মায়াবতী মেয়ের ভালোবাসা। Romantic valobasar golpo

গল্প: মায়াবতী মেয়ের ভালোবাসা
.
.
একটা মেয়েকে আমি সেই অনেক আগে থেকে পছন্দ করি।অনেক আগে বলতে কত বছর হবে জানিনা। আশ্চর্যের ব্যাপার হল মেয়েটির নামটি এখনো আমি জানিনা। আসলে পছন্দ বললে ভুল হবে তার থেকেও বেশি।যাকে বলে লাভ ইজ ফাস্ট সাইড।কিন্তু আমি এমন হাদারাম (হাসবেন না নিজেকে নিজেই হাদারাম বললাম বলে)। হাদারামেই বটে, না হয় এত বছর হলো মেয়েটিকে মনের কথা জানাতে পারিনি।জানাবো কি তার নামটিই জানতে পারিনি। আর আপনারা জানলে অবাক হবেন যে, আমি খুব লাজুক প্রকৃতির ছেলে। মেয়েদের ধারে কাছেও কখনো যায়না।
.
মেয়েদের থেকে দূরে থাকি সবসময়। শুধু কি তাই? এই ৩/৪ বছরে, আমি যে কাউকে ভালবাসি। সেটা আজ অবধি কারো কাছে প্রকাশ করিনি। প্রকাশ করিনি এই ভেবে যে বন্ধুরা আমাকে এটা নিয়ে সবসময় খুচাবে।তারা জানে তানিম এসব থেকে সবসময় দূরে। আমিও বন্ধুদের প্রেম করতে মানা করি।আর বলি প্রেম কি মানুষে করে? দেখেন সেই আমি একটা মেয়ের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছি, না পারছি তাকে মনের কথা বলতে। না পারছি বন্ধুদের জানাতে।
.
তবে আমার দৃঢ় বিশ্বাস মেয়েটি আমার সম্পর্কে জানে। আমি যে তাকে ভালবাসি সেটাও সে জানে। কেননা বেশ ক’দিন দু’জনের চোখাচোখি হয়েছে। মেয়েটিকে আমিও ফলোও করি।বন্ধুদের আড়াল হয়ে যখন মেয়েটির পিছে পিছে হাটি (দূরত্ব বজায় রেখে)। তখন মেয়েটিও পেছনে তাকায় মাঝে মাঝে ।যখন একা একা মেয়েটিরর বাড়ির পাশ দিয়ে ঘুরি, তখন প্রায় দেখি মেয়েটি জানালার পাশে বসে থাকে। (আমার যাওয়ার টাইম প্রতিদিন বিকাল সাড়ে চারটা)। আমি কোন দিন যদি মেয়েটিকে জানালার পাশে না দেখি, তবে সেই রাতে আমার ঘুম হয় না।অস্থির অস্থির লাগে। সকাল হলেই বলি, আজ যেভাবেই হোক তাকে মনের কথা জানাবো। কিন্তু মনের কথা মনেই থাকে, আর আমি সেই আগের মতোই রয়ে যায়।তবে আমি জানি মেয়েটি আমাকে একটু হলেও পছন্দ করে, কেননা কখনো আমাকে দেখে মুখ কালো করতে দেখেনি। আচ্ছা পছন্দ করে,আমাকে বললে কি হয়, ঐ ছেলে আমাকে ভালবাসো? দূর কি ভাবছি মেয়েরাকি এমন হয় নাকি?
.

.
আমি রিয়েলে যতটাই বোকা, ভার্চুয়ালে ততটাই চালাক। (হাসার কিছু নাই)। ফেসবুকে চঞ্চল প্রকৃতির টাইপের ছেলে আমি।কিছুটা নিজের টাইম লাইনেই লেখা লিখি করি।আমার সবগুলো লেখার প্রথমে মায়াবতী কথাটা মেনশন করি।আপনাদের তো বলাই হয়নি, আমি যে মেয়েটিকে পছন্দ করি। তাকে নিজেই মনে মনে মায়াবতী বলে ডাকি।আমার টাইম লাইনের প্রায় প্রত্যেকটা লেখাতে মায়াবতী থাকে।
.
হঠাৎ একদিন মায়াবতী নামক আইডি থেকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট আসলো। এবাউটে ঢুকে কিছুই পেলাম না।শুধু কয়েকটা ডল (পুতুল) পিক ছাড়া। নাম বা ঠিকানা কিছুই নেই।আমি ফেইক মনে করে রিকুয়েস্ট রিজেক্ট করে দিলাম। রাতের বেলা মেসেজ আসলো মায়াবতী আইডি থেকে। এতো ভাব দেখান কেনো? আমি রিকুয়েস্ট মেসেজ সিন করে রেখে দেয়। তারপর আবার মেসেজ আসলো ভাব কম দেখান। রিকুয়েস্ট দিয়েছি রিজেক্ট করে দিলেন কেনো? তারপর আমি রিপ্লে দিলাম। অপরিচিত মেয়েদের রিকুয়েস্ট গ্রহণ করিনা, গার্লফ্রেন্ড মানা করছে। (মিছা কথা)
.
তারপর একটা রাগের ইমু দিয়ে বলতেছে আপনার গার্লফ্রেন্ড আছে বুঝি। আমি হ্যা সূচক রিপ্লে দিলাম। তারপর অনেকগুলা রাগের ইমু দিয়ে বলতেছে, আপনার গার্লফ্রেন্ড নেই আমি জানি। তখন আমি হাহাহা বলে রিপ্লে দিলাম। কে বললো আপনাকে আমার গার্লফ্রেন্ড নেই। তখন মায়াবতী আইডি বললো আপনার এবাউটে সিঙ্গেল দেওয়া কেনো। রিলেশন থাকলে অবশ্যই দেওয়া থাকতো। আর হ্যা আপনার গার্লফ্রেন্ড থাক আর না থাক। থাকলে সব বাদ।কারণ আপনি আমার সাথে প্রেম করবেন।
.
আমি এরকম মেসেজ পেয়ে পুরাই অবাক। আমি হাসলাম। হাসির ইমুজি সেন্ড করলাম। মেয়েটি রিকুয়েস্ট দিলো বাট আমি এক্সেপ্ট করিনি।
.
এভাবেই মায়াবতী আইডির সাথে কথা হতো থাকলো। অনেকবার মেয়েটি প্রেম নিবেদন করলো, তবে আমি রাজি হলাম না।কারণ আমার মনের মাঝে অন্যকেও বসত করছে, যাকে ছাড়া চলবে না আমার।মায়াবতী আইডির সাথে কথা হলেও,আমি আমার সত্যি মায়াবতীর খোজ প্রতিদিন রাখি। প্রতিদিন তাদের বাড়ির পাশে যায়।
.

.
মায়াবতীর আইডির মেয়েটি একদিন বলছে, যে সে আমার সাথে দেখা করতে চাই। আমি অবাক হয়ে জিঙ্গাসা করলাম কোথায় দেখা করবেন। আপনার বাসা কোথায় আর আমার বাসা কোথায়? তারপর সে আমাকে অবাক করে বললো, আমার বাসা তোমার থেকে দূরে নয়। তোমার জেলা, শুধু জেলা নয় তোমার থানাতেই আমার বাড়ি।তখন আমি কি বলবো বুঝতে পারছিলাম না।শুধু বললাম দেখা করতে পারবো না।আমি অন্য কাউকে ভালবাসি। আর আপনি দেখা করলে অবশ্যই পাগলামো করবেন।
.
তারপর সে বললো,আর কোন দিন মেসেজ দিবোনা। দেখাও করতে বলবো না।আগামিকাল উবাই পার্কে আসবা। তোমার খুজতে হবেনা। আমিই তোমাকে খুজে নিবো। এই মেসেজ পাটানোর পরও আমি না বলে দিলাম।যে আমি যাবোনা।সে বললো আমি অপেক্ষা করবো।
.
তারপর পরের দিন
.
মন না চাইলেই আসতে হলো। কারণ আজ শেষ,কেননা মেয়েটি বলেছে মেসেজ আর দিবেনা। হয়তো মুক্তি পাবো। কেননা অতিরিক্ত হলে,আমি তার প্রেমে পড়ে যাবো।ইদানিং খুব ইমোশনাল কথা বলে। যা নাকি আমাকে তাকে ভাবার বিষয় করে তুলছে।
.
সেই ৩০ মিনিট অপেক্ষা করছি এখনো কেউ আসলো না।আমি তো তাকে চিনিও না।মনে মনে ভাবছি ফেইক নাতো আবার।না কি ভাবছি ফেইক হলে এতোদিন এতো সময় কখা হতোনা।যখন এসব চিন্তা করে উঠে চলে যেতে লাগবো। তখনি একজন কালো রঙের শাড়ি পড়া মেয়ে আমার সামনে দাঁড়ালো। পাঠক বিশ্বাস করবেন না।ঠিক আমার মায়াবতী। চুলগুলো ছড়ানো, হালকা কাজল চোখে, ঠোঁঁঠে কোন লিপিস্টিক নেই। এই সাঁজটা আমার খুব পছন্দ। আমি পুরো অবাক যে আমি যাকে ভালবাসি, যাকে সেই অনেক বছর ভালবাসি। সেই আমার মায়াবতী আমার সামনে। আমি কিছুই বলতে পারছিনা।
.
হাতে তুড়ি দিয়ে মায়াবতী আমার ঘুর কাটালো। আমি তুতলাতে তুতলাতে বললাম আপনি? আমাকে অবাক করে বললো এখানে কি আর কেউ আসার কথা ছিলো নাকি?
.
. আমি ভয়ে ভয়ে বললাম, আমার ফেসবুকের এক বান্ধবি আসার কথা। মায়াবতী আমাকে বলছে, তুমি কি কখনো তাকে দেখছো? আমি মাথা নেড়ে না করলাম। সে অগ্নি দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো, আমাকে ভালবাসো আর অন্য মেয়ের সাথে দেখা করতে আসছো। এ কথা শুনে আমি পুরা অবাক আমি তাকে ভালবাসি কেমনে জানলো। তার চোখ দেখে নিচে তাকিয়ে আছি।
.
তখন কানে ভেসে আসলো কারো মুখের অট্রোহাসি। মাথা উচু করে দেখলাম মায়াবতী হাসছে। আমি ভয়ের কারণে হাসার কারণ জিঙ্গাসা করিনি। সেই বললো, ভয় পাবার কিছু নেই। তোমাকে ভয়ে যা লাগছে তা দেখার মত। ভয় পাবার কিছু নেই।তুমি ভাবছো তুমি আমাকে ভালবাসো তা কি করো জানলাম। আমি সবি জানি,একটা ছেলে একটা মেয়ে কোন নজরে কি কারণে তাকাই।মেয়ের সব জানে। আর হ্যা ফেসবুকের সেই মায়াবতীটা আর কেউ নয়।সে আমি।আর আমার নাম মায়া, তোমার আইডিয়া কোথা থেকে আসলো জানিনা। তোমাকে একটু বাঁজিয়ে দেখছিলাম,আমাকে কতটা ভালবাসো তুমি। নিজের কানকে বিশ্বাস করাতে পারছিলাম না।কিছুক্ষণের জন্য রক্তযুক্ত মূর্তি হয়েগিয়েছি।
.
কিছুক্ষণ মধ্যেই মায়াবতী অবাক করে আমার হাতের পাঁচটা আঙুলে, তার হাতের পাঁচটা আঙুল আটকিয়ে বললো, কখনো যদি ছেড়ে যাও তখন খুন করে ফেলবো। আমি কিছু বলতে পারলাম না,ভালবাসার প্রথম পরশে আবেগপ্রবণ হয়ে গিয়েছি তখন।এ যেন মেঘলা আকাশে বৃষ্টির পর ভালবাসার সূর্যদয়।
.
.

® MD Tanim Ahmed (মুসাফির)

 

 

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *