বয়রা জামাই -রম্য গল্প

বয়রা জামাই -রম্য গল্প

  • এই নীলা বাজারের ব্যাগটা দাও তো?
  • দিচ্ছি দাড়াও।
    নীলা রুম থেকে বেরিয়ে ওর স্বামী মাহাবুরের হাতে বাজারের ব্যাগটা দিয়ে দিলো। মাহাবুর বাজারের ব্যাগটা নিয়ে সিড়ি দিয়ে নিচে নামতে লাগলো। হঠাৎ পিছন থেকে নীলা ডেকে বললো,
  • এই বাবু শুনো না, বাজার থেকে বড় দেখে একটা মাছ নিয়ে এসো।
    নীলার ডাক শুনে অবাক দৃষ্টিতে নীলার দিকে তাকিয়ে মাহাবুর বললো,
  • আবু? আবু কি? আবু কারে কও তুমি?
    নীলা চেঁঁচিয়ে বললো,
  • আমি আবু বলিনি! বাবু বলেছি বা…বু বাবু গাধা।
  • ও আচ্ছা বাবু, তাই বলো আমি তো ভাবলাম আবু। আমি আবু শুনেছি তাই বলে কিন্তু আমারে আবার বয়রা বলো না। আমার শ্রবণ শক্তি কিন্তু অনেক বেশি।
  • হইছে হইছে আমি কি আনতে বলেছি সেটা শুনেছো তো?
  • শুনেছি বাবা শুনেছি।
  • আচ্ছা তাহলে এবার যাও
  • বাও কি?
    মাহাবুরের মুখে এটা শুনে নীলা দাঁতে দাঁত চেপে বললো,
  • ওরে বয়রার ঘরের বয়রা তোরে যাইতে কইছি যাইতে।
    .
    এটা বলেই নীলা আর এক মুহূর্তও ওখানে না দাড়িয়ে রুমে চলে গেলো। নীলার এভাবে যেতে দেখে মাহাবুর বিড়বিড় করে বললো,
  • আমার বউটার এত চিপা গলা যে, কথা বললে কান পর্যন্ত আসতেই চাই না। উফফ! কোন দুঃখে যে এই মেয়েটারে বিয়ে করছিলাম? আল্লাহ!
    .
    মাহাবুর কপাল চাপড়াতে চাপড়াতে বাজারে চলে গেলো। বাজার করে ফিরে এসে কয়েক বার কলিংবেল চাপতেই নীলা দরজাটা খুলে দিলো। নীলার হাতে বাজারের ব্যাগটা দিতে দিতে বললো,
  • ব্যাগটা ধরো আর বাজারে বড় কোনো গাছ পেলাম না বাবু। একটা পাইছিলাম কিন্তু তুমি কি গাছ আনতে বলছো নাম তো বলোনি, তাই আর আনিনি।
    মাহাবুরের কথা শুনে নীলা বাজারের ব্যাগটা ফ্লোরে রেখে মাহাবুরকে বললো,
  • আমি কখন তোমারে গাছ আনতে বলেছি?
  • কেনো? বাজারে যাওয়ার সময়ই তো বললা বাবু বাজার থেকে বড় দেখে একটা গাছ নিয়ে এসো।
  • তোমারে গাছ আনতে বলেছি?
  • তাহলে?
  • তোরে মাছ আনতে বলেছিলাম মা…ছ আর শালা বয়রার ঘরের বয়রা শুনছে গাছ।
  • দেখো নীলা তুমি কিন্তু আমাকে ইনসাল্ট করছো। আমার শ্রবণ শক্তি অনেক বেশি আমার ভুল হতেই পারে না।
    মাহাবুরের কথা শুনে নীলা কিছু বলতে গিয়েও বললো না। আর মাহাবুরও ফ্রেশ হতে যাচ্ছিলো ঠিক এমন সময় নীলা ডাক দিয়ে বললো,
  • এই গুলা কি আনছো?
  • কেনো আদা।
  • আমি তোমারে আদা আনতে কখন বলেছি?
  • তখনই তো বললা আদা আনার কথা।
  • আমি আদা না গাধা বলেছিলাম তোমারে গা….ধা
  • ও সরি বাবু মিস্টেক হইছে আমি গাধারে আদা শুনছি।
    এটা বলেই মাহাবুর চলে গেলো আর নীলা পিছনে চিৎকার করে বলতে লাগলো,
  • তোরে তিন বেলা আমি এই আদা খাওয়াবো শালা বয়রার ঘরের বয়রা।
    .
    বিকাল বেলা বেলকনিতে বসে আছে মাহাবুর। নীলা দুই কাপ কফি এনে মাহাবুরের পাশে বসলো। কফি খাচ্ছে আর দুই জনে গল্প করছে। হঠাৎ নীলার হাতে একটু ঘা লাগলো আর নীলা বলে উঠলো শালা রে। পাশ থেকে মাহাবুর বললো,
  • খালা কখন আসছে নীলা? আমাকে তো বললা না যে খালা আসছে।
  • খালা আসবে কোথা থেকে? খালা তো আসেনি।
  • মাত্রই তো বললা খালারে, খালা না আসলে খালারে ডাকলা কেনো?
    মাহাবুরের কথা শুনে নীলা দাঁতে দাঁত চেপে বললো,
  • আমি খালা বলিনি। হাতে ঘা লেগেছে তাই রাগ করে বলেছি শালা রে।
    .
    এটা শুনে মাহাবুর আর কথা বাড়ালো না। এক হাত দিয়ে নীলাকে বুকের মাঝে টেনে নিলো। নীলাও আর রাগ করে থাকতে পারলো না। মাহাবুরের বুকে মুখ লুকালো। তারপর বললো,
  • বাবু আব্বা আম্মাকে খুব দেখতে ইচ্ছা করছে চলো না একটু ঘুরে আসি?
    কথাটা মাহাবুর শুনেও শুনলো না। নীলাও সেটাকে পাত্তা না দিয়ে বললো,
  • বাবু দেখো না কি সুন্দর?
  • কই?
  • ওই যে দেখো গাছে।
    মাহাবুর অবাক হয়ে নীলাকে বললো,
  • গাছে তো কোনো বান্দর দেখছি না।
    মাহাবুরের মুখে বান্দর কথাটা শুনে নীলা রেগে গিয়ে বললো,
  • শালা বয়রার ঘরের বয়রা তোরে আমি বান্দর বলেছি? আমি সুন্দর বলেছি সুন্দর। গাছে সুন্দর একটা ফুল ফুটেছে সেটার কথা বলেছি।
    মাহাবুরের কানে কাছে মুখ এনে নীলা জোরে জোরে কথা গুলো বললো। কানের কাছে চিৎকার করে বলাতে মাহাবুর পাশে সরে গিয়ে বললো,
  • উফফ! নীলা সমস্যা কি তোমার? কানের কাছে চিৎকার করে বলছো কেনো? নাকি তুমি আমাকে বয়রা বানাতে চাও?
  • বয়রা রে তোরে আর কি বয়রা বানাবো? তুই তো এমনিতেই বয়রা।
    মনে মনে কথাটা বললো নীলা। তারপর আবার বললো,
  • চলো এখনই তোমাকে কানের ডাক্তারে কাছে নিয়ে যাবো।
  • কেনো আমি কি কানে কম শুনি? আমার যতেষ্ঠ শ্রবণ শক্তি আছে আমি কিছুতেই যাবো না।
    .
    সে যাত্রায় নীলা আর মাহাবুরকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে পারলো না। তার আগেই বাড়ি ছেড়ে পালালো মাহাবুর।
    .
    মাহাবুর নীলাকে নিয়ে ওর শশুর বাড়ি বেড়াতে এসেছে। ফ্রেশ হয়ে খাটের উপর শুয়ে আছে মাহাবুর। আর নীলা ওর মায়ের সাথে গল্প করছে। গল্পের এক পর্যায়ে নীলা ওর মাকে বললো,
  • মা তোমরা কি দেখে এই বয়রার সাথে আমার সাথে বিয়ে দিছিলা? বয়রার ঘরের বয়রা আমার জীবনটা একদম তেজপাতা করে দিছে। মাছ আনতে বললে গাছ আনে, সুন্দর বললে বান্দর শোনে, গাধা বললে শোনে আদা। এমন দেড় ব্যাটারী জামাই কই পাইছিলা বলবা?
  • তখন কি আর জানতাম জামাই বয়রা? দেখতে শুনতে তো বেশ ভালো। আর তাই রাজি হয়ে গেছিলাম।
    .
    নীলা ওর মায়ের সাথে কথা বলছে আর ঠিক তখনই নীলার ছোট বোন শাম্মী আসলো ওখানে। শাম্মী এসে নীলাকে বললো,
  • আপু দুলাভাই আসেনি?
  • আসছে দেখ রুমে।
    শাম্মী রুমে এসে দেখে মাহাবুর বিছানায় শুয়ে আছে। শাম্মী বললো,
  • দুলাভাই কি করেন?
    শাম্মীর কথা শুনে মাহাবুর ধড়মড় করে উঠে বসলো। তারপর বললো,
  • মরেন? আমি কেনো মরবো? আমি তো শুয়ে আছি শালি।
    .
    ব্যাটা দেড় ব্যাটারি তোর কানের পাওয়ার তো তোর মারাত্বক, করেন কইলে শুনিস মরেন। (মনে মনে বললো শাম্মী)
  • শালি কি ভাবছো?
    শাম্মী মুচকি একটা হাসি দিয়ে বললো,
  • দুলাভাই মুড়ি খাবেন?
  • শালি তুমি না খুব দুষ্টু হয়ে গেছো এখন। দুলাভাইকে কেউ ঘুড়ি খাইতে বলে?
    .
    মাহাবুরের কথা শুনে শাম্মীর খুব হাসি পাচ্ছিলো। কোনো রকমে হাসিটা আটকে রেখে বললো,
  • দুলাভাই আমি ঘুড়ি খাইতে বলিনি, মুড়ি বলেছি মু……….ড়ি।
    মাহাবুর খুব জোরে হেসে উঠে বললো,
  • জানি তো শালি তুমি মুড়ি বলেছো। তুমি শালি তো তাই একটু মজা করলাম। দুলাভাই তো শালির সাথে মজা করতেই পারে তাই না?
  • হ্যাঁ তা তো অবশ্যই পারে। তা কি খাবেন মুড়ি?
  • না শালি আমি শুকনা মুড়ি খাই না।
  • শুকনা না তো। মরিচ পেয়াজ দিয়ে সুন্দর করে মাখিয়ে। আমি তো প্রায় খাই অনেক মজা খাবেন?
  • না শালি আমি গজা খাই না। তুমি মুড়ি নিয়ে এসো।
    .
    এটা শুনে শাম্মী মাহাবুরের কানের কাছে চিৎকার করে বললো,
  • আমি গজা বলিনি দুলাভাই, বলেছি মজা ম…………….জা
    .
    চিৎকার করে বলেই শাম্মী দৌড়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো। মাহাবুর শুয়ে আছে এমন সময় নীলা এসে মাহাবুরের পাশে বসে বললো,
  • তোমার কি মন খারাপ?
  • সবাই আমার সাথে এমন চিৎকার করে কথা বলে কেনো? আমি কি বয়রা? কানে কম শুনি? আমার তো যতেষ্ঠ শ্রবণ শক্তি আছে।
  • কে বলেছে আমার বাবুটা কানে কম শোনে বয়রা? তুমি তো অনেক বেশি শুনো বাবু।
  • বেইবি আমি তো গুনার কথা বলছি না। শোনার কথা বলছি।
    .
    মাহাবুরের কথা শুনে নিজের মাথা দুই হাত দিয়ে চেপে ধরলো নীলা। নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করছে। অনেক কষ্টে নিজেকে শান্ত করে বললো,
  • আমি গোনার কথা বলিনি! শুনার কথা বলছি। যাই হোক বাদ দাও চলো।
    .
    .
    দুই দিন পরে রাতের খাবার খাচ্ছে সবাই। নীলা মাহাবুর শাম্মী আর ওর শশুর শাশুড়ি। খেতে খেতে মাহাবুরের শশুর মাহাবুরের দিকে তাকিয়ে বললো,
  • জামাই একটু আস্তে খাও।
    .
    খাওয়া বন্ধ করে মাহাবুর শশুরের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে বললো,
  • আব্বা আমি তো গান গাচ্ছি না। তাহলে আস্তে গাইতে বলছেন কেনো?
    .
    এটা শুনে পাশ থেকে নীলা কনুই দিয়ে জোরে একটা খোচা দিয়ে আস্তে আস্তে চিবিয়ে চিবিয়ে বললো,
  • ইচ্ছা করছে কি জানিস? তোরে চিবিয়ে চিবিয়ে খাই। শালা দেড় ব্যাটারি তোর গাইতে না খাইতে বলেছে।
    .
    নীলার ফিশফিশে কথা মাহাবুরের কান পর্যন্ত না গেলেও ও বুঝে গেছে বড় কোনো ভুল করে ফেলেছে। তাই সাহস করে আর নীলার দিকে না তাকিয়ে নিজের খাওয়ায় মন দিলো। মাহাবুরের শশুরও বুঝতে পেরে কিছু বললো না। নীলার মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো,
  • নীলার মা, জামাইরে একটু ইলিশ দাও।
    .
    কথাটা শোনা মাত্রই চিৎকার করে উঠে মাহাবুর বললো,
  • আব্বা আপনি একটা কাজের কথা বলেছেন। আসলেই আমার একটা বালিশের দরকার। আমার রুমের বালিশটা খুব শক্ত এই দুইদিন শুয়ে তো আমার মাথা ব্যাথা হয়ে গেছে। আম্মা একটা নরম দেখে বালিশ দিয়েন আমারে। আহা নরম বালিশে ঘুমালে কি শান্তি লাগে!
    .
    মাহাবুরের কথা শুনে মাহাবুরের শশুর শাশুড়ি একদম হা হয়ে গেলো। আর শাম্মী তো হো হো করে হেসে উঠেছে। শাম্মীর হাসির কারনটা না বুঝে নীলার দিকে আড় চোখে তাকালো মাহাবুর আর তাকাতেই দেখলো নীলার মুখটা রাগে লাল নীল বেগুনি সব হয়ে যাচ্ছে। রাগি চোখের দিকে তাকিয়ে বার দুয়েক ঢোক গিললো ও কিন্তু কিছু বলার সাহস পেলো না। আর সাহস পাবেই বা কি করে? নীলা যেভাবে রেগে তাকিয়ে আছে মনে তো হচ্ছে ওকে এখনি কাচা চিবিয়ে খাবে। রাগটাকে কন্ট্রোল করতে না পেরে নীলা বললো,
  • নরম বালিশে তোরে শান্তির ঘুমানো ঘুমা………
    .
    কথাটা শেষ করতে দিলো নীলার আব্বা। নীলাকে থামিয়ে মাহাবুরের দিকে তাকিয়ে বললো,
  • বাবা তুমি চুপচাপ খাও তো।
    .
    মাহাবুর হাতটা ধুয়ে চলে যেতে লাগলো রুমের দিকে। পিছন থেকে শশুর ডাক দিয়ে বললো,
  • কিছুনা খেয়েই হাত ধুয়ে চলে যাচ্ছো বাবা? এখনো তো মাছ মাংস ডিম থেকে গেলো কিছুই তো খেলে না।
  • আব্বা আপনিই তো বললেন চুপচাপ চলে যেতে।
  • আমি তো যাও বলিনি বলেছি খাও।
  • এ্যা কি বলছেন?
  • খাও
    মাথাটা উপর নিচ করে আবার বললো,
  • কি?
  • খাও
  • যাচ্ছিই তো আব্বা।
  • আরে যাও না খাও খা……ও।
  • ওওওও খাও? জানেন আব্বা আমিও শুনেছি খাও কিন্তু একটু মজা করলাম। আসলে আমার খিদা নেই খেতে ইচ্ছা করছে না।
    .
    কথাটা বলে সোজা রুমে চলে এলো মাহাবুর। মাহাবুরের শশুর মনে মনে বললো,
  • তুই যে কি শুনে কেমন মজা করেছিস বয়রা সেটা তো আমি জানি।
    .
    এদিকে বিছানায় শুয়ে ছটফট করছে মাহাবুর। প্রচন্ড খিদা লেগেছে কিছুই তো খেতে পারেনি। ইশ রে! কত ভালো ভালো খাবার ছিলো কিছুই খেতে পারেনি। খাবারের কথা যত মনে পড়ছে তত খিদা লাগছে।
    .
    নীলা খাওয়া শেষ করে মাহাবুরের পাশে এসে শুয়ে পড়লো। রাগে ওর শরীর জ্বলে যাচ্ছে। বয়রা মাহাবুরের জন্য বাবা মার কাছে কতটা লজ্জায় পড়তে হলো ওর। ভাবতেই রাগ মাথায় উঠে যাচ্ছে কিন্তু তবুও মাহাবুরকে কিছু বললো না।
    .
    পরের দিন বিকেল বেলা। নীলার বান্ধবী জুলি এসেছে। ওর বিয়ে হয়েছে এক বছর হলো। এর ভিতরেই একটা বাচ্চার মা হয়ে গেছে। খুব সুন্দর ফুটফুটে একটা ছেলে হয়েছে ওর। মাহাবুর জুলিকে আগে থেকেই চিনে শালি তো। নীলা আর জুলি অনেক ক্ষন গল্প করে, ছেলেটাকে কোলে নিয়ে মাহাবুরের কাছে এসে বললো,
  • দুলাভাই একটু ধরো তো।
    .
    কথাটা শুনে মাহাবুর ঘুরে দাড়ালো। এটা দেখে অবাক হয়ে জুলি বললো,
  • কি হলো দুলাভাই ঘুরে দাড়ালে কেনো?
  • শালি তুমি তো বললা একটু ঘুরো তো। তাই তো ঘুরে দাড়ালাম।
    .
    কথাটা শুনে হিহিহি করে হেসে উঠলো জুলি। নিজের বয়রা জামাইয়ের জন্য বান্ধবীর সামনে লজ্জায় পড়ে গেলো নীলা। প্রচন্ড রাগে মাহাবুরের হাত ধরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে লাগলো। পিছন থেকে জুলি বললো,
  • কিরে নীলা দুলাভাইকে নিয়ে কই যাইস?
    জুলির কথাতে না থেমে যেতে যেতে বললো,
  • কানের ডাক্তারের কাছে।
    .
    ডাক্তারের কাছে এসে ভালোমত পরীক্ষা করে দেখলো দুই কানেই অপারেশন করতে হবে। নীলাও রাজি হয়ে গেলো, যে করেই হোক জামাইয়ের কান ভালো হওয়া চাই ই চাই। কিন্তু মাহাবুর কিছুতেই অপারেশন করাবে না। তিন চার জন মিলে ধরে নিয়ে গেলো অপারেশন থিয়েটারে। অপারেশনও হলো।
    .
    দুইদিন পরে মাহাবুরকে হাসপাতালে দেখতে যাচ্ছে নীলা। অনেক সুন্দর করে সেজেগুজে হাতে এক গুচ্ছো ফুল নিয়ে মাহাবুরের কেবিনে ঢুকে মাহাবুরের পাশে বসলো। কিন্তু মাহাবুর যেনো নীলাকে দেখেও দেখলো না। কেবিনে বসে ছিলো মাহাবুর। নীলা মনে মনে ভাবলো জোর করে অপারেশন করাতে মাহাবুর এখনো রাগ করে আছে। মাহাবুরের হাত নিজের হাতে নিয়ে বললো,
  • বাবু রাগ করে আছো না? কি করবো বলো সবাই তোমাকে নিয়ে মজা করে এটা কি আমার ভালো লাগে বলো? তাই তো জোর করে অপারেশন করালাম। এখন তুমি সুস্থ হয়ে যাবে। আর দেখো তোমার পছন্দের নীল শাড়ি পরে এসেছি। এখন বলো তো কেমন লাগছে।
    .
    নীলার কথার উত্তর না দিয়ে মাহাবুর চুপ করে আছে। তা দেখে নীলা আবার বললো,
  • কি হলো বলো না কেমন লাগছে আমাকে?
  • নীলা তুমি কি মজা শুরু করেছো বলো তো? সেই থেকে শুধু ঠোট নাড়িয়েই যাচ্ছো কিন্তু শব্দ করে কিছু বলছো না। এমন করলে কিন্তু রাগ করবো।
    .
    মাহাবুরের কথা শুনে হা হয়ে গেলো নীলা। তারপর বললো,
  • ঠোট নাড়াচ্ছি মানে? তুমি কি আমার কথা শুনতে পাচ্ছো না?
  • নীলা প্লিজ ঠোট নাড়িয়ে মজা করো না। শব্দ করে বলো যা বলতে চাচ্ছো।
    .
    ঠিক তখনই ডাক্তার এলো। এসে নীলাকে বললো,
  • সরি ম্যাম! আপনার স্বামীর দুইটা কানের পর্দা ই ছিড়ে গেছে উনি আর কখনো কানে শুনবে না।
    .
    ডাক্তারের কথা শুনে মাথা ঘুরতে লাগলো নীলার। চোখে অন্ধকার দেখছে। মাহাবুরের দিকে তাকিয়ে বললো,
  • আমার আগের দেড় ব্যাটারি জামাইটা ই তো ভালো ছিলো।
    .
    কথাটা বলেই জ্ঞান হারালো নীলা। মাহাবুর অবাক হয়ে বললো,
  • যা বাবা! নীলা ঠোট নাড়িয়ে কি বললো?
    .
    কিন্তু নীলার অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার কারনটা মাহাবুর হাজার খুজেও পেলো না।
    .
    ,,,,,,,,,,,,,,,,,,,সমাপ্ত,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
    .
    বয়রা জামাই -রম্য গল্প
    .
    “লেখাঃ- Mahabur Rahman”

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *