ম্যাডাম যখন বউ পর্ব_৫

 

ম্যাডাম যখন বউ  সকল পর্ব

#গল্পঃম্যাডামযখনবউ

#পর্বঃ০৫

=আমিঃ শুধু আংকেল বলছিলো বলে আমি আসছি।

=নুসরাতঃ যায় হক আসছেন যখন তাহলে এখন যান কাজে মন দিন।

=আমিঃ সেটা আপনি না বললেও যেতাম।

নুসরাত আমার দিকে রাগী ভাবে তাকিয়ে চলে গেলো।এটা দেখে আমার খুব হাসি আসছে কেননা এখন উনি আমাকে কিছু বলতেও পারবেনা। কারণ আংকেল মানে ম্যাডামের বাবা আমার সাথে আছে। কাজ করছি এমন সময় মোবাইল টা বেজে উঠলো। তাকিয়ে দেখি অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন আসছে। তাই আমি আর দেরি না করে রিসিভ করলাম। রিসিভ করার পর উপাশ থেকে।,,,,,,(৪র্থ পর্বের পর থেকে)

=আমিঃ হ্যালো কে বলছেন।

=ওপাশ থেকেঃ আমি নুসরাতের বাবা বলছি।

=আমিঃ সরি আমি নুসরাত নামে কাউকে চিনিনা। আপনি ভুল নাম্বারে ফোন দিছেন।

=ওপাশ থেকেঃ আরে আমি ম্যাডাম নুসরাতের কথা বলছি।

=আমিঃ ও আংকেল আপনি। বলুন কেমন আছেন।

=আংকেলঃ হুমম বাবা ভালো আছি এবার চিনতেন পারলে তাহলে।

=আমিঃ আসলে আংকেল কাজ করছিলাম তো তাই আর কি।

=আংকেলঃ বুঝতে পারছি। তা বাবা তুমি এখন একটু আমার সাথে দেখা করতে পারবে।

=আমিঃ নিশ্চয়ই পারবো আপনি বলুন কথায় আসতে হবে।

=আংকেলঃ…….. তুমি এই জাইগায় আলে আসো।

=আমিঃ আচ্ছা আমি এখুনি আংকেল আসতেছি।

=আংকেলঃ নুসরাত যেন জানতে না পারে যে তুমি আমার সাথে দেখা করতে আসছো।

=আমিঃ কিন্তু কেন আংকেল।

=নুসরাতঃ আরে ওসব পরে বলছি। তুমি আগে আসতো।

=আমিঃ ওকে।

এই কথা বলে ফোনটা কেটে দিলাম। নাহ্ আংকেল ম্যাডাম কে জানাতে মানা করলো কেন বুঝতে পারছি না। এখন আমি ম্যাডাম কে গিয়ে কি বলে অফিস থেকে বের হবো বুঝতে পারছি না। ধূর কিছু একটা বলে বেরতো হতেই হবে ওদিকে আংকেল ও অপেক্ষা করছে। এখন যায় ম্যাডামের কাছে,,,,,,,,,,,,,,

=আমিঃ ম্যাডাম আসবো।

=নুসরাতঃ হুমম আসুন।

=আমিঃ ম্যাডাম আমার একটা জরুরি কাজ আছে যদি কয়েক ঘন্টার জন্যে আমাকে একটু ছুটি দিতেন তাহলে খুব ভালো হতো।

=নুসরাতঃ কি জরুরি কাজ।

=আমিঃ সেটা তো বলতে পারবোনা। তবে আমার তাড়াতাড়ি যেতে হবে।

=নুসরাতঃ একটু পর একটা মিটিং আছে ওটার পরে যাবেন।

=আমিঃ ম্যাডাম মিটিং শুরু হতে এখনও ১ ঘন্টা বাকি এর ভেতর আমি চলে আসতে পারো।

=নুসরাতঃ আপনি এমনিতেই সব সময় লেট করেন। এখন বাইরে গেলে কখনো সময় মত আসতে পারবেন না সেটা আমি খুব ভালো করে জানি। তাউ কোন ছুটি হবেনা।

=আমিঃ প্লিজ ম্যাডাম ছুটিটা দিন।আমি সত্যি চলে আসবো।

=নুসরাতঃ আচ্ছা যান তবে সময় মত অফিসে আসতে হবে দিলাম।

=আমিঃ ধন্যবাদ ম্যাডাম। আর চিন্তা করবেন না আমি সময় মত চলে আসবো।

এই কথা বলে আংকেল এর দেওয়া ঠীকানা মন চলে আসলাম। এসে দেখি আংকেল আগে থেকে বসে আছে।আমার জন্য।

=আমিঃ ওহ্ আংকেল সরি।আসলে ম্যাডাম কে বুঝিয়ে আসতে আসতে দেরি হয়ে গেলো।

=আংকেলঃ হুমম বুঝতে পারছি আমার মেয়ে তো।

=আমিঃ এখন বলুন আংকেল কি কারণপ ঠীক ডাকলেন আমাকে।

=আংকেলঃ তেমন কিছুনা। বাসায় বসে থাকতে ভালো লাগছিলোনা। তাই ভাবলাম তোমার সাথে এসে একটু সময় কাটায়।

=আমিঃ ভালো করছেন। তবে আংকেল আমিনা বেশি সময় থাকতে পারবোনা।

=আংকেলঃ কেন।

=আমিঃ অফিসে একটা মিটিং আছে। ম্যাডামের হুকুম যেম সময় মত উপস্থিত থাকি।

=আংকেলঃ হাহাহাহাহা। তাই নাকি।

=আমিঃ তবে আর বলছি কি। আপনি এত ভালো একটা মানুষ আর আ ম্যাডাম যেই রাগি দেখে মনে হয়না যে আপনার মেয়ে।

=আংকেলঃ কি করবো বাবা ছোট বেলায় ওর মা মারা গেছে। আদর যন্তে কোন কিছুতে কমতি রাখিনি।

=আমিঃ হুমম বুঝতে পারছি।

=আংকেলঃআচ্ছা বাবা তোমার বাসাটা যেন কথায় বলছিলে।

=আমিঃ ঐতো,,,,,,,,,,,,, এই জায়গা।

=আংকেলঃ আচ্ছা তোমার বাবার নাম্বারটা দাওতো।

=আমিঃ কেন আংকেল বাবার নাম্বার দিয়ে কি করবেন।

=আংকেলঃ আরে এসব মুরব্বিদের ব্যাপার স্যাপার তুমি বুঝবে না।

তারপর আমি আর কিছু না ভেবে নাম্বারটা দিয়ে দিলাম। আংকেল ও নাম্বার নেওয়ার পর চলে গেলেন। তারপর আমিও আবার অফিসে চলে গেলাম। অফিসে গিয়ে সোজা ম্যাডামের কেবিনের চলে গেলাম,,,,,,,,

=আমিঃ ম্যাডাম আসবো।

=নুসরাতঃ হুমম আসুন।

=আমিঃ ম্যাডাম মিটিং শুরু হতে অনেক সময় বাকি। দেখুন আমি সময় মত চলে আসছি।

=নুসরাতঃ হুমম আমিও তাই ভাবছি।আপনি হঠাৎ করে এত ভালো হলেন কিভাবে।

=আমিঃ সবসময় ভালো। শুধু কেউ বোঝে আবার কেউ বুঝেনা।

=নুসরাতঃ যাই হোক এই ফাইল গুলো দেখুন তো।

তারপর আমি ম্যাডামের হাত থেকে ফাইল গুলো নিয়ে দেখতে লাগলাম। নাহ্ ফাইলে তো কোন সমস্যা নাই আর তাছাড়া এগুলো তো পুরনো ফাইল। এউ গুলোর কাজ তো আমরা পাইছি।তারপর ও কেন দেখাচ্ছে বুঝতে পারছি না।

=আমিঃ ফাইল তো দেখলাম কিন্তু এতে তো কোন সমস্যা দেখিনা।

=নুসরাতঃ ভালো করে দেখুন।

=আমিঃ ভালো করেই দেখছি।

=নুসরাতঃ ভালো করে যখন দেখছেন তাহলে এসব কি।

=আমিঃ এগুলো তো ছবি।

=নুসরাতঃ তাহলে মডেল দের ছবির জায়গাই আমার ছবি কেন দিছেন আপনি।

=আমিঃ ম্যাডাম আপনি তো মডেল দের থেকে বেশি সুন্দর। তাহলে শুধু শুধু কেন টাকা দিয়ে মডেল রাখতে যাবো।

=নুসরাতঃ সেই বিষয় নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবেনা।

=আমিঃ আমি ভাবছিও না। আমার কাজ হচ্ছে সুন্দর জিনিস কে ফুটিয়ে তোলা আমি শুধু তাই করছি।

এই কথা বলে ম্যাডামের কেবিন থেকে বের হয়ে গেলাম। কি মেয়েরে বাবা। এই ভালো এই রাগি। ধুর ভাল্লাগে না। এই মেয়েকে যে বিয়ে করবে তার জীবনতো পুরাই তেজপাতা বানিয়ে ছেড়ে দেবে। অবশ্য একটা কথা না বললে নয়। ম্যাডাম যখন রেগে কথা বলে তখন তাকে দেখতে খুব সুন্দর লাগে। তারপর অফিস ছুটির পর বাসায় গেলাম। রাতে খাওয়ার সময় মা আমাকে বলে,,,,,,,,,,

=মাঃ খোকা আমরা তোর বিয়ে ঠীক করছি।

=আমিঃ হুমম ভালো করছো। কি বললে আর একবার বলোতো।

=মাঃ বলছি,,,,,,,,,,, তারিখে তোর বিয়ে

=আমিঃ আমার বিয়ে মানে কি। একবারও আমাকে জিজ্ঞেস না করে একদম বিয়ের দিন ঠীক করে ফেললে।

=মাঃ বারে মেয়ের বাবা নিজে থেকে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসছে। এখানে না করি কিভাবে তার উপর এত ভালো একটা মেয়ে।

=আমিঃ মা চিনি না জানিনা। একটা মেয়েকে হুট করে বিয়ে করি কিভাবে। আর আমার সেই ছোট বেলার স্বপ্ন প্রেম করে বিয়ে করবো।

=মাঃ তোকে দিয়ে আর প্রেম ভালোবাসা হবেনা। প্রেম প্রেম করতে করতে তো পড়া লেখা শেষ করলি কিন্তু এখনও প্রেম করতে পারলিনা।

=আমিঃ তখন তো পড়া লেখা নিয়ে বিজি ছিলাম কিন্তু। একটা অজানা মেয়েকে বিয়ে করে আমার সেই স্বপ্ন নষ্ট করতে পারবোনা।

=মাঃ আরে মেয়ে তো তোর অচেনা কেউনা। মেয়েকে তো তুই চিনিস।

=আমিঃ আমি চিনি মানে।কে ঐ মেয়ে।

=মাঃ মেয়েটার নাম হলো নুসরাত।

=আমিঃ নুসরাত কোন নুসরাতের কথা বলছো।

=মাঃ আমি তোর অফিসের ম্যাডাম নুসরাতের কথা বলছি।

=আমিঃ কিহ্ তুমি আর আমার বিয়ের জন্য মেয়ে পেলেনা শেষ মেষ অফিসের ম্যাডামের সাথে।

=মাঃ তাতে কি হয়ছে হ্যা।

=আমিঃ না না আমি এ বিয়ে করছিনা। তো করছিনা।

এই কথা বলে আমি আমার রুমে আলে গেলাম। কি কপাল আমার শেষমেশ কি এই মেয়ে আমার কপালে ছিলো। হে আল্লাহ তুমি ঐ মেয়ের জীবন সঙ্গি হিসেবে আমাকেই দেখলে নাকি। নাহ্ আমাকে যেভাবে হোক বাসা থেকে পালাতে হবে। তা নয় মা-বাবা আমাকে এবার বিয়ে দিয়েই ছাড়বে। এসব কথা ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে গেছি। সকালে ঘুম থেকে যেই দরজা খুলতে যাবো ঠীক তখনই দেখি,,,,,,,,,,,,,

বিঃদ্রঃ বন্ধুরা পরীক্ষা শুরু হয়ে গেছে তাই গল্প দিতে একটু দেরি হতে পারে। তাই দয়া করে কেউ কিছু মনে করবেন না। আর আমার জন্য দোয়া করবেন যেন পরীক্ষাটা ভালো হয়।

To be Continue ⏩

(চলবে……….)

Writer by স্বপ্নহীন_বালক

বন্ধুরা হয়তো অন্য সবার মত গল্পের কথা গুলো গুছিয়ে লিখতে পারিনা। তার-পর লিখার চিষ্টা করি। তাই গল্পটাই Next না লিখে ভালো বা খারাপ যেটাই আপনাদের কাছে মনে হয় সেটা জানাবেন। ধন্যবাদ।

( পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন।)

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *