ম্যাডাম যখন বউ পর্ব_২

#গল্পঃম্যাডামযখনবউ

#পর্বঃ০২

=আমিঃ তার মানে চাকরি টা আমার।

=নুসরাতঃ হুমম যদিও আপনাকে দিতাম না। কিন্তু পরে ভেবে দেখলাম চাকরি টা আপনাকে দেওয়া যায়।

আমিঃ ধন্যবাদ ম্যাডাম।

=নুসরাতঃ হুমম এখন জান আর হ্যা কাল যেনো আসতে আবার লেট না হয়।

=আমিঃ না না কাল আপনি আমাকে সঠীক সময়ে দেখতে পারবেন।

এই কথা বলে আমিও বাসায় চলে আসি।বাসায় আসার পর,,,,(১ম পর্বের পর থেকে)

কলিং বেল দিতেই মা এসে দরজাটা খুলে দেয়।

আমিঃ মা চাকরিটা না আমার হয়ে গেছে।

মাঃ হুমম দেখতে হবেনা ছেলেটা কার।

বাবাঃ তোমাকে এখন চাকরি নিতে কে বলছে।

=আমিঃ মা দেখনা বাবা কি বলছে।

=মাঃ তুমিও না কথায় ছেলেটা চাকরি পাইছে খুশি হবে তানা।

বাবাঃ আরে আমার কথা মানে হলো তোমার ছেলে যেই অলস তাতে করে ও চাকরি করতে পারবে বলেতে আমার মনে হয়না।

আমিঃ আমি অলস না আমি তোমাকে কাজ করে দেখিয়ে দেবো।

মাঃ উফফ!! তোমরা বাপ ছেলে কি শুরু করলে। যা বাবা তুই ফ্রেশ হয়ে আয় আমি তোর জন্য খাবারের ব্যাবস্তা করছি।

তার পর আমি ফ্রেশ হতে চলে গেলাম। আসলে আমার মা-বাবা সাথে আমি ফ্রী ভাবেই কথা বলি। ফ্রেশ হয়ে খাবার টেবিলে চলে আসলাম,,,,,,,

আমিঃ মা কথায় খাবার দাও।

মাঃ একটু অপেক্ষা কর বাবা।

আমিঃ হুমম তাড়াতাড়ি দাও খুব ক্ষিদে লেগেছে।

তারপর মা খাবার নিয়ে চলে আসলো। আমরা সকলে এক সাথে খাবার খেতে লাগলাম। খাওয়ার সময় মা বাবাকে বলে,,,,,,,

মাঃ ছেলেটদ যখন এবার চাকরি পেয়ে গেছে তাহলে এবার সুন্দর একটা মেয়ে দেখে ওর বিয়ে দিলে হয়।

=বাবাঃ কিহ্ আমার ছেলে হয়ে ও করবে অ্যারেন্জ ম্যারেজ কখনই না।

=মাঃ তাহলে কি করবে শুনি।

=বাবাঃ ও আমার ছেলে তাই আমি চায় ও আমার মত প্রেম করে বিয়ে করবে।

=আমিঃ এইতো বাবা একদম ঠীক কথা বলছো।আরে এখন কার সময় কি কেউ আর অ্যারেন্জ ম্যারেজ করে নাকি।

=মাঃ তুমিও না ওকে একদম ছেলেটার মাথা নষ্ট করে দিচ্ছ।

=আমিঃ মা বাবা তো ঠীকই বলছে।দেখ তোমাদের ২জনের লাভ ম্যারেজ আর আমি তোমাদের সন্তান হয়ে কি করে অ্যারেন্জ ম্যারেজ করবো।

=মাঃ হয়ছে তোকে আর লাভ ম্যারেজ করতে হবেনা।এখন পর্যন্তুক পারলিনা একটা প্রেম করতে।আবার লাভ ম্যারেজ।

=আমিঃ এতদিন পারিনি ঠীকই কিন্তু এখন তোমাদের বলছি খুব তাড়াতাড়ি প্রেম করেই দেখাবো।

=বাবাঃ এই না হলে আমার ছেলে।

=মাঃ হয়ছে এখন তাড়াতাড়ি খাওয়া শেষ করে ঘুমিয়ে পড়। সকালে আবার অফিস আছে।

তারপর আমি ঘুমাতে চলে গেলাম। কিন্তু চোখ ২ টো বন্ধ করার সাথে সাথে নুসরাত ম্যাডামের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা গুলো চোখের সামনে ভেসে উঠছে। নাহ্ আমার এমন কেন হচ্ছে। খাটের এপাশ ওপাশ করতে করতে কখন যে ঘুমিয়ে গেছি মনে নাই।সকাল ৬:৩০ এর সময় ঘড়িতেএলার্ম বেজে উঠলো।নাহ্ থাক আর ১০ মিনিট পরে উঠি।তারপর আমি ঘুমের মধ্যে সেটা বন্ধ করে শুয়ে থাকি।কিছু ক্ষন পর মা আমার রুমে এসে আমাকে শুয়ে থাকতে দেখে বলে,,,,,,,

=মাঃ বাবা রাজ আমি তোর খাবার দিছি।

=আমিঃ,,,,,,,,,,,,,।(ঘুমের রাজ্যে)

=মাঃ একি।(চিৎকার করে)

=আমিঃ কি কি হয়ছে।(এক লাফে বিছানা থেকে উঠলাম)

=মাঃ তুই এখন ও শুয়ে আছিস তোর না আজ অফিসের ১ম দিন।

=আমিঃ সেকি ৭:০০ টা কখন বাজলো।(ঘড়ির দিকে তাকিয়ে)

=মাঃ তোর জন্য কি সময় থেমে থাকবে নাকি।

=আমিঃ ধূর আমিও যে কি করি।

এই কথা বলে তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হতে চলে গেলাম। তারপর তৈরি হয়ে বেরিয়ে পড়লাম অফিসের জন্য। মা অনেক বার খেতে বললো কিন্তু আমার পড়া কপালে মনে হয়না সকালে খাওয়া লেখা আছে। এইরে ৮ বাজতে আর মাত্র কিছু সময় বাকি মনে হয়না পৌঁছাতে পারবো। অবশেষে ১০ মিনিট পরে এসে অফিসে পৌছালাম। যাক বাবা বেশি দেরি হয়নি। এই কথা বলে যেইনা আমার কেবিনের দিকে যাবো অমনি পেছন থেকে নুসরাত আমাকে ডাক দিয়ে বলে,,,,,,,

=নুসরাতঃ মি.রাজ আপনি এক্ষুনি আমার কেবিনে আসুন।

=আমিঃ ওকে ম্যাডাম।

তারপর আর কি চুপচাপ ম্যাডামের কেবিনের দিকে যেতে লাগলাম। নাহ্ প্রথম দিনেই লেট না জানি কি বলে।ধূর যা বলার বলবে এখন যায় সাহস করে।মনে মনে এসব কথা ভাবতে ভাবতে ম্যাডামের কেবিনের সামনে পৌছালাম। তারপর দরজাটা খুলার সাথে সাথে,,,,,,,

=আমিঃ ম্যাডাম।(আমাকে পুরো কথা বলতে না দিয়ে)

=নুসরাতঃ হুমম ভেতরে আসুন।(অন্যদিকে ঘুরে)

ম্যাডাম চেয়ারে বসে মুখ অন্য দিকে ফিরে বসে আছে।এটা দেখে তো আমি ভয় পেয়ে গেলাম। মনে হয়না চাকরিটা থাকবে,,,,,,

=আমিঃ ম্যাডাম আমাকে কি জন্যে ডাকছেন।

=নুসরাতঃ এখন কয়টা বাজে।(আমার দিকে ফিরে)

=আমিঃ ঘড়তি কয়টা বাজে শুনার জন্য আমাকে ডাকছেন। আমিতো ভাবলাম কি দরকারি কাজে ডাকছেন।(হেসে হেসে)

=নুসরাতঃ হাসা বন্ধ করুন আপনি।আপনার কি মনে হয় আমি আপনার সাথে মজা করছি।

=আমিঃ সরি ম্যাডাম। আসলে আপনি সময় জানতে চায়ছেন তো তাই আর কি হাসি চলে আসলো।

=নুসরাতঃ আমি আপনার কাছে সময় এজন্যে জানতে চায়ছি কারণ অফিস শুরু হয় ৮ থেকে আর আপনি১০ মিনিট লেট করে আসছেন।

=আমিঃ আসলে ম্যাডাম।(পুরো কথা বলতে না দিয়ে)

=নুসরাতঃ থামুন আপনি। এমনিতে প্রথম দিনেই অফিসে লেট করে এসেছেন আবার অামাকে অজুহাত শোনাচ্ছেন।

=আমিঃ,,,,,,,,,,।(চুপ)

=নুসরাতঃ শুনুন আমাকে কোন অজুহাত শোনাতে আসবেন না।নাকি আজ প্রথম দিন বলে কিছু বললাম না। কাল থেকে যেন আর লেট না হয়।

=আমিঃ বলে কি এত সময় ধরে ঝারি মেরে এখন বলছে কিছু বলি নাই।(মনে মনে)

=নুসরাতঃ এখন আমার দিকে হা করে তাকিয়ে না থেকে জান নিজের কেবিনে গিয়ে আপনার কাজ বুঝে নিন। আর কাল থেকে লেট করলে চাকরি করা লাগবে না।

=আমিঃ আচ্ছা ম্যাডাম।

এই কথা বলে আমি আমার কেবিনে চলে আসি।যাক বাবা বেশি কিছু হয়নি।আমি তো ভাবিলাম প্রথম দিনেই চাকরি টা না হারায়। মেয়ে মানুষ যে এতটা রাগি হতে পারে ম্যাডাম কে না দেখলে বুঝতেই পারতাম না। ও আপনাদের তো একটা কথা বলতে ভুলেই গেছি আমি যেই ফ্যাশনডিজাইনার কম্পানি তে কাজ করি। কাজ করতে করতে আমি একটা সময় এক জায়গায় আটকে যায় তাই আমি ম্যাডামের কাছে গেলাম,,,,,,,,,,

=আমিঃ ম্যাডাম আসবো।

=নুসরাতঃ হুমম আসেন।

=আমিঃ ধন্যবাদ। বসতে পারি।

=নুসরাতঃ হুমম বসেন এবার বলেন কি জন্য আসলেন।

=আমিঃ ম্যাডাম বর্তমান আমরা যে ডিজাইন নিয়ে কাজ করছিলেন এতে কিছুটদ পরিবর্তন করতে চায়।

=নুসরাতঃ দেখুন আপনি আজই প্রথম এর মধ্যে আবার এত বড় কাজের পরিবর্তন করতে হবেনা। আপনি বরং অন্য একটা কাজ করুন এই কাজ বাকিরা করে নিবে।

=আমিঃ আরে ম্যাডাম আপনি আমার কথা তো শুনবেন।

=নুসরাতঃ আচ্ছা বলেন।

তারপর আমি ম্যাডাম কে অনেক বোঝানোর পর উনি শেষ মেষ রাজি হলেন। আর আমিও লেগে পরলাম নতুন কাজ নিয়ে। অফিস ছুটির পর বাসায় চলে আসলাম।

=মাঃ কিরে অফিসের ১ম দিন কেমন কাটলো।

=আমিঃ ভালোই।

=বাবাঃ তোর সাথে যারা কাজ করে তারা কেমন।

=আমিঃ এখনও সকলের সাথে পরিচয় হয়নি তবে আস্তে আস্তে করে নেবো।

=মাঃ যা বাবা তুই ফ্রেশ হয়ে খেতে আয়।

তারপর রাতের খাবার খেয়ে শুয়ে পড়লাম। পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে টাইম মত অফিসে পৌছে গেলাম। অফিসে যাওয়র পর শুনি,,,,,,,,,,,

To be Continue ⏩

(চলবে……….)

Writer by স্বপ্নহীন_বালক

বন্ধুরা হয়তো অন্য সবার মত গল্পের কথা গুলো গুছিয়ে লিখতে পারিনা। তার-পর লিখার চিষ্টা করি। তাই গল্পটাই Next না লিখে ভালো বা খারাপ যেটাই আপনাদের কাছে মনে হয় সেটা জানাবেন। ধন্যবাদ।

( পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন।)

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *