ম্যাডাম যখন বউ পর্ব_১৩ এবং শেষ

 

ম্যাডাম যখন বউ  সকল পর্ব

#গল্পঃম্যাডামযখনবউ

#পর্বঃ১৩এবংশেষ

=আমিঃ তা কেন থাকবে না।তুমি তো আর দেখতে কম সুন্দর না।

=অধরাঃ হয়ছে আর পাম দিতে হবেনা।এখন যা বলছি তাই মনে রেখো কেমন। আমি যায় তাহলে।

এই কথা বলে অধরা চলে গেলো।আর আমি ভাবতে লাগলাম। আমরা যেই প্লান করছি এতে কি কাজ হবে নাকি আবার ধরা খেয়ে যাবো।(১২ তম পর্বের পর থেকে),,,,,

না না ধরা কেন খাবো। ধুর আমিও যে কি বুঝিনা খালি নেগেটিভ চিন্তা করি সব সময়। নাহ্ এখন কাজে মন দিতে হবে। পরে অধরা যেমন টা বলবে তেমনটা করে দেখি কি হয়। এসব কথা ভাবছি আর কাজ করতে থাকি। অফিস ছুটি হলে নুসরাত কে দেখি আমার কেবিনে আসছে। এসেই আমাকে বলে

=নুসরাতঃঅফিস তো ছুটি হয়ে গেছে আপনি বাসায় যাবেন না।

=আমিঃ এই তো আর একটু কাজ আছে।এটা শেষ হলেই যাবো।

=নুসরাতঃ এই কাজ তো পরেও করতে পারবেন।

=আমিঃ ম্যাডাম খুবই জরুরি একটা ফাইল। তাই আজ শেষ করে ফেললে তো জামেলা শেষ।

=অধরাঃ আরে রাজ তোমার কাজ এখনও শেষ হয়নি।( আমরা কথা বলছিলাম এর মাঝে অধরা এসে বলে)

=আমিঃ এই তো আর একটু বাকি আছে।

=অধরাঃ ওহ্। তা কত সময় লাগবে।

=আমিঃ বেশি সময় লাগবে না।কেন কোন দরকার।

=অধরাঃ না তেমন দরকার না। আমি ভাবছিলাম তোমাকে নিয়ে একটু শপিংয়ে যাবো।( এই কথা বলে চোখ টিপি মারলো)

=আমিঃ আরে যখন ভেবেই ফেলছো আমাকে নিয়ে শপিংয়ে যাবে তাহলে আর দেরি কেন চলো যাওয়া যাক।

=অধরাঃ কিন্তু তোমার না কাজ করতে বাকি আছে।

=আমিঃ আরে কাজ তো পরেও করা যাবে। এখন কথা না বলে চলো যাওয়া যাক।

=নুসরাতঃ আপনার বলে কাজটা খুবই জরুরি। তাহলে আপনি কাজ ফেলে রেখে এভাবে চলে যাচ্ছেন কেন।(একটু রাগি ভাবে)

=আমিঃ আরে ম্যাডাম অফিস যখন ছুটি হয়ে গেছে তাহলে এখন তো আমি বাইরে যেতেই পারি কাজ না হয় কাল এসে করবো। অধরা চলো যাওয়া যাক।

=অধরাঃ হুমম তাহলে চলো।

তারপর আমি আর অধরা নুসরাত কে পাশ কাটিয়ে চলে আসলাম। আসার আগপ একবার পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখি নুসরাত আমার দিকে কেমন করুন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। ওকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে আমার কেমন জানি খারাপ লাগছিলো। কিন্তু আমাকে নরম হলে চলবে না। এভাবে ভালোবাসার কথাটি বের করতে হবে। তারপর অধরার স্কুটারে করে আমি আর অধরা শপিংমলে যেতে লাগলাম,,,,,,,,

=অধরাঃ কি মি. কি বুঝলে।

=আমিঃ কি বুঝার কথা বলছো তুমি।

=অধরাঃ আরে বুদ্ধু ম্যাডামের কথা বলছি।

=আমিঃ হুমম বুঝতে পারছি কিন্তু এখানে বোঝার তো কিছু দেখছিনা।

=অধরাঃ তুমি তো দেখছি আসলে বোকা। এ তুমি খেয়াল করোনি যে আমরা আসার সময় ম্যাডাম কেমন ভাবে তোমকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছিলো।

=আমিঃ আরে এতো মনে হয় কাজ করার জন্য বলছিলো।

=অধরাঃ আরে বোকা ওটাই তো তোমাকে আমার সাথে আসতে না দেওয়া অজুহাত। ম্যাডাম তোমাকে সত্যি অনেক ভালোবাসে কিন্তু ভালোবাসি কথাটি বলতে কথায় যেন বাঁধা খাচ্ছে।

=আমিঃ কিসের বাঁধা।

=অধরাঃ আমার মনে হয় কি জানো।ম্যাডাম চায় তুমি নিজে থেকে তাকে বলো ভালোবাসি কথাটি।

=আমিঃ তোমার অনুমান যদি সত্যি হয় তাহলে। আমি ওকে বলবো যে আমি ওকে কতটা ভালোবাসি তবে আর কয়দিন তোমার সাথে প্রেমের অভিনয় করে দেখি কি হয়।

=অধরাঃ তুমিনা আসলে একটা পাগল।

=আমিঃ হাহাহাহা। আমি সেটা জানি।

=অধরাঃ হয়ছে এখন দাঁত বের করে না হেসে নামো।

=আমিঃ এতো তাড়াতাড়ি চলে আসলাম।

তারপর আমি শপিংমলে অধরার পেছন পেছন ঘুরতে লাগলাম। উফফ!! বাবা পাটা একদম ব্যাথা হয় গেছে। আর এই মেয়েকে দেখে তো মনে হয়না একটু ও ক্লান্ত হয়ছে। মেয়েরা পৃথিবীর সব কাজ করলে কষ্ট হবে কিন্তু এই শপিং করতে আসলে সারাজীবন ও কষ্ট হবে না।

=আমিঃ ঐ অধরা।

=অধরাঃ হুমম বলো।

=আমিঃ আরে এতো দোকান ঘুরার কি আছে একটা দোকানে ঢুকে পড়লেই তো হয়।

=অধরাঃ বারে পছন্দ না হলে আমি কি করবো।

=আমিঃ কিহ্ এতো দোকান ঘুরলে তারপর ও তোমার একটা পছন্দ হয়নি।

=অধরাঃ একে বারে যে হয়নি তা বলবো না। তবে মনের মত হয়নি।

=আমিঃ আচ্ছা তোমার বয় ফ্রেন্ড কে নিয়ে কখনো শপিংয়ে আসছো।

=অধরাঃ তা আর বলোনা একবার আসছিলাম। কিন্তু পরের বার যখনই শপিংয়ের কথা বলতাম তখনই সাহেব অসুস্থ হয়ে পড়তেন। কেন এমন হতো বুঝতাম না।

=আমিঃ কেন যে অসুস্থ হয়ে পড়তেন তা তুমি বুঝবে না। খালি খালি কি অসুস্থ হয় তোমার পেছন পেছন এমন ঘুরার জন্য বেচারা অসুস্থের অভিনয় করে।(মনে মনে)

=অধরাঃ ঐ তুমি আবার কি ভাবছো।

=আমিঃ নাহ্ কিছুনা। বলছিলাম কি আমি আর এভাবে ঘুরতে পারবো না আর একটা দোকান দেখবা তারপর ও যদি পছন্দ না হয় তাহলে সোজা বাসায়।

=অধরাঃ আচ্ছা ঠীক আছে চলো ঐ দোকানে যায়।

তারপর ঐ দোকানে যাওয়ার পর অনেক কষ্টে একটা পোশাক পছন্দ হলো। যাক বাবা বাঁচা গেলো শেষ মেষ পছন্দ হয়ছে তাহলে।

=অধরাঃ ঐ এমন হ্যাবলা কান্তের মতো মা দাঁড়িয়ে থেকে বিলটা দাও।

=আমিঃ মানে আমি কেন বিল দেবো।

=অধরাঃ বারে তোমার ভালোবাসার জন্য এত কষ্ট করছি। তাই তুমি আমাকে তার বিনিময়ে গিফট করতে পারছো না।

=আমিঃ আচ্ছা দিচ্ছি।

তারপর শপিং করা শেষ হলে। অধরা ও বাসায় চলে যায় আর আমিও বাসায় চলে আসি। বাসায় এসে রুমে কথাও নুসরাত কে দেখলাম না। মনে হয় মায়ের সাথে রান্না ঘরে আছে। তার পর আমি ফ্রেশ হয়ে রাতের খাবার খেতে আসলাম। এসে দেখি এখানে ও নুসরাত নেই। আমি কিছু না বলে খেতে লাগলাম। তখন মা আমাকে বলে,,,,,,,,,

=মাঃ বাবা বউমার কি হয়ছে জানিস।

=আমিঃ নাতো মা। কেন কিছু কি হয়ছে।(অবাক হয়ে)

=মাঃ না সেই অফিস থেকে এসে ঐ যে ছাদে গেছে এখনও আসেনি। রাতে খাবার খেতে ডাকতে গিয়েছিলাম তুই আসলে।কিন্তু ও বললো ওর নাকি ক্ষিদে নেই। আর আমাকে চলে আসতে বললো।

আমার আর বুঝতে বাকি রইল না যে কেন নুসরাত এমন করছে। নিশ্চয়ই অফিস ছুটির পর ঐ ঘটনা নিয়ে ওর মন খারাপ।

=বাবাঃ অফিসে কি কিছু হয়ছে নাকি।

=আমিঃ কিছুই হয়নি। তোমরা এসব নিয়ে ভেবোনা। আমি দেখছি কি হয়ছে।

এই কথা বলে ছাদে গেলাম। ছাদে গিয়ে দেখি নুসরাত দোলনায় বসে এক পলকে চাঁদের দিকে তাকিয়ে আছে। চাঁদের ঐ মিষ্টি আলো ওর মুখে পড়তেই ওকে যেন আরো মায়াবী লাগছে। কিন্তু একি নুসরাতের দুচোখ বেয়ে যে পানি ঝরছে। তার মানে নুসরাত এখানে বসে একা একা কাঁদছে। এসব কথা ভাবতে ভাবতে আমি আস্তে আস্তে নুসরাতের কাছে যেতে লাগলাম। আমি কাছে যেতেই নুসরাত আমাকে দেখে হাত দিয়ে তাড়াতাড়ি করে চোখের পানি মুছে ফেললো। তারপর আমাকে বললো,,,,,,,,,,,

=নুসরাতঃ একি আপনি এখানে কেনো।

=আমিঃ আপনাকে ডাকতে আসলাম।

=নুসরাতঃ কেন।আমাকে ডাকতে আসতে কে বলছে আপনাকে।

=আমিঃ মায়ের কাছে শুনলাম আপনি অফিস থেকে এসেই ছাদে এসেছেন। চলুন এখন রাতের খাবার খাবেন।

=নুসরাতঃ না আমি খাবোনা।

=আমিঃ কেনো কি হয়ছে আপনার। আর আপনি এখানে বসে এভাবে কাঁদছেন কেন।

=নুসরাতঃ কোথায় কাঁদছি। আপনার দেখতে ভুল হয়ছে।

=আমিঃ দেখুন আমাকে মিথ্যা বলে লাব নেই। তাও সত্যি করে বলুন তো কেনো কাঁদছেন।

=নুসরাতঃ সেটা জেনে আপনি কি করবেন।আপনি তো বুঝতে ও পারেন না।

এই কথা বলে নুসরাত চলে গেলো আর আমি ওখানে দাঁড়িয়ে ভাবতে লাগলাম নুসরাতের বলে যাওয়া শেষ কথাটি। হাহাহা ম্যাডাম আমি সবই বুঝতে পারি যে আপনি আমাকে ঠীক কি বুঝাতে চাচ্ছেন। কিন্তু আমার যে আপনার মুখ থেকে ভালোবাসি কথাটি শোনার খুব শোখ।তাই তো তোমাকে একটু কষ্ট দিচ্ছি। পরে ভালোবাসা দিয়ে শুধে আসলে সব পরিশোধ করে দেবো। তারপর আমিও আর কিছু সময় ছাদে থেকে রুমে চলে আসলাম। রুমে এসে দেখি নুসরাত ঘুমায় গেছে। বাহ্ কি নিষ্পাপ দেখতে। আর একেই কিনা আমি কষ্ট দিচ্ছি। নাহ্ কালই অধরার সাথে কথা বলে দেখবো ও কি বলে। কারণ আমি এভাবে নুসরাত কে কষ্ট দিতে পারবোনা। ওর কষ্ট হলে যে আমার ও খুব কষ্ট হয়। কিন্তু কাল তো অফিস বন্ধ তাহলে অধরার সাথে দেখা করবো কি ভাবে। নাহ্ এখন ঘুমায় সকালে ভাবা যাবে কি করা যায়। এসব কথা ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে গেলাম টের পাইনি।

সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয় নাস্তা করে টিভি দেখছিলাম। দেখলাম নুসরাত আমার আশেপাশে ঘুরছে মনে হয় আমাকে কিছু একটা বলতে চায় কিন্তু বলতে পারছেনা। আমার সামনে এসেই একটু দাঁড়িয়ে থেকে আবার চলে যায়। ওর এই কান্ড দেখে আমার খুব হাসি আসছে কিন্তু আমি হাসতেও পারছিনা। এবার ও আমার সামনে এসে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে,,,,,,

=আমিঃ কিছু বলবেন।

=নুসরাতঃ হ্যা।(বলে আমার পাশে এসে বসলো)

=আমিঃ কি বলবেন বলুন।

=নুসরাতঃ আসলে ভেবেছিলাম এই কথাটা তোমার মুখ থেকে শুনবো কিন্তু তুমি তো,,,।

নুসরাত কথা বলছিলো এর মাঝে আমার ফোনটা বেজে উঠলো। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে দেখি অধরা কল দিছে। তাই আমি আর দেরি না করে কলটা রিসিভ করলাম,,,,,,

=আমিঃ হ্যালো অধরা।

=অধরাঃ ঐ এখনই,,,,,,,, পার্কে চলে আসো। ম্যাডাম কে দেখিয়ে।

=আমিঃ হুমম আসছি আমার ও তোমার সাথে দরকারি কথা আছে।

এই কথা বলে কলটা কেটে দিলাম তারপর নুসরাত আমাকে বলে,,,,,,,,

নুসরাতঃ এই অধরা কেন আপনাকে কল করছে।

=আমিঃ কেন আবার আমার সাথে মিট করবে তাই। আচ্ছা আমি যায় তাহলে।

=নুসরাতঃ কেন আপনি তার সাথে দেখা করতে যাবেন।

=আমিঃ তাতো বলা যাবেনা আপনাকে ।

এই কথা বলে বাসা থেকে বেরিয়ে গেলাম। আমি জানি নুসরাত ঠীকই আমার পেছন পেছন আসবে। তারপর পার্কে এসে দেখি অধরা আগে থেকেই এসে বসে আছে।

=অধরাঃ এত সময় লাগে আসতে।

=আমিঃ কথায় বেশি সময় লাগছে।

=অধরাঃ আচ্ছা বাদ দাও এসব কথা।এখন বলো ম্যাডামের কি খবর।

=আমিঃ মনে হয় আমাদের প্ল্যানে কাজ হয়ছে।

=অধরাঃ বলো কি। তাহলে তো আমাকে একটা ট্রিট দিতে হবে।

=আমিঃ হুমম। দেবো তবে জানো কাল না নুসরাত কে কাঁদতে দেখে খুব কষ্ট হচ্ছিলল। ভাবছি ওকে আজ মনের কথাটা বলে দেবো।

=অধরাঃ হুমম সেটাই ভালো হবে ম্যাডাম কে আর কষ্ট দেওয়া ঠীক হবেনা এতে করে বিপরীত কিছু হতে পারে।(আমার হাত ধরে কথাটা বললো)

ঠাসসসসসাস, নুসরাত এসে অধরা কে একটা চর মারলো। অধরা মুখে হাত দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আর আমি ও অবাক হয়ে নুসরাতের দিকে তাকিয়ে আছি।তারপর নুসরাত রাগী ভাবে বলতে লাগলো,,,,,,,

=নুসরাতঃ ঐ মেয়ে তুই কোন সাহসে আমার রাজের হাত ধরেছিস। তোকে চাকরি দেওয়াটা আমার ভুল হয়ছে।

=আমিঃ আপনি কেন অধরার গায়ে হাত তুললেন।

=নুসরাতঃ ও কেন আমার ভালোবাসার মানুষের হাত ধরবে।

=আমিঃ কারণ ও আমাকে ভালোবাসে তাই তো ও আমার হাত ধরছে। আর তোমার সাথে আমার বিয়েটা তো শুধু নামের। তুমি তো আমাকে স্বামী হিসাবে মানোনা তাহলে আবার কেন ভালোবাসার মানুস বলো।

=নুসরাতঃ,,,,,,,। (চুপ)

=আমিঃ আর এভাবে আমি মিথ্যা সম্পর্ক নিয়ে থাকতে পারবোনা। তাই তো তোমাকে ডিভোর্স দিয়ে ওকে আবার বিয়ে করবো বুঝলে।

কথা গুলো বলার সময় আমার খুব খারাপ লাগছিলো তারপর ও বললাম।কারণ এখন আজকের পর থেকে যে আর কোন কষ্ট দেবোনা শুধুই ভালোবাসবো। নুসরাত আমার কথা গুলো শুনে আর কোন কথা না বলে কাঁদতে কাঁদতে চলে গেলো,,,,,,,,

=অধরাঃ রাজ তুমি মনে হয় একটু বেশিই বলে ফেলছো।

=আমিঃ কি করবো বুঝতে পারিনি। আচ্ছা নুসরাতের হয়ে আমি তোমার কাছপ ক্ষমা চাচ্ছি।

=অধরাঃ আরে ধুর এতে আবার ক্ষমা চাইতে হয় নাকি। আমার তো আরো ভালোই লাগছে যে আমি একটা ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি করে দিতে পারছি। আচ্ছা তুমি কিন্তু এখনই গিয়ে সব সত্যি কথা বলে দিবে৷ দরকার হলে আমিও তোমার সাথে যাবো চলো।

=আমিঃ আরে নাহ্ আমিই সব বলতে পারবো।

তারপর অধরার সাথে আর কিছু সময় থেকে বিকালে বাসায় ফিরলাম।বাসায় ফিরে রুমে যাবো এমন সময় মা এসে আমাকে,,,,,,

ঠাসসসসসস,

=আমিঃ মা তুমি আমাকে মারলে কেন।(মুখে হাত দিয়ে)

=মাঃ ঐ শয়তান এই দিনটি দেখার জন্য কি তোকে বড় করছি।

=আমিঃ যাহ্ বাবা আমি আবার কি করলাম।যে তুমি এমন কথা বলছো।

=মাঃ ঐ তুই নাকি অন্য একটা মেয়েকে ভালোবাসিস।

=আমিঃ তুমি কি ভাবে জানলে।

=মাঃ বউমা কাঁদতে কাঁদতে বাসায় আসছিলো। তারপর আমি অনেক জর দেওয়ার পর এই কথা বলে। তোকে সুখে রাখার জন্য সে বাসা থেকে চলে গেছে।আমি এত চেষ্টা করলাম কিন্তু পারলামনা তাকে আটকে রাখতে। এ ও বলে গেছে যে তোকে যেন কিছু না বলি আর তৎ যাকে ভালোবাসিস তার সাথে যেন তোকে আবার বিয়ে দি।আমার তো তোকে নিজের ছেলে বলতে লজ্জা লাগছে।

=আমিঃ আরে মা আমি সত্যি অন্য কোন মেয়ে কে ভালোবাসি না।তাহলে শোনো তোমাকে বলি।

এর পর মাকে সব কথা খুলে বললাম।

মাঃ তবেরে শয়তান। তুই এক্ষুনি গিয়ে আমার বউমাকে যেভাবে পারিস ফিরিয়ে নিয়ে আসবি। আর যদি না আনতে পারিস তাহলে এ বাড়িতে তোমাকে আর ফিরতে হবেনা।

এই কথা বলে মা আমাকে বাসা থেকে বের করে দিলেন। তবে আর কি করার যায় গিয়ে আমার ম্যাডাম বউটা কে নিয়ে আসি। নুসরাতের বাসায় যেতে যেতে রাত হয়ে গেলো। ভাবলাম আংকেল কে কল দিয়ে দরজা খুলার কথা বলবো। আমি আসছি এটা যেন নুসরাত টের না পাই ওকে সারপ্রাইজ দেবো। কিন্তু আংকেল কে কল দিয়ে শুনি সে বাসায় নেই উনার এক বন্ধুর বাসায় গেছে। এখন কি করি।তাই আর কোন উপায় না পেয়ে নুসরাতের নাম্বারে কল দিলাম। রিং হচ্ছে কিন্তু ম্যাডামের তো রিসিভ করার কোন নামই নাই। আবার কল দিলাম কিন্তু এবার রিসিভ করলো না কিন্তু কলটা কেটে দিছে। বুঝতে পারছি ম্যাডাম সেই আকারে আমার প্রতি রাগ করে আছে তাই ম্যাসেজ করলাম যে আমি তোমার বাসার নিচে দাঁড়িয়ে আছি। প্লিজ দরজাটা খুলো।

কিন্তু এবারও ম্যাসেজের কোন রিপ্লাই আসলোনা তবে খেয়াল করে দেখলাম। নুসরাতের রুমের লাইট জ্বলে উঠলো। একটু পর দেখি নুসরাত বেল কনিতে এসে দাড়িয়ে আমাকে কল করলো। আমি আর দেরি না করে কলটা রিসিভ করলাম,

=নুসরাতঃ ঐ আপনি কেন এখানে আসছেন।

=আমিঃ আমি আমার মিষ্টি বউটা কে নিতে আসছি।

=নুসরাতঃ কে আপনার বউ এখানে তো আপনার বউ থাকেনা।

=আমিঃ তুমিই তো আমার বউ।শুধু বউ না তুমি আমাড ম্যাডাম বউ।

=নুসরাতঃ না আমি আপনার বউ হয়নি না। আপনি জান আপনার অধরার কাছে।আমার কাছে কেন আসছেন।

=আমিঃ ঐ শোনো তোমার মুখ থেকে ভালোবাসি কথাটি শোনার জন্য আমি আর অধরা এই অভিনয় করছি।

=নুসরাতঃ আমি বিশ্বাস করিনা।

=আমিঃ আরে বাবা সত্যি বলছি। বিশ্বাস করো আমি শুধু তোমাকেই ভালোবাসি। এখন প্লিজ দরজা খুলে আমাকে ভেতরে নাও। দেখো এক্ষুনি মনে হয় ঝড় আসবে।আর আমার মেঘের শব্দে খুব ভয় করে।

=নুসরাতঃ আপনার ভয় করলে আমি কি করবো। আপনি জান অাপনার সেই অধরার কাছে যার সাথে মিশে আমাকে কষ্ট দিছেন।

এই কথা বলে কলটা কেটে দিলো। যাহ্ বাবা এখন কি হবে। এদিকে মেঘের শব্দে আমি তো শেষ। নাহ্ এই পাগলি বউটার দেখছি কোন মায়া দোয়া নেই। তারপর আমি কান হাত দিয়ে ভয়তে চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে আছি। একটু পর মনে হলো কে যেনো জোরে দৌড়ে এসে আমাকে জরিয়ে ধরলো।আমি চোখ খুলে দেখি নুসরাত আমাকে জড়িয়ে ধরে আছে।

=আমিঃ আরে আরে কে আপনি যে আমাকে জরিয়ে ধরছেন। ছারুন বলছি।আমার স্ত্রী দেখলে আপনাকে আর আসতো রাখবেনা।(মজা করে)

=নুসরাতঃ ঐ কুত্তা শয়তান। আমাকে আর কত কষ্ট দিবি।(বুকে কিল দিতে দিতে)

=আমিঃ উফফ!! এভাবে মারলে তো মরেই যাবো।

=নুসরাতঃ হুমম তোমাকে তো মেরেই ফেলবো। জানো এই কয়দিন কত কষ্ট পাইছি।

=আমিঃ আর কষ্ট দেবোনা আমার এউ মিষ্টি বউটা কে। এখন থেকে শুধু ভালোবাসা দেবো।

আমার মুখে এই কথা শুনে লজ্জায় মাথা আমার বুকের মাঝে লুকিয়ে নিলো।আর আমিও ওকে শক্ত করে জরিয়ে ধরলাম। আমাদের এই ভালোবাসা দেখে যেনে আকাশের হিংসা হলো তাইতো সে অঝরে কাঁদতে লাগলো।

=নুসরাতঃ এই তাড়াতাড়ি ভেতরে চলো বৃষ্টি নামছে।

=আমিঃ নাহ্ এখন আর ভেতরে যাবোনা। এখন আমরা দুজনেই এক সাথে বৃষ্টিতে ভিজবো।

=নুসরাতঃ তোমার না মেঘের শব্দে ভয় করে।

=আমিঃ হুমম করে কিন্তু এখন তুমি পাশে আছো তাই আর ভয় করছেনা।

=নুসরাতঃ তাই নাকি সাহেব। তাহলে চলো ছাদে গিয়ে দুজে ভিজি।

=আমিঃ হুমম চলো।

তারপর দুজনে ছাদে গিয়ে ভিজতে লাগলাম। নুসরাত কে দেখে মনে হচ্ছে ও আজ অনেক খুশি। বৃষ্টিতে ভেজা শেষ হলে। আমরা ফ্রেশ হচ্ছিলাম ঠীক তখনই আমার ফোনটা বেজে উঠলো।তাকিয়ে দেখি অধরা কল দিছে,,,,,

=নুসরাতঃ এই তোমাকে আবার অধরা কল দিছে কেন।(রাগী ভাবে)

=আমিঃ আমি কিভাবে বলবো। আগে রিসিভ তো করি তারপর দেখি কি বলে।

=নুসরাতঃ ঠীক আছে করো কিন্তু ফোন লাউডস্পিকারে রাখবা।

=আমিঃ হ্যালো অধরা।(রিসিভ করে)

=অধরাঃ,,,,,,,,,,। (কোন কথা না বলে শুধু কাদছে)

=আমিঃ আরে তুমি কাঁদছো কেন।

=অধরাঃ ঐ তোমার আর ম্যাডামের ভালোবাসা ঠীক করতে গিয়ে আমার ভালোবাসার নৌকা এখন ডুবতে বসছে।

=আমিঃ কেন তোমার ভালোবাসার নৌকা ডুবতে বসছে মানে।

=অধরাঃ আরে আজ পার্কে যখন তুমি ম্যাডামকে ঐ কথা গুলো বলছিলে তখন কোথা থেকে যেন জসিম আমাদের ঐ কথা শুনে ফেলে এখন আর আমার সাথে কথা বলছে না।

=আমিঃ এই জসিম টা আবার কে।

=অধরাঃ কে আবার আমার ভালোবাসার মানুষ।

=আমিঃ আচ্ছা তুমি কেঁদো না আমি আর নুসরাত সকালেই এসে আবার তোমার ভালোবাসার নৌকা ঠীক করে দেবো।

=অধরাঃ আচ্ছা।

এই কথা বলে কলটা কেটে দিলাম।নুসরাতের দিকে তাকিয়ে দেখি ও আমাদের কথা শুনে শুধু হেসেই যাচ্ছে। আর আমি আস্তে আস্তে নুসরাতের দিকে এগিয়ে যেতে লাগলাম।

=নুসরাতঃ এ এই তু তুমি আমার দিকে এভাবে এগিয়ে আসছো কেন।(তুতলাতে তুতলাতে)

আমি কিছু না বলো মিটমিট করে হাসতে হাসতে ওর দিকে এগিয়ে যেতে লাগলাম। আর ও শুধু পেছতে লাগলো এক সময় ও দেওয়ালের সাথে ওর পিঠ ঠেকে যাওয়া ও আর পেছতে পারলো না। আর আমি ওর কাছে গিয়ে ওর হাত দুটি শক্ত করে ধরে বললাম,,,,,,

=আমিঃ আমার না মিষ্টি খেতে মন চাচ্ছে।

=নুসরাতঃ আমি ফ্রিজ থেকে এনে দিচ্ছি।

=আমিঃ না ঐ মিষ্টি না।

=নুসরাতঃ তাহলে।

তার পর আমি ইশারা করে ওর গোলাপি ঠোঁট দুটি দেখিয়ে দিলাম।

=নুসরাতঃ যাহ্ দুষ্টু। (লজ্জা পেয়ে)

তারপর আমার ঠোঁট দুটি নুসরাতের ঠোঁটের সাথে লাগিয়ে একাকার করে দিলাম। তার পর আর কি করার আমাদের অধরা বাসর রাতটা করেই ফেললাম। সেটা না হয় আপনাদের না বললাম ইতিহাসের পাতায় আছে দেখে নিন। সকালে ঘুম থেকে উঠে আমি আর নুসরাত চলে গেলাম অধরার বাসায়। তারপর অধরা কে নিয়ে চলে গেলাম জসিমের বাসায়,,,,

=জসিমঃ একি আপনারা।

=আমিঃ প্লিজ রাগ করবেন না। আপনার সাথে আমাদের কিছু কথা আছে।

তার পর আমি জসিম কে সব খুলে বললাম।

=জসিমঃ প্লিজ অধরা আমাকে ক্ষমা করে দাও।

=অধরাঃ ধূর পাগল। (এই কথা বলে জরিয়ে ধরলো)

=নুসরাতঃ অধরা তুমি আমাকেও ক্ষমা করে দিও।আমিও না জেনে তোমাকে কাল তোমার সাথে ওমন ব্যবার করা ঠীক হয়নি।

=অধরাঃ আরে নাহ্ আমি কিছু মনে করিনি।

=আমিঃ তাহলে চলো সবাই মিলে নাস্তা করে আসা যাক।

=নুসরাতঃ হুমম চলো যায়।

তারপর আমি নুসরাতের হাত ধরে হাটছি।আর অধরা জসিমের হাত ধরে পথ চলতে থাকলাম। এখন আপনারা ও যান আপনার ভালোবাসার মানুষ কে নিয়ে কোন এক ভালোবাসার জগতে কেমিস্ট্রি থেকে ঘুরে আসুন।

“””””””””””””””””””””সমাপ্ত”””””””””””””””””””””””””””

আমার সকল পাঠক/পাঠিকা বন্ধুদের কে জানায় অন্তরে অন্ত অঙ্গ থেকে অসংখ্য ধন্যবাদ। এত দিন আপনারা অনেক দৈর্য ধরে গল্পটি পড়েছেন। আসা করি সম্পূর্ণ গল্পটি আপনাদের কাছে ভালো লেগেছে।

আর আমার জন্য সকলে দোয়া করবেন। যেন পরবর্তী নতুন কোন গল্প নিয়ে আবারও আপনাদের সামনে হাজির হতে পারি।

Writer by স্বপ্নহীন_বালক

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *