বাড়িয়ালার মেয়ে | অভিমানী ভালোবাসার গল্প

বাড়িয়ালার মেয়ে 😁😁
……..পর্ব -04   end …..

বাড়িয়ালার মেয়ে  part-01

বাড়িয়ালার মেয়ে  part-02

বাড়িয়ালার মেয়ে  part-03

ভিতরে গিয়ে বসলাম আমরা…। জারা এখনো আমাদের দেখে নি…। কেন যানি গলাটা খুব ভার ভার হয়ে আসছে…..।
প্রিতি : are you ok…?? 😕😕
আমি : হ্যা আমি ঠিক আছি কেন.. কি হয়েছে..?
প্রিতি : হঠাৎ মুখ টা কেমন কেমন জানি লাগলো…..।
আমি : ও তেমন কিছু না…

হঠাৎ প্রিতি জোরে বললো আরে ঐ দেখো জারা….। জারা ও প্রিতির ডাক টা শুনতে পেলো….। জারা আসলো আমাদের কাছে…।
প্রিতি : কিরে জারা তুই কখন আসলি…..?
জারা : এইতো একটু আগে…।
জারা : রাফসান কেমন আছো….???
……………………………………………………………
আমি এমন ভাবে ফোন টা হাতে নিলাম যে ফোন আসছে আমার….।
আমি : এক্সকিউজ মি.. ( ফোনের দিকে তাকিয়ে বললাম…।
প্রিতি : হুম যাও…।
……………………….
১০ মিনিট পড়ে এসেই খুব ব্যাস্ত ভাব নিয়ে বললাম….।
আমি : প্রিতি আমার একটা ইমারজেন্সি আছে যেতে হবে….।
প্রিতি : তাহলে আমি ও উঠি…..।
আমি : না তুমি ইনজয় কর..। আসছো যখন….।
প্রিতি : ওক্কে…..
জারা এতখন নিরব দর্শক এর মতন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আমার ব্যাস্ততার অভিনয় টা দেখছিলো…..। ও ঠিক ই বুঝেছে এটা আমার অভিনয় ছিলো ওকে ইগনোর করার জন্য……। আইসক্রিম পার্লার থেকে বের হয়ে বাসায় আসলাম….। রাতে শুয়ে শুয়ে ভাবছি.. জারার বাচ্চা থাকা সত্ত্বেও কেন কথা বলতে চাচ্ছে কি বুঝাতে চাচ্ছে ও….।. নানা রকম চিন্তা ভাবনা মাথায় এসে ভিড় করছে তাই একটা সিগেরেট নিয়ে বারান্দায় গেলাম….। সিগেরেট টা ধরিয়ে যখনি টান দিতে যাবো তখন পিছন থেকে কে যানি বললো……। বাহ ভালোই তো….।
পিছনে তাকিয়ে দেখি প্রিতি,…..।
আমি : আরে তুমি এখানে.. ( সিগেরেট টা লুকিেয়)
প্রিতি : লুকিয়ে কি লাভ আমি তো দেখে ফেলেছি…।
আমি : বলো কি বলবে আর তুমি কখন আসলা..?
প্রিতি : কেন আসা কি নিষেধ নাকি…।
আমি : আমার রুমে কেন আসলে এটা যানতে চাচ্ছিলাম….।
প্রিতি : ও
আমি : হুম
প্রিতি : আন্টি ডিনার করার জন্য ডাকতে বললো তাই…….।
আমি : ও ওকে চলো….।
..
তারপর ডাইনিং রুমে গিয়ে বসলাম টেবিল এ মা খাবার নিয়ে আসলো……। প্রিতি চলে গেলো ওদের ফ্ল্যাট এ….।

আম্মা : রাফসান মেয়েটা অনেক ভালো তাই না……।
আমি : হ্যা
আম্মা : এই মেয়ে যার ঘরে বউ হয়ে যাবো সে অনেক ভাগ্যবান হবে…..।
আমি : হয় তো…।
আম্মা : এরকম একটা মেয়ে যদি আমার ঘরে বউ মা হয়ে আসতো……।
আমি : এক মিনিট এক মিনিট তুমি কি এসব আমাকে উদ্দশ্য করে বলছো প্রিতির জন্য…। দেখো এসব আজে বাজে চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলো ও আমার ক্লাসমিট… বুঝছো….।
আম্মা : আমি কি তোকে কিছু বলছি…।
আমি : ডাইরেকলি বলো নাই তবে ইনডাইরেকলি বলছো…..।😣😣😣😣😣
………..
খাওয়া শেষ করে রুমে এসে ঘুমিয়ে পড়লাম….। সকাল এ উঠে….। অফিসে গেলাম….।
লিফট দিয়ে উপরে উঠবো তাই লিফট এর জন্য দাড়িয়ে আছি….। লিফট আসার সাথে ভিতরে ডুকতে গিয়ে ধাক্কা খেলাম….। উঠে দেখি আরেকজন মেয়ে ও উঠছে আমার সামনে থেকে বুজলাম তার সাথে ধাক্কা লেগেছে…। মেয়েটা অন্যদিক ফিরে ছিলো…। নিচ থেকে উঠে যখন আমার দিকে তাকালো…..। আমি তাজ্জব হয়ে গেলাম….। মেয়ে টা জারা…
এক দৃষ্টি তে থাকিয়ে আছি ওর দিকে মনে পড়ে গেলো প্রথম দিনের কথা যেদিন ওর সাথে ধাক্কা খেয়ে সিড়িতে পড়লাম তারপর ঝগড়া ঝাটি মারপিট ও করলাম….। হঠাৎ এক শব্দের কারণে অতীত থেকে বেরহালাম….।
আমি : সরি দেখি নি…।
বলেই চলে আসলাম…………….। অফিসে রুমের ভিতরে ডুকে এসিটা বাড়িয়ে দিলাম..। এসির ঠান্ডার ভিতরে কেমন কেমন জানি অস্থির লাগতেছে……। নতুন প্রজেক্ট টা নিয়ে কাজ শুরু করলাম…..। প্রজেক্ট টার মার্কেটিং এর জন্য বাহিরে যেতে হবে….।
আমি : মি. রায়হান মার্কেটিং ও এ্যাডভেটাইসমেন্ট এর জন্য যেতে হবে আপনাদের কে আসবে….।
মি. রায়হান : আমি তো প্রডাকশন এরিয়া তে যাবো..। আর সাহিন ও ডিজাইন নিয়ে প্লানিং এ আছে আপনি জারা কে নিয়ে যান…।
কথা টা শুনার মেজাজ টা খারাপ হয়ে গেল
আমি : না অন্য কাউকে লাগবে
মি. রায়হান : সবাই তো বিজি তাহলে কাল কাজ টা করি….।
আমি মনে মনে দূর আবার কালকে কে যাবে কাজ টা আজকের দূর চাকরী টার জন্য ওর সাথে যেতে হবে,….।
আমি : আচ্ছা মিস জারা কে আসতে বলেন তাহলে আমার রুমে….। 😔😔😔😔
…………….
কথা শেষ করে নিজের রুমে চলে আসালম…। একটু পড় জারা আসলো…।
জারা : কেমন আছো…??
আমি : ফাইল গুলো এনেছেন..???
জারা : মানে কি রাফসান….।
আমি : এক্সকিউজ মি আমি আপনার সিনিয়ার এটা ভুলে যাবেন না
জারা : তোর সিনিয়ার এর গুলি মারি😛😛
আমি : আপনি থামবেন…।😕😕
জারা : বেশি ভাব বাইরা গেসে তোর আমারে ইগনোর করস….।😠😠😠
আমি : মুখ সামলিয়ে কথা বলুন…. 😣😣
জারা : কি ঘোড়ার ডিমের ভালোবাসছিস আমাকে যে কয়েক টা চর আর কথা শুইনা চলে গেলি………।
আমি : আপনি কি থামবেন…..।
জারা আমার দিকে এগিয়ে আসলো…. আমি পিছিয়ে যাচ্ছি…। যেতে যেতে পিট ঠেকে গেলো সেল্ফ এর সাথে…। জারা এসে আমার কলার টা ধরে নিজের দিকে টেনে নিয়ে বলতে নিলো………..। ঠিক এমন সময় মি. রায়হান আমার রুমে ডুকলো…..।

মি. রায়হাম : ছিঃ ছিঃ এমন টা আপনাদের থেকে আসা করি নি…….। অফিসে এভাবে নোঙরামি করবেন…।
আমি : আপনি ভুল ভাবছেন….।
মি. রায়হান : নিজের চোখে দেখা জিনিস কে কিভাবে ভুল ভাববো বলেন মি. রাফসান
আমি: শুনুন….।
….. কথা শেষ করার আগেই মি. রায়হান আমার কেবিন থেকে চলে গেলেন….।
আমি : এই তুমি সত্যি টা বললে না কেন….।
জারা : আমি কি বলবো…। ওনার যা দেখার ওনি তা দেখছেন…..।
আমি : মানে কি বলতে চাচ্ছো তুমি…..।
জারা : মানেই এটাই আমি তোমাকে ভালোবাসি…….।😉😉😉

ঠাসসসসসা্……
জারা কে একটা চড় দিয়ে বের হয়ে আসলাম কেবিন থেকে…..। কেবিন থেকে বের হতেই দেখলাম সবাই আমার দিকে কিরকম অদ্ভুত ভাবে তাকিয়ে আছে….। তাদের চোখে মুখে এক ধরনের ভিষন্নতা..। আমার আর বুঝতে বাকি রইলো না..। যেটা ঘটেনি সেটা এতখনে 4G স্পিড এ ছড়িয়ে পড়েছে….। মেজাজ টা বিগরে গেলো….। লিফট ডুকলাম নিচে নামার জন্য….। এমন সময় লিফটম্যান বললো…।
লিফটম্যান : স্যার এগুলা কি শুনলাম। আমি জানি স্যার আপনি এমন কিছু করার মানুষ না…..।
আমি চোখে সম্মতি জানালাম….। কি বলবো কিছু বলার মতোন ভাষা আমার কাছে নেই……।
…………
অফিস থেকে বের হয়ে বাসায় যেতে ইচ্ছে করলো না….। তাই সামিয়ুল এর বাসায় চলে গেলাম….। ওদের বাসায় গিয়ে বেল বাজাতেই.. আদিবা গেট খুললো…..।
আদিবা : আমি তো মনে করছিলাম তুই মারা গেছিস……।
আমি : এরকম টা কেন মনে হলো…..??
আদিবা : কোন খোজ খবর নাই তাই…..।
……………
হঠাৎ আদিবার পিছন থেকে সামিয়ুল বললো……।
সামিয়ুল : বাবু কে আসছে?
আদিবা : রাফসান সাহেব আসছে..।
সামিয়ুল : কি….??? ( দৌড়ে চলো আসলো গেটের কাছে..)
সামিয়ুল : স্যার আপনি কি ভুলে এখানে চলে এসেছেন…?
আমি : তোদের মাথায় কি গোবর…। গেস্ট আসছে বাহিরে কি দার করায়া রাখবি….।
… এটা বলার সাথে সাথে দু’জন কি হাসি
দু’ জন ই একসাথে বললো : তুই গেস্ট তাহলে ঘরের মানুষ কে..?
……….
আমি : সর তো ভাল্লাগছেনা…..।
ভিতরে ড্রয়িংরুম এ গিয়ে বসলাম…..। এসি টা ফুল স্পিড এ ছেড়ে দিলাম….।
সামিয়ুল : রাফসান everything is ok…??
আমি ; not okk 😭😭😭
আদিবা : কেন কি হয়েছে……?
আমি : সকালের সব ঘটনা খুলে বললাম…।
সামিয়ুল : মেয়েটা অতিরিক্ত করতেছে…।
আদিবা : এখানে অতিরিক্তর কি হলো…। সে এখন রাফসান কে ভালোবাসে….।
সামিয়ুল: বেশি বুঝো তুমি…।
আদিবা : তুমি বেশি বুঝো……?
সামিয়ুল : কেন তুমি জানো না কলেজ লাইফ এ ও কি করছিল…?
আদিবা : মানুষ মাত্র ভুল….। কিন্তু এখন তো সে তার ভালোবাসা টা বুঝতে পারছে..
সামিয়ুল : মাথা বুঝছে……( ধমক দিয়ে)
আদিবা : তোমার সাহস তো কম না তুমি আমায় ধমক দাও…..।
সামিয়ুল : বাজে বইক না তো
আদিবা : ব্রেকআপ
সামিয়ুল : হু ব্রেকআপ

আমি এতখন নীরব দর্শক এর ভূমিকা পালন করছিলাম..। তবে এবার কিছু বলা দরকার…।
।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।
আমি : থামবি তোরা বিয়ে হয়ে গেছে বাবা মা হবি কয়দিন পর এখনো এইসব ব্রেকআপ টেকাপ এর ন্যাকামো গুলা ছাড়তে পারিস না…….।
।।।।
দু’ জন ই চুপ হয়ে গেলো…….।
আমি : লাঞ্চ করার জন্য কিছু রান্না করছিস…..??? নাকি সারাদিন ব্রেকআপ ব্রেকআপ খেলো…..??
আদিবা : হু ফ্রেশ হয়ে আস….? আমি টেবিল এ খাবার দিচ্ছি….
আমি : হু
আদিবা : আপনাকে কি আলাদা ভাবে ইনভাইট করতে হবে….( সামিয়ুল কে উদ্দেশ্য করে……)
এরপর সবাই একসাথে লাঞ্চ করলাম…। সামিয়ুল এর বাসা থেকে বের হয়ে এসে নদীর ধারে গেলাম….। গিয়ে একটা গাছের কাছে বসলাম..। মাথায় একটা প্রশ্ন বার বার নাড়া দিচ্ছে……। জারার সাথে যে বাচ্চা টা দেখলাম বাচ্চা টা কার….। কে এই বাচ্চার বাবা….।
।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।
এদিকে প্রায় বিকেল হয়ে গেছে….। প্রিতি রাফসান কে অফিস থেকে পিক করার জন্য গাড়ি নিয়ে রাফসান এর অফিসের সামনে আসলো…..। এসে কল দিচ্ছে কিন্তু রাফসান এর ফোন অফ…..। প্রিতি তাই অফিসের ভিতরে গেলো…। অফিস ছুটি হয়ে গেছে……..। অফিসে তেমন কেউ নেই….। দারোয়ান কি জিজ্ঞাস করলো প্রিতি
প্রিতি : তোমাদের স্যার আজকে আসে নি অফিসে..??
দারোয়ান : স্যার তো সকালের ঘটনার পর অফিস থেকে বের হয়ে গেছে…।
প্রিতি : কি ঘটনা….???
দারোয়ান : কিছু না… ম্যাডাম
।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।
প্রিতি ব্যাগ থেকে ১ টা ১ হাজার টাকার নোট ধরিয়ে দিলো….দারোয়ান কে….।
দারোয়ান : গট গট করে সব বলে দিলো
……. সব শুনে প্রিতি বুঝলো কিছু একটা রহস্য আছে…..।

প্রিতি রাফসান এর অফিস থেকে চলে আসলো….। আর রাফসান ও নদীর পার থেকে বাসায় যাওয়ার জন্য হাটতে থাকলো…..। হাটতে হাটতে এক সময় বাসায় এসে পৌছালো….। বাসায় গিয়ে নিজের রুমে গিয়ে বেডে উপর শুয়ে পড়লো…। এমন সময় মা আসলো….।
:
মা : রাফসান শোন আজ তোর জন্য আমরা মেয়ে দেখে আসছি…।
:
আমি : মানে কি এসবের…??
:
মা : কি মানে মানে করছিস……। বয়স হয়েছে আর পারবো না এই সংসার সামলাতে…..।
:
আমি : তাহলে ২ টা কাজের লোক নিয়ে আসলেই তো হয়….।
:
মা : কাজের লোক দিয়ে কি সব হয় নাকি……??
:
আমি : এখন তুমি আমাকে কি বলতে চাচ্ছো……।
:
মা : সোজা সাপটা কথা বিয়ে করবি..।
:
আমি: মা আমি তোমার এই অনুরোধ রাখতে পারবো না…..।
:
মা : আমি অনুরোধ না আদেশ করছি….।
:
আমি: মা তোমার অবাধ্য হতে বাধ্য করো না প্লিজ…..।
:
মা : এটা বলতে পারলি যে তুই আমার অবাধ্য হবি….। এ দিন দেখার আগে আমার মরণ হলো না কেন…..।
:
আমি: মা এসব ইমোশনাল নাটক বন্ধ কর তো…..
:
মা : ছিঃ তোর এতো টা অধপতন হয়েছে যে তুই এটা বলতে পারলি তোর সাথে আমি নাটক করি…..। তোর সাথে কি আমার নাটকের সম্পর্ক….। আমি তোর মা হই মা……।
:
এগুলো বলে মা কাঁদতে কাঁদত চলে গেলেন…। আমি কি করবো কিছু ই বুঝতে পারলাম না…। কি বলতে গিয়ে কি বলে ফেললাম নিজেও জানি না….। এখন কেমন জানি অপরাধ বোধ হচ্ছে….। এভাবে বলাটা ঠিক হয় নি….। এর মধ্যেই বাবা রুমে প্রবেশ করলেন….। কিছু না বলেই এগিয়ে আসলেন….।
:
ঠাসসসসস্ ( আমার হাত টা আমার গালে বাবা একটা চড় দিয়ে বললেন…)
:
বাবা : তুই তোর মার চোখে পানি আনলি যে কিনা নিজের টা না ভেবে সব সময় তোর জন্য ভেবেছে….।
:
আমি : ( নিশ্চুপ)
:
বাবা : যে তোর পড়া শুনার জন্য নিজের স্বপ্ন গুলো কে মাটি চাপা দিয়েছে…।
:
আমি : ( নিশ্চুপ )
:
বাবা: তোর মা তোর কাছ থেকে এরকম বেয়াদবি টা আশা করে নি….। সে তোকে পাগলের মতো ভালোবাসে….। তুই যখন শহরের কলেজে চলে আসলি তোর জন্য দোয়া করে নি এমন কোন সময় নেই…। সারাক্ষন একটা কথাই বলতো তুই যেন ঠিকমত থাকিস..। সুরক্ষিত থাকিস…। তোর জন্য তোর মা আর সন্তান ও নেই নি….। শুধু তোকে মানুষ করবে বলে….। আজ ভালোই প্রতিদান দিলি….।
:
আমি : বাবা আমায় মাফ করে দাও…। আমার ভুল হয়ে গিয়েছে…।
:
বাবা : মাফ তোর মার কাছেই চা…..।
:
আর এক মুহুর্ত ও দাড়ালাম না সোজা মার কাছে চলে গেলাম……। গিয়েই মায়ের পা ধরে ক্ষমা চাইলাম…….।
মা : পা ধরেছিস কেন….?
:
আমি : আর জিবনে এমন বেয়াদবি করবো না…। এবারের জন্য মাফ করে দাও…। কানমলে দাও দরকার হলে চড় দাও তাও মাফ করে দাও….। ( কাঁদতে কাঁদতে বললাম)
:
মা : পাগল ছেলে মায়ের কাছে ছেলে সব সময় ই নিরপরাধী…..।
:
মা কে জড়িয়ে ধরলাম বহুদিন পর….।
মা : দেখ বাবা আমরা যা চাই তোর ভালোর জন্য নিজেদের জন্য না….।
:
আমি : মা আমায় একটু সময় দাও..?
:
মা: আজ রাত টা দিলাম….। তবে উত্তর কিন্তু হ্যা চাই…..।
………………………
আমি হাসি দিয়ে চলে আসলাম মার ঘর থেকে…..। ঘড়ির কাটায় সময় এখন রাত ১ টা….। ছাদে বসে বসে সিগেরেট টানছি……..। যদিও অভ্যাস নেই… আবার আছে ও…। মাঝে মাঝে টানতাম এই আরকি…..। কি করবো ভাবতে পারছি না…..। জারার কথা মনে পড়লেই সাথে সাথে জারার সাথে আইসক্রিম পার্লার এ থাকা বাচ্চা টার কথা ও মনে পড়ে যাচ্ছে……। এর উপর আবার আজ সকালের ঘটনা টা…..। অনেক ভেবে দেখলাম কোন কূল কিনারা ই খুজে পাচ্ছি না….। ভাবলাম সামিয়ুল কে একটা ফোন দেই……।যেই ভাবা সেই কাজ.. দিলাম সামিয়ুল কে ফোন…..।
:
আমি : হ্যালো……. 😭😭
:
সামিয়ুল: হ্যালো…কিরে এতো রাতে সব ঠিক আছে তো….।
:
আমি : কিছুই ঠিক নাই…. 😭😭😭
:
সামিয়ুল : কি হইছে বল 😖😖
:
আমি : ফোনে না…. সামনাসামনি…। এখন বের হতে পারবি…
:
সামিয়ুল : সার্কুলার রোড এর টং দোকানে চলে আয়…..।
:
আমি : ওক্কে ডান….।
:
আধা ঘন্টার মতো লাগলো সেখানে যেতে গিয়ে দেখি সামি এখোনো আসে নি…। ১২ মিনিট পর আসলো…। সিগেরেট ধরালাম দু’জন ২ টা…।
সামিয়ুল : বল তো এবার কি হইছে
:
আমি : সব খুলে বললাম বাসায় যা ঘটলো….।
ঠাসসসসস্ ( সামি ও চর দিলো)
সামিয়ুল : মায়ের সাথে কেউ এরকম আচরণ করে..?
আমি : নিশ্চুপ
সামিয়ুল : দেখ রাফসান বুঝার চেস্টা কর সব কিছুর ১ টা সময় থাকে….। আর সময়ের কাজ সময়ে করতে হয়..। আমাদের মধ্য সবার ই তো বিয়ে সাদি হয়ে গেছে….।
আমি : ( মনে মনে ..। তার মানে জারার ও বিয়ে হয়ে গেছে বেবি ও আছে তাও ও আমার সাথে এমন করলো…)
:
সামিয়ুল : কিরে কি ভাবছিস…?
আমি : কিছু না রে
সামিয়ুল : আমি কি বলছি বুঝছিস তো…। রাজি হয়ে যা বিয়ের জন্য….।
:
আমি ; মাথা নাড়লাম মুচকি হাসি দিয়ে….।
তারপর চলে গেলাম যে যার যার বাসায়…….। বাসায় এসে এক ঘুম দিলাম…। ঘুম ভাঙ্গলো সকালে…..। ফ্রেশ হয়ে নাস্তার টেবিল এ গিয়ে বসলাম… এমন সময় মা বললো…।
মা : ভেবেছো….।
:
আমি : কি…?
মা : বিয়ের ব্যপার টা..?
আমি : হু রাজি….😒😒😒
বলার সাথে সাথে মা এসে জড়িয়ে ধরে অনেক গুলা চুমু দিলো কপালে…..। এখন নিজের ও অনেক ভালো লাগতেছে…। ব্রেকফাস্ট করে অফিসে গেলাম….। গতকাল এর ইন্সিডেন্ট এর জন্য একটু আজিব আজিব লাগছিলো অফিস টা….। কিন্তু না সব স্বাভাবিক ই আছে….। একটু পর অফিসের এক ক্লার্ক ফাইল নিয়ে রুমে আসলো…..।
ক্লার্ক : স্যার ফাইল টা সাইন করে দিন….?
আমি : ওকে….. আগে দেখে নি কারেকশন এর প্রয়োজন আছে কি না …?
ক্লার্ক : অফ কোর্স স্যার 😊😊
আমি : হুম নাও
ক্লার্ক : স্যার কনগ্রেটস
আমি: কেন..??
ক্লার্ক : স্যার আপনার বিয়ে তাই….।
।।।।।।।।।। আমি তাড়াতাড়ি ১ গ্লাস পানি নেই হাতে খাওয়ার জন্য…। গলাটা কেমন জানি শুকিয়ে আসছিলো….।
ক্লার্ক : স্যার সকাল বেলা সামিয়ুল নামে ১ ভদ্র লোক এসে জানিয়ে গেলো…।
আমি : কিহহহহহ 😱😱😱
ক্লার্ক : জ্বি স্যার….।
আমি : আচ্ছা তুমি যাও…..।
ক্লার্ক : স্যার বিয়ের কাডের ডিজাইন টা অনেক সুন্দর হইছে…….।
আমি : কি বিয়ের কার্ড ( আরেক দফা টাসকি খাইলাম)
ক্লার্ক : এই যে স্যার ( পকেট থেকে বের করে দিলো….)
আমি আসতে আসতে কার্ড টা খুললাম 😲😲😲😲😲
পাত্রীর নাম দেখে আমার চোখ কপালে..😲
।।।।।


বিয়ের কাডে পাত্রীর স্থানে প্রিতির নাম….। অনেক টা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম..। সব কিছু মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে….। নিজেকে ঠান্ডা করলাম..ji। অফিস থেকে বের হয়ে গেলাম…..। বের হয়ে ই সামিয়ুল কে করলাম….।
আমি: কিরে এসব কি….?😒😒
সামি: দোস্ত পরে কথা বলি এখন বিয়ের কাজ নিয়ে অনেক ব্যাস্ত আছি…..। 😁😁
আমি: শুন শুন। 😖😖
টুট টুট টুট টুট ( লাইন কেটে দিলো ) 👏👏 বাসায় আসলাম…। বিল্ডিং টার সামনে এসে ই অনেক টা বেকুব হয়ে গেলাম….। ঝাড়বাতি লাগানো হচ্ছে পুরো বাড়িতে….। আমি মনে মনে ভাবছি সব কিছু 4G গতিতে চলছে…। কিছু না কিছু একটা গাপলা তো অবশ্যই আছে…। যা আমার ধরা-ছোয়ার বাহিরে..। ২ দিন পর বিয়ে মাথায় কিছু ই ডুকছে না….। প্রিতির সাথে বিয়ে…। কিন্তু চোখের সামনে তো বার বার জারার চেহারা টা ভেসে উঠছে…। বাসায় আসলাম…। এসেই মা কে বললাম
আমি : খুব তাড়াহুড়ো কি হয়ে যাচ্ছে না…?
মা: রাফসান দেখ আমাকে আমার কাজ টা করতে দে….।
আমি: তোমাদের ইচ্ছা….। যা খুশি তা করো….।
পরের দিন আজ গায়ে হলুদ..। গায়ে হলুদের ফাংশন টা ছাদে ই করা হচ্ছে…। সবাই কাজে ব্যাস্ত আত্বিয় স্বজন..বন্ধু বান্ধব..। হঠাৎ করলাম সামিয়ুল এর পাশে কে জানে হাতে ফুল নিয়ে সামিয়ুল এরসাথে কথা বলছে..। মনে হয় ফুল সাজানো নিয়ে কথা বলছে….। মেয়ে টা কে দেখার জন্য সামিয়ুল কে ডাকদিলাম…..।
আমি: সামি….😎😎
সামিয়ুল : কি…..।
সাথে সাথে মেয়ে টা ও ঘুরলো……।
এটা দেখার ও বাকি ছিলো…..। মেয়ে টা জারা….। এটা ও দেখার বাকি ছিলো…। খুব যন্ত্রণা হচ্ছে বুকের ভিতর..। হলুদ ফাংশন সন্ধায় শুরু হলো সবাই খুব হাসি খুশি…। মায়ের খুশি দেখে কে…। কিন্তু আমি😖 আমি কি আদো খুশি এই বিয়েতে…। হঠাৎ জারা আসলো আমার গায়ে হলুদ মেখে দিতে..।আমায় অবাক করে দিয়ে. খুব হাসি মুখে হলুদ মেখে দিচ্ছে…। এই মেয়ে টা কে আমি আজ ও বুঝি উঠতে পারি নি…। দু’দিন আগে আমার জন্য কি কি করলো..। মানুষ এতো টা বেঈমান কিভাবে হয়…। আমি কেন ওকে বেঈমান বলছি আমি ই তো ওকে সেই ২য় সুযোগ টা দেই নি…। এরপর সামি আর আদিবা আসলো হলুদ মাখতে….।
সামিয়ুল : কি বর সাহেব কি খবর…?
আমি: জানি না রে খুব কষ্ট হচ্ছে..
আদিবা: এসব কথা বাদ দে….।
আমি: হুম..!
আস্তে আস্তে শেষ হলো হলুদের ফাংশন..। খুব টায়ার্ড লাগছিলো রুমে গিয়েই শুয়ে পড়লাম…। তার পরের দিন বিয়ে তে…।
মানুষের প্রচুর আনা গোনা…। মন বার বার বলছিলো ভাগ রাফসান ভাগ…। এই বিয়ে তোর জন্য না…। কিন্তু বিবেক বলছিলো…। এটা করিস না সারাজীবন এর জন্য ছোট হয়ে যাবি সবার সামনে…। চোখ জোড়া শুধু একজন কে খুঁজছে….। কিন্তু আমার কিছু ই করার ই নেই….। হঠাৎ মি. রায়হান আসলো….।
মি. রায়হান: রাফসান সাহেব অভিনন্দন এবং স্বাধীন জিবন থেকে পরাধীন জিবনে যাওয়ার জন্য স্বাগতম…..।😜😜😜
আমি: পরাধীন মানে কি বুঝাতে চাচ্ছেন….?👿
মি. রায়হান: না সে কিছু না..।
আমি: ও ভালো ( বিরক্ত হয়ে বললাম। )😒😒
একটু পড় সামিয়ুল আর আদিবা আসলো..।
সামিয়ুল: কি বর মশাই কুরবানী হওয়ার জন্য প্রস্তুত…??😁😁
আমি: দোস্ত আমি বিয়ে করুম না…। 😭😭
আদিবা: মাথা নষ্ট নাকি তোর কি বলতেছিস এসব…??
আমি: আমি জারাকে ভালোবাসি প্রিতি কে বিয়ে করতে পারবো না…।
সামিয়ুল: দেখ এখন এই বিয়ে বাড়ির মাঝে এসব পাগলামির কোন মানে নাই….।👿👿
আমি: আমার জাগায় নিজেকে দারা করা আর ভাব তো যদি আদিবার সাথে তোর বিয়ে না হতো..।
আদিবা: ঐ গরু এসব বলবি তো মাইর খাবি…। আমার জামাই আবার অন্যকে বিয়ে করবো মানে…….।👿👿👿
আমি: আমি শুধু মনে করতে বলছি আর কিছু না…।
সামিয়ুল: আরে ও তো শুধু বলছে..। 😜😜
আদিবা: কেন তোর করার ইচ্ছা আছে নাকি..বিয়ে বাড়িতে যদি কোন মেয়ের দিকে তাকাইতে দেখছি ঠ্যাঙ ভেঙ্গে নলী গুলো দিয়ো নেহারী রান্না করে খাওয়াবো….( সামিয়ুল কে বললো ) 👿👿👿
আমি: এটা কি ট্রেট ছিলো নাকি নেহারি রান্নার রিসিপি…😜😜
সামিয়ুল: কুল বাবু কুল
আদিবা: বাসায় গিয়ে কুল ছুটাবো তোমার
আমি: যখনি আমার তোদের দরকার হয় তখনি তোরা ঝগড়া করিস.😭😭😭
আদিবা: এসব আজাইরা কথা এখন বলে লাভ নাই বিয়ে টা তো হচ্ছে এখন..
সামিয়ুল: ভালো ভালো বিয়ে টা শেষ কর এখন আপাদত ঝামেলা করিস না…
এরকম সময় বাবা এসে বললো এই কাজী আসছে এখন বিয়ে পড়ানো হবে..😊😊
🎶🎶🎶🎶🎶
রাত অনেক ঘড়ির কাটা এখন ১২ টা ছুঁই ছুঁই,
বিয়ে টা হয়ে গেলো…। সবাই কে বিদায় করে দিয়ে ছাদে এসে একা একা বসে আছি…। প্রকৃতির কি বিরূপ নিয়ম..। যা কে চাই সে যখন কাছে ছিলো তখন তাকে দূরে সরিয়ে দিয়েছি আর এখন তার কথা ভেবে ভেবে ই কূল-কিনারা খুজে পাচ্ছি না…। আকাশ টা ও মেঘলা মেঘলা..। বাতাসে বৃষ্টির মৃদু আভাস.. হঠাৎ পিছনে কাধে তে কারো হাতের স্পর্শ পেলাম..। পিছু তাকালাম…….।
আমি: তুমি এখানে কেন..।
জারা: হুম আমি..
আমি: তাও আবার বিয়ের পোশাক এ কেন..?
জারা: বিয়ে করেছি আজ তো কি অন্য কিছু পড়বো নাকি….।
আমি: ভালো তাহলে তোমার বরের কাছে যাও এখানে কেন আসছো…।😜😜
জারা: বোকা বর টা বাসর এ আসে না দেখেই তো আমি তার কাছে আসলাম…😍😍
আমি: মানে কি…?
জারা: মানে আমি তোমার বউ আর তুমি আমার বর…..।
আমি: আমার বিয়েতো প্রিতির সাথে ঠিক হয়ে ছিলো…।
তখনি প্রিতি আসলো ছাদে….।
প্রিতি: সব ই আমার পরিকল্পনা..
আমি : মানে..।
প্রিতি: আমি ঐ দিন তোমাদের দু’জনের অফিসের ব্যাপার টা জেনেছিলাম..। তারপর বুঝলাম তোমার ইগো তোমায় বাধা দিচ্ছিলো..। তাই আন্টি আংকেল সামিয়ুল আদিবা ও আমি মিলে সব প্লান করে বিয়ে জারার সাথে দেয়াই…😍😍😍…..। আমি এখন আসছি তোমরা কথা বলো….😜😜

প্রিতি চলে গেল….💃
জারা : কি হলো চুপ করে যে…
আমি: ঘোড়ের মধ্য আছে
জারা: কেন মেনে নিতো পার নি আমায় ( কাপা কাপা কন্ঠে )
আমি কিছু বলার আগেই জারা আমায় জড়িয়ে ধরে বলতে লাগলো..
জারা: ভালবাসি তো একটা বার কি সুযোগ দেয়া যায় না….।
আমি: ভালোবাসি…
কথাটা বলার সাথে সাথে জারা আরো শক্ত করে চেপে ধরলো…। হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলো মুসুল দ্বারায় আকাশ আর মাটির এই মিলনের মাঝে ও একজোড়া কপত কপতি মিশে যাচ্ছে তাদের ভালো বাসার মোহ তে…😍😍😍😍
.

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *