ভার্সিটির গুন্ডী মেয়ের ভালবাসা । ভালোবাসার গল্প

 ভার্সিটির গুন্ডী মেয়ের ভালবাসা 

--ওয়ে হ্যালো,,এত্ত ভাব কিসের আপনার
-বুঝলাম না
-ভার্সিটির সেই প্রথম দিন থেকেই খেয়াল
করছি মেয়েদের কে এড়িয়ে চলেন,,প্রব্লেমট
া কি
-আমি এত্ত কিছুর কইফিয়ত আপনাকে দেবার
প্রয়োজন মনে করিনা
-কিন্তু আমিতো এর রহস্য জানার প্রয়োজন
মনেকরি
-বাসায় যেতে লেট হয়ে যাচ্ছে,,ভালো
থাকবেন বাই
-না বললে আমি আপনার পিছু পিছু আপনার
বাসায় চলে যাবো
-আজব মেয়েতো আপনি,,বিদেয় হনতো
-এইযে মিস্টার আপনার জায়গায় দাঁড়িয়ে
নেই,,হুহ
-ধুরর
-কি হলো বলেন
-এমনি
-এমনি তো হতেই পারেনা,,কোন মেয়ে
স্যাকা দিছে নাকি
(বলেই হাসতে লাগলো)
-আপনি যেটা ইচ্ছা ভাবতে থাকেন
(বলেই সেখান থেকে কোন ভাবে চলে
আসলাম।।আসলে মেয়েদের থেকে দূরে
থাকার রহস্য একটা আছে।।
যেদিন চারি দিকে সব ফ্রেন্ড দে স্যাকা
খাওয়ার গল্প শুনলাম,,সেদিনি শপথ করছিলাম
জিএফ তো দূরের কথা মেয়েদের
আশেপাশেও ভিড়বো না।।তাই সেদিন থেকে
আজ পর্যন্ত বিন্দাস একটা সিংগেল লাইফ
ইনজয় করছি।।)
[ads2]
-মামা কাল দেখলাম একটা মেয়ের সাথে
কথা বলছিস,,ব্যাপার কি তুইও কি ফেসে
গেলি নাকি
-ধুরর ওইসব প্রেম তুরা কর,,আমার স্যাকা
খাওয়া শখ না
-হুম মামা ডুবে ডুবে জল খেতে চাও
(বলেই সবাই হেসে দিলো।।এমন সময় দেখি
কালকের ওই মেয়েটা যাচ্ছে।।)
-মামা দেখ এই মেয়েটা না
-মেয়বি
(হারামী গুলা চিল্লান দিয়ে বলে উঠলো
মামা দেখ ভাবি যাচ্ছে।।মেয়েটা সাথে
সাথে দাঁড়িয়ে গেলো।।অবস্থা খারাপ হতে
পারে ভেবে সব গুলা দৌড় দিয়ে বগার পাড়
হলো।।রয়ে গেলাম শুধু আমি।।মেয়েটা আমার
সামনে এসে)
-ওরা কি বললো
-ক্যানো শুনতে পাননি,,কাল পর্যন্ত তো
ভালোভাবেই শুনতে পাচ্ছিলেন
-ওরা আমাকে ভাবি বললো ক্যান
-ওদের গিয়ে জিজ্ঞাসা করেন
-বলার আগে আপনায় তো মামা বলেছিলো
-হ্যা,,তো
-ওরা আমায় আপনার সুবাদে ভাবী বলেছে
-একটু ভেবে দেখেন তো,,ওরা আমাকে মামা
বলছে।।তাহলে আমার সুবাদে বললে অবশ্যই
আপনায় মামী বলতো ভাবী না
-ধ্যাত
(বলেই একটা মুচকি হাসি দিয়ে চলে গেলো।।
সাথে সাথে হারামী গুলা হাজীর)
-কি মামু কাহিনী কি সেট নাকি
-হালায়রা বিপদে ফেলে পালাস,,আবার দূর
থিকা মজাও নিস
-হ প্রেম করবা আবার কাউরে
জানাবানা,,এহন থিকা রাস্তায় দেখলেই
ভাবী কমু।।এইটাই তোর শাস্তি
-কসম দোস্ত মেয়েটারে চিনিওনা
-এমন কসম ডেইলি কাটি মামু,,আমাগো মামু
বানাইনা অতো সহজ না
(তারপর হালায়রা আরো কিছু সময় পচাইলো।।
নিরীহ ছেলের মতন শুধু শুনলাম।।)
*
(তারপরের দিন দুই ক্লাস কইরে কেবল বেড়
হইছি আর মেয়েটা ডাক)
-এই এদিকে শুনুন
-হ্যা বলেন
-আপনার নামটা কি যেন
-রফি।।ক্যানো!!
-না এমনি।।আমি মিশু
-ওহ্
-চলুন না একটু কোথাও গিয়ে বসি
-সরি,,অন্য কাউকে বলেন
-চুপচাপ আসবেন কিনা
-না আসবোনা
(omg ম্যাইয়ার সাহস কী!!আমার কলার চেপে
টেনে নিয়ে যাচ্ছে)
-এই ছাড়ুন।।কি করছেন!!সবাই দেখে কি
ভাবছে
-তাহলে ভালো ভাবে পাশাপাশি হাঁটুন
-হাঁটছি তো।।এবার ছাড়ুন
(তারপর নিরীহের মতন মেয়েটার পাশে
হাঁটতে লাগলাম।।পেছনে তাকিয়ে দেখি
হারামী ফ্রেন্ড গুলা হেসে গড়াগড়ি
খাচ্ছে।।)
*
-এখানে একদম নিরিবিলি,,এখানেই বসা যাক
-আচ্ছা
-হুম তো মিস্টার রফি মেয়েতে আপনার
কিসের এত্ত এলার্জি
-মেয়েরা মায়াবী ছলনাময়ী।।ফুলের মতন
সুন্দর,,কিন্তু সাপের চেয়েও বিষাক্ত।।তাদের
থেকে যতটা দূরে থাকা যায় ততোটাই better
(মেয়েটা চোখ বড় বড় করে আমার দিকে
চেয়ে আছে।।মনে হয় ভুল যায়গায় ভুল কিছু
বইলে ফেলাইলাম।।রেগে ফেটেইই যাবে
প্রায়)
-মেয়েরা বিষাক্ত না।।দাঁড়ান এই বিষ-ই এখন
আপনায় খাওয়াবো
-মান.......
(পুরোটা বলার আগেই যেটা ঘটে গেলো
সেটা বলতে আমার একটুও লজ্জা লাগছেনা।।)
-কি করলেন এটা
-ক্যানো,,বিষ আছে কিনা টেস্ট করালাম
-ধ্যাত আপনার মাথা ঠিক আছেতো
-একটুও ঠিক নেই,,আর সব কিছুর কারণ আপনি
-আমি আবার কি করলাম
-আপনাকে ভার্সিটিতে সেই প্রথম থেকে
দেখে আসছি আপনি সবার থেকে একটু
অন্যরকম।।ক্যানো এমন সেটা নিয়ে ভাবতে
ভাবতে একটু বেশীইই ভেবে ফেলেছিলাম।।
যার কারণ স্বরূপ আপনার প্রেমে পড়ে যাই
-কি বলছেন এটা।।সবি ঠিক আছে।।কিন্তু
প্রেমটা আমার ডিক্সনারির বাইরে
-আমি কিচ্ছু শুনতে বা জানতে চাইনা
-তবে
-শুধু আপনাকে চাই
-ইম্পসিবল
-তবেরে।।এবার আপনাকে জড়িয়ে ধরলে কি
করবেন
-পাগলনাকি
-পাগলী,,আপনার প্রেমে
-আমি শপথ নিয়েছি,,আমি কখনো প্রেম
করবোনা
-আপনার শপথের গুষ্টি কিলাই,,তাহলে
আমাকে এখুনি বিয়ে করেন
-আপনার ট্রিটমেন্টের প্রয়োজন
(এবার দেখি মেয়েটা ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে
কাঁদছে।।)
-এই কান্না করছেন ক্যানো
-আমি আপনায় ভালবাসি বলে আপনি ভাবছেন
আমার মাথায় প্রব্লেম আছে
-ঠিক আছে কান্না করবেন না প্লিজ।।আজ
একটু তাড়াতাড়ি বাসায় যেতে হবে,,যাই?
-তবে প্রমিস করেন আজ বিকেলে দেখা
করবেন
-আজ একটু বাসায় কাজ আছে।।কাল দেখা
করি তবে
-হুম,,তবে কাল ভার্সিটি তে না অন্য কোথাও
দেখা করবো
-কোথায়
-সেটা ফোন করে বলে দিবো,,নাম্বার টা
দেন
-01700******
[ads2]
-আচ্ছা চলেন এক সাথে যাবো,,যাবার সময়
আমার বাসার সামনে নামিয়ে দিয়ে যাবেন
-ইয়ে মানে
-কোন কথা না,,নাহলে আবার কান্না করবো
কিন্তু
(ইয়া আল্লাহ্ তুমি কি ম্যাইয়াগো চোখের
সাথে সমুদ্রের সরাসরি লাইন সেট কইরে
দিছো নাকি।।এত্ত কান্না করতে পারে
ক্যামনে।।
তারপর নিরীহ ছেলের মতন মিশুকে রিক্সায়
করে ওর বাসার সামবে নামিয়ে দিয়ে আমার
বাসায় গেলাম)
*
{সারাদিন তো ভালোই কাটছিলো।।রাতে কি
হইলো জানিনা।।শুধু মিশুর কিস-এর কথা মনে
পরছিলো।।ওরে নিয়ে ভাবনার জগতে ডুবে
গেলাম।।চাইতেও ফিরে আসতে পারছিলাম
না।।কিন্তু ফিরতে সাহায্য করলো আমার
ফোন টা।।unknown নাম্বার থেকে কল}
-হ্যালো রফি
বলছেন
-হ্যা কে
-মিশু
-হুম বলেন
-আপনারো কি একি অবস্থা
-কি অবস্থা!!
-না কিছুনা,,কাল পার্কে আসবেন??
-সকাল করে পার্কে!!
-আচ্ছা তবে কোথায় যাবেন
-জানিনা
-ঠিক আছে সারাদিন রিক্সায় করে ঘুরবো
-না ঘুরলে হয়না
-ঘুরবেন কিনা তাই বলেন[রাগ দেখিয়ে]
-হুম ঘুরবো তো
-গুড বয়।।ঠিক সকাল ১০টায় আমার বাসার
সামনে থেকে নিয়ে যাবে।।বাসা তো
চিনেন-ই।।আর এক মিনিটও যেন দেরী না হয়
-যা আপনার ইচ্ছা
-হুম,,কি করছেন
-আপনায় নিয়ে ভাবছি[ হায় হায়,,এইডা কি
বলে ফেললাম আমি]
-ওয়াও সত্যি
-এইই না না,,ভুলে বলছি
-হিহিহি,,ভুলে বললেও সত্যি টা তো বলছেন।।
আমিও আপনায় প্রথমে এটাই জিজ্ঞাসা
করেছিলাম<আপনিও কি আমায় নিয়ে
ভাবছেন>
-ঘুমাবেন না
-হুম ঘুমাবো,,তবে আজ সারারাত আপনার
সাথে কথা বলবো
(তারপর পুরো ৩ঘন্টা কথা বলে বালিকা কয়
আজ বেশী কথা বলতে পাড়লাম না।।সকালে
উঠতে হবে।।ঘুমিয়ে পরুন।।সাথে একটা গুড
নাইট পাপ্পি দিলো।।ক্যান জানি তখন খুব
ভালো লাগছিলো।।)
*
{রাতে ঘুমাতেই পাড়ছিলাম না।।কেন জানি
মনে হচ্ছিলো কখন সকাল হবে।।সকাল সকাল
উঠে পরলাম।।
ফ্রেস হয়ে খুবি টিপ-টপ হয়ে বেড় হলাম।।
রিক্সা নিয়ে মিশুদের বাড়ির সামনে
গেলাম।।মেয়েটা নিচেই দাঁড়িয়ে আছে।।
হলুদ colour এর একটা শাড়ী পরেছে।।সাথে
ঠোঁটে হালকা গোলাপি লিপগ্লোজ।।চোখে
টানা মাশকারা।।চুলগুলো শুধু বাধা,,এই একটাই
অপূর্ণতা রয়ে গেছে।।তাও চোখ ফেরাতে
কষ্ট হচ্ছে।।}
-এই আমার হাতটা ধরে তুলুন
-দাঁড়ান আর একটু দেখে নেই[হায় হায় আবার
কি কইলাম ]
-[লজ্জা পেয়ে অন্য দিকে তাকিয়ে]চলে
যাচ্ছি না।।পরেও দেখতে পাবেন
(হাত ধরে রিক্সায় তুললাম।।দুজন পাশাপাশি
বসে আছি।।উদ্দেশ্যহীন পথ।।
রিক্সা চলছে।।আমি শুধু অপলক দৃষ্টিতে
মিশুকে দেখছি।।হয়তো এবার প্রেমে পরেই
গেছি)
-মামা কোন এক নদীর পাড়ে চলুনতো
-আচ্ছা
(মিশুর হাতে কিছুক্ষণ বাদে খেয়াল
করলাম,,মেয়েটা মেহেদী নিয়েছে।।
ওর হাতের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে
হাতটা বাড়িয়ে দিলো)
-নিন ধরুন
-মেয়েদের হাত এত্ত নরম ক্যানো
-[চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে]কয়টা মেয়ের
হাত ধরছেন
-আপনিই প্রথম
-তবে জানলেন কি করে মেয়েদের হাত নরম
-আপনার হাত নরম তো,,তাই ভাবলাম অন্যদের
হাতও নরম
(মেয়েটা হাসছে।।আমার দৃষ্টি যেন শুধু
তাকেই দেখতে চায়,,সব ভুলে যেতে চায় তাঁর
এই মন ভুলানো হাসিতে)
-মামা নদীর পাড়ে চইলে আইছি
{ওহ্।।
মিশুর দিকে তাকিয়ে থেকে ভুলেই গেছিলাম
কোথাও এসে রিক্সাটা থেমে আছে।।
ভাড়া টা দিয়ে মিশুকে নিয়ে রোদে
বাতাসে মিশ্রিত নদীর ধার দিয়ে হাঁটছি}
-মিশু একটা কথা বলি
-হুম বলুন
-আপনার চুলগুলা খুলে দিননা,আরো বেশী
ভালো লাগবে
-আপনিই খুলে দিন
(মেয়েটার চুল খুলে দিলাম।।বাতাসে চুল গুলো
এলোমেলো ভাবে উড়ছে।।তবুও এখনো কি
যেন অপূর্ণতা রয়ে গেছে।।
হ্যা মেয়েটার হাত ধরে হাঁটতে পারলেই
পূর্ণতা পাবে।।)
-আপনার হাত টা কি ধরতে পারি
-পারেন তবে একটা শর্ত আছে
-কি শর্ত??
-এখন থেকে আমায় তুমি করে বলবেন,,আর
আপনাকেও তুমি বলার অধিকারটা দিবে।।
অন্য কাউকে দিতে পারবেন না
-হাহাহা,,আচ্ছা আমি তোমার শর্তে রাজি
{দুজনেই নদীর কূল ধরে হেঁটে চলেছি।।পদধূলি
এঁকে দিচ্ছে আমাদের ভালবাসা ছাপ।।এই পথ
চলা একটা সময় শেষ হয়ে যাবে।।তবে থেমে
যাবে সেদিনি যেদিন দুটি প্রাণের অন্তঃ
ঘটবে

কালো মেয়েটি । কালো মেয়ের ভালোবাসা

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *