বেয়াইনের প্রেম -Part-9

বেয়াইনের প্রেম

পর্ব_০9

লেখাঃ আবির

গাড়ী থেকে নেমে তিশা হনহনিয়ে চলে যেতে লাগলো…

এই যে ম্যাডাম আপনার ব্যাগ গুলো কে নিবে শুনি

কেন তুমি নিবা

আমি কেন নিব তোমার ব্যাগ??

আজিব তো বিয়ের পর তো নিতেই হবে তাই এখন থেকে প্রাকটিস করো

তখনের সময় তখন দেখা যাবে এখন নিজের টা নিজে নাও। এত ভারী ব্যাগ আমি নিতে পারব না

আচ্ছা দেখা যাক কে নেয় ব্যাগ
আআআআআআননননননননননটটটটি

ব্যাগ তো দুটোই তাইনা,,, এত হালকা ব্যাগ তো আমি এক হাতেই নিতে পারি

হাহাহাহা এখন তো পারবাই। নিয়ে এসো হবু বর মশাই

দেখে নিবো পরে।

তিশার ভারী ব্যাগ দুটো সিড়ি দিয়ে বয়ে নিয়ে যাচ্ছি কষ্ট হচ্ছে কিছু বলতেও পারছি না। দরজার কাছে আসতেই তিশা বললো ওর কাছে দিতে। আমি একটু আরাম পাবো বলে সরল মনে দিয়ে দিলাম। ও ব্যাগ দুটো টানতে টানতে ভেতরে নিয়ে গেলো একটু হাপানোর ভাব করে। মনে হচ্ছে সবটুকু ও ই নিয়ে এসেছে,, আম্মু এটা দেখেই রেগে আগুন হয়ে গেলো

এ কি মামনি তুমি কষ্ট করে কেন নিয়ে এলে আবির কই ওকে বলতে ও নিয়ে আসতো

আর বলে কি হবে আম্মু তোমার ছেলে তো সারাদিন মোবাইল টিপতে ব্যস্ত,, কত করে বললাম একটা অন্তত নিতে আর সে আমাকে বলে যারটা সে নিবে।। এতটুকু মেয়ে আমি কি করে এটা এনেছি সেটা আমি জানি।

এবার আম্মুর রাগ দেখে কে

কোথায় সে বান্দরটা ডাকো তো ওকে

ওই যে আসছে

আমি আমার মত করে মোবাইল হাতে নিয়ে দরজা দিয়ে ঢুকতেই আম্মু এসে কান টেনে দিলো কয়েকটা ঠাসসস করে।

আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম

আম্মু মারলে কেন কি করছি আমি

তুই তিশাকে দিয়ে কেন এত ভারী জিনিস টেনে আনালি ও কি এখানে কাজ করতে আসছে?? তুই কোন আক্কেলে ওকে দিয়ে এসব করালি দেখতো ওর ফর্সা মুখটা কেমন লাল হয়ে গেছে

আমি শুধু তিশার দিকে তাকিয়ে আছি,, ও মজা করেছে কিন্তু আমার খারাপ লাগলো এটা। আম্মু আর তিশাকে সরি বলে চলে গেলাম রুমে। দরজা আটকে দিয়ে শুয়ে পড়লাম। ফ্রেশ হলাম কিছু সময় পর। মনটা খারাপ লাগছে তাই আর বাইরে যাইনি। ভাবী এসে দরজায় ঠকঠক করলো। আমি দরজা না খুলে বললাম পরে আসব এখন ঘুমাচ্ছি। ভাবী আর কিছু না বলে চলে গেলো।

তিশা ফ্রেশ হয়ে এসে আমার রুমে আসতে চাইলো দরজা বন্ধ দেখে বারবার ধাক্কা দিচ্ছে। আমি চুপ করে আছি। একটু পর আম্মুকে ডেকে আনলো তিশা। আম্মু বুঝেছে আমার মন খারাপ তাই বললো ও পরে এমনি আসবে।

রাতে খাবার খেতে ডাকলে আমি না গিয়ে রুমে শুয়ে আছি। তিশা এসে বললো

আবির প্লিজ দরজাটা খুলো,, আমি একটু বেশি মজা করে ফেলছি ভুল হয়ে গেছে সরি। তুমি আমাকে শাস্তি দাও তবুও দরজা খুলে বাইরে আসো

আমার ক্ষুধা নাই খাবো না

আবির প্লিজ আমার ওপর রাগ করে নিজেকে কষ্ট দিওনা

অনেকবার ডাকাডাকি করলো আমি সাড়া দেইনি

একটুপর আম্মু এসে ধমক দেয়াতে দরজা খুলতে বাধ্য হলাম। বকাঝকা দিয়ে খাওয়ালো আমি খাবার শেষ করে রুমে এসে শুয়ে পড়লাম। তিশা বারবার ফোন দিচ্ছে আমি ফোন বন্ধ করে শুয়ে পড়লাম।

পরদিন সকালে উঠে নাস্তার টেবিলে বসলাম তিশা এসে আমার পাশে বসলো।

আবির I’m sry

সরি বলতে হবে না

ভুল হয়ে গেছে প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দাও

কালই করে দিছি

তাহলে আমার সাথে…..

এর মধ্যে সবাই চলে আসলো আর কথা হলোনা। নাস্তা শেষ করে রুমে গেলাম তিশাও পিছে পিছে এলো। তারপর দরজা আটকে দিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করলো। ওর চোখের পানি সহ্য করতে পারলাম না। একটু আদর দিলাম ওর কপালে।

তিশা আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো বিছানায়,,, লিপকিস করতে করতে কামড় বসিয়ে দিলো একটা
ওকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে আছি আমি। কিছু সময় পর

হইছে এখন যাও পড়তে বসো।

হুমম যাচ্ছি আর দুপুরে একটা সারপ্রাইজ আছে তোমার জন্য।

কি সারপ্রাইজ দিতে পারে সেটা নিয়ে ভাবলাম কিছু সময়। থাক যখন দিবে তখন দেখা যাবে।

ঘন্টা খানেক পর তিশার দরজার কাছে দাড়িয়ে দেখি ও পড়ছে। আমি চুপি চুপি ওর পিছনে দাড়িয়ে আছি। তারপর হটাত করে ওর গালে কিস করাতে ও লাফিয়ে আচমকা ভয় পেয়ে। আমি হাসছি ওর কান্ড দেখে।
শান্তি মত কি একটু পড়তেও দিবা না

আমি কি করছি হুমম। নিজে পড়ছো না আবার আমার দোষ তাইনা

পড়ছিলাম ই তো তুমিই তো এসে বিরক্ত করছো যাও তো যাও সারাক্ষণ বউয়ের কাছে থাকতে নেই।

আচ্ছা যাচ্ছি একটা পাপ্পি দাও

পারব না ভাগো তো এখন

আচ্ছা মনে রেখো

দুপুরে খাবার খাওয়ার পর ভাবী বললে বিকেলে বাইরে যাবে সবাই রেডি হয়ে থাকতে হবে।

তারপর দুবোন মিলে পরীর মত করে সাজলো। শাড়ী পরেছে দুজন। ভাবী কালো শাড়ী আর তিশা গোলাপি শাড়ি। ম্যাচিং করে নেলপলিশ আর লিপস্টিক। আমি আর ভাইয়া বাইরে দাড়িয়ে ওয়েট করছি তারপর ওনারা দুই বোন বের হলেন রুম থেকে। আমি তো থ মেরে দেখছি তিশাকে। কি অপরুপ সুন্দরী লাগছে শাড়িতে। সামনে এসে একটু ঠোঁট বাকিয়ে মুচকি হেসে বললো

দেখোতো কেমন লাগছে আমাকে

কোন বিশেষনে ওর সৌন্দর্য পুরোপুরি প্রকাশ হবে সেই ভাষাই খুজে পাচ্ছি না।

অপার্থিব অপ্সরীর মত লাগছে তোমাকে। কিন্তু একটা কমতি আছে।

তিশা একটু ভ্রু কুচকে বললো

কি কমতি হলো

তোমার কপালে ছোট্ট একটা টিপের কমতি। ওটা দিলে তোমার সৌন্দর্য পরিপূর্ণ হবে।

তারপর তিশার ওর টিপের পাতা থেকে একটা টিপ নিয়ে বললো

দাও নিজের হাতে পরিয়ে দাও

আমি টিপটা পরিয়ে দিয়ে কানের কাছে ফিসফিস করে বললাম

আজ সত্যি তোমাকে বউ বউ লাগছে

এটাই তোমার সারপ্রাইজ। খুশি তো

হুমম অনেক খুশি

হটাত ভাইয়া বললো

এখানেই দাড়িয়ে থাক,, বাইরে আর যাওয়া লাগবে না

তুমিই তো দাড়িয়ে আছো আমি কখন থেকে ডাকছি

তারপর তিশার হাত ধরে নিয়ে গেলাম গাড়ীতে। ভাইয়া ভাবী পিছনে বসলো আর তিশা আমার পাশে। গাড়ি চালাচ্ছি আর তিশা আমার পায়ের ওপর হাত রেখে আছে। দুহাত ভরে চুড়ি পরেছে। হাতে মেহেদী পরা। আমার সমস্ত ভালো লাগাগুলো একসাথে।

তারপর গাড়ী থামালাম একটা রেস্টুরেন্টের সামনে। গাড়ী পার্ক করে সবাই ভেতরে গেলাম। তিশা আমার হাত ধরে হাটছে। খুব ভালো লাগছিলো তখন। আর ভাই ভাবীর কথা কি বলব। কত আদর আমার ভাবীর।
আমরা সবাই ভিআইপি টেবিলে বসলাম যেখানে সবাই আমাদের দেখতে পাবে না। তিশা আমার পাশে বসে চিমটি দিচ্ছে আমি চোখ পাকাচ্ছি ভাই ভাবী দেখলে কি ভাববে।

তিশাকে খাইয়ে দিচ্ছি দেখে ভাই ভাবী হাসতেছে। আমি বললাম

আমাদের দিকে তাকিয়ে লাভ নেই তোমরা খাও আমি দেখব না।

ভাবী বললো

আমার বোনটাকে যদি কখনো কষ্ট দাও তাহলে কিন্তু খুব খারাপ হবে হুমম

পেতনিটাকে কষ্ট দিতে হয় নাকি ও নিজেই পারে আমাকে কষ্ট দিতে

তিশা নাকমুখ কুচকে বললো

কি বলছো আমি তোমাকে কখন কষ্ট দেই
কাল ই তো আম্মু কে দিয়ে মার খাইয়েছো

ঠিকই করছি আমার কথা না শুনলে এমনই হবে।

আমি তিশার পায়ে স্লাইড করতে শুরু করলাম আর আলতো করে চিমটি দিচ্ছি। ওদিকে তিশার অবস্থা এখন দেখার মত। আমি ওকে এখন নাজেহাল করব ইচ্ছে মত। এটাই ওর শাস্তি……

তিশাকে দেখেই চোখ আমার চড়কগাছে উঠলো। এটা কে?? এটা তো তিশা নয়, জান্নাতের পরী বিলক্ষণ। কি অপরুপ সাজ, লাল শাড়ি দুধে আলতা কায়ায় অপার্থিব সুন্দরী লাগছে। সোনার গহনায় মোড়ানো গ্রীবা, ছোট্ট লাল টিপটা যেন আলোকিত নক্ষত্রের মাঝে জেগে ওঠা চাঁদ। নববধুর মত হাতে মেহেদীর সাজ, রক্তকমলের মত ঠোটজোড়া। আর ঠোট বাকানো হাসিটা যেন বুকে মোচড় দেয়া প্রেমের অসুখ। কাজল কালো হরীণি চোখদুটো তে বেসামাল মায়া। প্রেমে পড়ার আবার নতুন একটা অধ্যায় খুলে গেলো আমার জীবনে৷ সেদিন ও তো তিশা শাড়ী পরেছিল কিন্তু আজ কেন এতটা আলাদা?? বিষয়টা সহজ করে দেখলে আজ আমার আম্মু তিশাকে সাজিয়েছে। যে পৃথিবীর শ্রেষ্ট রুপকার কোন সন্তানের জন্য তার হাতে তো জাদু থাকবেই। তোমার চরনে হাজারো চুম্বন মাগো আজ আমাকে এত সুন্দর একটা উপহার দেয়ার জন্য।

তিশার এমন লুক দেখে আমি হা করে তাকিয়ে আছি। ভাবী যে কতগুলো চিমটি দিলো একটু ও টের পাইনি। এরপর আম্মু তিশাকে নিয়ে সোফায় বসলো। আব্বুও পাশে বসা।

আম্মু বললো আব্বু কে

দেখো তোমার ছোট বউমাকে নিজ হাতে সাজিয়েছি,,, এক্কেবারে পরীর মত লাগছে।

মাশাল্লাহ মা বেচে থাকো। [তিশার মাথায় হাত দিয়ে বললো আব্বু ]
কিরে বান্দর,, তুই চুপ কেন?? তিশাকে কেমন লাগছে সেটা বলতে কি মুখে কষ্ট হচ্ছে??

সুবহানাল্লাহ,, একদম হুরপরীর মত লাগছে।

বলেই লজ্জায় লাল হয়ে গেলাম। আব্বু আম্মুর সামনে বসে এভাবে বলাটা মনে হয় ঠিক না।

এসবের মাঝেও তিশা আমার দিকে তাকিয়ে চোখ মারলো৷ আমিতো তখন কি করব কিছু বুঝতে পারছিনা। হারামিটা আমাকে সবসময় বেকায়দায় ফেলে দেয়। একবার সবাই চলে যাক তারপর বুঝাবো মজা।

সবাই মিলে একটা সেলফি তুললাম। তারপর সবার সাথে তিশাকে বসিয়ে বেশ কিছু ছবি তুললাম। সবার শেষে আম্মু কে বললাম

আম্মু তিশার সাথে কয়েকটা ছবি তুলব

ছবি তুলবি তার জন্য পারমিশন এর কি আছে?? তোল এখানে।

এখানে না আমার লজ্জা লাগে সবার সামনে

শয়তান ছেলে যা ভাগ।

তিশাকে ঠেলে আমার কাছে দিলো চলে যাবার জন্য। আমি বোকাসোকা সেজে তিশার আগেই আমার রুমে চলে এলাম। তিশা পিছনে এলো পা টিপে টিপে হাটছে। এত সাজগোছ মানিয়ে নিতে একটু সময় লাগবে।

তিশা রুমে এলে আমি অপলকে তাকিয়ে দেখছি। কিছু সময় হারিয়ে গেলাম তিশার সৌন্দর্যে। একটু পর তিশার কথায় স্বাভাবিক হলাম।

এইযে,,, এভাবে দেখলে কিন্তু নজর লাগবে আমার।

আপন মানুষ দেখলে নজর লাগেনা,,

তবুও দরকার নেই আমার টসটসে গালগুলো শুকিয়ে যাবে।

ইশশশশ লাগছে তো পেতনির মত আবার কত ঢং

কি বললে?? আআআআআমমমমমু

ওই না না পরীর মত লাগছে সত্যি

পেতনি বললে কেন আমাকে কান ধরো

পরে ধরব এখন ছবি তুলি

না আগে ধরো

উফফ পাগলি একটা
এই যে ধরছি হলোতো

হুমমম এখন চোখ টা বন্ধ করো তো

কেন কেন

এত প্রশ্ন করো কেন বন্ধ করো

আচ্ছা করলাম

তিশা আমার গালে আলতো করে ছুঁয়ে দিলো ওর রাঙা ঠোট গুলো দিয়ে

আমি চোখ খুলে একটা মুচকি হাসি দিয়ে ওর গালে কিস করতে গেলাম আর সাথে সাথে তিশা বললো

নননননননাাাহহহহহহহহ,,,

কেন কি হলো

আম্মু কত কষ্ট করে সাজিয়েছে আর তুমি নষ্ট করবা তাইনা সেটা হবে না এখন কোন আদর চাইনা

আচ্ছা ঠিক আছে করব না আদর। ছবি তুলি

দু ডজন ছবি তুললাম তিশা আর আমি। একদম বর বউয়ের সাজ দুজনের। এরপর রুম থেকে বের হবো তখন তিশা আমাকে জড়িয়ে ধরে বললো

আবির সারাজীবন এভাবে ভালোবেসো আমাকে, আমি কখনো তোমাকে কষ্ট দিবো না। আমার মনের সবটুকু ভালোবাসা আদর দিয়ে তোমার জন্য। খুব ভালোবাসি তোমাকে।
আমি তো জানি আমার পাগলিটা শুধু আমাকেই ভালোবাসে। আমিও যে পাগলিটাকে খুব ভালোবাসি।

চলো সবাই অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য।

আমরা আসছি দেখে ভাবী একটু কেশে উঠলো মুচকি হাসি দিয়ে। আমি লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে আছি।

এরই মধ্যে আম্মু নুডুলস আরো কতকি খাবার এনে টেবিলে রাখলো।
আমি বললাম

একটু আগেই তো খেয়ে এলে দুজন আবার খাবা

চুপপ আমার বৌমার সাজতে সাজতে কষ্ট হয়ে গেছে না,, তুই বুঝবি কি

হুমমমম শুধু বৌমাকে নিয়েই নাচো

আবির মাইর দিব কিন্তু।

আম্মু নিজ হাতে খাইয়ে দিচ্ছে তিশাকে। যাতে ওর মেকাপ নষ্ট না হয়। নেলপলিশ উঠে না যায়। বাপরে আরো কতকি দেখব কে জানে।

তিশা খাচ্ছে আর আমার দিকে তাকিয়ে মুখ ভেংচি দিচ্ছে।

আজ তিশাকে বুঝাবো মজা।

একটু পর তিশার আম্মু র ফোন এলো। আম্মু কথা বলে জানালো তিশার জন্য মন খারাপ তাদের, তাই কাল আসবে দেখতে ওনারা।

মাথায় কি বুদ্ধি এলো জানিনা হটাত করে আম্মু কে বলে দিলাম

আম্মু তাহলে কাল বিয়ে পড়ায় দিবা নাকি??

আম্মু তো রেগে আগুন হয়ে গেছে একথা শুনে

তোর বিয়ে একবছর পরে করাবো এর আগে বিয়ের কথা বলবি তো ঝাড়ুর বাড়ি খাবি শয়তান ছেলে

রাগো কেন আমি তো এমনি মজা করলাম

আচ্ছা যা এখন আমার বৌমাকে নিয়ে একটু ছাদে যাব কফি খেতে

আমিও যাব

না তুই বিয়ের পর যাবি

আমার স্বপ্ন গুলো সব তুমিই নিয়ে নিচ্ছো তাহলে আর আমি গিয়ে কি করব যাও গা তোমরা

আমি রুমে এসে অনলাইনে একটা চাকরির অফার খুজছি। হটাত নজরে এলো ভালো একটা কোম্পানির নিয়োগ বেতনও ভালো কিন্তু কথা হলো রেফারেন্স ছাড়া চাকরি হবে বলে মনে হয়না। নোটস করে নিলাম অফারটা।

পরদিন সকালে তিশার আব্বু আম্মু কে আনতে চলে গেলাম। ১১ টার দিকে ওনাদের নিয়ে বাসায় এলাম। তিশা এসে জড়িয়ে ধরলো আন্টিকে। আন্টি তো কেদেই দিছে।

আম্মু একদম কাদবা না,, তুমি কাদলে আমার কষ্ট হয় বুঝোনা

কতদিন তোকে ছাড়া আমরা একা একা আছি। খুব মনে পড়ছিল।

ভাবীও এলো এতক্ষণে। দুই মেয়েকে নিয়ে খুশিতে মন ভরে গেলো ওনাদের।

আম্মু ওনাদের নিয়ে গেলো রুমে। কি খোশগল্প করছে কে জানে।

তিশা এসে আমাকে বললো

এই যে শুনছেন স্যার,,, আমার একটা কাজ করে দিতে হবে।

কি কাজ মেডাম

একটা নোটস লাগবে আমি নাম লিখে দিব তুমি এনে দাও।

আচ্ছা কখন লাগবে বলো

কখন মানে কি এখনই আমার পড়তে হবে তো

আচ্ছা লিখে দাও তাহলে আমি নিয়ে আসছি।

হুমম ওয়েট করো একটু

তিশা দৌড়ে গিয়ে নোটের নাম লিখে এনে দিলো

আমি বের হলাম নোট আনতে

দুপুরে ফিরলাম ওর নোট নিয়ে,, তিশার রুমে গিয়ে টেবিলে বসলাম নোটটা রেখে ওর ডায়েরীটা পেলাম।
ডায়েরীটা সুন্দর দেখতে তারওপর নিজে থেকে কিছু একেছে আবার কাগজ দিয়ে ফুল বানিয়ে লাগিয়েছে। কয়েক পাতা উল্টাতে নজরে এলো একটা লেখা।

“প্রথম দেখাতেই তার প্রেমে পড়ে গেছি,, যদিও একটু ঝগড়া করলো তবে হাসিটা মুগ্ধকর ছিল, কি জানি মনটা কেমন তার ”

” অসভ্য ইতর একটা ছেলে কতবড় সাহস আমার হাত ধরে চুমু খেলো ”

ওর সাথে আমার ঘটে যাওয়া সবকিছুই তিশা ডায়েরি তে লিখে রাখছে,,, শেষ লেখা টা পড়ে আমি চমকে গেলাম,,,, বিশ্বাস ই করতে পারছিনা,,, লেখাটা ছিল গতকালের……… #চলবে
বাকি পর্বগুলো পড়তে প্রোফাইল এ যেতে হবে।

 

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *