বিশ্বাস করো আজও ভালবাসি (Part_3)

বিশ্বাস করো আজও ভালবাসি All part

#গল্প- বিশ্বাস করো আজও ভালবাসি
#পর্ব (3) ।
#লেখিকা- সানজিদা আক্তার
❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤
আমার দুটি পা অচল হয়ে আসছে মনে হয় এখনই ভেঙ্গে পড়বো । নিরুপায় দরজার সামনে সিড়িতেই বসে পড়লাম আমি ।
হঠাৎ করে সজীব দরজা খুলে বেরিয়ে এলো । সে খুব স্বাভাবিক ভাবে বললো ।
— বসে আছো কেন ? ভিতরে আসো ।
— রুমের মধ্যে কোন মেয়ে আছে ?
— কেউ নেই ।
— তাহলে এই জুতা কার ?
— তোমার ।
— মানে কি ?
— তোমার জন্য কিনেছি ।
— এতক্ষণ দরজা খোল নি কেন ?
— বাথরুমে ছিলাম ।
— তুতুমি এখন বাহিরে দাঁড়িয়ে রবে আমি সমস্ত ঘর চেক করবো ।
— কেন কেন ?
— তুমি মেয়ে কোথায় লুকিয়ে রেখেছো ?
— বললাম তো কেউ নেই ভিতরে ।
— একদম চুপ ।
প্রতিটি রুমের মধ্যে চিরুনি চালিয়ে কোন কিছুই তো পেলাম না । তাহলে কি সত্যি কেউ নেই ? যাক বাবা এতক্ষণে মুখের কোনে হাসি ফুটলো আমার । আমি দরজা খুলে সজীব কে ভিতরে আনলাম ।
— কোথায় লুকিয়ে রেখেছো বলো ? (আমি )
— কাকে ? (সজীব)
— নাটক করবে না ।
— সত্যি বলছি কেউ নেই ।
— তাহলে তুমি নাকি গাজীপুর ? বাসায় কি করো ?
— রুমে চলো একটু আদর করতে দাও তারপর বলছি ।
— এখন আমি রান্না করবো ।
— গোসল করে তারপর করবে সমস্যা কি ?
— তারপর দুপুরের খাবার সন্ধ্যা বেলা খাবো ?
— প্লিজ চলো না ।
— হবে না । তুমি আমাকে কষ্ট দিছো ।
— কিভাবে ?
— বাসায় বসে আছো তবুও তুমি আমাকে আনতে গেলে না কেন, ?
— তাড়াতাড়ি কাছে পাওয়ার জন্য ।
— মানে ?
— আমিও বাইক নিয়ে হাজির হবো । আর তুমিও সিএনজি করে আসবে তাই ।
— ইসস কত সখ , সন্তান হলে এই ভালবাসা কোই যায় দেখবো ।
— সে আরো পাঁচ বছর পরে চিন্তা করবো ।
— কেন কেন ?
— দুজনেই আলাদা রোমাঞ্চকর পরিবেশ দেখে কাটাবো ।
— একটা কথা ছিল ।
— বলো ।
— চলনা দুরে কোথাও ঘুরে আসা যাক ।
— তোমার কলেজ ?
— সপ্তাহ খানিকে বেশি কিছু হবে না ।
— তাহলে কক্সবাজার যাবে ?
— সত্যি সত্যি নিয়ে যাবে ?
— হমম সত্যি সত্যি ।
— তাহলে দু তিন দিনের মধ্যে চলো ।
— আচ্ছা ঠিক আছে ব্যবস্থা করছি আমি ।
— তুমি ফ্রেশ হয়ে লম্বা একটা ঘুম দাও । রান্না করে আমি তোমাকে ডাক দিব ।
— আচ্ছা একটা কথা বলি ?
— বলো ।
— তুমি আমাকে সন্দেহ করছিলে কেন ?
— কারন ছিল তাই ।
— একটা গল্প শুনবে ?
— বলো শুনি ।
–বল্টু গেল ডাক্তারের কাছে,তার পিঠে প্রচণ্ড ব্যথা।
-কীভাবে হল? ডাক্তার জিজ্ঞেস করলেন।
-আজ অফিস থেকে একটু তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরে দেখলাম আমার স্ত্রী নেই,শেষে বারান্দায় একটা কিছুর শব্দ পেয়ে সেখানে গিয়ে দেখলাম আমার স্ত্রী দাঁড়িয়ে আছে আর একটা লোক শার্ট পরতে পরতে রাস্তা দিয়ে দৌড়ে পালাচ্ছে। আমি যা বোঝার বুঝে নিলাম আর বাসারডিপ ফ্রিজটা তুলে লোকটার
গা বরাবর ছুড়ে মারলাম। এত বড় ফ্রিজটা ছুড়ে মারতে গিয়ে এই অবস্থা।
বল্টু চলে যাওয়ার পর ডাক্তারের কাছে গেল দ্বিতীয়
রোগী,যার অবস্থা আরো খারাপ। সে জানাল-আজ থেকে আমার নতুন চাকরিতে যোগ দেয়ার কথা, সকাল উঠে দেখি অনেক দেরি হয়ে গেছে। তাই শার্ট
পরতে পরতে দৌড়ে রাস্তায় বেরিয়ে ছিলাম, হঠাৎ
কোত্থেকে একটা ফ্রিজ এসে ধড়াম করে পড়ল আমার পাশে । এবং সামান্য ছিটকে গায়ে লাগলো ।
এরপর এল তৃতীয় রোগী,তার অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। সে বলল -বড় একটা বিপদ থেকে বাঁচতে ডিপ ফ্রিজের ভিতর ঢুকে বসে ছিলাম, তারপর
কোন এক হারামজাদা এসে ডিপ ফ্রিজটাই রাস্তায়
ফেলে দিল…!
— হাহাহা হাহাহা হাহাহা । তাহলে তো এক্ষণই আমার ফ্রিজ খুলে চেক করতে হবে ।
— করো ।
— তার দরকার নেই ।
— কেন ?
— তুমি আর আমি একই বডি স্প্রে ব্যবহার করি । আর সকালে তোমার সাথে যাবার সময় জড়িয়ে ধরে গিয়েছিলাম । এখন রুমের মধ্যে যদি অন্য কেউ আসতো তবে তোমার শরীরে তার গন্ধ পেতাম ।
— তবুও প্রমান দেখে মানলে । কিন্তু বিশ্বাস করো না তুমি ?
— চুপচাপ গোসল করতে যাও ।
— সকালে তো গোসল করেছি আমি ।
— বাহিরে গিয়ে ধুলাবালি আর শরীরের ঘামাের গন্ধ আসছে ।
— তাহলে একটু আগে বললে কেন বডি স্প্রে ঘ্রাণ আসে ?
— বডি স্প্রে ঘ্রাণ আসে ঠিক আছে কিন্তু সেটা বাসি ঘ্রাণ । যাও আমাকে কাজ করতে দাও ।
— আমি তোমাকে সাহায্য করি ।
— কোন দরকার নেই যাও ।
★★★ দুই দিন পরে ।
এখন রাত নয়টা বাজে । আমরা বসে আছি নতুন বাজারের পরে নর্দা ওভার ব্রিজের নিচে Shohag Paribahan এর কাউন্টারে । সাড়ে নয়টার সময় গাড়ি আসলো , আমরা দুজনেই গাড়িতে উঠলাম ।
Shohag Paribahan এর Scaenia ব্রান্ডের গাড়ি কালার হচ্ছে সাদা । প্রতিটি টিকিটের মূল্য ১৮০০ টাকা তবে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম হোটেলে বুফে খাবার ব্যবস্থা আছে ।
নিজের পাশে একজন বৃক্ষের ছায়ার মতো মানুষ থাকলে নিশ্চিন্তে ঘুমের রাজ্যে যাওয়া যায় । সজীব হচ্ছে আমার সেই ছায়া যেটাকে বিশ্বাস করে আমি সবকিছু উজাড় করতে পারি ।
সকাল সাড়ে দশটা বাজে আমরা কক্সবাজার বাস টার্মিনালে এসে নামলাম । আমরা যাব এখানকার ভালো হোটেল Hotel Sea Force এ ।
সারারাত জার্নি করার জন্য শরীর ভালো না , তাই গোসল করে দুজনেই লম্বা একটা ঘুম দিলাম ।
★★★
বিকেলে দুজনেই সমুদ্র দেখতে বের হলাম । বিশাল আকাশে তাকিয়ে সৃষ্টির অপরুপ চিত্র কল্পনা করি । সঙ্খচীলের দল অজস্র দেখা যায় মানুষের মাঝে মিশে আছে ।
পৃথিবীতে অজস্র বার ফিনিক ফোটা পুষ্প কলি জোছনায় পরী আসবে । শরৎকালে শ্রাবন মাসে টিনের চালে বৃষ্টির সেতার বাজবে । সেই অলৌকিক সঙ্গীত শোনার জন্য আমি থাকব না।
ভালোবাসার মাঝে হালকা ভয় থাকলে, সেই ভালোবাসা মধূর হয় । কেননা, হারানোর ভয়ে প্রিয়য়জনের প্রতি ভালোবাসা আরো বেড়ে যায়!!
পৃথিবীর কিছু মানুষ জন্ম থেকে অতৃপ্ত । এদেরকে তৃপ্ত করার চেষ্টা করাও বোকামি । ওরা অতৃপ্ত থেকেই তৃপ্ত হয় ।
— কি বিচিত্র সুন্দর তাই না ? (আমি)
— হুম অনেক সুন্দর । (সজীব)
— তুমি আগে কখনো এসেছো এখানে ?
— একবার পিকনিক করার জন্য এসেছি । মা-বাবা তখন জীবিত ছিল ।
— তোমার সাথে জীবনের সুতোয় বাঁধা হয়ে আজ সত্যি আমি পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ ।
— কেন ?
— জীবন টা কানায় কানায় পরিপূর্ণ ।
— একটা কথা বলি ?
— বলো ।
— আমি ১ বছর তোমার পিছনে ঘুরেছি কিন্তু তোমার কি তখন একবারও ইচ্ছে করেনি আমাকে ভালবাসতে ?
— করেছে ।
— তাহলে সাড়া দেও নি কেন ?
— আমি জানতাম তুমি আমার , তাই অপেক্ষায় রেখেছি ।
— যদি আর কারো সাথে রিলেশন শুরু করতাম ?
— খুন করে ফেলতাম , কেন মনে নেই ? তোমাকে হাতিরঝিল একটি মেয়ের সঙ্গে দেখে পরেরদিন কি বলছি ?
— হমমম মনে আছে !
— সেটাই সাহেব ।
— ডাব খাবে তুমি ?
— হুম ।
— আচ্ছা দাড়াও আমি নিয়ে আসি ।
জীবনটা আসলেই অনেক সুন্দর! এতো বেশি সুন্দর যে, মাঝে মাঝে অসহ্য লাগে । মিনারের মতো সাদা মেঘ সোনালি চিলেরে হাতছানি দিয়ে তার জানালায় ডাকে । বন বেতের লতার নিচে চড়ুয়ের ডিম যেন শক্ত হয়ে আছে । নরম জলের গন্ধ দিয়ে নদী সমুদ্র বারবার তীরটিরে মাখে এরা আলোকিত করে ।
শুকনো পাতা খড়ের চালের ছায়া তিমির গাঢ় রাতে জোছনার উঠানে পড়িয়াছে কমল স্পর্শ । বাতাসে ঝিঁঝির গন্ধ আসছে বৈশাখের প্রান্তরের সবুজ বাতাসে নীলার মনে। নীলাভ নোনার বুকে ঘর রস গাঢ় আকাঙক্ষায় নেমে আসে জীবনের অপার্থিব দৃশ্যের আশীর্বাদ ।
— আপনার নাম বৃষ্টি না ?
(পিছনে ফিরে দেখি সেই লোকাল বাসের ডাক্তার)
— জি , আপনি এখানে ?
— চিনতে পারছেন আমাকে ?
— জি আপনি ডাক্তার ।
— ধন্যবাদ মেডাম ,
— ধন্যবাদ কেন ?
— মনে রাখার জন্য ।
— ওহহ আচ্ছা । তা আপনি কি বেড়াতে আসছেন এখানে ?
— জি , আপনি ?
— হমম আমি আর আমার স্বামী বিয়ের পরে এটাই প্রথম দুরে কোথাও আসা ।
— আপনার স্বামী কোই ??
— ডাব কিনতে গেছে ।
— আপনার স্বামীর নাম টা জানতে পারি ?
— মোঃ সাইফুল ইসলাম সজীব ।
— নাইস নেইম । কি করেন তিনি ?
— রামপুরা ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আমাদের একটা রেস্টুরেন্ট আছে ।
— ওয়াও বিজনেস হচ্ছে দুনিয়ায় সবচেয়ে ভালো কাজ । কারন এতে নিজের ভাগ্যের চাকা তো ফিরবেই , তখন আরো কিছু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে ।
— হমম তা ঠিক । ওই যে আমার স্বামী সজীব ।
★★
— হ্যালো সজীব ভাই , কেমন আছেন আপনি ? আমি ডাঃ মোঃ রিয়াজুল ইসলাম সবুজ । R
— আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি , আপনি কেমন আছেন ভাই ? S
— জি আলহামদুলিল্লাহ ভালো । আপনার স্ত্রীর সাথে কিছুদিন আগে লোকাল বাসে পরিচয় হয়েছে । কিন্তু কি কাকতালীয় আজ আবারও দেখা হয়ে গেল । R
— ওহহ আচ্ছা তাই নাকি ? S
— জি । আচ্ছা আপনারা কোন হোটেলে আছেন ? R
— Hotel Sea Force . U ? S
— আমি Hotel Rose for Love এ আছি । R
— আচ্ছা আচ্ছা । S
— ঠিক আছে ভালো থাকবেন , আবারও দেখা হবে বৃষ্টি যাই তাহলে ? R
— আচ্ছা ঠিক আছে আপনিও ভালো থাকবেন ।
★★★
রাতের ডিনার কমপ্লিট করে হোটেলের রুমের এটেস বারান্দায় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছি । রাস্তা দিয়ে সা সা করে গাড়ি চলে যায় । মৃদু বাতাস আসছে ঐ আকাশেন গায়ে অর্ধচন্দ্র দেখা যায় ।
— ডাক্তার ছেলেটার সাথে তোমার কবে পরিচয় হয়েছে ? (সজীব)
— তিন চার দিন আগে যেদিন তুমি গাজীপুরের কথা বলে বাসায় ছিলে । (আমি)
— তারমানে তুমি সিএনজি তে বাসায় যাও নি ?
— না বাসে করে গেছিলাম আমি ।
— কেন টাকা ছিল না ?
— ছিল , কিন্তু যাই নি আমি । আর তাতে সমস্যা কি হইছে শুনি ?
— খুব বড় সমস্যা ।
— কি রকম ??
— এখন সে তোমার পিছু পিছু এই কক্সবাজার এসে গেছে তারপরও বলছো কি রকম ?
— দেখ সজীব এটা কাকতালীয় একটা ঘটনা ।
— রাখ তোমার কাকতালীয় ঘটনা , সালার চোখ দেখলেই বোঝা যাচ্ছে নিশ্চয়ই গভীর কোন মতলব আছে বেটার ।
— তুমি তাকে সালা বলো কেন ?
— তোমার দরদ হচ্ছে নাকি ?
— আশ্চর্য বিনা কারণে কেন বলবে ?
— একশ বার বলব হাজার বার বলব ।
— চুপ করো সজীব , ভাল্লাগে না এসব । আর আমরা এখানে বেড়াতে আসছি তৃতীয় ব্যাক্তি কে ঝগড়া করার জন্য না ।
— তুমি তার সাথে আর কথা বলবে না ।
— কেন ? কথা বললে কি এমন ক্ষতি হবে ?
— আমি বলছি তাই বলবে না । লাভ ক্ষতি আমি বুঝতে চাই না ।
— আর যদি কথা বলি ?
— তাহলে তখন খুব খারাপ হয়ে যাবে ।
— কি খারাপ হবে শুনি ?
— সময় হলে দেখতে পাবে তুমি ।
— তুমি খুব বাড়াবাড়ি করছো সজীব ।
— মোটেই না , বরং তুমি একটা অজানা অপরিচিত মানুষের জন্য আমার সঙ্গে এমন করছো ।
— অজানা অপরিচিত মানে কি ? তার পরিচয় তো সামান্য জানি । আর শোন সজীব তোমার মত নিচু মনমানসিকতার মানুষের সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করছে না । আমি ঘুমাতে গেলাম ।
★★★
বিছানায় সুয়ে সুয়ে অনেকক্ষন জেগে আছি । সত্যি সত্যি কি একটু বাড়াবাড়ি হয়ে গেছে নাকি ঠিক আছে ? সজীব তো খারাপ কিছু বলে নাই । সে তো আমাকে ভালবাসে আর তার জন্য সে আমাকে হারানোর ভয় করতেই পারে । এটা তো তার অপরাধ না বরং আমার জন্য অজস্র ভালবাসা । তাহলে কেন আমি তাকে ওভাবে কথা বললাম ?
সজীব এখনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে , হয়তো সে আমার ব্যবহারের জন্য কষ্ট পেয়েছে । কিন্তু সে কি জানে যে , আমিও তার জন্য চিন্তা করছি ? সে কি জানে যে , তাকে ছাড়া আমারও চোখে ঘুম নেই ।
আমি বিছানা হতে উঠে বারান্দায় সজীব এর সামনে গিয়ে দাড়ালাম । চুপচাপ দাড়িয়ে আছে সে । আমার দিকে করুন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে । আমি কোন কথা না বলে সজীব এর বুকে ঝাপিয়ে পড়ে ফুপিয়ে কান্না শুরু করে দিছি ।
— সত্যি বলছি সজীব এই বুক টা ছাড়া আমার আর কোন কিছু চাই না । (আমি)
— ( সজীব চুপচাপ )
— বিছানায় যাবে না ?
— না । (সজীব)
— আমার একা ভালো লাগে না , আর বললাম তো এমন হবে না কখনো । প্লিজ চলো ।
— কালকেই আমরা চলে যাব বৃষ্টি ।
— কেন কেন ?
— হুম ।
— কিন্তু কি সমস্যা বলো ?
— তুমি ঐ ছেলের,,,,,,,,,
,
,
ওর কথা শেষ হবার আগেই আমি আমার দুটি ঠোঁট ওর মুখের কাছে নিয়ে ঠোটের সাথে মিলিয়ে দিলাম। আর বিশাল একটা Lippe kiss হয়ে গেল । স্বামী স্ত্রী দুজনের চরম সুখটা উপভোগ করার শরীর প্রস্তুত করার জন্য যেটা যথেষ্ট ।
আমার সমস্ত শরীর শিহরিত হয়ে গেছে , প্রতিটি অঙ্গ প্রতঙ্গ বলছে সজীব কে কাছে চাই । পরম তৃপ্তি পাওয়ার বাসনায় মানববন্ধন করছে দেহের দাবি । সজীব এর অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করছি কিন্তু কারোরই কোন হিতাহিত জ্ঞান নেই । দুজনেই মনে হয় হারিয়ে গেছি কোন এক স্বর্গ সুখের রাজ্যে ।
আমার একটা বান্ধবী একদিন বলেছিল , স্বামী স্ত্রী রাতে ঝগড়া করার পরে । সেই রাতেই যদি তারা দুজনেই অভিমান ভুলে গিয়ে জীবনের চরম সুখটা উপভোগ করে । তবে সেটা নাকি অনেক আনন্দ আর তৃপ্তি ভরিয়ে দেয় । আজ সেটা নিজে নিজে বুঝতে পারছি ।
বললাম , ” সজীব তুমি আমাকে কোলে করে বিছানায় নিয়ে যাবে ? আমি না কোন শক্তি খুঁজে পাচ্ছি না । ” সে বললো, ” চলো তাহলে, হারিয়ে যাই ঐ নীল আকাশের উপরে ”
সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে সজীব কে দেখতে পাচ্ছি না । তবে একটা কথা বুঝতে পারছি আমি যে, সজীব আর আমার মাঝে একটা দেয়াল তৈরির সম্ভবনা আছে । যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সেটাতে বাধা দিতে হবে নাহলে আমার যে অভিমান আর রাগ সেটাই বড় ভয়ংকর ।
.
#চলবে…

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *