ম্যাডাম যখন বউ পর্ব_৪

 

ম্যাডাম যখন বউ  সকল পর্ব

#গল্পঃম্যাডামযখনবউ

#পর্বঃ০৪

=নুসরাতঃ আচ্ছা আমি একটু বাইরে যাচ্ছি আপনি এদিক টাতে খেয়াল রাখবেন।

এই কথা বলে বেরিয়ে গেলো।রাজকে খুজতে। উফফ!! রাজের মোবাইল নাম্বারটাও নাই। এখন রাজকে কথায় খুজবো। এমন সময় নুসরাতের মোবাইলটা বেজে উঠলো,,,,,

=নুসরাতঃ হ্যালো কে বলছেন।

=ওপাশেঃ আমরা,,,,,,, হাসপাতাল থেকে বলছি। এখানে একজন ভদ্র লোক ভর্তি আছেন। ওনার কাজ থেকে নাম্বারটা নিয়ে কল করা হয়। উনি বলছে আপনি নাকি তার মেয়ে হোন।

=নুসরাতঃ কিহ্ বাবা হাসপাতালে। আচ্ছা আমি এক্ষনি আসছি।আপনি প্লিজ উনাকে একটু দেখে রাখবেন।(৩য় পর্বের পর থেকে)

হাসপাতালে যাওয়ার পর,

=নুসরাতঃ বাবা তোমার কি হয়ছে।

=নুসরাতের বাবাঃ জানিনারে মা তুই অফিসে যাওয়ার পর একটু হাটতে বের হয়ছিলাম পরে মাথাটা ঘুরে পরে গেলাম এর পর আমার আর কিছু মনে নেই।

=ডাক্তারঃ উনার সৌভাগ্য যে একটি ছেলে তাকে সময় মত এখানে নিয়ে আসছে তানা হলে তো উনাকে হয়তো আর বাচানো যেতনা।

=নুসরাতঃ কোন ছেলে ডাক্তার, আমি তার সাথে দেখে করতে চায়।

=ডাক্তারঃ উনি তো এখন নেই কি দরকারী কাজ আছে সেজন্যে বাইরে গেছে আমরা ফোন করছি উনি আসছে।

=নুসরাতঃ আচ্ছা ডাক্তার আমি কি এখন আমার বাবাকে নিয়ে যেতে পারি।

=ডাক্তারঃ হুমম কেন নয়। অবশ্যই নিয়ে যেতে পারে তবে খেয়াল রাখবেন উনি যেন বেশি চিন্তা না করে।

=নুসরাতঃ ঠীক আছে ডাক্তার।

=নুসরাতের বাবাঃ মা ছেলেটা যদি আসে তাহলে আমার কাছে নিয়ে আসিস।

=নুসরাতঃ ঠীক আছে বাবা তুমি একটু রেস্ট নাও আমি হাসপাতালের বিলটা দিয়ে আসি।

তারপর নুসরাত হাসপাতালের বিল দিতপ গেলো।

=নুসরাতঃ দেখুন তো…….. নং কেবিনের পেসেন্টের বিলটা কত।

=নার্সঃ সরি ম্যাম তার বিলতো পরিশোধ করা হয়ছে।

=নুসরাতঃ পরিশোধ মানে কে করছে।

=নার্সঃ রাজ নামে একটি লোক।তার সম্পূর্ণ কিছু পরিশোধ করে গেছে।

=নুসরাতঃ রাজ কোন রাজের কথা বলছে। আমি যেই রাজের কথা ভাবছি সে নয় তো আবার। নাহ্ ও কি করে আসবে এখানে পৃথিবীতে তো রাজ নামে অনেক মানুষ আছে।(মনে মনে)

এদিকে আমি,

ডাক্তারের ফোন পেয়ে হাসপাতালে ছুটে এসে দেখি। সেই লোকটি বসে আছে তারপর আমি তার কাছে গিয়ে তার পাশে বসে জিজ্ঞেস করলাম,,,,,,,,,,,,,

=আমিঃ আংকেল এখন কেমন আছেন।

=নুসরাতের বাবাঃ ভালো কিন্তু তুমি কে বাবা।

=আমিঃ আমাকে আপনি চিনবেন না। আমিই আপনাকে হাসপাতালে নিয়ে আসছিলাম।

=নুসরাতের বাবাঃ ও তুমি সেই ছেলে যে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসছো। সত্যি বাবা তুমি না থাকলে আজ আমি আর বেঁচেই থাকতাম না।

=আমিঃ আরে আংকেল কি যে বলেন এটা আমার দায়িত্ব।

=নুসরাতের বাবাঃ তারপর ও বাবা তোমার কাছে আমি রিনি।

=আমিঃ আংকেল আমাকে লজ্জা দিবেন না। এখন বলুন আপনার বাসা কথায়। আপনাকে আপনার বাসায় দিয়ে আসি।

=নুসরাতের বাবাঃ তোমাকে আর কষ্ট করতে হবে না। আমার মেয়ে এসেছে।

=আমিঃ তাহলে তো খুব ভালো। কিন্তু আপনার মেয়েকে তো দেখছিনা।

=নুসরাতের বাবাঃ ও একটু ডাক্তারের সাথে কথা বলতে বাইরে গেছে।

=আমিঃ ওওও আচ্ছা। তাহলে আমি বরং যায় আংকেল আবার দেখা হলেও হতে পারে।

=নুসরাতের বাবাঃ যায় মানে এখানে বসো আমার মেয়ে আসুক তারপর তার সাথে দেখা করে যাও।

=আমিঃ আসলে আংকেল আমার একটু কাজ আছে।

=নুসরাতের বাবাঃ ঐতো আমার মেয়ে এসে গেছে।

উনার কথা শুনে আমি যেই পেছন ফিরে তাকালাম। ঠীক তখনই দেখি নুসরাত আমার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে ও আমার দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে আছে।আর আমিও অবাক চোখে ওর দিকে তাকিয়ে আছি। কারো মুখে কোন কথা নাই।হঠাৎ নিরবতা ভেঙে নুসরাত আমাকে বলে,,,,,

=নুসরাতঃ আপনি এখানে।

=আমিঃ,,,,,,,,। (চুপ করে আছি কি বলবো বুঝতে পারছি না আসলে ম্যাডাম কে এখানে এমন ভাবে দেখবো আসা করিনি।)

=নুসরাতের বাবাঃ ডাক্তার যেই ছেলের কথা বলছিলো এইযে সেই ছেলে।

=নুসরাতঃ,,,,,,,,,। (এবার নুসরাত ও চুপ করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে)

=নুসরাতের বাবাঃ তুই ওকে চিনিস নাকি।

=নুসরাতঃ হ্যা বাবা।

=নুসরাতের বাবাঃ কি করে।

=নুসরাতঃ ও আমাদের কোম্পানি তে চাকরি করে।

=আমিঃ ম্যাডাম চাকরি করিনা চাকরি করতাম বললে ভালো হয়।

=নুসরাতের বাবাঃ চাকরি করতাম মানে। এখন কি চাকরি ছেড়ে দিছো নাকি।

=আমিঃ না আংকেল ম্যাডামউ আমাকে চাকরি থেকে বের করে দিছে।

=নুসরাতের বাবাঃ কেন বের করে দিছিস নুসরাত।

=নুসরাতঃ অফিসে দেরি করে যাওয়ার জন্য। আর বাবা তুমিতো জানো আমি দেরি করা একদম পছন্দ করিনা।

=আমিঃ দেরি কি আর ইচ্ছা করে করি নাকি। এত দিন তো সময় মত অফিসে গেছিলাম আজ তো শুধু আংকেল আপনার জন্য দেরি হয়ে গেছে।

=নুসরাতের বাবাঃ কাজ তুই একদম ঠীক করিস নি নুসরাত।

=নুসরাতঃ বাবা আমার কি দোষ আমি কি জানতাম নাকি যে কেন দেরি করে আসছে। এমনকি ও আমাকে বলেনি।

=আমিঃ আপনি কি বলার মত সময় দিছেন আমাকে।

=নুসরাতের বাবাঃ যা হবার হয়ছে অসব ভুলে যাও। তুমি কাল থেকে অফিসে যাবে।

=আমিঃ না আংকেল আমি আর ঐ অফিসে ফিরে যেতে চায়না।

=নুসরাতঃ দেখুন আমি মানছি আমার ভুল হয়ছে। সব থেকে ভালো হয় যদি আপনি আবার অফিসে জয়েন করেন।

=আমিঃ আমি সময় মত অফিসে যেতে পারিনা আর পারবোনা শুধু শুধু আমার মত স্টাফ দিয়ে কি করবেন।

=নুসরাতঃ দেখুন আপনার জন্য আজ আমরা এত বড় একটা কাজ হাতে পাইছি। তাই আমাকে ক্ষমা করে দিয়ে প্লিজ কাল থেকে অফিসে আসবেন।

=আমিঃ,,,,,,,,,,,,,,,।(চুপ)

= নুসরাতের বাবাঃ আর তোমাকে সময় মত আর অফিসে আসা লাগবেনা। তোমার যখন খুশি মন চায় অফিসে আসবে। এটা আমি বলে দিলাম।

=নুসরাতঃ আর আমার ভুলের জন্য সরি।

=আমিঃ,,,,,,,,,,,।(চুপ)

= নুসরাতঃ আচ্ছা বাবা এখন চলো। বাসায় যাওয়া যাক।

তার পর আংকেল কে ধরে গাড়ির কাছে নিয়ে যাচ্ছি আর তখন নুসরাতের বাবা আমাকে কানের কাছে মুখ এনে বলে,,,,,

=নুসরাতের বাবাঃ আমার মেয়ে জীবনে কাউকে সরি বলেনি এই প্রথম তোমাকে বলছে।প্লিজ তুমি আর রাগ করে থেকো না।

=আমিঃ আচ্ছা আংকেল।

=নুসরাতের বাবাঃ যাহ্ সেই কখন থেকে তোমার সাথে কথা বলছি এখনও তোমার নামটা জানা হলোনা। তা বাবা তোমার নাম কি?

=আমিঃ আমার নাম রাজ।

=নুসরাতের বাবাঃ বাড়িতে তোমার কে কে আছে।

=আমিঃ আমি মা বাবা এক মাত্র সন্তান। বাড়িতে আমরা মাত্র ৩ জনই

=নুসরাতের বাবাঃ আচ্ছা বাবা একদিন সময় নিয়ে এসো বাড়িতে।

=আমিঃ আচ্ছা আংকেল।

=নুসরাতের বাবাঃ তুমিও আমাদের সাথে চলো তোমাকে তোমার বাসায় নামিয়ে দি।

=আমিঃ না আংকেল আপনার যান।আমার বাসা এইতো কাছেই।

তারপর আংকেল কে গাড়িতে বসিয়ে দিলাম। গাড়ি স্টাট দিয়ে যাওয়ার সময় ম্যাডাম আমাকে বলে,,,,,,,,

=নুসরাতঃ আপনি যদি কাজ করতে আসেন তাহলে ভেবে নেবো আপনি আর আমার প্রতি রাগ হননি।

এই কথা বলে নুসরাত চলে গেলো। আমি শুধু তার দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিলাম।

পরের দিন,

অফিসে এসে নুসরাত প্রথমেই রাজের কেবিনের দিকে য়ায। রাজ এসেছে কিনা তা দেখতে। কিন্তু গিয়ে দেখে রাজ আসেনি।এটা দেখে মনটা একদম খারাপ হয়ে যায়। নাহ্ আজ নিজেকে বড্ড অপরাধী মনে হচ্ছে। কাল রাগের মাথায় রাজের সাথে এমন না করলেও পারতাম। আমার উচিৎ ছিল একটি বার ওর কথা শোনার।

এদিকে আমি,

আজও অফিসে দেরি করে আসছি কারণ ম্যাডামের বাবা আমাকে অনুমতি দিয়ে দিছে আমার যখন খুশি আসার। তাইতো ঘুম থেকে উঠে রিল্যাক্সে চলে আসলাম। কি ব্যাপার ম্যাডাম আমার কেবিন থেকে কেন বের হলো। এই কথা মনে মনে ভাবতে ভাবতে ম্যাডামের সামনে চলে আসলাম। ম্যাডাম আমাকে দেখেই কেমন যেন তার মুখে হাসি ফুটে উঠলো।

=নুসরাতঃ ধন্যবাদ আপনাকে আসার জন্য। আসলে আপনি না আসলে নিজেকে কখনও ক্ষমা করতে পারতাম না। আমার কথা রাখার জন্য ধন্যবাদ।

=আমিঃ আমি আপনার কথায় অফিসে আবার জয়েন করিনি।

=নুসরাতঃ তাহলে। (ভ্রু-ভাচ করে)

=আমিঃ শুধু আংকেল বলছিলো বলে আমি আসছি।

=নুসরাতঃ যায় হক আসছেন যখন তাহলে এখন যান কাজে মন দিন।

=আমিঃ সেটা আপনি না বললেও যেতাম।

নুসরাত আমার দিকে রাগী ভাবে তাকিয়ে চলে গেলো।এটা দেখে আমার খুব হাসি আসছে কেননা এখন উনি আমাকে কিছু বলতেও পারবেনা। কারণ আংকেল মানে ম্যাডামের বাবা আমার সাথে আছে। কাজ করছি এমন সময় মোবাইল টা বেজে উঠলো। তাকিয়ে দেখি অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন আসছে। তাই আমি আর দেরি না করে রিসিভ করলাম। রিসিভ করার পর উপাশ থেকে,,,,,,,,,,,,,,,,,,

বিঃদ্রঃ বন্ধুরা পরীক্ষা শুরু হয়ে গেছে তাই গল্প দিতে একটু দেরি হতে পারে। তাই দয়া করে কেউ কিছু মনে করবেন না। আর আমার জন্য দোয়া করবেন যেন পরীক্ষাটা ভালো হয়।

To be Continue ⏩

(চলবে……….)

Writer by স্বপ্নহীন_বালক

বন্ধুরা হয়তো অন্য সবার মত গল্পের কথা গুলো গুছিয়ে লিখতে পারিনা। তার-পর লিখার চিষ্টা করি। তাই গল্পটাই Next না লিখে ভালো বা খারাপ যেটাই আপনাদের কাছে মনে হয় সেটা জানাবেন। ধন্যবাদ।

( পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন।)

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *