রাগী বসের অভিমানী বউ পার্ট -২। Sad love story

#রাগী বসের অভিমানী বউ #রক্ষিতা
# Part- 2
# Writer – Taslima Munni

রাগী বসের অভিমানী বউ Part-1 

‘ স্যার, আমি আপনার প্রস্তাবে রাজি!’ পরদিন অফিসে গিয়েই আকাশকে বলে দিলাম।
-That’s like a good girl !! আমি জানতাম তুমি রাজি হবেই।যাইহোক তুমি প্রিপারেশন নাও।আমি আজই তোমাদের বাসায় যাবো।
আকাশের প্রস্তাবে রাজি না হয়ে উপায় নেই আমার। সাইফ-সুমনার পড়াশোনা, মামার চিকিৎসা সব বন্ধ হয়ে যাবে।
আমি জানিও না কেন আকাশ আমাকে বিয়ে করতে চাইছে! কি উদ্দেশ্য তার? আকাশের মতো ক্ষমতাবান কোটিপতি লোক যখন আমার মতো অতি সাধারণ একটা মেয়েকে বিয়ে করতে চায় তার পিছনে দুটি কারণ থাকতে পারে। এক-ভালবাসা, দুই- অন্য কোনো উদ্দেশ্য!
এক নাম্বার টা হবার কোনো চান্সই নেই সেটাও আমি ভালো করে জানি। দুই নাম্বার টাই ঠিক।কিন্তু কি উদ্দেশ্য সেটাই বুঝতে পারছি না।

উদ্দেশ্য যাইহোক আমার উদ্দেশ্য ঠিক থাকলেই হবে। আমার শর্তগুলো পূরণ করতে হবে, তবেই বিয়ে করবো।
সন্ধ্যায় আকাশ বাসায় আসে, সাথে অনেক কিছু নিয়ে আসে। সবার জন্য কাপড়-চোপড়,মিষ্টি আরও অনেক কিছু।
মামার জন্য হুইলচেয়ার। মামাকে হুইলচেয়ারে বসিয়ে ড্রয়িং রুমে আনা হয়। খুশিতে আমার চোখে পানি চলে আসে।কতদিন মামা বিছানা থেকে উঠেনি। হুইলচেয়ার কেনার মতো অবস্থা ছিলো না,অন্যান্য খরচ চালাতেই হিমসিম খেয়েছি।তার উপর টিউশনি ছেড়ে চাকরিতে ঢুকেছি,কিন্তু সারামাস হাতে কিছুই ছিলো না।

আকাশ মামা-মামীর সাথে কথা বলে। মামার একাউন্টে এখানে বসেই অনেকগুলো টাকা ট্রান্সফার করে দেয়, যাতে মামার চিকিৎসার আর সংসার খরচ ভালো ভাবেই চলে। সাইফ- সুমনার হাতে একটা চেক তুলে দেয় তাদের পড়াশোনা খরচ। মামা আপত্তি করলেও মামীর চোখ রাঙানিতে চুপ হয়ে যায়।
কিন্তু আমার তো কিছু বলার আছে।
– স্যার,অনেক কিছুই তো দিলেন। কিন্তু দুদিন পরে? কে দেখবে সংসার? সাইফের পড়াশোনা শেষ হতে সব মিলিয়ে বছর খানেক লাগবে।ততদিন? ‘
আমি নির্লজ্জের মতো বলে ফেললাম। লজ্জা করে কি হবে? সেইতো উনাদের জন্য বিয়ে করবো, তবে উনাদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে কেন নয়?
– কাজল,সে সব তোমাকে ভাবতে হবে না। সাইফের পড়াশোনা শেষ হবার আগ-পর্যন্ত আমি সব দায়িত্ব নিলাম।এই নাও এগ্রিমেন্ট পেপার।
আর ওর পড়া শেষ হলে চাকরি আমি ওকে দিবো।
আকাশ আমার হাতে এগ্রিমেন্ট পেপার তুলে দেয়।
মামার চোখে পানি- স্যার আপনি এতো কিছু করলেন, আবার এগ্রিমেন্ট পেপার কি প্রয়োজন? আপনার উপর আমাদের বিশ্বাস আছে।
– আপনার থাকতে পারে, আপনার ভাগ্নির তো নাও থাকতে পারে।
তো মিস. কাজল আপনার আর কোনো আপত্তি আছে?
– জি না।আর কোনো আপত্তি নেই।

ঠিক হলো দুদিন পরেই বিয়ে,তবে সেটা ঘরোয়া আয়োজনে করতে চায়।মামা-মামী তাতেও রাজি হয়ে গেলেন।ভাবলেন আমাদের খরচ বাড়তে চায় না, তাই এভাবে বিয়ে করতে চাইছেন।
পরদিন আমার গায়ে হলুদ দিলো।আকাশ বিয়ের শাড়ি-গয়নাসহ যাবতীয় জিনিসপত্র পাঠিয়ে দিলো।
তারপর দিন বিয়ে হয়ে গেলো। কাজি,ইমাম আর আকাশ ছাড়া কেউ আসেনি।আমার পরিবারের কয়েক জন আর আমার কাছের বান্ধবী ইরা ছাড়া কাউকে কিছু বলা হয়নি।
আকাশের বিয়ে অথচ ৫-৬ জন মানুষ ছাড়া কেউ জানলো না!

বিয়ের পর আকাশ আমাকে ওর বাসায় নিয়ে আসে। আমি জানি না আকাশের বাড়ি কেমন। কে কে আছে বাড়িতে। উনার বিয়ের বিষয়ে কেউ কিছু জানে কিনা।জানলে বিয়েতে যায়নি কেন।আর যদি না জানে তবে কিভাবে রিয়েক্ট করবে??
হাজারটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে আমার মাথায়।ভাবতে ভাবতে এক বিশাল বাড়ির সামনে এসে গাড়ি হর্ন দেয়।গাড়ির হর্নে আমার ভাবনায় ছেদ পড়ে। বিশাল গেইট খুলে যায় আর গাড়ি ভেতরে ঢুকে। ভেতরে দেখে আমার চোখ কপালে!
এতো বিশাল এরিয়া জুড়ে অনেক বড় দুইটা বাগান। বাগানের দুপাশে বিভিন্ন ধরনের গাছ- গাছালি। বেশ ভিতরে বাড়িটা যেন রাজ- প্রাসাদ!
আকাশ গাড়ি থেকে নেমে বলে – বেরিয়ে এসো।
আমি ভয়ে ভয়ে বের হয়ে এলাম গাড়ি থেকে। একজন লোক এসে গাড়ি থেকে আকাশের ব্রিফকেস নিয়ে যায়।
বাড়ির ভেতরে ঢুকতে গিয়ে আমার হাত-পা কাঁপছে।
আকাশ দরজায় পা দিতেই সব কাজের লোকেরা দুপাশে ভাগ হয়ে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে যায়।এটা হলরুম না ড্রয়িং রুম! এযে রাজ প্রাসাদ!
একজন ছুটে গিয়ে একটা ট্রেতে করে ঠান্ডা পানি,কয়েক ধরনের জুস নিয়ে আসে।
আকাশ পানির গ্লাস টা নিয়ে শুধু পানি টুকু খায়।
এদিকে ভয়ে আমার গলা শুকিয়ে গেছে। অথচ কেউ আমাকে পানিও দিলো না!
– এসো আমার সাথে।
আকাশ আমার হাত ধরে নিজের রুমে নিয়ে যায়।
রুমে গিয়েই
চুলের মুঠি শক্ত করে ধরে এই কান্ড ঘটনায়! বাড়িতে এসেই এতো দিনের জমানো ঝাল আমার উপর ঝাড়লো।

বিয়ে নিয়ে কত স্বপ্ন থাকে মানুষের। স্বপ্ন দেখে একটা মানুষকে নিজের করে পাওয়ার,একটা মানুষের কাছে নিজেকে সপে দেয়ার! আমি এসবের কিছু করছি না। আমি নিজেকে আকাশের হাতে সপে দেয়ার স্বপ্ন নিয়ে আসিনি।আকাশের কাছে নিজেকে বিকিয়ে দিয়েছি।এই পৃথিবীতে আমার কাছের বলতে যে মানুষগুলো আছে, তাদের সুখের জন্য নিজেকে বিকিয়ে দিয়েছি!
এসব ভাবনা ফেলে ফ্রেশ হয়ে নিলাম। একটু পরেই আমার জন্য রুমে খাবার আসলো। নানা ধরনের খাবার, অনেকগুলোর নামই জানি না। আমি শুধু একটু পানি খেয়েছি। গলা দিয়ে খাবার আমার নামবে না।
এমন সময় আকাশও এসে দেখে কিছুই খাইনি।
– খাওনি কেন?
– খিদে নেই।
– খিদে না থাকলেও খেতে হবে। না খেয়ে অসুস্থতার বাহানায় অফিস কামাই করা যাবে না!
আমি আগে জানতাম না বিয়ের পর আকাশ চাকরি টা করতে দিবে কিনা,তবে এবার তার কথা শুনে নিশ্চিত হলাম যে চাকরি করতে পারবো।
– খেয়ে নাও।
– খাবার তো আমার ইচ্ছেতে খাবো, সেটাতেও কি আপনার অর্ডার মানতে হবে?
– অবশ্যই হবে। কাগজে এমনটাই লেখা আছে,?
– কিসের কাগজ?
– কাবিননামা! সেখানে কি লেখা আছে জানো না?

 

‘ কাবিননামায় লেখা আছে তুমি সম্পূর্ণ সুস্থ মস্তিষ্কে, সজ্ঞানে আগামী ২ বছর আমার স্ত্রী হিসেবে থাকবে এবং আমার প্রত্যেক আদেশ মানতে বাধ্য থাকবে।’
– কি বলছেন এসব? কাবিননামায় এসব লেখা থাকে নাকি? আর কালিমা পড়ে তো বিয়ে করেছেন।
– হা করেছি আর সাথে কাগজেও উল্লেখ আছে, আমি তোমাকে ডিভোর্স দিতে পারবো। তুমি পারবেনা।তবে বিয়ে তো হয়েছে!
আকাশের কথা শুনে আমার মাথা ঘুরছে। কন্ট্রাক্ট মেরিজ! এইভাবেই শোধ নিলো! একটা চড়ের?
– কেন করছেন আমার সাথে এসব? কি এমন ক্ষতি করেছিলাম আপনার!?
– তুমি আকাশকে এখনো চেনোনি।চিনবে ধীরে ধীরে! দুই বছর অনেক সময়। এরমধ্যে ভালো করেই চিনবে।
এইবার খেয়ে নাও।
– খিদে নেই, খাবো না।
আকাশের মেজাজ খারাপ হয়ে গেছে।
– এক্ষুণি খেতে বলেছি, তো খাবে।
– না!
– কি!! আমাকে না করিস? তুই খাবিনা তোর ঘাড় খাবে।
আকাশ একটা পাউরুটি নিয়ে জোর করে আমার মুখে ঠেসে দেয়!
এতো বদমেজাজি মানুষ আমি জীবনে দেখিনি। তার চেয়ে আমার মামি হাজার গুণ ভালো।

রাতে আকাশের সাথে একই বিছানায় শুতে আমি বেশ ইতস্তত বোধ করছি।এই খাটাশ বেটা তো একটা লুইচ্চা! আমি খাটে বসে আছি। শুবো? নাকি বসে থাকবো? ভাবছি….
আমি কিছু বুঝে উঠার আগেই আকাশ আমাকে পেছন থেকে জড়িয়ে সোজা বিছানায়!!
– আরে কি করছেন? ছাড়ুন বলছি! ছাড়ুন!
– ছাড়ার জন্য তোমাকে এনেছি?
তারপর চারদেয়ালে বন্দি এই ঘরে যা ঘটে গেল তা আমাকে বিধ্বস্ত করে দিয়েছে। মানুষের জীবনের অনেক কাঙ্ক্ষিত একটা সময় হচ্ছে বাসর।নারী- পুরুষের মিলন এটা প্রকৃতি বেঁধে দিয়েছে। বিবাহ নামক শব্দে যার বৈধতা নিশ্চিত করা হয়। বিবাহের বাইরে ও অনেক ভাবেই সেটা হয়ে থাকে। কখনো ইচ্ছাকৃত, কখনো অনিচ্ছাকৃত। অনিচ্ছাকৃত ভাবে জোর করে যেটা হয় সেটারও একটা নাম আছে – ধর্ষণ।কিন্তু আমাদের সমাজে কখনো এটা শেখানো হয়নি যে স্ত্রীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে শারীরিক সম্পর্ক করাও ধর্ষণ! তাই শতকরা ৯৯% মহিলারাই এটা জানে না। তারা এটাকে স্বামীর অধিকার হিসেবে মেনে নেয়। কিন্তু আমি?
আমি কি করবো? ২ বছরের জন্য বিয়ে করা হয়েছে। বউয়ের স্বীকৃতি কি পেয়েছি? এই সমাজ কি আমাকে বউ বলে মানবে? আমিতো নিজেকে বিকিয়ে দিয়েছি।তাই আকাশের কাছ থেকে নিজেকে বাঁচানোর সবচেষ্টা ব্যর্থ হলে, রাগে,দুঃখে,আর শারীরিক যন্ত্রণায় চোখ ভাসিয়েছি। সেসব কিছুই আকাশকে স্পর্শ করেনি।
কোনোরকমে শাড়িটা গায়ে জড়িয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেই। শাওয়ার ছেড়ে ভিজতে থাকি প্রতিটি স্পর্শ মুছে দিতে। আমার কান্না এই চার দেয়ালে আটকে আছে। কত সময় ভিজেছি জানি না।দরজায় একটার একটা ধাক্কা দিয়ে যাচ্ছে আকাশ।
আরও বেশ কিছুক্ষণ পরে বেরিয়ে আসি। আকাশ অপলক চেয়ে আছে আমার দিকে। তার চোখে কিছু একটা আছে – তা আমার চোখ এড়ায় নি। কিন্তু কি আছে আমি বোঝার চেষ্টা করছি না। তবে এই দৃষ্টিতে এখন কাম নেই, সেটা বুঝতে না চাইলেও নারীর চোখ এড়ায় না।কি আছে আকাশের চোখে? প্রেম? নাকি অপরাধ বোধ?
আকাশের চোখে যাই থাকুক না কেন, আমার চোখে আছে একরআশ ঘৃণা!
– সরি।
খুব ক্ষীণস্বরে বললো আকাশ।
‘সরি’ তোর সরির গোষ্ঠী কিলাই! বজ্জাত! লুইচ্চা! খাটাশ!
আমি কোনো কথা বলার প্রয়োজন বোধ করছি না। মুখফুটে গালিও না।চুপচাপ শুয়ে পড়ি।
আকাশ বসে আছে। কিছু সময় বসে থেকে আকাশও শুয়ে পড়লো। আমি নীরবে কেঁদেই যাচ্ছি।

পরদিন সুমনা আর আমার বান্ধবী ইরা আসে।ওদের দেখে আমি খুব খুশি হই।সুমনা তো ভীষন খুশি। সারা বাড়ি ঘুরে ঘুরে দেখলো।
– আপু,এ দেখছি রাজপ্রাসাদ!আসলেই তোমার রাজ কপাল।সেজন্যই আকাশ ভাইয়ের মতো স্বামী পেয়েছো,একেবারে রাজপুত্র।
সুমনার কথা শুনে আমি মৃদু হাসি।কি করে সুমনা বলি এ আমার প্রাসাদ না,এ আমার জন্য নরক।
তখন ইরা বললো – কিরে, কেমন কাটলো বাসর?
– ধুর!
– ধুর কি? তোর জামাই খুব রোমান্টিক তাইনা?
– কিসব যাতা বলছিস।
– হুমম। যা দেখছি তাই বলছি।
– মানে? কি দেখছিস?
ইরা মুখটিপে হাসছে। আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।
– কি দেখেছিস?
– অইযে তোর গলায় রোমান্সের চিহ্ন!
বলেই ইরা, সুমনা একসাথে ফিক করে হেসে উঠে। লজ্জায় আমি কাচুমাচু করে গলায় হাত দিলাম। নেকলেসের ঘসা লেগে ছিলে গেছে। কাল বুঝতে না পারলেও সকাল থেকে জ্বালা করছে। কিন্তু সেটা যে ইরার চোখে পড়বে কে জানতো!
আমি বললাম – ধ্যাৎ, এটা নেকলেসের ঘষা খেয়ে ছিলে গেছে। কিন্তু ইরা… তোর জামাই খুবই…ই রোমান্টিক হবে।
– ওমা তাই? ইসস.. হাউ সুইট! ইরা খুবই আহ্লাদিত।
– তবে একটা কি জানিস? বিয়ের আগে যারা লুইচ্চা থাকে, অই বেটারাই বিয়ের রোমান্টিক নাম নেয়!
বলে আমি মুখটিপে হাসছি।
ইরা চোখ পাকিয়ে কিছু বলতে যাচ্ছিলো তখনই আকাশ হাজির।
– আরে আমরা শ্যালিকারা দেখি হাজির।
– জি আমরা হাজির। আমার বান্ধবীকে নিয়ে আসছেন। এখন আপনাদের ধরে নিতে আসছি।
– হুম। বুঝলাম।কিন্তু সমস্যা একটা আছে।
– কি সমস্যা?
– আসলে অফিসে অনেক কাজ পড়ে আছে। আজকে তো যেতে পারবো না।কাল শুক্রবার। তোমরা আজকে থাকবে, কাল একসঙ্গে যাবো।
– আচ্ছা ঠিক আছে।
ইরা আর সুমনা থেকে গেল। আজ আকাশ খুবই স্বাভাবিক ব্যবহার করছে। ওদের সাথে অনেক গল্প করলো। আমি আগের আকাশ আর আজকের আকাশের মধ্যে কোনো মিল খুঁজে পাচ্ছি না। কত রূপ এই মানুষটার??

পরদিন মামার বাসায় গেলাম। আকাশও সারাদিন আমাদের সাথেই ছিলো। মামার সাথে আলাদা কথা বলবো সেই উপায় নেই। আকাশ ভাবছে হয়তো আমি কিছু জানিয়ে দিবো।তাই কিছুতেই একা ছাড়ছে না।
আমি তো এমনিতেই কিছু বলবো না। সবাই ভালো থাকুক।বলে কি হবে? সবাই অযথা চিন্তা করবে, মামা আরও অসুস্থ হয়ে পড়বে। আমি তখন আকাশকে বললাম – চিন্তা নেই। কাউকেই কিছু বলবো না।
একটু হেসে আকাশ বললো – আমি জানি তুমি বলবে না।কিন্তু সবাই বুঝুক আমি কত বউ পাগল!
আমি অবাক চোখে দেখছি।
– আপনি আসলে কি আমি বুঝতে পারিনা। অদ্ভুত মানুষ!

আমার রুম আকাশ খুব মনোযোগ দিয়ে ঘুরে দেখে।আমার প্রতিটি শখের জিনিস দেখে।
আমার অনেক শখের একটা ছোট্ট লাইব্রেরী আছে। টিউশনির টাকা থেকে প্রতি মাসে কিছু বই কিনতাম। আকাশ আমার বইগুলো দেখছে।
– শেক্সপিয়র থেকে শুরু করে নজরুল, হুমায়ুন… বাহ! বেশ ভালো তো! তুমি তো অনেক বই পড়তে পছন্দ করো দেখছি!
আবার কবিতার বইও দেখছি!
এই,তুমি কি কবিতাও পড়ো নাকি?
– হা পড়ি।কেন?
আকাশ কিভাবে যেন তাকিয়ে আছে আমার দিকে।
– তুমি… সিরিয়াসলি তুমি কবিতা পড়ো?
– হা,বললাম তো পড়ি। কেন কি হয়েছে তাতে?
– এ যুগের মেয়ে হয়েও তুমি কবিতা পছন্দ করো সেটাই অবাক লাগছে।
– অবাক হবার কি আছে? সবার পছন্দ তো এক রকম হয় না।আমি শেক্সপিয়র পড়েছি,ওয়ার্ডসওয়ার্থ, শেলি,জন ডন,ফ্রস্ট পড়েছি ; উনাদের পড়ে যত মুগ্ধ হয়েছি; রবীন্দ্র- নজরুল, শরৎচন্দ্র পড়ে মোহিত হয়েছি।
ওসব আপনি বুঝবেন না।কারণ আপনার আমার পৃথিবী আলাদা।আমাদের দুই পৃথিবী।
আকাশ খুব মনোযোগ দিয়ে শুনলো আমার কথা।

অফিসের ব্যস্ততা দেখিয়ে বিকেলেই আকাশ আমাকে নিয়ে ফিরে আসে।
আকাশে আজ মেঘ করেছে,তার সাথে বেশ শীতল করা বাতাস।
শেষ বিকালে আমি ছাদে চলে আসি।হাতের মোবাইলে পছন্দের একটা গান প্লে করে পাশে রেখে আকাশে মেঘ দেখছি।

“মেঘ পিয়নের ব্যাগের ভেতর
মন খারাপের দিস্তা
মন খারাপ হলে কুয়াশা হয়,
ব্যাকুল হলে তিস্তা।
মন খারাপের খবর আসে
মন খারাপের খবর আসে
বন পাহাড়ের দেশে
চৌকোনো সব বাক্সে
যেথায় যেমন থাকসে
মন খারাপের খবর পড়ে দাড়ুন ভালবেসে।

মেঘের ব্যাগের ভেতর ম্যাপ রয়েছে মেঘ পিওনের পাড়ি
পাকদন্ডী পথ বেয়ে তার বাগান ঘেরা বাড়ী।
বাগান শেষে সদর দুয়ার,
বারান্দাতে আরাম চেয়ার
গালচে পাতা বিছানাতে ছোট্ট রোদের ফালি
সেথায় এসে মেঘ পিয়নের সমস্ত ব্যাগ খালি”

……
আকাশ এসে পাশে দাঁড়িয়েছে।ওকে দেখেও কিছু বললাম না।
– খুব সুন্দর তো!
– কি?
– কি সুন্দর বাতাস মেঘ কেটে কেটে যাচ্ছে, তার সঙ্গে এমন একটা গান! বেশ অন্যরকম।
– আগে কখনো মেঘ দেখেননি বুঝ?
– দেখবো না কেন? তবে এভাবেও দেখা যায় জানতাম না।
– হুম। আমি দেখি।আকাশে মেঘ করলে বেশ আয়োজন করে মেঘ দেখি।

এমন সময় আকাশে একটা ফোন আসে।
– হ্যালো
কি কথা হলো বুঝতে পারলাম না। আকাশ ফোন টা রেখে দিলো। কিন্তু ওর চোখমুখে ভয়ংকর একটা কিছু দেখতে পাচ্ছি। আকাশ এখানে দু’মিনিটের বেশি আর দাঁড়িয়নি।চোখমুখ লাল করে চলে যায়। আমি হঠাৎ ওর এমন চেহারা দেখে ভয় পেয়ে গেছি।

চলবে……

 

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *