রোমান্টিক প্রতিশোধ Part_2

#রোমান্টিক_প্রতিশোধ♥
পার্ট-২
লেখকঃ অদ্রিত

 

কিছুসময় পর অনুভব করলাম এইবার থাপ্পর গুলো আমার গালে পরে নেই।পরের আমাকে যে ছেলেগুলো মারতে চেয়েছিল তাদের গালে।আমি আরও বেশি অবাক হলাম যখন দেখলাম আরহী ছেলেগুলোকে থাপ্পর দিয়েছে।
.
—আরহী,তুই আমাদের মারলি কেন?(একটা ছেলে)
—তোরা সাগরকে মারতে যাচ্ছিলি কেন?(আরহী)
—সাগর আমাদের অপমান করেছে।
—তারাও ত একটু আগে ওকে কত অপমান করেছিস।তাই বলে মারতে হবে?
—আমার অপমান করতেই পারি।ওর কোন অধিকার নাই আমাদের অপমান করার।
—ওকে অপমান করার অধিকার তোদের কে দিয়েছে?
—আমাদের অধিকার দিবে কে?আমরা বড়লোক বাবার ছেলে তাই ওর মতো ক্ষেত রিশকাচালকে আমরা অপমান করতেই পারি।
—না পারিস না।কারণ ঐ আমাদের মতোই মানুষ।গরিব বলে কাউকে অপমান করা সাজে না।
—তুই যখন ওকে অপমান করতি তখন এইসব কথা মনে ছিল না?আমরা অপমান করতে এসেছি তাই আমাদের দোষ হয়ে গেল?নিজের বেলা কোন দোষই নেই?
—আমি ওকে না বুঝে অপমান করেছি।আমার দোষ আমি বুঝতে পেরেছি।আর তোরাও ওকে আর কখনও অপমান করবি না।নাহলে তোদের অবস্থা ভাল হবে না।
—তুই আমাদের মেরে ভাল করলি না।আমার একদিন এর প্রতিশোধ নিব কথাটা মনে রাখিস।
—যা যা আমি এইসব ভয় পাই না।(ছেলেগুলো চলে গেল)
—ধন্যবাদ আমার হয়ে ওদের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য।(কথাটা বলেই আমি চলে আসব তখনই আরহী আমার হাত ধরল।)
—আমার হাত ধরলেন কেন?
—তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে।
—বলুন কি বলবেন?
—আমি তোমাকে ভালবাসি।
—কিকিকি?(অবাক হয়ে)
—হ্যাঁ।
—এইটা কি আপনার নতুন কোন বুদ্ধি?
—বিশ্বাস কর আমি তোমাকে সত্যিই ভালবাসি।
—কয়েকদিনের মধ্যে হঠাৎ পরিবর্তন?
—আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি।তাই তোমাকে ভালবেসে ফেলেছি।
—আমার পক্ষে আপনাকে ভালবাসা সম্ভব না।
—কেন?তুমি কি আমাকে এখনও ক্ষমা করতে পার নেই?
—ক্ষমা ত আমি আপনাকে আরও আগেই করে দিয়েছি।কিন্তুু আমি আপনাকে ভালবাসতে পারব না।কারণ আমি আপনার মতো এস বড়লোক না।
.
কথাটা বলেই আমি সেখান থেকে ক্লাসে চলে গেলাম।পরেরদিন আবার আরহী আমার কাছে এসে আমাকে ভালবাসি ভালবাসি বলতে লাগল।কয়েকদিন এইভাবেই চলল।
.
আমি কিছুতেই আরহীর কথা রাজি হব না।একদিন ভার্সিটিতে গিয়ে দেখি আজকে আরহী আসে নেই।আমি মনে মনে বললাম আজকে বেঁচে গিয়েছি।কিন্তুুু আমি ভুল ছিলাম।
.
ক্লাস শেষ করে বাড়িতে যাওয়ার পর খেয়াল করলাম শ্রেয়া আর মা নতুন পোশাক পরে আছে।যখন খেতে বসলাম দেখলাম মুরগির মাংস এবং আরও কত কিছু মা রান্না করেছে।
.
—মা,মাস ত এখনও শেষ হয় নেই।তাহলে তুমি এতকিছু তুমি কি করে কিনলে?(আমি)
—আমি ত কিনে আনি নেই।(মা)
—তাহলে কে এনেছে?
—তুই ত একটা মেয়েকে দিয়ে এইসব পাঠিয়েছিস।
—কে বলল?
—মেয়েটাই বলেছে।
—মেয়েটার নাম কি?
—কি জানি বলল হ্যাঁ মনে পরেছে আরহী।
—কি ঐ মেয়ে এইসব দিয়ে গেছে?
—হ্যাঁ।
—ভাইয়া,দিদিটা কিন্তুু অনেক সুন্দর।তুমি কি দিদিটাকে আমার ভাবী করে আনবে?(শ্রেয়া)
—কি সব বলচ্ছিস?
—ভাইয়া এনে দেওনা।আমি আর মা ত বাড়িতে একাই থাকি।ভাবী আসলে না হয় একটু বেশি মজা করতে পারব।জান ভাইয়া ভাবীর সাথে না আজকে অনেক মজা করেছি।
—সাগর,মেয়েটা কিন্তুু অনেক সুন্দর।তাছাড়া মেয়েটা ত তোকে পছন্দই করে তুই ও না হয় বিয়ে করে বউ করে বাড়িতে নিয়ে আয়।
—মা,তুমিও দেখি শ্রেয়ার মতো শুরু হয়ে গেলে।
—ভুল কি বলেছি?মেয়েটা যদি তোকে পছন্দ না করত তাহলে একটা কথা ছিল।
—তুমি জান ওরা কত বড়লোক?ওদের সাথে আমাদের যায় না।
—অহ।তাহলে তোর যা ভাল মনে হয় তুই কর।
.
এখন বুঝতে পারলাম আজকে আরহী ভার্সিটিতে আসে নেই কেন?আজকে আরহী আমি আসার আগে পর্যন্ত আমাদের বাড়িতে ছিল।আরহীকে আমার পছন্দ হয় না তা না।
.
আমিও আরহীকে পছন্দ করি আর এতদিন আরহী যে পাগলামি করল তার জন্য ত ভালই বেসে ফেলেছি।আজকে আরহী যা করল তাতে ত ভালবাসা টা আরও বেড়ে গেল।
.
কিন্তুু সমস্যা হলো আমি গরিব।আমাকে কি আরহীর মতো এত বড়লোকের মেয়ের সাথে মানাবে?আমাকে আরহীর সাথে কোন ভাবেই যায় না।সারারাতে আরহীর কথা ভাবতে ভাবতে আর ঘুম আসল না।
.
বারবার মনে হচ্ছে আরহীর কাছে ছুটে গিয়ে বলে দেই আরহী আমি তোমাকে ভালবাসি।আমার বোনের ইচ্ছে হয়ছে তোমাকে ভাবী বলার।তুমি কি ওর ভাবী হবে?
.
এইসব ভাবচ্ছিলাম আর মনে মনে সিব্ধান্ত নিলাম কালকে ভার্সিটিতে গিয়ে আরহী আমার মনের কথা বলে দিব।পরেরদিন সকালে আমি একটু আগে ভার্সিটিতে গিয়ে আরহীর জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম।
.
আজকে কেন জানি সময় শেষ হচ্ছে না।আমাকে একা বসে থাকতে দেখে আরহীর বান্ধুবী আনিকা আমার কাছে আসল।
.
—সাগর,তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে।(আনিকা)
—বল।(আমি)
—তোমাকে কথাটা অনেকদিন ধরে বলব বলব ভাবচ্ছিলাম কিন্তুু তোমাকে কোথাও একা পায় না তাই বলতে পারি নেই।
—কি কথা?
—তুমি একটু সাবধান থেকো।আর আরহীর থেকে দূরে থেকো।
—কেন?
—আরহী তোমার উপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তোমার সাথে ভালবাসার নাটক করতে পারে।
—কি বলছ এইসব?আরহী ত এখন আগের থেকে অনেক পাল্টে গেছে।
—ঠিকই বলছি।আরহী আমি সেই ছোট থেকে চিনি।ওকে যে কেউ কিছু বলে তাহলে ঐ সেই মানুষটাকে কিছু না বলেই ছেড়ে দেয় না।আমি তোমার ভালোর জন্য তোমাকে কথাগুলো বললাম এখন বাকিটা তোমার উপর।
.
কথাটা বলেই আনিকা চলে গেল আর আমি বসে বসে ভাবতে লাগলাম আরহী তাহলে আমার সাথে এতকিছু করচ্ছে শুধু মাত্র প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য?
.
ভালবাসার মতো একটা পবিত্র সম্পর্কে নিয়েও আরহী নাটক করতে পারল?একটা মেয়ে হয়ে মানুষের অনুভূতি নিয়ে কিভাবে খেলতে পারল?এইসব ভাবচ্ছিলাম তখনই আরহী আমার সামনে আসল।
.
—কি হলো তুমি কান্না করছ কেন?(আরহী)
—সেইটা আপনাকে জানতে হবে না।(আমি)
—তুমি এমনভাবে কথা বলছ কেন?আর কালকের সারপ্রাইজ তোমার পছন্দ হয়েছে?
—আমার যেমন ইচ্ছে আমি তেমনভাবে কথা বলব আর আপনাকে কে বলেছে আমার নাম করে আমার মা আর বোনকে ঐসব দিয়ে আসতে?
—কেউ না।
—তাহলে কেন দিয়ে এসেছেন?
—আমি তোমাকে ভালবাসি তাই দিয়ে এসেছি।
—অনেক হয়েছে।এইবার এই ভালবাসার নাটকটা বন্ধ করুন।নাহলে আপনার জন্য ভাল হবে না।
—আমি সত্যিই তোমাকে অনেক ভালবাসি।আমি কোন নাটক করচ্ছিনা।(কথাটা শেষ হওয়ার আগেই ঠাসস ঠাসস করে ঠাপ্পর মেরে দিলাম)
—তুই আজকেও আমাকে মারলি?
—মারব না ত কি করব?আর যদি এই নাটক আমার সামনে করেন তাহলে আবার মারব।আমাকে কি আপনার বাবার টাকায় কেনা খেলনা পেয়েছেন নাকি যে আমার সাথে যা ইচ্ছে তাই করবেন।
—আমি এতদিন নাটক করচ্ছিলাম ঠিকই কিন্তুু আজকে তুই আমাকে মেরে ঠিক করলি না।এর ফল তোকে পেতেই হবে।আর হ্যাঁ একদিনের জন্য হলেও আমি তোকে কিনেই ছাড়ব।কথাটা মনে রাখিস।
.
কথাটা বলেই আরহী চলে গেল।আমিও ক্লাস করে বাড়িতে চলে আসলাম।বাড়িতে এসে খাবার খেয়ে ছাত্র-ছাত্রী পড়ানো শেষ করে রিশকা চালাচ্ছিলাম তখনই মার ফোন আসে।মা ফোন করে কান্না করে বলে

—সাগর,বাবা তুই কোথায়?(মা কান্না করে)

—আমি ত কাজে এসেছি আর তুমি এমন করে কান্না করছ কেন?(আমি)

—তুই যেখানেই আছিস তাড়াতাড়ি আমাদের বাড়ির পাশের হাসপাতালে চলে আয়।

—হাসপাতালে?হঠাৎ হাসপাতালে কেন?সব ঠিক আছে ত?তুমি আর জয়া ঠিক আছ ত?

—না।বাবা কিছুই ঠিক নেই।

—তুমি কান্না বন্ধ করে আগে আমাকে বল কি হয়েছে?

—সাগর,শ্রেয়ার না….(কান্না করে দিল)
—কি হয়েছে আমার পিচ্ছির?বল মা কি হয়েছে শ্রেয়ার?
—একটু আগে শ্রেয়া একটা গাড়ির সাথে এক্সিডেন্ট করেছে।
—কিকিকি?
—হ্যাঁ।
—কিভাবে হল?(কান্না করে)
—আমি জয়াকে নিয়ে বাজারে যাচ্ছিলাম তখনই একটা গাড়ির সাথে শ্রেয়ার এক্সিডেন্ট হয়।
—তুমি কোথায় ছিলে?তুমি ওকে একটু দেখে রাখতে পারলে না?
—আমি ত ওর সাথেই ছিলাম আর তুই ত জানিস তোর বোন তোর কথা ছাড়া কারো কথা শুনে না।(কান্না করে)
—শ্রেয়া এখন কোথায় আছে?
—ডাক্তাররা শ্রেয়াকে একটা ঘরে নিয়ে চিকিৎসা করচ্ছে।এক্সিডেন্ট এর পরে শ্রেয়ার মাথা থেকে অনেক রক্ত বেরিয়েছে।তুই তাড়াতাড়ি একটু হাসপাতালে চলে আয়।
—তুমি কান্না করো না।আমি এখনই চলে আসসি।
—আচ্ছা।তাড়াতাড়ি আয়।
.
মোবাইলটা পকেটে রেখে আমি রিশকা নিয়েই হাসপাতালের দিকে রনা দিলাম।জয়ার এক্সিডেন্ট হয়েছে কথাটা শুনে আমার সম্পূর্ণ পৃথিবী পাল্টে গেছে।আমার জীবনে মা আর শ্রেয়া ছাড়া আর কেউই নেই।
.
আর আমার পিচ্ছিটাকে আমি আমার জীবনের থেকেও অনেক বেশি ভালবাসি।আমার পিচ্ছিটাকে ছাড়া আমি বাঁচতে পারব না।আমার পিচ্ছিটার যদি কিছু হয়ে যায় তাহলে আমি কি করে বাঁচব?
.
কথাগুলো চিন্তা করতে করতে চোখ দিয়ে জল বেরিয়ে গিয়েছে।আমি তাড়াতাড়ি রিশকা চালিয়ে হাসপাতালে পৌঁছালাম।
.
হাসপাতালে গিয়ে দেখি মা বসে বসে কান্না করচ্ছে।আমি মার কাছে যেতেই মা আরও বেশি করে কান্না করতে লাগল।একটু পরেই ডাক্তার বেরিয়ে আসল।
.
—ডাক্তার সাহেব,আমার বোন এখন কেমন আছে?(আমি)
—আপনার বোনের অবস্থা বেশি ভাল না।(ডাক্তার)
—ডাক্তার সাহেব যেভাবেই হোক আমার বোনকে বাঁচয়ে তুলুন।
—আমি তাড়াতাড়ি কাউন্টারে ১০ লক্ষ টাকা জমা করে দিন।আপনার বোনকে এখনই অপারেশন করতে হবে নাহলে আপনার বোনকে বাঁচানো সম্ভব না।
—আপনি অপারেশন শুরু করুন আমি টাকার ব্যবস্থা করচ্ছি।
—আচ্ছা।(ডাক্তার চলে গেল)
—সাগর,বাবা তুই এতগুলো টাকা কোথায় পাবি?
—জানি না।
—তাহলে কি আমার মেয়েটা টাকার অভাবে এইভাবেই মারা যাবে?
—না আমি আমার বোনকে টাকার অভাবে মরতে দিব না।
—তুই তাহলে এতগুলো টাকা কোথায় পাবি?
—তুমি চিন্তা করো না আমি দেখচ্ছি।যেভাবেই হোক আমি টাকা যোগার করে আনব।
—বাবা,দেখিস টাকা যোগার করতে গিয়ে কোন খারাপ কাজ করিস না।
—না মা।দরকার পরলে নিজেকে বিক্রি করে দিব তারপরেও কোন খারাপ কাজ করব না।(নিজেকে বিক্রি করার কথা বলে আরহীর কথা মনে পরে গেল)
—মা,তুমি এখানে বস আমি টাকা নিয়ে আসছি।
—কোথা থেকে টাকা আনবি?
—তুমি চিন্তা করো না আমি কোন খারাপ কাজ করব না।
—আচ্ছা,তাড়াতাড়ি আসিস।
.
আমি হাসপাতালে থেকে বেরিয়ে আরহীকে ফোন করে আরহীর বাড়ির দিকে রনা দিলাম।আরহী ওর নাম্বার আমাকে আগে একদিন দিয়ে রেখেছিল।
.
আমি মনে মনে ভাবলাম যেভাবেই হোক আমি আরহীর কাছে টাকা আনব।যদি নিজেকে আরহীর কাছে বিক্রি করতেও হয় তাও আমি আরহীর কাছে বিক্রি হবো।
.
তাও আমার পিচ্ছিটাকে আমি মরতে দিব না।তাছাড়া আরহী ত এখন ভাল হয়ে গেছে আর আরহী আমাকে ভালবাসে।তাই আর যাই করুক না কেন আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করবে না।এইসব ভাবতে ভাবতে আমি আরহীদের বাড়িতে এসে পৌঁছালাম।
.
—তুমি এসেছ?(আরহী)

—হ্যাঁ।(আমি)

—বল কি বলতে চাও?

—আমার টাকার প্রয়োজন।তুমি যদি আমাকে টাকা দাও তাহলে আমি এক বছরের জন্য তোমার হাতের পুতুল হয়ে থাকব।

—সেইদিন জানি কি বলেছিলে?তোমাকে জীবনেও আমি টাকা দিয়ে কিনতে পারব না।সেইটা শুধু আমার স্বপ্নই থেকে যাবে।তাছাড়া সম্পূর্ণ কলেজের সামনে আরও কত অপমানও ত করেছিলে আর তুমি ভাবচ্ছ আমি তোমাকে ক্ষমা করে টাকা দিয়ে দিব?

—আমি তোমার সাথে এতদিন যা করেছি তার জন্য দুঃখিত।আমাকে দয়া করে ক্ষমা করে দাও।তুমি যদি আমাকে টাকা দাও তাহলে আমি তোমার বাড়ির চাকরও হয়ে থাকতে রাজি আছি।

—কত টাকা লাগবে?

—১০ লক্ষ।

—একটা চাকরকে এক বছরের জন্য এত টাকা দিয়ে কেউ রাখে?

—দয়া করে আমাকে টাকাগুলো দাও।আমার টাকার অনেক প্রয়োজন।

—এতগুলো টাকা দিয়ে তুমি কি করবে?

—শ্রেয়ার এক্সিডেন্ট হয়েছে।ওর অপারেশনের যদি এতগুলো টাকা লাগবে।

—তোকে আমি টাকাগুলো দিব কিন্তুুু আমার একটা শর্ত আছে।

—কি শর্ত?

—তুই যদি আজকে আমাকে বিয়ে করিস তাহলে আমি তোকে টাকা দিব।

—আমি তোমাকে বিয়ে করতে রাজি।কিন্তুু টাকাগুলো আমাকে এখন দাও।নাহলে যে আমার বোন বাঁচবে না।

—আচ্ছা,এনে দিচ্ছি।
.
আরহী আমাকে টাকা এনে দিল।আমি টাকাগুলো নিয়ে হাসপাতালে চলে গেলাম।তারপর সেই টাকা দিয়ে জয়ার অপারেশন করলাম।অন্যদিকে আরহী তার বাবার সাথে কথা বলতে তার রুমে গেল।
.
—বাবা,তুমি আমাকে এই মাসের মধ্যেই বিয়ে করতে বলেছিলে না?(আরহী)

—হ্যাঁ।(আরহীর বাবা)

—আমি বিয়ে করতে রাজি আর আমার একটা পছন্দের ছেলে আছে।আমি তাকেই বিয়ে করব।

—এটা ত ভাল কথা।ছেলেটা কি করে?(আরহীর মা)

—আমার সাথেই পড়ে।ওরা অনেক গরিব।কিছু টিউশনি আর রিশকা চালিয়ে পরিবারের খরচ চালায়।

—ছেলে যাই করুন আমার মেয়ের ছেলে পছন্দ হয়েছে এতেই হবে।এখন তাহলে ছেলের বাড়ির ঠিকানা দে।ওর মা-বাবার সাথে কথা বলে তোদের বিয়ে ঠিক করি।

—সাগরের বাবা নেই।মা আর বোন আছে শুধু।বোনের এক্সিডেন্ট হয়েছে তাই এখন ওরা হাসপাতালে আছে।

—কি?তাহলে চল এখনই হাসপাতালে যাই।

—আচ্ছা,চল।
.
সবাই মিলে হাসপাতালে গেল।আপনার হয়ত ভাবচ্ছেন আরহী আমাকে এতগুলো টাকার বিনিময়ে বিয়ে করতে চাইল কেন?আমাকে ত ওর চাকর বানিয়েও রাখতে পারত।
.
আসলে আরহীকে আরহীর বাবা বলেছে সামনের একমাসের মধ্যে যদি আরহী কাউকে বিয়ে না করে তাহলে তারা নিজেদের পছন্দের ছেলের সাথে আরহীর বিয়ে দিয়ে দিবে।
.
আরহী এখন বিয়ে করতে চায় না আর যখন আমি বললাম একবছরের জন্য আমাকে চাকর হতে বললেও আমি হোব তাই আরহী ভাবল আমাকে বিয়ে করে একবছর পরে ছেড়ে দিবে।তার সাথে এই একবছরে আরহী প্রতিশোধও নিতে পারবে।
.
হাসপাতালে যাওয়ার পর আরহীর মা-বাবা আমার মার সাথে কথা বলল।আরহীর বাবা বলল শ্রেয়া সুস্থ হয়ে উঠলে আমার আর আরহীর বিয়ে হবে।তাই আজকে আমার আর আরহীর বিয়ে হল।
.
এইসব ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পরেছি তা মনে নেই।সকালে আমি শুয়ে রয়েছি আর আরহী ঘুম থেকে উঠে আমাকে শুতে দেখে সরাসরি আমার পিঠে একটা লাথি মারল।
.
—ঐ কুওার বাচ্চা তোর এতবড় সাহস তুই এখন ঘুমিয়ে রয়েছিস?(আরহী)

(আরহীর লাথিতে আমি অনেকটা ব্যাথা পেয়েছি তাই একটু চিৎকার করচ্ছি)

—ঐ মুখ বন্ধ কর।নাহলে তোর মুখ আমি সারাজীবনের জন্য বন্ধ করে দিব।

—তুমি আমার সাথে হঠাৎ করে এমন খারাপ ব্যবহার করচ্ছ কেন?(আমি)

—তুই আমার কে যার জন্য আমি তোর সাথে ভাল ব্যবহার করব?

—আমি তোমার স্বামী।আর স্বামীকে কি কেউ লাথি মারে?

—স্বামী??কে স্বামী?
—কেন আমি?
—হাহাহাহা।
—তুমি হাসছ কেন?
—তোর কথা শুনে।তোকে আমি আমার স্বামী হিসেবে মানি না।তুই ভুলে যাচ্ছ না তুই এখন থেকে আমার চাকর।আমি তোকে দশ লক্ষ টাকার বিনিময়ে কিনেছি।এখন থেকে আমি তোকে যা করতে বলব তুই তাই করবি।আর হ্যাঁ এক বছর পরে আমাকে ডির্ভোস দিয়ে দিবি।

—একবছর পরে ডির্ভোস দিব কেন?

—তুই কি মনে করস আমি সারাজীবন তোর বউ হয়ে থাকব?

—তাহলে আমাকে বিয়ে কেন করেছিলে?

—তোর উপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য।
—প্রতিশোধ ত আপনার বাড়ির চাকর বানিয়েও নিতে পারতেন।শুধু শুধু বিয়ের নাটকটা করার কি আছে?

—তোকে বিয়ে না করলে বাবা অন্য ছেলের সাথে আমার বিয়ে দিয়ে দিত আর আমি এত তাড়াতাড়ি বিয়ে করতে চাই না।তাছাড়া বিয়েটা আটকানোর কোন উপায়ও আমার কাছে ছিল না।একবছরের জন্য আমাকে আর কেউ বিয়েও করত না।আর তোর মতো একটা গাধা থাকতে আমি একবছরের জন্য অন্য কাউকে বিয়ে করে কি লাভ?তোকে বিয়ে করে তোর উপর প্রতিশোধ নেওয়া হয়ে যাবে আর বাবার কথাও রাখা হয়ে যাবে।

—তুমি না আমাকে ভালবাসতে?
—আমি তোকে ভালবাসব?হাহাহাহা।তোর মতো একটা ছোটলোকে কি কখনও ভালবাসা যায়?

—তাহলে এতদিন ঐসব কি ছিল?আমার পিছে পিছে ঘুরা,আমার মা-বোনের সাথে মেলামেশা?
—এইসব নাটক ছিল।তোর উপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য আমি এইসব করেছিলাম।কিন্তুু তুই আমার জালে পা না দিয়ে উল্টো সেইদিন আমাকে মেরেছিস।

—তুমি এতটা নিচে নামতে পারলে?এতটা খারাপ তুমি?
—আমি কতটা খারাপ সেইটা তুই আস্তে আস্তে জানতে পারবি।ঐ শুন তাড়াতাড়ি সব কাপড় গুছিয়ে নে।
—কেন?
—একটু পর আমরা এখান থেকে চলে যাব।
—কোথায়?
—বাবা,আমার বিয়ের পরে থাকার জন্য একটা নতুন বাড়ি তৈরি করেছে।এখন থেকে সেখানেই থাকব।
—তাহলে আমার মা আর বোনের কি হবে?
—ওদের কি হবে আমি জানি নাকি?তোর মা,বোন তুই ভাব।আমি এখন ফ্রেস হতে যাচ্ছি।ফ্রেস হয়ে এসে জানি দেখি সবকিছু গুছানো শেষ।
—আচ্ছা।
.
আরহী ফ্রেস হতে চলে গেল আর আমি ব্যাগ গুছিয়ে ভাবতে লাগলাম আমি এখান থেকে চলে গেলে আমার মা আর বোনকে কে দেখবে?আমি এখান থেকে চলে যাওয়ার পরে যদি ওদের কিছু হয়ে যায় তাহলে কে দেখবে?
.
তাছাড়া শুধুমাত্র মার টাকায় কি শ্রেয়ার স্কুলের খরচ আর পরিবারের খরচ চলবে?মার পক্ষে একা সবকিছু করা সম্ভব না।আমি ত আরহীর কথা না মানতেও পারব না।
.
আমাকে যে একবছর আরহীর কথা মানতেই হবে।জয়াকে বাঁচানোর জন্য আমি যে আরহীর কাছে বিক্রি হয়ে গেছি।না আমি আর ভাবতে পারচ্ছি না।আগে আরহীকে বাড়িতে দিয়ে আসি তারপরে আমি না হয় এখানে ফিরে এসে মা আর বোনের সাথে থাকব।
.
যেমন ভাবা তেমনি কাজ।আরহী ফ্রেস হয়ে আসার পরে আরহীকে নিয়ে নতুন বাড়ির দিকে রনা দিলাম।গতরাতটা আমরা আরহীদের বাড়িতে ছিলাম তাই আসার সময় তেমন সমস্যা হয় নেই।
.
আরহীকে নিয়ে আসার সময় গাড়ি আমি চালিয়ে এসেছি।দেখতে দেখতে আমরা নতুন বাড়িতে এসে পরলাম।বাড়িতে অনেকটা বড়।দেখে মনে হচ্ছে এখানে কেউ থাকে না।
.
—কিরে ছোটলোকের বাচ্চা হা করে তাকিয়ে কি দেখচ্ছিস?জীবনে কি এতবড় বাড়ি দেখিস নেই?অহ!তুই দেখবি কি করে তুই ত বসতিতে বড় হয়েছিস।(আরহী হাসতে লাগল)

—দেখ আরহী এমন কর অপমান কর না।আমি তোমার স্বামী।(আমি)

—ঠাসস ঠাসস।কিসের স্বামী?একবার বলেছি না আমি তোকে আমার স্বামী হিসাবে মানি না।আর হ্যাঁ আর কখনও জানি তোর মুখ দিয়ে আরহী ডাক না শুনি।আজ থেকে আমাকে ম্যাডাম বলে ডাকবি।বুঝেছিস?

—হ্যাঁ,বুঝেছি।আরহী।
—ঠাসস ঠাসস।তোকে একবার না বললাম আমাকে ম্যাডাম বলে ডাকবি।কারণ একবছরের জন্য তুই আমার টাকায় কেনা চাকর।কথা টা জানি মনে থাকে।

—হ্যাঁ,থাকবে।

—ঠাসস ঠাসস।কথার শেষে যে ম্যাডাম বলতে হয় সেইটাও কি জানিস না?সেইদিন না আমাকে কত সভ্যতার ভাষণ দিলি আজকে তোর সভ্যতা কোথায় গেল?

—সরি,ম্যাডাম।
—এখন তাড়াতাড়ি ব্যাগগুলো নিয়ে বাড়ির ভিতরে আয়।

—আচ্ছা,ম্যাডাম।
.
#চলবে

পরবর্তী পর্ব পাওয়ার আগ পর্যন্ত ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। ধন্যবাদ♥

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *