বেয়াদব । একটি শিক্ষামূলক গল্প

গল্প:- বেয়াদব.
..
.
— ভাইসাব আপনে তো একদম জিতেই গেলেন।
ছেলেকে বিয়ে করিয়ে একেবারেই ১০ লাখ টাকা আর ৫ বড়ি স্বর্ণ আনছেন।

— হা হা হা আপনি কোন দিকে কম ছিলেন মিয়া।
আপনি তো নিজের ছেলের বিয়েতে ৮ বড়ি স্বর্ণ নিছিলেন।
আর এখনো দরকার হলে টাকা চান।
.
চা স্টলে বসে চা খাচ্ছিলাম তনুর সাথে আর পাশে এই লোক গুলো বসে এইসব কথা বলছিল।

আসলে যে পরিমানে শীত পড়েছে,
ঘর থেকে বের হতে ইচ্ছা করে না।
কিন্তু তনু জোর করে এই ভোর বেলা হাঁটতে বার করছে।
ওর নাকি শখ শীতে চা স্টলে বসে চা খাওয়ার।

যতই শীত হোক,
গার্লফ্রেন্ডের কথা তো আর ফেলতে পারবো না।
কিন্তু এখানে এসে এই লোকদের কথা শুনেই মাথা গরম হয়ে গেছে।
ছেলে বিয়ে দিছে নাকি ব্যাংক ডাকাতি করছে।

রাগে ওদের কে কিছু বলতে যাবো তখনই তনু আমার হাতে হাত রাখলো।
ও কেমন করে জানি বুঝতে পারে আমি কখন রেগে যাই।

চা খাওয়া শেষ করে বিলটা দিয়ে তনুকে নিয়ে বের হলাম।
কিছুটা সামনে এসে তিন রাস্তার মোড়ে এসে দাঁড়ালাম।

— আচ্ছা তনু তুমি দৌড়াতে পারবে?
— হাঁটতে বের হয়েছি।
দৌড়াবো কেন?
— আরে শীতকালে দৌড়ালে শরীরটা ভাল থাকে।
তাছাড়া শুনেছি তুমি স্কুল লাইফে নাকি ২০০ মিটার দৌড়ে ১ম হয়েছিলে।
হবে নাকি আমার সাথে এক রাউন্ড…😕
— পাক্কা তো।
— একদম।
আমি মুখ দিয়ে সিটি মারলেই দৌড় মারবে আর পৌঁছাতে হবে তোমার বাসার গেটের সামনে।
— ওকে।
— ঠিক আছে।
তুমি এখানে দাঁড়িয়ে রেডি হও।
আমি একটু চা স্টল থেকে আসছি।
মনে হয় মানিব্যাগটা ফেলে এসেছি।

— হা হা হা ঠিক আছে।

আজব মেয়ে।
আমি যে মিথ্যা বলেছি সেটা ও বুঝেছে আর আমি কেন যাচ্ছি সেটাও বুঝতেছে তাই হাসছে।

চা স্টলে এসেই ওই লোক গুলোর সামনে গিয়ে বসলাম।

— আঙ্কেল আপনাদের ছেলেরা কি করে?
একজন বলল ওনার ছেলের কাপড়ের দোকান,
তো আরেকজন বলল,
নিজেদের ৫ তলা বাড়ি।
ভাড়া দিয়েই নাকি হেব্বি চলে।
আমি একটু হেঁসে দিলাম।

— আচ্ছা আঙ্কেল যে মেয়ে গুলোকে বিয়ে করে এনেছেন
ওই মেয়ে গুলোর মাঝে কোন কিছুর কমতি আছি।
— একদমই না।
কমতি থাকলে বিয়ে করাতামই না।

— বাহ্।
মেয়ের কমতি নেই তাই বিয়ে করালেন। কিন্তু আপনাদের ছেলেদের যে এত এত কমতি রয়েছে সেটা চোখে পড়ে নি।
— বলতে কি চাও তুমি?
— আরে আঙ্কেল রাগেন কেন?
আপনাদের মত বেহায়া,
নির্লজ্জ মানুষের মুখে রাগ একদমই মানায় না।
— ওই ছেলে এইসব কি বলছো?
— আচ্ছা আঙ্কেল আপনেরা এত এত যৌতুকের টাকা কিভাবে চেয়ে ছিলেন একটু হাতটা পেতে দেখাবেন প্লিজ।

আমার কথায় একজন আরেকজনের চেহারা দেখছে।
তখন আমি বললাম…
— আরে পাতেন না হাত।
— এইভাবে…

ওনারা আমার সামনে হাত পাতলো আর আমি পকেট থেকে এক টাকার দুইটা কয়েন দুইজনের হাতে দিয়ে দিলাম।
আমার দিকে ভয়ানক দৃষ্টিতে তাকালো।
— আরে রাগেন কেন?
যৌতুক যেভাবে নিলেন সেভাবেই নেন না। এভাবে তো ভিক্ষাও চায় তাই না।

আর ভাল কথা,
বাসায় গিয়ে আয়নার নিজের চেহারাটা দেইখেন তো।
মন থেকে ভাবলে নিজের মুখে নিজেই থুথু দিবেন।

আর কথা না শুনে দুইজনের উঠে দাঁড়ালো।
আর আমি তখনই বললাম,

” আঙ্কেল ভিক্ষা করার কোন সময় নেই, যেখানে খুশি বসে যান।
শুধু হাতটা কিন্তু এভাবেই পাইতেন ”

কথাটা শেষ করে আর পিছনে তাকাই নি। সামনে তাকিয়ে দৌঁড়।

তনুর কাছে আসতেই সিটি মারতে সেও আমার সাথে তাল মিলিয়ে দৌড়।
পিছনে ওরা আসছে কি না খেয়াল নেই। এক দৌড়ে তনুর বাসার সামনে চলে আসলাম।
আর দুইজনেই জোরে জোরে শ্বাস নিতে লাগলাম।
তখন আমি বললাম…
— তাহলে আমি আসি।
— হুমমম
আমি বাই দিয়ে চলে যাচ্ছিলাম তখন পিছন থেকে তনু ডাক দিলো…
— নীল
— হুমম
— তুমি শুধরাবে না.?

— খারাপের সাথে খারাপই হতে হয় জানু আর তাছাড়া আমি তো বেয়াদব জানোই তো।
— হুমম তোমার মত বেয়াদবকেই তো ভালবাসি।
যে সব জায়গায় সঠিক কথা বলে।

— হুম এবার বাসায় গিয়ে কিছু খেয়ে নাও বাই।
— বাই

.পরদিন
অনেক ভোরে ঘুমটা ভেঙ্গে গেল।
বিছানা ছাড়তে ইচ্ছাও করছে না তবুও দরজার সামনে কিছু আন্টি মিলে মায়ের সাথে কথা বলছে আর বাইরেও অনেক মানুষ।
কৌতুহল থাকায় ব্রাশে পেস্ট লাগিয়ে ওদের সামনে গিয়ে চুপচাপ দাঁড়ালাম।
যেটুকু বুঝলাম তা হলো পাশের বাড়ির দিপ্তি নাকি সকালে পালিয়ে গেছে…😕😕😕
সেটা বুঝলাম কিন্তু এই কথা পাঁচ কান হলো কিভাবে?
দরকারের সময় কাউকে পাওয়া যায় না কিন্তু কারো বিল্লা করতে পারলে মানুষের অভাব পরে না।

আমি রুমে ফিরে এসে দিপ্তির নতুন নাম্বারে ফোন দিলাম।
আসলে ওর পালানোর প্ল্যাট টা আমারই…😉😉😉
ছেলে ভালো সব দিক দিয়ে আর সব চেয়ে বড় হলো ওরা দুইজন দুইজনকে অনেক ভালবাসে।

কিন্তু দিপ্তির সৎ মা কিছু টাকার লোভে এলাকার টাকলা হাতির সাথে ওর বিয়ে দিতে যায়।
— হ্যালো নীল দা।
— কিরে এখন কোথায় আছিস?
— ট্রেনে আছি।
— তুই পালাইলি ভাল কথা
কিন্তু এলাকার মানুষ জানলো কেমন করে?
পুরো এলাকা জমা হয়ে রইছে।
— আসলে নীল দা আমি পালানোর সময় একটা ভুল করছি…😥😥😥
–কি?
— ভোর ৫টার দিকে যখন এলাকার মোড়ে আসি।

তখন দেখি ওই মোটা টাকলা সমির নেশা করে ওই রাস্তা দিয়ে বাসায় ফিরছে।
যখন সৌরভ(দিপ্তির বয়ফ্রেন্ড) আমাকে নিয়ে গেল তখন সামনে মোটা সমির চলে আসলো।

তারপর…….

— তারপর?
— তারপর সমির আমায় খেয়াল করে নি কিন্তু আমি আবার ফিরে এসে রাস্তা থেকে লাঠি নিয়ে ওরে ইচ্ছা মত ধুলাই করছি।

— হা হা হা এত সাহস পেলি কোথায়?প্রথমে তো পালাতেই ভয় পেয়েছিস।
— তুমি আছো না,
জানি তো সব সামলে নিবে।
— বুঝছি এখন তারাতারি তোদের গন্তব্যে নেমে বিয়েটা করে নে।
— হুমম দাদা।

তারপর আমি ফোনটা কেটে দেই।
পিছনে ফিরতেই শকড।
মা সহ আন্টিরা সবাই আমার কথা শুনে ফেলেছে।

আমিও না,
ধুর একটু নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে বিকালে ফোন দিতে পারতাম।

একটু পর দিপ্তির সৎ মা আর বাবা এসে হাজির।
আমার দিকে লাল কাপড় দেখা ষাঁড়ের মত তাকিয়ে আছে।
মনে হচ্ছে এখনই গুতো দিবে…
— আমার মেয়ে কই?
(আঙ্কেল)
— ওর জামাইয়ের সাথে।
— ওরা দুইজন এখন কই?
— এক সাথে সুখে আছে।
— ওদের পালানোর পিছনে তোর হাত তাই না।(আন্টি)
— হে হে হে কি যে বলো না…😉
ওদের পালানোতে আমার হাত থাকবে কেমন করে?
এই তো আমার হাত আমার সাথে…😑😑😑
— চুপ বেয়াদব।
আজকে তোর একদিন কি আমার একদিন। (আন্টি)
— ওই চুপ,
কখন থেকে চেঁচিয়ে চলেছো।
নিজের মেয়ে নিজের মেয়ে বলে যে লাফাচ্ছো,
তা মা হওয়ার কোন কাজটা করেছো শুনি।
জন্মও দাও নি আর মানুষও করো নি। আর আপনের জামাই তো আপনার আচলের চাকর।
শালা বুইড়া খাডুস…😈
বাপ হওয়ার কোন যোগ্যতাই তো নেই।
জন্ম দিলে শুধু বাবা মা হওয়া যায় না ওকে।

— তোকে দেখে নিবো। (আঙ্কেল)
— নেন ভাল করে দেখে নেন,
পরে দেখার কি আছে?
— তোকে পুলিশে দিবো।
— মামুর ভয় এই মামুরে দেখাইও না।

দিপ্তি ১৮ বছরের উপর হয়ে গেছে।
এর আইডি কার্ড আমার কাছে আছে আর ও নিজের ইচ্ছায় পালাইছে ও নিজে সাক্ষী দিবে এটাও বলবে।

তাছাড়া চাইলে বলবে,
তোমরা ওরে বাড়িতে রেখে জোর করে বিয়ে দিতে চাইছো।
এর পরিনাম কি হবে জানো তো?

— দিপ্তির বাবা চলে আসো।
এই বেয়াদবের সাথে কথা না বলাই ভাল হয়।

বাহিনী চলে গেল আর আমার ঘরটা ঠান্ডা হলো।
এখন মা আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
— নীল তুই কি কাজটা ঠিক করলি?
–মা সৌরভ অনেক ভাল ছেলে।
দিপ্তিকে সুখে রাখবে।
সবাই ভুল বুঝলেও তুমি আর বাবা ভুল বুঝো না।
তাহলে আমি কার কাছে যাবো।
— জানি না রে বাবা।
যাই করিস, কারো খারাপ করিস না।

— মোটেও না।
আমার মত বাচ্চা কি কারো খারাপ করতে পারে…😊😊

— হইছে এবার ফ্রেশ হয়ে আয়,
আমি খেতে দিচ্ছি।
— ওকে
.
এভাবে কয়েকটা দিন কেটে গেল।
আর এর মাঝে একটা প্রাইভেট ফার্মে জবও হয়ে গেল।
এখন শুক্রবার ছাড়া তনুকে বা কাউকেই সময় দিতে পারছি না।

একদিন শুক্রবারে শুয়ে শুয়ে তনুর সাথে ফোনে কথা বলছিলাম তখন বসার ঘরে এক আন্টির সাথে মা আর বাবা কথা বলছিল।
ওদের কথার টপিক ছিল আমার বিয়ে।
যতই গার্লফ্রেন্ড থাকুক,
ছেলেরা বাসায় নিজের বিয়ের কথা শুনলে একটু লজ্জাই পায়।
আমিও ফোনটা কেটে দিয়ে একটু ওদের কথায় মনোযোগ দিলাম।
বাবা আন্টিকে বলছে….
— আপনাদের পরিচিতি কোন ভাল মেয়ে থাকলে বলেন না।
নীলের বিয়েটা দিয়ে দেই…😐😐😐
— আরে মেয়ের তো অভাব নেই কিন্তু আপনাদের নীলের যেই বদঅভ্যাস ।
যেখানে সেখানে মানুষকে অপমান করে বসে।
তাছাড়া করে তো প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরী।
ওকে তো কোন মেয়েই পছন্দ করবে না।

কথাটা শুনে মটকা গরম হয়ে গেছে।
আচ্ছা প্রাইভেট কোম্পানিতে জব করা ছেলেদের কি দুই চোখ।
আর সরকারী চাকরীজীবিদের কি আট চোখ হয় নাকি।
ওয়েট একটু মজা করে নেই….
.
মুখে অনেকটা হাসি নিয়ে বসার রুমে গেলাম।
আমাকে দেখে আন্টি মুখটা ভেংচি দিলো।
— মা আমাকে এক কাপ চা দিও তো।
— (সবাই চুপ হয়ে আছে)
— বাবা একটা নতুন খবর আছে?
— কিরে?
— আমার সরকারী চাকরী হয়ে গেছে। গত শুক্রবারে যে পরীক্ষাটা দিছি, ওইখানে টিকে গেছি।
— কি বলিস বাবা?
— হুমম

আন্টির চোখ গুলো তো কপালে উঠে আসার মত।
আমি কোন কথা না বলে চুপচাপ মজা নিচ্ছি।
হঠাৎ আন্টি বলে উঠলো…
— সত্যি বাবা তোমার সরকারী চাকরী হইছে।
— হুমম আন্টি।
ভাল কোন মেয়ে থাকলে বলবেন কিন্তু।
সামনের মাসেই বিয়েটা করে নিবো।
— আরে মেয়ে খুঁজার কি আছে।
আমার বোনের মেয়ে আছে না।
এবার এইটে পড়ে।
তোমার সাথে মানাবে ভালো।
— কিন্তু মেয়ে তো অনেক ছোট।
প্রায় ১২ থেকে ১৫ বছরের।
— আরে বয়সে কি আছে?
আস্তে আস্তে বড় হয়ে যাবে।
তুমি বসো,
আমি আমার বোনের মেয়ের ছবিটা নিয়ে আসি।
— ওকে তারাতারি যান।

আন্টি টা চলে গেল আর বাবা আমার দিকে তাকিয়ে হেসে দিলো।

— বাবা তুমি হাসছো কেন?
— তুই বদলাবি না,
তাই না।
তুই সরকারী চাকরী পাস নি।
কিন্তু এই মহিলাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য এমন করছিস।
— আপনেরই তো রক্ত আমি…😊😊😊
মহিলারে শুধু আসতে দেন।
দেখেন কি ট্যাবলেট দেই।

মা আমাকে চা এনে দিলো।
আমার চা মনে হয় অর্ধেকও হয় নি কিন্তু ওই আন্টি এসে হাজির।
মনে হয় দৌড়ে গিয়েছে আর দৌড়েই আসছে।
— নাও বাবা ছবি টা।
— আন্টি মেয়ে দেখতে ফিটফাট কিন্তু আমি চাকরীটা করবো না।
— কেন?
— আসলে এটা একটা দাড়ুয়ানের চাকরী।
— আরে এটা কোন ব্যাপার হলো। সরকারী চাকরী বলে কথা।

— সত্যি বলতে আমার সরকারী চাকরীই হয় নি।
— কী??
— হুমম যা শুনলেন ঠিক তাই।
আপনি যখন প্রাইভেট চাকরীকে নিচু করে দেখালেন তাই একটু মজা করলাম।আপনি সরকারী চাকরী শুনে ক্লাস এইটে পড়া মেয়ের সাথে আমার বিয়ের কথা বলে ফেললেন।
আরে এতে তো বাল্যবিবাহের কেস আপনিও খাবেন আর আমিও খাবো..😩

আর তাছাড়া সরকারী চাকরীর দাড়ুয়ানও ভালো,
একজন প্রাইভেট ইঞ্জিনিয়ার থেকে তাই না।
আমার বেয়াদব এলাকার সবাই জানে কিন্তু আপনাদের চিন্তা ভাবনা এত নিচ জানা ছিল না।

আপনেরা মানুষের মূল্য সরকারী চাকরীতে করেন।
মাফ করবেন কথা গুলো বলার জন্য।
তাছাড়া আপনার ছেলেও সরকারী চাকরী করে না
কিন্তু আপনার ছেলের জন্য মেয়ে তো চিকনী চামিলীই খুঁজবেন।
কথা গুলোর জন্য সরি।

আমার মা ভাল চা বানায়,
খেয়ে যাবেন প্লিজ।

আমার কথা গুলোর পর আন্টি আর বসেন নি।
ওনি চলে গেল নিরাশ হয়ে
আর বাবা আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
বাবা আমাকে কিছু বলতে যাবে তখনই আমি ওনাকে থামিয়ে দিয়ে বললাম…

বাবা তুমি এখন এটাই বলবে তো,
“সত্যি কোন কুলক্ষণে আমার ঘরে আসলি বাপ ”

বাবা চোখ বড় করার আগেই আমি রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলাম।
.
এভাবে দিন কাল ভালই চলছিল।
একদিন ডিনারের সময় টেবিলে বসে আছি আর তখনই বাবা বলল…

— নীল তোমার কি কোন পছন্দের মেয়ে আছে?
— কেন বাবা মেয়ে দিয়ে কি করবে?
নতুন করে আবার বিয়ে করবে নাকি….😄
(আমার কথায় বাবা মা দুই জনেই বিষম খেলো)

— আচ্ছা তুই কোন জঙ্গলের প্রানীরে, কথার কি ধরন?
— কেন বাবা এ জঙ্গলের…😮😮😮
— নীল বেশি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু।
— আচ্ছা সরি বাবা।

— আমি আর তোমার মা ঠিক করেছি, আগামী মাসের মাঝে তোমার বিয়ে দিয়ে দিবো।
যদি পছন্দের কোন মেয়ে থাকে তাহলে বলতে পারো।
— আছে তো,
ওই যে সামনের এলাকার বিভূতি আঙ্কেলের মেয়ে আছে না তনু।
ওর সাথে তো আমার চলছে।
রোড নাম্বার তিন আর বাড়ি নাম্বার ১২৪।
–(হা করে তাকিয়ে আছে দুজনেই)
— এভাবে তাকানোর কি আছে?
তুমি তো বললে থাকলে বলতে।
আছে তাই বলে দিলাম।
— তোর কথা শুনে অবাক হই নি।
তোর মত পাগলের সাথে কেউ প্রেম করে সেটা শুনে অবাক হইছি।

— বাবা ভাল হচ্ছে না কিন্তু।
— ভাল হওয়ার আর কি বাকি রাখছো হে…😦😦😦

আর কোন কথা বাড়ালাম না।
খাওয়া শেষ করে রুমে চলে গেলাম আর তখনই দেখি তনুর ৫টা মিসকল।
তাই ফোন ব্যাক করলাম।
— হুমম তনু বলো।
— এতক্ষণে সময় হইছে।
— হুমম হইলো তো।
জানো আজকে বাবাকে আমাদের বিয়ের কথা বলছি।
বাবা মানা করে দিছে।
— কি বলছো তুমি নীল?
— হুম।
কি করবো বুঝতাছি না?
— দেখো নীল আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারবো না।

— ও অক্সিজেন ছাড়া বাঁচতে পারবে তাহলে।
এই তুমি মানুষ না এলিয়েন..😕
— নীল তুমি কি সিরিয়াস হবে না?
— তোমার বাপ আর আমার শ্বশুড়ের টাকের কসম আমি একদম সিরিয়াস।

চলো কালকে রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করে নেই।

— বাবা মানবে তো ।
— বাসা না মানলে আর কি করবো?
— নীল কিছু একটা করো।
— আগে বিয়ে করি,
পরে ভাববো।
কাল ১১টায় রেডি থেকো।
— ঠিক আছে।

ফোনটা কেটে দিলাম।
বিয়ে তো আমি তনুকেই করবো।
তার আগে একটু ভয় দেখিয়ে নেই নয়ত ভবিষ্যৎ এ নাতি নাতনিদের কি গল্প বলবো…😋😋😋
লাইফের গল্পের মত কিছু না থাকলে কি চলবো?
.
সকালে দুইজন বন্ধুকে নিয়ে গিয়ে শুভ কাজটা করেই ফেললাম।
তনু এদিকে কেঁদে চলেছে।

— আরে তুমি কান্না করছো কেন?
— বিয়ে করেছি তো,
একটু কান্না তো করতে হবে নয়ত জাতি মানবে না…😱😱😱

— একেই বলে ” যেমন কুকুর তেমনি মুগুর”

আরে না না,
তাহলে তো আমি কুকুর..😫

যাক গে,
সবাইকে বিদায় দিয়ে একটা রিকশা নিয়ে তনুর বাসায় আগে যাচ্ছি।
তনুদের এলাকায় গেলে আমাদের এলাকায় দিয়ে যেতে হয়।
আর তনুও শাড়ী পড়ছে।
আমাকে তনুর সাথে দেখে তো সবাই হতবাক,
আর দিপ্তির মা আন্টি তো মারহাবা খুশি। তনু একবার বলছিল,
“আমি আমাদের বাসায় না গিয়ে তনুদের বাসায় কেন যাচ্ছি “।

আমি কোন উত্তর দেই নি।
.
রিকশা থেকে নেমে বিলটা মিটিয়ে দিয়ে তনুদের বাসায় প্রবেশ করলাম।
আমার মা আর বাবা দেখি বসেই আছে।
আর আমার পাশে এসে তনুও দাঁড়ালো । সবাই তো আমাদের দেখে হতবাক।
আমি আর তনু সবাইকে সালাম করলাম।
— নীল এইসবের মানে কি?
— বিয়ে করে নিলাম।
— মানে?
— এই যে রেজিস্ট্রি ফর্ম।

–তোমরা এ কাজটা করলে কি ভাবে? সমাজে আমাদের একটা মান সম্মান আছে? (তনুর বাবা)
— ও শ্বশুর মশাই,
সরি আঙ্কেল আমাকে একটা প্রশ্নের উত্তর দেন তো..

“এই ঘুমন্ত সমাজ আপনাকে রাস্তায় দুইটা সালাম বাদে আর কি দিয়েছে?
— (ওনি চুপ)
আমি তনুর বাবার পায়ের সামনে হাঁটু ভেঙে বসলাম।
বললাম…
–আঙ্কেল আমি জানি আপনি রেগে আছেন
তাই সরি কিন্তু আমি তনুকে অনেক বেশি ভালবাসি। এই সমাজ তো আমায় বেয়াদব ডাকে
কিন্তু একমাত্র তনু আমার ভাল কিছু দেখেছে।
আর এটা তো আইনগত বিয়ে।
আপনেরা আশির্বাদ না করলে আমাদের বিয়ে কখনো পূর্নতা পাবে না।

— দেখো নীল তোমাদের বিয়ে আমি আর তোমার বাবা মেনেই নিয়ে ছিলাম।
কিন্তু একাজটা ঠিক করো নি।
— আরে আঙ্কেল,
আমি তো জানতাম এমন হবে তাই তো বিয়েটা করে নিলাম
আর ভেবে দেখুন তো আপনের কতটা বাঁচিয়ে দিলাম।
— তুই জানতি কেমন করে?(বাবা)
— হে হে হে তোমার ঘরে আড়ি পেতে শুনে ছিলাম।
শত হলেও আমার বিয়ের কথা তো।
— ফাজিল।
— বাবা তোমারই তো রক্ত।
— চুপ বেয়াদব।

বাবার মুখে বেয়াদব তো ছোট বেলা থেকেই শুনে আসছি।
আর হা আমি বেয়াদব।

উচিত কাজে মুখ খোলা যদি বেয়াদবি হয় তাহলে হা আমি বেয়াদব।
প্রতিটা ঘরে এমন বেয়াদব যেদিন হবে,
সে দিন এই ঘুমন্ত সমাজটার ঘুম ভেঙ্গে যাবে।
আমি তো বেয়াদব,
আপনি কী…?

বি:দ্র: বেয়াদব হোন সমাজ পরিস্কার করুন।
ভাল ছেলেদের দাম সমাজ আর জি এফ কেউ দিতে পারে না।
.
… সমাপ্ত….

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *