বস যখন বউ part-3

বস বউ
Sûmøñ Ãl-Fãrâbî
Part_3

“””” ঠাসসসসসসস,,,,

আজিব তো,,,
কোনো কথা ছাড়াই গালের মাঝে তবলা বাজিয়ে দিলো,,,

“””” এটা কি হলো???
“””” দেখেন নি কি হলো,, আবার দেখিয়ে দিবো,,

হায় হায় কয় কি,,,

“””” না থাক,,, কিন্তু মারলেন কেন,,,,
“”” কারো রুমে আসতে হলে যে পারমিশন নিতে হয় সেটা জানা নেই ,,
“””” সরি,,, কিন্তু আমি তো আপনার স্বামী ,,,
“””” তো কি হইছে ,,, নক করে আসার ভদ্রতা ও শেখেন নি,,,
“””” সরি,,,
“””” আর হ্যাঁ ,,, কি বললেন আপনি আমার স্বামী ????
“””‘ কেন কোনো সন্দেহ ,,,
“””” আপনাকে আমি স্বামী হিসাবে মানি না ,,,
“””” কেন???
“””” বাসর ঘরে যে তার বউকে থাপ্পড় মারে
সে কখনো স্বামী হতে পারে না ,,,
“””” পহহ,, আর আপনি যেগুলো বলছেন সেগুলো কি ছিলো ,,, একটা দিয়ে ভুল করছি ,,, দুই গালে দুইটা দেওয়া উচিত ছিলো ,,,
“”””” তোর সাহস তো কম না তুই আবার আমায় মারতে চাস,,,,
“””” দেখুন এখন আপনার সাথে কথা বলতে একদম ভালো লাগছে না ,,,
“””” আমার মনে হয় খুব ভালো লাগছে ,,, যত্তসব,,,,
“””” আপনার সব কিছু গুছিয়ে নেন,,, সন্ধ্যায় চলে যাবো,,,
“””” কোথায়,,,
“””” আমাদের বাসায়,,,,
“””” আমি কোথাও যাবো না,,, আমি এখানেই থাকবো,,,

আমি আর কিছু না বলে বাথরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসলাম ,,,
এসে শ্বশুর মশাই এর সাথে দেখা করতে গেলাম ,,,
গিয়ে ওনাকে বললাম যে ওনার মেয়ে যেতে চাচ্ছে না,,,

এখন বিকেল,,,
আমি ছাঁদে দাড়িয়ে আছি ,,
আকাশটা দেখছি,,,
কতদিন হলো এভাবে মুগ্ধ হয়ে আকাশের দিকে তাকানো হয় না,,,

হঠাৎ পিছনে থেকে শ্বশুর মশাই ওর আওয়াজ,,,

“””” সুমন মুমু রেডি ,,,,
‘”””‘ ওহহ,,, তাহলে আমরা এখন চলে যাই,,,
“””” ড্রাইভার কে বলে দিচ্ছি,,, তোমাদের পৌঁছে দিবে ,,,
“”‘” না থাক,,, আমার যেটা সম্বল সেটাতেই আমার বউকে চলতে অভ্যস্ত করি,,,
“””” আচ্ছা ,,,

একটা রিকশা নিয়ে মুমু আর আমি চলে আসলাম আমাদের স্বপ্নের দেশে,,
মানে আমাদের বাসায়,,,
আমার কাছে তো এটা স্বপ্নের দেশ
কিন্তু মুমুর কাছে কি সেটা জানি না ,,, ।।

বেডরুমে এসে মুমু ওর কাপড়ের ব্যাগ টা জোরে করে ফেলে দিলো

“””” কি হলো,,,
“””” নিজের তো গাড়ি কেনার মুরদ নেই ,,, বাবাকে গাড়ি টা দিতে বললে কি হতো,,,,,
“””” আমি কেন ওনার গাড়িতে চড়ে বেরাবো,,,,
“””” তো নিজে একটা কেনো,,,,
“””” আল্লাহ যখন সামর্থ্য দিবে তখন অবশ্যই কিনবো
“””” সেই সামর্থ্য তোর কোনো দিন ও আসবে না ,,,
“””” তাহলে সারা জীবন এমন করে কাটাতে হবে ,, আপনাকে আর আমাকে,,,,
“””” কি??? অসম্ভব,,,, আমি পারবো না ,,,,
“””” কিছুই করার নেই,,,,

এরপর মুমু বাথরুমে গেলো,,,
আমিও আর কিছু না বলে ছাঁদে আসলাম,,,

রাত হয়ে গেছে,,,,
কিছু তো খেতে হবে,,,
গিয়ে দেখি মুমু কিছু রান্না জানে কি না,,,

নিচে আসলাম ,,,
এসে দেখি উনি হেডফোন কানে লাগিয়ে আপন মনে গান শুনছেন,,,,

“””” এই যে ,,,
“””” কিছু বলবেন ,,,
“””” কান থেকে হেডফোন টা খুলুন,,,
“””‘ হুম ,, বলুন ,,,
“””” কি কি রান্না জানেন,,,,
“””” ওওও হ্যালো,,, আমি কোনো দিন রান্না ঘরের ধারের কাছেও যাই নি,,,
“””” সেটা দেখলেই বোঝা যায় ,,, আমরা কাঠের ঢেকি একটা,, ( বিরবির করে বললাম)
“”””” কিছু বললেন ,,,
“””” কই কিছু বলি নি তো,,,

এখন রান্না করতে পারবো না,,
বাইরে থেকে কিছু নিয়ে আসি,,,

বাইরে গিয়ে দুই প্যাকেট বিরিয়ানি নিয়ে আসলাম

খাওয়া শেষ করে এসে শুয়ে পড়লাম ,,

“””” আপনি এখানে শুইলেন কেন???
“””” তো কোথায় থাকবো ,,,,
“””” পাশের রুমে গিয়ে ঘুমান যান,,,,
“””” কিন্তু কেন???
“””” কারণ আমি আপনার সাথে এক রুমে থাকবো না ,,,,
“””” ধনী পরিবারের মেয়ে জন্য আপনার অহংকার টা একটু বেশি,,, সমস্যা নেই ঠিক করে দিবো ইনশাআল্লাহ ,,,

বলেই রুম থেকে বের হয়ে অন্য রুমে আসলাম,,,
আর রাত না জেগে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পরলাম ,,,
কাল আবার অফিস যেতে হবে ,,,


সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা রেডি করলাম ,,,
কোথায় বউ আমায় আদর করে ডেকে নাস্তা খাওয়াবে উল্টো আমায় করতে হচ্ছে ,,,
নবাবজাদী রান্নাটাও শিখে নি,,,

অফিসে যাওয়ার আগে
মুমুর দরজায় নক করলাম ,,,

“”””” কি হইছে এতো সকালে ডাকাডাকি করছেন কেন ,,,
“”””” টেবিলের উপর নাস্তা রাখা আছে ,, আর এটা দরজার চাবি,,, আমি অফিসে যাচ্ছি ,,,,
“””” হুম ,,,,

আর কোনো কথা না বলেই দরজা লক করে দিলো,,,,
সকাল সকাল মনটা খারাপ হয়ে গেল ,,,
কি আর করার,,,,
ভাগ্যে এটাই ছিলো,,,,
ভেবেছিলাম হয়তো একটু সুন্দর করে কথা বলবে
দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিবে,,,
ভাবনা ভাবনাতেই ডুবে গেলো,,,

যাই হোক,,,
এসব নিয়ে ভেবে লাভ নেই,,,

অফিসে চলে আসলাম
অফিসে আসার সাথে সাথে সবাই আমার দিকে কেমন করে তাকিয়ে আছে ,,,

“”” আপনার পরশু দিন এ বিয়ে হলো
আজকেই অফিসে আসার কি দরকার ছিল ,,, ( কলিগ)
“””” বিয়ে করছি জন্য কি অফিসে আসতে মানা নাকি,,,
“””” ঠিক তা না,,,,
“””” আমি গেলাম,,,

আমি আমার কেবিনে আসলাম ,,,
এসে বসের সাথে দেখা করতে গেলাম,,,
তিনিও আমায় দেখে অবাক,,,

এরপর কিছু সময় কথা বলে চলে আসলাম,,,,

আমার কেবিনে এসে সব কিছু গুছিয়ে নিয়ে
কাজে মননিবেশ করলাম,,,,

প্রায় দুপুর হয়ে গেছে ,,,
হঠাৎ একজন আমার কেবিনে এসে বললো,,

“”” এতো ভালোবাসা আপনাদের মাঝে ,,,
“””” মানে ???
“””” মুমু ম্যাডাম অফিসে আসলো,,,
“””” ওনার বাবার অফিসে আসতেই পারে,,,
“””” কিন্তু এতদিন তো আসে নি,,,,
“””” আপনি আপনার কাজে যান,,,
“” যাচ্ছি ,,, তবে বস আপনাকে যেতে বললো,,,
“”” হুম ,,,

এই অসময়ে আবার ডাকছে কেন,,,
আর মুমুই বা এখন অফিসে আসলো কেন,,,,
যাই,,
গিয়ে শুনে আসি,,

আপনারা কি বলেন ???
যাবো???
যাই???
আপনারা যাবেন???
না থাক আমিই যাই,,, শুনে আসি ,,,,

বউ হঠাৎ অফিসে??
বিষয় টা কি??
এতদিন তো আসে নি ,,,
এতকিছু ভেবে আমার কি লাভ
ওর বাবার অফিসে ওর যখন খুশি আসবে চলে যাবে,,,

বেশি কিছু না ভেবে
বসের রুমে চলে আসলাম ,,

“”” স্যার আসবো ???
“”” সুমন , আসো,,,
“”” আমায় ডেকেছেন স্যার???
“”” মুমু আসছে ,,,
“”” ওহহহ,,,,
“”” দেখো সুমন মুমু আমার একমাত্র মেয়ে ,, সো আমার যা কিছু আছে সব গুলো ওর,,, যেহেতু তুমি ওর স্বামী তাই তোমাদের দুজনেরই,,, আমি ওকে বলছিলাম ওর বিয়ের পর আমি আর অফিসে আসবো না,,, ওকেই অফিসের দায়িত্ব টা দিবো,,,,
“””” হুম ,,
“””” তাই ওকে আমি ডাকছিলাম ,,, কাল ভাবলাম শরীর টাও ভালো লাগছে না,,, তাই অফিসের দায়িত্ব টা তোমার হাতে দেই,,
আজ না হয় কাল তো তোমাদের কেই দেখাশোনা করতে হবে ,,, কিন্তু মুমু বলতিছে অফিসের দায়িত্ব নাকি ও নিবে,,,, যেহেতু তোমার বউ,,, তাই তোমার মতামতের একটা বিষয় আছে ,,, তুমি কি বলো,,,,

আমি শুধু কথা গুলো শুনছি,,,
কিছু বলছি না,,,

“””” স্যার আমি ওর সাথে এই বিষয় নিয়ে কথা বলবো পরে ,,
“””” আচ্ছা ঠিক আছে ,,, তাহলে মুমু তুমি বাসায় যাও,,, আগে কথা বলো তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ,,,

মুমু রাগ করে বাসায় গেল,,
বাসায় আসার আগে আমায় তাড়াতাড়ি বাসায় আসতে বলে আসলো
স্যার মানে শ্বশুর মশাই আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে,,,,

“””” তুমি ও এখনি বাসায় যাও,,,
“””” কেন স্যার ,,,
“””” বউ রাগ করছে ,,, আর তাড়াতাড়ি ডাকছে ,,, যাও,,,
“””” একটু পরে যাই,,,
“””” কেন??
“””” একটু কাজ আছে ওটা শেষ করে তারপর যাবো,,,
“””” তোমার কাজ আমি দেখে নিবো,, তুমি আগে তোমার বউয়ের রাগ ভাঙ্গাও,,,
“”” ঠিক আছে স্যার ,,,

শ্বশুর মশাই এর সাথে কথা বলতে বলতে
বের হয়ে দেখি মুমু চলে গেছে ,,,
আমিও তাড়াতাড়ি করে বাসায় আসলাম ,,,

কিন্তু বাসায় এসে দেখি মুমু বাসায় নেই ,,,
ভাবলাম অফিসে আমার আর ওর বাবার সাথে
একটু মন খারাপ হইছে তো তাই বোধ হয় ওর মায়ের
সাথে দেখা করতে গেছে ,,,

এই অল্প সময়ে আমি স্যারের থেকে শুনে
মুমুর কিছু প্রিয় খাবার বানিয়েছি ,,,

রাত প্রায় ৯ টা,,,
খাবার গুলো বেরে রেখে
বসে বসে টিভি দেখছি ,,,

হঠাৎ মুমু আসলো,,,

””” কই ছিলা তুমি ,,,,
“”” আমি কই ছিলাম সেটা কি তোমায় বলতে হবে ??
‘””” না মানে তোমাদের বাসাতেও ফোন দিলাম,,, ওখানেও নাকি যাও নি,,,
“”” তোকে আমার এতো খবর নিতে হবে না,,,
তুই কি নিজেকে আমার স্বামী ভাবা শুরু করে দিলি নাকি,,,, মনে রাখবি তুই শুধুই আমাদের মাইনে দিয়ে রাখা কর্মচারী,,,

আর কিছু বলতে পারলাম না ,,,
সব কথা কেন জানি আটকে গেছে ,,

“””” আসেন খেয়ে নেন,,,
“”” তোর ঐসব সস্তা খাবার খাওয়ার ইচ্ছে আমার নেই ,,, তুই খা,,, আমি বাইরে থেকে খেয়ে আসছি ,,,
“””” আপনার প্রিয় কিছু ,,,,,
“”” বাদ দে ,,, অফিসে যে বাবা তোকে জিজ্ঞেস করলো ,,,
তখন আমায় দায়িত্ব দিতে বললি না কেন???
“””” না মানে ,,,
‘””” কি???
“””” বলছিলাম যে তোমার অফিসে যাওয়ার দরকার কি,, আমি তো আছিই,,,
“””” তোদের মতো চাকরকে দিবো অফিসের দায়িত্ব,, আর তুই সব কিছু লুটে নিবি,,, সেটা আমি থাকতে কখনো হতে দিবো না ,,,
.
কথা বলার ভাষাই হারিয়ে ফেলেছি ,,,
টাকার কারণে এতটাই অহংকার
যা ভাবার বাইরে ,,,

“””” আচ্ছা ঠিক আছে আমি কাল অফিসে গিয়ে বলবো স্যারকে,,,

মুমু রুমে চলে গেল,,,

আমিও না খেয়ে অন্য রুমে গিয়ে শুয়ে পড়লাম,,,

সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে নাস্তা রেডি করে নাস্তার পাশে কিছু গোলাপ রেখে দিয়ে
অফিসে আসলাম ,,,

এসে ডিরেক্ট স্যার এর রুমে আসলাম ,,

“””” স্যার কাল মুমুর সাথে কথা বললাম ,,, দায়িত্ব টা ওকে দেওয়া ভালো হবে ,,,
“””” কিন্তু সুমন আমি চাইছিলাম তুমি নাও,,,
“”’ না স্যার ,,, আর এসব উনি ভালো বুঝবে ,,, আর আমরা তো আছি ওনাকে সাহায্য করতে ,,,
“””” হুম ,,,

জীবনে কখনো চাই নি যে আমার বউ বাইরে চাকরি করবে ,,,
শুধু চেয়েছি সারাদিন আমার জন্য অপেক্ষা করবে
আর যখন আমি বাসায় ফিরবো
তখন আমায় অনেক ভালোবাসবে,,,

হয়তো সেই কপাল টা আমার নেই ,,,

সেদিন স্যার কে বলে একটু তাড়াতাড়ি বাসায় আসলাম ,,,
এসে দেখি মুমু আজকেও বাসায় নেই ,,,
বড় লোকের মেয়ে ,,,
বাসায় বসে থাকা হয়তো পছন্দ করে না
তাই বাইরে ঘুরতে গেছে ,,,

একটু তাড়াতাড়ি বাসায় আসার কারণে
অনেক সময় আছে সন্ধ্যা হতে ,,
তাই আমিও একটু বের হলাম ,,,,
আমার বাসার পাশেই একটা পার্ক আছে ,,,
পার্কে গেলাম ,,,
কয়েক টা পথশিশু বসে খেলা করছে ,,,
আমি ও একটু ওদের খেলা দেখলাম ,,,
এরপর একটু সামনে আগালাম ,,,
ভাবলাম কোন একটা বেঞ্চে বসে
কিছুটা সময় কাটিয়ে দেই,,,
গিয়ে প্রথমেই একটা বেঞ্চে আমার চোখে আটকে গেলো,,,
হঠাৎ করে আমি বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম ,,,
কথা বলতে চাচ্ছি
কিন্তু মুখ দিয়ে কোনো কথা বের হচ্ছে না,,,
তবে চোখে পানি টলমল করছে এটা বুঝতে পারলাম ,,,

.
..

….

..
.

To be continue

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *