ভাই বোনের ভালোবাসার গল্প । Vai Boner valobasar golpo

সোফায় বসে টিভিতে বাংলাদেশ আর আফগানিস্তানের ক্রিকেট খেলা দেখছি। এমন সময় জান্নাত(ছোট বোন) রেগে মেগে বাসায় ঢুকলো। কাঁধ থেকে কলেজ ব্যাগটা ছুড়ে ফেলে দিয়ে চিৎকার করে মাকে ডাকতে লাগলো। মা আঁচলে হাত মুছতে মুছতে এসে বললো,~কি হলো, এমন চিৎকার করছিস কেন?
জান্নাত রেগে গিয়ে বললো,
– মা সত্যি করে বলো, এই বান্দর কি আমার সত্যি কারের আপন বড় ভাই না কি কোন রেলস্টেশন কিংবা ডাস্টবিন থেকে কুড়িয়ে নিয়ে এসেছো?

মা অবাক হয়ে বললো,
~কেন? আবার কি করেছে?
জান্নাত ওর ফোনটা মার হাতে দিয়ে বললো,
-আগে ভিডিওটা দেখো..
মা ভিডিও দেখে বললো,
~কি রে, তোর বান্ধবী আনিকা আর মিতু এইভাবে চুল ধরে টানাটানি করছে কেন?
জান্নাত এইবার আরো রেগে গিয়ে বললো,

  • কেন আবার, তোমার প্রেমিক সন্তানের জন্য একটা আরেকটার সাথে মারামারি করে চুল ছিড়ছে। আনিকা বলে পিয়াস ভাই আমায় ভালোবাসে মিতু বলে পিয়াস ভাই আমায় ভালোবাসে। আর আমি দাঁড়িয়ে থেকে অবাক হয়ে ওদের মারামারি দেখছিলাম আর ওদের কথা শুনছিলাম। তোমার ছেলের লজ্জা করে না নিজের ছোট বোনের বান্ধবীদের সাথে প্রেম করতে? একজন হলে মেনে নেওয়া যেত। দুই দুইজনের সাথে প্রেম করে ছিঃ….
    এমন সময় বিশ্ববিখ্যাত খেলোয়াড় সৌম্য সরকার ৩ বলে ১ রান করে আউট হয়ে যায়। আর আমি রাগে টিভিটা বন্ধ করে ছোট বোনের কাছে গিয়ে বললাম,

— দেখ তোর এই বড় ভাই কৃপণ না, যে শুধু একজনকেই সমস্ত ভালোবাসা দিবে। তোর এই বড় ভাইয়ের কলিজা অনেক বড়। আমি সবাইকে সমান ভাবে ভালোবাসতে চাই। কাউকে ঠকাতে চাই না। কাল যে তোর একটা নতুন বন্ধবী বাসায় এসেছিলো ওর ফেইসবুক আইডিটা একটু দিবি। আমি তাকেও সমানভাবে ভালোবাসতে চাই…
জান্নাত আমার কথা শুনে রাগে নিজের ফোনটা আছাড় মেরে ভেঙে বললো,
– এই কুত্তা আমার ভাই না..

কথাটা বলে অন্য রুমে চলে গেলো আর আমি ওর অর্ধমৃত ফোনটা হাতে নিয়ে বাহিরে বের হলাম…
আমার ছোটবোন জান্নাত আমার থেকে ৩ বছরের ছোট। সেই ছোটবেলা থেকে আমি ওর পিছনে আর ও আমার পিছনে সব সময় চুইংগামের মত লেগে থাকে।
রাতে বাসায় ফিরে ওর ফোনটা ওর হাতে দিয়ে বললাম,
— আমার উপর রাগ এই ফোনের উপর ঢালিস কেন?
জান্নাত ফোনটা নিয়ে বললো,

  • ধন্যবাদ ভাইয়া। ফোনটা ভেঙে নিজেরি আপসোস হচ্ছিলো…
    একটু পর জান্নাত কাঁদতে কাঁদতে আমার রুমে এসে বললো,
    — তুই আমার ব্যাগ থেকে টাকা নিয়েছিস?
    আমি মুচকি হেসে বললাম,
  • আমার কি টেকা পড়েছে নিজের টাকা খরচ করে তোর ফোন ঠিক করে দিবো। তোর টাকা দিয়ে তোর ফোন ঠিক করে দিয়েছি। আর বাকি টাকা দিয়ে নিজের চুলের কালার করে ফেললাম। দেখতো কালারটা সুন্দর হয়ছে না কি?
    আমার কথা শুনে জান্নাত চিৎকার করে মাকে বলতে লাগলো,
    -এই চোর আমার ভাই হতেই পারে না..
    সকাল ঘুম থেকে উঠে আয়নায় তাকিয়ে দেখি আমার মাথার অর্ধেক চুল নাই। রাগে জান্নাতের কাছে গিয়ে বললাম,
    — এমনটা কেন করলি?
    জান্নাত নুডলস খেতে খেতে বললো,

-আমার টাকায় চুল রঙ করেছিলি। সেই টাকা পরিশোধ করিস নি দেখে চুল কেটে ফেলেছি…
ইচ্ছে হচ্ছিলো ডাইনীর চুলগুলোও কেটে ফেলি।কিন্তু ওর হাতে নুডুলস দেখে আর রাগ করলাম না। রাগ দেখালে নুডুলস দিবে না।
আমি জান্নাতকে বললাম,
— আচ্ছা যা মাফ করে দিলাম। দে একটু নুডলস খাই।
জান্নাত মুখ বাকিয়ে বললো,
– পারলে নিজে রান্না করে খা…
এই কথা শুনে আমি মাকে ডেকে বললাম,
–মা কৃমির ঔষধ আমরা কতদিন ধরে খাই না?
মা আমতা আমতা করে বললো,
~হবে অনেকদিন..
আমি মাকে বললাম,
— নিয়ম হলো ৩ মাস পর পর কৃমির ঔষধ খাওয়া। আর কৃমি দুই ধরনের হয়। এক হলো গোল কৃমি আর দুই হলো ফিতা কৃমি। ফিতা কৃমি আবার নুডুলসের মত লম্বা লম্বা হয়…
আমার কথাশুনে জান্নাত নুডলসের বাটি রেখে ওয়াক ওয়াক করে ওয়াসরুমে দৌড়ে গেলো। আর আমি শাস্তিতে পুরো নুডলস খেলাম। ১০ মিনিট পর জান্নাত বাথরুম থেকে বের হয়ে মাকে বললো,
– এই খবিস আমার ভাই হতেই পারে না…
হঠাৎ করে বাইক এক্সিডেন্ট করে বাসায় ফিরলাম। বাইকের তেমন কিছু হয় নি তবে আমার হাত পা অনেকটা কেটে গেছে। কতক্ষণ পর মাকে ডেকে বললাম,
— মা, আমি যে বাইক এক্সিডেন্ট করেছি জান্নাতকে কিছু বলো না।
আমার কথা শুনে মা বললো,
~আমি তো ফোন করে জান্নাতকে বলে দিয়েছি…
মার কথাশুনে আমি অবাক হয়ে বললাম,
— হাই হাই এটা কি করলে? আল্লাহ জানে আমার বাইক আছে কি না…
তাড়াতাড়ি আমি আর মা বাসার নিচে নেমে দেখি জান্নাত আমার বাইকের হেডলাইট ভেঙে ফেলেছে।যখন আরো কিছু ভাঙতে যাবে তখন আমি দৌড়ে ওর কাছে গিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরে বললাম,
— বোন, মাফ করে দে। এখন থেকে সাবধানে বাইক চালাবো তকে কথা দিলাম।
জান্নাত আমায় জড়িয়ে ধরে কতক্ষণ চিৎকার করে কান্না করলো।তারপর মার দিকে তাকিয়ে মাকে বললো,
– তোমাকে আমি বলেছিলাম এই বান্দরকে এই বয়সে বাইক কিনে দিও না তারপরও ওকে তুমি বাইক কিনে দিছো। আজ যদি ভাইয়ার কিছু হতো তাহলে তোমার আমি মাফ করতাম না…
জান্নাত আমায় কতগুলো কিল ঘুষি মেরে বললো,
–আজ থেকে বাইকের চাবি আমার কাছে থাকবে। তুই যদি আমার অনুমতি ছাড়া বাইকের চাবি নিয়েছিস তাহলে তোর বাইক আমি পুড়িয়ে ফেলবো…
জান্নাত আমার কেটে যাওয়া হাত আর পা দেখে অনবরত কাঁদছে আর আমি ওর দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে ভাবতে লাগলাম,
ভাইবোনের ভালবাসাটা এমনি হয়। ঝগড়া মারামারির আড়ালে ভালোবাসা লুকিয়ে থাকে। একজন বড় ভাইয়ের যদি একটা ছোটবোন থাকে তাহলে সে কখনোই মায়ের অভাব বুঝতে পারবে না..

 

সেই মেয়েটি

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *