বাড়িয়ালার মেয়ে | অভিমানী ভালোবাসার গল্প

বাড়িয়ালার মেয়ে 😁😁
……..পর্ব -03 …..

বাড়িয়ালার মেয়ে  part-01

বাড়িয়ালার মেয়ে  part-02

বাড়িয়ালার মেয়ে  part-04 end

৭ বছর পড় আবার ও পা দিলাম ঢাকায়….। চেনা পথ গুলোও আজ অচেনা লাগতেছে…..। সেদিন ই ওখান থেকে বাসা ছেড়ে চলে আসি বাড়িতে…। তারপর চিটাগাং ইউনিভার্সিটি চান্স পায়…। সেখান থেকেই অনার্স মাস্টার্স শেষ করে জব শুরু করি….। আর আজ এই জব এর জন্য ঢাকা ফিরে আসা….। ঢাকায় ট্রান্সফার হইছে…। বাস থেকে নামার ১০ মিনিট এর মধ্যেই সামিয়ুল আসলো….।
সামিয়ুল : আসতে অসুবিধা হয় নি তো…
আমি : না
সামিয়ুল : রাফসান আজ না হয় আমার বাসায় উঠ… পড়ে নতুন বাসা খুজে নিস…।
আমি : আচ্ছা…
সামিয়ুল : হু চল
আমি : হুম
…………….. ……………..
বাসায় আসলাম…সামিয়ুলের আদিবা বললো কেমন আছিস রে….।
আমি : এইতো ভালোই তুই
আদিবা : আছি ভালোই
আমি : ঢং বাদ দিয়ে তো দেখি সংসারী হয়ে গেছিস তোরা…… 😝😝😝😝
সামিয়ুল আদিবা দুজন ই হেসে উঠলো…..। রাতে খাওয়া দাওয়ার পর রেস্ট নিলাম…..। সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে আগে……. ফ্রেশ হয়ে অফিসে রিপোর্ট দিয়ে আসলাম…..। কাল থেকে জাবো অফিসে…….।
বাসায় আসলাম আবার…….।
আদিবা : বাসায় কোথায় নিবি…।
আমি : অফিসের আশে পাশে….
সামিয়ুল : বিয়া করিস না কেন….???
আমি : করবো তো আগে নিজের পায়ে দারাই
সামিয়ুল : আর কত নিজের পায়ে দারাবি ৩ বছর এ তো টাকা পয়সা কম আয় করিস নি…এবার বিয়ে করে স্যাটেল হ…….।
আমি : ঐ তোর জামাইয়ের মুখে টেপ লাগা ( আদিবা কে উদ্দেশ্য করে বললাম.. )
আদিবা : লাথি দিমু আমার বাবু টা তোকে কি করছে রে… ।
আমি : দরদ উতলায়া পড়ে ….. 😝😝😝
সামিয়ুল : আরে বাদ দে তো এসব….।
আমি : এখন চল বাসা খুঁজতে বের হই…
সামিয়ুল : হে চল….
আদিবা : আমি ও যাবো… 🙌🙌🙌
সামিয়ুল : তুমি কি করতে যাবা……
আদিবা : হে আমি না গেলেই তো তোমার সুবিধা…. মেয়ে দেখবা রাস্তায় ঘুরে ঘুরে এখন তো সাথে বন্ধু ও আছে লুচুমি করবা…..। ঠেঙ ভাইঙ্গা হাতে ধরায়া দিমু… 😠😠😠😠
আমি : বন্ধু সাথে আছে মানে আমি কি লুচু নাকি
আদিবা : না তুই না……
সামিয়ুল : তাহলে এই লুচু রে বিয়ে করলে কেন,……।😒😒😒😒
আদিবা : কি ভুল টা না করছি তোমার এ ভালোবাইসা…….।
আমি : ঐ তোদের রোমেন্স তোরা পড়ে করিস….
আদিবা আর সামিয়ুল দু জন একসাথে বলে উঠলো….. কেন তোর ফাটে নাকি….. 😉😉😉
আমি : যা ভাগ তো তোরা…..।
আদিবা : হু হইছে চল…… 😒😒
………………………………… …….. …….. ……
৩ জন বের হলাম বাসা খুজতে….
সামিয়ুল : কিরে কিরকম বাসা নিবি . ….
আমি : রেডি ফ্ল্যাট….
আদিবা : ফ্ল্যাট কিনবি নাকি
আমি : হুম
সামিয়ুল : ট্রিট হপ্পে মাম্মা ট্রিট 😀😀😀
আমি : শ্লা আবুল কোথাকার ২ দিন পর বাবা হবি আর এখন আসছিস ট্রিট ট্রিট করতে…. 😠😠
…… আদিবা লজ্জায় মুখ লাল করে ফেলেছে…..
সামিয়ুল :চল তাহলে প্রিতিদের নতুন এপার্টমেন্ট এ যাই………। ওদের রেডি ফ্ল্যাট বিক্রি হবে
আমি : হু চল
।।।।।।।।।।।।।। ।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।
কেটে গেলো সপ্তাহ খানিক
বাসা গুচগাচ শেষ হয়ে গেছে বাবা মা ও ঢাকায় চলে এসেছে এখন…. অফিস ও শুরু হয়ে গেছে ঠিকঠাক মতো…….।
…………………………..
সকাল বেলা অফিস যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছি মা আসলো
মা : এই নে কফি টা খা…..।
আমি : না মা সময় নেই… ঘুম থেকে উঠতে এমনিতেই দেরি হয়ে গেছে……।
মা : বিয়ে কর ঘরে বউ আন তাহলে আর উঠতে দেরি হবে না…….।
আমি : আবার শুরু করছো গত ৩ বছর ধরে তোমার এসব শুনতে শুনতে আমি ফেডাপ মা
মা : দেখ রাফসান সব কিছুর একটা সময় থাকে বুঝলি….
আমি : গেলাম
মা : বল আসি গেলাম না
আমি : হইছে হইছে 😫😫😫😫
।।। ।।।।।।। ।।।।। ।।।।।। ।।।।। ।।।।। ।।।।
……..
অফিস গিয়ে পৌছালাম… আজকে আবার একটা মিটিং আছে নতুন একটা প্রজেক্ট নিয়ে অন্য একটা কোম্পানির সাথে……। কাজ করতেছিলাম তখন আমার কেবিন এ আসলো……। অফিসের স্টাফ…..।
স্টাফ : স্যার প্রজেক্ট এর প্রেজেন্টেশন ও ফাইল গুলো রেডি……..
আমি : কনফারেন্স রুম এ রাখেন ১২ টায় উনারা আসবে তারপর মিটিং তারপর লাঞ্চ করা হবে….
স্টাফ : ওক্কে স্যার…..
আমি : হুম
স্টাফ : আসি স্যার
আমি : হুম আসুন…. 😊😊😊
।।।।।।।। ।।।।।।।।। ।।।।।।।।।। ।।।।।।।।। ।।।
১২ টার দিকে অন্য কোম্পানির প্রতিনিধি রা আসলো…….। কনফারেন্স হলের দিকে গেলাম…….।
আমি : হ্যালো মি. রায়হান
রায়হান : হ্যালো মি. রাফসান….
আমি : আপনাদের কোম্পানির আর কে কে এসেছে…….।
রায়হান : এসেছে আর ৪ জন ওরা আসছে নিচে আছে ওরা……।
আমি : ও…. 😇😇
………………………………………
আমি আর মি. রায়হান দাড়িয়ে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম…….এমন সময় রাহয়ান সব বললো……।
মি. রায়হান : মি. রাফসান ওনি হলো আমাদের সবচেয়ে জুনিয়ার অফিসার….
……আমি পিছনে থাকালাম দেখার জন্য…… পিছনে তাকাতেই রীতিমত অবাক রায়হান সাহেব যাকে দেখালেন সে আর কেউ না জারা…..। সেই আগে পরিচিত চেহারা আজ অপরিচিত লাগছে…..। সব ঠিক ঠাক ই আছে শুধু চোখে চশমা……। জারা আমাকে দেখে পুরাই অবাক দু’জন ই তাকিয়ে আছি দু’জনের দিকে…. হঠাৎ কিসের আওয়াজ এ জানি ঘোর কাটলো…..।
আমি : এক্সকিউজ মি…..( মি. রায়হান কে উদ্দেশ্য করে)
বলেই কনফারেন্স রুম থেকে বের হয়ে আসলাম…… 😒😒😒
।।।।।।।। । ।।।।।।।।।।।। ।।।।।।।।। ।।।।।।।।।

কনফারেন্স রুম থেকে বের হয়ে ওয়াসরুম এ গেলাম বেসিন এ গিয়ে মুখে পানি দিচ্ছি…..। মুখে পানি দেয়ার পর আয়নাতে….। নিজেকে দেখলাম…। কানে এখনো ঐ দিনের কলেজের সবার সামনে করা অপমান গুলা বাজছে…। সবার সামনে চর মারাটা..। চোখের সামনে ভেসে উঠছে…. সেই দিন টা….। মুখ টুখ মুছে ওয়াসরুম থেকে বেরহলাম…। কনফারেন্স হলে গেলাম……। মিটিং শুরু হলো……। জারা বার বার আমার দিকে তাকাচ্ছে ওর চেহারায় কোথাও একটা অপরাধ বোধ কাজ করছে এটা ওকে দেখেই বুঝা যাচ্ছে…। আমার ওর দিকে তাকাতে ঘৃণা লাগতেছে..। মনে মনে ভাবছি যদি ডিল ফাইনাল হয়ে যায়…। তাহলে এই উটকো ঝামেলা টা প্রতিদিন পহাতে হবে এর চেয়ে ভালো এই কোম্পানির সাথে প্রেজেক্ট ক্যান্সেল করে দি……। পরক্ষনে বিবেক বাধা দিলো….। যে নিজের ব্যাক্তিগত ঘটনার জন্য তো আমি আর কোম্পানির ক্ষতি করতে পারি না……। ….. প্রেজেন্টেশন শেষ হলো………। 😍😍😍

”””””””””””””””””””””””””””””””” ””””””””””””””””””””””””””””””””
মি. রাহয়ান : তো রাফসান সাহেব কনগ্রেস ডিল তাহলে ফাইনাল হলো……।
আমি : হু অফ কোর্স…..।
মি. রায়হান : তাহলে আজ উঠি কেমন….।
আমি : হুম তবে লাঞ্চ করার পর….। 😆😆
মি. রাহয়ান : এসব এর কি দরকার ছিলো…..। 😳
(আমি মনে মনে বলি বেটা খাওয়ার সময় তো আর কম খাবি না….। আর ন্যাকামি না কইরা ধন্যবাদ দে যে লাঞ্চ এর টাকা ১০০ বাছায়া দিলাম ) 😝😝😝😝😝😝😝😝
আমি : কি যে বলেন না…..। চলেন লাঞ্চ এর জন্য যাওয়া যাক……।
মি. রায়হান: হুম চলুন……।
………………………………………………………….
ওনাদের সবাই কে বসিয়ে দিয়ে আমি ওয়াসরুমে গেলাম……। হাত মুখ দিয়ে আসলাম লাঞ্চ করার জন্য একটা চেয়ার ও খালি নেই…। শুধু জারার পাশের চেয়ার টা খালি……। আমি দাড়িয়ে আছি এখনো কারণ জারার পাশে বসার কোন ইচ্ছে ই নেই আমার………। হঠাৎ রায়হান সাব হাড্ডি চাবাইতে চাবাইতে বললো…।
মি. রায়হান : রাফসান ঐ চেয়ার খালি আছে…। ওখানে গিয়ে বসেন একসাথে খাই…..
আমি : জ্বি হ্যা বসছি ( মুচকি হেসে বললাম) [ মনে মনে বেটা একসাথে খাই মারাই তে আসছে অলরেডি মনে হয় ৫ প্লেট খাইছে…… ]
;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;-;;;:::::::::;;:::::::;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;
অনিচ্ছাসত্ত্বে জারার পাশের চেয়ার টাতে বসতে হলো……। বসলাম দেখি জারা প্লেট এর খাবার গুলো শুধু নাড়ছে আর একমনে আমার দিকে তাকিয়ে আছে……। তাকালে তাকাক আমার কি আমি আমার খাওয়া শুরু করি…………..। খাওয়া দাওয়া চলছে হঠাৎ জারা কাশাকাশি শুরু করলো আমাদের সামনে পানির বোতল ও নেই…..।
আমি : সার্ভেন্ট কে ডাকদিলাম জোরে বললাম যলদি পানি আনার কথা…….। একটু পড় সার্ভেন্ট পানি নিয়ে আসলো…..। জারা কেশেই যাচ্ছে….। গ্লাসে পানি ঢেলে নিজে হাতে খাইয়ে দিলাম…. । পানি খাওয়ানোর পর ওর কাশাকাশি বন্ধ হলো……। পানি খাওয়ানোর সময় ও আমার দিকে একপানে তাকিয়ে ছিলো…..।
…”””’””””””””””””’ “””””””” ””””””””””””””””” “”””””””” “””””
আমার খুব আনইজি লাগছিলো তাই আমি খাওয়া রেখে চলে আসলাম….। ওনারা খেয়ে দেয়ে আসলো….। তারপর উনারা বিদায় নিলেন….। যাওয়ার সময় ও জারা কিছু বলতে চেয়ে ছিলো…..। আমি ইগনোর করে চলে আসি……।😒😒😒😒
…. …….. ……. ………. ……. …… ………
বিকেলে অফিস থেকে বেরহলাম রিকশা এর জন্য দাড়িয়ে আছি এমন সময় আমার সামনে এসে একটা গাড়ি থামলো….। আমি ও গিয়ে উঠে পরলাম কারণ এখানে জয়েন হওয়ার পর থেকেই প্রিতি আমাকে নিয়ে যায় প্রতিদিন….। না যাইতে চাইলে ও জিদ ধরে বসে থাকে….। তাই এখন আর না বলি না..। গাড়ি আসলে উঠে পড়ি………..।
প্রিতি : কিরোকম কাটলো আজকের দিন
আমি : ভালোই…., 😳😳😳
প্রিতি : লাঞ্চ করছো….?
আমি : হুম
……..এখানে আসার পর থেকে প্রিতি আমাকে তুমি করেই বলে কেন বলে তাও জানি না আমরা যে ক্লাস মিট বা ফ্রেন্ড এটা ওর কথা বার্তায় কিছু বুঝা যায় না…..। তাই ওর সাথে কথা কম ই বলি…।…….।
কথা বলতে বলতে বাসায় এসে পৌছালাম….। ফ্রেশ হয়ে সন্ধায় ছাদে উঠলাম….। এমন সময় প্রিতি আসলে….।
প্রিতি : এই রাফসান…
আমি : হু
প্রিতি : চলো কাল কোথাও ঘুরতে যাই….।
আমি : আরে কি বলো সময় কোথায়….।
প্রিতি : এত কিছু বুঝিনা বাপু…..। যাবো মানে যাবো এটাই কথা বুঝলা…..।
আমি: বুঝার চেস্টা করো প্লিজ,…..
প্রিতি : বুঝছি তো আমাকে তো আর বন্ধু ভাবো না..। যদি ভাবতা তাহলে না করতে না…
আমি : তিল কে তাল বানাচ্ছো কেন….। ওক্কে যাবো কাল খুশি…..।
প্রিতি : সত্যি….।
আমি : হু…………
””””””””””””””””””””””””””””””””” “””””””’ “””””””””””” “””””””””
আরো কিছুখন কথা বলে বাসায় চলে আসলাম..। রাতে খাওয়া দাওয়া শেষ করে বেড এ শুয়ে শুয়ে সারাদিন এর ঘঠে যাওয়া ঘটনা গুলো ভাবলাম…..। এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম…। ঘুম ভাঙ্গলো সকালে…….। অফিস এ গেলাম আজ বৃহঃপতিবার হাফ ডে তাই আজ ঐ কোম্পানির লোক গুলো ও আসে নি………। কাজ অল্প ছিলো তাই কাজ শেষ করে প্রিতি কে নিয়ে বেরহলাম ঘুরতে……। সারা বিকেল ঘুরা ঘুরির পড় প্রিতি বললো….।
।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।
প্রিতি : রাফসান চলো আইসক্রিম পার্লার এ গিয়ে আইসক্রিম খাই কি বলো….।
আমি : ওক্কে চলো…..।
…………….
আইসক্রিম পার্লার এর ভিতরে ডুকে আমি পুরাই বাকরূদ্ধ..। কথা বলার মতন ভাষা আমার নেই…..। ভিতরে জারা… তাও ওর কোলে ১ টা বাচ্চা… ২ কি ৩ বছরের…..। এটা দেখে বুকের বাম পাশ টা চিন চিন করে উঠলো……।
“”””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *