মায়াবতী কালো বউ

মায়াবতী কালো বউ

ছি আবিরের রুচি দেখেছিস এমন কালো কুচকুচে মেয়ে পছন্দ করেছে বিয়ের জন্য ,আমার তো দেখলেই গা ঘিনঘিন করে ।
– তুমি ঠিকই বলেছো খালামনি ছোট ভাইয়াটা কি যে মেয়ে পছন্দ করেছে । বড়ো দুই ভাবি দেখতে কি সুন্দর আবার খুব বড়ো লোক ঘরের ।
– আমি তো এই বিয়েতে আসতেই চায়নি শুধু বুবুর কথা রাখতে আসা । যেদিন এই মেয়ে দেখতে গিয়েছিলাম সে দিনই আমার দেখে মেজাজ খারাপ হয়েছিল । আবির ছেলেটা লেখা পড়া জানা কতো সুন্দর একটা ছেলে আর ও বিয়ে করবে  কুচকুচে কালো বউ এটা মানতে কষ্ট হচ্ছে ।
– ভাইয়া সোজা বলে দিয়েছে এই মেয়ে ছাড়া বিয়ে করবে না বাবা মা কি করবে বলো ?
– কি দিয়েছে এই মেয়ের বাপের বাড়ি থেকে ,যে কালো মেয়ে ঘর সাজিয়ে মালপত্র দেওয়া উচিত ।
– ছোট ভাইয়া গরিব ঘরের মেয়ে বিয়ে করেছে ।আর সোজা বলে দিয়েছে কোনও যৌতুক নেওয়া চলবে না।
– আফসোস ছেলেটার জন্য । আমার দেবরের মেয়ে আনিকা দেখতে কতো সুন্দর তোর মাকে বললাম মেয়েটাকে আবিরের সাথে আনো শুনলোই না। আর এখন  কপালে জুটলো  রকম কালো ব।
,
কিরে এখানে কি করিস ? তখন থেকে ডেকে যাচ্ছি ,আবির রেডি তোদের ডাকছে বরযাত্রী যেতে হবে না?
কথা টা বললেন আবিরের মা তাঁর ছোট মেয়েকে ।
তাঁর কথা শুনে আবিরের ছোট বোন আর খালার কথা থেমে গেল । ছোট বোন জয়ী বললো ,
– মা আমার যেতে ইচ্ছে করছে না ।
– সে কি কথা কেন ?
– তোমার ছেলের বউতো একটা পেত্নি তাকে আনতে যাওয়ার কি আছে ।
আবীরের মা পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছোট বোনকে বললো ,
– দেখেছিস জয়ীর কথা কি বলছে ? কালো হোক পেত্নি হোক এই বাড়ির ছোট বউ। আবীর শুনলে কষ্ট পাবে না বল ?
– জয়ী ঠিকই বলেছে বুবু ! ওর বউ আসলেই খুব কালো। দেইখো একদিন তোমাদের এই কালো বউ য়ের জন্য আফসোস করতে হবে ।
সব কিছু শুনে আবীরের মায়ের কপালে ভাজ পড়লো আসলেই কি মেয়েটা লক্ষী !
,
আবীরের আরো দুইটা বড়ো ভাই আছে । তিন ভাই এক বোন। বড়ো দুইভাইয়ের বউ অনেক সুন্দরী এবং বড়ো লোক ঘরের মেয়ে । ছোট বোন এখনও লেখা পড়া করছে । বাবার বিরাট বিজনেস তিন ভাই মিলে দেখা শুনা করে । সবাই এক পরিবারে থাকে । আবীর ছোট বেলা থেকে একটু ব্যতিক্রম । সবার মতো না। ওর ইচ্ছে ছিল এমন মেয়ে বিয়ে করবে যে দেখতে অসম্ভব সুন্দর দেখতে হবে না বিরাট কোটিপতির মেয়ে হবে না। কিন্তু সুন্দর একটা মন থাকবে যাকে বিয়ে করে সুখে কাটাতে পারবে সারাটা জীবন।
,
আবীরের বউয়ের নাম মায়া । মেয়েটা দেখতে কালো। কিন্তু অদ্ভুত একটা মায়া সারাটা চোখ জুড়ে যেটা আবীরের দেখে ভাল লেগেছে । মায়া আবীরের বন্ধুর বোন । কখনও কারো সাথে কেউ কথা বলেনি। কিন্তু আবীর ওর বন্ধুর বোন মায়া কে ওদের বাড়িতে দেখে পছন্দ করে । তাঁরপর বাবা মাকে জানায়। আবীরের বাবা আমজাদ হোসেন । ছোট ছেলেকে কিছু বললেন না। কারণ ছেলে বড়ো হয়েছে তাকে বাধা দেওয়ার কোনও ইচ্ছে নেই। বড়ো দুই ছেলেকে নিজের বন্ধুর দুই মেয়ের সাথে দিয়ে ঘরে এনেছেন তাই ছোট ছেলের বেলায় সে নিরব ভুমিকা পালন করলেন ।
,
আবীরের বরযাত্রীতে খুব কম লোক গেল । আবীরের কিছু বন্ধু আর কাজিন কয়েক জন। আবীরের ছোট মামা আর খালু । মাত্র হাতে গোনা বিশ পঁচিশ জন। আবীর ভাল করে জানে মায়াকে এই বাড়ির কারো পছন্দ না। কিন্তু সবাই একদিন নিজের ভুল বুঝতে পেরে মায়াকে আপন করে নেবে।
,
বড়ো দুইভাই এবং তাদের বউ সোজা বলে দিয়েছে তাদের সমস্যা আছে যেতে পারবে না। আর আমজাদ সাহেবের কোনও টু শব্দ নেই এই নিয়ে ।
আবীরের মার হয়েছে যতো জালা। এক দিকে আবীর তাঁর ছোট ছেলে অন্য দিকে কেউ রাজি না এই বিয়েতে । কি হবে পরে এটা ভেবে তিনি অস্থির ।
,
ওদিকে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ । এখন বউ আনার পালা। মায়া এখনও ভাল করে আবীর কে দেখেনি। কেমন হবে ওদের বিবাহিত জীবন তাই ভাবতে লাগলো সারাটা পথ। অবশ্য আসার আগে মাকে জড়িয়ে ধরে খুব কেঁদেছিল। বাবা অনেক ছোট থাকতেই মারা যায় । ভাইটাই সব।
,
মায়াকে বাড়িতে আনা হলো। বরন করতে আবীরের মা এগিয়ে এলো। বড়ো দুই বউ যার যার ঘরে । জয়ী ও এলোনা । মায়া শ্বাশুরি কে সালাম করলো। তিনি একটা সোনার নেকলেস মায়াকে পড়িয়ে দিলেন । কিন্তু অদ্ভুত বিষয় হচ্ছে মেয়েটা কালো কিন্তু নেকলেস পরানোর সাথে সাথে সমস্ত ঘর আলোকিত হয়ে গেল ।
,
আবীরের মা মায়াকে নিজের ঘরে নিয়ে গেলেন । আবীরের বাবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন । তাকে পায়ে হাত দিয়ে সালাম করতেই তিনি সরে গেলেন । তাই দেখে মায়া অবাক হয়ে গেল । আমজাদ সাহেব এবার চেয়ারে বসে বললেন ,
– আমার ছোট ছেলের বিয়ে আমি আমার পছন্দ করা মেয়ের সাথে দিতে চেয়েছিলাম কিন্তু সে তোমাকে বিয়ে করেছে । বিয়ে করেছে ভাল কথা যেদিন তুমি এই বাড়ির সবার মন জয় করতে পারবে সেদিন আমি তোমাকে মেনে নেবো।
এখন তুমি যেতে পারো।
,
সব কিছু শুনে মায়ার চোখ ভিজে গেল । মাথা নিচু করে শ্বশুরের সামনে দাঁড়িয়ে আছে । আবীরের মায়ের খুব কষ্ট লাগছে কিন্তু স্বামীর মুখের উপরে কথা বলার সাহস নেই। আবীর এ সবের কিছু জানেনা। সে পাশের ঘরে বন্ধুদের নিয়ে ব্যস্ত ।
,
মায়াকে আবীরের এক কাজিন বাসর ঘরে বসিয়ে দিয়ে আসলো। একটু পর আবীর ঘরে ঢুকলো। মায়া আবীরের পায়ে হাত দিয়ে সালাম করতেই আবীর ওর ঘোমটা তুলে ওর চেহারা দেখে অবাক হয়ে গেল । মায়াকে বললো ,
– সে কি তুমি কাঁদছো কেন ?
– মায়ের জন্য খারাপ লাগছে ।
– কয়েক দিন পর সব ঠিক হয়ে যাবে ।
– আচ্ছা ! আমি এতো কালো তবু ও আপনি আমাকে কেন বিয়ে করলেন ?
– তোমাকে কেমন লাগে দেখতে এটা জানতে হলে আমার চোখ তোমার চোখের জায়গায় লাগাতে হবে ।
এই কথা শুনে মায়া হেসে দিলো। সারা রাত দুজনের গল্প করে কেটে গেলো।
,
সকালে মায়া ফজরের নামাজ পরে কোরআন তেলাওয়াত করলো। আবীর কে জাগিয়ে আজ ফজরের নামাজ পড়িয়েছে। একটু পর মায়া গেল রান্না ঘরে ।যেয়ে দেখে শ্বাশুরি রান্না করছে । মায়া এখনও দুই জা এবং ননদ কে দেখেনি। অবশ্য কেউ দশটার আগে ঘুম থেকে ওঠে না। তিন ছেলে আর স্বামীর জন্য আগে আগে রান্না ঘরে ঢুকতে হয়। বিয়ের এক বছরের মধ্যে বড়ো দুই বউ কখনও দেখেনি। ছোট বউকে দেখে তিনি অবাক হয়ে গেলেন বললেন ,
– তুমি রান্না ঘরে কেন মা নিজের রুমে যাও।
– মা আমি গরিব ঘরের মেয়ে কাজ করতে ভাল লাগে আপনি সরুন আমি রান্না করছি।
এই বলেই জোর করে কাজে লেগে গেল ।একটু পর বড়ো দুই বউ এসে ওকে দেখে অবাক ।মনে মনে বললো সবার চোখে ভাল হওয়া নাটক কিছু দিন যাক তখন দেখা যাবে রান্না ঘরে উঁকি ও দিচ্ছে না।মায়া চা নিয়ে শ্বশুরের ঘরের দিকে গেল মনটা ছটফট করছে তিনি যদি কিছু বলে ওঠেন ।চা নিতেই একটু পর কিছুর শব্দ পাওয়া গেল মনে হচ্ছে কেউ কিছু ভেঙে ফেলেছে । আমজাদ সাহেব চায়ের কাপ ভেঙে চিৎকার করে বললেন ,,,

,
– মা ! আপনি ভাল করেই জানেন যে আবীরের বউকে বাবা মেনে নেননি। তাহলে ওকে কেন চা নিয়ে পাঠালেন ?
– আপু ঠিকই বলেছে , আপনি তো ওকে নিষেধ করবেন বাবার সামনে যেতে ।
,
কথা গুলি বললো আবীরের বড়ো দুই ভাবি। ওঁদের কথা শুনে আবীরের মা বললো ,
– দেখো বড়ো বউমা মেজো বউমা তোমাদের মতো মায়া ও এই বাড়ির বউ। ওর যেতে দোষ কোথায় ?
– আমরা তো কিছু বলছিনা এই নিয়ে , যা বলার বাবাই তো কাল বলে দিলো। (বড়ো বউ)

  • আপু চলোতো এখান থেকে চলে যাই। ওদের অফিসের সময় হয়ে গেছে ।
    ,
    দুই বউ চলে যেতেই আবীরের মায়ের মনে সংশয় দেখা দিলো বড়ো দুই বউ ভিষন অহঙ্কারী কিভাবে মায়াকে আপন করে নিবে আল্লাহ ভাল জানে। তিনি তড়িঘড়ি ঘরে নিজের ঘরের দিকে এগিয়ে গেলেন দেখতে পেলেন আমজাদ সাহেব চায়ের কাপ ফেলে দিয়ে মায়াকে রাগের সাথে বলছেন ,
  • দিলেতো সকালে আমার মেজাজ খারাপ করে ।
  • বাবা আমি জানতাম না আপনি চায়ে চিনি খান না।
  • তোমাকে আমি জানতে ও বলিনি। আমার কোনও কাজ তোমার করতে হবে না। চাকর আছে কাজের জন্য । আমার ভাল লাগে না এতো আদিখ্যেতা ।
  • বাবা আমার ভুল হয়ে গেছে । দয়া করে আমাকে এভাবে দুরে ঠেলে দেবেন না। আমার বাবা নেই আপনি আমার বাবা ।
    ,
    আমজাদ সাহেব চুপ হয়ে আছেন ।এমন সময় আবীরের মা ঘরে ঢুকে বললো ,
  • আবীরের বাবা, আসলে ছোট বউমার কোনও দোষ নেই আমি ওকে বলে দেইনি আপনি চায়ে চিনি খাননা।
    আবীরের বাবা বললো ,
  • এতোদিন তুমি আমাকে চা দিয়েছো আজ কি দিতে সমস্যা ছিল তোমার ?
    আবীরের মা স্বামীর কথা শুনে চুপ হয়ে গেলেন ।
    ,
    মায়া ঘরে যেতেই আবীর ওর হাত টেনে ধরলো। মায়া লজ্জা পেয়ে বললো ,
  • কি করছেন আপনি ? ছাড়ুন কেউ দেখে ফেলবে ?
    -আমার বউয়ের হাত আমি ধরেছি কার কি ?
    বাবার ঘরে চা নিয়ে গেয়েছিলে ?
  • হ্যা ,
  • বাবার কথায় কষ্ট পেয়েছো তাই না ?
    কথাটা শুনে মায়ার চোখ ছলছল করছে। আবীর মায়াকে খাটে বসিয়ে পাশে বসে বললো ,
  • ছোট বেলা থেকে দেখে আসছি বাবা ভিষন রাগী । বড়ো দুই ভাইয়াকে নিজের বন্ধুর দুই মেয়ে এনে দিয়েছেন, তাদের কোনও অন্যায় কখনও বাবা চোখে পরে না। তোমাকে আমি নিজে পছন্দ করেছি বাবা চেয়েছিল অন্য মেয়েকে বিয়ে করি তাই এতো রেগে আছে । তুমি এই সব নিয়ে মন খারাপ করবে না। একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে ।
    মায়া এবার চোখের পানি ঝরঝর করে ছেড়ে দিয়ে বললো ,
  • তাহলে আমাকে কেন বিয়ে করলেন ? বাবার পছন্দ করা মেয়েকে বিয়ে করতেন ?
    আবীর ওর চোখের পানি মুছে দিয়ে বললো ,
  • আরে পাগলি বউ আমার । সবার পছন্দ করা মেয়ে বিয়ে করলে সবাই খুশি হতো কিন্তু আমি আমার এই মায়াবতী কে কোথায় পেতাম ? আমার দরকার তোমাকে আর কোনও সুন্দরী মেয়েকে না।
    ,
    মায়ার কষ্ট আবীরের সব কথা শুনে মুছে যেতো। ঘরে আসলেই স্বামীর ভালোবাসায় ও মুগ্ধ হয়ে যেত। এই সুযোগ টাই কাজে লাগিয়ে আবীরকে বললো ,
  • আজ আমাকে একটা কথা আপনার দিতে হবে ?
  • কি কথা বলো ,আমি তোমার সব কথা শুনবো ?
  • বেশি কিছু না শুধু পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়তে হবে । আমাকে কথা দেন আমার কথা রাখবেন ।
    আবীর হেসে দিয়ে বললো ,
  • আচ্ছা ঠিক আছে তোমাকে কথা দিলাম । আসলে কি জানো ছোট বেলায় বাবার হাত ধরে আমরা তিন ভাই মসজিদে চলে যেতাম কিন্তু বড়ো হবার পর নিজেদের ক্যারিয়ার গড়তে গিয়ে নামায এ অলসতা চলে আসলো। কিন্তু এখন থেকে আগের মতো মসজিদে যাবো।
    কথাটা শুনে মায়া খুব খুশি হলো।
    ,
    মায়ার সাথে দুই জা আর ননদ জয়ীর দেখা হয়েছে । কিন্তু মায়ার সাথে কেউ ভাল করে কথা বলিনি। বিশেষ করে বড়ো দুই জা। ওদের সারা দিন রুপচর্চা আর হিন্দি সিরিয়াস নিয়ে সময় কেটে যায় । শ্বাশুরির সাথে খুব কম সময় রান্না ঘরে থাকে । আবীরের মায়ের এই বয়সে ও রান্নার ধকল সামলাতে হয়। আর বাকি কাজ যদিও কাজের মানুষ করে কিন্তু আসল কাজ গুলি তো নিজেদের ই করতে হয়।
    ,
    মায়া রান্না ঘরে শ্বাশুরির সাথে সব কিছুতে সাহায্য করলো। বড়ো দুই বউ একটু এসেছিল কিন্তু মায়া কে দেখেই মুখ বাঁকিয়ে ঘরে চলে গেল ।কেমন একটা ভাব যেন মায়া যেখানে থাকবে ওরা থাকবে না। আবীরের মায়ের এসব দেখে ভিষন রাগ হলো। সুযোগ খুঁজতে থাকলো বড়ো দুই বউকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেবেন মায়া কালো হলেও একটা মানুষ ।
    ,
    আমজাদ সাহেব দুপুরে নামায পড়তে মসজিদে গেলেন । তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়েন । ছেলে বউদের ও পড়তে বলেন কিন্তু কেউ তাঁর কথা শুনে না। কিন্তু আজ যখন ফজরে আবীর কে মসজিদে দেখলেন উনার খুশি লাগলো। আবার বাসায় এসে ছোট ছেলের ঘর থেকে কোরআন শরীফের গুনগুন আওয়াজ শুনে মনটা শান্তিতে ভরে গেল ।
    যোহরের নামাজে আবীর কে দেখে মনে মনে বললেন – দেখা যাক ছোট বউ কতোদিন এই অপদার্থ কে মানুষ বানাতে পারে । তিনি খুশি হলেও সেটা প্রকাশ না করে বাসায় চলে এলেন ।
    ,
    আমজাদ সাহেব সোজা বলে দিয়েছেন সারা দিন কে কোথায় থাকো আমি জানিনা। কিন্তু দুপুরে সবাই এক সাথে বসে খাবো। এই নিয়ম অনেক দিন থেকে চলে আসছে । তিনি নামায শেষ করে আসতেই সবাই খাবার টেবিলে চলে আসলো। খাবার টেবিলে আবীরের মা এবং বড়ো দুই বউ খাবার সাজাচ্ছে। মায়া ঘরের ভিতরে সবার সামনে আসতে চাইছে না। আবীরের যদিও খারাপ লাগছে কিন্তু মায়া বলেছে – আপনি সবার সাথে খেয়ে নিন। আমি পরে খাবো।
    আবীর ওর কথা শুনে বললো ,
  • ঠিক আছে তোমার কথা রাখতে সবার সাথে বসে আমি অল্প খাবো পরে কিন্তু তুমি যখন খাবে আমাকে ও খাইয়ে দিতে হবে । কথাটা শুনে মায়া হেসে দিলো।
    ,
    আমজাদ সাহেব সবাই কে নিয়ে খাচ্ছেন । আজ রান্না হয়েছে গরুর মাংস ভোনা ছোট মাছ চচ্চড়ি বেগুন ভাজি আর রুই মাছের মাথা দিয়ে মুগ ডাল।
    মায়া অনেকটা জোর করেই শ্বাশুরির কাছ থেকে এই সব নিয়ে রান্না করেছে । কিন্তু উনার বুকটা ঢিবঢিব করছে খেয়ে সবাই কিছু না বলে ।
    ,
    কিছু সময় পর আমজাদ সাহেব বললেন ,
  • অনেক দিন পর একটা ভিন্ন হাতের স্বাদ পেলাম । কে রান্না করেছে বড়ো বউমা নাকি মেজো বউমা ?
    ,
    আবীরের মা ঝটপট উওর দিলো ছোট বউমা সব রেঁধেছে। সবাই উনার কথা শুনে মুখ অবাক হয়ে গেল । বড়ো দুই ছেলে বললো – তুমি ঠিকই বলেছো বাবা রান্না অনেক ভাল হয়েছে । রোজ মায়ের হাতের রান্না খাই আজ ভিন্ন স্বাদ । মা ছাড়া তো এই বাড়িতে রান্না করার কেউ নেই। আজ কেউ আসলো তাহলে ।
    ,
    ওদের কথা শুনে বড়ো দুই বউ রেগে আগুন । মনে মনে ঠিক করলো ওই পেত্নি কে উচিত শিক্ষা দিতে হবে ।এভাবে কেউ আগে বলেনি। ওই মেয়ে ইচ্ছে করে এসব কাজ করছে ভাল সাজতে চাইছে সবার কাছে ।
    ,
    কথা গুলি মায়ার কানে ও গেল । মায়া খুব খুশি আগের থেকে আরো বেশি সংসারে মন দিলো।
    ওদিকে দুই বউ সারা দিন মায়াকে শায়েস্তা করার ফন্দি করতে থাকে কিন্তু পারে না । মায়া ভাল করেই বুঝতে পারে তাঁর কিভাবে চলা উচিত । মায়া এখন বেশির ভাগ সময় শ্বাশুরির সাথে সময় কাটায়। শ্বশুরের কিছু লাগলে সেটা করে কিন্তু আড়ালে থেকে যেটা আমজাদ সাহেব খুব ভাল করে বুঝতে পারেন ।
    ,
    সেদিন সবাই ঘুম । মায়ার ছোট বেলা থেকে ঘুমের ভিতরে উঠে একবার পানি খেতে হবে ।কিন্তু আজ পানি ঘরে রাখতে মনে নেই। পানির জগ নিয়ে রান্না ঘরের দিকে এগিয়ে আসতে লাগলো। কিন্তু এতো রাতে জয়ীর ঘরের লাইট অন করা দেখে একটু অবাক হলো। মনে মনে ভাবলো হয়তো সামনে ওর পরীক্ষা ।পানি নিয়ে চলে আসবে ঠিক এমন সময় টের পেলো জয়ী বমি করছে ।মায়া পাশে একটু দাঁড়ালো । জয়ী কি অসুস্থ এতো রাতে বমি করছে । যদিও জয়ী ওকে পছন্দ করে না, এটা ও বুঝতে পারে তবু ও ওর ঘরে গেল ।
    ,
    ঘরে ঢুকবার পর মায়া জয়ীর কথা শুনে চমকে গেলো। জয়ী কাউকে ফোনে বলছে ,
  • মাহিম আমি এখন কি করবো বলো । তোমার সন্তান আমার পেটে তিন মাস হতে চললো ।ভয় করে বাসার কেউ যদি টের পায় তখন কি হবে । ভাইয়ারা জানতে পারলে খুন করে ফেলবে আর বাবা জানতে পারলে কিয়ামত করে দিবে সারা বাড়িতে । প্লিজ তুমি কিছু করো।
    ,
    মায়া সব শুনে হা করে তাকিয়ে আছে । জয়ী কথা শেষ করে পিছনে ফিরে চাইতেই দেখে ছোট ভাবি দাঁড়িয়ে আছে । জয়ী ভুত দেখার মতো চমকে উঠে মায়াকে বললো ………

ভাবি আমি তোমার পায়ে ধরি তুমি কাউকে বলো না আমার আর মাহিমের বিয়ে হয়েছে এক বছর হতে চললো। বাবা জানতে পারলে খুন করে ফেলবে।
মায়া ওর কথা শুনে হা করে আছে। জয়ী কি বলছে পাগলের মতো !
জয়ী মায়ার পা জড়িয়ে ধরে কেঁদে চলেছে।
ছোট ভাবি আমি তোমাকে অনেক অপমান করেছি তোমার যা ইচ্ছে তাই বলো, কিন্তু কথাটা কাউকে বলো না।
,
এবার মায়া মুখ খুললো বললো,
– দেখো জয়ী আমাকে এই বাড়ির কেউ পছন্দ করে না  আমি কালো বউ বলে  এটা তুমি ভালো করে জানো। আমার কিছু করার নেই তুমি যা ভালো বোঝ করো।
– ভাবি আমি জানি তুমি আমার উপরে রেগে আছো।
আমি তোমার ছোট বোনের মতো আমার উপরে তুমি রেগে থেকো না। একটা কিছু করো ভাবি!
– ঠিক আছে তুমি ঘুমাও আমি দেখছি কি করা যায়।
,
মায়া চিন্তা করতে লাগলো কি করা যায়। কথাটা আবীর কে জানাতে হবে। কিছু হবার আগেই। সারা রাত মায়া চিন্তা করতে লাগলো কিভাবে সমাধান করা যায়।
সকালে মায়ার লাল চোখ দেখে আবীর জিজ্ঞেস করলো,
– মায়া তোমার শরীর খারাপ?
-কই নাতো কেন?
-তোমার চোখ লাল কেন জ্বর আসেনি তো?
– আমার কিছু হয়নি আপনার চিন্তা করতে হবে না।
মায়ার কথা শুনে আবীর আর কিছু বললো না।
,
জয়ীকে মায়া বলে দিয়েছে তুমি সাবধানে থেকো কেউ যেন জানতে না পারে।
পরের দিন মায়া শ্বাশুড়িকে সব খুলে বললো। তিনি সব শুনে হায় হায় করতে লাগলো। মায়া বুঝিয়ে বললো,
– মা আপনি চিন্তা করবেন না। আল্লাহর হুকুম ছাড়া কিছু হয় না। আর ওদের অনেক আগেই বিয়ে হয়ে গেছে বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে ওদের সাহস হয়নি কিছু বলার। তাছাড়া জয়ী এখন মা হতে চলেছে যেভাবে হোক বাবাকে রাজি করাতে হবে।
– ছোট বউমা তুমি তোমার শ্বশুড় কে চেনো না। কিয়ামত ঘটিয়ে ফেলবে। আর বেশি ভয় হচ্ছে বড়ো দুই বউ নিয়ে জানতে পারলে সারা বাড়িতে ঢোল বাজিয়ে ছাড়বে।
– মা আপনি কোনও চিন্তা করবেন না। আমি ছাড়া আর কেউ জানতে পারবে না। আপনি এখন জয়ীকে এই নিয়ে কিছু বলবেন না। এমনিতেই ও অনেক টেনশনে আছে।
-ঠিক আছে মা আমি বলবো না। আমার মেয়ে কেন এমন করলো আমাকে বলতে পারতো আমি ওর বাবাকে রাজি করাতাম। এখন কি হবে।
-মা আপনি এভাবে ভেঙে পড়বেন না আল্লাহ ঠিক একটা উপায় করবেন।

,
বড়ো দুই বউ নিজদের মতো থাকতে লাগলো। মায়ার সাথে তেমন কথা বলে না। মায়া ও নিজের মতো থাকে। বাকিটা সময় মায়া জয়ীর সাথে অথবা শ্বাশুড়ির সাথে গল্প করে কাটায়। জয়ীকে শান্তনা দেয় ধৈর্য ধরতে।
,
একদিন আমজাদ সাহেব নামায শেষে বাড়িতে এলেন। কিন্তু শরীর টা ভালো লাগছে না। কেমন যেনো বমি বমি ভাব। এসেই বিছানায় শুয়ে পড়লেন। মায়া শ্বশুড় আসার আগেই প্রতিদিনের মতো খাবার রেডি রাখলো কিন্তু তিনি যখন ঘরে চলে গেলো মায়ার সন্দেহ হলো বাবার শরীর ঠিক আছে তো?
ও তাড়াতাড়ি করে আমজাদ সাহেবের ঘরের দিকে এগিয়ে গেলো যেয়ে দেখতে পেলো আমজাদ সাহেব হড়হড় করে বমি করছে। মায়া ভয় পেয়ে গেলো কি করবে। ওদিকে শ্বাশুড়ি বাড়িতে নেই ছোট বোনের বাড়িতে গেছে। মায়া বড়ো দুই জা কে তাড়াতাড়ি ডাকতে গেলো সব শুনে দুই বোন বললো,
– এতে এতো লাফালাফির কি আছে মানুষের মাঝে মাঝে বমি হতেই পারে। একটু পর ঠিক হয়ে যাবে।
,
মায়া আর কিছু না বলে আবীর কে ফোন করে আসতে বললো। জয়ীকে সাথে নিয়ে শ্বশুড়ের কাছে গেলো। সব কিছু ধুয়ে পরিস্কার করলো। এর মধ্যে আবীর চলে আসলো। আমজাদ সাহেব কে হাসপাতালে তাড়াতাড়ি করে নিয়ে গেলো। ওখানে নিলে ডাক্তার বললো উনার পেটে পয়জন ঢুকেছে ঠিক হয়ে যাবে। হাসপাতালে নেওয়ার পর কয়েকবার বমি হলো। মায়া সব সময় ডাক্তারের সাথে সাথে থাকছে। কখনও আমজাদ সাহেবের কাছে কখনও ডাক্তারের কাছে। আবীরের মাকে ও খবর দেওয়া হয়েছে তিনি এসেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন।
,
মায়া শান্তনা দিতে লাগলো। বললো কিছু হবে না আল্লাহ আছেন সাথে। আমজাদ সাহেবের পেট ওয়াশ করানো হলো স্লাইন চলছে। বড়ো দুই বউ ও এসেছে।
তারা এসেই এমন ভাব করতে লাগলো যেন তাদের মতো ভালো মানুষ আর নেই।
,
এখন আগের থেকে অনেক সুস্থ আমজাদ সাহেব। মায়া এখন আর হাসপাতালে আসছে না।যদি শ্বশুর বলে তুমি এখানে কেন এসেছো তখন কি বলবে এই ভয়ে। বড়ো দুই বউ এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভালো সাজতে লাগলো।
,
দুই দিন পর আমজাদ সাহেব বাড়িতে এলেন।
এখন অনেক সুস্থ। মায়া শ্বশুড়ের সামনে এলো না।দুর থেকে দেখে চলে গেলো। পরের দিন সবাই দুপুরে খেতে বসলো। এমন সময় আমজাদ সাহেব বললেন,
– আবীরের মা ছোট বউমা কে ডাকো।আমাদের সাথে খাবে।
সবাই আমজাদ সাহেবের কথা শুনে মুখ চাওয়া চাওয়ি করতে লাগলো। তিনি আবার বললেন,
,-
-কি হলো ডাকো।
,
মায়া কাছেই ছিল। জয়ী তাড়াতাড়ি করে মায়া কে নিয়ে আসলো।মায়া আসতেই তিনি উঠে গিয়ে মাথায় হাত রেখে বললেন,
– আল্লাহ অনেক ছোট থাকতে আমার মাকে উঠিয়ে নিয়ে গেছেন। আজ এতো গুলো বছর পর আবার ফিরিয়ে দিলেন। মাগো সত্যি তুই রত্ন। যাকে আমার ছোট ছেলে খুঁজে এনে দিয়েছে আমার কাছে।
,
তোমরা সবাই অবাক হচ্ছো কেন এমন কথা বলছি কারণ একজন সন্তান ই তাঁর মাকে চিনতে পারে। মেয়েটা এই বাড়ির লক্ষী আর এই লক্ষীকে আমি চিনতে ভুল করেছি। মায়া ছোট বাচ্চাদের মতো কাঁদতে লাগলো। আবীরের চোখে ও পানি। মায়া পেরেছে বাবাকে খুশি করতে।
,
সেদিন হাসপাতালে বসে আবীরের বাবা বলেছিল,
-জানো আবীরের মা, আমি এতোদিন রত্ন ছেড়ে কাচের পিছনে ছুটেছি। ছোট বউমা কালো হতে পারে কিন্তু একটা লক্ষী। আমি হাসপাতালে না এলে বুঝতে পারতাম মা মেয়েটা কতোটা কর্তব্য পরায়ণ।ও আমার মন জিতে নিলো। আর কেউ ভালোবাসুক বা না বাসুক তাতে কোনও সমস্যা নেই। ও যে আমার মা। আমি ওকে আগলে রাখবো।
,
আবীরের মা ও খুশিতে কাঁদছে। বড়ো দুই বউ হিংসায় জ্বলে যাচ্ছে। মায়া জিতে গেলো একটা কালো পেত্নী হয়ে ও।রাগের সাথে ওখান থেকে চলে গেলো।
,
সবাই এখন খুব খুশি। মায়া আরো ভালো করে সংসারে মন দিলো। সবই ঠিক এখন শুধু জয়ীর সমস্যা।
,
সেদিন রাতে মায়া আবীরের কাছে সব কিছু বললো। আবীর বললো,
– আমার ভাবতে ও কষ্ট হচ্ছে জয়ী কেন এমন করলো।
– আল্লাহ কপালে যা লিখে রেখেছে তাই হয়েছে। এখন এর সমাধান বের করতে হবে।
– তুমি বুঝতে পারছো বাবা কোনো দিন মেনে নেবে না।
– আচ্ছা আপনি যখন আমাকে বিয়ে করেছিলেন কেউ রাজি ছিল?
আবীর হেসে দিয়ে বললো,
– তোমার সাথে কথায় কে পারবে। তুমি যখন আগের থেকে জানো সমাধান ও নিশ্চয়ই বের করে রাখছো।
– আজ রাতে আমি আপনি আর মা বাবার ঘরে যাবো কথা বলতে তাড়াতাড়ি রাতে চলে আসবেন।
– আপনার হুকুম শিরোধার্য।
এই কথায় দুইজনই হেসে দিলো।
,
রাতে তিন জন আমজাদ সাহেবের ঘরে বসে আছে। বাইরে জয়ী কান পেতে আছে কি বলে বাবা শোনার জন্য।আবীরের মায়ের বুক কাপছে। অনেকটা জোর করে মায়া ধরে এনেছে।

আমজাদ সাহেব তিন জনকে এক সাথে দেখে একটু অবাক হলো। বললো, –
-কি ব্যাপার তিনজন এক সাথে ।
– আপনার সাথে গল্প করতে এলাম বাবা।
আমজাদ সাহেব অনেক গল্প করতে লাগলো। তার ছোট বেলার গল্প বাবা মায়ের গল্প।
মায়া কিভাবে শুরু করবে ভাবতে লাগলো। সবার বুক কাঁপছে। হটাৎ করে মায়া বললো,
-বাবা একটা কথা বলবো?
-হ্যা বলো তখন থেকে আমি একাই বকে চলছি।( হা হা হা)
– আসলে বাবা জয়ীর কথা বলছিলাম।
– কেনো জয়ী কিছু করেছে তোমার সাথে?
– না না বাবা, আসলে বাবা আমার হাতে খুব ভালো একটা ছেলে আছে জয়ীকে দেখে ওদের খুব পছন্দ হয়েছে। অনেক ভালো পরিবার বাবা। খানদানি বংশের ছেলে। ওদের খুব ভালো মানাবে। আপনি যদি রাজি থাকেন ছেলের পরিবার থেকে জয়ীকে দেখতে আসবে।

,
কথা শেষ হতেই ঘরে সবাই চুপ করে আছে। আমজাদ সাহেবের উওর শুনবার জন্য। বাইরে জয়ী আল্লাহ আল্লাহ করছে। মায়া মনে মনে আল্লাহ কে ডেকে যাচ্ছে। আমজাদ সাহেব কিছু সময় পর বললেন,
– এই না হলে মা। সন্তান বলার আগেই সব বুঝতে পারে। আমি ও কিছু দিন ধরে ভাবছি এই তিন গাধা কে বলবো জয়ী বড়ো হয়েছে তোদের কোনো চিন্তা আছে ওকে নিয়ে।
ঠিক আছে মা ওদের আসতে বলো আমি নিজেই ওদের সাথে কথা বলবো।
,
সবাই ভিষণ খুশি। আমজাদ সাহেব এতো তাড়াতাড়ি করে রাজি হবেন কেউ ভাবতে ও পারেনি।মায়া বাইরে আসতেই জয়ী জড়িয়ে ধরলো। বললো,
– তোমাকে ধন্যবাদ দেওয়ার ভাষা আমার কাছে জানা নেই কিন্তু আজ তুমি আমার মায়ের পরে জায়গা করে নিলে।
-সব কিছু করার মালিক আল্লাহ, ।ওইযে উপরে একজন বসে আছেন তাঁর কাছে শুকরিয়া আদায় করো।
,
রাতে আবীর শুয়ে শুয়ে ছটপট করছে। মায়া এখনও আসে নি।আমজাদ সাহেবের ঘরে সবার ঘরে গল্প করছে। ওকে জড়িয়ে না ধরলে আবীরের ঘুম আসেনা।অনেক অভিমান নিয়ে শুয়ে রইলো। একটু পর মায়া এসে বুঝতে পারলো আবীর রেগে আছে। পিছন থেকে গলা জড়িয়ে ধরে বললো,

  • বাবার সাথে গল্প করতে করতে দেরি হয়ে গেছে সরি।
    -লাগবে না সরি যাও।
    -ওমা! কি রাগ সাহেবের। ঠিক আছে জয়ীর কাছে গিয়ে ঘুমাই।
    এই বলেই চলে যেতে লাগলো। আবীর হাত টেনে ধরে বললো,-
  • আমাকে ছেড়ে গেলে খুন করে ফেলবো। তুমি জানোনা তোমাকে ছাড়া আমার ঘুম আসেনা।
    -জয়ীর বিয়ে নিয়ে কথা বলছিলাম। জানো বড়ো দুই ভাইয়া ও রাজি।
  • ভালো তো শেষ মেষ ঘটকালি শুরু করে দিলে।
    -আপন মানুষের জন্য একটু আধটু করতে হয়।
  • তাই বুঝি তাহলে আমার জন্য ও একটা করো।
  • ওমা কেনো?
  • কি আর করার আমার বউ ঘটকালি করলে আমাকে কে দেখবে?
    এই কথা শুনতেই মায়া আবীরের বুকে কিল দিতে লাগলো। আবীর হেসে দিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরলো।আবীরের ভালোবাসার কাছে মায়া হারিয়ে যেতে লাগলো। সমুদ্রের অতল গভীরে।

,

(সমাপ্ত)

আরো একটি কালো বউ এর গল্প   

-মায়াবতী কালো বউ

–লেখা অধরা জেরিন.

 

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *