রোমান্টিক প্রতিশোধ Part_3

#রোমান্টিক_প্রতিশোধ♥
পার্ট -3
লেখকঃ অদ্রিত আল মাসুদ

 

সব ব্যাগ নিয়ে আমি বাড়ির ভিতরে গেলাম।আরহীর পিছে পিছে আমি আরহীর ঘরে গিয়ে ব্যাগগুলো রেখে দিলাম।
.
—আমি এখন ফ্রেস হতে যাচ্ছি।ফ্রেস হয়ে এসে জানি দেখি আমার নাস্তা তৈরি হয়ে গেছে।নাহলে তোর অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে।(আরহী)
—আচ্ছা।(আমি)
.
আরহীর জন্য নাস্তা করার জন্য আমি রান্না ঘরে চলে গেলাম।রান্না ঘরে এসে ভাবতে লাগলাম কি নাস্তা বানাবো?আমি ত কিছুই রান্না করতে পারি না।
.
রান্নাঘরটা একটু খুঁজে দেখলাম ডিম আর রুটি রাখা আছে।তাই ডিমটা ভেজে রুটি দিয়ে নাস্তা তৈরি করে রাখলাম।জীবনে কখনও রান্না করি নাই জানি না কেমন হয়েছে।একটু পরে আরহী ফ্রেস হয়ে নিচে আসল।
.
—কিরে নাস্তা তৈরি করেছিস?(আরহী)
—হ্যাঁ।(আমি)
—তাড়াতাড়ি এনে দে।নাস্তা করে আমি বাহিরে যাব।
.
আমি নাস্তা আরহীর সামনে এনে দিলাম।আরহী একটু মুখে দিয়ে রুটি আর ডিম সহ প্লেটটি আমার দিকে ছুঁড়ে মারল।প্লেটটি আমার মাথায় লেগে আমার মাথা ফেটে গেল।
.
—ছোটলোকের বাচ্চা এইটা তুই কি ভাজছিস?(আরহী)
—ডিম।(আমি)
—এইটারে ডিম ভাজা বলে?
—কেন কোন কিছু কম হয়েছে?
—দাঁড়া তোকে দেখাচ্ছি কোন কিছু কম হচ্ছে নাকি না।
.
কথাটা বলেই আরহী পাকা থেকে ডিম ভাঁজাটি উঠিয়ে আমার মুখের মধ্যে জোড় করে ডুকিয়ে দিতে লাগল।আমি খেতে চাই নেই তবুও আমার মুখের দুই পাশ ধরে জাতা দিয়ে মুখ খুলিয়ে ডিম ভাঁজিটা আমার মুখে ডুকিয়ে দিল।
.
—দেখ এখন কেমন হয়েছে।(আরহী)
—নিশ্চুপ।(আমি)(আমার মুখ ব্যাথা করচ্ছে)
—কি হলো কথা বলচ্ছিস না কেন?
—একটু লবণ কম হয়েছে।আসলে আমি আগে কখনও রান্না করি নেই ত তাই এমন হয়েছে।
—রান্না করিস নেই ত শিখ।আজ থেকে এই বাড়ির সব কাজ তুই করবি।আর তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে আয়।আমি এখন ভার্সিটিতে যাব।
—আচ্ছা,আপনি গাড়ির কাছে যান আমি একটু পরেই আসচ্ছি।
.
আমি তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে গাড়ির কাছে গেলাম।গাড়ির কাছে গিয়ে দেখি আরহী পিছনে বসে বসে কারো সাথে কথা বলছে।আরহী আমাকে দেখে ইশারা করে আমাকে গাড়ি চালাতে বলে আবার কথা বলতে লাগল।
.
আমিও আমার মতো গাড়ি চালিয়ে ভার্সিটিতে এসে পরলাম।ভার্সিটিতে আসার পর আরহী তার বান্ধুবীদের সাথে কথা বলতে চলে গেল আর আমি গাড়ি রেখে ক্লাসে চলে আসলাম।
.
ক্লাসে এসে বসেছি আর তখনই আরহী আমাকে ফোন দিল।ফোন দিয়ে বলল আমাকে তাড়াতাড়ি তার কাছে যেতে।কি নাকি দরকার পরেছে।আমিও দৌঁড়ে আরহীর কাছে গেলাম।
.
—ঠাসস ঠাসস।এইটুকু জায়গা আসতে তোর এত সময় লাগল?(আরহী)
—সরি ম্যাডাম।আমাকে কি করতে হবে?(আমি)
—দেখতে পাচ্ছিস না আমার পায়ে কাদা লেগেছে?যা তাড়াতাড়ি গাড়ি থেকে জল এনে আমার পা ধুয়িয়ে দে।
—আপনি একটু অপেক্ষা করুন।আমি এখনি জল নিয়ে এসছি।(আমি গাড়ি থেকে জল এনে আরহীর পা আর জুতো ধুয়িয়ে দিতে লাগলাম)
—আরহী,এই কুওার বাচ্চাকে এত সময় জাত করলে কি করে?(জয়)
—আরে বলিস না।অনেক কষ্ট করতে হয়েছে।
—তুই ত দেখি ওকে পালতু কুওা বানিয়ে ফেলেছিস।(সবাই হাসতে লাগল)
—ম্যাডাম,আপনার পা আর জুতা পরিষ্কার হয়ে গেছে।
—যা এখন।
.
আমার বুকে একটা লাথি দিয়ে ফেলে দিল।সবাই আবার হাসতে লাগল।আমি সেখান থেকে চলে আসলাম।হঠাৎ খেয়াল করলাম আমার চোখের কোণে জল।
.
আমি আমার চোখ মুখে ক্লাসে চলে আসলাম।চোখ মুছা ছাড়া যে আমার আর কিছু করার নেই।আমি আজকে প্রতিবাদও করতে পারব না।কারণ আজকে আমি আরহীর কাছে বিক্রি হয়ে গিয়েছি।
.
এইসব ভাবতে ভাবতে আবার আমার চোখ জলে ভরে গেল।একটু পরে দেখলাম আরহী জয়ের হাসতে হাসতে ক্লাসে আসছে।জয় হল আরহীর বন্ধু।জয়ও আরহীদের মতো অনেক বড়লোক।
.
জয় আর আরহী সবার শেষের বেঞ্জে গিয়ে বসল।একটু পরে ক্লাসে স্যার আসল।স্যার স্যারের মতো ক্লাস করতে লাগল।কিন্তুু আমার নজর আরহী আর জয়ের উপর।
.
ওরা দুইজন ওদের মতোই কথা বলছে।ক্লাস শেষ করে আমি গাড়ির সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে আরহীর জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম।একটু পর আরহী জয়ের সাথে আসল।
.
জয় আরহীর কমড়ের নিচে হাত দিয়ে আছে।জয় আমার বউয়ের শরীরে হাত দিয়ে আছে আর আরহীও কিছু বলছে না।এইটা দেখে আরহীর উপর আমার অনেকটা রাগ হল।তারপর গাড়ি চালিয়ে আমি আরহীকে নিয়ে বাড়িতে চলে আসলাম।
.
—আরহী,তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে।(আমি)
—কি বলবি বল।(আরহী)
—তুমি আর জয়ের সাথে মিশবে না।
—কেন?
—জয় ভাল ছেলে না।তাছাড়া জয় আজকে তোমার কমড়ের হাত দিয়েছিল এইটা আমার দেখতে মোটেও ভাল লাগে নেই।কারণ তুমি আমার বিয়ে করা বউ।আর তুমি ভুলে যেও না তুমি একটা সম্মানিত পরিবারের মেয়ে।
—ঠাসস ঠাসস।আমি তোর কথা মেনে চলব তুই ভাবলি কি করে?ভুলে যাস না আমি তোর চাকর না তুই আমার চাকর।
—চাকর হওয়ার আগে আমি তোমার স্বামী।
—ঠাসস ঠাসস।কিসের স্বামী?তুই শুধু আমার বাবার টাকায় কেনা চাকর।আর কখনও তুই আমার সামনে স্বামীর অধিকার নিয়ে আসবি না।নাহলে বউ নির্যাতনের কেসে তোকে জেলের ভাত খাওয়াব।শুধু তোকে না তোর মা আর তোর ঐ ছোট বউকেও জেলের ভাত খাওয়াব।
—না না।আমি আর কখনও তোমাকে কিছু বলব না।
—কথাটা জানি মনে থাকে।
—হ্যাঁ,থাকবে।
—ঠাসস ঠাসস।ঠাসস ঠাসস।
—এখন মারলে কেন?
—কারণ তুই আমার হাত ধরার দূরসাহস করেছিস।এরপর থেকে আমাকে ধরার এমন দূরসাহস করার আগে এই ঠাপ্পর গুলোর কথা মনে রাখিস।আর জীবনেও আমার ধরার দূরসাহস করিস না।নাহলে তোর জন্য ভাল হবে না।
—আচ্ছা।
—এখন তাড়াতাড়ি যা কোন হোটেল থেকে আমার জন্য খাবার কিনে নিয়ে আয়।এত সময়ে আমি ফ্রেস হয়ে আসি।
—আচ্ছা।
.
আরহী ফ্রেস হতে চলে গেল আর আমি গাড়ি নিয়ে একটা হোটেলে গিয়ে আরহীর জন্য খাবার কিনে আনলাম।আমি খাবার কিনে এসে দেখি আরহী বসে বসে টিভি দেখচ্ছে।
.
—ম্যাডাম,আপনার খাবার কিনে নিয়ে এসেছি।(আমি)
—তাড়াতাড়ি সব তৈরি করে দে।(আরহী)
—আচ্ছা,আপনি বসুন।আমি খাবার বেড়ে দিচ্ছি।
.
আরহী খাবার খেতে বসল।আমি আরহীকে খাবার বেড়ে দিলাম।আরহী খেতে শুরু করল।আরহীকে খেতে দেখে আমি মনে মনে ভাবতে লাগলাম কি দিন এসে গেছে।
.
আগে জানতাম বউ স্বামী খাওয়ার আগে খায় না।এমন কি বউরা সব সময় স্বামীদের খাবার বেড়ে দেয়।কিন্তুু আমার বেলা হচ্ছে উল্টো।এইসব ভাবতে ভাবতে আরহীর খাওয়া শেষ হয়ে গেল।
.
—ঐ কুওার বাচ্চা কি ভাবচ্ছিস?(আরহী)
—কিছু না।(আমি)
—তোর জন্য কি তুই খাবার এনেছিস?
—না।
—আমার প্লেটে যেগুলো আছে সেইগুলো খেয়ে নে।
—আচ্ছা।
.
এইভাবেই দিনটা শেষ হল।

রাতে খাবার শেষ করে থালা-বাসন পরিষ্কার করে আমার ঘরে আমি শুতে যাব তখনই দেখি আরহী ছোট ছোট পোশাক পরে কোথাও যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছে।
.
আমি ভিতরে যেতেই দেখলাম আরহী পোশাক পরির্বতন করচ্ছে।আমি এইটা দেখেই তাড়াতাড়ি ঘর থেকে বেরিয়ে গেলাম।একটু পরে আরহী পোশাক পরে আমার সামনে আসল।
.
—ঠাসস ঠাসস ঠাসস ঠাসস।কুওার বাচ্চা,ছোটলোকের বাচ্চা একজনের ঘরে ডুকার আগে তার অনুমতি নিতে হয় এইটা তোর মা-বাবা তোকে শিখায় নেই?(আরহী)

—দুঃখিত।আমি জানতাম না তুমি পোশাক পরির্বতন করছিলে।(আমি)

—ঠাসস ঠাসস।তুই জানতি না নাকি একটা মেয়েকে একা পেয়ে তার ইজ্জত নিতে চেয়েছিলি?আমার শরীরের উপর তোর এত লোভ?

—তুমি বিশ্বাস কর তোমার শরীরের উপর আমার কোন লোভ নেই।

—বিশ্বাস তাও আবার তোকে?কোন দিনই না।তোর মতো চরিত্রহীনা ছেলেকে বিয়ে করে আমি অনেক বড় ভুল করেছি।

—তুমি ত আমার বিয়ে করা বউ।তোমার সাথে যদি আমি কিছু করি তাহলে ত তা অন্যায় না।তাছাড়া আমরা একে অপরকে ভালবাসি।

—ভালবাসা?তাও আবার তোকে?আর তুই জানি কি বললি আমি তোর বিয়ে করা বউ।তুই জানিস আমার একমাসে কত টাকা লাগে?তোর ঐ মুরাদ আছে আমার খরচ চালানোর?

—তোমার কাছে কি টাকায়ই সব?আমার ভালবাসাটা কিছু না।

—ফক্কিন্নির আবার ভালবাসা আর শুন আমার ঘরে তোকে যদি আমি আর কখনও দেখেছি তাহলে তোর জন্য ভাল হবে না।

—তাহলে আমি কোথায় ঘুমাব?

—এই বাড়িতে কি কম রুম আছে?এইটা কি তোদের বাড়ির মতো বসতি বাড়ি?যেকোন একটা রুমে শুয়ে থাক।

—আচ্ছা।

—এখন তাড়াতাড়ি গিয়ে গাড়ি বের কর।

—তুমি এই ছোট ছোট কাপড় পরে কোথায় যাবে?

—ক্লাবে।

—তাই বলে এই ছোট ছোট কাপড় পরে?

—ঠাসস ঠাসস।আমি এতছোট কাপড় নাহলে আরও ছোট কাপড় তাতে তোর কি?ভুলে যাস না তুই আমার চাকর।এখন গিয়ে তাড়াতাড়ি গাড়ি বের কর।
—আচ্ছা।
.
আমি গাড়ি বের করলাম।একটু পরে আরহী গাড়িতে এসে বসল।আমি আরহীকে গিয়ে একটা ক্লাবে গেলাম।সেখানে জয় এবং আরহীর আরও অনেক বন্ধু-বান্ধুবীরা আছে।
.
আরহী ওদের সাথে মিশে মদ খেতে লাগল আর নাচতে লাগল।আমি এক কোণায় দাঁড়িয়ে শুধু দেখতে লাগলাম।আরহী মদ এত বেশি খেয়ে ফেলেছে যে এক পর্যায়ে মাতাল হয়ে যায়।
.
আর জয় এর সুযোগ নেওয়ার জন্য আরহীকে নিয়ে একটা রুমে চলে যায়।আমিও জয়ের পিছনে পিছনে যেতে লাগলাম।জয় যখন রুমে নিয়ে গিয়ে আরহীর কাপড় খুলতে থাকে তখনই আমি সেখানে গিয়ে জয়ের হাত ধরে ফেলি।
.
—ঐ ফক্কিন্নির বাচ্চা তুই কোন সাহসে আমার হাত ধরলি?(জয়)

—আপনি আরহীর কাপড় খুলছেন কেন?(আমি)

—কেন তুই কি কিছু বুঝিস না?যদি তুই তোর ভাল চাস তাহলে আমার হাত ছেড়ে দে।

—আমার ভাল হতে হবে না।আপনি যদি ভাল চান তাহলে এখন থেকে চলে যান।তাছাড়া কোন সাহসে আপনি আমার বউয়ের শরীরে হাত দিয়েছেন?
—দেখ আরহী ত তোকে সবসময় সবার সামনে অপমান করে।তাই আয় তুই আর আমি মিলে এখন আরহীর এই মাতাল অবস্থার সুযোগ নেই।

—আমি আপনার মতো কাপুরুষ না যে কোন মেয়ের মাতাল অবস্থার সুযোগ নিব।

—দেখ তুই কিন্তু আমাকে অপমান করে ভাল করছিস না।এখনও সময় আছে আরহীকে আমার কাছে রেখে তুই চলে যা।নাহলে এখন তোকে মেরে হাত পা ভেঙ্গে ফেলব।

—আপনার যা করার করতে পারেন।কিন্তুু আমি আরহীকে রেখে কোথাও যাব না।

—তুই একটু অপেক্ষা কর তারপর তোকে দেখাচ্ছি আমি কি করতে পারি।
.
এই কথা বলে জয় রুমের বাহিরে চলে গেল আর আমি আরহীকে কুলে নিয়ে গাড়ির দিকে আসতে লাগলাম।আমি যখন ক্লাবের মধ্যে দিয়ে আসছিলাম তখন জয় ওর কিছু বন্ধুদের নিয়ে আমার রাস্তা আটকাল।
.
এখানে ঐ ছেলেগুলোও ছিল যারা সেইদিন আমাকে অপমান করছিল আর আরহী যাদের ঠাপ্পর দিয়েছিল।ওরা সবাই মিলে আরহীকে আমার কাছে থেকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
.
এক পর্যায়ে আমি ওদের সবাইকে মেরে আরহীকে নিয়ে বাড়িতে চলে আসলাম।বাড়িতে আসার পরেও আগের মতোই মাতলামি করতে লাগল।আমি আরহীকে তেঁতুলের পানি খায়িয়ে দিলাম।যাতে করে নেশাটা কাটে।
.
তারপর আরহীকে আরহীর রুমে শুয়িয়ে দিয়ে আমার তার পাশের রুমে শুতে চলে গেলাম।সকালে আমি তাড়াতাড়ি উঠে হোটেল থেকে আরহীর জন্য নাস্তা নিয়ে আসলাম।
.
আরহী ঘুম থেকে উঠে ফ্রেস হয়ে নাস্তা করল।তারপরে আমি আরহীকে নিয়ে ভার্সিটিতে চলে আসলাম।আরহীকে ভার্সিটিতে নামিয়ে আমি ক্লাসে চলে গেলাম আর আরহী ওর বন্ধু-বান্ধুবীদের কাছে চলে গেল।
.
আরহী সেখানে গিয়ে দেখে জয় এবং আরও কয়েকটা ছেলের হাতে মাথায় ব্যান্ডেজ করা।তাই আরহী ওদের জিজ্ঞাস করল এইটা কি করে হলো?ওরা আরহী কালকের রাতে ঘটনা বলল আর সাথে কিছু বানিয়েও বলল।
.
সত্যি বলতে আমি ওদের এতও মারি নেই যার জন্য ওদের মাথায় ব্যান্ডেজ করতে হবে।ওদের কথা শুনে আরহীর মাথা গরম হয়ে যায়।আরহী আমাকে ফোন করে ওর কাছে যেতে বলে।
.
আমিও তাড়াতাড়ি আরহীর কাছে চলে যাই।আমি আরহীর কাছে যাওয়ার পর অনেকটা অবাক হয়ে যাই।যখন দেখি জয় এবং বাকিদের শরীরে এত ব্যান্ডেজ।
.
—তুই কালকে ওদের মেরেছিস?(আরহী অনেকটা রাগে)

—নিশ্চুপ।(আমি)

—কি হলো বল?

—হ্যাঁ।

—কেন মেরেছিস?

—জয় কালকে তোমার মাতাল অবস্থার সুযোগ নিতে চেয়েছিল তাই আমি ওদের মেরেছি।

—ওরা আমার সাথে যা মনে চাই তাই করুক।তাতে তোর কি?

—কালকে যদি জয় তোমার কোন ক্ষতি করে দিত।তখন কি তুমি কাউকে মুখ দেখাতে পারতে?

—আমি মুখ দেখাতে পারতাম নাকি না এইটা আমার ব্যাপার।আমার ব্যাপারে তোকে এত মাথা ঘামাতে বলেছে কে?তাছাড়া ওরা আমার বন্ধু।ওরা আমার সাথে যা মনে তাই করতে পারে।

—ওরা যদি তোমার বন্ধু হয় তাহলে আমি তোমার স্বামী আর তোমাকে শয়তান মানুষের হাত থেকে রক্ষা করা আমার দায়িত্ব।

—কিসের স্বামী?আর কিসের দায়িত্ব?আমাকে রক্ষা করার দায়িত্ব তোকে কে দিয়েছে?

—তোমার বাবা।

—মানি না।তোকে আমি আমার স্বামী হিসাবে মানি না আর আমার বাবা তোকে যে অধিকার দিয়েছে সেই অধিকার আমি কেড়ে নিলাম।তাছাড়া ভুলে যাস না একবছর পরে আমি তোকে ডির্ভোস দিয়ে দিব আর এই একবছরের জন্য তুই আমার বাবার টাকায় কেনা চাকর।

—আমি ভুলব কি করে আমি তোমার বাবার টাকায় কেনা চাকর?তুমি কি আমাকে একবারও ভুলতে দিয়েছ?

—দুইদিনেই তুই সাহস অনেক বেড়ে গিয়েছিস তাই না?দাঁড়া তোর এত বাড়া আমি বের করছি।

—আরহী,কালকে ঐ আমাদের কুওার মতো মারল আর তুমি কি ওকে এইভাবেই ছেড়ে দিবে?ওকে কি কিছু বলবে না?

—বলব না মানে?ঐ কোন সাহসে আমার বন্ধুদের মেরেছে?আমার সাথে যা মনে তাই হয়ে যাক ঐ কে তোদের মারার?
.
এইটাই বলে আরহী কি জানি খুঁজতে লাগল।আরহীকে দেখে বুঝা যাচ্ছে আরহীর মাথা এখন অনেক গরম।কিন্তুু এরপরে আরহী আমার সাথে যা করল আমি কোনদিন ভাবতেও পারি নেই আরহী সবার সামনে আমার সাথে এমন কিছু করতে পারে।

আরহী চারপাশ ভাল করে খুঁজতে লাগল।কিন্তুু কিছু পেল না।যখন আরহী কিছু পেল না তখন জয়কে বলল।
.
—জয়।(আরহী)

—হ্যাঁ,বল।(জয়)

—তোর পা থেকে জুতাটা খুলে আমাকে দে ত।

—কেন?আমার জুতা দিয়ে তুই কি করবি?
—আগে দে তারপরে দেখিস আমি কি করি।

—আচ্ছা,নে।
.
জয় তার পায়ের থেকে জুতা খুলে আরহীর দিকে এগিয়ে দিল।আরহী জয়ের হাত থেকে জুতাটা নিয়ে কিছু সময় দাঁড়িয়ে থাক।তারপর হঠাৎ করেই সেই জুতা দিয়ে আমার গালে এবং শরীরের বারি দিতে লাগল।
.
এইসব দেখে জয় আর বাকি সবাই হাসতে লাগল।আরহীর এমন আচরণ দেখে আনিকা দৌঁড়ে আসে আরহীর হাত ধরল।এত সময় আনিকা এখানে ছিল না।
.
—আরহী,তুই এইটা কি করছিস?সাগরকে এমন করে জুতা মারছিস কেন?(আনিকা)

—ওর সাহস হয় কি করে কালকে রাতে আমার বন্ধুদের মারার?(আরহী)

—কালকে যদি সাগর ওদের না মারত তাহলে তুই এখন কাউকে মুখ দেখাতে পারতি না।

—মানে?আমার এমন কি হত যার জন্য আমি মুখ দেখাতে পারতাম না?

—কালকে রাতে তুই মদ খেয়ে যখন মাতাল হয়ে গিয়েছিলি তখন জয় তোর মাতাল হওয়ার সুবিধা নেওয়ার জন্য তোকে একটা রুমে নিয়ে গিয়েছিল।তখন সাগর গিয়ে তোকে ওর হাত থেকে রক্ষা করে।তাই ত ওরা সাগরকে মারতে এসেছিল।সাগর নিজেকে আর তোকে বাঁচানোর জন্য কালকে ওদের মেরেছে।

—তুই শুধু শুধু মিথ্যা কথা বলছিস কেন?

—আমি মিথ্যা বলছি না।যদি তোর আমার কথা বিশ্বাস না হয় তাহলে প্রিয়াকে জিজ্ঞাস কর।

—প্রিয়া আনিকা কি সত্যি বলছে?

—হ্যাঁ।(প্রিয়া)

—কিন্তুু জয় যে বলল কালকে আমি মাতাল হয়ে যাওয়ার পর সাগর আমাকে নিয়ে একটা রুমে চলে গেয়েছিল আর জয় ওরা ওকে বাধা দিতেই ঐ ওদের মেরেছে।

—ওরা তোকে মিথ্যা বলেছে।যাতে করে তুই ওদের সামনে সাগরকে মারিস।

—তাছাড়া তোর কি নিজের বুদ্ধি নেই?সাগর যদি তোর সুবিধাই নিতে চায় তাহলে ত তোর বাড়িতেই নিতে পারে।তাছাড়া সাগর তোর সুবিধা নিলেই কি সাগর তোর স্বামী।

—আমি মানি না ওকে আমার স্বামী।আর জয় তুই এইটা ঠিক করলি না।ঠাসস ঠাসস
.
এইবার থাপ্পর গুলো জয়ের গালে পরেছে।আরহী জয়কে  থাপ্পর  মেরে ক্লাসে চলে গেল।আমিও মাথা নিচু করে ক্লাসে চলে আসলাম।
.
ক্লাসে চলে আসার সময় দেখলাম ভার্সিটির সবাই আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে।চোখ থেকে কয়েক ফোঁটা জল পরে গেল।আমি জানি গরিব আর চাকরের চোখের জলের কোন দাম নেই তাই চোখ মুছে ক্লাস করতে লাগলাম।ক্লাস শেষ করে আরহীকে গাড়িতে করে বাড়িতে নিয়ে গেলাম।
.
—ম্যাডাম,একটা কথা বলার ছিল।(আমি)

—কি বল?(আরহী)

—ম্যাডাম,আমি একটু বাড়িতে যাই?
—কেন?বাড়িতে গিয়ে কি আমার নামে তোর মার কাছে বিচার দিবি?

—না না ম্যাডাম।বিচার দিব কেন?আপনি আপনার চাকরকে ভার্সিটির সবার সামনে আপনার বন্ধুর জুতা দিয়ে মেরেছেন এতে বিচার দেওয়ার কি আছে?

—তাহলে কেন যাবি?

—আসলে ম্যাডাম মা আর বোনকে দেখতে অনেক ইচ্ছে করছে।আপনি ত জানেন আমার বোন আমাকে ছাড়া খায় না।দুইদিন ধরে আমি যাই না কি খেল না খেল তাও ত জানি না।তাই যদি একটু অনুমতি দিতেন তাহলে একটু দেখে আসলাম।

—আমার খাবার এনে দিয়ে তারপরে যা।

—আচ্ছা।

—গাড়িটা এখানে রেখে যাস।তুই হেঁটে তোদের বাড়িতে চলে যা।

—আচ্ছা,ম্যাডাম।
.
আমি হোটেল থেকে আরহীর জন্য খাবার এনে একটা রিশকা নিয়ে বাড়িতে চলে গেলাম।বাড়িতে গিয়ে দেখি মা আর বোন মন খারাপ করে বসে রয়েছে।শ্রেয়া আমাকে দেখে আমার কাছে দৌঁড়ে চলে আসল।
.
—কিরে মন খারাপ করে বসে রয়েছিস কেন?(আমি)

—দেখ না ভাইয়া আমি মাকে কখন থেকে ভাত দিতে বলছি কিন্তুু মা আমাকে ভাত দিচ্ছে না।উল্টো আমাকে বকেছে।(শ্রেয়া)

—মা,তুমি ওকে খেতে দিচ্ছ না কেন?

—শ্রেয়ায়া,তুই রান্না ঘর থেকে ভাইয়ার জন্য পানি নিয়ে আয় ত।(মা)(শ্রেয়া পানি আনার জন্য চলে গেল)

—কি হল বল?

—কি খেতে দিব?বাড়িতে একটা চাল পর্যন্ত নেই।

—চাল নেই মানে?তাছাড়া তোমার কাছে টাকা নেই?

—না রে।যে টাকা ছিল কালকে বাড়িওয়ালাকে দিয়ে দিয়েছি।

—তুমি আমাকে আগে বলবে না তোমার কাছে টাকা নেই।তুমি পানি গরম কর আমি গিয়ে চাল,ডাল নিয়ে আসছি।তারপর সবাই মিলে খাব।
—আচ্ছা।
.
আমি চাল কেনার জন্য বাহিরে চলে আসলাম।কিন্তুু আমার কাছেও ত টাকা নেই।এখন কি করে চাল কিনব?চাল না কিনলেও ত হবে না।নাহলে যে আমার পিচ্ছিটা না খেয়ে কাটাতে হবে।
.
কি করব কি করব?ভাবতে ভাবতে যে কাকা রিশকা ভাড়া দিয়েছিল তার কাছে গেলাম।তার কাছ থেকে কিছু টাকা ধার এনে চাল,ডাল কিনে বাড়িতে গেলাম।
.
কিন্তুু বাড়িতে গিয়ে আমি অনেকটা অবাক হলাম।কারণ আরহী এসেছে।আরহী শ্রেয়ার সাথে খেলা করছে।আমি মাকে ডাক দিলাম।
.
—মা,সবকিছু নিয়ে এসেছি।(আমি)

—ঠিক আছে দে আমাকে।আমি রান্না করছি তুই ফ্রেস হয়ে আস।(মা)

—আচ্ছা।(আমি ফ্রেস হয়ে এসে শ্রেয়ার পাশে বসলাম)

—ভাইয়া,তুমি আগে কেন বললে না ভাবিও আসবে?(শ্রেয়া)

—আমি তোমাকে সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিলাম।তাই তোমার ভাইয়াকে বলতে না বলেছিলাম।(আরহী)

—ভাবি,তুমি না অনেক ভাল।

—বাহ্।ভাবিকে পেয়ে আমাকে ত ভূলেই গেলি।(আমি)
—ভাইয়া তুমিও না।আমার মত শুধু শুধু রাগ কর।

—রাগ করব না ত কি করব?আমি আসার পরে ত তুই আমার সাথে ঠিক মতো কথাও বলিস নাই।

—তোমার সাথে কিভাবে কথা বলব?তুমি এসেই ত আবার বাজারে চলে গেলে।(তখনই মা শ্রেয়াকে ডাক দিল।শ্রেয়া মার কাছে চলে গেল)

—ম্যাডাম,হঠাৎ করে এই চাকরের বাড়িতে আসলেন যে?

—তোকে এতবার ফোন দেওয়ার পরেও তুই যখন আমার ফোন ধরছিলি না তাই দেখতে আসলাম আমার বিরুদ্ধে কোন ষড়যন্ত্র করছিস নাকি না।

—না ম্যাডাম।আমি চাকর মানুষ আপনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে কি পাব?তাছাড়া আপনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করলে আমারই ক্ষতি হবে।

—এই কথাটা সবসময় মনে রাখিস তাহলেই তোর জন্য ভাল হবে।

—ম্যাডাম,আপনাকে একটা অনুরোধ করার ছিল।

—কি?
—দয়া করে মা আর বোনের সামনে আমার সাথে চাকরের মতো ব্যবহার করিয়েন না।নাহলে ওরা অনেক কষ্ট পাবে।

—আচ্ছা।
.
তারপর মার রান্না হওয়ার পর আমি আর আরহী বাড়িতে চলে আসলাম।রাতে আরহী যখন খেতে বসল তখন আমি আরহীকে বললাম।
.
—ম্যাডাম,কিছু যদি মনে না করেন তাহলে একটা কথা বলি?(আমি)

—কি?(আরহী)

—প্রতিদিন দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কি আমাকে ছুটি দিতে পারবেন?

—কেন?

—আমি একটা কাজ ঠিক করেছি।সেইটা করব।নাহলে আমার মা আর বোন না খেয়ে মরে যাবে।

—তুই চলে গেলে আমার কাজগুলো কি তোর বাপ এসে করে দিবে?

—না ম্যাডাম।আপনার কাজগুলো করেই আমি যাব।

—ছুটি দিতে পারি যদি আমি ফোন করার পর ত্রিশ মিনিটের মধ্যেই বাড়িতে আবার চলে আসতে পারেস তাহলেই ছুটি দিব।

—আচ্ছা,আসব।

—ঠিক আছে।তাহলে যেতে পারস।

—ধন্যবাদ,ম্যাডাম।
.
তারপর থেকে প্রতিদিন আমি দুপুরে আরহীকে বাড়িতে নামিয়ে আরহীর খাবার দিয়ে আমি সেই কাকার কাছে চলে যেতাম।সেখান থেকে রিকশা নিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত রিকশা চালাতাম।এইভাবেইএকমাস চলে গেল।সন্ধ্যায় যখন আমি বাড়িতে এসে যা দেখলাম তখন অনেকটা অবাক হয়ে গেলাম।
.
#চলবে

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *