বিশ্বাস করো আজও ভালবাসি (Part_1)

বিশ্বাস করো আজও ভালবাসি All part

 

— আপনার সমস্যা কি বলেন তো? (আমি)
— কেন বলুন তো? ((সজীব))
— বিগত ১১ মাস ৮ দিন ধরে আপনি আমাকে ফলো করছেন,, কিন্তু কেন??
— ধন্যবাদ আপনাকে,,
— কেন??
— আমি কতদিন আপনাকে ফলো করি আমি নিজে জানিনা কিন্তু আপনি ঠিকই হিসাব রেখেছেন,,,,
— এমনিতেই ভালো লাগে তাই,,, আর পাহারা দিচ্ছি আমি,,।
— কি পাহারা দিচ্ছেন আপনি??.
— আমার সন্তানের জননী কে??
— মানে কি??
— এই কথার মানে যদি আপনি না জানেন তাহলে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার কোন মানে হয় না,,, নতুন করে ক্লাস এইটে ভর্তি হবেন,,
— ফাজলামো করছেন,,, আপনার মনে হয় না আমি বিরক্ত হচ্ছি,,
— কোই,, আমি তো জানি তোমারও ভালো লাগে,,
— ভুল জানেন আপনি,,, প্লিজ দয়া করে আর বিরক্ত করবেন না,,
— তুমি অনেক সুন্দর সেটা জানো??
— তো??
— অনেক ছেলে তোমাকে ভালবাসতে চায়,,
— আমি কি করতে পারি,,??
— সবাই কে রেখে আমাকে ভালবসবে,, কারন আমি আপনাকে অনেক ভালোবাসি,,,
— দেখুন সামনে আমার পরীক্ষা আর জীবনে অনেক দুর যাওয়ার ইচ্ছে আছে আমার,, সেই স্বপ্নটাকে নষ্ট করতে চাই না,, প্লিজ,,
— আমি কি সেই স্বপ্ন পুরনের সাথী হিসেবে থাকতে পারি না,, আপনার সাথে সারাক্ষণ ছায়া হয়ে,,???
— না পারেন না,,, কারণ আপনাকে আমার একদম সহ্য হয় না,, প্লিজ ক্ষমা করবেন আমাকে,,
— আমি কি আপনার যোগ্য না??
— এখানে যোগ্য অযোগ্য বিচার কেন আসবে,,??
— তাহলে কেন বললেন আমাকে আপনার সহ্য হয় না??
— আপনি যে বারবার বিরক্ত করেন সেটা সহ্য করার মত না,
— আমি কি করেছি বলেন?? হয়তো দেখতে মন চায় তাই দেখতে আসি তাই বলে কি আপনি আমাকে অপরাধী করবেন??
— দেখুন আমি এখন এগুলো নিয়ে ভাবতে চাই না,, আমার জীবনে অনেক দুর যাওয়ার ইচ্ছে,, সেজন্য আমি এতটা দিন কোনদিন কাউকে জীবনে আসতে দেই নি,,, যদি কখনো সে সময় আসে তবে তখন ভেবে দেখব,,
— আমি অপেক্ষা করব,,
— আমি অপেক্ষা করতে বলছি না,,
— কিন্তু আমি অপেক্ষা করে থাকব,,
— যদি পরিশেষে অন্য কারো হয়ে যাই???
— ভাগ্য কে মেনে নিব,, সেদিন হয়তো নিজেকে বলতে পারব অপেক্ষা করেছি আমর কপাল খারাপ ছিল,,, কিন্তু তার আগে যদি পিছনে সরে যাই তবে তো নিজেকে সান্ত্বনা দিতে পারব না,,
— আমার আর সময় নেই,, ভালো থাকবেন আপনি,, আর বিরক্ত না করলে খুশি হতাম,,
— বিরক্ত আগেও করিনি এখনো করবনা,,, শুধু ছায়া হয়ে ভালবেসে যাব,, যাতে স্বপ্ন টা ভালো করে দেখতে পারি,,
— ভালো থাকবেন আপনি,,,
— আপনিও,,
* আমি নাজমা আক্তার বৃষ্টি বাবা একটা কোম্পানিতে জব করেন,,, মা জন্মের তিন বছর পরে মারা গেছে,,, বাবা আবার বিয়ে করেছেন সৎ মা খুব বেশি ভালোবাসে না,, ইতিহাস সাক্ষী আছে সৎ মা সবসময় ভালো হয়ে না,, তিনিও সেই কথাার মান রেখে এগিয়ে চলছিলেন,, আমার সৎ মায়ের দুটো সন্তান একজনের নাম আখি আরেক জন বাদল,,
আখি আমার চেয়ে ৬ বছরের ছোট,, আমার বয়স এখন ২০ বছর ৩ মাস,, বাদলের বয়স ১১ বছর,,, সৎ মা ভাল না বাসলেও আখি বাদল আমাকে বড়ো বোনের মত সম্মান করে,,
ওদের ভালবাসার তুলনা নেই,,, বাবা তো সবসময়ই আমাকে ছায়ার মতো আগলে রেখেছেন,,, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি আমি থার্ড ইয়ার,,, নিজের প্রসংশা করে বলছি না,, চেহারা শ্যামলা সুন্দর,,
*যার সাথে কথা বলে আসলাম তার না * সাইফুল ইসলাম সজীব * আমাদের কলেজের বিপরীতে তাদের একটা রেস্টুরেন্ট রয়েছে,, তার বাবা মা দুজনে বছর আগে এক্সিডেন্ট করে মারা গেছে,, তারপর থেকে সজীব দোকানের মালিক,,
উত্তর বাড্ডা তাদের নিজেদের বাড়ি আছে,, দেখতে অনেক ভালো,, পড়াশোনা করেছেন,, বিএসসি কমপ্লিট,,, কিন্তু তার একটা দূর্বলতা আছে আর সেটা আমি,, কলেজ এ সবসময় আমাকে ফলো করেন সে,, আর এই বিষয়টা আমার আরো দুটি বান্ধবী জানেন,,
** বাসায় গিয়ে তাড়াতাড়ি গোসল করে খাটের ওপর বসে আছি,, ক্ষুধা লেগেছে প্রচুর সকালে কিছু না খেয়ে চলে গেছিলাম কলেজ এ,, খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম সন্ধ্যা বেলা পড়াশোনা করি,, এভাবেই দিন কেটে যায়,,,
এর অনেক দিন পর হাতিরঝিল ঘুরতে গেছিলাম আমি আর আমার ছোট বোন আখি আর একটা বান্ধবী,,
হঠাৎ করে সজীব কে দেখলাম একটা মেয়ের সাথে রিক্সা করে হেসে হেসে কথা বলতে বলতে চলে গেল,, কেন যেন মনটা খারাপ হয়ে গেছে,, সেদিন আর পড়াশোনা আহার নিদ্রা কিছুই ঠিক মতো হয়নি,,
পরদিন কলেজ গিয়ে সরাসরি তার রেস্টুরেন্ট গিয়ে হাজির,, সাহেব এখনো আসেনি,,, বয়স্ক একটা কাকা আছে ওখানে সে সজীব এর বাবার সময় হতে আছেন,,, তাকে জিজ্ঞেস করে জানলাম একটু পরে আসবে,, বলতে না বলতে সে হাজির,,
— কি খবর মায়াবতী আজ নিজে আমার সামনে,,
— আপনার সাথে কথা আছে আমার,,
— বলেন,,
— একটু সাইডে দাড়িয়ে বলি,,
— আচ্ছা চলুন,,
— মেয়েটি কে??
— কোন মেয়ে??
— যার সাথে রিক্সার ভিতর দেখলাম গতকাল??.
— ওহহহহ আচ্ছা বুঝতে পারছি,, ও আমার মামাতো বোন,,
— তার সাথে রিক্সার ভিতর কি??? আপনার না বাইক আছে,
— আমি ওদের বাসায় যাচ্ছিলাম ওর সাথে,, মামি যেতে বলেছেন তাই,, আপনি কোথায় ছিলেন??
— হাতিরঝিল ব্রিজের ওপর,,
— সত্যি বলছি আমার মামাতো বোন,, কিন্তু তুমি হঠাৎ করে এত রেগে গেলে কেন বলতো???
— তুমি করে কথা বলতে কে বললো???
— সরি,,
— ঠিক আছে সমস্যা নাই,, আপনিতো বয়সে বড়ো আমার,,, তুমি করে বলবেন কোন সমস্যা নাই,,, কিন্তু এর পরে জেন আর কখনো নিজের আপন বোনকেও রিক্সার ভিতর না দেখি,,
— জি মনে থাকবে,,, কিন্তু আমার তো আপন বোন নাই,,,
— জানি আমি,, উদাহরণ হিসেবে এটা বললাম,, আপনার মোবাইল নাম্বার টা দরকার আমার,, আর একটা কথা আছে,,
— ০১৭—–+— বলো আর কি বলবে???
— কলেজে একটা ছেলে আমাকে প্রপোজ
করছেন,, আমি বলেছি আমার রিলেশন আছে,, সে বিশ্বাস করে না,,,
— ঠিকই তো আছে,, তুমি তো সত্যি রিলেশন করনা কারো সাথে,,
— ওহহহহ আচ্ছা,,, ভালো থাকবেন আপনি,,
— নাস্তা করে আসছো তুমি??
— হুম,,
— ভালো থেকো বায়,,
কলেজে গিয়ে একটা ক্লাস করেছি তারপর মাঠে বসে আছি এমন সময় কলেজের সেই ছেলেটা আসলো,, সাথে আরো দুটি ছেলে,,
— কেমন আছ বৃষ্টি???
— ভালো,,, আপনি আবার আসছেন??
— তোমাকে ছেড়ে কোই যাব বলো,, তুমি আমার ভালবাসা গ্রহণ কর প্লিজ,, আমি তোমাকে ভালবাসি,,
— বললাম তো আমার বয়ফ্রেন্ড আছে,,
— সমস্ত শিক্ষক ছাত্র ছাত্রী জানে বৃষ্টি সিঙ্গেল,,
–আচ্ছা এক মিনিট দাড়ান,,, তাকে ফোন করি সে আসুক নিজের চোখে দেখবেন,,
— আচ্ছা ঠিক আছে,,
সজীব কে ফোন দিলাম রিং বাজাল কিন্তু সে কেটে দিল,, দ্বিতীয় বার কল দিব তার আগে সে বেক কল করেছে,,
— কেমন আছ??? ( সজীব)
— ভালো,, তুমি একটু কলেজ মাঠে আসবে ২ মিনিটের মধ্যে,,
— কেন বলতো???
— কলেজের সেই ছেলেটা আবার আসছে,, তাই
— আমি আসতেছি এক্ষুনি,,
— পাঁচ মিনিটের ভিতরে সে হাজির,,
আমি বললাম ঃ—
— আসছো তুমি??? দেখ না এরা আমার কথা বিশ্বাস করে না,,
— তুমি চিন্তা করো না,, দেখতেছি আমি,,
— কি খবর ভাই??? একটা মেয়ে বলছে তার বয়ফ্রেন্ড আছে তারপর ও কেন ডিস্টার্ব করেন?? (সজীব )
— ভালো লাগে তাই,,,
— আপনি কতদিন হল এই কলেজ এ আসলেন,,,।
— কেন বলুন তো??
— আমাকে চিনেন আপনি???
— না
— সামনের রেস্টুরেন্ট টা আমার,,, কলেজের মোটামুটি সবাই চেনে,,
— ওহহহহ আচ্ছা,, পাশের ছেলেটি বললো সজীব ভাই আসলে বুঝতে পারিনি আমি,,, আর কখনো হবে না,,,
— আচ্ছা ঠিক আছে,, বৃষ্টি তুমি ক্লাসে যাও,,
আজকের এই দিনে সজীব এর সাহায্য নিতে হয়েছে আমার,, কিন্তু তেমন কিছু মনে হয়নি আমার মনে হয় যেন নিজের লোকের সাথে কথা বলি,, আরো কিছু দিন চলে গেছে,, আর কোন ছেলে বিরক্ত করেনি শুধু সজীব ছাড়া,,
একদিন কলেজ থেকে বাসায় গিয়ে আমি তো অবাক,, আমার সৎ মা আমার বিয়ে সম্বন্ধ স্থাপন করেছেন,, আমার জন্য সবাই অপেক্ষা করে আছেন,, আমি একেবারে আকাশ থেকে পড়লাম,, অনেক কষ্ট হইল কিন্তু কাউকে বোঝাতে পারছি না,,
বাবা কেমন করুন দৃষ্টিতে তাকায় আমার দিকে,
রাতে অনেক ভেবে একটা উপায় বের করলাম,,, পরদিন সকালে সজীব কে কল দিলাম,, কল কেটে দিয়ে কল বেক করল,,
— হ্যালো বৃষ্টি বলো????
— আপনি সেদিন ও আমাকে কল কেটে বেক করছেন,, আজও তাই,, আপনি কি আমার নাম্বার চিনতেন???
— হমমম চিনতাম,,
— কখনো তো কল দেন নি,,
— বিরক্ত না করার জন্য,,
— এখন কি করেন আপনি??
— বাসায় আছি,,, বের হব একটু পরে,,,
— ঠিক দশটা বাজে আমার বাসার সামনে অপেক্ষা করবেন,, বাইক আনবেন না,, সি এন্ড জি নিয়ে আসবেন,,
— কিন্তু কেন??.
— তখন বুঝতে পারবেন,,
— এখন তো ৮ঃ৫০ বাজে,,, একটু পরে আসি,,
— আচ্ছা ঠিক আছে,,,
— আপু তুমি সত্যি সত্যি চলে যাবে???. (আঁখি)
— তাছাড়া উপায় নেই যে আঁখি,,, (আমি)
— কিন্তু কার কাছে যাবে তুমি???? ,
— দেখি কোথায় যাওয়া যায়,, তবে তুই চিন্তা করিস না,, তোর সাথে আমি যোগাযোগ করে নিব,,,
— আচ্ছা ঠিক আছে মা বাজার থেকে আসার আগেই বেরিয়ে পরো,, নাহলে ঝামেলা হবে,,
— হমমম তুই বইয়ের ব্যাগটা নিয়ে চল আমি কাপড়ের টা নিচ্ছি,,
মোবাইলটা হাতে নিয়ে সজীব কে কল দিলাম,, সাথে সাথে রিসিভ করে,,
— হ্যালো,,, আপনি কোথায় আছেন??? (আমি)
— বাসার নিচে,,
— দাড়ান আপনি,,, আমি আসতেছি,,,
— আচ্ছা,,
নিচে এসে আঁখির কাছে বিদায় নিয়ে সবকিছু সিএনজি তে উঠাইলাম,,, সজীব অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখছে,, হয়তো কিছু বুঝতে পারছে না,,
— তাড়াতাড়ি চলুন,,, (আমি)
— কোথায় যাব আমরা??? ( গাড়িতে ঢুকে বললো)
— আপনার বাসায় যাচ্ছি,,,
— মানে কি??
— আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে,,, মা আমার বিয়ে ঠিক করছেন,,
— তুমি কি রাজি না???.
— রাজি হলে এখন আপনার সাথে কেন আমি??
— সেটাও যুক্তির কথা,,
— কতক্ষণ লাগে আপনার বাসা যেতে????
— জ্যাম না হলে ১৫ মিনিট সময় লাগবে,, আর নাহলে,, ৩০– ৪০ মিনিট বা বেশি,,
— আচ্ছা তাড়াতাড়ি চলুন,,,
— এখন কি করবে বলে ঠিক করেছ???
— আপনি কিছু একটা বলেন,,
— তোমাকে একটা মেস ঠিক করে দিব,, সেখান হতে পড়াশোনা করতে পারবে,, আমি তো আছি,,
— না সেটা সম্ভব না,,
— কেন??
— আমার সৎ মা যেভাবেই হোক আমাকে খুঁজে বের করবেন,, আর তখন যদি জানতে পারে যে আমার বিয়ে হয়নি,, আবার বিয়ের ব্যববস্থা করবে,, লোকটা মা কে অনেক টাকার লোভ দেখিয়েছেন,,
— তাহলে???
— আমি বিয়ে করব???
— মানে??
— বিয়ে করব যাতে আর বিয়ে দিতে না পারে,,
— কিন্তু হঠাৎ করে,,
— তো কি হইছে???
— কাকে বিয়ে করবে ঠিক করেছ কিছু???
— হম করেছি,,,
— জানতে পারি আমি??
— অবশ্যই,,, চলে আসছি নাকি,,, যাক ভালো হল,, চলুন নেমে যাই,, এখনো অনেক কাজ বাকি,,
মোটামুটি ১০–১৫বছরের পুরনো বাড়ি,, তিনতলা সামনে গেটের পরে অনেকটা ফাকা যায়গা, একপাশে কিছু ফলের গাছ,, আরেক পাশে ফুলের গাছ আছে কিছু,, সজীব এর বাইক টা সিড়ির সামনে রাখা,,, সে দোতলায় ঘরে থাকে,, দরজা খুলে দুজনেই ঢুকলাম,, ভিতরটা অনেক আগোছালো পরিবেশের মত পরে আছে,, তিনটি বেড রুম একটা ড্রইং রুম,, একটা কিচেন,, তিনটা বাথরুম,, দুটি ড্রইং রুমে বারান্দা আছে,,
পরিবেশটা সুন্দর তাহেরি সাহেবের ওয়াজ মতে কোন ঝামেলা নেই, ভেজাল নেই,, রান্না ঘরে মনে হয় অনেক দিন চুলো জলে না,, সজীব এর রুমটা দেখে বোঝা যায় এটা কোন ব্যাচেলর ছেলের রুম,, কাপড় গুলো বেদে পল্লীর শীর্ণকায়,, ওর মা-বাবার রুমটা তেমনি পরে আছে,, হয়তো আজও সজীব এই রুমে এসে মা-বাবার স্মৃতি ভরা স্নেহময় মুখ লুকিয়ে ক্রন্দন নিস্ফল ভিতরে,, সত্যি বাসাটা আমার পছন্দ হইছে,,
— কাকে বিয়ে করতে চাও তুমি??.
— এত তাড়া কিসের??? সবে তো এলাম,,
— কিন্তু সে যদি জানতে পারে তুমি আমার সাথে একটা ফাঁকা ফ্ল্যাটে আছো,, তোমাকে খারাপ মনে করবে,,
— সে তো জানে,,
— মানে কি???
— আমি আপনাকে বিয়ে করব,,
— সত্যি বলছ???
— হমমম সত্যি,,, এত খুশি হওয়ার কোন কারণ নেই,, কিন্তু একটা শর্ত থাকবে,,
— আমরা দুজনে আলাদা রুমে থাকবো,, যেদিন আপনাকে আমি ভালবাসতে পারব সেদিন হতে আমরা একসাথে থাকব,, আর যদি ভালো ভালবাসতে না পারি তবে আমার পড়াশোনা শেষ হলে আমরা ডিভোর্স নিয়ে নিব,,
— আমি রাজি আমার বিশ্বাস তুমি আমাকে ভালবাসবে,,,
— সেটা সময় বলে দেবে,,
— আমি আমার ভোটার আইডি কার্ড নিয়ে আসছি,, আপনি কাজির সাথে কথা বলুন,,, যত তাড়াতাড়ি বিয়ে করে ফেলতে হবে,,
— বিয়ে কেমন করে সম্পন্ন হয়েছে সেটা পাঠকের জানা নিশ্প্রয়োজন,, তবে শর্ত মত চলছে সবকিছু,, বিয়ে করে বাসায় এলাম আমরা,, দুপুরের খাবার খেয়ে আসলাম বাইরে,, নিজের রুম বুঝে নিতে হবে,,, বিকেল ৫ঃ১৩,,, রাতের খাবার রান্না করতে হবে,, কিন্তু বাজার তো করা নেই,, সবকিছু বাজার হতে আনতে হবে,, তাই আগে সে কাজটাই করতে হবে,,
–বাজার করতে হবে না??? (আমি)
— কিসের বাজার??? (সজীব)
— রাতে কি খাব আমরা??
— বারে আমার বাইকে করে দুজনেই রেস্টুরেন্ট গিয়ে খেয়ে আসব,,
— জি,,,,,, নাহ,,,, সাহেব,,, সেটা হচ্ছে না,,, আপনি সন্ধ্যার মধ্যে বাজারের ব্যাবস্থা করবেন,,, তাড়াতাড়ি,,, আর এই ফাঁকে আমি রুমটা পরিষ্কার করি,,, হাড়ি পাতিল তো আন্টির তা সবকিছু আছে, শুধু বাজার করতে হবে,,
— আচ্ছা ঠিক আছে,, আমি এক্ষুনি ফোন করে বলতেছি রেস্টুরেন্ট পাশ হতে কাকা বাজার করে পাঠিয়ে দিবেন,,,
— বলবেন সবকিছু টোটাল আনতে,,
— তুমি একটা লিস্ট করে দাও আমি যাই,,
— সেটাই ভালো হবে,,, আমি লিস্ট করে ওর কাছে দিলাম,, সে বাজারে চলে গেছে,, আমি রুম গোছানো শুরু করলাম,, আংকেল আন্টির রুম আলাদা,, আরেকটা রুমে আমি থাকবো,,
** শোকেসে কাপড় রাখতে গিয়ে শোকেস টা খুলে আমি রীতিমত বিব্রত হয়ে গেছি,, সবগুলো ড্রয়ারে সাড়ি, থ্রি পিছ,, লেহেঙ্গা,, গেঞ্জি দিয়ে পরিপূর্ণ,, আর সবগুলো নতুন,, এত সুন্দর সুন্দর সাড়ি থ্রি পিছ সত্যি হারিয়ে যায় মন,, কিন্তু কার এগুলো???
কাপড় রাখা বাদ দিয়ে বই গোছানো শুরু করলাম,, রুম ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করে গোসল শেষ করে শোকেস হতে একটা সাড়ি বের করে পড়লাম,,, ড্রইং রুমে বসে টিভি দেখতে দেখতে সাহেব হাজির,,
–এই ধরো তোমার বাজার,,, এর পরে আমি তোমাকে একটা এটিএম কার্ড দিব সেটা দিয়ে ইচ্ছে মত বাজার করে নিও আমাকে মাফ করো ভাই,, কি ঝামেলা বাজার করতে,,
— মামার বাড়ির আবদার নাকি,,
— না অসহায় স্বামীর আবদার,,
— আমি বাজার করতে পারি না,,।
— আচ্ছা ঠিক আছে,, আমি করে দিব,, তুমি রান্না করো আর আমি একটু বাইরে যাব,,
— রেস্টুরেন্টে যাবেন??.
— পাগল নাকি তুমি,,,
— কেন,???
— বিয়ে করলাম মাত্র কয়েক ঘন্টা,, এখন যদি রেস্টুরেন্ট গিয়ে বসি সবাই বলবে টাকার কি নেশা,,
— তাইতো,,, আচ্ছা ঠিক আছে,,
— একটি কথা বলতে পারি,,
— বলেন,,
— তোমার পরনের সাড়ি টা মনে হয় তুমি শোকেস হতে বের করেছ,??
— হমম সত্যি,,, কিন্তু আপনি ব্যাচেলর মানুষ এত কাপড় আসলো কি করে???.
— আমি মার্কেট এ গেলে যখন যে শাড়ী সামনে পড়তো আর পছন্দ হতো,, তখনই কিনে নিয়ে আসতাম,, আর এগুলো এক বছরের ভিতর কিনেছি,,
— তারমানে আমাকে ফলো করার পরে হতে,,
— যথার্থ উবাচ বচন,,
— সত্যি আপনার পছন্দ অনেক ভালো,
— যার প্রমাণ তুমি নিজেই,,
— মানে???
— তোমার মতো সুন্দরী পছন্দ করেছি আমি,,
— কচু,,
— আচ্ছা বায়,,,
** সবকিছু গুছিয়ে রান্না করতে করতে প্রায় ১১ টা বেজে গেছে,, হঠাৎ মোবাইলর কথা মনে পড়ল,, সকালে বন্ধ করেছি,, নিশ্চয়ই বাসায় অনেক ঝামেলা হচ্ছে এখন,, বাবার জন্য চিঠি লিখেছিলাম একটা সজীব এর কথা উল্লেখ করিনি ,, আঁখি পৌঁছে দিবে ফোন চালু করে আগে সজীব কে ফোন দিলাম,,
— হ্যালো কোই আছেন আপনি???
— বাইরে,,, কেন???
— ১১ টা বাজে আসবেন কখন??? রান্না করা শেষ,,,
— তুমি খেয়ে নাও,, আমি বাইরে খাব,, আসতে একটু দেরি হবে দরজা লক করে ঘুমিয়ে পরো আমার কাছে চাবি আছে,,
— ১০ মিনিটের ভিতরে বাসায় আসবেন,,, রাখলাম,,,
ফোন কেটে দিয়ে দেখলাম বাবা একটা মেসেজ করে রাখছেন আমাকে,, আমি পড়তেছি ঃ—
** বৃষ্টি তোর যথেষ্ট বয়স হইছে সৎ মায়ের সাথে রাগ করে এমন কিছু করিস না যার কারনে নিজের জীবন টা ধংস হয়ে যায়, আগামীকাল আমার অফিস টাইম এ কল দিস**
আপাতত কলেজ কিছুদিন যাব না,,, মা হয়তো লোক লাগিয়ে রাখবেন,,, অনেক কথা ভাবতেছি,, ১০ মিনিট পার হয়ে ১৮ মিনিট শেষ সাহেব মাত্র আসলেন,,,
— আপনি কি সবসময় এতরাত করে বাসায় আসেন???
— হমমম কেন???
— অভ্যাস পরিবর্তন করুন, রাত ১০ টার ভিতর বাসায় আসতে হবে,, তবে যদি হঠাৎ করে জরুরী কাজ পরে তবে সেটা ১০ টা বাজার ২ ঘন্টা আগে জানাতে হবে,,
— আর???
— তিনবেলা বাসায় খেতে হবে,,,
— আর???
— আপাতত এগুলোই,,, পরে আরো কিছু বাড়তে পারে,,
— খুব ক্ষুধা পাইছে,,
— ফ্রেশ হয়ে আসুন,,
— বাহ এত সুন্দর রান্না কর তুমি??.
— ভালো লাগে?? চলবে তো????
— চলবে মানে??? একদম দৌড়াচ্ছে,,,
— ফাজলামো করছেন??
— সত্যি বলছি আমি,,
— তাহলে তিনবেলা বাসায় খেতে পারেন তো???
— অবশ্যই,,,
রাত ১২ঃ৩৪ মিনিট,,, হঠাৎ সজীবের মোবাইল বেজে ওঠে,, মনে হয় ওয়াশরুমে,, মোবাইল ড্রইং রুমে,, এতরাতে কে কল দিবে ভেবে মোবাইল হাতে নিয়ে দেখি সোহানা নামে সেইভ করা,, কৌতূহল হয়ে আমি রিসিভ করলাম,, ঃ—
— হ্যালো,, কি করো??? ( একটা মেয়ে )
— আমি বৃষ্টি সজীব ওয়াশরুমে আছে,,,
— সে তো ব্যাচেলর আপনি তারসাথে কি করেন??? কে আপনি??
— আমি বৃষ্টি সজীব এর স্ত্রী,,
— মানে কি ??? সে বিয়ে করছে কবে ???
.
#চলবে
,
#গল্প :- বিশ্বাস করো আজও ভালবাসি ।
.
#প্রথম পর্ব

#লেখিকা- সানজিদা আক্তার

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *