ম্যাডাম যখন বউ পর্ব_১২

 

ম্যাডাম যখন বউ  সকল পর্ব

#গল্পঃম্যাডামযখনবউ

#পর্বঃ১২

=আমিঃ আরে স্যার নয় তুমি চাইলে আমার নাম ধরে ডাকতে পারো। আর আমিও তোমাকে নাম ধরেই ডাকবো।

=নুসরাতঃ আচ্ছা ঠীক আছে স্যার। উফ্ফ সরি রাজ।

=আমিঃ হুমম এবার ঠীক আছে তুমি এবার তোমার কাজ করো গিয়ে। আর কোন সমস্যা হলে আমার কাছে চলে এসো।

তারপর অধরা দরজা খুলে যেই বের হলো ঠীক তখনই দেখলো,,,,(১১তম পর্বের পর থেকে)

দরজার বাইরে নুসরাত দাঁড়িয়ে আছে। অধরা কে বাইরে দেখে কেমন যেন চমকে উঠলো।

=অামিঃ আরে ম্যাডাম আপনি এখানে।

=নুসরাতঃ হুমম একটা দরকার কাজি আসা আর কি।

=আমিঃ ম্যাডাম তাহলে বাইরে কেন দাঁড়িয়ে আছেন ভেতরে আসুন। আর অধরা তুমি যাও কাজ করো গিয়ে সমস্যা হলে আমার কাছে এসো।

=অধরাঃ ঠীক আছে রাজ।

এই কথা বলে অধরা চলে গেলো।আর অধরার মুখে আমার নাম শুনে নুসরাত কে দেখলাম রাগী ভাবে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।

=আমিঃ ম্যাডাম বলুন কি কাজ।

=নুসরাতঃ পরে বলবো।

এই কথা বলে চলে গেলো। আমার বুঝতে বাকি রইল না যে নুসরাত কেন এমন রাগ করছে।হাহাহা, সেই দিন আর বেশি দূরে নাই নুসরাত ম্যাডাম যে তুমি আমাকে নিজে থেকে এসে ভালোবাসি বলবে। তারপর আমি আমার কাজ করতে লাগালাম। রাতে শুয়ে নুসরাত এসে চুপচাপ আমার পাশে শুয়ে পড়লো। কোন কথা বললো না। মনে হয় আমার প্রতি এখনও রেগে আছে। আমিও কোন কথা না বলে ঘুমিয়ে গেলাম। সকালে অফিসে যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছিলাম কিন্তু নুসরাত আজ আর আমার টাই পড়িয়ে দিতে আসলো না। শুধু আমার দিকে একবার তাকিয়ে চলে গেলো। এভাবেই দিনকাল কাটছিলো আমাদের কোন প্রয়োজন ছাড়া কেউ কারো সাথে কথা বলি না। শুধু মা-বাবার সামনেই কথা বলি।আমিও অফিসে চলে আসলাম। অফিসে এসে আমি যেইনা আমার কেবিনের দিকে যেতে লাগলাম ঠীক তখনই একজন কলিগ এসে আমাকে বলে,,,,,,,,,,

=কলিগঃ স্যার আপনি কোথায় যাচ্ছেন।

=আমিঃ কেন। আমার কেবিনে।

=কলিগঃ কিন্তু, আপনার কেবিন তো নিচে সিফট করা হয়ছে।

=আমিঃ মানে। আমার কেবিন কেন সিফট করা হয়ছে। আর কাকে জিজ্ঞেস করে করছেন।

=কলিগঃ সরি স্যার এটা তো আমি বলতে পারবোনা তবে ম্যাডাম বলতে পারবে।

এই কথা সে চলে গেলো। আর আমি ভাবতে লাগলাম নুসরাত কেন হঠাৎ করে আমার কেবিন পরিবর্তন করলো।দেখি ওর কাছে গিয়েই শুনে আসি।তারপর আমি নুসরাতের কেবিনে গেলাম,,,,,

=আমিঃ ম্যাডাম আসবো।

=নুসরাতঃ হুমম আসুন।(হাসতে হাসতে)

=আমিঃ ম্যাডাম আমি,,।(সম্পূর্ণ কথা বলতে না দিয়ে)

=নুসরাতঃ আমি জানি আপনি আমায় কি বলতে চান।

=আমিঃ তাহলে ম্যাডাম আমি কি জানতে পারি কেন আপনি এমন করছেন।

=নুসরাতঃ আমি অফিসের বস। আমার যখন যা খুশি তাই করতে পারি।

=আমিঃ তাই বলে আমার কাছে একটু শুনার প্রয়োজন মনে করেন নি।

=নুসরাতঃ ও হ্যালো মি.রাজ অফিসের বস আমি আপনি নয় যে আপনার কথা শুনে আমার কাজ করতে হবে।

=আমিঃ কিন্তু,,,,।

=নুসরাতঃ এখন আর কোন কথা না বলে চুপচাপ আপনার কাজ করুন গিয়ে।

উফফ!! নিজে বস বলে সব কিছু করবে।ধ্যাত। তার পর আমি আমার নতুন কেবিনে এসে বসে রইলাম। আসার সময় নুসরাতের দিকে তাকিয়ে দেখি ও মিটমিট করে হাসতেছে।

=অধরাঃ রাজ কি তোমাকে খুব টেনশনে মনে হচ্ছে।

=আমিঃ আরে নাহ্ তেমন কিছুনা।

=অধরাঃ আচ্ছা ম্যাডাম কেন আমাকে অন্য একজনের সাথে কাজ করতে দিলো।আর তোমাকে কেন নাম ধরে ডাকতে মানা করছে।

=আমিঃ কখন মানা করছে।

=অধরাঃ এইতো সেদিন তোমার কেবিন থেকে আসার পর।

=আমিঃ হুমম এবার বুঝতে পারছি কেন সে আমার কেবিন পরিবর্তন করছে কারণ আমার কেবিনের পাশেই অধরার কেবিন ছিলো। (মনে মনে)

=অধরাঃ ঐ কি ভাবছো।

=আমিঃ কিছুনা।

=অধরাঃ আমার কি মনে হয় জানো।

=আমিঃ কি।

=অধরাঃ নুসরাত ম্যাডাম তোমাকে ভালোবাসে।

=আমিঃ কি করে বুঝলে।

=অধরাঃ আরে ম্যাডাম যখন বলছে যে তোমাই যেন আর নাম ধরে না ডাকি আমি তখনই বুঝে গেছি যে ম্যাডাম তোমাকে ভালোবাসে।

=আমিঃ আরে নাহ্ তোমার কোথাও ভুল হচ্ছে।

=অধরাঃ ঐ শোনো আমি একটা মেয়ে আমি বুঝতে পারি সব বুঝলে।

=আমিঃ হাহাহা বুঝলে ভালো যাও এখন গিয়ে কাজ করো।

=অধরাঃ হুমম যাচ্ছি তবে তুমি যতই অশিকার করনা কেন। আমি যেটা বলছি সেটাই সত্যি দেখে নিও তুমি।

এই কথা বলে অধরা চলে গেলো। আমি বসে বসে অধরার কথা গুলো ভেবে হাসতে লাগলাম। বলে কি মেয়েটা। অফিস ছুটির পর আমি বাইরে দাড়িয়ে আছি রিকশার জন্য। এমন সময় অধরা এসে বলে,,,,,,,,

=অধরাঃ কি ব্যপার দাঁড়িয়ে আছো যে।

=আমিঃ এই তো রিকশার জন্য।

=অধরাঃ ওওও আচ্ছা। আমার স্কুটিতে করে তোমায় লিফট দিতে পারি যদি তুমি চাও।

আমি যেই না করতে যাবো ঠীক তখনই দেখি নুসরাত আমার দিকে রাগি ভাবে তাকিয়ে আছে। তাই আমি ওকে আরো রাগানোর জন্য আর না করলাম না।

=আমিঃআরে এতে রাজি না হওয়ার কি আছে চলো।

=অধরাঃ দেখছো ম্যাডাম কেমন আমাদের দিকে রাগি ভাবে তাকিয়ে আছে।

=আমিঃ আরে ও এমনই। তুমি ওদিকে না তাকিয়ে চলো।

তারপর আমরা যেতে লাগলাম। আসলে আমি আর নুসরাত যতই একবাসাতে থাকি না কেন। আমরা কখনও এক সাথে আসিও না এমন কি যায় ও না।

=আমিঃ ব্যাস এইখানে থামাও আমার বাসা চলে এসেছে।

=অধরাঃ ও এটা তোমার বাসা নাকি।

=আমিঃ হুমম এটাই। চলো ভেতরে।

=অধরাঃ না অন্য একদিন আসবো।

এই কথা বলে অধরা চলে যেতে যাবে তখনই,,,,,

=অধরাঃ এই রাজ এটা ম্যাডামের গাড়ি না।

=আমিঃ এইরে এখন মনে হয় সবটা যেনে যাবে।(মনে মনে)

=অধরাঃ আরে হ্যা এতো ম্যাডামই। কিন্তু ম্যাডাম তোমাদের বাসায় কেন।

=আমিঃ সেটা তোমাকে আগামীকাল বলবো। এখন তুমি যাও।

=অধরাঃ সত্যি বলবে তো।

=আমিঃ হ্যা বলবো। এখন যাও তুমি।

এই কথা বলে আমি আমার রুমে চলে আসি। আমি রুমে আসতেই নুসরাত আমাকে বলে,,,,,,,,

=নুসরাতঃ কি ব্যপারা তুমি অধরার সাথে কেন আসলে।

=আমিঃ আসবো না তো কি করবো। অনেক সময় দাঁড়িয়ে ছিলাম কিন্তু কোন রিকশায় পেলাম না।

=নুসরাতঃ রিকশা না পেলে হেটে আসতে।

=আমিঃ কিহ্ এতো দূর থেকে আমি হেটে আসবো।

=নুসরাতঃ দরকার হলে আসবে। কিন্তু তার পর ও যেন তোমাকে অধরার সাথে না আসতে দেখি।

=আমিঃ কেন আসবো না।

=নুসরাতঃ আমি বলছি তাই।

=আমিঃ আমি কেন তোমার কথা শুনতে যাবো। আমি কি হয় তোমার।

এই কথা বলার পর নুসরাত আর কোন কথাই বললো না। শুধু চুপ করে মাথা নিচু করে থাকলো। আর আমিও ফ্রেশ হয়ে রাতের খাবার খেতে চলে গেলাম। পরের দিন অফিসে গিয়ে কেবিনে বসতেই অধরা এসে হাজির,,,,,,,,

=আমিঃ আরে তুমি হঠাৎ করে। কোন দরকার।

=অধরাঃ আরে নাহ্। এখন বলো কাল নুসরাত ম্যাডাম কেন তোমার বাসায় গেলো।

=আমিঃ বলতে পারি যদি তুমি কাউকে না বলো।

=অধরাঃ আরে তুমি আমার ফ্রেন্ড। আমাকে তুমি একটা কথা বলবে আর আমি কেন সেই কথা অন্য একজন কে বলতে যাবো।

=আমিঃ তাহলে শোনো।কাল নুসরাত আমার বাসায় গেছিলো না সে আমার বাসায় আমার সাথেই থাকে।

=অধরাঃ মানে।(অবাক হয়ে)

=আমিঃ হুমম। নুসরাত আর আমি স্বামী-স্ত্রী।

=অধরাঃ কিহ্ সত্যি।

=আমিঃ হ্যা।

=অধরাঃ তাহলে নুসরাত ম্যাডামের সাথে তুমি কথা বলো না আর ম্যাডাম ও তো তোমার সাথে তেমন একটা কথা বলেনা কেন।

=আমিঃ শোনো তাহলে।

তারপর আমি অধরা কে আমার বিয়ে থেকে সব ঘটনা খুলে বললাম।

=অধরাঃ ওও এই কাহিনি তাহলে তোমাদের মাঝে।

=আমিঃ হুমম।

=অধরাঃ আমার কাছে তোমাদের এই সমস্যার সলিউশন আছে।

=আমিঃ কি সলিউশন।

=অধরাঃ আমাদের এমন কিছু করতে হবে যে নুসরাত ম্যাডাম নিজে এসে তোমাকে ভালোবাসার কথা বলবে।

=আমিঃ সেটা তো আমিও চায় কিন্তু করবোটা কি।

=অধরাঃ আরে আমি থাকতে তোমাকে এসব নিয়ে ভাবতে হবেনা। তুমি শুধু আমি যা যা বলি তাই করবে।

=আমিঃ আচ্ছা।

=অধরাঃ শোনো তোমাকে আমার সাথে প্রেম করতে হবে।

=আমিঃ এসব কি বলছি তুমি। মাথা ঠীক আছে তোমার।

=অধরাঃ আরে বুদ্ধ সত্যি সত্যি প্রেম না। প্রেমের অভিনয় করবে ম্যাডামের সামনে।

=আমিঃ তাই বলো। আমিতো আবার সত্যি মনে করছিলাম।

=অধরাঃ ও হ্যালো আমার বয় ফ্রেন্ড আছে তোমাকে ভালোবাসতে যাবো কোন দুঃখ্যে।

=আমিঃ কিহ্ তোমার ও বয় ফ্রেন্ড আছে।

=অধরাঃ কেন আমার মত মেয়ের কি বয় ফ্রেন্ড থাকতে পারেনা।

=আমিঃ তা কেন থাকবে না।তুমি তো আর দেখতে কম সুন্দর না।

=অধরাঃ হয়ছে আর পাম দিতে হবেনা।এখন যা বলছি তাই মনে রেখো কেমন। আমি যায় তাহলে।

এই কথা বলে অধরা চলে গেলো।আর আমি ভাবতে লাগলাম। আমরা যেই প্লান করছি এতে কি কাজ হবে নাকি আবার ধরা খেয়ে যাবো।

বিঃদ্রঃ দুঃখ যেন পিছু ছাড়ছে না। হঠাৎ করে মোবাইলের টাচস্ক্রীনে সমস্যা দেখা দিছে। লিখতে অনেক সমস্যা হয় তারপর ও লেখার চেষ্টা করছি।

To be Continue ⏩

(চলবে……….)

Writer by স্বপ্নহীন_বালক

বন্ধুরা হয়তো অন্য সবার মত গল্পের কথা গুলো গুছিয়ে লিখতে পারিনা। তার-পর লিখার চিষ্টা করি। তাই গল্পটাই Next না লিখে ভালো বা খারাপ যেটাই আপনাদের কাছে মনে হয় সেটা জানাবেন। ধন্যবাদ।

( পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন।)

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *