রাগি গার্লফ্রেন্ড যখন বউ-Part-6

রাগি গার্লফ্রেন্ড যখন বউ♥
লেখাঃমোঃরিফাত আলি♥
#পর্বঃ06

.
অনেকক্ষন পর
সিমিঃহয়েছে?
.
আমিঃনা।আরেকটু দাও না প্লিজ।
.
সিমিঃযা পেয়েছো তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকো।
.
আমিঃবললেই হলো। আসো কাছে আসো।
.
সিমিকে আবার জড়িয়ে ধরলাম।
.
সিমিঃছাড় বলছি।
.
সিমি ছাড়াতে বললেও একটুও নড়ছেনা।
.
আমিঃআজকে নো ছাড়াছাড়ি। অনলি রোমান্স।
.
সিমিঃছাড় বলছি নাহলে কিন্তু খুব খারাপ হবে।
.
আমিঃখারাপ করো না। বারন করেছি কি? (ঠোটে হালকা করে স্পর্শ করে)
.
সিমিঃদেখবা কি করবো?
.
আমিঃদেখাও।
.
সিমি আমাকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দিল।
আমার উপর চড়ে বসলো।
.
সিমিঃএবার বলো কি করবো তোমার সাথে?
.
আমিঃতুমি আবার আমাকে কি করবে? কিছু করতে পারবা?
.
সিমি আমার দু গাল তার দুহাত দিয়ে চেপে ধরে আমার ঠোটে তার ঠোট চেপে ধরে রাখলো।
.
আমিও ছাড়ার পাএ না।
আমি ডানহাত তার পিঠে রাখলাম। বাম হাত দিয়ে তার মাথার পিছনে রাখলাম।
.
সিমিঃউমম উমম।
.
আমিঃকি হলো?
.
সিমিঃছাড় হারামি কোথাকার। এভাবে কেউ চেপে ধরে কিস করে? আর একটু হলেই ত মারা যেতাম।(হাঁপাতে হাঁপাতেসিমিঃছাড় হারামি কোথাকার। এভাবে কেউ চেপে ধরে কিস করে? আর একটু হলেই ত মারা যেতাম।(হাঁপাতে হাঁপাতে)
.
আমিঃসরি।

সিমির গালগুলো লাল হয়েগেছে।মুখটা আরো সুন্দর দেখাচ্ছে।
.
আমি সিমিকে আবার কাছে টেনে নিলাম।
তার উপর শুয়ে আছি।
সিমির ঠোটে হালকা করে আমার ঠোট স্পর্শ করালাম।
সিমি চোখ বন্ধ করে আছে।
.
আমি সিমির দিকে তাকিয়ে আছি।
.
সিমিঃএভাবে তাকিয়ে কি দেখ?
.
আমিঃতোমাকে।
.
সিমিঃকেন আগে দেখনি?
.
আমিঃদেখেছি। তবে আজকে মনে হচ্ছে একটু বেশিই সুন্দর দেখাচ্ছে।(গলায় কিস দিয়ে)

.
সিমিঃবাহ। আজ মনে হচ্ছে বেশ রোমান্টিক মুডে আছো।
.
আমিঃআমি ত সবসময় থাকি।তবে তুমি আমাকে কিছু দাওনা।
.
সিমিঃদাড়াও দিচ্ছি।
.
এই বলে আমার চুল খামচে ধরে ঠোটটা তার ঠোটের মধ্যে মিলিয়ে নিল।

.

আমিঃকি হলো কোথায় যাচ্ছ?
.
সিমিঃগোসল করতে।
.
আমিঃআরেকটু জড়িয়ে ধরে থাকনা।
.
সিমিঃঅনেক হয়েছে আর না। গোসল করতে হবে।
.
আমিঃআচ্ছা যাও।
.
সিমি গোসল করতে গেলে আমিও পিছন পিছন গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরলাম।
.
আমিঃআমাকে সাথে আনলে না কেন?
.
সিমিঃতোমায় ডাকলেও আসবে না ডাকলেও আসবে। তাই ডাকিনি।
.
আমিঃতাহলে আসো আরেকটু আদর করি।
.
সিমিঃউহ। এত শক্ত করে কেন জড়িয়ে ধরে আছো?পালাচ্ছি না ত।
.
আমিঃআমার ছোয়া ভাল লাগছে না বুঝি?
.
সিমিঃতোমার ছোয়া কেন ভাল লাগবে না?বলছি শক্ত করে জড়িয়ে ধরোনা।
.
আমিঃহুম।লাভ ইউ।

সিমিঃলাভ ইউ টু জান ♥।

আজকে আবার ঢাকায় ফেরত যাচ্ছি সবাই।
দুদিনে মোটামটি ভালই মজা করা হলো।

.

বাসায় এসে

সিমিঃকি খাবে বলো?
.
আমিঃএখন রেস্ট নাও।আজ খাবার রেস্টুরেন্ট থেকে অডার করবো।
.
সিমিঃআচ্ছা।
.
.
দুজনে খেয়ে আবার ঘুম গেলাম।
.
সিমিঃজান উঠো। আর কত ঘুমাবে?
.
আমিঃআরেকটু পর উঠছি।
.
সিমিঃঅফিসের সময় হয়েগেছে ত।
.
আমিঃও।উঠছি।
.
.
খেয়েদেয়ে অফিসে চলেগেলাম দুজনে।
.
.
দুজনে ফাইল নিয়ে কথা বলছি তখন উজ্জল এলো।
.
সিমি আমার দিকে তাকাচ্ছে।
.
সিমিঃউজ্জল কিছু বলবি?
.
উজ্জলঃকেন কাজ ছাড়া কি আসতে পারিনা?
.
সিমিঃনা মানে এমনি জিজ্ঞেস করলাম।
.
উজ্জলঃআড্ডা দিতে এলাম তোদের সাথে।
.
সিমিঃও।
.
উজ্জলঃকেমন আছেন ভাই?
.
আমিঃভাল।আপনি?
.
উজ্জলঃভাল।
.
উজ্জল বেশ কিছুক্ষন আড্ডা দিয়ে চলেগেল।
.
.
অফিস শেষে বাসায় এলাম।
.
.
আমার আর সিমির খুনশুটিময় ভালবাসা ভালই চলছে।
দেখতে দেখতে আরো দুটা মাস কেটে গেল।
.
ইদানিং সিমি কেমন যেন করছে।
.
রােএ বেলা
.
আমিঃইদানিং আমার কাছে আসছোনা কেন?এভয়েড কেন করছো?
.
সিমিঃআমি তোমায় কিছু বলতে চাই।
.
আমিঃবলো।
সিমিঃআসলে আমি তোমার কাছ থেকে একটা বিষয় লুকিয়েছি।
.
আমিঃকি?

সিমিঃআমি প্রেগন্যান্ট। (লজ্জায় লাল হয়ে)
.
আমিঃসত্যি বলছো? (খুশিতে)
.
সিমিঃহুম। (বুকে মুখ গুজে)
.
আমিঃতাহলে দাঁড়িয়ে আছো কেন? চুপচাপ রেস্ট নাও।
.
সিমিঃআরে বাবা এখন ত সেরকম কিছু হয়নি। অযথা টেনশন করছো।
.
আমিঃচুপ আর একটা কথাও না।
.
সিমিঃআমি সিউর না যে আমি প্রেগন্যান্ট।
.
আমিঃতাহলে বললে কেন?
.
সিমিঃনা মানে গত দু মাস থেকে পিরিয়ড (সরি) হচ্ছে না তাই।
.
আমিঃতাহলে চলো যায় হসপিটালে চেকআপ করাতে।

.
সিমিঃআচ্ছা একটু দাঁড়াও আমি রেডি হয়ে আসছি।
.
আমিঃহুম।

.

সিমিঃচলো যাওয়া যাক।
.
আমিঃহুম চলো।
.


হসপিটালে ওয়েটিং রুমে বসে আছি। সিমিকে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করার জন্য নিয়ে গেছে।
.
কি যে হবে ভেবে পাচ্ছিনা। একটা বেবি পেলে দিনগুলো হয়ত আরো ভাল কাটবে।

.

সিমি এসে আমার পাশে বসলো।
.
আমিঃরিপোর্ট কখন দিবে?
.
সিমিঃএত উতলা হচ্ছো কেন? দিবে কিছুক্ষন পর।
.
সিমি মুচকি মুচকি হাসছে।
.
আমিঃকি হলো হাসছো কেন?
.
সিমিঃতোমার অবস্খা দেখে। একটু অপেক্ষা করো।
.
আমিঃহুম।
.
সিমিঃআজকে আমাকে নিয়ে একটু ঘুরতে যাবা?
.
আমিঃকোথায়?
.
সিমিঃলেকের পাড়ে।
.
আমিঃরিপোর্ট পায়। তারপর না হয় যাব।
.
সিমিঃহুম।

.

ডাক্তারের কেবিনে বসে আছি দুজনে।
.
আমিঃড.রিপোর্টে কি এসেছে?
.
ড.ঃসেরকম কিছু হয়নি। সামান্য কিছু সমস্যা হয়েছে। ঠিক হয়ে যাবে।
.
আমিঃও(মুখ কাল করে)
.
হসপিটাল থেকে বের হয়ে সিমিকে নিয়ে ঘুরে বাসায় আসতে আসতে রাত হয়েগেল।
.
শুয়ে আছি তখন সিমি আমাকে জড়িয়ে ধরে।
.
সিমিঃমন কি খুব খারাপ?
.
আমিঃনা।
.
সিমিঃতাহলে মুখ কালো করে আছো কেন?
.
আমিঃএমনি।
.
সিমিঃমন খারাপ করতে হবেনা। আমি সত্যিই প্রেগন্যান্ন্ট।
.
আমিঃসবসময় ফাজলামি করো নাতো।
.
সিমিঃআরে বাবা সত্যিই।
.
আমিঃতাহলে ডাক্তার কেন বললো যে কিছুই হয়নি?
.
সিমিঃআমি বারন করেছিলাম।তোমায় সারপ্রাইজ দিব তাই।
.
আমিঃএসব নিয়ে এমন না করলেও পারতে।
.
সিমিঃহাহাহাহা সরি।
.
আমিঃহুম ঘুমাও। এখন থেকে কোন কাজ করবে না।সবসময় রেস্স্টে থাকবা।
.
সিমিঃএত্ত ভালবাসা।
.
আমিঃরাত জাগা বারন। ঘুমাও ।

.

সকালবেলা
সিমিঃরেডি হয়েছ তুমি? অফিসে যাবা কখন?
.
আমিঃহুম। তুমি রেডি হওনি কেন?
.
সিমিঃআমি কেন হব?
.
আমিঃঅফিস যাবেনা?
.
সিমিঃনা।আজ থেকে সব দায়িত্ব তোমার।
.
আমিঃতোমাকে আগেও বলেছি এখনো বলছি আমি তোমার অফিসের বস হতে পারব না।
.
সিমিঃআমি অফিস আর সংসার একসাথে চালাতে পারব না।(রেগে)
.
আমিঃরেগে যাচ্ছো কেন ?বাচ্চাটাও রাগি হয়ে যাবে।
.
সিমিঃহু।অফিসে যাওও।আমি ম্যানেজার কে বলে দিয়েছি আজ থেকে তুমি বস।
.
আমিঃহুম যাচ্ছি।

.

উজ্জলঃতোকে একটা কাজ দিয়েছি তাও করতে পারিস না?
.
ইতিঃআমি কি করব? সিমি ত ওকে আমার কাছে আসতেই দেয়না।
.
উজ্জলঃএখন কি করব ?রিফাত নাকি বস হয়েগেছে।সিমিও প্রেগন্যান্ট। তাদের আলাদা করব কিভাবে?.শুন যা বলব তা করবি। কাছে আয়।

ইতিঃহুম বুঝেছি।

.

অফিসে বসে ফাইল চেক করছি তখন

ইতিঃস্যার আসতে পারি?
.
আমিঃজ্বি আসুন।
.
ইতিঃস্যার এই ফাইলে আপনার সাইন লাগবে।
.
আমি ফাইলটা চেক করে সাইন করে দিলাম।তারপরেও ইতি এখানে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
.
আমিঃকিছু বলবেন মিস ইতি?
.
ইতিঃনা স্যার।
.
আমিঃতাহলে এখন যেতে পারেন।
.
ইতিঃওকে স্যার।
.
আমি টুকটাক কাজ করছি তখন সিমি কল দিল।
.
আমিঃহ্যালো সোনা।
সিমিঃরাখ তোর সোনা। একবারের জন্য ফোন করেছো?
.
আমিঃনা মানে প্রচন্ড কাজ আছে তাই সময় পায়নি।

.

সিমিঃহুম হয়েছে।লাঞ্চ করেছ?

সিমির সাথে কথা বলে কাজ করছি।
.
ইতিঃস্যার?
.
আমিঃজ্বি বলুন।
.
ইতিঃএটুকু বুঝতে পারছিনা। একটু বুঝিয়ে দিবেন প্লিজ?
.
আমিঃজ্বি।ফাইল দিন।
.
ইতিকে কাজটুকু বুঝিয়ে দিচ্ছি তখন
ইতি সেন্স হারিয়ে ফেলে।
.
আমিঃমিস ইতি?
.
অনেক ডাকার পরেও সাড়া দিচ্ছে না।
এদিকে অফিসের সবাই লাঞ্চ করতে ক্যান্টিনে গেছে।
.
আমি ইতিকে কোলে করে সোফায় শুয়ালাম।
.
পানি নিয়ে এসে উনার মুখে দিলাম।
.
আমিঃমিস ইতি আপনি ঠিক আছেন ত?
.
ইতিঃজ্বি স্যার।
.
ইতিঃসরি স্যার।
.
আমিঃকেন?
.
ইতিঃআমার কারনে আপনার সময় নষ্ট হলো।
.
আমিঃইটস ওকে।
.
আমিঃআপনি রেস্ট নিন।
.
ইতিঃথ্যাংকস স্যার।

.

বাসায় এসে
সিমিঃক্লান্ত হয়েগেছ?ফ্রেশ হয়ে আসো।আমি খাবার দিচ্ছি।
.
ফ্রেশ হয়ে এসে খেয়ে শুয়ে পড়লাম।
.
আমিঃকাল থেকে তুমি আর কোনকাজ করবে না।
.
ইতিঃতো কে করবে?
.
আমিঃকাজের মেয়ে ঠিক করেছি।
.
সিমিঃকেন?
.
আমিঃকেন মানে?তোমার খেয়াল রাখবে। তোমার কাজ করে দিবে।
.
সিমিঃনা না এসবের দরকার নেই।
.
আমিঃআছে। অনেক আছে।এসময়টুকু সাবধানে থাকতে হয়।
.
সিমিঃএত ভাবো আমার জন্য?
.
আমিঃত কার জন্য ভাববো?
.
সিমিঃহয়েছে। এবার ঘুমাও।

.

অফিসে
.
ইতিঃস্যার আসবো?
.
আমিঃআসুন।
.
ইতিঃএখানে সাইন করেদিন।
.
আমিঃআপনি আজকে কেন অফিসে এলেন? রেস্ট নিয়ে আসতেন।
.
ইতিঃথ্যাংকস স্যার।তবে আমি এখন সুস্থ আছি।তাই ছুটি নিলাম না।
.
আমিঃগুড।

.

এ ককয়েকদিন অফিসে প্রচুর কাজ হচ্ছে? আগে ত এত কাজ ছিলনা।
.
প্রত্যেকদিন কাজ শেষ করে বাসায় যেতে অনেক রাত হয়ে যায়।
.
দেখতে দেখতে তিন মাস পার হলো।
একটা কাজ শেষ করতে পারিনা আরেকটা কাজ চলে একটা কাজ শেষ করতে পারিনা আরেকটা কাজ চলে আসছে।
.
সিমিকেও ঠিক মত সময় দিতে পারিনা।
.
বাসায় ঢুকে ফ্রেশ হয়ে সিমির কাছে গেলাম।

সিমিকে হাল্কা করে জড়িয়ে ধরে আছি।
তখনই সিমি আমার দিকে ঘুরে
ঠাসসসস।
প্রচন্ড শক্তি দিয়ে মেরেছে

চলবে…

 

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *