মি. ফাজিলের ইজ্জত । রম্য গল্প

মি. ফাজিলের ইজ্জত

মাঝ রাত…
ঘুমের সাগরে আমি লঞ্চ চালাচ্ছি। ঠিক তখনি ফোন বেজে ওটে। আমি ভয়ে লাফিয়ে ফোন এর দিকে তাকিয়ে খানিক বিড় বিড় করে ফোন যে দিয়েছে তার গুষ্টি উদ্ধার করলাম। বাট আবার যখন ফোন বাজলো তখনি নাম্বারটা দেখে লাফিয়ে উঠলাম। দেখি মাই বিয়ার থুক্কু ডিয়ার কল দিয়েছে। নাম্বারটা টি অরনি আনটি বলে সেভ করা। অবশ্য অরনি আনটি বলে সেভ করার পিছনে একটি কারনও আছে। যাই হোক ফোনটা ধরলাম। ঘুম ঘুম চোখে বললাম..
– কি হইচে?
– কি করো?
– আর বলো না, আব্বু একটা ঠেলা গাড়ি কিনে আনছে একটু আগে সেটা চালাচ্ছি।
– কিহহ,কি বলছো এসব? মাঝ রাতে না ঘুমিয়ে তুমি ঠেলা গাড়ি চালাও?
– হুমম এই রাস্তায় আসো থুক্কু পথে আসো চাঁদনি সরি চাঁদ। এত রাতে মানুষ কি করে ঘুমাই।
– হুমম তা এত ঘুরিয়ে বলার কি আছে, শয়তান ছেলে কোথাকার। যাও তোমার বউ হবে না।
– তবে তুমি কি আমার চাচি নাকি?
– চুপ।
– তুমি চুপ, তোমার উপর হেব্বি রাগ জমে আছে।
– কেন?
– আবার বলে কেন। তোমার ঠোটের লিপিষ্টিক খেয়ে আমার চারদিন টয়লেট টু রুম রুম টু টয়লেট হয়ছে। কি ব্যান খাওয়া জিনিষ ব্যবহার করো হে শুনি?
– এ অর্কইয়া, চুপ থাক তুই। তোর থেকে আমার লিপিষ্টিক সুন্দর।
– হুমম সুন্দর তবে পেট খারাপ করে।
– যাহ কথা নেই।
কলটা কেটে দিল। আমি হাবার মত চেয়ে আছি। বেচারি এত রাত জেগে কি করছে? আবির এর সাথে রাত জেগে আবার চ্যাট করছে না তো? আমি কল দিলাম। রিসিভ হলো কেউ কোনো কথা বলছি না। দুজুনেই চুপ। বেশ কয়েকমিনিট পর অরনি রহমান বললো..
– তোমাকে অনেক দেখতে ইচ্ছে করছে। একবার আসবে বাড়ির সামনে?
– এত রাতে? যদি ভুতে ধরে।
– ওকে নিলয় ভাইয়াকে নিয়ে আসো।
– নাহ, একাই আমি যুদ্ধ জয় করবো। হারামিকে সাথে নিবো না।
– হুমম তো আসো।
[ads2]
আমাদের বাড়ির কয়েক বাড়ি পর অরনির বাসা। রাত তখন দুইটা। কোনো হালায় জেগে নেই। এত রাতে দুইটা প্রজাতির মানুষ জেগে থাকে। এক, চ্যাকা খেয়ে যারা বেকা হয়ে ইন্ডিয়ান হারবাল মানে বিড়ি বা সিগারেট খেতে নিকোটিনের ধোয়ায় মিশতে ব্যস্ত আরেকটি হল আমার মত ছাগলেরা। বাট এ তল্লাটে কেউ নেই। যে জেগে থাকবে। আমি, আবির আর অরনি ছাড়া। আবির জেগে থাকে বেটা রাত জেগে কার্টুন দেখে হেব্বি তাই ও জেগে আছে। ওকে ডাকা যাবে না। আমি নিজেি বীর পুরুষ হয়ে বেরিয়ে গেলাম।
বাসা থেকে বের হতেই একটি গাব গাঁছ পড়ে। দাদির মুখ থেকে শুনেছিলাম গাব গাঁচে ভুত থাকে। হায় হায় আমার কি হবে? যদি একটা পরি এসে নিয়ে যায়?
এসব ভাবতে ভাবতে অরনির বাড়ির সামনে গেলাম। চারিদিক কেমন শুনসান। দেব চাচুর চ্যালেন্জ মুভির মত বাড়ির রাস্তায় হাটছি।
অরনির আব্বু একটা মিশার মত ভিলেন। যদি শ্বশুর না হতো ওনাকে গুলি করতাম। কেন করতাম? থাক অন্যদিন শুনবেন।।অরনিকে কল দিলাম। গেট আর পাশে দারোয়ান অঘোরে ঘুমাচ্ছে। বেটা ঘোড়া নাকি দাঁড়িয়েও ঘুমায়।
– কই তুমি? (অরনি)
– জমালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। জমদূত ঘুমাচ্ছে।
– এই জমালয়ে মানে? আমি আমাদের বাড়িতে আসতে বললাম।
– আরে বাবা আমি তো তোমাদেরই বাড়ির সামনে।
– ঐ শয়তান আমাদের বাড়ি জমালয়? আর আমার আব্বুকে তুমি আবারো যমদূত বলেছো যাও কথা নেই।
– উফফ দেখ বোন, সরি বউ। অনেক কষ্টে গাব গাছের রাজ্য জয় করে এসেছি এখনি ব্যলকনিতে আসো না হলে আমি কাঁচের জানায় কিন্তু ঢিল মারবো। আর তোমার কিপ্টা বাপ টাকা খরচও করবে না।
– আসছি হুহ..
অরনির চলে আসলো ব্যলকনিতে। আমি রাস্তার পাশে কদমফুলের গাছের নিচে বসে আছি। সাদা জামা পরে অরনি ব্যলকনিতে আসলো। আমি উঠে দাঁড়ালাম। দেখি আসলেই একটা পরি দাঁড়িয়ে আছে।
– এই আমাকে কেমন লাগছে? (অরনি)
– মুখের উপর রুমের আলো পড়েনি। তোমাকে পেত্নীর ছোট বোনের ননদের বড় আপুর মেয়ের মেজো বোনের খালার আনটির মত লাগছে।
– হেহেহেহে..ফাজিল কোথাকার। দাঁড়াও মুখে ফ্ল্যাশ দিচ্ছি
অরনি অর মুখে মোবাইলের ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে ধরলো। আমি পলকহীন চেয়ে আছি। অরনি বললো..
– দেখা হয়েছে?
– নাহ।
– হাত লেগে গেল।
– হুমম।
– অফ করলাম। এখন একটু রোমান্টিক করে প্রপোজ করো তো।
– করতে হবে?
– হুমম।
– ওকে,,
তুমি আমার ১১ বেবির মা হবা? ফুটবল টিম বানাবো। বুঝো তো বাংলাদেশ ফিপা র্যাংকিং এ কত কাঁচা। তারপর আমরা বসে বসেসে পান চিবুবো বেবিগুলা বৃষ্টির দিনে উঠানে ফুটবল খেলবে। নাম রাখবো, মফিজ,করিম,চান্দু,গোবর গনেশ, বল্টু, হাফ প্যান্ট,ছেড়া প্যান্ট।
– ঐ ফাজিল থামো।
– ওকে যাও, তোমাকে নীল পদ্ম সামনে ধরে চিতকার করে বলবো ভালোবাসি ভালোবাসি হে শ্বশুরের মেয়ে।
– হিহিহিহি ফাজিল ছেলে কোথাকার।
কথাটা শেষ করলো। আমি কিছু বলতে যাবো তখনি বাড়ির টাইগার মানে কুকুর টা জেগে গেছে। আমার কথা শুনতেই কুকুরটা সেই জোরে দিল ডাক। পরনে ছিল সাদা লুঙ্গি আমার। দিলাম লুঙ্গি তুলে এক দৌড়। এক দৌড়ে বাড়ির সামনে এসে হাফাতে লাগলাম। গেট খোলা দেখলাম। তার মানে আবির ভাইয়া বাইরে। আমি ঢুকতে যাবো। তখনি সে আমাকে পিছন থেকে দেখে দিল এক চিৎকার।
“ও আম্মু ভুত ভুত”
চিৎকার শুনে পিছনে তাকাতেই আমি বললাম..
– এই ভাই আমি অর্ক।
– কিহহ তুই অর্ক?
– হুমম তা তুমি চিৎকার কেনো করলে?
– হারামি নিচের দিকে তাকা।
আমি নিচের দিকে তাকালাম। নিচে তাকাতেই আমি হা হয়ে নিজেই চিৎকার মেরে উঠলাম। কারন, আমার পরনের সেই সাদা লুঙ্গি আর নেই। দৌড়ানোর সময় খুলে পড়ে গিয়েছে। আমি ফুল ন্যা****। হায় হায় আমার কি হবে। আমার ইজ্জত আজ লুটে নিল এই আবির। কেঁদে কেঁদে বললাম..
“আবির রে তুই বড় অপরাধি রে
আমার যত্নে গড়া ইজ্জতগুলা দে ফিরিয়া দে।”

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *