রোমান্টিক প্রতিশোধ Part_1

#রোমান্টিক প্রতিশোধ♥ Koster valobasar Golpo

পার্ট ১

লিখাঃ অদ্রিত ইশরাত

–ঠাসসস ঠাসসস।ঐ কুওার বাচ্চা তোর সাহস হলো কি করে আমার সাথে একই বিছানায় বসতে?(আরহী)

—তুমি ত আমার বউ।আমি সম্পূর্ণ অধিকার আছে তোমার পাশে বসতে।(আমি)

—হাহাহাহাহা।

—হাসতেছ কেন?

—বউ???কে তোর বউ?

—কেন?তুমি।

—তুই ভাবলি কি করে আমি তোর মতো একটা ফকিন্নির বাচ্চাকে আমার স্বামী হিসাবে মানব?

—তাহলে আমাকে বিয়ে করলে কেন?

—প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য।

—কিসের প্রতিশোধ?

—তুই ভার্সিটির আমার সাথে যা করেছিলি তার জন্য ত তোকে শাস্তি দেওয়া হয় নেই।তাই প্রতিশোধ নিলাম।

—তার মানে তুমি আমার উপর প্রতিশোধ নিচ্ছ?

—প্রতিশোধ এখনও নিলাম কোথায়?সামনে দেখবি তোর সাথে আমি কি কি করি।এখন চুপচাপ নিচে গিয়ে শুয়ে পর আর একটা কথাও বলবি না আমি এখনও ঘুম আসব।
.
কি আর করার বড়লোকের মেয়েকে বিয়ে করলে যা হয় আর কি তাই হলো আমার সাথে।আপনারা হয়ত ভাবছেন কি হলো আমার সাথে?
.
চলেন তাহলে আপনাদের শুরু থেকেই বলি।আমার নাম সাগর।যখন আমি দশম শ্রেণিতে পড়ি তখন আমার বাবা মারা যায়।আমরা মধ্যবিত্ত পরিবার ছিলাম আর বাবাই আমাদের সংসার চালাত।
.
তাই বাবার মৃত্যুর পর আমাদের খারাপ দিন শুরু হয়ে গেল।বাবার মৃত্যুর পর মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে আমাদের দুই ভাই-বোনকে বড় করতে লাগল।বাবার মৃত্যার সময় আমার ছোট বোনটা মাত্র পাঁচ বছরের।
.
আমাদের এমন অবস্থা দেখে আমি পড়ালেখা ছেড়ে কোন কাজ করতে চেয়েছিলাম কিন্তুু মা আমাকে পড়ালেখা ছাড়তে দেয় নেই।মা সেইদিন বলেছিল যত কষ্টই হোক না কেন কখনও পড়ালেখা ছাড়বি না।
.
পড়ালেখা করে বড় হলে আর আমাদের দুঃখ থাকবে না।তাই পড়ালেখার পাশাপাশি আমি কিছু কাজও করতাম।যাতে মাকে একটু কম কষ্ট করতে হয়।
.
দেখতে দেখতে আমি ইন্টার শেষ করে ভার্সিটিতে ভর্তি হলাম।ভার্সিটিতে প্রথমদিন আমি আমার ক্লাসে যাচ্ছিলাম তখন হঠাৎ করেই কোথা থেকে যাবি একটা মেয়ে এসে আমার সাথে ঠাক্কা খেল।
.
—ঠাসসস ঠাসসস।ঐ ছোটলোকের বাচ্চা তুই আমাকে ঠাক্কা মারলি কেন?(মেয়েটি)

—আমি ত ঠাক্কা মারি নেই।আপনিই ত আমাকে ঠাক্কা মারলেন।(আমি)

—ঠাসসস ঠাসসস।কত বড় সাহস আমার মুখে মুখে কথা বলিস।দেখে ত মনে হয় কোন ক্ষেতের থেকে উঠে এসেছিস।

—দেখেন ভাল মতো কথা বলুন।

—বলব না।কি করবি তুই?

—আপনাকে দেখে ত মনে হয়ে আপনি কোন বড়লোক ঘরের মেয়ে।কিন্তুু আপনার কথা শুনে ত মনে হচ্ছে না আপনি কোন সভ্য ঘরের মেয়ে।

—কি তুই আমাকে অসভ্য বললি?ঠাসস ঠাসস।

—ঠাসসস ঠাসস।সেই কখন থেকে দেখছি আপনি বিনা কারণে আমাকে মেরে যাচ্ছেন।আমি আপনাকে কিছু বলবি না দেখে আপনার যা ইচ্ছে আপনি আমার সাথে তাই করতে পারেন না।

—তোর কতবড় সাহস তুই আমাকে ঠাপ্পর মারলি???

—বেশ করছি মেরেছি।দরকার পরলে আরও মারব।

—তোকে আমি দেখে নিব।

—আমি এই ভার্সিটিতেই আছি।যত ইচ্ছে দেখে নিয়েন।
.
মেয়েটি আমার সামনে থেকে চলে গেল।আমিও আমার ক্লাস খুঁজে আমার ক্লাসে চলে আসলাম।আমার ক্লাসে এসে আমি বসে রয়েছি।সবাই আমাকে দেখে হাসছে।
.
তারা কেন হাসছে তা আমিও জানি।তারা হাসছে কারণ আমার পোশাক দেখে।এখানে যারা আছে সবাই বড়লোক।সবাই ভাল ভাল পোশাক পরে এসেছে।কিন্তুু আমি ওদের মতো বড়লোক না তাই আমি সাধারণ পোশাকই পরে এসেছি।
.
আমি ক্লাসে ডুকে একজনের পাশে বসতেই সে নাক ধরে এমন ভাব করল যে আমার শরীর থেকে হয়ত দুগন্ধ বের হচ্ছে।সে নাক ধরে অন্য সিটে গিয়ে বসল।আর বলতে বলতে গেল কোথা থেকে এই ক্ষেতটা এসেছে রে?
.
ছেলেটির কথা শুনে সবাই হাসতে লাগল।আমি মাথা নিচু করে বসে রইলাম।তাছাড়া আমি আর কি বা করব?আমি ত ওদের মতো বড়লোক না যে ওদের কথার উল্টো জবাব দিব।
.
একটু পর সেই মেয়েটি আমাদের ক্লাসে ডুকল।ক্লাসে আমাকে দেখে মেয়েটির অনেক রাগ হলো সেইটা মেয়েটির চেহারা আর চোখ দেখেই বুঝা যাচ্ছে।
.
কারণ মেয়েটির চোখ আর চেহারা লাল হয়ে গেছে।ক্লাসের সকল বেঞ্চে সবাই বসে পরেছে।শুধু আমার বেঞ্চটি খালি ছিল তাই মেয়েটি আমার পাশে এসে বসল।
.
একটু পরে ক্লাসে স্যার আসল।মেয়েটি আমার উপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তার জোতা দিয়ে আমার পায়ে পারা দিল।ব্যাথায় আমি চিৎকার করে উঠলাম।
.
আমার চিৎকার শুনে একজন জিজ্ঞাস করল কি হয়েছে আর একজন বলে উঠল যে কাপড় পরে এসেছে সেইটা হয়ত চুলকাচ্ছে শত হলেও মিস্টার ক্ষেত।
.
ক্লাসের সবাই হাসতে শুরু করল।তাদের সাথে মেয়েটিও হাসতে লাগল আর আমি মাথা নিচু করে বসে রইলাম।আমার যে কোন কিছু বলার অধিকার নেই।কারণ আমি গরিব।
.
আমি মাথা নিচু করে ক্লাস করতে লাগলাম।স্যার একে একে সবার পরিচয় জানতে চাইল।তখন জানতে পারলাম মেয়েটির নাম আরহী।ক্লাস শেষ করে যখন বের হয়ে আসচ্ছিলাম তখন আবার আরহীর সাথে ঠাক্কা লাগে।
.
—ঠাসস ঠাসসস।ঐ ছোটলোকের বাচ্চা দেখে চলতে পারিস না?সব সময় শুধু আমার গায়ে উপর এসে পরিস কেন?(আরহী)

—আরে তুই বুঝিস না কেন ঐ এমন করে?(প্রিয়া। আরহীর বান্ধুবী)

—কেন রে?

—যাতে তোর থেকে টাকা নিতে পারে।তোকে ত বড়লোক দেখেছে।

—তুই একদম ঠিক বলেছিস।এই সব ফকিন্নির বাচ্চারা বড়লোক মেয়েদের দেখলেই তাদের পিছনে পিছনে ছুটে।বাবা-মা মনে হয় কিছু শিখায় নেই।

—শিখিয়েছ ত।কিভাবে বড়লোকদের থেকে টাকা চাইতে হয়।(কথাটা বলেই সবাই হাসতে লাগল)

—দেখেন আমাকে যা কিছু বলার বলেন কিন্তুু আমার মা-বাবার বিষয়ে কিছু বলবেন না।তাছাড়া তখন আর এখন আমি আপনাকে ধাক্কা দেয় নেই।আপনি নিজেই আমার শরীরে এসে পরেছেন।(কথাটা বলেই আমি চলে আসলাম)

—বাবা,ক্ষেতের মুখ থেকে দেখি কথাও বের হয়।

—আরে দেখে ছোটলোক মনে হলে কি হবে।কথার ভাবে মনে হয় কোন বড়লোকের ছেলে।

—ঠিক বলেছিস।দেখ ত মনে হচ্ছে মন ভরা অনেক দেমাগ।

—ওর দেমাগ যদি আমি মাটিতে না মিশিয়ে দিয়েছি তাহলে আমার নামও আরহী না।

—তুই ওর সাথে কি করবি?
—দেখতে থাক কি করে।
—আচ্ছা।
.
তারপর আরহী ওর গাড়িতে করে বাড়িতে চলে গেল।আমিও আমার বাড়িতে চলে আসলাম।বাড়িতে এসে ফ্রেস হয়ে বসে রইলাম।কারণ আমি আমার পিচ্ছি বোনটাকে ছাড়া কখনও খাবার খাই না।
.
পিচ্ছিটাও আমাকে ছাড়া কখনও খাবার খায় না।আমার বোনের নাম শ্রেয়া।পিচ্ছিটা স্কুল থেকে আসার পর একই সাথে খেতে বসলাম।খাওয়ার মতো তেমন কিছু নেই।শুধু ভাত,আলু ভর্তা আর ডাল।খাবার খাওয়ার সময় দেখলাম পিচ্ছিটার মন খারাপ।
.
—কিরে মন খারাপ?(আমি)
—হ্যাঁ।(শ্রেয়া)
—কি হয়েছে?
—স্যার বকেছে।
—কেন?
—স্কুলের বেতন দিতে হবে।কিন্তুু মা এখনও আমাকে টাকা দেয় নেই।
—অহ।আর কতদিন সময় আছে?
—দুইদিন।
—মা তুমি আমাকে বলবে না ওর স্কুলের বেতন দিতে বলেছে।
—তোরই ত এখন কতটাকা লাগে তাই ভাবলাম তোকে বলে কষ্ট দিব কেন?আমিই টাকা দিয়ে দিব নে।কিন্তুু যাদের বাড়িতে কাজ করি তারা মাস শেষ হয় নেই দেখে আমাকেও এখনও টাকা দিচ্ছে না।(মা)
—তাই কি আমাকে ত একবার বলবে।কত টাকা লাগবে?
—৫০০০/= টাকা।
—এত টাকা কেন?
—অনেক মাসের টাকা দেওয়া হয় নেই।তাই জমা হতে হতে এত টাকা হয়ে গেছে।
—ভাইয়া,স্যার বলেছে দুই দিনের মধ্যে টাকা না দিলে আমাকে স্কুল থেকে বের করে দিবে।
—তুই চিন্তা করিস না।আমি যেভাবেই হোক টাকা যোগার করে এনে দিব।
—আচ্ছা।
.
খাবার খেয়ে উঠে ঘরে গিয়ে বসলাম আর ভাবতে লাগলাম এতগুলো টাকা কি করে যোগার করব?যেখানে ছাত্র পড়াই সেখান থেকেও ত টাকা এখন দিবে না।
.
এখন মাত্র মাসের পনেরদিন হয়েছে।কি করব কি করব?মাথায় কিছু আসছে না।বোনের স্কুলের টাকাগুলো না দিলেও ত হবে না।এইসব ভাবতে ভাবতে ছাত্র পড়াতে চলে গেল।
.
ছাত্র পড়িয়ে যখন ফিরচ্ছিলাম তখন ভাবলাম একটা রিশকা নিয়ে বের হলেও ত কিছুটা আয় হবে।সেইগুলো আর মার কাছে যদি কিছু টাকা থাকে সেইগুলো মিলিয়ে এই যাত্রায় পিচ্ছিটার স্কুলের বেতন দিতে পারব।
.
যা ভাবা সেই কাজ।একটা পরিচিত কাকার কাছে থেকে রিশকা ভাড়া নিয়ে বেরিয়ে পরলাম।কাকার বাসা আমাদের বাসার পাশেই।তিনি সবাইকেই রিশকা ভাড়াতে চালাতে দেয়।আমি রাত ১২:০০ টা পর্যন্ত রিশকা চালিয়ে বাড়িতে আসলাম।
.
—কিরে এত সময় কোথায় ছিলি?জানিস তোর জন্য কত চিন্তায় ছিলাম?(মা)
—একটা নতুন কাজ পেয়েছি সেইটা করতে করতে এত দেড়ি হাে গেছে।(আমি)
—কি কাজ?
—সেইটা তোমার জানতে হবে না।এখন বল জয়া খেয়েছে?
—ঐ কি তোকে ছাড়া কখনও খায়?
—কোথায় ঐ?
—দেখ ঘরে তোর উপর রাগ করে বসে রয়েছে।তুই ওকে নিয়ে খেতে আস।
—আচ্ছা,আমি ওকে নিয়ে খেতে আসছি।(আমি ঘরে গেলাম)
—কিরে খাস নেই কেন?
—(নিশ্চুপ)
—কিরে কথা বল।
—তোমার সাথে কথা নেই।
—কেন?
—তুমি এত সময় কোথায় ছিলে?জান আমার কত খিদে লেগেছে?
—তোর স্কুলের টাকা যোগার করতে গিয়েছিলাম।আর খিদে লেগেছিল খেয়ে নিতি।
—তুমি জান না আমি তোমাকে ছেড়ে কখনও খায় না।(কান্না করে)
—হয়েছে হয়েছে।এখন কান্না বন্ধ কর।আমারও অনেক খিদে লেগেছে চল খেতে যাই।
—আচ্ছা,চল।
.
তারপরে পিচ্ছিটাকে সাথে করে নিয়ে খেতে চলে আসলাম।খাওয়া শেষ করে একটু পড়ে ঘুমিয়ে পরলাম।পরেরদিন প্রতিদিনের থেকে আজকে একটু বেশি সকালে উঠলাম।
.
সকালে উঠে রিশকাটা নিয়ে কিছু সময় চালিয়ে বাসায় এসে তৈরি হয়ে ভার্সিটিতে চলে গেলাম।ভার্সিটিতেই যেতেই দেখলাম আরহী ওর বন্ধু-বান্ধুবীদের সাথে বসে বসে আড্ডা দিচ্ছে।আমি আমার মতো ক্লাসে চলে আসতে লাগলাম।
.
—আরহী,দেখ ক্ষেতটা এসে গিয়েছে।(প্রিয়া)
—কোথায়?(আরহী)
—ঐ যে দেখ।(আমার দিকে ইশারা করে)
—দাঁড়া ডাক দিচ্ছি।
—ছাড় না।ওকে ডেকে কি করবি?(আনিকা)
—তুই চুপ থাক।ওকে ডেকে কি করব সেইটা ত আমি জানি।
—তুই তাড়াতাড়ি ডাক।নাহলে ক্লাসে চলে যাবে।
—আচ্ছা,ক্ষেত ঐ ক্ষেত।এইদিকে আস ত।
.
আমি আরহীর কথা শুনেও না শুনার ভাব করে হাঁটতে লাগলাম।আরহী আমাকে আরও কয়েকবার ডাকতে লাগল কিন্তুু আমি শুনি নেই।আমি মাথা নিচু করে হাঁটছিলাম হঠাৎ করে কে জানি আমার সামনে এসে দাঁড়াল।
.
আমি আমার মাথা উঁচু করে সামনে তাকালাম।সামনে তাকিয়ে দেখলাম আরহী আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
.
—কিরে ছোটলোকের বাচ্চা তোকে কখন থেকে ডাকছি তুই শুনিস নেই?(আরহী)
—না।(আমি)
—ঐ প্রিয়া,দেখচ্ছিস ছোটলোকটায় কানে কম শুনে।মনে হয় বয়ড়া।(কথাটা বলেই হাসতে লাগল)
—আপনারা কি আমাকে নিয়ে হাসা-হাসি করার জন্য ডেকেছেন?
—তুই একদম ঠিক ভাবচ্ছিস।আমরা তোকে নিয়ে ফাজলামি করার জন্যই ডেকেছি।
—কিন্তুু আমি আপনাদের ফাজলামির পাত্র হতে পারব না।
—তুই কেন তোর বাপ আমাদের ফাজলামির পাত্র হবে।
—আপনার স্বপ্নে আর যদি এতই ফাজলামির পাত্র প্রয়োজন হয় তাহলে আপনার বাবাকে বলেন একটা মানুষরূপী পুতুল কিনে এনে দিতে।তারপর তার সাথে যত ইচ্ছে ফাজলামি করেন।
—আমার ত তোকেই চাই।তোর সাথে ফাজলামি করতে যত মজা তা ত আর কারো সাথে করতে পাই না।
—কিন্তুু আমাকে টাকা দিয়ে কিনা যাবে না।
—তোকে ত আমার চাই ই চাই।একদিন না একদিন আমি তোকে কিনব।
—সেই আশা আপনার কোন দিনই পূরণ হবে না।
.
কথাটা বলে আমি চলে আসতে রনা দিলাম।কয়েক পা সামনে আসতেই আরহী আমার পায়ের সাথে পা লাগিয়ে ফালিয়ে দিল।আমাকে ফালিয়ে সবাই হাসতে লাগল।আমি উঠে দাঁড়ালাম।
.
—আমাকে ফালিয়ে দিলেন কেন?(আমি)
—আমার মন চেয়েছে তাই ফালিয়ে দিয়েছি।(আরহী)
—ঠাসস ঠাসস।আমি আপনার বাপের টাকায় কেনা চাকর না যে যখন যা ইচ্ছে তাই আমার সাথে করবেন।
—তুই আমাকে মারলি?(গালে হাত দিয়ে)
—হ্যাঁ,মেরেছি।দরকার পরলে আরও মারব।
—কি?তোর এত বড় সাহস তুই আমাকে মারবি?
—হ্যাঁ,মারব।
.
কথাটা বলেই আমি চলে আসলাম।সেইদিন আরহী আর ক্লাসে আসে নেই।ক্লাস করে আমি বাড়িতে চলে গেলাম।প্রতিদিনের মতো আমি খাবার খেয়ে প্রাইভেট পড়াতে চলে গেলাম।
.
প্রাইভেট শেষ হওয়ার পর রিশকা নিয়ে বের হলাম।রাতে বাসায় আসার পর মার আর আমার টাকা মিলে দেখালাম জয়ার বেতনের টাকা হয়ে গেছে।
.
সব টাকা মার হাতে দিয়ে মাকে বললাম কালকে শ্রেয়ার স্কুলে গিয়ে বেতন দিয়ে আসতে।এইভাবেই চলতে লাগল কিছুদিন।প্রতিদিন প্রাইভেট পড়ানো শেষ হওয়ার পর আমি রিশকা চালিয়ে বাসায় আসতাম।
.
পরেরদিন কলেজে গেলাম।আজকে আমি সরাসরি ক্লাসে চলে এসেছি।আমাকে ক্লাসে আসতে দেখে আমার পিছনে পিছনে আরহী তার বান্ধুবীদের নিয়ে ক্লাসে আসল।আরহী আমার পাশের ব্রেঞ্চে বসে আমাকে শুনিয়ে শুনিয়ে কথা বলতে লাগল।
.
—প্রিয়া,জানিস আমার না আর এই ক্লাসে আসতে ভাল লাগে না।(আরহী)
—কেন?(প্রিয়া)
—কেন তুই জানিস না?
—না।তুই বল কেন?
—আমাদের ক্লাসে আগে শুধু ক্ষেতেরা পড়ত।কিন্তুু এখন দেখি রিশকা চালকও পড়ে।
—কি রিশকা চালক?
—হ্যাঁ রে।
—কে সে?
—কেন?দেখতে পাচ্ছিস না আমাদের পাশে বসে রয়েছে।(আমাকে ইশারা করে)
—তার মানে সাগর রিশকা চালায়?
—হ্যাঁ রে।
—তুই কিভাবে জানলি?
—আরে কালকে বিকালে তোদের বাড়ি থেকে আসার সময় দেখলাম রিশকা চালাচ্ছে।
—অহ।
—সেইজন্যই ত বলি ওর শরীর দিয়ে এত দুগন্ধ বের হয় কেন?রিশকা চালিয়েই হয়ত ক্লাস করতে চলে আসে।ভাল মতো হয়ত স্নানও করে না।
—ইয়াক।থুথু।তুই কিভাবে যে ওর পাশের ব্রেঞ্চে বসে আসিস।আমি ত এখান থেকেও শরীরের দুগন্ধ পাচ্ছি।(নাক ধরে)
—আমিও ত পাচ্ছি।কিন্তুু কি করব বল ক্লাস ত করতে হবে।নাহলে কি আমার কোন ইচ্ছে এইসব ছোটলোক রিশকাচালকের পাশে বসে থাকতে।ইয়াক,থুথু।
.
এইসব বলেই ওরা সবাই হাসা-হাসি করতে লাগল।আমি এত সময় ধরে মাথা নিচু করে শুধু শুনচ্ছিলাম।কিন্তুু ওদের হাসা-হাসি এতই বেড়ে গেল যে আমার আর সহ্য হলো না।
.
—আমার শরীর দিয়ে এতই যখন দুগন্ধ বের হচ্ছে তাহলে এখানে না বসে একটু দূরে গিয়ে বসলেই ত পারেন।(আমি)
—ক্লাসটা কি তোর বাপের টাকায় কেনা?যে তুই যেখানে আমাদের বসতে বলবি আমরা সেখানে গিয়ে বসব?(আরহী)
—ঠাসস ঠাসস।ভুলেও কখনও আমার বাবার নামে কিছু বলবেন না।আমি সব কিছু সহ্য করতে পারি কিন্তুু আমার বাবার নাম নিয়ে কেউ খারাপ কথা বলবে এইটা আমি সহ্য করব না।
—কেন রে?তোর বাবা কি কোটিপতি যে তোর বাবার নাম নিয়ে কিছু বলা যাবে না?
—কোটিপতি না কিন্তুুু সে আমার বাবা।
—এসেছে বড় ছোটলোক বাবার ছোটলোক ছেলে।
—ঠাসস ঠাসস।তোকে একবার বলেছি না আমার পরিবার নিয়ে একটা কথাও বলবি না।তোর মাথায় ঠুকে না?
—তোর সাহস ত কম না তুই আমাকে দুইবার করে ঠাপ্পর মারলি?(গালে হাত দিয়ে)
—আমার সাহসের কি দেখেছিস?আমার বাবার নামে আর একটা খারাপ কথা বললে তোর কি অবস্থা করব সেইটা তুই ভাবতেও পারবি না।
—তোকে এর ফল ভোগ করতে হবে।
—যা যা আমি কাউকে দেখে ভয় পাই না।তোর যা ইচ্ছে কর।
.
কথাটা বলেই আমি আমার জায়গায় বসে পরলাম আর আরহী ওর বান্ধুবীদের নিয়ে একটু দূরে গিয়ে বসে পরল।কিন্তুু সবগুলো ক্লাসে আরহী আমার দিকে বারবার রাগি চেহারায় শুধু তাকিয়ে ছিল।মনে হচ্ছিল এই বুঝি আমাকে মেরে ফেলবে।

আজকে ক্লাসের সবার নজর আরহীর উপর।সবাই আরহীকে দেখে হাসচ্ছে।কারণ একটা ক্ষেত আর রিশকাচালকের হাতে আরহী মার খেয়ে আর অপমান করেছে।ক্লাস শেষ হওয়ার পর বাড়িতে চলে আসলাম আর আরহী তার বান্ধুবীদের সাথে কথা বলতে লাগল।
.
—আরহী,দেখছিলি আজকে ক্লাসের সবাই তোর দিকে তাকিয়ে হাসচ্ছিল?(প্রিয়া)

—হ্যাঁ।(আরহী।রাগি কন্ঠে)

—সব হয়েছে ঐ ক্ষেতটার জন্য।ওকে কি তুই কিছু বলবি না?

—তুই কি মনে করিস আমি ওকে এমনিতেই ছেড়ে দিব?ঐ কার শরীরে হাত দিয়ে আর কাকে অপমান করেছে সেইটা ওকে বুঝাতে হবে না।

—ছেড়ে দে না সাগরকে।দোষ ত আমাদেরই ছিল।আমরা যদি ওকে নিয়ে ফাজলামি না করতাম তাহলে এত কিছু হতো না।(আনিকা)

—ছেড়ে দিব?তাও আবার ওকে?কখনই না।আমাকে অপমান আর আমাকে ঠাপ্পর দেওয়ার প্রতিশোধ আমি নিবই।

—কি করবি তুই?

—অপেক্ষা কর।সব জানতে পারবি।
.
কথাটা বলেই আরহী রাগে নিজের গাড়িতে করে বাড়িতে চলে গেল।আমিও বাড়িতে এসে ফ্রেস হয়ে জয়াকে সাথে করে নিয়ে খেতে বসলাম।কিন্তুু শ্রেয়া ভাত খাচ্ছে না।দেখে মনে হচ্ছে ওর মন খারাপ।
.
—কিরে পিচ্ছি মন খারাপ?(আমি)
—দেখ ভাইয়া আমি এখন মোটেও পিচ্ছি নেই।আমি এখন সেভেনে পড়ি আর আমি সবকিছু বুঝি।তাই আমাকে আর পিচ্ছি ডাকবে না।
—আচ্ছা আচ্ছা,ডাকব না।এখন বল খাবার খাচ্ছিস না কেন?
—এইসব দিয়ে আমার আর খেতে ভাল লাগে না।
—তাহলে কি দিয়ে খাবি?
—মুরগির মাংস।ভাইয়া তুমি আমাকে মুরগির মাংস এনে দিবে?বল ভাইয়া তুমি এনে দিবে?
—শ্রেয়া,তুই ত জানিস আমরা কিভাবে চলি।তাছাড়া কালকেই ত তোর স্কুলে এত গুলো টাকা দিল।এখন আবার মুরগির মাংস খেতে চাচ্ছিস কেন?জানিস না একটা মুরগি একশত টাকার নিচে নেই।সাগর এখন এতগুলো টাকা কোথায় পাবে?(মা শ্রেকে বকল।শ্রেয়া মার বকা খেয়ে কান্না করতে করতে আমার কুলে এসে বসল)
—দেখনা ভাইয়া মা আমাকে বকছে।কবে থেকে মুরগির মাংস খাই না।একটু মুরগির মাংস খেতে চেয়েছি দেখে মা আমাকে বকল।(কান্না করে দিল)
—মা,শ্রেয়া ত কিছু ভুল বলে নেই।তাছাড়া আমার ত অনেকদিন ধরে ভাল কিছু খাই না।এইদিন না হয় মুরগি এনে খাব।

—আমিও ত চাই তোদের ভাল কিছু খাওয়াতে।কিন্তুু কালকে ওর স্কুলে এতগুলো টাকা লাগল এখন মুরগি কিনার মতো আমার কাছে একটা টাকাও নাই।(মা কাপড় দিয়ে কান্না লুকানের বৃথা চেষ্টা করল)
—তুমি চিন্তা কর না।আমি মুরগি নিয়ে আসব।
—সত্যি ভাইয়া?তুমি আমাকে মুরগির মাংস খাওয়াবে?
—হ্যাঁ,সত্যি।
—কবে?
—এই মাসটা শেষ হয়ে হওয়ার পর।এখন আমার আর মার হাতে একটা টাকাও নাই।
—আচ্ছা,এখন তুমি আমাকে তাড়াতাড়ি খায়িয়ে দাও।
—আচ্ছা।
.
তারপর আমি আবার আমার প্রতিদিনের কাজে লেগে গেলাম।পরেরদিন কলেজে গেলাম কিন্তুু আজকে আরহীর আচরণে কেমন না পরির্বতন দেখলাম।আরহী আজকে অনেকটা শান্ত ভাবে ক্লাস করচ্ছে।
.
এমনকি আজকে আরহী আমাকে নিয়ে কোন রকম ফাজলামিও করে নেই।এইভাবেই কয়েকদিন কেটে গেল।একদিন আমি কলেজের গেট দিয়ে ডুকচ্ছিলাম তখনই আমাদের ক্লাসে কিছু ছেলে আমাকে ডাকল।
.
—ঐ ক্ষেত এইদিকে আস।(একটি ছেলে।আমি শুনেও না শুনার ভাব করে চলে আসতে যাব তখনই ছেলেগুলো আমার সামনে আসল)
—কিরে ক্ষেত তোকে না ডাকলাম তুই আসলি না কেন?
—আপনারা কোন ক্ষেতকে ডেকেছেন আমাকে না।(আমি)
—তাহলে তুই নিজেকে কি কোন ধনী বাবার ছেলে ভাবিস নাকি?(কথাটা বলেই সবাই হাসতে লাগল)
—আমি নিজেকে ধনী বাবার ছেলে ভাব কেন?আমি যেমন আছি তেমনিতেই খুশি।
—তাহলে তুই কি তোকে আমাদের মতো বড়লোক বাবার ছেলে ভাবিস?
—না।
—তাহলে তুই নিজেকে কি ভাবসি?
—বড়লোক বাবার ছেলেরা যদি আপনাদের মতো অসভ্য হয় তাহলে আমি গরিব বাবার ছেলে হয়েও অনেক খুশি আছি।
—তুই কিন্তুু এখন আমাদের অপমান করচ্ছিস।
—আপনারাও ত আমাদের এত সময় ধরে অপমান করচ্ছিলেন?আমাকে অপমান করতে যদি আপনাদের কোন সমস্যা না থাকে তাহলে আমি আপনাদের অপমান করলে সমস্যা হওয়ার কথা না।
—তোকে শেষবারের মতো বলছি তুই নিজের মুখ সামলে কথা বল।নাহলে কিন্তুু তোর জন্য অনেক খারাপ হবে।
—আপনারা আমার কি করবেন?
—তোকে এই ভার্সিটি থেকে বের করে দিব।
—আপনাদের বাবার টাকা আছে,পাওয়ার আছে তাই করতেই পারেন।কিন্তুুু কখনই আপনারা আমার জীবন আর আমার ভবিষ্যৎ নষ্ট করতে পারবেন না।অবশ্য ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আপনাদের বলে কি লাভ?আপনাদের ভবিষ্যৎ আপনারা ত নিজের হাতেই নষ্ট করচ্ছেন।
—সাগর,এইবার কিন্তুু তুই একটু বেশিই বাড়াবাড়ি করচ্ছিস।এর পরিণাম কিন্তুু ভাল হবে না।
—আমি আমার জীবনে কখনই পরিণাম এর কথা ভাবি নেই।আর আপনি এসেছেন আমাকে পরিণামের ভয় দেখাতে?হা হা হা।হাসালেন।
.
আমি যে ছেলেটার সাথে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এমন তর্ক করচ্ছি এইটা আবার আরহীর বান্ধুবী আনিকা দেখে ফেলেছে।তাই আনিকা তাড়াতাড়ি আরহীর কাছে গিয়ে সব বলে।
.
আরহী এইসব শুনে রাগে আমাদের কাছে আসতে লাগল।আরহী যখন আমাদের সামনে আসল তখন দেখতে পেল ছেলেগুলোর সাথে আমার তর্কাতর্কি একটু বেশিই বেড়ে গিয়েছে।এক পর্যায়ে ছেলেগুলো আমাকে মারতে আসতে লাগল।তখনই আমি ঠাসস ঠাসস ঠাসস ঠাসস করে কয়েকটা ঠাপ্পর পরল।
.
#চলবে

পরবর্তী পর্ব পাওয়ার আগ পর্যন্ত ভালো থাকুন,সুস্থ থাকুন। ধন্যবাদ♥

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *