ম্যাডাম যখন বউ পর্ব_৩

#গল্পঃম্যাডামযখনবউ

#পর্বঃ০৩

ম্যাডাম যখন বউ  সকল পর্ব

=মাঃ কিরে অফিসের ১ম দিন কেমন কাটলো।

=আমিঃ ভালোই।

=বাবাঃ তোর সাথে যারা কাজ করে তারা কেমন।

=আমিঃ এখনও সকলের সাথে পরিচয় হয়নি তবে আস্তে আস্তে করে নেবো।

=মাঃ যা বাবা তুই ফ্রেশ হয়ে খেতে আয়।

তারপর রাতের খাবার খেয়ে শুয়ে পড়লাম। পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে টাইম মত অফিসে পৌছে গেলাম। অফিসে যাওয়র পর শুনি,,,,(২য় পর্বের পর থেকে)

ম্যাডাম এখন ও আসেনি এটা শুনে তো আমি মনে মনে লুঙ্গি ড্যান্স দিতে লাগলাম। নাহ্ এখন কাজে মন দিতে হবে। তার পর আমি আমার কাজ করতে লাগলাম। একটু পর অফিসের পিওন এসে বলে,,,,,,,,,

=পিওনঃ স্যার ম্যাডাম আপনাকে ডাকছে।

=আমিঃ ম্যাডাম আবার কখন এলো।

=পিওনঃ একটু আগেই আসছে।

=আমিঃ আচ্ছা তুমি যাও আমি আসছি।

তারপর আমি ম্যাডামের কেবিনের সামনে গিয়ে বললাম,,,,,,,,,,,,

=আমিঃ ম্যাডাম আসবো।

=নুসরাতঃ হুমম আসুন।

=আমিঃ ধন্যবাদ।

এই কথা বলে বসে আছি আর ম্যাডাম ও কোন কথা না বলে ল্যাপটোপে কাজ করতে লাগলেন। তারপর আমি বললাম,,

=আমিঃ আজকে আপনার আসতে এত দেরি হলো যে।

=নুসরাতঃ এই যে রাস্তায় আজ একটু বেশি জ্যাম ছিলো।

=আমিঃ তাহলে এবার বুঝলেন তো ম্যাডাম কেন আমার অফিসে আসতে এত দেরি হয়।

=নুসরাতঃ কি বলতে চায়ছেন আপনি।

=আমিঃ না মানে ম্যাডাম বলছিলাম যে আমাকে কেন ডেকেছেন বললেন না তো।

=নুসরাতঃ হুমম এই ফাইল গুলো ধরুন। আর কালই মনে করে সাবমিট করে দিবেন।

=আমিঃ ওকে ম্যাডাম।

=নুসরাতঃ আর হ্যা এই কাজে যেন আবার দেরি না হয়। দেরি হলে কিন্তু কাজটা আমাদের কাজ থেকে হাত ছাড়া হয়ে যাবে।

=আমিঃ আরে কি যে বলেন না ম্যাডাম আমি থাকতে এই কাজ হাত ছাড়া হবেনা।দেখবেন আমি এই কাজটাকে এমন ভাবে প্রেজিন্টেশন করবো যে কাজটা আমাদের অফার করবে না নিতে চাইলেও।

=নুসরাতঃ থাক এতো বড় বড় কথা না বলে তাড়াতাড়ি যান কাজে লেগে পড়ুন হাতে সময় খুব কম।

=আমিঃ আচ্ছা ম্যাডাম তাহলে এখন আমি আসি।

এই কথা বলে ম্যাডামের কেবিন থেকে আমার কেবিনে এসে কাজ করতে লাগালাম। কিন্তু ম্যাডাম যে সব মডেলের ছবি আমাকে দিছে তার ভেতর থেকে একজন মডেলের সাথেও এই ডিজাইন ম্যাচিং করছে না তাই আমি নিজেই চলে গেলাম। ফটোসেশানে সেখানে গিয়ে ক্যামেরা নিয়ে নিজেই মেডেল দের ছবি তুলতে লাগলাম কিন্তু কারো স্টাইলই পছন্দ হচ্ছে না। ধূর আর ভালো লাগেনা এমনিতেই সময় কম তার উপর আবার এই সমস্যা। ক্যামেরা হাতে নিয়ে বসে আছি এমন সময় ম্যাডাম কে আসতে দেখলাম। ম্যাডাম কে দেখেই মাথায় একটা বুদ্ধি আসলো। আচ্ছা ম্যাডাম কে তো মডেল দের থেকে বেশি সুন্দর লাগছে। মডেল দের ছবি না দিয়ে ম্যাডামের ছবি দিলে কেমন হয়। কিন্তু ম্যাডাম যেই রাগি উনার ছবি দেওয়ার কথা বললে কখনো রাজি হবেনা।

তার থেকে বরং একটা কাজ করি লুকিয়ে লুকিয়ে ম্যাডামের কিছু ছবি তুলি। যেই ভাবা সেই কাজ তাড়াতাড়ি করে ছবি তুললাম। এর পর ম্যাডাম আমার কাছে এসে বলে,,,,,,,,,

=নুসরাতঃ কি ব্যাপার আপনি কাজ বাদ দিয়ে এখানে কেন।

=আমিঃ ম্যাডাম আমি এখানে কাজই করছি।

=নুসরাতঃ কিন্তু আপনার তো এখানে কোন কাজ নেই।

=আমিঃ ম্যাডাম একটা কাজ ছিলো কিন্তু এখন সেটা শেষ তাই আমি চলে যাচ্ছি।

এই কথা বলে তাড়াতাড়ি সেখান থেকে চলে আসলাম কারণ ওখানে বেশি সময় থাকলে আবার ম্যাডাম রাগ করা শুরু করবে এমনিতে যেই রাগি। তারপর আমি আমার কাজ শেষ করে বাসায় চলে আসলাম। পরের দিন ফাইল সাবমিট করার দিন এত বড় একটা কাজ ম্যাডাম যে আমাকে বিশ্বাস করে দিছে তাই অনেক নাহ্ আজ দেরি করলে হবেনা। তাই আমি আজ তাড়াতাড়ি বাসা থেকে বের হলাম।

রিকশাতে করে যাচ্ছি এমন সময় দেখি। রাস্তার পাশে একটা বৃদ্ধ লোক পড়ে আছে আমি তাড়াতাড়ি রিকশা চালককে থামতে বললাম,,,,,,

=আমিঃ এই মামা দাড়াও দাড়াও।

=রিকশা চালকঃ ক্যান মামা কি হয়ছে।

=আমিঃ আরে ওখানে একটা লোক পড়ে আছে। মনে হয় উনি খুব অসুস্থ।

তারপর আমি তার কাছে গিয়ে দেখি উনি অঙ্গান হয়ে পড়ে আছে।

=আমিঃ এই মামা এনাকে তাড়াতাড়ি হাসাপাতালে নিয়ে যেতে হবে। তাড়াতাড়ি ধরেন তো আমার সাথে একটু।

=রিকশা চালকঃ আরে মামা চিনেন না জানেন না শুধু শুধু ঝামেলা মধ্যে যাবেন কেন।

=আমিঃ দেখুন আজ যদি উনাকে আমি এখানে রেখে চলে যায়।কাল যদি শুনি যে এখানে একটা বৃদ্ধা লোক মারা গেছে। আমি চাইলে তাকে বাচাতে পারতাম। কিন্তু বাচায়নি। তখন যে মানুষ হিসেবে নিজেকে বড্ড অপরাধী মনে হবে।

=রিকশা চালকঃ হো মামা হাছা কৈইছেন আসলে আমার ভুল হয়ে গেছে।এমন ভাবে আমার বলা ঠীক হয়নাইকা।

=আমিঃ আপনি যে আপনার ভুল বুঝতে পারছেন এটাই অনেক বড় ব্যাপার।এখন তাড়াতাড়ি আমাকে একটু সাহায্য করুন।

তারপর রিকশা চালকের সাহায্যে সেই বৃদ্ধা লোকটাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।তারপর বৃদ্ধ লোকটাকে ভর্তি করলাম। ডাক্তার তাকে দেখে বলে,,,,,,,,,

=ডাক্তারঃ খুব ভালো সময় এনাকে এনেছেন। আর একটু দেরি হলেতো বাঁচানো যেতো না।

=আমিঃ কেন ডাক্তার কি হয়ছে উনার।

=ডাক্তারঃ উনি তো হার্টঅ্যাটাক করেছিলেন। ভাগ্যেস উনাকে সময় মত নিয়ে আসছেন।

=আমিঃ এখন উনার অবস্থা কেমন।

=ডাক্তারঃ এখন অনেকটা ভালো। তা উনি কি হয় আপনার।

=আমিঃ আসলে উনাকে আমি চিনিনা রাস্তায় পড়ে ছিলো তাই নিয়ে আসছি।

=ডাক্তারঃ চেনেন না জানেন না একটা অচেনা লোককে হাসপাতালে নিয়ে আসলেন। সত্যি আজও দুনিয়ায় আপনাদের মত ভালো মানুষ আছে বলে পৃথিবীটা আজও ধংস হয়নি।

=আমিঃ দেখুন মানুষ হিসেবে আমার যা কর্তব্য আমি শুধু তাই করছি।

=ডাক্তারঃ বর্তমান যুগে এমন কর্তব্য আর কয়জনে বা করে। যাই হোক কিছু সময় পর তার ঙ্গান ফিরে আসবে।

এই কথা বলে ডাক্তার চলে গেলেন। তার আমি যেই বসতে যাবো দেখি রিকশা চালক এখনও দাঁড়িয়ে আছে।

=আমিঃ ওহ্ আমি তো আপনার ভাড়া দিতেই ভুলে গেছি। বলুন আপনাকে কত দিতে হবে।

=রিকশা চালকঃ মামা আপনি একটা ভালো কাজ করছেন আপনার ভালো কাজে না হয় আমিও একটু সরিক হয়তপ চায়। তাই আমার আর ভাড়া লাগবো না।

=আমিঃ আরে তা কি করে হয়।এটা তো আপনার প্রাপ্য এটা কেন নিবেন না নিন ধরুন।

=রিকশা চালকঃ না মামা আজ ভাড়াটা না হয় অন্যদিন দিয়েন।

এই কথ বলে রিকশা চালক ও চলে গেলেন। হায় হায় আমার তো অফিসের দেরি হয়ে গেছে।এদিকে ফাইল গুলো ও সাবমিট করতে হবে। নাহ্ এখন কি করি। কোন কিছু না ভেবে ব্যাগ থেকে ল্যাপটোপ টা বের করে। সেই কোম্পানির কাছে ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠীয়ে দিলাম। যাক বাবা এখন ভালোই ভালোই কাজটা হলে হয়। তানা হলে ম্যাডাম তো আমাকে মেরেই ফেলবে।

তারপর আমি ডাক্তারের কাছে গিয়ে। বললাম,,,,,,,

=আমিঃ ডাক্তার সাহেব উনার ঙ্গান কখন ফিরবে।

=ডাক্তারঃ দেখুন এখন ঠীক ভাবে বলতে পারছিনা তবে কিছু সময়তো লাগবেই।

=আমিঃ আচ্ছা আমার এখন জরুরি দরকারি একটা কাজের জন্য যেতে হবে প্লিজ এটা আমার নাম্বার উনার ঙ্গান ফিরলে আমাকে কল দিবেন।

=ডাক্তারঃ অবশ্যই আপনি নিশ্চিত হয়ে আপনার কাজে যেতে পারেন।

আর অন্যদিকে নুসরাত,

=নুসরাতঃ হাছান সাহেব। রাজ কি এখনও অফিসে আসেনি।

=হাছান সাহেবঃ না ম্যাডাম এখনও আসেনি।

ধূর আমিও যে কি করে এমন একটা মানুষকে এত দরকারি একটা কাজ দিতে গেলাম। যার কাছে সময়ের কোন দামই নাই। আজ আসলে তাকে চাকরি থেকে বের করে দেবো। আজ ওর জন্য এত বড় একটা কাজ হাত ছাড়া হয়ে গেলো।

=আমিঃ ম্যাডাম আসবো।

=নুসরাতঃ আপনার সাহস হয় কি করে এত দেরি করপ আসার জন্য তারপর আবার এত বড় একটা কাজের দায়িত্ব নেওয়ার পরও।

=আমিঃ আসলে ম্যাডাম।(সম্পূর্ণ কথা বলতে না দিয়ে)

=ঠাসসসসসসস।(আমাকে চড় দিয়ে)

=নুসরাতঃ থামুন লজ্জা করেনা এমন একটা দিনে এত দেরিতে আসার পরও আমার সামনে মাথা উঁচু করে আবার কথা বলছেন। আপনাকে ফাইলটা দেওয়া হয়েছে সাবমিট করার জন্য কিন্তু আপনি তো সমায় মত সেখানে যেতেই পারেননি। জানেন আপনার জন্য আজ আমরা কাজটি পাইনি। শুধু মাত্র আপনার জন্যে।

=আমিঃ,,,,,,,,,,।(চুপ করে মাথা নিচু করে আছি)

=নুসরাতঃ আজকের পর থেকে আর অফিসে আসার দরকার নাই যান বেরিয়ে যান।(জারি মেরে)

=আমিঃ ম্যাডাম আপনি একটি বার আমার কথা তো শুনবেন।

=নুসরাতঃ আমি আপনার কোন কৎা শুনতে চায়না যান এখান থেকে। তানা হলে আমি সিকিউরিটি গার্ড ডাকতে বাধ্য হবো।(রাগী ভাবে)

আমি আর কোন কথা না বলে মাথা নিচু করে অফিস থেকে বেরিয়ে গেলাম। ম্যাডাম রাগের মাথায় চড় মারছে এতে আমার কোন দুঃখ নাই।কিন্তু একটি বারতো আমার কথা শুনতে তো পারতো।না যেনে কেন আমাকে এত বড় ভুল বুঝলো।

অন্যদিকে নুসরাত,

=নুসরাতঃ উফফ!! আমার মাথাটাই খারাপ করে দিছে।

=হাছান সাহেবঃ ম্যাডাম আসবো।

=নুসরাতঃ হুমম আসুন।

=হাছান সাহেবঃ ম্যাডাম অভিনন্দন।

=নুসরাতঃ হঠাৎ অভিনন্দন কেন।

=হাছান সাহেবঃ ম্যাডাম আমরা যেই প্রজেক্টটা নিয়ে কাজ করছিলাম আজ তা সাকসেস হয়ছে।

=নুসরাতঃ মানে।

=হাছান সাহেবঃ মানে ম্যাডাম কাজটা আমরা পেয়ে গেছি।

=নুসরাতঃ কাজটা আমরা পেয়ে গেছি কিন্তু কিভাবে।

=হাছান সাহেবঃ ম্যাডাম রাজ সাহেব ঐ কোম্পানির কাছে আমাদের প্রজেক্টটা ই-মেইল করে পাঠিয়েছে। আর কাজটা তাদের এতই পছন্দ হয়ছে যে তারা যা অডার দেওয়ার কথা ছিলো তার থেকে আর ৩ গুন অডার বেশি দিছে।

=নুসরাতঃ হায় হায় এটা আমি কি করলাম। আমি রাগের মাথায় রাজকে চড় মারছি আর নাজানি আর কত কি বলছি। নাহ্ এটা করা আমার একদম ঠীক হয়নি রাজকে আমার অফিসে ফিরিয়ে আনতে হবে।(মনে মনে)

=হাছান সাহেবঃ আর ম্যাডাম তারা এই মডেল গুলো বেশি পছন্দ করছে।

=নুসরাতঃ একি এগুলোর মডেলিংয়ে আমি কি করে।

=হাছান সাহেবঃ সেটা আমি কি করপ বলবো ম্যাডাম এটা তো রাজ সাহেবই ভালো বলতে পারবেন। তা ম্যাডাম উনি ওভাবে চলে গেলেম কেন।

=নুসরাতঃ আচ্ছা আমি একটু বাইরে যাচ্ছি আপনি এদিক টাতে খেয়াল রাখবেন।

এই কথা বলে বেরিয়ে গেলো।রাজকে খুজতে। উফফ!! রাজের মোবাইল নাম্বারটাও নাই। এখন রাজকে কথায় খুজবো। এমন সময় নুসরাতের মোবাইলটা বেজে উঠলো,,,,,

=নুসরাতঃ হ্যালো কে বলছেন।

=ওপাশেঃ আমরা,,,,,,, হাসপাতাল থেকে বলছি। এখানে একজন ভদ্র লোক ভর্তি আছেন। ওনার কাজ থেকে নাম্বারটা নিয়ে কল করা হয়। উনি বলছে আপনি নাকি তার মেয়ে হোন।

=নুসরাতঃ কিহ্ বাবা হাসপাতালে। আচ্ছা আমি এক্ষনি আসছি।আপনি প্লিজ উনাকে একটু দেখে রাখবেন।

To be Continue ⏩

(চলবে……….)

Writer by স্বপ্নহীন_বালক

বন্ধুরা হয়তো অন্য সবার মত গল্পের কথা গুলো গুছিয়ে লিখতে পারিনা। তার-পর লিখার চিষ্টা করি। তাই গল্পটাই Next না লিখে ভালো বা খারাপ যেটাই আপনাদের কাছে মনে হয় সেটা জানাবেন। ধন্যবাদ।

( পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন।)

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *