বোবা পরী । ভালবাসার গল্প

“”””বোবা পরী”””””
ঘুম থেকে উঠেই আমার চোখ কপালে।
আমার পড়ার টেবিলে একটা মেয়ে বসে আছে।
তাই আস্তে করে উঠে মাকে ডেকে বললাম;
আমি:মেয়েটা কে?
মা:ওইটা তোর রুপা আন্টির মেয়ে।
আমি:আমার রুমে কি করছে?

মা:মনে হয় তোর সাথে দেখা করতে গেছে।
আমি আর কিছু না বলে আমার রুমে চলে এলাম।মেয়েটা
এখনো আমার টেবিলে বসে আছে।আমি বললাম;
আমি:এইযে শুনছেন?

মেয়ে:(নো উওর)
আমি:কি হলো কথা বলছেন না কেন?
মেয়ে:(নো উওর)
এবার আর থাকতে পারলাম না।
প্রচন্ড রাগ উঠে গেল।সামনে গিয়ে ঝারি দিয়ে বলালাম;
আমি:এই স্টুপিড আপনাকে কখন থেকে ডাকছি।কথা কি কান দিয়ে
যায় না।নাকি বোবা।আর যদি বোবাই হবেন তাহলে আমার রুমে কি।
যান বেড়িয়ে যান।

[ads2]
আমি কথা বলা অবস্থায় মেয়েটা একটু শব্দও করে নি।
মেয়েটা হঠাৎ কাঁদতে কাঁদতে রুম থেকে চলে গেল।
একটুপর আম্মু এসে বলল;
আম্মু:তুই রিহাকে কি বলেছিস?
আমি:আমি তো কিছু বলিনি।শুধু জানতে চাইছি কে?কথা না বলায়
কয়েকটা ঝারি দিছি মাএ।
আম্মু:বাবা তুই কাজটা একদম ঠিক করিস নি।মেয়েটা বোবা।
তাই কথা বলে নি।
বলেই আম্মু চলে গেল।
আমি এটা কি করলাম।একটা মেয়েকে এইভাবে কথা আমি কি করে
বলতে পারলাম।এগুলো ভাবতে আমারই কান্না পাচ্ছ।যে ভাবেই
হোক সরি বলতে হবে।
তারপর মেয়েটাকে সেদিন আর দেখিনি।বিকালে মা কে বললাম:
আমি:আম্মু মেয়েটার নামটা কি যেন বললে?
আম্মু: নাম রিহা।
আমি: যাই হোক।ও কথায়?
আম্মু:চোলে গেছে।তুই ওকে যে অপমান করছস।তাতে ওর
পক্ষে এখানে আর থাকা পসিবল না।
আমি আর কোন কথা বললাম না।রুমে এসে নিজে নিজেই কান্না
করতে লাগলাম।
আসলে আমি রিহাকে ভালবেসে ফেলেছি। একটু পর আম্মু
এসে বলল;
আম্মু:সাগর বাবা তুই কান্না করতেছিস কেন?
আমি:আম্মু আমি সরি(কান্না করে)
আম্মু:আমি বুঝতে পারছি বাবা।কিন্তু এতে কান্না করার কি আছে?
আমি:আম্মু আমি রিহা কে ভাল বেসে ফেলেছি। প্লিজ আম্মু কিছু
একটা কর।
আম্মু:আমি দেখছি কি করা যায়।
বলেই আম্মু চোলে গেল।আমি বিছানায় সুয়ে রইলাম।একটুপর
আম্মু এসে আমার হাতে একটা ফোন নাম্বার দিয়ে বলল:
আম্মু: নে কথা বল (নাম্বারটা দিয়ে)
আমি:এটা কার নাম্বার?
আম্মু:এটা তোর আন্টির নাম্বার।
বলেই আম্মু চলে গেল।আমি নাম্বারটা নিয়ে আন্টিকে ফোন
দিলাম।ওপাশ থেকে
আন্টি: হ্যালো কে বলছেন?
আমি:আন্টি আমি সাগর বলছি।
আন্টি:আরে সাগর। বাবা কেমন আছ?
আমি:জি আন্টি ভাল।আন্টি রিহা কোথায়?
আন্টি:আর বইলনা বাবা। তোমাদের বাসা থেকে আসার পর কিচ্ছু
খাচ্ছে না।ঘরে দরজা বন্ধ করে বসে আছে।
আমি:ঠিক আছে আন্টি।চিন্তা করবেন না। আমি দেখছি।
আসলে রিহা আমার খেলার সাথি।

[ads1]
ছোট বেলায় আব্বুর বদলি হওয়ার ফলে আমরা আলাদা হয়ে যাই।
দীর্ঘ আট বছর পর সেদিন দেখা হয়েছিল।তাই চিনতে পারিনি।আর
আম্মুর কাছ থেকে নাম শোনার পর মনে ছিল না যে ও কথা
বলতে পারে না।তাই সব চেয়ে খারাপ লাগছে।
আমি ফোন রেখে আম্মু কে বললাম;
আমি:আম্মু ওরা তো গ্রামে ছিল।এখানে আসলো কিভাবে?
আম্মু:ওর বাবা গত সপ্তাহে এখানে বদলি হয়েছে।আমদের
পাশের একাতেই ।
আমি:আমি একটু ওখান থেকে আসছি।ঠিকানাটা দাও।
আম্মু:ঠিক আছে। তুই একটু দারা।
বলেই আম্মু ভিতরে চলে গেল।একটু পর
আম্মু : এই নে (একটা কাগজ দিয়ে)
আমি ঠিকানাটা নিয়ে বেরিয়ে পরলাম।এলাকাটা বেশি দূরে নয়।
আমাদের এখান থেকে মাত্র দশ মিনিটের পথ।তাই হেটেই
চলে গেলাম।
বাসায় গিয়ে কলিং বেল দিতেই আন্টি দরজা খুলে দিয়েই বলল;
আন্টি: কে তুমি???
আমি:আন্টি আমি সাগর।
আন্টি:আরে বাবা আসো ভিতরে আসো।তুমার মা কেমন
আছে?
আমি:ভাল আছে।আপনি?
আন্টি:ভাল আছি।
আমি আন্টি রিহা কই?
আন্টি:ও দরজা বন্ধ করে বসে আছে। দেখ তপ বাবা তুমি কিছু
করতে পার নাকি।ভিতরে গিয়ে অনেক ডাকাডাকির পর দরজা খুলল।
দেখে মনে হচ্ছে অনেক কান্না কাটি করছে।ছোখ মুখ
ফুলে গেছে।
আমি:কি হলো। কিছু নাকি খাচ্ছো না?
রিহা:আপনি এখানে কেন?(কাগজে লিখে)
আমি:আমি কোথায় যাব না যাব তা তোমায় বলব কেন?আগে আমার
কথার উত্তর দাও।
রিহা: আমি খাব কি না খাব তা আপনাকে বলব কেন?(কাগজে লিখে)
আমি:চুপ।কোন কথা না।যাও খাও।(ধমক দিয়ে)
রিহা:আমি খাব না।আপনি অনেক পচা। আমায় শুধু ধমকান।(লিখে)
আমি:ওকে সরি।আর কোনদিন ধমক দিব না। খাবার খেয়ে নাও।
রিহা:না। আপনি চোলে যান( লিখে)
আমি:ওকে আমি চলে যাচ্ছি।
বলেই পা বাড়ালাম তখন উউউউউ করে রিহা কান্না করে দিলো।
আমি:কি হলো?আবার কান্না করতেছ কেন?
রিহা কোন কথা না বলে আমাকে জরিয়ে ধরে অনবরত কান্না
করতেছে।
আমি:তুমিই তো চলে যেতে বললা।
এখন আবার কান্না কর কেন?
রিহা আমাকে ছেড়ে দিয়ে কাগজে লিখল “রাগের মাথায় না হয়
বলে ফেলছি।তাই বলে চলে যাবেন?”
আমি:না খেলে তো চলে যাবই।
রিহা:ঠিক আছে খাচ্ছি।তবুও যায়েন না (লিখে)
এমন সময় আন্টি খাবার হাতে এসে বলল;
আন্টি:তোমাদের বিয়ে ছোট থেকেই ঠিক করা।
আমি:আব্বু আম্মু তো কোনদিন আমায় বলেনি।
আন্টি:আমরাই মানা করছিলাম।তোমার লেখা পড়া শেষ হলেই
তোমাদের বিয়ে দিয়ে দিবো।
এই নাও বাবা ওকে খাওয়াও (থালা বারিয়ে দিয়ে)
থালা দিয়ে আন্টি চলে গেল।
আমি:নাও হা কর।
রিহা মুখে নিয়ে খাচ্ছে।আমি দেখছি আমার বোবা পরীর খাওয়া।
যত দেখছি ততই ডুবে যাচ্ছি আমার বোবা পরীর রুপের সাগরে।
ডুবেই থাকতে চাই সারা জীবন।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *