ভাগ্যবান স্ত্রী । স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসা। Romantic love Story।

আজ আমার মনটা খুব খারাপ কারন আজ আমার সব টেস্ট করানো হবে।কেন দশ বছরেও আমি মা হতে পারলাম না।রায়হানকেও টেস্ট করতে বলা হয়েছে।দুজনারই মুখ শুকিয়ে আছে।কার অক্ষমতা ধরা পড়ে।

আমি রায়হান কে অনেক ভালবাসি সেই ছোট বেলা থেকে।ও আমার প্রতিবেশী ছিল।ও আমার চার বছরের বড়।আমরা একই স্কুলে পড়াশুনা করেছি।আমার জীবনের প্রথম প্রেম ছিল ও।যাক বিধাতা আমার ডাক শুনেই ওর সাথে আমার বিয়ে করিয়েছে।কিন্তু আজ এই জীবনসংকটে পড়েছি কি করবো কি হবে বুঝতে পারছি না।

কয়েকদিন পর রিপোর্ট আসলো রায়হান ঠিকই আছে আমি কোনদিন মা হতে পারবো না।আমার মাথায় আসমান ভেঙে পরল।আমি মাথা ঘুরে পড়ে যেতে লাগলাম ও ধরল আমাকে।বাসায় এসে বিছানায় শুইয়ে দিল।ওর বাবা মা বিষয়টা জেনে গেল।ওর মা বললো এত ঢং করলে কাজ হবে না।বন্ধ্যা মেয়ে তার আবার নেকামো হচ্ছে।
আমি রায়হান কে বিয়ে করাবো আমার বংশধর দরকার একটা ছেলে আমার, ওকে আবার বিয়ে না করালে আমি নাতি নাতনির মুখ কি করে দেখব।আমাকে ডেকে বললো
এই মেয়ে রায়হান কে বিয়ের জন্য প্রস্তুত করো।
আমি ভাবলাম যত কিছুই হয়ে যাক একটা মেয়ে কি পারে তার স্বামীর ভাগ সেয়ার করতে
তবুও বুকে অনেক জ্বালা নিয়ে রায়হান কে বললাম শোনো মা ঠিকই বলেছে এ বংশের উত্তরাধিকারের জন্য তোমাকে বিয়ে করতে হবে।সেদিন ও কিছুই বলেনি।তখন আমি মনে মনে বিশ্বাস করলাম আজ এত প্রিয় স্বামী একবারও বললো না যে আমি বিয়ে করবো না।
একমাস পর
আজ রায়হান এর বিয়ে এতদিন মেয়ে টেয়ে দেখছে ঐদিনের পর থেকে রায়হান আমার সাথে ঠিক করে কথাও বলে না।আমিও জোর করে কথা বলি না।আজ সকালে বের হবার সময় কেমন করে যেন তাকাল আমার দিকে,হয়তো আজই আমার মুখ শেষ বারের মতো দেখে নিল।নতুন বৌ আসবে বাচ্চা হবে আমার মুখ দেখার সময় ওর থাকবে না আর আমার মতো অলক্ষি নারীর মুখ দেখবেই বা কেন।আমিও ভাবছি চলে যাবো এই বাসা থেকে রায়হান কে আরেকজন মহিলার সাথে সহ্য আমি করতে পারবো না।

রায়হান আর ওর বাবা চলে গেল।আমিও ব্যাগ গুছিয়ে রেডি হয়ে একবার আমার আর রায়হান এর ঘরটা মন ভরে দেখলাম।আর কখনো এই রুমে রায়হান এর জন্য অপেক্ষা করবো না। কখন অফিস থেকে আসবে কখন ওর ক্লান্তি ভরা মুখ দেখবো এই অপেক্ষায় এখন আরেকজন থাকবে।চোখে পানি চলে আসল।অনেকক্ষন কেঁদে চোখ মুছে চললাম আমার নতুন জীবনে।একটু সুখের আশায়।বড় আপুর বাসা চট্টগ্রামে ওখানে যাবো।স্টেশনে এলাম ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছি
পিছন থেকে কে যেন হাত দিল আমার ঘাড়ে, ঘুরে দেখলাম রায়হান ওর কোলে একটা বাচ্চা।আমি চমকে গেলাম এত ছোট বাচ্চা ওর কোলে কেন?
আমার হাত ধরে টেনে বললো গাড়িতে ওঠো সব বলছি।
__অনেক দিন যাবৎ একটা ছোট বাচ্চা খুঁজছিলাম আজ সব কাগজপত্র ঠিক করে নিয়ে আসলাম এই নাও তোমার ছেলে আমাদের সন্তান
__কি বলছ ,তুমি না বিয়ে করতে গেলে।
__আমি তোমাকে চমকে দিতেই এতদিন কথা বলেনি এই ছেলে বাচ্চাটার মা মারা গেছে কয়েকদিন আগে। ওকে একেবারে আমাদের সন্তান হিসেবে পাওয়ার জন্যই বিয়ে করতে যাওয়ার নাটক করলাম।কাগজপত্র ঠিক করতে এতদিন সময় লাগল।
আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি শুধুমাত্র বাবা হওয়ার জন্য তোমাকে কষ্ট দিয়ে আরেকটা বিয়ে করতে আমি পারবো না।এরচেয়ে একটা এতিম ছেলেকে নিজের সন্তানের মতোই লালন পালন করলে আরো পুন্যের কাজ হবে আর ওর বাবা মা ডাকেই আমরা পরিপূর্ণ হয়ে যাবো।
__কিন্তু মা উনি কি রাজি হবেন?
__সেটা আমি দেখছি
বাসায় গিয়ে সোজা মার রুমে চলে গেল।বাবার কাছ থেকে সব শুনে এমনিতেই অনেক রেগে আছে মা।রায়হান মায়ের হাত ধরে বললো
__মা আমাকে ক্ষমা করে দাও আমি তোমার কথা রাখতে পারিনি।ভাবো তো আজ যদি তোমার ছেলে বাবা হতে অক্ষম হতো তখন তুমি কি করতে।আমার স্ত্রীর মা হতে অক্ষম তার জন্য আমি আরেকটা বিয়ে করতে পারবো না আর বংশরক্ষার কথা বলছো মৃত্যুর পর বংশ উত্তরাধিকার কিছুই কাজে দিবে না কাজে আসবে দুনিয়াতে করা ভালো কাজ সমূহ আজ এই এতিম ছেলেটিকে মানুষ করলে আমাদের মৃত্যুর পর ওই ছেলেই দু হাত তুলে দোআ করবে এটাই পরকালের জন্য যথেষ্ট।অনেক ভেবেচিন্তে আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
আমি আড়াল থেকে সব শুনলাম।কত কিছু মনে করেছি রায়হান কে, মনে মনে বলতে থাকলাম রায়হান আমাকে মাফ করে দাও
এমন স্বামী পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।আজকাল এমন পুরুষ খুব কমই আছে পৃথিবীতে।

ভাগ্যবান স্ত্রী
লিখা-আয়েশা

Related Posts

2 thoughts on “ভাগ্যবান স্ত্রী । স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসা। Romantic love Story।

  1. Hello, I think your website might be having browser
    compatibility issues. When I look at your blog
    site in Firefox, it looks fine but when opening in Internet Explorer, it has some overlapping.

    I just wanted to give you a quick heads up! Other then that, very good blog! http://Ironthundersaloon.com/

  2. Non-themed links – hyperlinks in a signature always be relevant towards theme with
    the discussion. Yes it may take longer to get the ranking you want but it is well this.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *