বিশ্বাস করো আজও ভালবাসি (Part_2)

বিশ্বাস করো আজও ভালবাসি All part

#গল্প- বিশ্বাস করো আজও ভালবাসি
#পর্ব (২) ।
#লেখিকা- সানজিদা আক্তার
❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤
— কেন বিয়ে করতে মানা নাকি ?
— না তা নয়,, কিন্তু আমরা আত্মীয় স্বজনরা কিছু জানতে পারলাম না,আর ও তো এমন না,,
— ভালবেসে বিয়ে করলে সবসময় তো সবাইকে জানানোর সুযোগ হয় না,, তাই না ?
— কে ফোন করেছে??? ( সজীব )
— জানিনা,, আপনি দেখে নিন,, বলেই আমি রুমে চলে গেলাম,,
** সারাদিন অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে,, তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়তে হবে,, বিছানা পত্র ঠিক করে বসেছি,,, এর ভিতরে সজীব আসলো,,
— কি করো তুমি??
— ঘুমাবো,, আর যখন তখন আমার রুমে আসবেন না,,
— আচ্ছা ঠিক আছে,, শুভ রাত্রি
— বারান্দায় দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে আছি ঘুমন্ত শহরের পানে,, প্রত্যেকটা বাড়িতে কিছু কিছু লাইট জ্বলে,, কেউ হয়তো স্বপ্ন দেখে আপন আলয়ে কেউবা বসে আছে নির্ঘুম নিবেশে,,
অনেক দিন কলেজে যাই নি, প্রায় ১৮-২০ দিন,, আজ ভাবছি যাব বাবার সাথে রোজ কথা হয়ে যখন বাবা অফিসে থাকেন,, সকাল ৯ঃ২০ সজীব এখনো ঘুমাচ্ছে,, তাকে ডেকে তুলে বললাম আমি কলেজ যাব,, ও তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে আমাকে নিয়ে কলেজে নামিয়ে দিল,,
— কখন ক্লাস শেষ হবে??
— আমি ফোন করবো তোমাকে,,
— আচ্ছা ঠিক আছে,,।
— শুনুন,, বেশি দুরে কোথাও যাবেন না,, রেস্টুরেন্টে থাকবেন,, মা যদি জানতে পারে বা কিছু করতে চায়,,
— ঠিক আছে তুমি চিন্তা করো না,,
— বায়,,
কলেজ শেষ করে বাসায় আসতে প্রায় ১ টা বেজে গেছে,, সকালে রান্না করে গেছি শুধু গরম করলেই হবে,, খাওয়া শেষ করে রুমে বসে আছি,,।
— আমি বাইরে যাচ্ছি,, দরজাটা বন্ধ করে দাও,, ( সজীব )
— এই ভর দুপুরে কোই যাবে তুমি???
— একটু কাজ আছে,,
— আরেকটু পরে গেলে সমস্যা কি??
— আমি শাহবাগ যাব,,, তাই যেতে হবে,,
— আচ্ছা ঠিক আছে,,
— দরজা লক করে নিজের রুমে এসে ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম উঠে দেখি ঘড়িতে বিকাল ৫ঃ২২।
সজীব কে ফোন দিলাম আশ্চর্য তার ফোন বন্ধ করে রাখছে,,, ফ্রেশ হয়ে ছাদে গেলাম,,
পরিবেশটা সুন্দর কোন রকম ভেজাল নেই,,
এমন পরিবেশে সজীব নামক মানুষটার পাশে থাকা বড়ো দরকার ছিল,, তার ভালবাসার জন্য নিজের মনের সাজানো কথার মালা,,
**শীতের সূর্য দুর্বল হয়ে গেছে এখনই,,
**হয়তো আর কিছুক্ষণ পরে সে বিদায় নিবে,,
**আকাশে পাখিদের দল ফিরে যাচ্ছে তাদের নীড়ে,,
**সজীবকে আমি ভালবাসতে শুরু করেছি মনে হয়,,
**মানুষটা এত সুন্দর করে ভালবাসতে জানে যে তার শত্রুও তাকে খারাপ বলতে পারবে না,,
**হয়তো যেকোনো সময় কানে কানে বলে দেব,,
** আমি তোমার সন্তানের জননী হতে চাই,,
**দেবে কি সেই অধিকার রাখবে কি পাশে এই অভাগীকে,,
**তোমার রান্না ঘরের দায়িত্বটা সারাজীবন পালন করতে চাই,,
**অসুস্থ তোমার মাথার নিচে আমার কোল রাখতে দিবে??
**তোমার কপালের ঘাম আমার শাড়ির আচল দিয়ে মুছতে দিবে??
** পূর্নিমা মিলনী রাতে জোছনা দেখবে আমার সঙ্গে??
** সকালে তোমার ঘুম ভাঙ্গার দায়িত্ব দিবে মোরে???
** গভীর রাতে আমার ঘুমন্ত মুখের পানে তাকিয়ে থাকবে তুমি??
** তোমার বুকের উপর আমার মাথাটা রাখতে দেবে তুমি???
** শাড়ী পড়তে সাহায্য করবে কি তুমি আমায়???
** আমার কপালের বাকা টিপটা সোজা করার জন্য হবে কি তুমি সেই নিঃশব্দে বয়ে আসা কথা??
রাতের জন্য রান্না করতে হবে তাই তাড়াতাড়ি নিচে চলে আসি,, সজীব কে আবার কল দিলাম নাম্বার এখনো বন্ধ,, মনে একটু চিন্তা কাজ করে কেন করে জানিনা,,
রান্না করে রাত ৮ঃ৪০+++ বই পড়তে বসলাম এখনো নাম্বার বন্ধ আছে,, মনটা ছটফট করে এমন কখনো হয়নি,,
দেখতে দেখতে রাত ১১ টা বেজে গেছে এত রাত ও বাইরে থাকে না আমি আসার পর হতে,,
দেরি হলে মোবাইল করার কথা কিন্তু তার নাম্বার ইতো বন্ধ বারান্দায় দাঁড়িয়ে রাস্তার দিকে তাকিয়ে আছি,, কত মানুষ যায় কিন্তু সে তো আসে না, নানান প্রকার উল্টো পাল্টা কথা মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছিলো,,
সত্যি সত্যি কান্না আটকে রাখতে পারি না আর চোখ দুটো বেয়ে পানি পড়ছে,, এমন কেন হচ্ছে?? রাত ১২ঃ৩৫ বাসা হতে রেস্টুরেন্টর দুরত্ব মোটামুটি কম না,, কিন্তু মনটা আর মানে না, বোরকা পড়ে বেড়িয়ে পড়ব ভাবছি,, যেই ভাবা সেই কাজ,,
রাস্তায় কিছু কুকুর একসাথে হাটাহাটি করছে,, নাইট গাইড কে দেখতে পাচ্ছি,, আমাকে বলল,,
— কে আপনি??
— জি আমার নাম বৃষ্টি,,
— বাসা কোই,,??
— আমি সজীব এর নাম ওর বাবার নাম আর বাড়ির লোকেশন বললাম,, সে চিনতে পারছেন মনে হয়,,
— আচ্ছা তুমি সজীব এর স্ত্রী???
— জি কাকা;
— এত রাতে কোথায় যাও???.
— সজীব বাসায় ফিরেনি এখনো মোবাইল বন্ধ বিকেল হতে,, তাই রেস্টুরেন্টে যাব,,
— কিন্তু এত রাতে বেরোনো ঠিক না মা,, জানতো দেশের কি অবস্থা সে হয়তো কোন কাজে আটকে গেছে মনে হয়,,
— কাকা ও কখনো ১০টার পরে বাইরে থাকে না,, আর দেরি হলে মোবাইল করার কথা,, তাই চিন্তা করতেছি,,
— আচ্ছা চলো বড় রাস্তায় গিয়ে তোমাকে বাস বা সি এন্ড জি করে দিচ্ছি,,
— ধন্যবাদ আপনাকে কাকা,,,
— সি এন্ড জি নিয়ে রেস্টুরেন্টর সামনে গিয়ে দেখি সজীব ভিতরে বসে আছে,, ক্যাশ সামলে যাচ্ছেন সে,, একটা ছেলে আমাকে দেখে বললো,,
— ভাবি আসসালামু আলাইকুম,,
— ওয়ালাইকুম আসসালাম,, তোমার ভাই কখন হতে আছেন এখানে???
— সেই বিকেল হতে ভাবি,,,
— ওহ্হ,,, সোজা সজীব এর সামনে গিয়ে দাড়ালাম চোখের কোনে হয়তো এখনো পানি জমা আছে,, কারন রিক্সার ভিতর বসেও কান্না করেছি,,
— তুমি হঠাৎ করে,, একলা কিভাবে বুঝলাম না???
— কয়টা বাজে এখন??
— হমমমম ওরে বাপরে ১ টা বাজে,,, সরি সরি খেয়াল করিনি,,
— মোবাইল বন্ধ বিকেল হতে,,, কেন???
— বলতে পারছি না,,, সিম সাপোর্ট নিচ্ছে না, কি যে হল??আচ্ছা দুই মিনিট দাড়াও,,,
— দুজনেই বাইকে করে বাসায় যাচ্ছি চোখের কোনে পানি আর ঠোটের কোনায় ছোট্ট একটু হাসি,, দু’হাতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছি,, সত্যি এমন অদ্ভুত আচরণ অনুভূতি প্রকাশ করার মত না,, ভালবাসার ছায়া খঞ্চ এত সুখের উল্লাসে দুলিতে চায় জানা ছিল না,,
বাসার সামনে গিয়ে বাইক পার্ক করে উঠতে গিয়ে বললাম,,,
— আমি উঠতে পারব না,,।
— কেন???
— আমাকে কোলে করে নিতে হবে,,
— পাগল নাকি??? ভাড়াটিয়া কেউ দেখলে আর মুখ দেখানো যাবে না,, চল তাড়াতাড়ি,,,
— বললাম তো আমি পারব না,,
অবশেষে আমার জেদের কাছে হার মেনে আমাকে দু’হাতে আকলে ধরে কোলে করে দুইতলা আসলো,,
— নামো দরজা খুলে দি””
— হমমম নামাও,,,
— দরজা খুলে দুজনেই ভিতরে গিয়ে তার বুকের উপর ঝাপিয়ে পড়ে চিৎকার করে কান্না শুরু করলাম,,
— এমন করে কাঁদছ কেন,,, কি হইছে তোমার???
— আমি তোমাকে হারাতে চাই না সজীব,,, সত্যি অনেক কষ্ট হয়েছে আজ,, আমি কখন যে মনের অজান্তেই ভালবেসছি নিজেই জানিনা,, আমাকে তোমার বুকে সারাজীবনের জন্য ঠাই দাও,,,
— সেটা তো অনেক আগেই দিয়েছি,,,
ছেলেদের নতুন শার্ট-প্যান্ট আর মেয়েদের নতুন শাড়ি আলাদা ব্যাপার। মেয়েদের নতুন শাড়ি পরা মানে একটা বিশেষ ঘটনা। সেই ঘটনা যখন ঘটে তখন লক্ষ করতে হয়।
আমি নতুন একটা শাড়ী পড়ে আছি,, এটা একদম নতুন শাড়ী তবে সজীব কিনে রেখেছিল আমার জন্য সেগুলোর মধ্যের একটা,, সজীব এখনো ঘুমাচ্ছে না হলে আমার শাড়ীটা এখনই দেখতে পারতো,,
অনেক্ষন আয়নার সামনে দাড়িয়ে ছিলাম,, নীল শাড়ির সাথে মিলিয়ে নীল টিপ পড়েছি কাজল শেষ হয়ে গেছে,, তাই আর কাজল দেয়া হলো না,,
হঠাৎ করে শেষ হয়ে গেছে কিন্তু আমি জানতাম না,, নাস্তা বানানোর জন্য রান্না ঘরে গেলাম,, পরটা ভাজি, ডিম আর নুডলস রান্না করবো । ময়দা শেষ হয়ে গেছে কিন্তু আমার মনে ছিল না, ভাগ্য ভালো ছিল আমি সবসময় গুরুত্বপূর্ণ কিছু জিনিসপত্রের এমারজেন্সি ব্যাকআপ রাখি ।
যেমন চিনির কৌটা তে চনি রাখার পরে আবারও একটা কৌটার মধ্যে চিনি রেখে দিতাম । তার গায়ে লিখে রাখছি এটা এমারজেন্সি চিনি আর চায়ের কৌটা আছে ।
তাই এমারজেন্সি ময়দা বের করে রুটি তৈরী হলো ।
কলেজে একটা ক্লাস টেস্ট পরীক্ষা আছে তাই যেতে হবে,, শরীর টা প্রচন্ড ব্যাথা করছে,, মনে হয় যে গতরাতের দুজনের একান্ত নিবিড় আলিঙ্গন আর অন্য ভুবনে হারিয়ে যাবার জন্য,,
এমন একটা রাত পার করার পরে এত সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠার কোন মানে হয় না,, কিন্তু কলেজের জন্য সজীব এর পশমে ভর্তি বুক রেখে উঠতে হলো,,
ঘড়িতে সকাল ৭ঃ৪৮ বাজে । নাস্তা তৈরী কমপ্লিট হয়ে গেছে এখন সাহেব কে জাগানোর পালা । কাছে গিয়ে ডাক দিলাম :-
— সজীব তাড়াতাড়ি ওঠো ।(কপালে হাত দিয়ে)
— আহহহহহহ এত তাড়াতাড়ি কিসের সবে তো মাত্র ঘুম পড়ছি ।
— প্রায় আটটা বাজে । তাড়াতাড়ি ওঠো আমি কলেজ যাব ।
— কি সুন্দর একটা স্বপ্ন দেখছিলাম ।
— স্বপ্ন পুরন হইছে ??
— তোমার মত বউয়ের যন্ত্রণায় সালার ঘুমই তো পুরা হলো না । তাহলে স্বপ্ন কিভাবে পুরন হবে ?
— একটা কথা বলি সজীব ।
— বলো ।
— রুটি পরটা বানাইছি । খুন্তি এখনো গরম আছে, নিয়ে আসবো ?
— এমন করো কেন ? এখনই উঠতেছি আনার দরকার নেই ।
— ভালো ছেলে গুড বয় ।
নাস্তা করে দুজনেই তৈরী হইলাম । আমি আমার রুমে আর সজীব ওর রুমে গেছে কিন্তু আজ বিকেলে তার সবকিছু আমার রুমে আনতে হবে । স্বামী স্ত্রী দুজনেই তো এক তাহলে পোশাক আলাদা রুমে কেন থাকবে ??
আমার চারটি বোরকা আছে আজ নীল কালারের বোরকা পড়লাম আমি । কিন্তু সজীবের দিকে তাকিয়ে মেজাজ ৩০০° হয়ে গেছে । কটকটে লাল একটা জামা পড়ছে দেখলেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায় । বললাম :-
— সজীব এদিকে আসো । (আমি)
— বলো ।
— জামা খোলো তাড়াতাড়ি ।
— এখন এ সময়ে কি করবে তুমি ?
— দরকার আছে আমার ।
— দেখ যা হবার রাতের আঁধারে হবে , নাহলে কলেজ থেকে আসো তারপর । এখন তো মাত্র আমি গোসল করলাম, আবার পুনরায় কে গোসল করবে।
— তোমারে জনমের মত করাচ্ছি রাতের আঁধারে । জামা খুলতে বলছি কারন আমার নীল বোরকার সাথে মিলিয়ে আকাশি শার্ট পড়বে ।
— ওহ আমি মনে করছি ,,
— মনের ভিতর থাকে তো সবসময় এই কথা ।
বাইকের পিছনে বসে আছি আমি । দুজনেই মনে হচ্ছে সিনেমার মত নায়ক নায়িকা হয়ে রাস্তা দিয়ে চলে যাচ্ছি । কেউ কেউ দৃষ্টি দিয়ে তাকিয়ে দেখে ।
— ক্লাস শেষ হবে কখন ? (সজীব)
— পরীক্ষা আছে প্রায় ১ টা বাজতে পারে ।
— আচ্ছা ঠিক আছে ।
কলেজ গেইটে নামিয়ে দিয়ে সে চলে গেছে । আমি মাঠের পাশে অশ্বত্থ গাছের নিচে গেলাম জানি আমার বান্ধবীরা ওখানেই আছে ।
— কেমন আছিস বৃষ্টি ? (বান্ধবী তমা)
— ভালো আছি । তোরা কেমন আছো ? (আমি)
— ভালো আছি । কিন্তু তোর মাথার চুল ভেজা মনে হয় । ঘটনা কি ?
— কিসের ঘটনা ?
— সকালে গোসল করছো ?
— হমমম তো ?
— তারমানে রাতে মেশিন চলছে তাহলে ?
— চুপ কর !
— প্লিজ বৃষ্টি শিখিয়ে দেনা ভাই ।
— তোর ধারণা সঠিক হইছে , কাল রাতে আমরা একসাথে একরুমে ছিলাম ।
— যাক বাবা অবশেষে ভালবাসা জাগলো তোর মনের ভিতর ??
— হমমম । তবে স্বামীর পাশে জড়িয়ে সুয়ে থাকা কতটা আনন্দের আর তৃপ্তির ব্যাপার । সেটা বিয়ে নাহলে বোঝা যায় না ।
— দোয়া করি তোরা সুখী হবি । আচ্ছা কতক্ষণ জেগে ছিলি দুজনে ?
— কেন ?
— বলনা দোস্ত শুনি ।
— বলা যাবে না ।
— কেন কেন ?
— আজ বললে কাল এগুলো নিয়ে ব্লাকমেইল করে ফুসকা চটপটি খাওয়ানোর দাবি করবি ।
— ধুর হারামি ।
— চল ক্লাসে যেতে হবে ।
কলেজ শেষ হইছে মাত্র । ঘড়িতে ১১ টা ২৬ বাজে । সজীব গাজীপুর চৌরাস্তায় গেছে । আসতে সময় দরকার তাই আমাকে একটা সিএনজিতে যেতে বলেছে । কি আমি ২০০ টাকা দিয়ে সিএনজি তে না উঠে বাসে করে চলে যাব ভাবছি ।
সাড়ে বারটা বাজে বাসের ভিতরে তেমন ভিড় নেই । একটা বাসে উঠে খালি দুটো সিট দেখে জানালার পাশে বসলাম আমি । কিন্তু একটু পরে সামনে থেকে একটা সুদর্শন যুবক উঠলো । দেখতে প্রায় সজীব এর মত সুন্দর ঠিকঠাক । সে উঠেই ধপ করে আমার পাশে এসে বসলো আর আমি তো অবাক । এত সিট রেখে আমার পাশে কেন ?
হঠাৎ সে বললো :-
— বাহহ সুন্দর তো !
— আমি চুপচাপ ।
— এত সুন্দর ও মানুষ হয় ?
— আমি চুপচাপ ।
— মেডাম শুনছেন ?
— জি আমাকে বলছেন আপনি ?
— জি,
— ঠিক আছে বলেন ।
— বলছি আপনি অনেক সুন্দর ।
— তো কি হইছে ?
— না মানে সবসময় তো সুন্দরী রূপবতী চোখে পরে না। তাই মনের অনুভূতি প্রকাশ না করে পারলাম না।
— আচ্ছা ,, তা মনের অনুভূতি প্রকাশ করা শেষ হইছে আপনার ?
— জি ।
— তাহলে চুপ করেন ।
— সুন্দরী তরুণীর এত রাগ ভালো না মেডাম ।
— তো কি করতে হবে ?
— মিষ্টি মুখ দিয়ে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলতে হবে ।
— দেখুন জন্মের পরে আমার মুখে মধু দিতে গিয়ে ভুল করে নিম পাতার রস দিছিল । তাই এরকম তিতে তিতে কথা আসে ।
— আমি মোঃ রিয়াজুল ইসলাম সবুজ । আমি অস্ট্রেলিয়া হতে ডাক্তারি পাশ করে তিন মাস আগে দেশে আসলাম । উত্তরা আমাদের বাসা । আপনার নাম টা জানতে পারি আমি ?
— নাজমা আক্তার বৃষ্টি ।
— আপনার BF আছে ?
— না নেই ।
— বিশ্বাস করতে পারি না ।
— আপনার ইচ্ছে ।
— সত্যি সত্যি আপনার BF নেই ?
— আপনি আমার কাছে কত টাকা পাবেন ?
— ছি ছি ছি টাকা পাবো কেন ? আমাদের তো প্রথম বার দেখা ।
— তাহলে আপনার সাথে মিথ্যা কথা বলে আমার লাভ কি বলেন ?
— ওহহ সরি , আসলে এত সুন্দরী মেয়ের BF নেই সেটা মানা কষ্টকর ।
— কিন্তু অসম্ভব তো না ?
— না । আচ্ছা আপনার কাউকে ভালো লাগে না ? নাকি কেউ আপনাকে প্রপোজ করে না ?
— আশ্চর্য আপনি এত কথা জিজ্ঞেস করেন কেন ?
— দেখুন এটা লোকাল বাস । একটু পরে নেমে যাবেন এ জীবনে আর দেখা নাও হতে পারে । তাই জিজ্ঞেস করছি ।
— ওহহহ আচ্ছা ।
— বলেন না BF কেন নেই ।
— আমি বিবাহিত, আমার স্বামী আছে তাই BF নেই আমার ।
— ওহহহ আচ্ছা, কিন্তু এটাও অবিশ্বাস্য ।
— কেন কেন ?
— আপনার চেহারা দেখে মনে হয় না আপনি বিবাহিত ।
— আর কি কি মনে হয় না আপনার ?
— রেগে যাচ্ছেন কেন ?
— তো ?
— লাস্ট একটা অনুরোধ রাখবেন ?
— রিকোয়েস্ট এর উপর নির্ভর করবে ।
— আপনার ফেসবুক আইডি নাম টা জানতে পারি?
— মিসেস সজীব । প্রোফাইল পিকচার এ পুরনো এক টাকার নোটের তিনটি হরিণের ছবি আছে ।
— আপনার স্বামীর নাম সজীব ?
— জী।
— ধন্যবাদ আপনাকে ।
— উত্তর বাড্ডা আপনাদের বাসা ?
— জি আমার স্বামীর নিজের বাড়ি আছে ।
— ওহহহ ।
বাস হতে নেমে তাড়াতাড়ি হাটা শুরু করলাম । আজ বাসায় গিয়ে রান্না করতে হবে এখন । সজীব কখন আসবে কে জানে ?
মধ্যোহ্নের দিকে, বাহিরে সূর্যের এত প্রকারন্তরে ঝলসানো রুপ আর চোখে পড়েনি,, পাখিরা গণবিলুপ্তির আগেই নীড় বাঁধার অবিরাম অন্তহীন ছায়ায় আশ্রয় করে,,
নিচে সজীব এর বাইক রাখা আছে তারমানে সজীব বাসায় আছে ? কিন্তু আমাকে তো বললো ও এখন গাজীপুর চৌরাস্তায় গেছে ।
সিড়ি দিয়ে উপরে গিয়ে দরজার সামনে দাড়িয়ে ই আমার শরীরের সমস্ত রক্ত হিম হয়ে গেল । দরজার সামনে সজীব এর আর একটা মেয়ের জুতা দেখা যায় । আমার ১ টা বাজে আসার কথা ছিল তাই সে সুযোগে মেয়ে নিয়ে হাজির ???
অনেকক্ষণ ধরে কলিং বেল টিপছি কিন্তু দরজা খোলার নাম গন্ধ নেই । দুচোখ বেয়ে সত্যি এবার পানি এলো । সজীব এর মোবাইলে ফোন দিচ্ছি কিন্তু রিং বেজে যাচ্ছে রিসিভ করছে না ।
.
#চলবে…
.

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *