রাগি গার্লফ্রেন্ড যখন বউ-Part-8 end

রাগি গার্লফ্রেন্ড যখন বউ♥
লেখাঃমোঃরিফাত আলি♥
#পর্ব-০৮ & শেষ

হঠাৎ রুমে একজন মহিলা প্রবেশ করলো।
মহিলাটি সিমির কাছে গিয়ে কানে
কানে কিছু বললো।
.
সিমিঃসরি এভরিবডি।কিছুক্ষনের জন্য
একটা ব্রেক নিতে হচ্ছে।
.
সিমি বাইরে গেল মহিলাটির সাথে।
আমিও তার পিছন পিছন গেলাম।
.
সিমি রুমে ঢুকলো মহিলাটিকে বাইরে
রেখে।
.
আমিও রুমে ঢুকতে যাব তখন
মহিলাঃএকি আপনি এখানে ঢুকছেন
কেন?
.
আমিঃকেন? ঢুকলে সমস্যা কি?
.
মহিলাঃম্যাডাম উনার ছেলেকে
খাওয়াচ্ছে।ভিতরে কাউকে যেতে বারন
করেছে।
.
আমিঃআমি আপনার ম্যাডামের স্বামি।
এখন পথ ছাড়ুন।
.
মহিলাঃসরি স্যার বুঝতে পারিনি।
.
আমি ভিতরে ঢুকে পড়লাম।
.
সিমি বেবিকে খাওয়াতে সিমি বেবিকে খাওয়াতে ব্যাস্ত।
বাচ্চা এখনো ঠিক ভাবে বড় হয়নি আর সে
এসেছে মিটিং করতে।সিমির প্রতি রাগ
বেড়েগেল।
.
আমিঃতোমার কি জ্ঞান বলে কিছু
আছে?
.
সিমি হকচকিয়ে উঠলো।
.
সিমিঃক-কি হয়েছে।তুমি এখানে কেন?
.
আমিঃআমার বউ এখানে বাচ্চা এখানে।
আমি থাকব না ত কে থাকবে?
.
সিমিঃতোমার বাচ্চা কে?এটা আমার
ছেলে।

আমিঃচুপ করো তুমি।
.
সিমিঃআস্তে কথা বলো।বাবু ঘুমাচ্ছে।
.
আমিঃএবার বলো এতদিন কোথাই ছিলে?
.
সিমিঃযেখানে খুশি সেখানে থাকি।
তুমি বাসা চেন্জ করেছ কেন?ডিভোর্স
লেটার পাঠাতে পারিনি তোমায়।
.
আমিঃসিমি এবার ত কমপক্ষে ওসব বিষয়
বাদ দাও।আমার ছেলের জন্য কমপক্ষে।
.
সিমিঃকে তোমার ছেলে? এটা আমার
ছেলে। দিবনা তোমায় ছুতে ওকে।
.
আমিঃসিমি তুমি কি একবারোও ভেবে
দেখনি আমি ওসব করতে পারি কিনা?
.
সিমিঃদেখেছি ভেবে।তবে চোখের
দেখা কিভাবে অম্বিকার করব?
.
আমিঃচোখের দেখাও ভুল হয়।ইতিকে
তুমি জিজ্ঞেস করনি যে আমি ওর সাথে
কিছু করেছি কিনা?
.
সিমিঃককরেছি।কম্পানি থেকে বেরও
করতে চেয়েছি।তবে বাবা বের করতে
দেয়নি।
.
আমিঃবিশ্বাস করো সিমি আমি সবসময়
তোমারি ছিলাম। কোন ভুল কাজ করিনি
আমি।
.
সিমিঃআস্তে।
.
আমিঃতোমাকে ঐ ফটোগুলো কে
দিয়েছিল?
.
সিমিঃউজ্জল।
.
আমিঃওর কারনেই আমাদের মধ্যে ঝগড়া
হত। ও কোনদিন চাইত না তুমি আমার
সাথে থাক।আমাদের আলাদা করার
মধ্যেও তার হাত নেই কে বললো?
.
সিমিঃজানিনা।
.
আমিঃতুমি বাবুকে এ ৃঅবস্থায় নিয়ে
এসেছ কেন? তোমার বাবা কোথাই?
.
সিমিঃবাবার অবস্খা ভাল না।
শয্যাশায়ী এখন।
.
আমিঃও।
.
সিমিঃবৃষ্টির সাথে যোগ দিয়েছ কেন?
.
আমিঃবেঁচে থাকার জন্য খাবারের
প্রয়োজন। আর খাবার কেউ ফ্রিতে
দেয়না।অর্থ উপার্জন করা লাগে।
.
সিমিঃতোমাকে ত অফিসের দায়িত্বসিমিঃতোমাকে ত অফিসের দায়িত্বটা
দেওয়া হয়েছিল।ছাড়লে কেন?
.
আমিঃতোমার বাবা বের করে
দিয়েছিল।
.
সিমিঃএকদম উল্টা পাল্টা কথা
বলবেনা।তুমি নাকি বাবাকে অপমান
করেছিলে আর অফিস ছেড়েছিলে।
.
আমিঃঅফিসের সবাই জানে কে অপমান
হয়েছিল।তোমার বন্ধু উজ্জলও ছিল
তোমার বাবার সাথে।
.
সিমিঃ—-।
.
আমিঃআমি কি তোমার বাবার সাথে
দেখা করতে পারি?
.
সিমিঃহুম।
.
আমিঃতারআগে আমার বাবাকে আমার
কোলে দাও।
.
সিমিঃনা। যতদিন না তুমি নির্দোষ
প্রমান হচ্ছো ততদিন তোমায় আমার
ছেলেকে টাচ করতে দিব না।
.
আমিঃদাড়াও আমি ইতিকে নিয়ে
আসছি।
.
সিমিঃদাঁড়াও।আমি ডেকে পাঠাচ্ছি
তাকে।
.
সিমি বাবুকে ঘুম পাড়িয়ে দিল।
ইতিকে কল করে ডাকদিল।
.
সিমিঃএটাই কিন্তু তোমার লিস্ট
চান্স।যদি ইতি অস্বিকার করে তবে
তোমায় ডিভোর্স দিতে একপাও পিছুব
না।
.
আমিঃহুম।
.
ইতি এলো।
ইতিঃজ্বি ম্যাম ডেকেছেন?
.
সিমিঃহুম।
.
সিমিঃযা জিজ্ঞেস করব তার সঠিক
উত্তর দিবে।
.
ইতিঃজ্বি ম্যাম।
.
সিমিঃফটোগুলো দেখ।
.
ইতি চোখ বড় বড় করে একবার আমার দিকে
আর একবার সিমির দিকে তাকাচ্ছে।
.
সিমিঃএসব কি?
.
ইতিঃ—-।
.
সিমিঃআমি কিছু জিজ্ঞেস করেছি।
.
সিমিঃওর সাথে তোমার কি সম্পর্ক
ছিল?
.
ইতিঃহ্যাঁ-হ্যাঁ ম্যাম।(ঢোক গিলে)
.
আমি আর সহ্য করতে পারলামনা।ইতির
গালে জোরে চড় বসিয়ে দিলাম।
.
আমিঃআমি তোর কি ক্ষতি করেছি যে
মিথ্যে বলছিস।তোর কারনে আমি আমার
বউ বাচ্চার থেকে দুরে সরে আছি।
.
ইতিঃযা সত্যি তাই বলছি।
.
সিমিঃইতি তুমি এখন যাও।
.
ইতি চলেগেল।
.
সিমিঃএবার বলো। কি বলবে তুমি?
.
আমিঃআমার আর কিছু বলার নেই।
.
সিমিঃছিঃ।
.
আমিঃইতি আমাকে ফাসাচ্ছে।
.
সিমিঃকেন ফাসাবে তোকে?
.
আমিঃসেটা ও জানে।
.
সিমিঃবাহ নিজেই বলছো ফাঁসাচ্ছে
আবার বলছো জানেনা।
.
আমিঃসব বাদ দাও।কমপক্ষে একবার
আমার কোলে দাও বাবুটাকে।
.
সিমিঃকোনমতেই না।ওকে তোর কাছে
দিবনা।
.
আমিঃপ্লিজ দাও।আমার ছেলেকে নিতে
পাবনা?
.
সিমিঃনা।ওর জন্যই তুমি তোমার
চাহিদা পূরন করতে পারনি। যার ফলে
ইতির সাথে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে
পড়েছিলে।ওকে ত মেরে ফেলেদিতাম।
তবে নিজের সন্তান। তাই কিছু করতে
পারিনি।দোষ ওর না দোষ তোমার।
কয়েকটা মাস অপেক্ষা করতে পারনি
তুমি।
.
আমিঃতুমি চাইলে মেডিকেল টেস্ট
করাও আমার।
.
সিমিঃনাহ।তার দরকার নেই।আমি
আমার ছেলেকে নিয়ে সুখে আছি।
.
আমিঃতাহলে কাঁদছো কেন?
.
সিমিঃতোর মত বিশ্বাস ঘাতককে কেন
ভালবেসেছিলাম সেটা ভেবে।প্লিজ
চলে যাও।নাহলে কিছু করে ফেলব আমি।
.
আমিঃযাচ্ছি।তবে খুব শিঘ্রই নিজেকে
নির্দোষ প্রমান করব।

.

রুম থেকে বের হয়ে আসছিলাম তখন
দেখলাম বৃষ্টি দাঁড়িয়ে আছে।
.
বৃষ্টিঃভিতরে কি করছিলে তুমি?
.
আমিঃসেটা আমার ব্যাপার।আপনাকে
বলার প্রয়োজন মনে করিনা।
.
বৃষ্টিঃবলতে হবে।তুমি আমার আন্ডারে
কাজ করো।
.
আমিঃ সেটাই ত বলছি।আমার সাথে
আপনার মালিক শ্রমিকের সম্পর্ক।তাই
কাজ নিয়ে থাকি।আমার পার্সোনাল
লাইফ সম্মন্ধ্যে আপনাকে বলতে আমি
বাধ্য নয়।
.
বৃষ্টিঃতোমায় ভালবাসি তারমানে
এইনা যে তুমি সবসময় আমার সাথে বাজে
ব্যাবহার করবে।
.
আমিঃরিজাইন লেটার পাঠিয়ে দিব।
ঠিক আছে?
.
বৃষ্টিঃআমি কি তা করতে বলেছি?
.
আমিঃতো?
.
বৃষ্টিঃআমি শুধু জিজ্ঞেস করলাম
আমাকে না বলে কোথাই গিয়েছিলে আর
এই রুমে কেন এসেছ?
.
আমিঃআমার বউ বাচ্চা এখানে। আমি
থাকলে কি?
.
বৃষ্টিঃসো ফানি।কিসের বউ কিসের
বাচ্চা।
.
আমিঃমানে?
.
বৃষ্টিঃবাচ্চাটা কার সেটা কি জান?
.
আমিঃকার মানে? আমার।
.
বৃষ্টিঃউহুম।বাচ্চাটা উজ্জলের।
.
আমি বৃষ্টিকে ঠাস করে চড় দিলাম।
আমিঃতোর সাহস হয় কি করে সিমির
নামে খারাপ কথা বলার?
.
বৃষ্টিঃযা সত্যি তাই বলেছি।

আমিঃকি প্রমান আছে তোর কাছে?
.
বৃষ্টিঃউজ্জলের সাথে ডি এন এ টেস্ট
করাও।
.
আমিঃদাঁড়া।আর যদি তুই মিথ্যে প্রমান
হস তাহলে তোকে কেটে টুকরো করে
রাস্তার কুকুরদের খাওয়াব।
.
বৃষ্টিঃআর যদি সত্য প্রমান হয় তাহলে
আমাকে বিয়ে করতে হবে।বলো রাজি?
.
আমিঃ—-।
.
বৃষ্টিঃকি হলো বলো?
.
আমিঃহুম রাজি।
.
,আমি আবার রুমে ঢুকলাম।
.
আমিঃসিমি।
.
সিমিঃকি হয়েছে বারবার আমার
সামনে আসছো কেন? যাও এখান থেকে।
.
আমিঃবাচ্চাটা কার?
.
সিমিঃআমার।
.
আমিঃবাচ্চাটার বাবা কে?
.
সিমিঃকি বলতে চাও তুমি?

আমিঃআমি বলতে চাই আমার সাথে সুখি
ছিলেনা বললেই হতো। কেন পরকিয়া
প্রেমে লিপ্ত হলে? আমিই তোমায়
মুক্তি দিতাম।
.
সিমিঃমাইন্ড ইউর লাঙ্গয়েজ।কি বলছো
ভেবে দেখেছ? তুমি ছাড়া কোন পুরুষের
সংস্পর্শে আমি যাইনি।
.
আমিঃতার প্রমান দাও।
.
সিমিঃএই তোমার ভালবাসা? যেখানে
বিশ্বাস নেই সেটাকে ভালবাসার
ছিটেফোটাও নেই।
.
আমিঃতাহলে তুমি কেন আমাকে
অবিশ্বাস করে ছেড়ে চলেগেলে? তুমিও
নিশ্চই আমাকে ভালবাস না।
.
সিমিঃতোমায় ভাল না বাসলে
তোমায় বিয়ে করার জন্য উঠেপড়ে
লাগতাম না।তোমায় ভালবেসেছিলাম
এখনো বাসি যতদিন বাঁচবো তোমায়
ভালবাসব।
.
আমিঃএত কথা শুনতে চাইনা।বাচ্চাকে
দাও আর উজ্জলকে ফোন দাও।
.
সিমিঃকেন?
.
আমিঃতার সাথে বাচ্চার টেস্ট করাব।
কার বাচ্চা এটা প্রমান হয়ে যাবে।
.
সিমিঃএটা তোমার ছেলে।
.
আমিঃবিশ্বাস করিনা।
.
সিমিঃহঠাৎ করে তোমায় এসব করার
কথা কেন মনে পড়ল।
.
আমিঃবৃষ্টি বললো।
.
সিমিঃও আমার থেকে বৃষ্টির দাম বেশি।
ঠিক আছে চলো আমিও দেখব।
.
মিটিং তাড়াতাড়ি শেষ করে
হসপিটালে চলেগেলাম।
.
আমি সিমি বাবু বৃষ্টি আর উজ্জল এসেছি।
.
উজ্জলের সাথে বাবুর টেস্ট করতে
দিয়েছি।
.
তাড়াতাড়ি রিপোট পাবার কথা কারন
এটা বৃষ্টির পরিচিত হসপিটাল।
.
রিপোট নিয়ে ডক্টরের কাছে গেলাম।
.
আমি আর সিমি বসে আছি।সিমির
কোলে বাবু।
ওহ বাবুটার ত নাম বলা হয়নি আপনাদের।
বাবুর নাম আরিয়ান।
.
ছেলেটা এত্ত কিউট আর মায়াবি বলে
বুঝাতে পারব না।
.
আরিয়ান শুধু ড্যাব ড্যাব করে তাকাচ্ছে
আমার দিকে।মন চায় কোলে নি।কিন্তু
সিমি দিচ্ছে না।
.
আমিঃড.কি দেখলেন?
.
ড.ঃরিপোর্ট ম্যাচ করেছে।
.
ড. কথা শুনে মাথা ঘুরে গেল।
তারমানে আরিয়ান উজ্জলের ছেলে।
সিমি আমার বিশ্বাস একদম ভোঙ্গে
চুড়মাড় করে দিল।
.
আমি কিছু না বলে উঠে চলে এলাম।
আমার মন মস্তিষ্ক কিছুই কাজ করছে না
.
সিমি এসে হাত টেনে ধরলো।
.
সিমিঃবিশ্বাস করো রিফাত এটা
তোমার ছেলে।তুমি ছাড়া আমি কারো
সাথে কোনদিন কিছুই করিনি।(কেঁদে)
.
আমিঃথাক সিমি। আর কিছু বলিও না।
.
সিমিঃআমি শুধু তোমার। শুধুমাএ
তোমার।তোমাকে বড্ড ভালবাসি।
.
আমিঃ—-।
.
সিমিঃওর দিকে তাকাও। দেখ বাবুকে।
তোমার কি মনে হয়না এটা তোমার
ছেলে।
.
আমিঃমনে করে কি করব? রিপোটে যা
দিল তাই সত্যি।
.
সিমিঃনা সত্যি না।রিপোটও ত ভুল হয়।
তুমি প্লিজ আবার টেস্ট করো। তোমার
সাথে করাও।
.
আমিঃরিপোট ভুল হতে পারলে ছবিগুলো
ভুল হলোনা কেন?
.
সিমিঃআমার ভুল হয়েছে ইতির কথায়
বিশ্বাস করে। আমাকে ক্ষমা করে দাও।
.
আমিঃদিলাম ক্ষমা করে।এখন বাসায়
যাও।
.
সিমিঃতোমার সাথে যাব।
.
আমিঃনা।তুমি এখন অন্যকারো।আর
কয়েকদিন পর আমি অন্যকারো হয়ে যাব।
.
সিমিঃম-মানে?
.
আমিঃবৃষ্টির শর্ত অনুযায়ী এখন তাকে
বিয়ে করতে হবে।
.
সিমিঃকেন? (করুন ভাবে)
.
আমিঃবৃষ্টি শর্ত দিয়েছিল আমি ভুল
প্রমান হলে তাকে বিয়ে করতে হবে।
.
সিমিঃপাগল হয়েছ তুমি? এক ছেলের
বাবা হয়ে বউ বেঁচে থাকতে বিয়ে করবে?
.
আমিঃবাচ্চাটা আমার না।আর বউ ছিল।
তবে এখন নেই।
.
সিমিঃপ্লিজ এমন করো না।তুমি আবার
টেস্ট করাও।
.
আমিঃদরকার নেই।

.

বাসায়এসে শুয়ে পড়লাম।
ক্লান্ত থাকায় ঘুমটাও তাড়াতাড়ি চলে
এলো।

.

সাদিয়াঃআপু কি হয়েছে তোমার? যখন
থেকে এসেছ তখন থেকে কেঁদেই চলেছ।
.
সিমিঃকিছুনা।বাবা কি করছে?
.
সাদিয়াঃশুয়ে আছে।
,।
সিমিঃও।আরিয়ানকে ঘুম দিব।তুই যা।
.
সাদিয়া চলে এলো।
সাদিয়ার বাবা সাদিয়াকে ডাকলো।
.
সিমিয়ার বাবাঃকি হয়েছে রে সিমির?
.
সাদিয়াঃজানিনা।যখন থেকে এসেছে
তখন থেকেই কাঁদছে।
.
সাদিয়ার বাবাঃওকে একটু ডেকে দে।
.
সাদিয়াঃঠিক আছে।
.
সাদিয়া সিমিকে ডেকে নিয়ে সাদিয়া সিমিকে ডেকে নিয়ে এলো।
সিমির বাবাঃকি হয়েছে তোর? এত
কাঁদছিস কেন?
.
সিমি হু হু করে আবার কেঁদে দিল।
.
সিমির বাবাঃকি হয়েছে মা বল
আমাকে?
.
সিমিঃবাবা রিফাত আবার বিয়ে করছে
আর বলছে বাচ্চাটা নাকি উজ্জলের।
.
সিমির বাবাঃকরুক।তুইও বিয়ে করেনে।
.
সিমিঃনা কোনমতেই না।আমি রিফাত
ছাড়া অন্য কাউকে মেনে নিব না।
.
সিমির বাবাঃকিন্তু সে ত মেনে
নিচ্ছে।
.
সিমি কাঁদতেই আছে।
.
সিমিঃবাবা কিছু একটা করো। আমি শুধু
ওকেই চায়।আমার জন্য না হলেও তোমার
নানাভাইয়ের জন্য এনে দাও তাকে।
নাহলে যে আমার ছেলেটা বাবা ডাক
ডাকতে পারবে না।
.
সিমির বাবাঃকাকে বিয়ে করছে?
.
সিমিঃবৃষ্টিকে।
.
সিমির বাবাঃরিফাত বলেছে বাচ্চাটা
উজ্জলের?
.
সিমিঃহুম।রিপোটে তাই এসেছে।কিন্তু
বিশ্বাস করো বাবা আমি খারাপ কিছুই
করিনি।
.
সিমির বাবাঃহুম। তুই যা গিয়ে ঘুমা।
আমি দেখছি ব্যাপারটা।
.
– *—–
-.
সিমির বাবাঃবৃষ্টি তুমি বিয়েটা
ক্যান্সেল করো।
.
বৃষ্টিঃকেন?
.
সিমির বাবাঃআমি বলছি তাই।
.
বৃষ্টিঃআপনার কথা কেন শুনব? আমাদের
মধ্যে ডিল হয়েছিল ভুলেগেছেন?
রিফাতকে আলাদা করেছি আপনার
কথাই।তাকে বিয়ে করব বলে। কিন্তু
আপনি এখন পাল্টি খাচ্ছেন।
.
সিমির বাবাঃআলাদা করেছ ঠিক।তবে
আমার মেয়ের নাম কলঙ্ক করলে কেন?
.
বৃষ্টিঃতা না করলে কি রিফাতকে
পেতাম?
.
সিমির বাবাঃসাট আপ।যা বলছি চুপচাপ
শুনো নাহলে খুব পস্তাবে।
.
বৃষ্টিঃআমি পস্তাব না আপনি
পস্তাবেন? রিফাতকে আমার কাছ থেকে
আলাদা করলে সিমিকে সব বলেদিব যে
তাদের সম্পর্কে ফাটল আপনি ধরিয়েছেন।
তখন কি হবে আপনার?
.
সিমির বাবাঃআমাকে ব্ল্যাকমেল
করছিস? শুনে রাখ তুই আমার মেয়ে যদি
জানতে পারে তাদের আলাদা আমি
করেছি তাহলে তোকেও আমি ছাড়ব না।
.
বৃষ্টিঃসো ফানি। কল কাট।
.
সিমির বাবাঃহ্যা -হ্যা -হ্যাল।সিট।

.

সকালবেলা সিমির বাবা চমকে যায়
।কারন তার সামনে

সিমি দাঁড়িয়ে আছে।
সিমির বাবাঃকোথাও যাবি নাকি রে
মা? এত সাজগোজ করে আছিসস?
.
সিমিঃহ্যাঁ বাবা। আরিয়ানের বাবার
কাছে যাব।
.
সিমির বাবাঃকিন্তু সে ত।
.
সিমিঃজানি। বিয়েটা আমি আটকাব।
গেলাম ভাল থেক।
.
—–
ঘুমটা ভেঙ্গে গেল কলিংবেলের শব্দে।
এত সকালে কে এলো?
.
আমার জীবনে শান্তি বলে মনে হয় কিছু
নেই।
.
দরজা খুলে দেখি সিমি দাঁড়িয়ে আছে।
কোলে আরিয়ান।পাশে লাগেজ।
.
আমাকে কিছু বলতে না দিয়ে ঘরে ঢুকে
পড়লো।আমি আবুল হয়ে দাঁড়িয়ে আছি।
.
আমিঃকি কর–।
.
সিমিঃচুপ করো। লাগেজটা আনো। অনেক
ক্লান্ত লাগছে ঘুমাব।নাও তোমার
ছেলে।
.
আরিয়ানকে আমার কোলে দিয়ে সিমি
বাথরুমে ঢুকে ফ্রেশ হয়ে এলো।
.
আমিঃকি হয়েছে তোমার?
.
সিমিঃউফ এতদিন পর এলাম কোথাই আদর
যত্ন করবে তা না উল্টো প্রশ্ন করে যাচ্ছ।
.
আমি তার দিকে তাকিয়ে থাকলাম।
.
সিমিঃকি হয়েছে তোমার? এভাবে
তাকিয়ে আছো কেন? কি খাবার আছে?
.
আমিঃখাবার নেই।বাইরে থেকে খাই।
.
সিমিঃযাও বাজার যাও। আমি না খেলে
তোমার ছেলে খেতে পারবে না।
.
সিমি আমার হাতে বাজারের ব্যাগ
ধরিয়ে দিল।

.

বাজার করে আনলাম।
সিমি হাল্কা কিছৃ রান্না করলে দুজনে
খেলাম।
খেতে চাচ্ছিলামনা তবুও সিমি জোর
করে খাওয়াল।
.
.
সিমির প্রত্যেকটা কাজেই অবাক হচ্ছি।
কি করছে ও?
হঠাৎ করে এসেই এত কেয়ারিং!!
সিমি আরিয়ানকে খাওয়াচ্ছে।
.
আমিঃসিমি।
.
সিমিঃআহ চুপ করো।দেখছ না বাবুকে ঘুম
দিচ্ছি। জেগে যাবে ত।
.
আমি চুপ করে গেলাম।
.

কিছুক্ষন পর
সিমি আমাকে পিছন থেকে জড়িয়ে
ধরলো।
সিমিঃএত কি চিন্তা করছো?
.
আমিঃতুমি ঠিক আছো ত?
.
সিমিঃকেন আমাকে কি অসুস্থ মনে
হচ্ছে?
.
আমিঃনা। তবে তুমি এখানে কেন?
.
.
সিমিঃস্বামির বাড়িতে আছি।
.
আমি সিমির দিকে তাকালাম।
কি বলছে!!
সিমি হঠাৎ করে আমার দুগাল ধরে কাছে
টেনে তার ঠোটের সাথে ঠোট স্পর্শ
করাল।
সিমিঃঅবাক হওয়ার কি আছে? তোমার
বউই ত।
.
আমিঃদেখ সিমি তুমি যদি ভেবে থাক
এসব করে আমাকে ফিরাতে পারবে
তাহলে তা নিতান্তই ভুল।
.
সিমিঃউহুম ফিরাতে পারব না। ফিরিয়ে
নিব।
কাছে এসো।
.
আমিঃনা।তুমি তোমার ছেলেকে নিয়ে
তাড়াতাড়ি বের হয়ে যাও।কালকে
আমার বিয়ে।
.
সিমিঃবউ বাচ্চা থাকতে তোর বিয়ে
করা বের করছি।
.
আমার কলার ধরে টানতে টানতে পাশের
রুমে নিয়ে গেল।
.
আমিঃকলার ছাড়ো।
.
সিমি কোন কথা না বলে আমাকে
ধাক্কা দিয়ে বিছানায় ফেলে দিল।
নিজেও লাফ দিয়ে উঠে পড়লো আমার
উপর।
.
সিমিঃকি বিয়ে করবে বুঝি?
.
আমিঃহ্যাঁ।

সিমিঃতোর এমন অবস্খা করব তোকে
কেউ বিয়ে করবে না।
.
ঠোটে ঠোট লাগাল।
কিছুক্ষন ভাল লাগলেও পরে ঠোট কামড়ে
ধরলো।
আমিঃউমম উমমমম।
.
সিমিঃবাবু ব্যাথা পেয়েছ?
.
আমিঃসরো ঠোট জ্বলছে।
.
সিমিঃতোমার ঠোট থেকে ত রক্ত পড়ছে।
নিশ্চই জ্বলছে। আসো জ্বালা করবে না।
.
আমিঃছাড়ো। শুনতে পাচ্ছোনা
কলিংবেল বাজছে।
.
সিমিঃকোন শালা এলো এসময়ে?
.
আমিঃএসব কি ভাষা?
.
ঠোট থেকে রক্ত পড়তেই আছে।
ক্ষুদার্থ মানুষ খাবার দেখলে যেমন করে
সিমিও তেমন করেছে।
.
দরজা খুলে দেখি বৃষ্টি দাঁড়িয়ে আছে।
.
আমিঃতুমি এখানে এসময় কেন?
.
বৃষ্টিঃহবু স্বামির কাছে আসব না ত কার
কাছে আসব?
.
বৃষ্টিঃতোমার ঠোট থেকে রক্ত পড়ছে
কেন?
..
আমিঃএমনি।
.
বৃষ্টিঃএমনি ত না। নিশ্চই কারন আছে।
.
সিমিঃআমি সেই কারন।
.
বৃষ্টিঃতুই এখানে কি করছিস?
.
সিমিঃস্বামির কাছে থাকব না ত কার
কাছে থাকব?
.
বৃষ্টিঃস্বামি মানে? ওর সাথে আমার
বিয়ে হবে।
.
সিমিঃভুলে যা।
.
বৃষ্টিঃভাল চাস ত তুই চলে যা।নাহলে
তোকে।
.
সিমিঃকি করবি তুই?
.
বৃষ্টিঃদাঁড়া এখনি তোর যাওয়ার
ব্যাবস্থা করছি।
.
সিমিঃবাবাকে ফোন করে লাভ নেই।
বৃষ্টিঃমানে?
.
সিমিঃতোর মানে বের করছি।
.
সিমি বৃষ্টির চুলের মুঠি ধরে রুমে নিয়ে
এলো। ঠাস ঠাস করে মেরেই চলেছে।
.
আমিঃসিমি কি করছো? এভাবে মারছো
কেন তাকে?
.
সিমি এতক্ষনে কেঁদে দিল।
আমাকে জড়িয়ে ধরলো।
সিমিঃআমাকে ক্ষমা করে দাও প্লিজ।
আমি তোমায় ভুল বুঝেছি। তোমায়
বিশ্বাস করিনি।
.
আমিঃএসব এখন কেন বলছো? আর বৃষ্টিকে
মারলে কেন এভাবে? দেখ মুখ দিয়ে রক্ত
পড়ছে।
.
সিমিঃওকেত মেরেই ফেলব।ওর আর
আমার বাবা মিলেই আমাদের মাঝে
দ্বিধাদ্বন্দ্ব সৃষ্টি করেছে।আরিয়ান
তোমার ছেলে। হসপিটালে রিপোট ভুল
করেছিল বৃষ্টি। উজ্জলকে পাঠিয়েছিল
বাবা আর উজ্জল ইতিকে নিয়ে এসব
করেছে।
.
আমিঃতোমার বাবাও!!
.
সিমিঃহুম।
.
আমিঃবৃষ্টি সিমি যা বলছে তা কি
সত্যি?
.
বৃষ্টিঃনা।
.
আমিঃতুমি মেয়ে। তোমার গায়ে হাত
উঠাতে চায়না।
.
সিমিঃচায়না মানে? ঠাসসসস
.
সিমি রেগে গেছে। নাজানি এখন
আমাকেও দেয়।
.
সিমিঃবের হ কালনাগিনী।
সিমি বৃষ্টিকে টানতে টানতে বাইরে
বের করে দিল।দরজা লাগিয়ে সিমি
এলো।
.
সিমিঃএখনো রক্ত পড়ছে! ক্রিমটা দাও
লাগিয়ে দি।
.
আমিঃনা থাক।
.
সিমিঃথাক মানে? দাও বলছি।
.
সিমি রেগে আছে কিছু বলা যাবেনা।
আমি আর মার খেতে পারব না।হাজার
হলেও এক ছেলের বাবা। এখন মারলে
মানসন্মান আর থাকবে না।
.
সিমি ক্রিম লাগিয়ে দিল।
.
সিমিঃজ্বলছে?
.
আমিঃনা।
.
সিমিঃএখনো রেগে আছো আমার উপর।
সত্যিটা ত জানলে।
.
আমিঃসত্যিটা জেনে কি করব? যখন
তোমার প্রয়োজন ছিল তখন ত তুমি
আমাকে বিশ্বাস না করে অন্তঃসত্বা
অবস্থায় চলে গেছিলে।আমার ছেলেকে
আজ পর্যন্ত স্পর্শ করতে দাওনি।
.
সিমিঃআসলে তখন উজ্জল এমনভাবে পিক
দেখাল আর ইতি বলেছিল তোমার সাথে
তার সম্পর্ক ছিল।বাবাও আমাকে তোমার
বিরুদ্ধে বলে।তাই বিশ্বাস করতে
হয়েছিল। আরিয়ানের ঘুম ভাঙ্গলে নিও।
.
আমিঃহুম।
.
সিমি কেঁদেই যাচ্ছে।
.
আমিঃএত কাঁদার কি আছে?
.
সিমিঃতুমি এখনো আসায় ক্ষমা করনি!
.
আমিঃ—-।
.
সিমিঃবললাম ত ভুল হয়েগেছে। আর
হবেনা এমন।
.
আমিঃহুম।
.
সিমিঃকি হুম? একটু বুকে নাও।
.
আমিঃআসো।
.
সিমি আষ্টেপিষ্টে জড়িয়ে ধরলো।
.
আমিঃএকটু আস্তে জড়িয়ে ধরো।নাহলে
ত দম বন্ধ হয়ে মারা যাব।
.

সিমিঃবললেই হলো।

সিমি রান্না করছে
আরিয়ান মেঝেতে আরিয়ান মেঝেতে খেলছে।
ছেলে আমার এমন আমাকে ৃছাড়তেই
চায়না।
সিমি যদি শুতে আসে আমার পাশে
তাহলে কেঁদে দিবে।
.
সিমির কাছে খাওয়ার সময়টুকু থাকে।
নাহলে বাবা ভক্ত।
.
সিমিকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলাম।
.
সিমিঃকি করছো? তোমার ছেলে
দেখতে পেলে আবার কান্না শুরু করবে।
আমাকে ভালইবাসেনা একদম।
.
আমিঃআমি আছিত ভালবাসার জন্য।
.
সিমিঃবলো কি চাই।
.
আমিঃএকটা ছুট করে কিস।
.
সিমিঃধ্যাত এভাবে বলছো কেন?
(লজ্জায়)
.
আমিঃএখনো লজ্জা পাচ্ছো? আচ্ছা
চলো ঐ সাইডে।
.
সমাপ্ত
জানিনা কেমন হলো। কালকে ভালবাসা
নাকি অন্যকিছু গল্পটা শুরু থেকে দিব।
কিছু ভুল আছে ঠিক করব।ধন্যবাদ পাশে
থাকার জন্য।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *