রাগি গার্লফ্রেন্ড যখন বউ-Part-1

রাগি গার্লফ্রেন্ড যখন বউ
লেখকঃমোঃরিফাত আলি♥ Part-01

মোবাইলের আওয়াজে ঘুমটা ভেঙ্গে গেল।
কোনদিন দুপুরে ঘুমাতে পায়না।
আজ শুক্রবার সবকিছু ছুটি। তাই ভাবলাম একটু ঘুম যায়।
কিন্তু কে যে ফোন দিল ঘুমের বারোটা বাজিয়ে দিল।
ঘুম থেকে উঠেই ফোনটা রিসিভ করলাম।
আমিঃহ্যালো কে? (ঘুম ঘুম কন্ঠে)
সিমিঃসিমি।
আমিঃততুমি! বলো কি বলবা?
সিমিঃকি করছো?
আমিঃঘুমাচ্ছি।
সিমিঃতোর ঘুম ছুটাচ্ছি হারামজাদা। আজ আমার সাথে তোর দেখা করার কখাছিলনা?
আমিঃসসরি।
সিমিঃরাখ তোর সরি। তোকে আধাঘন্টা সময় দিলাম। এরমধ্যে যদি ভার্সিটির লেকের পাশে না আসিস তাহলে তোর অবস্খা কি করবো আমি নিজেও জানিনা।
আমিঃতুমি একটু অপেক্ষা করো আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।
সিমিঃহুম।

সিমি রেগে কলটা কেটে দিল।
তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হতে হবে আর লেকের পাশে যেতে হবে। নাহলে বিপদ আছে।আসলে সমবয়সী আর সিনিয়রদের সাথে প্রেম করলে যা হয়।
যতক্ষনে ফ্রেশ হচ্ছি ততক্ষনে আপনাদের পরিচয়টা দিয়ে দি।
আমি মোঃ রিফাত আলি। বাবা-মায়ের একমাএ ছেলে। বাবা সাধারন চাকরিজীবী।
মা গৃহীনি।এক কথায় মধ্যবিত্ত পরিবার।
আর এতক্ষন যার সাথে কথা বললাম মানে যার ঝাড়ি খেলাম সে হলো সিমি। কোটিপতি বাবার বড় মেয়ে। তার আরেকটা ছোটবোন আছে। ক্লাস নাইনে পড়ে সে। সিমির মা নেই।
সিমি আমারো একমাএ রাগি গার্লফ্রেন্ড।
দেখতে যথেষ্ট সুন্দরি।
ওর বিবরন আপনাদের দিব না। নাহলে নজর দিতে পারেন।
সিমি আর আমি অনার্স তয় বর্ষে পড়াশুনা করি।
মানে আমরা ক্লাসমেট।
আমাদের দু বছরের রিলেশন।
দুজন দুজনকে অসম্ভব ভালবাসি।
তবে সিমি মেয়েটা বড্ড রাগি।
তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গেলেই জিবন তেজপাতা করে দিবে।
আজকে তারসাথে ঘুরতে যাবার কথাছিল।
তবে ঘুমানোর কারনে যেতে পারেনি।
ফোনে যা ঝাড়িদিল নাজানি সামনা সামনি কি করে?
তারপরেও দেখা করতে যাচ্ছি নাহলে পরবর্তিতে আরো ক্ষেপে যাবে।

এতক্ষনে ফ্রেশ হয়ে রেডি হয়েগেছি।
বাইরে যাব তখনি
আম্মুঃকোথায় যাচ্ছিস?
আমিঃএকটু বাইরে যাচ্ছি।
আম্মুঃতাড়াতাড়ি ফিরিস বাসায়। যুগযামানা ভাল নয়।
আমিঃঠিক আছে।

তাড়াতাড়ি একটা সিএনজিতে উঠে বসলাম। ভাগ্য ভাল তাই তাড়াতাড়ি পেয়েগেছি। নাহলে ত এই ঢাকাশহরে একটা ফাঁকা সিএনজির জন্যও আধাঘন্টার বেশি অপেক্ষায় থাকতে হয়।
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলাম কত বাজে।
যাহ ঘড়িটাও নষ্ট হয়েগেছে।
আর তাড়াহুড়োয় ফোনটা বাসায় রেথে চলেএসেছি।
আমার ত ভাবতেও ভয় লাগছে সিমি আমার কি করবে।
কয়েকবার তার কথার বিরুদ্ধে গেছিলাম তবে প্রতিবাদ স্বরুপ কয়েকটা চড় খেতে হয়েছিল।
তাও ভাল মেরে ত ফেলেনি।

অঅনেকক্ষন থেকে জ্যামে আটকে আছি।
এমনিতেই ঢাকায় জ্যাম থাকে তারউপর আজ শুক্রবার।
না আর দেরি করা যাবেনা।
সিএনজি থেকে নেমে পড়লাম।
আমিঃমামা কত টাকা হয়েছে?
মামাঃ৮০ ট্যাহা দেন।

মানিব্যাগ হাতরে ১০০ টাকা পেলাম। ভাগ্যিস এটাকাটুক ছিল। নাহলে অপমান হতে হতো।
আমি ২০ টাকা ফেরত নিয়ে লেকের উদ্দেশ্যে গেলাম।
কোনমতে পৌছলাম।
ঘেমে শরির একাকার হয়েগেছঘেমে শরির একাকার হয়েগেছে।
সিমি ঘাসের উপর বসে রয়েছে।
সিমির কাছে গেলাম।
আমিঃসরি একটু লেট হয়েগেল। আসলে অনেক জ্যামতো তাই।
সিমিঃরেসপন্সিবিলিটি বলে কিছু আছে কি তোমার মধ্যে?
আমিঃসরি ত।
সিমিঃরাখ তোর সরি।
আমিঃআর হবেনা এমন।
সিমিঃতোর ফোন কোথায়?
আমিঃতাড়াহুড়োয় বাসায় ফেলে চলে এসেছি।
সিমিঃতা ঘড়িতে টাইম দেখেন কয়টা বাজে।

আমি ঘড়ির দিকে তাকালাম। কি বলব সিমিকে? ঘড়িত নষ্ট।
আমিঃজানিনা।
সিমিঃঘড়ি দেখতে জান না।
আমিঃনা মানে ঘড়ি নষ্ট।
সিমিঃও। বসো এখানে।(তারপাশে)
আমিঃনা থাক। আমি ঘেমে আছি। তোমার শরিরে ঘাম লেগে যাবে।

সিমি কিছু বললো না।
ব্যাগথেকে টিস্যু বের করলো।
সিমি উঠে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরলো।
আমিও তাকে সরাতে পারছিনা।
সিমি আমাকে ছেড়ে দিয়ে আমার মুখের ঘামটুকু আর ঘাড় আর গলার ঘামটুকু মুছে দিল।
সিমিঃতোমার সবকিছুই আমার প্রিয়।
আমিঃ—-।
সিমিঃচলো বসো।
আমিঃহুম।

সিমি আমার কাঁধে মাথা দিয়ে আছে।
অনেকক্ষন গল্প করার পর
সিমিঃচলো একটু মার্কেটে যাব।
আমিঃহুম চলো।

মার্কেটে আসার পর
সিমিঃমামা এই ঘড়িটা দেন।
আমিঃমাথানিচু করে আছি। কারন ঘড়িটা আমার জন্য কিনছে।
সিমি ভালকরেই জানে আমাদের অবস্খা। বাবা যা আয় করে তাদিয়ে সংসার আর আমার পড়াশুনা চলে। সিমি আমাকে প্রায় গিফট দেয়। রেস্টুরেন্টে ভাল খাবার খাওয়াই। এমনকি আমি যে ফোন ব্যাবহার করি সেটাও সিমির দেওয়া। আমি কয়েকটা টিউশনি করাতাম যার কারনে সিমিকে ঠিকমত সময় দিতে পারতাম না। তাই সে আমাকে তার বোনের টিচার হিসেবে রেখেছে। ভালই বেতন দেয়। তবে মাসের শেষের দিকে তাই আমার কাছে টাকা নেই।
আমি বুঝিনা সিমি আমাকে ভালবাসে নাকি করুনা করে।
আমাদের মত মানুষদের ত কেউ করুনাও করেনা।
মার্কেট থেকে বের হলাম।
আমিঃআমাকে এত করুনার কি আছে?
সিমিঃমানে?
আমিঃএত খরচ কেন করো আমার পিছনে? আমার সামর্থ্য নেই তাই?
সিমিঃএকটা চড় দিব কানের নিচে। ভালবাসি তাই দি।
আমিঃহুম।

সিমি আমাকে শপিং ব্যাগটা দিল সাথে হাতের মুঠোয় কচকচে ৫০০ টাকার নোট দিল।

আমি ইসপষ্ট সিমির চোখে পানি দেখতে পাচ্ছি।
হয়ত আমার কথায় কষ্ট পেয়েছে ।
সিমিঃকাল ভার্সিটি আসবে?
আমিঃহুম। তুমি ?
সিমিঃকাল একটু কাজ আছে তাই আসতে পারব না ।নোটটা দিও।
আমিঃআচ্ছা ।
সিমিঃআজ যায়। বাসায় পৌছে কল দিও।
আমিঃওকে ।
সিমি চলে গেল আমিও চলে এলাম।

সিমিকে জানিয়ে দিলাম এসেছি। নাহলে চিন্তা করবে।

ভার্সিটিতে ক্যাম্পাসে বসে আছি।
আজ সিমি আসবে না তাই ভাললাগছেনা ।
হঠাৎ বৃষ্টি এসে জড়িয়ে ধরলো ।
বৃষ্টিঃআমাকে ক্ষমা করে দাও আর কখনো ভালবাসার কথা বলব না তোমায়।
আমিঃঠিক আছে ছাড়ো ।

বৃষ্টিকে সরালাম ।
সামনে সিমি দাঁড়িয়ে আছে ।
মোটেও সুবিধা লাগছে না ।
আমিঃবিশ্বাস করো ।
সিমিঃঠাসসসসসসসসস ।

আমিঃআমার কথাটা ত শুনো।
সিমিঃচুপ কর তুই। একদিন আসতে দেরি হয়েছে আর ওমনি আরেকটা মেয়ের সাথে লুতুপুত শুরু হয়েগেছে তাইনা?আর কোনদিন আমার সাথে যোগাযোগ রাখবি ন। (চেঁচিয়ে)
আমিঃআমি ত জড়িয়ে ধরিনি। আর ও শুধু ক্ষমা চাইতে এসেছিল। বিশ্বাস না হলে ওকে জিজ্ঞেস করো।
(পাশে তাকিয়ে দেখি বৃষ্টি নেই। সিমির ভয়ে পালিয়ে গেছে)
এবার সিমির দিকে তাকালাম।সিমিও হাটা ধরেছে।
রাগের কারনে জোরে জোরে হাটছে।
সিমি তাদের পার্সোনাল গাড়িতে করে ভার্সিটি থেকে চলে গেল।
আর আমিও ধপাস করে বসে পড়লাম।
আমাকে চড় খেতে দেখে জুনিয়র থেকে সিনিয়র সবাই হাসছে।
যদিও চড় খাওয়া আমার নিত্যদিনের কাজ। তবে সবার সামনে এত জোরে চড় না দিলেও পারত।
এসব হয়েছে বৃষ্টির কারনে।
ক্ষমা চাইতে এসেছিস ক্ষমা চেয়ে চলে যাবি।
না উনি আবার জড়িয়ে ধরে ক্ষমা চাইছে।

বৃষ্টিঃএই শুনো।
আমিঃকি হয়েছে? একবার চড় খেলাম তোমার কারনে আবার কেন এসেছ?
বৃষ্টিঃনা মানে সিমি ত তোমার সাথে ব্রেকআপ করে চলেগেল এখন আমাকে কি জায়গা দেওয়া যাবে?
আমিঃচুপ কর।

বৃষ্টি আমার হাত তার হাতের মুঠোয় নিল
বৃষ্টিঃআমি কি দেখতে খুব খারাপ?

আমি কিছু বলতে যাব তখনি ভার্সিটির গেটের দিকে চোখ যায় ।
সিমি দাঁড়িয়ে আছে সেখানে।
একধ্যানে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে।
সিমি এবার কিছু বললো না। কান্না করতে করতে গাড়িতে করে গেটের বাইরে চলে গেল।
আমি আর কি করবো? বৃষ্টির হাত থেকে নিজের হাত এক ঝটকায় সরিয়ে নিলাম।
তারপর বাসায় চলে এলাম।
এখন সিমির রাগ ভাঙ্গাব কি করে?
এমনিতেই খুব অভিমানি আর রাগ ত আছেই।
কিছুই ভাল লাগছে না।
গোসল করে খাবার খেয়ে একটু রেস্ট নিলাম।
দেখতে দেখতে বিকেল ৪ঃ০০ বেজে গেল।
সিমির বোন সাদিয়াকে বিকেল ৫ টা খেকে ৬ঃ৩০ পর্যন্ত পড়ায়।
আধঘন্টা বেশি পড়াতে হয় কারন সিমি পাশের রুমের জানালায় বসে দেখে আমাকে।পারেনা পাশেই সবসময় বসিয়ে রাখে।
বাসা থেকে বেরিয়ে পড়লাম সিমিদের বাসার উদ্দেশ্যে।

অনেকক্ষন কলিংবেল টিপার পর সাদিয়ে এসে দরজা খুললো।

সাদিয়াঃআসসালামু আলাইকুম স্যার।
আমিঃওয়ালাইকুম আসসালাম।
সাদিয়াঃআপনি একটু বসেন। স্যার আমি বই নিয়ে আসছি।
আমিঃঅকে।

আমি স্টাডিরুমে বসে আছি। কিন্তু আজ সিমিকে দেখতে পাচ্ছিনা।
হয়ত এখনো আমার উপর রেগে আছে।

সাদিয়া এলো।
তাকে কিছু অংক করতে দিলাম।
আমিঃসাদিয়া।
সাদিয়াঃজি স্যার।
আমিঃবাসাটা আজ এত ফাঁকা ফাঁকা লাগছে কেন?
সাদিয়াঃআব্বু বাইরে গেছে আর কাজের মেয়েটা আজ ছুটিতে আছে।
আমিঃনা মানে তোমার আপু কোথায়?
সাদিয়াঃসেটা ত আপনি জানেন।
আমিঃআমি জানি মানে?
সাদিয়াঃআমি জানি আপনি আমার হবু দুলাভাই। আপুর সাথে আপনার প্রেম আছে।
আমিঃকি?
সাদিয়াঃজি সব জানি।তবে আজ আপু ভার্সিটি থেকে আসার পর আর রুম থেকে বের হয়নি।
আমিঃও।
সাদিয়াঃকি ও? যান গিয়ে আপুর রাগ ভাঙ্গান।
আমিঃহুম। তা রুম কোনটা?
সাদিয়াঃপাশেরটা।
আমিঃতুমি এ অংক গুলা করো আমি তোমার আপুর কাছ থেকে আসছি।

সিমির রুমের সামনে এসে
আমিঃআমার সোনাপাখি বুঝি এখনো রাগ করে আছে?
সিমিঃহারামি কে তোর সোনাপাখি?
আমিঃকেন তুমি?
সিমিঃচুপচাপ সাদিয়াকে পড়া আর চলে যা।
আমিঃদরজা খুলো। তোমাকে না দেখে যাবনা।
সিমিঃআমাকে দেখার কি আছে? যা না বৃষ্টার কাছে।
আমিঃদরজা খুলো সব বলছি।

সিমি দরজা খুলে দিল।
আমিঃএত রাগ কেন তোমার? কেঁদে ত মুখ ফুলিয়ে দিয়েছ। আর মুখটাও শুকিয়ে গেছে।নিশ্চয় খাওনি।
সিমিঃআগে বল ওই মেয়ে তোকে জড়িয়ে ধরেছিল কেন?
আমি সব বললাম।
সিমি হু হু করে আবার কেঁদে দিল।তবে আমাকে জড়িয়ে ধরে।
সিমিঃসরি।
আমিঃহুম।
সিমিঃখুব ক্ষিদা পেয়েছে।
আমিঃত খাও।
সিমিঃউহু। তুমি খাইয়ে দিবে।
আমিঃপাগল হয়েছ নাকি?
সিমিঃনা। তবে না খাইয়ে দিলে সত্যি পাগল হয়ে যাব।
আমিঃযাও খাবার নিয়ে এসো।

সিমিক খাইয়ে দিচ্ছি।
আর সিমি বাচ্চাদের মতকরে খাচ্ছে। গাল ফুলিয়ে।
দেখে হাসিও আসছে আর ভাল তো সবসময় বাসি।
সিমিকে খাওয়াচ্ছি আর তখনি সিমির বাবা সিমির রুমে আসে।
তার চোখ ছানাবড়া।
অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।
ভয়ে আমার শরিরের প্রত্যেকটা পার্ট কেঁপে উঠছে।
কিন্তু সিমি স্বাভাবিক ভাবেই আছে।
সিমিঃবাবা কিছু বলবে?
সিমির বাবাঃনা একটু দেখতে এলাম কি করছিস।
সিমিঃও।খাওয়ার পর তোমার কাছে আসছি।
সিমির বাবাঃহুম।রিফাত একটু আসো ত বাবা তোমার সাথে কিছু কথা আছে।

আমি আংকেলের পিছন পিছন গেলাম।
আংকেলের রুমে এসে
আংকেলঃতা বড় হয়ে কি হতে চাও?
আমিঃচাকরি করতে চাই।
আংকেলঃতা এতে বড়লোক হতে পারবা? তার থেকে ভাল এই নাও সুটকেস। এতে বিশ লক্ষ টাকা আছে। আর আমার মেয়ের ধারেকাছেও যেন না দেখি। কাল থেকে টিওশনি আসবা না।সিমির থেকেও দুরে থাকবা।সামনে মাসে সিমির বিয়ে ঠিক রয়েছে।

চলবে…

Related Posts

One thought on “রাগি গার্লফ্রেন্ড যখন বউ-Part-1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *