকল আর মেসেজ ,,,,,
মেসেজ সিন করতে যাবো সেই সময়
আব্বুর নাম্বার থেকে কল আসলো,,,

“””” হ্যাঁ আব্বু,,,,
“””” তারাতারি হাসপাতালে আসো,,,, ( শ্বশুর)

আর কিছু না বলে ফোনটা কেটে দিলো,,,,,
আম্মু কে ফোন দিলাম,,,
কিন্তু রিসিভ করলো না ,,,,

এবার মায়াকে ফোন দিলাম ,,,,

“”””” হ্যালো মায়া,,,
“””” ভাইয়া কই তুমি ??
“””” আমি আছি ,,, কান্না করছো কেন???
“””” আপু একসিডেন্ট করছে ,,,,
“”””” কি বলো,,,, কিভাবে
“”””” আমরা সবাই হাসপাতালে,,, তুমি তাড়াতাড়ি চলে আসো,,,

মায়ার থেকে ঠিকানা নিয়ে হাসপাতালে আসলাম,,,,
সবাই আইসিও এর সামনে বসে আছে,,,

“”””” মায়া কিভাবে একসিডেন্ট হলো,,,,
“”””” সকাল বেলা তোমায় নিয়ে আমার সাথে অনেক গল্প করছে,,, তোমার কাছে ক্ষমা চাইবে,,, তাই তেমায় ফোন করে বাসায় আসতে বলার জন্য ফোনটা নিতে তোমার রুমে গেছলো এরপর কি যেন একটা পড়ে তাড়াহুড়ো করে গাড়ি নিয়ে বের হয়েছে ,,, এরপর হাইওয়েতে বড় ট্রাকের সাথে,,,,,,,
“”””” ডাক্তার কি বললো,,,,,
“”””” এখনো কিছু বলে নি,,,, ভিতরে অপারেশন করছে,,,,,

মায়া আমায় জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো,,,,
আমার জন্যই আজ মুমুর এই অবস্থা ,,,,
মুমুর কিছু হয়ে গেলে কখনোই নিজেকে ক্ষমা করতে পারবো না,,,,

একটু পরে ডাক্তার বের হলো,,,
দৌড়ে গেলাম ,,,

“””” ডাক্তার কি অবস্থা ,,,,
“””” কিছুই বলতে পারছি না,,, খুব বেশি ব্লাডিং হয়েছে ,,, এখন সব কিছু আল্লাহর হাতে ,,,,

আল্লাহ প্লিজ আমার মুমুকে সুস্থ করে দাও,,,,
কখনো কিছুই চাইবো না,,, তুমি শুধু আমার মুমুকে ভালো করে দাও,,,,,
চোখ দিয়ে অনবরত পানি ঝড়ছে ,,,,
এমন সময় আমার সামনে এসে থামলো
একটা বেড,,,
বেডের উপর সাদা কাপনে মোড়ানো একটা দেহ,,,,
চোখ গুলো আমার আটকে গেলো,,,,
মুখ দিয়ে যেন আর কোনো কথা বের হচ্ছে না
কন্ঠ নালী মনে হয় শুকিয়ে গেছে
কাঁপা কাঁপা হাতে মুখ থেকে কাপড় টা সরাতেই
আমার পুরো পৃথিবী টা যেন থমকে গেছে
কিছু সময়ের জন্য মনে হয় আমার শ্বাস আটকে গেছে ,,,,

“””””” মুমু,,, এই মুমু ,,,,, এই কথা বলো,,,, দেখো আমি কোথাও যাই নি,,, তোমার কাছেই আছি,,,

“”””” কি হলো কথা বলবে না,,,, এই মুমু,,,, আমি কোথাও যাই নি তো,,,, প্লিজ কথা বলো,,, তুমি আমায় ছেড়ে এভাবে চলে যেতে পারো না ,,,,, আরে পাগলী আমি তো তোমার প্রজেক্টের ব্যাপারে যাচ্ছিলাম,,, কিন্তু তোমায় একটু কষ্ট দিবো জন্য ওসব বলছি ,,, আর তুমি,,, তুমি আমায় চিরতরে একা করে চলে গেলে,,,,,

“”””” মুমু এই মুমু প্লিজ ওঠো না,,, একটা বার তাকাও আমার দিকে ,,,,, দেখো আমি কোথাও যাই নি,,, প্লিজ তাকাও,, কথা বলো,,,,

“”””” আমার পাগলী বউটা প্লিজ কথা বলো,,, আমি কখনোই তোমায় না বলে আর কোথাও যাবো না,,, তোমার সাথে আর এমন করবো না,,, কখনো তোমায় কষ্ট দিবো না ,,, প্লিজ তুমি কথা বলো,,, আল্লাহ প্লিজ আমার মুমুকে ফিরিয়ে দাও,, তুমি আমার সাথে এমন করতে পারো না,,,, প্লিজ আল্লাহ,,, আমার মুমুকে ফিরিয়ে দাও ,,,,
মুমু প্লিজ একটা বার কথা বলো তোমার যত খুশি বকা দাও আমি কিছুই বলবো না প্লিজ তবুও কথা বলো,,,,

আমার সামনে থেকে মুমুকে নিয়ে যাচ্ছে ,,,,
আমি শুধু চিৎকার করে কান্না করছি,,,,
নিয়তি আবার আমার প্রিয় মানুষ কে কেড়ে নিলো,,,

হাজার বার রিকুয়েষ্ট করলাম কিন্তু মুমু আর কথা বলে নি,,,,
আমিও কেমন জানি ছিটকে পড়ে গেলাম সাধারণ জীবন যাপন থেকে অনেক দূরে
কোনো এক অস্বাভাবিক জীবনে,,,,,

সব গল্পের হ্যাপি ইনডিং মানায় না,,,
আমার সব গল্পে হ্যাপি আছে তাই এটাতে sad দিলাম
আপনারা যদি ” বস বউ ২ ” চান তবে আমি দিবো ইনশাআল্লাহ,,,
এর আগে এই গল্প টা কেমন লাগলো সেটা জানাবেন সবাই প্লিজ,,,,





The End

Related Posts

2 thoughts on “বস যখন বউ part-12 & End

  1. ভাই খুব কান্না পাচ্ছে
    গল্প টা জদি স্যাড না হতো ভাই তাহলে অনেক অনেক ভালো লাগতো

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *