রোমান্টিক ডিভোর্সি বউ vs অহংকারী ছেলে। Romantic valobasar golpo 2019

রোমান্টিক ডিভোর্সি বউ vs অহংকারী ছেলে
(লেখক সালমান হাসান অপি)
(পার্ট১)

ভাইয়া এই ভাইয়া উঠ ঘুম থেকে উঠবিনা..
আমি:হুম উঠতাছি এতো চিল্লাতাছোস কেন??
আম্মু:ডাকে তোমারে তোমার জন্য বউ দেখছে?
আমি:কি আগে কয়বোনা এতো ভালা একটা খবর কয়তাছোস তোরে মন চাইতাছি কুলিয়ারচর নদী থেকে চুবাইয়া আনতে??
-ওই তুমি কি বল্লা দেইখো ভাবি তোমারে চুবাইবো আমার অভিশাপ রইলো??(এই বলে দৌড়)
আমি:ওই কি বল্লি দাড়া বলছি যাস না!!
কে শুনে কার কথা সুজা পালাইলো!!
যাইহোক আমার বিয়ে যা খুশি লাগতাছেনা কত দিনের ইচ্ছা পূরণ হবে আহা বিয়া যে কত মজা খালি খাওন আর খাওয়ান,!!
নিছে গেলাম একটা ভাব নিয়ে!!
গিয়ে তো আমি পুরা অবাক বাসাতে সব মেহমান
হাজির কথা নাই বার্তা নাই এতো মেহমান কেন!!
আমি:আপু কিরে বাসাতে এতো মানুষ কেন??
আপু:কাল তোর বিয়ে??
আমি:কি কাল আমার বিয়ে আর আমি জানিনা??
আপু:তো কি হয়ছে এখন তো জানছিস??
আমি:এইটা কি হয়তাছে!
কিছু মেহমান রা বলা বলি করতাছে মেয়ে টা ডিভোর্সি হলে অনেক ভালো একটা মেয়ে দেখতে অনেক টা সুন্দর এটাই আর এক জায়গাতে বিয়ে হয়ছে!!!
আমি:এই আন্টি আংকেল রা আপনারা কোন মেয়ের কথা বলতাছেন আমি কি জানতে পারি??ওরা:কেন যার সাথে তোমার বিয়ে ঠিক হয়ছে সেই মেয়ের কথা??
আমি:কিহহহহ😒😒
সুজা আম্মুর কাছে চলে গেলাম।
আমি:কি হয়তাছে আম্মু এই সব??
আম্মু:কি আবার তোর বিয়ে আয়োজন হয়তাছে!!
আমি:কার সাথে বিয়ে??
আম্মু:কার সাথে আবার মেয়ের সাথে বিয়ে?
আমি:হুম বোঝলাম কোন মেয়ে?চিনিনা জানিনা দেখি নাই??
আম্মু:তোর দেখা লাগবোনা মেয়ে অনেক ভালো দেখতে সুন্দর তোর আব্বুর অফিসে কাজ করে??
আমি:তো আমি কি করবো আর ওরা কি বলতাছে এই সব??
আম্মু:কি বলতাছে??
আমি:মেয়ের নাকি আগে বিয়ে হয়ছে একবার ডিভোর্সি??
আম্মু:হয়ছে তো এটা অনেক বড় কাহিনী কিন্তু মেয়ে টা অনেক ভালো ওর মন টা ও ভালো দেখতে ও ভালো???
আমি:এতো ভালা দিয়া কি করবো হুম, আমি এই বিবাহিতা মেয়ে কে বিয়ে করতে পারবোনা কোন দিক দিয়ে আমার কম আছে যে ডিভোর্সি মেয়েকে বিয়ে করা লাগবো???
আম্মু:দেখবি একদিন তুই ওকে ছাড়া থাকতে পারবিনা এতোটা ভালো লাগবে তোর কাছে??
আমি:কিহহহ এই অপি চৌধুরীর ভালো লাগবে জিবনেও না এই সব থার্ডক্লাস মেয়েদের আমি বিয়ে করতে পারবোনা??
আব্বু:কি বল্লি তুই, তুই বিয়ে করবিনা তোর বাপে সহকারে বিয়ে করবে??
আমি:(মনে মনে আপনি তো আগেই বিয়ে করছেন এখন আবার একটা করার ইচ্ছা আছেনি)আমি আব্বু কেন এই মেয়েকে বিয়ে করা লাগবে আরো ভাল মেয়েতো বিয়ে করতে পারবো?
আব্বু:এই মেয়ে তোর জন্য পারফেক্ট এর থেকে ভালো মেয়ে আর নাই??
আমি:আরে কিসের কম আছে আপনার যে ডিভোর্সি মেয়ের সাথে ছেলের বিয়ে দিতাছেন এতো টাকা পয়সা কিসের জন্য??
আব্বু:সব আমার বউমার জন্য আর তুই যদি এই বিয়ে না করিস তোর সব খরচ টরচ যা কিছু আছে সব বন্ধ??
আমি:হোক তারপর ও করবোনা?
আব্বু:দেখ বেশি চিন্তাই ফেলিস না আমায় এমনি তে একবার হার্টএট্যাক করছি এবার কিন্তু মারা যাবো বেশি চাপে রাখলে???
আপু:তুই কি চাস আব্বুর কিছু হোক??
আমি:না (মুখ টা মলিন করে উপরে চলে আসতে লাগলাম)
আপু:কাল বিয়ে টা করবি ফাইনাল??
আমি:হুম!!
আরে আমার তো পরিচয় দিতে ভুলে গেলাম আমার নাম কি তো জানেন ওই আবার ও বলি!!
আমি অপি চৌধুরী, আমরা ২ভাই ২বোন,
বড় আপুর বিয়ে হয়ে গেছে ছোট আপুর জন্য জামাই দেখা শুনাতে আছে,, তাকে রেখেই আমাকে হালাল করতাছে একটা ডিভোর্সি মেয়ে
সাথে আর আমি তো কিছু করিনা ঘুরি আর খাই,, দাই বেটাগিরি তা দেখাইতাছে আমার ও সময় হোক বলেন তো মানুষে শুনলে কি কয়বো যে অন্যের বউ কে নিয়া ঘুরি,,,,,,
দেখতে দেখতে বিয়ে টা হয়ে গেলো আমি এখনো বউয়ের নাম কি এটাই জানিনা আর জানতে কোনো ইন্টারেস্ট নাই,,
বারান্দা তে দাঁড়িয়ে আছি অনেক্ষণ ধরে!!
আপু:কিরে ভিতরে যাস না কেন??
আমি:হুম যাইতাছি তো??
আপু:যা জলদি!!
আমি:হুম গেলাম!!
গিয়ে দেখি ভিতরে বসে বউ বিশাল ঘোমটা দিয়ে যাওয়া মাত্রয়!
নিচে নেমে আসলো আমাকে সালাম করতে!!!
আমি:ওই কি করছেন এই সব??
বউ:কেন সালাম করতাছি??
আমি:একদম না আমি আপনাকে মানিনা??
বউ:মানেন না মানে তাইলে বিয়ে করতে এতো পাগল হয়ছিলেন কেন??
আমি:হুম তবে আপনার মতো ডিভোর্সি মেয়ে কে না?
বউ:এখন বিয়ে হতে গেছে এতো কিছু ভেবে লাভ নাই আমি আপনার বউ আপনি আমার স্বামী(এই বলে আমাকে জড়িয়ে ধরলো)
আমি:ঠাসসসসসসসসসসসসসসসসসসসসসস
ওই তোর সাহস কত বড় তুই অপি চৌধুরীকে জড়িয়ে ধরিস??
বউ:তাই বলে মারবেন??
আমি:হুম মারবো তুই যদি কোনোদিন আমাকে জড়িয়ে ধরিস তোর খবর আছে আমার কোনো পারসোনাল জিনিশে বা আমার কোনো কিছুতে তুই হাত দিবিনা আমি তোকে কোনোদিন ও মানতে পারবোনা তোর সাথে যে আব্বু আমাকে কিসের জন্য বিয়ে দিছে নে ধর গিয়ে ফ্লোরে শুয়ে থাক??
বউ:(কান্না করে) ফ্লোরে থাকবো কি ভাবে??
আমি:তো কোথাই থাকবি??
বউ:খাটে তে?
আমি:থাপ্পড় দিয়া দাত সব ফেলে দিবো ওই খানে আমি থাকবো তুই ফ্লোরে তে থাকবি আর কোনো কথা নাই…………………….
বউ:হুম!!
আমি গিয়ে উপরে শুয়ে পড়লাম জানি মেয়েটার প্রতি এমন আচরণ করা টা ঠিক হয়নি কিন্তু কিছু করার নাই!
বউ:আল্লাহ তুমি আমাকে কেন এই ভাবে জন্ম দিলা হুম?কান্না করতে করতে মনে মনে বলতাছে!!
আমি:(মনে মনে)আমার কপালে কিনা এমন একটা বউ জুটলো দূর মানুষে হারামি বন্ধু গুলা কি ভাব্বে যে বলবে বিবাহিতা মেয়ে বিয়ে করছোস!!
আর এই সব ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম ঠিক মনে নাই!!
সকালে কারো কোমল স্পর্শে ঘুম টা ভেঙে গেলো
ছেয়ে দেখি এক অপরুপ অপ্সরী আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে লাল শাড়ি লাল চুড়ি লাল লিপিস্টিক পুরাই ওয়াও আমি তো হা হয়ে আছি!!
মেয়েটা: ওই কি দেখতাছেন হুম এই ভাবে,, নেন চা আপনার??
আমি:আয়ায়ায়ায়ায়া আপনি কে আর আমার রুমে কি হুম??
মেয়ে:কে মানি আমি জান্নাত?
আমি;(হাই আল্লাহ জান্নাতের হুর এই খানে কেন আসছে মনে মনে) তো,, আপনি আমার রুমে কেন আসছেন?
জান্নাত:আমি আসবো নাতো কে আসবে??
আমি:মানে??
জান্নাত:আরে আমি তো আপনার বউ নেন চা টা খেয়েনেন??(আমার হাতে দিয়ে বাড়িয়ে)
আমি:সাথে সাথে মন খারাপ হয়ে গেলো দূর এতো একটা সুন্দরি মেয়ে কিনা ডিভোর্সি তাও আবার আমার বউ!!!!!!
জান্নাত:নেন চা টা খান??
আমি:টাসসসসসসসসস
আরে আপনারা কি ভাবতাছেন আমি থাপ্পড় দিছি না চা’র কাপ টা ফেলে দিছি, ওই তোকে কে বলছে আমার জন্য চা নিয়ে আসতে আমি তোর হাতের চা খাবোনা যা ভাগ এই খান থেকে(রাগি স্বরে)
জান্নাত:সরি (কান্না করতে করতে চলে গেলো)।
আমি চলে গেলাম ফ্রেশ হতে আসলে মেয়ে টা দেখতে অনেক সুন্দর কিন্তু ডিভোর্স কেন দিলো আগের স্বামী কে জানে কি বউ আমার কপালে জুটলো!
ফ্রেশ হয়ে নিচে গেলাম খাইতে!
দুলাভাই:শালাবাবু ঘুম থেকে উঠতে মন চাইনা বুঝি নতুন বউ পেয়ে সব ভুলে গেলা??।
আমি:(লজ্জাই তো পুরা লাল)দুলাভাই আপনি যে কি বলেন এই সব!!
বড় আপু:ওই তুমি এতো কথা বলো কেন হুম চুপ চাপ খাও বল্লাম?।
আমি:হুম দেখনা আপু দুলাভাই কি?
আপু:হয়ছে বউ পাগলার আর কথা বলা লাগবোনা?।
আমি:কি, তুই এতো বড় কথা টা বলতে পারলি আমি কি শুধু বউ পাগলা (ওই দিকে ছেয়ে দেখি জান্নাত রহস্যময় হাসি দিছে একটা)।
আপু:হুম তাইতো??
আমি:আমার ও সময় আসবো তখন দেখবি আমি কি চিস??।
আব্বু;কি হয়তাছে এই খানে??
আমি:(মনে মনে হিডলার আইসা পড়ছে)আমি কয় কিছু নাতো আব্বু!!
আব্বু:তাইলে সবাই খাওয়া শুরু করো!!
আম্মু:মা জান্নাত তুমি ও বসে পড় খাইতে??
জান্নাত: না মা আপনারা সবাই আগে খান তারপর আমি পরে খাইবো??।
আব্বু :নারে মা তুই আই আমাদের সবার সাথে খাইবি এখন থেকে তো তুই এই বাড়ির অন্য কেও নয় পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ একজন???।
আম্মু:হুম মা আসো বসো খাইতে!!
তারপর আমরা সবাই এক সাথে খাইতে লাগলাম আমি ওর দিকে খেয়াল করলাম ও আমার দিকে তাকিয়ে ছিল তাই আমি তাড়াতাড়ি খেয়ে উপরে চলে আসলাম।
তারপর বিকালে ঘুরতে গেলাম বন্ধুদের সাথে!!
হাকিম:কিরে হারামি তুই বিয়ে করলি ভালো করে একবার জানাইলি ও না ভাবি ছারেনা বুঝি??।
আমি:কয় জানাইলাম না তুই গেছিলিনা আর দেখ এই সব বিয়ে টিয়ে আমি মানিনা??।
হাকিম:কেন মানছিস না বিয়ে করবি বিয়ে করবি বলে তো এতোদিন মাতা খেয়ে ফেলছিলি এখন কি হলো আর ভাবি দেখতে তো মাশাল্লা পরীর মতো??।
আমি:(না ওদের কে সব খুলে বল্লে পচাইবে)আমি না কিছু না চল আড্ডা দেই!!
হাকিম:হুম!!
তারপর ওদের সাথে আড্ডা দিতে দিতে রাত ১১টা বেজে গেলো!!
এমনি ফোন টা ভেজে উঠলো!!
আমি:হেলো!!
আব্বু:কিরে হারামজাদা তুই কয়??(রাগি স্বরে)
আমি: এই তো আব্বু বন্ধুদের সাথে?
আব্বু:তুই তাড়াতাড়ি বাসাতে আশ ১মিনিটের ভিতর নতুন বউ রেখে তোর আড্ডা মারা বাহির করতাছি???।
আমি:জি আব্বু আসতাছি!!
দূর শালা বিয়ে করেও আর এক ঝামেলা তে পড়লাম আগে রাত ২টা পর্যন্ত বাহিরে থাকলে ও আব্বু জানতো না আগে!!
বাসাতে গিয়ে দেখি জান্নাত খাবার টেবিলে বসে আছে!!
আমি:কি বেপার এই খানে কেন??
জান্নাত:আপনার জন্য বসে আছি আপনি বসেন আমি খাইতে দেই??
আমি:না খাবোনা আমি??
জান্নাত:দেখেন আব্বু কিন্তু উপরে থেকে দেখতাছে??।
উপরে ছেয়ে দেখি সত্যি তো!!
আমি:হুম দাও তুমি খাইছো??
জান্নাত: না আপনি খান নাই আগে খেয়ে নেন তারপর??।
আমি:আরে না আসো ২জন এক সাথে বসে খাবো(এই বলে ওর হাত টা যখন টেনে ধরে টেবিলে বসাইতে লাগলাম তা দেখে ও তো পুরা অবাক)
জান্নাত:আগে আপনি খান??
আমি:আরে বসো তো তোমাকে একা রেখে কি আমি খাইতে পারি??
এরপর ২জন এক সাথে বসে খাইতে লাগলাম ছেয়ে দেখলাম আব্বু ও খুশি লাগতাছে!!
খাওয়া শেষ করে করে ওর হাত ধরে আমার সাথে করে ওকে নিয়ে গেলাম রুমে!!
আমি:ঘুমিয়ে থাকো?
জান্নাত:হুম,
তারপর ও ফ্লোরে গিয়ে ঘুমিয়ে থাকলো!!!
আর আমি যে কখন ঘুমে পড়লাম ঠিক মনে সকালে আমার বুকে কিছু একটা শুয়ে থাকার
আভাস লাগতাছে অনেক টা ওজন অনেক শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে!!!
ছেয়ে দেখি জান্নাত আমাকে জড়িয়ে ধরিয়ে শুয়ে আছে বাহ কি সুন্দর মায়াবী চেহারা কিন্তু ওকে আমার সহ্য হয়না কেন!!
এই ঊঠো এই উঠো
ঠাসসসসসসসসসসসস
এই উঠতে বল্লাম উঠিস না কেন তোর এতো বড় সাহস তুই আমাকে জড়িয়ে ধরে আছিস কাল একটু হাসি খুশি কথা বলছি বলে তুই আজ জড়িয়ে ধরছিস??।
জান্নাত:আসলে কাল রাতে অনেক শীত করতে ছিল আর শরীল টা ভালো লাগতাছিল না তাই খাটের এক কোনাতে শুয়ে ছিলাম আর কখন যে আপনার উপরে চলে আসছি সত্যি জানিনা বিশ্বাস করেন??।
আমি:হুম বিশ্বাস করলাম তোর মতো মেয়েদের আমি ভালো করে চিনি!!!
এই বলে ফ্রেশ হতে চলে গেলাম!! আর দেখতে দেখতে ৩দিন হয়ে গেলো আর ওকে প্রায় সময় বিনা কারণে অপমান করি আর ও সব কস্ট অপমান গুলা মেনে হাসি খুশি আমার পাশে থাকতে চাই।
কি বেপার বোঝলাম না ওর বাসা থেকে নিতে আসলো না কেও বেপার কি নতুন বউকে আর জামাইকে তো নিতে আসে কি জানি !!
যাইহোক আমার জন্য ভালোই হয়ছে ওই খানে না যাওয়াতে!!
নিছে গিয়ে দেখি সবাই বসে আছে আর জান্নাত রান্না করতাছে!!
আব্বু:অপি কাল থেকে তুই অফিসে যাবি??
আমি;কি আমি কি ভাবে যাবো পারবোনা??
আব্বু:তো কি করবি সারাদিন খালি ঘুরাঘুরি আমি আজ আছি তো কাল নাই তুই কাল থেকে সামলাইবী বাবা??
আমি:কিন্তু আমি তো কিছু জানিনা বুঝিনা??
আব্বু:আচ্ছা আমি ম্যানেজার কে সব বলে দেয়??
আমি:আব্বু ম্যানেজার কি করবে ওনারে দিয়া আমি সব কিছু করতে পারবো??আপু:তাইলে জান্নাত কে নিয়ে যা আর ও সব জানে অফিসের বেপারে??
আব্বু:হুম ঠিক কয়ছোস মা তুই কাল থেকে তোর সাথে জান্নাত কে নিয়ে যাবি??
আমি:না ওকে আমি নিবোনা?
আব্বু:দেখ ও যারা তোকে আর কেও তেমনি ভাবে সাহায্য করতে পারবোনা?
আমি:(মনে মনে হুম এইতো সুযোগ যখন অফিসে ও অপমান করবো ঠিক তখনি ও নিজে থেকে চলে যাবে)আমি ঠিক আছে!!
আব্বু:মা জান্নাত কাল থেকে তুমি অপির সাথে অফিসে যাইবা??
জান্নাত:জি বাবা!!!
১দিন বুংবাং করে কেটে গেলো পরের দিন সকালে অফিসে যাইতে বাহির হয়বো বাহ কি সুন্দর একটা পরী আমার সাথে আসতাছে বাট আমার সে অন্য কারোর আগের পরী ছিল!!
অফিসে যাওয়া মাত্রয়!!
দারোয়ান :শুভ সকাল স্যার আর মেডাম!!
আমি:হুম।
দারোয়ান :স্যার আপনাকে আর মেডাম কে সেই মানাইছে পারফেক্ট ম্যাচিং?!!
আমি:হয়ছে বলা যা তোর কাজে!!
শিড়ি দিয়ে যখনি উপরে উঠতেছি এমনি জান্নাত পা পিছলে সুজা আমার উপরে এসে পড়লো বাহ আমার যে কি ফিলিংস লাগতাছে সেই ফিলিংস ও আমার উপর পরে আছে আর আমি নিছে চোখে আমার চোখ পড়ে গেলো কি মায়াবি চোখ যে কেও এই চোখের মায়াতে পড়ে যাবে!!
ঠাসসসসসসসসসসসসস
ওই এতো টা কেয়ারলেস কেন হুম যদি একটা কিছু হয়ে যাইতো আমার তখন আজাইরা যত্তসব!!।
এই বলে যখনি আমি উপরে গিয়ে ভিতরে গেলাম!!
এমনি সবাই বলে উঠলো।
ওরা: God bless sir আপনার আর মেডামের জন্য শুভ কামনা রইলো যে সারাজিবন আপনারা এক সাথে এই ভাবে থাকতে পারেন???
আমি:অনেক অনেক ধন্যবাদ!!!!
তারপর কেবিনে গিয়ে জান্নাত আমাকে বুঝিয়ে দিতে লাগলো আর বুঝলে ও না বুঝার ভান ধরে ওকে ঝারি বকা ঝকা দিতে থাকি!!
তো অফিস শেষ করে বাসাতে যাইতে বাহির হয়লাম জান্নাত ও বাহির হয়লো!!
আমি:ওই তুই এই গাড়িতে উঠিস কেন হুম??
জান্নাত:তাইলে আমি কি দিয়ে যাইবো??
আমি:রিক্সা দিয়া যা!!
জান্নাত:আচ্ছা!! (কান্না মাখা কন্ঠে)
আমি না ও যদি আবার পরে যাই তাইলে আবার আব্বু আম্মু জবাবদিহি যাইবো পরে আবার আর এক ঝামেলাতে পড়বো!!
আমি:ওই আই পরে আবার তোর জন্য আব্বুর হাতে বকা খাইবো উঠ??
জান্নাত:জি!!
তারপর বাসাতে গেলাম!!
আম্মু:কিরে অফিস কেমন কাটলো??
আমি:হুম অনেক ভালো!!
এই বলে ফ্রেশ হয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম রাতে খাবারের জন্য জান্নাত ডাক দিলো!
জান্নাত:এই যে উঠেন খাইতে??
আমি:না খাইবোনা তুই যা!!
জান্নাত:আরে রাতে না খাইলে ভালো না উঠেন??
আমি:না যা!!
জান্নাত:ওই উঠেন তো(আমার শরীলে হাত দিয়ে)
আমি:ধাক্কা দিয়ে ওকে ফেলে দিলাম কথা কানে যাইনা যা সর বলছি না খাইবোনা শুয়ে থেকেই!
তারপর ও চলে গেলো,
আর আমি কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম!!
কিন্তু হঠাৎ মাজ রাতে ঘুম ভেঙে গেলো উঠে দেখি জান্নাত নাই কি বেপার ও কোথাই গেলো কোথাও আবার পালিয়ে গেলো নাতো যাক তাতে আমার কি আমার তো আরো ভালো তাইলে হঠাৎ খেয়াল করলাম বারান্দা থেকে কান্নার আওয়াজ আসতাছে কি বেপার কাঁদবো কে এতো রাতে গিয়ে দেখি জান্নাত তাহাজ্জদের নামাজ পড়তাছে নামাজ শেষ দোয়া করতাছে আমি চুপি চুপি ওর পিছে গিয়ে দাঁড়াইলাম ও দোয়া টা এমন করতাছে!!
জান্নাত:আল্লাহ তুমি কেন আমারে এই দুনিয়াতে পাঠাইলা জন্মের পর মা বাবার ভালবাসা পাইনাই অনাথ আশ্রমে বড় হয়ছি কারো কাছে জিবনে ভালবাসা কি জিনিশ তাও পাইনাই যাও একজনের সাথে প্রথম বিয়ে টা হয়ছে…

চলবে……………………………………….

২য় পার্ট রোমান্টিক ডিভোর্সি বউ  

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *