বেয়াইনের প্রেম Part-3

বেয়াইনের প্রেম

পর্ব_০3

লেখাঃ আবির

 

তিশা নিজে গিয়ে ৪ টা ফুসকার অর্ডার দিলো,, পরিচিত দোকান বলে কথা।

এরপর সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো আমাকে,, সবার কথা আর চাহনিতে একপ্রকার যুদ্ধের সংকেত পাচ্ছি। না জানি আজ কি আছে কপালে। ২০ মিনিট পর ফুসকা এলো। মামা জিজ্ঞেস করলো তিশাকে

এইটা এইটা,,

ওনাকে দেন

আমি হাত বাড়িয়ে নিলাম
সবাই খাওয়া শুরু করলো আমিও একটা ফুসকা নিয়ে মুখে দিতেই চুপ করে আছি,,,

তিশা বললো

বেয়াই সাব,, মামার ফুসকাটা জোশশ,, একবার খেলে সারাজীবন মনে থাকবে,,

আমি কোনরকম একটা ঠোটফাটা হাসি দিয়ে সহমত প্রকাশ করলাম,, কিন্তু আমার মুখ খুললো না

কিছু সময় যেতেই আমার চোখ মুখ লাল টকটকে হয়ে গেল,, ঘামে সারাশরীর ভিজে যাচ্ছে,,

তিশা আর ওর বান্ধবীরা মুচকি হাসি দিয়ে তাদের জয়ের খুশি প্রকাশ করছে।

আসলে তিশা অর্ডার দেওয়ার সময় বলে দিছিলো আমার টাতে শুধু বিষ মরিচ দিয়ে বানাতে, ফুসকার ভেতরে মরিচ দিয়ে ওপরটা ঢেকে দিছে, আর তাতে প্রথম কামড় টা ভালো করেই সেই মরিচের ওপরই পড়েছে। আমি এমনিতে ঝাল খেতে পারিনা, আর এমন ঝাল মরিচে কামড় দেয়ায় কি অবস্থা হতে পারে তা তোমরাও হয়তো বুঝতে পারছো।

আমি কি করব কিছু বুঝতে পারছি না,,, চোখ থেকে পানি পড়ছে,,,

কি গো বেয়াই খাচ্ছো না কেন?? আমার হাতে না খেলে বুঝি ভালো লাগছে না?? খাইয়ে দিতে হবে??

আমি তিশার দিকে তাকিয়ে জোরে চিল্লিয়ে পানির জন্য ছুটে গেলাম মামার কাছে। ওরা সবাই মিলে খুব হাসাহাসি করছে সাথে আশেপাশের সবাই। কিন্তু পানি খেয়ে ও আমার ঝাল কমলো না,,

শুষাতে শুষাতে চলে এলাম গাড়ীর কাছে,, বড় পুকুরের পাড়ে দাঁড়িয়ে জিভ বের করে লালা ফেলছি যাতে ঝালটা কমে। দই খেতে পারলে খুব কাজ হতো কিন্তু এখানে দই পাবো কই?? বাধ্য হয়ে ই নিজের ভুলের মাশুল দিতে হচ্ছে।

ওরা সবাই চলে এলো আমার কাছে।

আহারে বেয়াইর বুঝি খুব ঝাল লেগেছে?? বেচারা
পানি খাবা ভাইয়া??

আমি কিছু না বলেই চুপ করে আছি,,

হটাত ৪ জন মিলে আমাকে ধাক্কা দিয়ে পুকুরে ফেলে দিলো

বেয়াই পুকুর থেকে একটু ডুব দিয়ে আসো সব ঝাল চলে যাবে বলেই হাসাহাসি শুরু করলো। ওরা সাকসেস ওদের যুদ্ধে,,,

আমার অবস্থা তখন নাজেহাল,,, কাদা পানিতে ভিজে আবার ঝালে আধমরা হয়ে গেছি।

ওরা সবাই খুব মজা নিলো,, আমি কোন রকমে উঠে এলাম উপরে। লজ্জায় ওদের দিকে তাকাতেই পারলাম না। মাথা নিচু করেই বললাম,,

ইট মারলে পাটকেল খেতেই হবে।

তারপর চলে এলাম বাসায়,, গাড়ি থেকে নামতেই বাড়ির সবাই হা করে তাকিয়ে আছে আমার দিকে,, ভাবী আর ভাইয়া এসে বললো

জানতাম এমন কিছু একটা হবেই,, এত যত্ন করে নিয়ে গেলো আমার বোনটা আর কি হাল করে নিয়ে এলো হাহাহাহাহা

এর পরিনাম কতটা খারাপ হতে পারে তা তোমরাও বুঝবে বলে দিলাম।। আমার মত একটা নিরীহ মাসুম পোলারে এমন নাকানিচুবানি খাওয়ালো,,, প্রতিশোধ আমিও নিব।

কোনরকমে ওয়াশরুমে গিয়ে আগে ফ্রেশ হয়ে নিলাম,, তারপর আয়নার সামনে দাড়িয়ে দেখি মুখ লাল হয়ে গেছে,, ভাবী ফ্রিজ থেকে দই এনে দিলো,, খেয়ে অনেকটা শান্তি পেলাম।

তিশাকে আমি ছাড়বো না,, ওর কি হাল করব তা ও জানে না। এখন কিছু বলব না,,,

হটাত আমার রুমের দরজার সামনে তিশা হাজির

ভেতরে আসতে পারি বেয়াই

হাতে ইশারা করে আসতে বললাম

তা এখন কেমন বোধ হচ্ছে বেয়াই

প্রেম প্রেম বোধ হচ্ছে বেয়াইন

মানে কি

কিছু না ঝালের প্রেমে পড়েছি

আরও খাবা

না এবার খাওয়াবো,,,

এক লাফে উঠে দরজা আটকে দিয়ে তিশার চুলের ভেতর হাত দিয়ে জড়িয়ে নিলাম তারপর ওর গোলাপের পাপড়ির মত ঠোঁট গুলো আমার ঠোঁটের দখলে নিয়ে চোখ বন্ধ করে লিপকিস করতে শুরু করলাম,,, তিশা আমাকে ছাড়ানোর ব্যর্থ চেষ্টা করছে,, কিছু সময় পর তিশার সেই জোরটুকুও আর থাকলো না। নিস্তেজ হয়ে গেছে,,, বেশ কিছু সময় পর তিশাকে ছাড়লাম আমার বাহুডোর থেকে। ও বিছানায় বসে আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে,,, ও মনে হয় কল্পনাও করতে পারে নি আমি এমন কিছু একটা করব।

কি বেয়াইন এখন কেমন বোধ হচ্ছে

এটা তুমি কি করলে??

কেন ঝাল খাওয়ালে তো তাই মিষ্টি টা পাওনা ছিল সেটাই আদায় করে নিলাম আর কি??

কুত্তা হারামি শয়তান লুচ্চা ছেলে আমি তোমাকে ছাড়ব না বলে দিলাম

আমি আবার ওকে জড়িয়ে ধরে বললাম

ছাড়তে কে বললো?? ধরে রাখো

ছাড়ো আমাকে,,, এর শোধও আমি তুলব

আমিও তো রেডি আছি বেয়াইন হাহাহা

ঠোঁট মুছতে মুছতে তিশা হনহনিয়ে বের হয়ে গেলো

আমি বিছানায় শুয়ে একটু রিলাক্স ফিল করছি এখন,
প্রতিশোধের আগুন কিছু টা জ্বালাতে পেরেছি। এখন সারারাত আমাকে নিয়েই ভাববে মেয়েটা।

ভাবী একটু পর রুমে এসে জিজ্ঞেস করলো

আবির কি অবস্থা এখন?? ঠিক আছো তো

হুমম ভাবী একটু আগে একটা বড় মিষ্টি খেলাম এখন আর ঝাল লাগছে না

কি মিষ্টি খেলে

খেয়েছি খেয়েছি, দুনিয়ার সবচেয়ে ভালো মিষ্টি

কি জানি বাপু তোমার কথার আগামাথা খুজে পাইনা

হাহাহা,, তোমার বোনটা কই?? সাবধানে থাকতে বলো

তুমি সাবধানে থাইকো ওর থেকে নাহলে আবার কি করবে কে জানে?? কিন্তু তুমি কিছু মনে করোনা ও তো এখনো ছোট

ধুররর কি যে বলো ভাবী,,, বেয়াইন তো বেয়াইর সাথে একটু দুষ্টামি করবেই এটাতে মনে করার কি আছে

হুমমম তা তো ঠিক,,,

গিয়ে দেখো তোমার বোন কি করে

আচ্ছা থাকো তুমি

ভাবী চলে গেলো তিশার রুমে

আমার পিচ্চি বোনটা কি করে রে

কথা বলবা না আমার সাথে

কেন কেন কি হলো

তোমার দেবর একটা পচা,,,ওর সাথে কথা বলব না আমি

কি করলো সে?? তুই তো ওর নাজেহাল অবস্থা করলি

আর ওকি করেছে জানো

কি করেছে

না থাক কিছু না,,, ওকে আমি ছাড়বো না

কি হইছে বল আমাকে

বললাম তো কিছু না

ভাবী রুম থেকে বের হতেই আমি তিশার রুমের দরজায়…

কি বেয়াইন খুব রাগ হচ্ছে নাকি

চুপপপপপ কোন কথা বলবা না আমার সাথে

আহাগো,,, রাগে শরীর জ্বলছে,,, দাত কটমট করছে,, আমাকে খুব মারতে ইচ্ছে করছে,,, এমনটা যদি হয় তবে তুমি আমার প্রেমে পড়ে যাবে কিন্তু

What the hell r u talking about??

হুমম সত্যি,,, খুব বেশি রাগ প্রেমের পুর্ব লক্ষণ

কচুর লক্ষণ,,, তিশা কারো প্রেমে পড়বে না,,,

সেটা তো কদিন পরেই বুঝা যাবে..

 

… #চলবে

 

বেয়াইনের প্রেম পার্ট-৪

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *