রোমান্টিক প্রতিশোধ Part_4

#রোমান্টিক_প্রতিশোধ♥
পার্ট -4
লেখকঃ অদ্রিত আল মাসুদ

রোমান্টিক প্রতিশোধ part-1

রোমান্টিক প্রতিশোধ part-2

রোমান্টিক প্রতিশোধ part-3

রোমান্টিক প্রতিশোধ part-4

রোমান্টিক প্রতিশোধ part-5

 

আমি বাড়িতে আসতেই দেখি ঘরের মধ্যে আরহীর মা-বাবা,আমার মা আর শ্রেয়া বসে রয়েছে।তাদের পাশে আরহী বসে বসে কান্না করছে।আরহীর শরীর দেখে মনে হচ্ছে কেউ আরহীকে অনেক মেরেছে।
.
—তোমরা সবাই এখানে?মা তুমিই বা কষ্ট করে এত রাতে এখানে আসতে গেলে কেন?যদি কোন দরকার হতো তাহলে আমাকে বলতে আমি চলে যেতাম।(আমি)

—ঠাসস ঠাসস।ঠাসস ঠাসস।(এইবার মা আমাকে ঠাপ্পরগুলো মারল)

—মা,তুমি আমাকে মারলে?
.
আমি অনেকটা অবাক।কারণ আমি এত বড় হয়েছি মা কখন আমার গায়ে হাত তুলে নেই।আমি যতবড়ই অন্যায় করি না কেন?মা আমাকে কখনও কিছু বলে নেই।
.
আর আজকে সেই মা কোন কারণ ছাড়া মারল?কথাটা ভাবতেই আমার চোখ দিয়ে পানি বের হতে লাগল।
.
—তোর মতো ছেলেকে জন্ম দিয়ে আমি আমার জীবনের সব থেকে বড় ভুল করেছি।তোর জন্মের সময় যদি আমি তোকে মেরে ফেলতাম তাহলে আজকে সবার সামনে আমাকে নিচু হতে হতো না।(মা)(মার কথাটা শুনে আমি অনেক বেশি কষ্ট পেলাম)

—আমি কি এমন করেছি যার জন্য আমাকে জন্ম দিয়ে তুমি তোর জীবনের সব থেকে বড় ভুল করেছ?(কান্না করে)

—কেন তুই জানিস না?

—না।

—ঠাসস ঠাসস।আবার মিথ্যা বলছিস?

—বিশ্বাস কর আমি মিথ্যা বলছি না।

—সাগর,তোকে ত আমি এই সব কোনদিন শিখায় নেই?আমি কষ্ট করে তোকে পড়ালেখা শিখিয়েছি।নিজে এক বেলা না খেয়ে তোকে খায়িয়েছি আর তুই কিনা এমন কিছু করবি?তা আমি কোন দিনও ভাবতে পারি নেই।(মা কান্না করে দিয়েছে)

—সাগর,বাবা তোমার টাকা লাগবে সেইটা তুমি আমাকে বলতে।আমার যা যা আছে সবকিছু ত তোমার আর আরহীর।তোমার যত টাকা লাগত আমি তোমাকে দিতাম।কিন্তুু তুমি টাকা জন্য শুধু শুধু আমার মেয়েটাকে মারলে কেন?(আরহীর বাবা)

—আমি আপনার টাকা দিয়ে কি করব?আর আমি শুধু শুধু আরহীকে মারবই কেন?

—দেখছ তুমি?এখনও কেমন আমাদের সামনে মিথ্যা বলেই যাচ্ছে।আমি তোমাকে আগেই বলেছিলাম তুমি এই ছোটলোক ছেলের কাছে আমার মেয়েকে বিয়ে দিও না।ঐ শুধু আমার মেয়েটাকে ভালবাসার নাটকে ভুলিয়ে আমাদের টাকা পাওয়ার জন্য বিয়ে করেছে।(আরহীর মা)

—মা,আপনি আমাকে ভুল বুঝছেন?আমি আরহীকে টাকা জন্য বিয়ে করি নেই।

—ঠাসস ঠাসস।কত বড় সাহস আবার মিথ্যা বলে।বিয়ে আগে তুমি আরহীর কাছে থেকে দশ লক্ষ টাকা নেও নেই?আর এখন যখন তুমি আবার আরহীর কাছে টাকা চাচ্ছে আরহী তোমাকে না করে দিয়েছে দেখে তুমি আরহীকে মার নেই?

—আমি বিয়ের আগে আরহীর কাছে থেকে টাকা এনেছি ঠিকই।কারণ জয়ার এক্সিডেন্ট এর জন্য টাকা গুলো লাগত।কিন্তুু এখন আমি আরহীর কাছে টাকা চায় নেই আর আরহীকে মারিও নেই।তাছাড়া আপনারাই বলুন আমি এখন টাকা এনে কি করব?

—কেন?তোমার মা আর বোনকে দেওয়ার জন্য।আরহী এতদিন তোমাকে টাকা দিয়েছে তাই ত তুমি ওদের খাওয়াতে পেরেছ।নাহলে ত ওরা না খেয়ে মরত।আর যখন আরহী তোমাকে টাকা দিতে না করল তখন এই বেল দিয়ে তুমি আরহীকে মারতে।
.
আরহীর মা যে বেলটা দেখাল সেইটা বেলটা দিয়ে প্রায় প্রতিদিন আরহী আমাকে মারে।আমার এই বাড়িতে আসার পনের দিন পর আরহী হোটেলের খাবার খেতে না করে দেয়।
.
আর বলে আমাকে আরহীর জন্য রান্না করতে।যাতে আমি কাজ করতে কম সময় পাই।তবুও আমি আরহীর জন্য রান্না করতাম।কিন্তুুু অনেক সময় লবণ,মশলা এবং বিভিন্ন দিন বিভিন্ন জিনিস কম হত।
.
তাই আরহী আমাকে ঠাপ্পর মারত।কিন্তুু এক সময় আমাকে মারতে মারতে আরহীর হাত ব্যাথা হয়ে যেত।তাই আরহী এই বেলটা কিনে নিয়ে এসেছিল।আর এইটা দিয়েই আমাকে প্রায় মারত।
.
—আমরা না খেয়ে মরে যেতাম।তাও সেইটা সুখের হত।কিন্তুু তুই শেষ পর্যন্ত বউমার কাছে থেকে টাকা এনে আমাদের পেট ভরালি?(মা)

—মা,বিশ্বাস কর আমি তোমার পেট আরহীর টাকায় ভরাই নেই।আমি নিজে কাজ করে তোমার টাকা দিতাম।

—কি এমন কাজ করতি তুই?যাতে করে এতগুলো টাকা পেয়েছিস?

—আমি প্রতিদিন রিশকা চালাতাম।তারপর যে টাকা হতো সেইগুলো তোমাদের দিয়ে আসলাম।

—মা,ঐ মিথ্যা বলছে।সাগর,আমাকে প্রতিদিন বেলটা দিয়ে মারত।দেখ সাগর আমাকে মারতে মারতে কি করে ফেলেছে।(আরহী নিজের শরীরের দাগ দেখাল)

—তুমি যদি আমার মেয়েকে না মারতে তাহলে এইসব দাগ আসল কি করে?এখন তুমি বলবে আমার মেয়ে নিজের ইচ্ছেই বেল দিয়ে দাগ করেছে যাতে করে আমাদের সবার সামনে তোমাকে ছোট করতে পারে এবং তোমাকে বকা খাওয়াতে পারে।

—বাবা,আপনি একদম ঠিক বলেছেন।আরহী এইগুলো নিজের ইচ্ছেই করেছে।আমি এই পর্যন্ত আরহীর শরীরে হাতও দেয় নেই।

—বাবা,তুমি ওর কথায় বিশ্বাস কর না।ঐ সব মিথ্যা বলছে।

—আপনারা বিশ্বাস করুন।আমি কোন মিথ্যা বলছি না।মা তুমি ত আমাকে বিশ্বাস কর।আমি আরহীর শরীরে হাত তুলিনি।

—বিশ্বাস আর তোকে?কোনদিনই না।আর শুনে রাখ তোর এই পাপের টাকা আমাদের আর চাই না।আর তোর মুখ আমাদের আর কখনও দেখাবি না।আমাদের জন্য তুই আজকে থেকে মরা।যে ছেলে টাকার জন্য নিজের বউয়ের শরীরে হাত দিতে পারে সেইটা কখনও আমার ছেলে হতে পারে না।তাই আজকে থেকে তুই আমাদের আর কখনই তোর এই মুখ দেখাবি না এবং আমাকে আর মা বলে ডাকবি না।শ্রেয়া চল আমরা বাড়িতে যাব।(মা চলে গেল)

—ভাইয়া,বিশ্বাস করতে পারছি না তুই আমার ভাইয়া।তুই আমার এত ভাল ভাবির গায়ে হাত তুলেছিস ছি:।(শ্রেয়া)

—শ্রেয়া,তুই ত আমাকে বিশ্বাস কর।আমি এইসব কিছুই করে নেই।শ্রেয়া, শ্রেয়া।(শ্রেয়াও চলে গেল)(আমি ফ্লোরে বসে পরলাম)

—আরহী,আমাদের সাথে বাড়ি ফিরে চল।(আরহীর মা)

—না মা।আমি যাব না।

—কেন?আর তুই থাকলে ঐ যদি পরে আবার তোকে মারে?

—আমার মনে হয় না।ঐ আর এমন কিছু করবে।তাছাড়া তোমরা ত আমার সাথে আছই।

—তুই যা ভাল বুঝিস তাই কর।(আরহীর মা-বাবা চলে গেল)
.
সবাই চলে গেল আর আমি বসে কান্না করতে লাগলাম।

সবাই চলে যাওয়ার পর আরহী দরজা বন্ধ করে আমার সামনে এসে হাসতে লাগল।
.
—আমার সাথে এমনটা কেন করলে?আমি তোমার সব কথাই ত শুনেছি।তারপরেও কেন আজকে আমার থেকে আমার প্রিয় জনদের কেড়ে নিলে?(আমি।কান্না করে)

—তুই আমার সব থেকে প্রিয় বান্ধুবী আনিকাকে আমার থেকে দূরে করে দিয়েছিস।আজকে তোর জন্য আনিকা আমাকে বলল আমি নাকি অনেক খারাপ আর আমার মতো এমন নিষ্ঠূর মেয়ে নাকি পৃথিবীতে আর একটাও নেই।(আরহী)

—আনিকা ত ঠিকই বলেছে।আপনিই ভাবুন আপনার মতো এমন আর একটা মানুষ কি পৃথিবীতে আছে?আপনার মতো আর কেউ কি তাদের চাকরদের সাথে এমন করে?

—আর কেউ করুক আর না করুক তাতে আমার কিছু যায় আসে না।কিন্তুু আমাকে যে অপমান করে তাকে আমি সহজে ছাড়ি না আর তুই ত আমাকে ভার্সিটির সবার সামনে কয়েকবার অপমান করেছিস।তোকে তাহলে এত তাড়াতাড়ি কি করে ছেড়ে দিব?

—আপনার মনে হয় না আমি আপনার সাথে যা করেছিলাম তার থেকে অনেক গুণ বেশি অপমান এবং যন্তণা আপনি আমাকে দিয়েছেন?

—যন্তণার কি দেখলি?তোকে ত এখনও শাস্তি দেওয়ার বাকি আছে।তোকে আমি আমাদের বিয়ের দিন রাতেই বলেছিলাম তোকে আমি বিয়ে করেছি শুধু শাস্তি দেওয়ার জন্য।

—আপনার মনে হয় না আপনি আমাকে একটু বেশিই শাস্তি দিয়ে ফেলেছেন?আমার মনে হয় না পৃথিবীতে এমন কোন স্ত্রী আছে যে কিনা পরপুরুষ এর জুতা দিয়ে ভার্সিটির সকলের সামনে স্বামীর গালে জুতার বাড়ি মারে।

—তোর মনে হলেই কি আর না হলেই কি?এতে আমার কিছু যায় আসে না।

—ম্যাডাম,একটা কথা মনে রাখিয়েন সময় সবার এক যায় না।আজকে আপনার সময় ভাল তাই আপনি আমার উপর অত্যাচার করছেন,আমার জীবন থেকে আমার প্রিয় মানুষগুলোকে কেড়ে নিয়েছেন।একদিন এই আপনিই আমার পায়ে ধরে এইসব কিছুর জন্য ক্ষমা চাইবেন।সেইদিন আমিও আপনাকে ক্ষমা করব না।

—ক্ষমা?আবার তোর মতো ছোটলোকের পায়ে ধরে?হাহাহাহা(হাসতে লাগল)

—হ্যাঁ,আমার পা ধরেই।

—সেইটা তোর স্বপ্নেই।

—দেখা যাক কার স্বপ্নে।আর হ্যাঁ আজকে আপনি যেমন আমার জীবন থেকে আমার প্রিয় মানুষগুলোকে কেড়ে নিয়েছেন তেমনি একদিন আমি আপনার জীবন থেকেও আপনার প্রিয় মানুষগুলোকে কেড়ে নিব।

—আমার জীবন থেকে তুই যদি কিছু কেড়ে নিতে চাস তার আগেই আমি তোকে মেরে ফেলব।

—দেখা যাক কে কাকে মারে।

—তুই এমন কিছু করিস না যার জন্য তোকে সারাজীবন আপসোস করতে হয় বা তোকে মরতে হয়।
.
কথাটা বলে আরহী চলে গেল।আমি সেখানে জয়া আর মার কথা ভাবতে ভাবতে কান্না করতে লাগলাম।একটু পরে চোখ মুছে আরহীর জন্য রান্না করতে চলে গেলাম।
.
একটু পরে আরহী নিচে এসে খাবার খেলে।আজকে খাবারের সব কিছু ঠিক-ঠাক হয়েছে।কিন্তুু এক ধরনের মানুষ আছে যারা কাউকে না মারলে বা না অপমান করলে তাদের পেটের ভাত হজম হয় না।
.
তেমনি খাওয়া শেষ করে আজকেও আরহী আমাকে বেল দিয়ে মেরে চলে গেল।কিন্তুু আজকে আর আমার তেমন ব্যাথা লাগল না।কারণ আরহী আমার মা আর বোনকে আমার থেকে দূরে সরিয়ে যে কষ্ট দিয়েছে সেই কষ্টের সামনে এইটা কিছুই না।
.
এইভাবেই প্রতিদিনের খারাপ ব্যবহার আর অত্যাচারের মধ্যে দিয়ে কেটে সাত মাস।এখন আমি রিশকা চালিয়ে যে টাকা পায় সেইগুলো দিয়েই নিজের খাবার,পড়াশোনা আর এক বন্ধুর সাহায্য লুকিয়ে মা আর জয়ার কাছে টাকা পাঠাই।
.
আমার ঐ বন্ধুর নাম রাজু।ছোট থেকে একই সাথে বড় হয়েছি।মা আর জয় আমাকে তাদের সামনে যেতে না করেছে তাই একদিন রাজুকে পাঠালাম দেখতে মা আর জয়া কেমন আছে।
.
সেইদিন রাজু আমাদের বাড়িতে গিয়ে দেখে মা বসে রয়েছে আর জয়া মার কোলে মাথা রেখে কান্না করছে।
.
—কাকি,শ্রেয়া কান্না করছে কেন?(রাজু)

—এমনি।তা বাবা তুমি হঠাৎ আমাদের বাড়িতে।কোন দরকার ছিল?(মা)

—আপনাদের পাশের বাসায় একটা কাজ ছিল।সেইটা করে ভাবলাম আপনাদের একটু দেখে যাই।তা শ্রে কান্না করছে কেন?

—এমনি।

—কাকি,আমি ত আপনার ছেলের মতোই।আমাকে বলবেন না?

—নিশ্চুপ।

—শ্রেয়া,আমি ত তোমার বড় ভাইয়ার মতো আমাকে বল তুমি কেন কান্না করছ?

—ভাইয়া,দুইদিন ধরে আমাদের বাড়িতে কোন চাল নেই।আমি দুইদিন ধরে কিছু খেতে পারি নাই।মাকে খাবার দিতে বলাতে মা আমাকে বকা দিয়েছে তাই কান্না করছি।

—অহ।আচ্ছা,কাকি আমি এখন আসি।
.
আমি আমাদের বাড়ি থেকে একটু দূরে ছিলাম।রাজু এসে আমাকে সবকিছু বলল।আমি তারপর সবকিছু কিনে রাজুর হাত দিয়ে পাঠিয়ে দিলাম।তার সাথে কিছু টাকাও দিয়ে পাঠলাম।
.
—কাকি,এইগুলো আপনাদের জন্য।এখন তাড়াতাড়ি এইগুলো নিয়ে রান্না করে শ্রেয়াকে খেতে দিন।(রাজু)

—বাবা,তুমি শুধু শুধু টাকা নষ্ট করতে গেলে কেন?আমরা এইভাবেই চালিয়ে নিতাম।(মা)

—তাতে কি আমি ত আপনার ছেলের মতোই।ছেলের টাকা দিয়ে আপনাদের জন্য কিনেছি এতে সমস্যা কি?আর এই টাকাগুলো রাখুন।

—না বাবা।আমি এই টাকা গুলো রাখতে পারব না।টাকা গুলো কবে না কবে ফিরত দিতে পারব তাও জানি না।

—সমস্যা নাই।যেদিন পারবেন সেইদিন দিয়েন।আর যখনই দরকার হবে আমাকে বলবেন প্লিজ।
.
এইভাবেই আমি সবসময় রাজুর হাত দিয়ে সব সময় টাকা দিতাম।এই সাত মাসে আরহী আমার শরীরের একটা জায়গাও বাকি রাখে নাই

.
এর মধ্য একটা কথা বলতে ভুলে গেছি।আমি ভার্সিটিতে উঠার আগে থেকেই ফেসবুকে গল্প লিখতাম।তাই একদিন ভার্সিটিতে আমার একটা ক্লাসমেটের সাথে গল্প নিয়ে কথা বলি।
.
মেয়েটিও আমার গল্প পড়ে।এইটা আবার আরহী দেখে ফেলে।যখন আমাদের ক্লাস শেষ হল তখন আমি গাড়ির সামনে আরহীর জন্য অপেক্ষা করছিলাম ঠিক তখনই আনিকা আমার সামনে আসল আর বলল আমাকে কি জানি বলবে।
.
আরহী আসতে দেড়ি হচ্ছে দেখে আমি আনিকার সাথে কথা বলতে গেলাম।কিন্তুু আনিকা যা বললে তা শুনে আমার পায়ের নিচে থেকে মাটি সরে গেল।আমি কখনও ভাবতে পারি নেই আরহী খারাপ মেয়ে আর আমার উপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য এতটা নিচে  যাবে।

—হ্যাঁ,তুমি আর কতদিন এইভাবে আরহীর অত্যাচার সহ্য করবে?(আনিকা)

—যতদিন না আমাদের বিয়ের এক বছর শেষ হয়।(আমি)

—এক বছরেই কেন?

—আরহীর থেকে যেদিন দশ লক্ষ টাকা নিয়েছিলাম সেইদিন আরহী একটা শর্ত দিয়েছিল।

—কি শর্ত?

—এক বছর আরহীকে বিয়ে করে ওর চাকর হয়ে থাকতে হবে।এক বছর শেষ হলেই আরহীকে ডির্ভোস দিয়ে দিতে হবে।

—আমি কি জানতে পারি তুমি টাকা গুলো কেন নিয়েছিলে?

—আমার বোন শ্রেয়ার এক্সিডেন্ট হয়েছিল আর জয়াকে বাঁচাতে দশ লক্ষ টাকা লাগল।সেই টাকা আমি আরহীর থেকে নিয়েছিলাম।

—তোমার কি একটা কথা যান?

—কি কথা?

—শ্রেয়ার এক্সিডেন্ট কিভাবে হয়েছিল আর কে করেছিল?

—মা,বলেছিলো শ্রেয়া আর মা যখন বাজারে যাচ্ছিল তখন একটা গাড়ি এসে শ্রেয়াকে এক্সিডেন্ট করে চলে যায়।

—আমি যদি যদি ভুল না হয় তাহলে শ্রেয়ার এক্সিডেন্ট হওয়ার আগের দিন নাহলে ঐদিন দুপুরেই তুমি আরহীকে ভার্সিটির সবার সামনে অপমান করেছিলে।কথাটা কি তোমার মনে আছে?

—হ্যাঁ,আর তার জন্য আরহী বলেছিল আমাকে ছাড়বে না।

—যেখানে আরহী তোমার উপর প্রতিশোধ নিত সেখানে তোমাকে দশ লক্ষ টাকা দিল।তোমার মনে হয় না এখানে কিছু একটা আছে?

—আনিকা,আমি এত পেঁচানো কথা বুঝতে পারি না।তুমি একটু আমাকে পরিষ্কার করে বল।

—পরিষ্কার করে বললে তুমি শুনতে পারবে?

—শুনতে পারব না কেন?তুমি পরিষ্কার করে বল।

—সেইদিন তুমি যখন আরহীকে অপমান করে চলে গেলে তখন আরহী তোমার উপর এতটাই রেগে গিয়েছিল যে ঐ নিজের উপরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিল।ওর মাথায় শুধু একটা কথাই ঘুরছিল যে যেভাবেই হোক তোমার ওর চাকর বানাবেই।

—তাতে কি হয়েছে?

—আরহী বুঝে গিয়েছিল তোমাকে যত টাকার লোভ দেক না কেন তুমি ওর চাকর হবে না।তাই গাড়ি নিয়ে তোমার বোন শ্রেয়াকে এক্সিডেন্ট করে।আরহী জানতো তোমার টাকার প্রয়োজন হলে তুমি ওর কাছেই যাবে তাই ত তোমার এক্সিডেন্ট টা করিয়েছিল।

—কিকিকিকি???তুমি এইসব কি বলছ???

—জানি তুমি বিশ্বাস করবে না।কিন্তুু এইটাই সত্যি।শ্রেয়ার এক্সিডেন্ট এর পিছনে আরহীই দায়ি।আমি তোমাকে অনেক আগেই এইসব বলতে চেয়েছিলাম কিন্তুু তুমি সবসময় আরহীর আশে-পাশে থাকে তাই বলতে পারি নেই।

—আনিকা,তুমি শুধু আমাকে আরহীর সম্পর্কে মিথ্যা বলছ কেন?আমি জানি এইসব কিছু মিথ্যা কথা।

—তোমার যদি আমার কথা বিশ্বাস না হয় তাহলে তুমি আরহীকেই জিজ্ঞাস কর।আর একটা কথা মনে রেখ আমি আরহীকে আজকে ক্লাসে দেখলাম অনেক রেগে আছে।তাই বলব তুমি একটু সাবধানে থেকো।নাহলে তোমার জীবন যেতে পারে।

—আমার জীবন কে আর কেনই বা নিবে?

—আরহী বা ও অন্য কাউকে বলব তোমাকে মারতে।

—আমার মনে হয় না আরহী এমন কিছু করবে।

—তোমার সাবধান করার ছিল।আমি করেছি।বাকিটা তুমি জানো।
.
আনিকা চলে গেল আর আমি শুধু ভাবতে লাগলাম আরহী কি আসলেই আমার পিচ্ছিটার এক্সিডেন্ট করিয়েছিল?শুধু মাত্র আমার উপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য আরহী এতটা নিচে নামতে পারে?
.
সেইদিন যদি আমি আরহীর কাছে টাকা আনতে না যেতাম তাহলে আমি শ্রেয়াকে কি করে বাঁচাতাম?আমার পিচ্ছিটা যে সেইদিন মারা যেত।আমি আমার পিচ্ছিটাকে ছাড়া কি করে বাঁচতাম?
.
এমনিতেই আরহীর জন্য আমার পিচ্ছিটা আমার সাথে কবে থেকে কথা বলে না।আনিকা যা বলল তা কি সত্যি?যদি সত্যি হয় তাহলে আমি জীবনেও আরহীকে ক্ষমা করব না।
.
এইসব ভাবতে ভাবতে আমার চোখে জল চলে আসল।একটু পরে আরহী আসল।আমি আরহীকে বাড়িতে নিয়ে রান্না করে খাবার দিয়ে রিকসা নিয়ে বেরিয়ে গেলাম।
.
রিকসা চালাতে চালাতে বিকাল হয়ে এসেছে।ঠিক তখনই দেখলাম আমার রিকসার সামনে জয় এবং তার বন্ধুরা,তাদের সাথে আরহীও একটা গাড়িতে বসে রয়েছে।
.
আমি ওদের দেখে রিকসা থেকে নেমে আসলাম।জয়রা আমার সামনে এসে কোন কথা না বলেই আমাকে মারতে লাগল।আমাকে এমন মার খেতে দেখে আশে-পাশের মানুষ এসে আমাকে বাঁচাল।
.
মানুষগুলো আমার কাছে আসছে দেখে জয় এবং বাকিরা ভয়ে চলে গেল আর আরহীও গাড়ি নিয়ে চলে গেল।আমি ভাল মতোই বুঝে নিয়েছি সকালে আরহী আমাকে মেয়েটির সাথে কথা বলতে দেখেছে তাই আমাকে মার খাওয়াল।
.
সেই মানুষ গুলোই আমাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে শরীরে ব্যান্ডেজ লাগিয়ে দিল।ওরা আমাকে শুধু হাত-পা দিয়ে মারে নেই।আমাকে ওরা লাঠি দিয়ে মেরেছিল।
.
তাই আমার শরীরের অনেকটা কেটে রক্ত বের হয়ে গেছে।ডাক্তার আমাকে ব্যান্ডেজ করিয়ে দিল।তারপর আমি রিকসা নিয়ে বাড়িতে চলে আসলাম।বাড়িত এসে দেখি আরহী বসে বসে মোবাইল চালাচ্ছে।
.
—কিরে ফক্কিন্নি?মারগুলো কেমন লাগল?আজকে যদি লোকগুলো তোকে বাঁচাতে না আসত তাহলে তোকে সেখানেই মেরে রেখে আসতাম।(আরহী)

—আমাকে ত আপনি মেরেই ফেলেছেন।আমার শুধু শরীরটা জীবিত আছে।তাছাড়া ভিতরের আত্মাটা ত অনেক আগেই মরে গেছে।(আমি)

—এত মার খাওয়ার পরও দেখি তোর বড়লোকি কথা বলার অভ্যাস যায় নেই।মনে হয় আরও একটু মার খাওয়ানোর দরকার ছিল।

—হয়ত।আচ্ছা ম্যাডাম,আপনি আমাকে একটা সত্যি কথা বলবেন?

—কি কথা?

—আমাকে চাকর বানানোর জন্য এবং আমার উপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য কি আপনি সেইদিন শ্রেয়াকে এক্সিডেন্ট করেছিলেন?

—কোনদিন?

—আমাদের বিয়ের আগে।যেদিন আমি আপনার কাছে এক বছরের জন্য নিজেকে বিক্রি করে দশ লক্ষ টাকা নিয়েছিলাম।

—হ্যাঁ,আমিই করেছিলাম।

—একটু বলবেন আমার ছোট বোনটা আপনার কি এমন দোষ করেছিল যার জন্য ওকে প্রাণে মারতে চেয়েছিলেন?

—তোর বোন আমার কোন দোষ করে নেই।তুই করেছিস।তুই আমাকে বার বার অপমান করেছিস।

—আপনার রাগ আমার উপর ছিল।আপনি আমাকে মেরে ফেলতেন।শুধু শুধু আমার বোনটাকে মারতে গিয়েছিলেন কেন?আমার বোন ত কোন দোষ করে নেই।জানেন আমি আমার বোনকে নিজের থেকেও বেশি ভালবাসি।অবশ্য আপনাকে ভালবাসার কথা বলে কি লাভ?ভালবাসা কি সেইটা ত আপনি বুঝেন না।আপনি শুধু বুঝেন টাকা।

—তুই কিন্তুু এইবার বেশি বলে ফেলছিস।

—আমাকে আর একটা কথা বলবেন?

—কি কথা?

—আপনি কখনও আপনার মা-বাবাকে মন থেকে ভালবেসেছেন?

—তোর কি মনে হয় আমি আমার মা-বাবাকে ভালবাসি না?

—আমার ত মনে হয় না।কারণ আপনার মতো মেয়ে কাউকে কোনদিন ভালবাসতে পারে না।আপনি শুধু টাকাকে ভালবাসেন।

চলবে…… 

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *