রাগি গার্লফ্রেন্ড যখন বউ-Part-2

রাগি গার্লফ্রেন্ড যখন বউ
লেখকঃমোঃরিফাত আলি♥ Part-02

সিমির বাবাঃসামনে মাসেই সিমির বিয়ে ঠিক হয়ে আছে। আশা করি আর কোনদিন তোমাকে আমাদের ফ্যামিলির কারো সাথে দেখব না। টাকাটা নাও আর চলে সিমির বাবাঃসামনে মাসেই সিমির বিয়ে ঠিক হয়ে আছে। আশা করি আর কোনদিন তোমাকে আমাদের ফ্যামিলির কারো সাথে দেখব না। টাকাটা নাও আর চলে যাও।

আমিঃআপনার মেয়ের মূল্য বুঝি ২০ লক্ষ টাকা?
সিমির বাবাঃকি বলতে চাও তুমি?
আমিঃসোজা কথায় ত বললাম আপনাকে যে আপনার মেয়ের মূল্য কি ২০ লক্ষ টাকা?
সিমির বাবাঃ২০ লক্ষ টাকা হবে কেন ইডিয়েট? সে আমার কাছে অমূল্য।
আমিঃতাহলে আমাকে ২০ লক্ষ টাকা দিচ্ছেন কেন?
সিমির বাবাঃতোমার আরো টাকা চায় বললেই পারো শুধু শুধু আমার সময় নষ্ট কর কেন? এইনাও এতে পুরো ৫০ লক্ষ আছে।
আমিঃক্ষমা করবেন আংকেল। আপনি বড় হয়েছেন ঠিকই তবে আপনার মন বড় হয়নি। আপনি হয়ত ভেবেছেন আপনার টাকা দেখে আমি সিমির সাথে রিলেশনে আছি। তবে এটা নিতান্তই ভুল।আপনার মেয়েই রিলেশনে আনে।আর এখন সেই ছাড়তে চায়না। তবে আপনি আমার গুরুজন। আপনার কথার অমান্য করব না। সিমির সাথে আর আপনাদের সাথে কোন সম্পর্ক থাকবে না।আর হ্যাঁ আপনার টাকার গরম আমাকে না দেখিয়ে এতিমদের দিয়ে দিয়েন। আল্লাহ হাফেজ ।

সিমিদের বাসা থেকে বের হয়ে চলে আসলাম।
সত্যিই বড়লোকদের মন মনুষ্যত্ব বলে কিছু নেই। সবসময় শুধু টাকার গরম দেখায়।
ওরা কেন বুঝেনা টাকা আজ আছে ত কাল নেই।
তবে ভালবাসা ত কোনদিন ফুরায় না।
আমার ভাবতেও কষ্ট হচ্ছে আজ থেকে সিমির সাথে কথা বলতে পাব না।
পাব না সেটা নয়।
ইচ্ছা করলেই পারব।
তবে সিমির মত বড়লোকদের বড়লোকদের ঘরেই মানায়। আমাদের মত মধ্যবিত্তের জন্য নয় ওরা।

ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বাসায় আসছিলাম তখনই পকেটে থাকা ফোনটা বেজে উঠলো।
বের করে দেখলাম সিমি কল দিয়েছে।
ধরার ত খুব ইচ্ছা করছে।
তবে ধরব না।
শুধু শুধু মায়া বাড়িয়ে লাভ নেই।

__<______-
২ বছর আগের ঘটনা ছিল এটা।
এখন ববর্তমানে আসা যাক।

পথেই আমার কলেজ লাইফের বন্ধু জনিকে দেখলাম।
কারে বসে আছে।
বড় কম্পানিতে বড় পোস্টে চাকরি করে এখন সে।
এটা সেই জনি যে কিনা আমার কাছে সবসময় পড়া বুঝিয়ে নিত।
আমি না দেখালে পাশের মুখ দেখত না।
আর এখন সেই কত বড় মানুষ।
আমাদের ত আর তাদের মত টাকা নেই যে এভাবে ঢুকে যাব।

এখন আমি আবারো ৪-৫ টা টিউশন করায়।
তারমধ্যে এখন একজনকে পড়াতে যাচ্ছি।

এখন যাকে পড়াব সে হলো তানজিলা।
ইন্টার ১ম বর্ষে পড়ে।

কলিংবেল বাজাতেই কাজের মেয়ে দরজা খুলে দিল।
কাজের মেয়ের নাম হলো রিনা।
রিনাঃআহেন স্যার। আফামনি এহনি আইসা পড়বো।
আমিঃকোথায় গেছে তানজিলা?
রিনাঃউনার নাকি এক বান্ধবি আইবো এহানে। তারলিগা আনতে গেছে।
আমিঃও আচ্ছা।

তানজিলার রুমে বসে আছি। রুমেই পড়ে সে।
টেবিলে থাকা কলমটা নিয়ে নাড়াচাড়া করছি।
কত বাজে দেখার জন্য ফোনটা হাতে নিলাম।
ফোনের ওয়ালপেপারে এখনো রয়েছে সিমির সেই হাসিমাখা মুখটা।
সেদিন সিমিদের বাসা থেকে বের হবার পর বাসায় এসে সিমি যেসব দিয়েছে সেসব কিছু প্যাকেট করে বস্তায় ভরি।
সিমির দেওয়া সব জিনিস সিমির বাসার সামনে রেখে এসেছিলাম।
তবে শুধু সিমির এই পিকচার টায় আমার কাছে রয়েগেছে।
কত চেষ্টা করি তবুও ডিলেট করতে পারি না।সেদিনই আমি যশোরে চলে আসি বন্ধুর বাসায়। মা -বাবাও জানে না আমি এখানে আছি।তাদের বলেছি কাজের জন্য বাইরে আছি।

তানজিলা রুমে এসে সালাম দিল।
আমি সালামের উত্তর দিলাম।
তানজিলঃস্যার।
আমিঃবলো।
তানজিলাঃএকটা কথা বলব রাগ করবেন না ত?
আমিঃবলো সেটা পরে দেখা যাবে।
তানজিলাঃআজকে না ভিষন ক্লান্ত লাগছে পড়তে পারব না।
আমিঃফ্রেশ হয়ে আসো আর পড়তে বসো।
তানজিলাঃপ্লিজ স্যার।শুধু আজকেই।
আমিঃহুম ঠিক আছে।তবে কাল বেশি পড়াব।
তানজিলাঃওক্কে সার।থ্যাংকস। আম্মু আপনাকে ডেকেছে।
আমিঃও।

আমিঃআসসালামুআলাইকুম আন্টি।
আন্টিঃওয়ালাইকুম আসসালাম।বাবা আজকে তানজিলা পড়তে চাইছে না। তুমি কিছু মনে কর না।
আমিঃনা ঠিক আছে।আজ আসি তাহলে।
আন্টিঃএকটু বসো বাবা। আমি তোমার জন্য পায়েস নিয়ে আসি।

আমি বসে পায়েস খাচ্ছিলাম আর আন্টির সাথে কথা বলছিলাম।
তখন আন্টি আমাকে তানজিলার জন্মদিনে ইনভাইট করলো

——–+—–
জন্মদিনে র কেক কাটছিল তানজিজন্মদিনে র কেক কাটছিল তানজিলা।
তার পাশেই ছিল
তানজিলার পাশেই ছিল সাদিয়া।
তারমানে সাদিয়াই হচ্ছে তানজিলার সেই বান্ধবী যাকে আনতে গেছিল তানজিলা।

এখন আমি কি করি?
সাদিয়া ত আমাকে দেখে ফেললো।
সাদিয়া দেখেছে ত কি হয়েছে?
সাদিয়া তার মত থাকবে আমি আমার মত।
কিন্তু সাদিয়া যদি আমার কথা সিমিকে বলে দেয় তখন কি হবে?
বলেই কি করবে?
সিমির ত এখন বিয়ে হয়েগেছে।
এতদিনে হয়ত বাচ্চাও হয়েগেছে।

এমনিতেই সিমির কথা বারবার মনে পড়ে।
তারউপর এখন সাদিয়াকে দেখে সিমির কথা আবার মনে পড়েগেল।

তানজিলাদের বাড়ি থেকে বের হয়ে চলে আসলাম।
সাদিয়াও পিছু নিয়েছে।
তবে তার আসার আগেই আমি অটোতে চড়ে বসলাম।
পিছন থেকে সাদিয়া ডাকছে।
ডাকুক আমার কিছু করার নেই।
আন্টিকে মেসেজ বলেদিলাম আমি অসুস্থ।
কয়েকদিন তানজিলাকে পড়াব না।

|
ফ্রেশ হয়ে শুয়ে পড়লাম।
ঘুম আসছে না।
বারবার সিমির কথা মনে পড়ছে।
কি যে করি?
জোর করেই ঘুমালাম।
কয়দিন তারজন্য রাত জাগব?
রাত হয়ত দুজনেই জাগছি।
তবে পার্থক্য হলো সে তার স্বামির বুকে আর আমি কেঁদে।

২ দিন পর তানজিলাকে পড়াতে গেলাম।
কয়দিন পড়াব না তাকে তানজিলাকে পড়াচ্ছি।
তখন কে যেন রুমে ঢুকল।
হয়ত কাজের মেয়ে খাবার নিয়ে এসেছে।
পড়ার সময় আশেপাশে তাকানোর অভ্যেস নেয় আমার।
এতে মনযোগ নষ্ট হতে পারে।
হঠাৎ তানজিলা উঠে দাঁড়াল।
আমিঃকি হলো দাঁড়ালে কেন?
তানজিলাঃস্যার আমি একটু আসছি।
আমিঃতাড়াতাড়ি এসো।

রুমের দরজা ঠাস করে লাগাল।
দরজার দিকে তাকাতেই দেখি সিমি!
অগ্নিমূর্তি হয়ে আছে।
আজ মনে হয় আমি শেষ।
সিমিকে আমি ভাল করেই চিনি।
রেগে থাকলে যাকে মারবে সে ব্যাক্তির অবস্খা মারাক্মক খারাপ হবে।

সিমির দিকে ভাল করে তাকালাম।
সিমি আর আগের মত নেই?
সুন্দর ফিগারটা কঙ্কালে রুপ নিতে কিছুটা বাকি।
মুখ পুরোটায় কাল হ
হয়েগেছে।
চোখের নিচে কালিতে ভরা।
মনে হচ্ছে কেউ কাজল লাগিয়ে রেখেছে।

সিমি দৌঁড়ে এসে একদম জাপটে ধরলো।
যেনকোন চোরকে ধরেছে।
আমারো প্রানটা জুড়িয়েগেল।
কিছুক্ষনের জন্য আমিও সিমিকে জড়িয়ে ধরলাম।
সিমি কাঁদছে।
অঝর ধারায় কাদছে।
সিমিঃহারামি ছেলে।এতদিন কোথায়ছিলি তুই?
আমিঃ—-।
সিমিঃকি হলো কথা বল।
আমিঃব্যাথা লাগছে।ছাড়ো।
সিমিঃনা ছাড়ব না।আগে বল।
আমিঃছাড়ুন নাহলে আপনার স্বামি রাগ করবে।
সিমিঃস্বামি মানে?
আমিঃকেন তোমার বিয়ে হয়নি?
সিমিঃতুমি না থাকলে কাকে বিয়ে করব?
আমিঃতোমার বাবা যার সাথে বিয়ে ঠিক করেছে।
সিমিঃতুমি ছাড়া কাউকে কল্পনাও করতে পারিনা।
আমিঃ—-।
সিমিঃআমাকে ছেড়ে এসেছ কেন?
আমিঃতোমার বাবা আমাকে তোমার থেকে দুরে থাকতে বলেছে তাই।
সিমিঃআমি বড় না বাবা বড়?
আমিঃ—-।
সিমিঃবল(রেগে)
আমিঃতুমি।
সিমিঃতাহলে এতদিন আমার থেকে দুরে থাকলি কেন?
আমিঃতোমার বাবাকে বলেছিলাম তাই।
সিমিঃহু। (আস্তে)
আমিঃএখন ছাড়ে।কেউ দেখলে বিপদ হবে।
সিমিঃতাহলে পার্কে চলো।
আমিঃতানজিলাকে পড়াচ্ছি।
সিমিঃপরে পড়াবা।
আমিঃকিন্তু।
সিমিঃযা বলেছি তাই হবে।
আমিঃহুম চলো।

আন্টিকে বললাম আজ পড়াতে পারব না।কাজ আছে।

পার্কে বসে আছি দুজন। ঠিক আগের মত।
তবে সিমি এবার একটু বেশিই জোরে চেঁপে ধরে আছে।
আমিঃতোমার শরিরের এ অবস্খা কেন হলো?
সিমিঃতোমার জন্য হয়েছে।
আমিঃআমার জন্য মানে?
সিমিঃতুমি চলে যাবার পর বাবা বিয়ের জন্য জোর করত। তোমার সাথে কথা বলতে না পেয়ে প্রায় পাগল হয়ে গেছিলাম।
আমিঃতারমানে কেউ আমার জন্যও পাগল হয়!
সিমিঃতোমার দেখা না পেলে কিছুদিনের মধ্যেই মারা যেতাম।আর তুমি ফাজলামো করছো?
আমিঃসরি।
সিমিঃএতদিনে আমার কথা মনে পড়েনি তোমার?
আমিঃপ্রত্যেকদিন মনে পড়ে।
সিমিঃকচু পড়ে।
আমিঃ???,?
সিমিঃআমি আর পারছিনা।এবার আমাকে বিয়ে করো।
আমিঃসেটা সম্ভব না।
সিমিঃকেন?
আমিঃআংকেল ঠিক কথাই বলেছে তোমদের ক্যাটাগরি আলাদা।আর আমার আলাদা।আমার ঘরে তোমায় মানায় আমিঃআংকেল ঠিক কথাই বলেছে তোমদের ক্যাটাগরি আলাদা।আর আমার আলাদা।আমার ঘরে তোমায় মানায় না।
সিমিঃতুমি এখনো বাবার কথা ধরে আছো?
আমিঃআমি তোমার সাথে এখানে এসেছি তোমায় বুঝাতে।ভাল ছেলে দেখখে বিয়ে করে নিও।আল্লাহ হাফেজ।
সিমিঃতোমাকে এক সপ্তাহ সময় দিলাম। আমাকে বিয়ে না করলে আমার লাশ দেখবে।

আমি কিছু বললাম না।

১ সপ্তাহ পর
দরজা খুলে দেখি

চলবে,,,,,

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *