বিবাহিত ব্যাচেলর।রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প

#বিবাহিত_ব্যাচেলর
#ইসরাত_জাহান_তানজিলা
#পর্ব_1
-‘আপনারা বাপ-ব্যাটা মিলে আমায় এভাবে জোর করে তুলে এনেছেন লজ্জা করে না আপনাদের?’
চোখে মুখে ক্রোধ আর রাগের আগুন নিয়ে কথা টা বলল জিদনি।
ঠোঁটে এক চিলতে হাসি ফুটিয়ে রুহুল সাহেব বলল,
-‘মুখ সামলে কথা বলো জিদনি।’
-‘আপনাদের মানুষের সাথে আর কিভাবে কথা বলবো? আপনাদের মত জগন্য মানুষ পৃথিবীতে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।’
এ পর্যায়ে চুপ করে থাকতে পারলো না তূর্য। জিদনি কে উদ্দেশ্য করে রাহুল সাহেব কে বলল,
-‘আব্বা অরে কিন্তু চুপ থাকতে কন। অয় বেশী কথা কয়।’
রাহুল সাহেব ঠান্ডা গলায় বলল,
-‘আহ্ বাজান! সব সময় মাথা গরম করলে কি চলে? মেয়েটা বিয়ের সাজ সাজতে পার্লারে আসলো সেখান থেকে আমরা তুলে নিয়ে আসলাম। রাগে তো দুই একটা কথা বলতেই পারে।’
জিদনি বিনয়ের সুরে বলল,
-‘প্লীজ আংকেল আমায় যেতে দিন। আজকে যদি বরপক্ষ এসে ফিরে যায় আমার আব্বার মান-সম্মান শেষ হয়ে যাবে।’
তূর্য বলল,
-‘মান-সম্মান তোর আব্বার একলা আছে আমাগো নাই তাই না? তোর আব্বার কাছে আমার আব্বা সাতাশ বার বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে গেছে। প্রত্যেক বার ই তোর আব্বা আমার আব্বা কে অপমান করছে। হ মানছি আমি গুন্ডা মারামারি করি,সিগারেট খাই, যা ইচ্ছা তাই করি। কিন্তু আমি তো তোকে মন থেকে ভালোবাসি। বুঝ হওয়ার পর থেকে তোরে ভালোবাসি। তুই যদি একবার আমার হাত টা ধরতি আমার ভালো হইয়া যাইতাম। তা না কইরা তুই আর তোর ফ্যামিলি আমাগো শুধু ঘৃন্যই করেই যাস।’
রাহুল সাহেব বললেন,
-‘তূর্য এখন এসব কথা রাখ। কাজী সাহেবের কাছে ফোন দে ওই ব্যাটা এখনও আসছে না কেন?’
দুই চোখ দিয়ে আষাঢ়ের ধারায় জলস্রোত প্রবাহিত হচ্ছে জিদনির। আর কতক্ষন পর বর পক্ষ আসবে। হয়ত বাবা-মা এখন খুঁজতে শুরু করে দিয়েছে। বর পক্ষ এসে যদি কনে না পায় বাবার মান-সম্মান থাকবে না। সমাজে মুখ দেখাতে পারবে না।
জিদনির কান্না দেখে রাহুল সাহেব বলল,
-‘জিদনি মা কাইন্দো না। তোমার আব্বা রে আমি কালকেও বলছি মেয়ে টার বিয়ে অন্য জায়গায় দিয়েন না। আমার পোলায় অনেক ভালোবাসে আপনার মাইয়ারে। আপনার মাইয়ার অন্য কোথায়ও বিয়ে হয়ে গেলে আমার পোলা ডা বাঁচবো না। কিন্তু তোমার আব্বা আমার কথার দামই দিলো না।’
জিদনি চোখ মুছে এবার বলল,
-‘আপনারা আমায় ভালোয় ভালোয় যেতে দেন নয়ত কিন্তু আমি পুলিশে দিবো আপনাদের।’
রাহুল সাহেব বলল,
-‘জিদনি তুমি ভুলে যাচ্ছো আমি এই এলাকার চেয়ারম্যান। পুলিশ আমায় কি করবে বলো? আমরা যে তোমায় তুলে এনেছি এর কোন প্রমান নেই।’
-‘হ্যাঁ এটাই আমার দুর্ভাগ্য যে আপনার মত মানুষ চেয়ারম্যান।’
তূর্য চেঁচিয়ে বলল,
-‘জিদনি মুখ সামলে কথা বল কিন্তু।’
রাহুল সাহেব বলল,
-‘তূর্য ওকে বলতে দে।’
.
কিছুক্ষন পর রাহুল সাহেব আবার বলল,
-‘তূর্য কাজী সাহেব এখনও আসছে না কেন? এখানে বেশীক্ষন থাকা ঠিক হবে না।’
-‘আর পাঁচ মিনিট পর আসবে।’
তূর্য জিদনির দিকে তাকিয়ে বলল,
-‘তোর আব্বার সাথে চ্যালেঞ্জ করছিলাম না তোকে বিয়ে করবই। এবার তো দেখলি আমরা কি পারি?’
-‘অমানুষ রা সব ই পারে।’
-‘বেশী চটাং চটাং কথা বলতে শিখছোস না?’
জিদনি রাহুল সাহেবের দিকে তাকিয়ে বলল,
-‘আংকেল অনেক হয়েছে এবার আমায় যেতে দিন। আপনাদের কি সামান্য বিবেক-বিবেচনা নেই? একটা মেয়ের বিয়ে ভেঙে দিচ্ছেন এভাবে।’
-‘বিয়ে ভেঙে দিলাম কই? তোমায় আমার ছেলের সাথে বিয়ে দিতেই তো এখানে আনলাম। আর তোমার বাবা যে ছেলের সাথে তোমার বিয়ের আয়োজন করেছে তাঁদের থেকে আমাদের টাকা-পয়সা,আভিজাত্য কোন দিক থেকে কম নেই বরংচ বেশী।’
-‘শুধু টাকা-পয়সা থাকলেই হয় না আংকেল।’
তূর্য বলল,
-‘তো আর কি থাকা লাগে?’
চুপ করে বসে আছে জিদনি কি করবে বুঝতে পারছে না।
কাজী সাহেব মাত্র আসলেন। রাহুল সাহেব উঠে হ্যান্ড শেক করে বললেন,
-‘আসতে এত লেট করলেন যে?’
-‘একটু কাজ ছিলো চেয়ারম্যান সাহেব।’
-‘আচ্ছা তাড়াতাড়ি বিয়ের কাজ শেষ করুন।’
জিদনি এবার চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালো। বলল,
-‘আপনি এ বিয়ে পড়াবেন না। উনারা আমায় জোর করে ধরে এনেছে।’
তূর্য বলল,
-‘আপনি ওর কথা শুনেন না তো তাড়াতাড়ি বিয়ে পড়ান।’
চেয়ারম্যানের কথা অগ্রাহ্য করার ক্ষমতা কাজী সাহেবের নেই।
জিদনি চেঁচিয়ে বলল,
-‘মরে গেলেও কবুল বলবো না।’
রাহুল সাহেব শান্ত কন্ঠে বলল,
-‘জিদনি পাগলামী করো না । তুমি যদি উল্টা-পাল্টা কিছু বলো তোমার মা-বাবার অবস্থা খারাপ হবে।’
নিরুপয় হয়ে বসে রইল জিদনি। রাহুল সাহেব কে জিদনি ছোট বেলা থেকে চিনে। লোকটা সব করতে পারে।
.
বর পক্ষ অনেক আগে এসে পড়েছে। জিদনি কে পাগলের মত খুঁজছে সবাই। পার্লার থেকে সেজে বের হওয়ার সময় তুলে নিয়ে যায় জিদনি কে। কোথায় নিয়েছে বা কে নিয়েছে তা কেউ বলতে পারে না। জিদনির বাবার ধারনা তূর্য ছাড়া এ কাজ কে করবে। কিন্তু তূর্যের বাবা তো বলল তূর্য দেশের বাইরে চলে গেছে। কিছুই ভাবতে পারছে না উনি। মেয়ের বিয়ে সময় এমন ঘটনা মান-সম্মান এবার আর থাকলো না । বর পক্ষ কে কি বলবে।
নাকি জিদনি কে কেউ কিডনাপ করেছে। জিদনির সাথে 17 ভরি গহনা ছিলো। নাকি সন্ত্রাসী রা নিয়ে গেছে জিদনি কে । কিছুই ভাবতে পারছে না।

চলবে,,,,,,,

২য় পর্ব
.
(রোমান্টিক, সিনেমাটিক গল্প। বিতর্কিত মন্তব্য থেকে দূরে থাকেন।)

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *