রোমান্টিক প্রতিশোধ Part_5

#রোমান্টিক_প্রতিশোধ♥
পার্ট -5
লেখকঃ অদ্রিত আল মাসুদ

রোমান্টিক প্রতিশোধ part-1

রোমান্টিক প্রতিশোধ part-2

রোমান্টিক প্রতিশোধ part-3

রোমান্টিক প্রতিশোধ part-4

 

—তুই কি ভাবিস সেইটা দিয়ে আমার কিছু যায় আসে না।(আরহী)

—আপনি জানেন আপনি আমাকে আমার প্রিয়জনদের থেকে আলাদা করার পরেও আমার মনে আপনার জন্য একটু হলেও ভালবাসা ছিল।তাই হয়ত সেইদিনের পর থেকে আমি আপনার দেওয়া অত্যাচার গুলো সহ্য করেও আপনার পাশে ছিলাম।কিন্তুু আজকে যখন আপনি নিজের মুখে শিকার করলেন আপনি আমার পিচ্ছিটাকে মারার মতো এত নিচ একটা কাজ করেছেন তারপর থেকে আমি আপনাকে যতটা ভালবাসেছিলাম তার থেকে অনেক গুণ বেশি ঘৃণা করব।(আমি)

—তোর মতো ছোটলোক আমাকে ভালবাসলেই কি আর ঘৃণা করলেই কি?আমার এতে কিছু যায় আসে না।আর তুই যে বললি আগে ভালবাসতি সেইজন্যই আমার কাজগুলো করতি এখন ত ঘৃণা করিস তাহলে এখন কাজ করবি না?আমার কাছে কিন্তুু এখনও তোর সাইন করা সেই এক বছরের কন্টাক্ট কাজটা আছে।আমার কথা না শুনলে এইটা দেখিয়ে তোকে জেলের ভাত খাওয়াব।

—চিন্তা করিয়েন না আমি এক বছর হওয়ার আগে আপনার কাজ করা বন্ধ করব না।

—তাহলে চুপচাপ আমার খাবার তৈরি কর।আমার অনেক খিদে লেগেছে।
.
তারপর আমি আস্তে আস্তে গিয়ে আরহীর জন্য খাবার তৈরি করে দিলাম।আরহী খেয়ে চলে গেল।আমার আজকে আর খেতে ইচ্ছে করল না।আজকে পিচ্ছিটার কথা অনেক মনে পরছে।
.
তাই আমি গিয়ে শুয়ে পরলাম।পরেরদিন সকালে আমি আরহীকে ভার্সিটিতে নিয়ে গেলাম।আমি ক্লাসে চলে গেলাম আর আরহী ওর বান্ধুবীদের কাছে।
.
কিন্তুু আনিকা ছাড়া আর কেউই আসে নেই।আরহী আনিকার সামনে যেতেই দেখতে পেল আনিকা সেই মেয়েটির সাথে কথা বলছে যাকে কালকে আমার সাথে কথা বলতে দেখেছিল।মেয়েটির নাম নিধি।আরহী আনিকার পাশে গিয়ে বসল।
.
—কিরে আনিকা তুই এই মেয়েটির সাথে কি কথা বলছিস?(আরহী)

—কি কথা বলছি সেইটা তুই শুনতে পারবি না।(আনিকা)

—কেন?

—আমরা সাগরের সম্পর্কে কথা বলছি।

—ঐ ছোটলোকের সম্পর্কে কি কথা বলিস?ঐ আবার তোদের কিছু করেছে নাকি?যদি করে থাকে তাহলে আমাকে বল আমি ওরে শিক্ষা দিয়ে দিব।

—সাগর আমাদের কিছু করে নেই।আচ্ছা,আরহী তুই আমাকে একটা কথা বলবি?

—কি কথা?

—সাগর,তোর এমন কি ক্ষতি করছিল যার জন্য তুই ওর সাথে এত খারাপ ব্যবহার করছিস?তুই সাগরের সাথে যে ব্যবহার করিস তেমন ব্যবহার কেউ নিজেদের বাড়ির পশুর সাথেও করে না।

—ঐ আমারে ভার্সিটির সবার সামনে অপমান করেছিল তাই করি।

—তুই কি করিস নেই?ভার্সিটির সবার সামনে জয়ের জুতা দিয়ে ওকে মেরেছিস,ওর থেকে ওর প্রিয় মানুষগুলোকে কেড়ে নিয়েছিা।তার উপর প্রতিদিন ত মারিসই।

—আরহী,জান প্রতিটা মেয়ে চায় তার স্বামী তাকে নিজের জীবন থেকেও বেশি ভালবাসুক।যত বাধা-বিপত্তি আসুক না কেন তাকে জানি ছেড়ে না যায়।তুমি সাগরের মতো এত ভাল একজন ছেলেকে জীবন সাথি হিসেবে পেয়েও হারালে।(নিধি)

—তুমি কি আমাকে সাগরের থেকে বেশি ভাল করে চিন?ঐ কেমন সেইটা তুমি আমার থেকে বেশি ভাল জান না।যদি জানতে তাহলে এই কথা বলতে পারতে না।

—তুমি সাগরের স্ত্রী হতে পার কিন্তুু তাও তুমি জান না সাগর কেমন একটা ছেলে।সাগরের কি পছন্দ,কি অপছন্দ সেইটা কি তুমি জান?সাগর কেমন বউ চায় সেইটা কি তুমি জান?নাহলে এইটাই বলে দাও সাগর পড়ালেখা,রিশকা চালানোর পাশাপাশি আর কি কি করে?

—নিশ্চুপ

—আমি জানি আরহী তুমি এর উওর দিতে পারবে না।কারণ তুমি কখনও সাগরকে জানার চেষ্টাই কর নেই।আমি আনিকার কাছে থেকে সব শুনেছি।তুমি সাগরের সাথে কেমন ব্যবহার কর।আরহী,তুমি কি আমার একটা প্রশ্নের উওর দিবে?

—কি প্রশ্ন?

—ধর,একদিন হঠাৎ করে তোমার বাবার এত এত টাকা,এত বড় ব্যবসা সব শেষ হয়ে গেল।তোমার বাবা-মা সাগরদের মতো ছোটলোক হয়ে গেলে তখন কি তুমি তাদের আর ভালবাসবে না?তাদের কি তুমি ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যাবে?

—ভালবাসব না কেন?আর তাদের ছেড়ে অন্য কোথাও যাওয়ার ত প্রশ্নই উঠে না।

—কেন যাবে না একটু বলবে?

—কারণ তারা আমার মা-বাবা আর যদি বাবা গরিব হয়ে যায় তাতে কি হয়েছে সে ত আমার বাবা।তার ভালবাসা ত কখনও কমে যাবে না।

—তাহলে তুমি কি করে ভুলে সাগর তোমার স্বামী।একটি মেয়ের বিয়ের পর তার কাছে তার স্বামীই সব।আর তুমি সেই স্বামীকেই সবার সামনে অপমান করেছ?দিনের পর দিন মেরেছ?তোমার কি একটু খারাপ লাগে নেই।

—নিধি,এইসব কথা বাদ দে।খারাপ তার লাগে যার মন থাকে।আরহীর ত মনই নেই।নাহলে কেউ কি এইভাবে কাউকে মারতে পারে?তাছাড়া কাউকে ভালবাসতে মন লাগে।ওর যেহেতু মন নেই সেহেতু ঐ কাউকে কি করে ভালবাসবে?আর ঐ জীবনেও কারো ভালবাসা বুঝবে না।ঐ শুধু টাকা বুঝে।আরহী যেখানে টাকা দেখবে ঐ সেখানেই যাবে।(কথাগুলো শুনে এই প্রথম কেন জানি আরহীর অনেক খারাপ লাগল)

—আনিকা,এইবার তোরা চুপ কর আমি আর এইসব নিতে পারচ্ছি না।

—সত্যি কথা ত তাই শুনতে খারাপই লাগে।

—আনিকা,তুই কি সাগরের লেখা গল্পগুলো পড়িস?

—হ্যাঁ,পড়ি।কিন্তুু মাঝে মাঝে মনে হয় সাগরের লেখা গল্পগুলো পড়া বাদ দিয়ে দেই।

—কেন?সাগর ত এত ভাল গল্প লিখে ওর লেখা গল্প পড়া বাদ দিবি কেন?

—আরে দেখস না ওর সবগুলো গল্পই কষ্টের।মাঝে মাঝে ত ওর গল্প পড়ে একা একাই চোখের জল বেরিয়ে যায়।

—আমারও একই অবস্থা।কিন্তুু সাগরের গল্পগুলো পড়ে আমি অনেক কিছু শিখতে পেরেছি।

—কি কি শিখেছিস?

—কিভাবে বাস্তবতাকে মেনে নিতে হয়।কিভাবে জীবন যুদ্ধে জয়ী হতে হয়।তাছাড়া সাগরের লেখা বেশির ভাগ গল্পগুলোই বাস্তব জীবন নিয়ে।

—হ্যাঁ,তাছাড়া ভালবাসার যে গল্পগুলো লিখে সেইগুলোও অনেক সুন্দর হয়।

—তোরা এইসব কি বলছিস?আর কোন সাগরের কথাই বা বলছিস?

—তোর বাবার টাকায় কেনা চাকরের কথা বলছি।ওকে ত আর তুই স্বামী ভাবিস না।তাই চাকরই বললাম।

—ঐ আবার গল্প লিখে কবে থেকে?

—তুই যদি ওর সম্পর্কে একটু ভাল মতো খুঁজ নিতি তাহলে নিজেই জানতে পারতি।
.
তারপর আনিকা আর নিধি চলে গেল।ক্লাস শেষ হওয়ার পর আমি আরহীকে নিয়ে বাড়িতে আসলাম।বিকালে যখন রিকসা চালাচ্ছিলাম তখন একজন আমার রিকসায় উঠল।সে আমার রিকসায় উঠে আমার দিকে কেন জানি বার বার তাকিয়ে আছে।
.
—স্যার,আমাকে কি কিছু বলবেন?(আমি)

—তোমাকে কেন জানি আমার চেনা চেনা মনে হচ্ছে।আমি তোমাকে কোথায় জানি দেখেছি।(লোকটি)

—দেখতে পারেন।আমি প্রতিদিনই ত এইদিক দিয়ে রিকসা চালাই।

—না,তোমাকে আমি এইদিকে দেখি নেই।আচ্ছা,তোমার নাম কি?আর তোমার হাতেরই বা কি হয়েছে?

—ব্যাথা পেয়েছিলাম আর আমার নাম দিয়ে কি করবেন?আমার মতো গরিব মানুষের নাম জেনে কোন লাভ হবে না।

—আরে বল ত তোমার নাম কি?

—আমার নাম সাগর (লোকটি আমার নাম শুনার পর মোবাইলে কি জানি করল)

—আরে আপনি গল্প লিখেন সেই সাগর না?

—হ্যাঁ,আমি গল্প লেখি।কিন্তুু আপনি কোন সাগরের কথা বলছেন?

—আমি তোমার কথাই বলছি।তোমার গল্পগুলো আমার অনেক ভাললাগে।আমি প্রতিদিন তোমার গল্প গুলো পড়ি।কিন্তুু তোমার এই অবস্থা কেন?তুমি রিকসা চালাচ্ছো কেন?

—আপনি যদি আমার গল্প পড়ে থাকেন তাহলে এতদিনে নিশ্চুয়ই জেনে গিয়েছেন আমি গরিব আর পড়ালেখার খরচ চালানোর জন্যই আমি রিকসা চালাই।

—কালকে থেকে আপনি আর রিকসা চালাবেন না।

—কেন?তাহলে আমার পড়ালেখা চলবে কি করে?

—তুমি এই কার্ডটা রাখ।কালকে এই ঠিকানায় বিকালের দিকে চলে যেও।

—এখানে কি আছে?আর আপনিই বা কে?

—আমি একজন পত্রিকার কোম্পানির মালিক আর কালকে বিকালে তুমি এখানে গিয়ে আমার সাথে দেখা করিও।তোমার গল্পগুলো আমার অনেক পছন্দ হয়।তাই আমি তোমার গল্পগুলো আমার পত্রিকায় ছাপাব।তার সাথে তোমার লেখা নতুন বইও ছাপাব।এরপর থেকে তোমাকে আর রিশকা চালাতে হবে না।তুমি বই লিখেই অনেক টাকা পাবে।

—আপনাকে যে কি বলে ধন্যবাদ দিব।

—ধন্যবাদ দেওয়ার কিছু নেই।তুমি কালকে সময় মতো চলে এসো।

—আচ্ছা,আসব।
.
তারপর সে নেমে যায়।আমি আর কিছু সময় রিকসা চালিয়ে বাড়িতে চলে আসি।অন্যদিকে বাড়িতে আসার পর থেকেই আরহীর কিছুই ভাল লাগছে না।বার বার শুধু আনিকা আর নিধির কথা মনে পরছে।
.
আরহীর কানে একটি কথাই বাজছে “আরহী তোর মন বলতে কিছু নেই।তুই কাউকে জীবনেও ভালবাসতে পারবি না।”আরহী এক পর্যায়ে এইসব সহ্য করতে না পেরে আমি বাড়িতে আসার আগেই গাড়ি নিয়ে ক্লাবে চলে যায়।
.
আরহী যখন ক্লাবে যায় তখন সন্ধ্যা।আমি বাড়িতে এসে দেখি আরহী বাড়িতে নেই।আমি ভাবলাম হয়ত কোথাও গেছে।তাই আমি পড়তে বসলাম।দেখতে দেখতে রাত দশটা বেজে গেল।
.
ঐদিকে আরহী একটু মদ খেয়েছে।গাড়ি নিয়ে যখন বাড়িতে আসতে লাগল তখনই আরহীর গাড়ির নষ্ট হয়ে যায়।তারপর হেঁটে আসতে লাগল।
.
কিছুদূর হেঁটে আসার পর আরহীর সামনে কয়টা ছেলে আসল।ছেলেগুলো ভাল মতো দেখে বুঝতে পারল ওরা জয় এবং জয়ের বন্ধুরা।
.
ওদের চেহারা দেখে বোঝতে পারছে ওরা আজকে আরহীর সাথে খারাপ কিছু করবে।আরহী অনেকটা ভয় পেয়ে গেল।আজকে ত আরহীকে বাঁচানোর মতো কেউ নেই।যখনই আরহী দৌঁড় দিতে যাবো তখনই জয় আরহীর হাত ধরে ফেলে।

—কোথায় পালাও জানেমন?(জয়)

—জয়,তুই এইসব অসভ্যদের মতো কথা বলছিস কেন?আর আমার হাত ছেড়ে দে নাহলে তোর জন্য ভাল হবে না।(আরহী)

—আমার কিছুই হবে না।আজকের রাত তোমার জন্য ভাল হবে না।আর আমি ত অসভ্যই।সাত মাস ধরে তোর সব কথা শুনছি কি এমনি এমনি?

—তার মানে?তুই আমার সাথে কি করতে চাস?

—কেন তুমি বুঝ না?সেইদিনের অসম্পূর্ণ কাজটা আজকে করতে চাই।সেইদিন ত তোর চাকরটা তোকে বাঁচিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।কিন্তুু আজকে তোকে আমার হাত থেকে কে বাঁচাবে?

—সাগরকে চাকর বলবি না।ঐ আমার স্বামী।আর তোর লজ্জা করে না অন্য একজনের স্ত্রীর সাথে এমন করতে?

—হাহাহাহাহা।ঐ তোরদ শুনেছিস ঐ কি বলছে?সাগরকে ওর চাকর থেকে এক সেকেন্ডেই স্বামী বানিয়ে ফেলল।

—জয়,আগে শুধু শুনেছি ঠেকায় পরলে বাঘে আর হরিণে এক ঘাটে জল খায়।আজকে ত দেখলাম বিপদে পরলে মানুষ চাকরকে এক সেকেন্ডে স্বামী বানিয়ে ফেলে?(শুভ।সবাই হাসতে লাগল)

—আর তুই কি জানি বললি তুই একজনের স্ত্রী?তোকে দেখে ত মনে হচ্ছে না তুই কারো স্ত্রী?কারণ কোন মানুষের স্ত্রী এত রাতে ঘরের বাহিরে থাকে না।

—জয়,তোর দোহায় লাগি আমাকে ছেড়ে দে।তুই এইভাবে আমার ইজ্জতটা শেষ করে দিস না।নাহলে আমি এই মুখ কাউকে দেখাতে পারব না।(কান্না করে)

—তুই তোর এই মুখ ত এমনিতেও কাউকে দেখাতে পারবি না।যে স্ত্রী তার স্বামীকে পরপুরুষের জুতা দিয়ে সবার সামনে মারতে পারে সে কি করে মানুষের সামনে মুখ দেখাতে পারে সেইটা আমি জানি না।(জয় আরহীর হাত ধরে টানতে লাগল)

—তোরে এত কষ্ট করে পেয়েছি আর তুই বলছিস ছেড়ে দিব?তা ত হয় না।

—কষ্ট করে মানে?

—আজকে ক্লাবে যখন দেখলাম তুই একা এসেছিস তখন তোর গাড়ি আমিই নষ্ট করেছিলাম।যাতে তোকে আজকে তুলে নিয়ে যেতে পারি।

—জয়,দয়া করে আমার সাথে এমনটা করিস না।

—সোনা,এইটা ত হয় না।তোমাকে যে আজকে আমাদের চাই।
.
জয় আরহীকে টানতে টানতে তাদের গাড়িতে উঠাতে লাগল।অন্যদিকে এত রাত হয়ে গেছে তবুও বাড়িতে আসছে না ভেবে একটু চিন্তা হচ্ছে।
.
যদি আরহীর কিছু হয়ে যায় তাহলে আরহীর মা-বাবা আমাকে ছাড়বে না।সেইদিন বিনা দোষেই কত কিছু বলেছে আর আজকে কিছু হয়ে গেলে আমাকে নিশ্চয়ই জেলের ভাত খাওয়াবে।
.
এইসব ভাবতে ভাবতে আমি রিকসা নিয়ে বের হলাম।আমি জানতাম আরহী এত রাতে নিশ্চয়ই কোন ক্লাবে গেছে আর আমাদের বাড়ি থেকে কিছু দূরে একটা ক্লাব আছে আছে।
.
তাই আমি হাঁটতে হাঁটতে সেই ক্লাবের দিকে যেতে লাগলাম।কিছু দূর যেতেই দেখলাম জয় এবং আরও কয়েকজন আরহীকে একটা গাড়িতে তুলার চেষ্টা করছে।আমি ওদের সামনে গেলাম।
.
—ম্যাডাম,আপনি কি আপনার বন্ধুদের সাথে কোথাও যাবেন?(আমি)

—হ্যাঁ,তুই এখন এখান থেকে যা।(জয়)(আমি পিছনে ফিরে বাড়ির দিকে আসার জন্য পা বাড়ালাম)

—সাগর,ওদের কথা শুন না।তুমি আমাকে ওদের হাত থেকে বাঁচাও।ওরা আমাকে তুলে নিয়ে আমার ইজ্জত নিতে চাচ্ছে।(আরহী)(আরহী জয়ের হাত ছাড়িয়ে আমার পিছনে এসে লুকালো)

—জয়,ম্যাডামের হাতটা ছেড়ে দে।

—না ছাড়ব।সেইদিন তোর জন্য যে কাজটি করতে পারি নেই আজকে সেই কাজটা করবই।

—দেখ জয় এমন করিস না।ম্যাডামকে যেতে দে।

—দিব না।

—সাগর,তুইও আমাদের সাথে এসে পর।তাছাড়া সেইদিনের মতো আজকেও যদি তুই আরহীকে নিয়ে যাস তাহলে দেখবি কালকে ভার্সিটিতে সবার সামনে তোকে আবার মারবে আর আরহী এখন এইসব মদের নেশায় বলছে।(শুভ)

—না।সাগর,আমি মদের নেশায় বলছি না।তুমি আমাকে ওদের হাত থেকে বাঁচাও।

—সাগর,তুই যদি আজকে আমাদের কাজে বাধা দিস তাহলে তোকে আর জীবিত রাখব না।সেইদিন লোকগুলোর জন্য বেঁচে গিয়েছিস কিন্তুু আজকে মেরেই ফেলব।তাছাড়া ওকে বাঁচিয়ে কি করবি?আজকে যদি তুই ওকে বাঁচিয়ে নিয়ে যাস তারপরেও ঐ তোকে মারবে।যে মেয়ে তার স্বামীকে মেরে ফেলার মতো খারাপ কাজ করতে পারে তাকে বাঁচিয়ে কি করবি?

—জয়,উনি আমার ম্যাডাম।উনার যা ইচ্ছে আমার সাথে করতে পারে।তুই ওকে ছেড়ে দে।

—আমি ওকে ছাড়ব না।এমনিতেই তোর হাত ভাঙ্গা তুই যদি জীবিত থাকতে চাস তাহলে ভালই ভাল এখান থেকে চলে যা।নাহলে তোকে ছাড়ব না।

—ঠিক আছে।
.
আমি সেখান থেকে চলে আসলাম।আমাকে চলে আসতে দেখে জয় এবং বাকিরা হাসতে লাগল আর আরহী কান্না করতে লাগল।জয় এসে আরহীর হাত ধরে টানতে টানতে গাড়িতে উঠাতে লাগল।
.
আমি কিছু দূর গিয়ে কয়েকজন মানুষকে ডেকে আনলাম।মানুষগুলো দেখে জয় এবং বাকিরা আরহীকে রেখেই চলে গেল।আমি সম্পূর্ণ সুস্থ না তাই মানুষ ডাকতে গিয়েছিলাম।ওরা যাওয়ার পর মানুষগুলোও চলে গেলে।
.
—ধন্যবাদ।(আরহী)

—কেন?(আমি)

—আজকে ওদের হাত থেকে আমাকে বাঁচানোর জন্য।

—এইটা ত আমার দায়িত্ব।আমি আপনার চাকর।তাছাড়া আপনার কিছু হয়ে গেলে আমাকে আপনার মা-বাবা জেলের ভাত খাওয়াত।আপনি কি এখন বাড়িতে যাবেন?নাহলে আমি একাই বাড়িতে চলে যাব।

—না,আমিও বাড়িতে যাব।

—ঠিক আছে।চলুন।

.
আরহী আমার পিছে পিছে আসতে লাগল।বাড়িতে আসার পর আমি আরহীকে ভাত বেড়ে দিলাম।আরহী চুপচাপ খেয়ে চলে গেল।আজকে আমাকে আর মারল না।পরেরদিন ভার্সিটিতে আরহী বসে রয়েছে আনিকা আর নিধি আসল।
.
—কিরে আসার সময় জয়ের মুখে থেকে শুনলাম কালকে রাতে নাকি তোরে ওরা তুলে নিয়ে যেতে চেয়েছিল আর সাগর নাকি তোকে বাঁচিয়েছে।(আনিকা)

—হ্যাঁ।(আরহী)

—তোকে সাগর দুই দুইবার ওদের হাত থেকে বাঁচাল তারপরেও তুই ছেলেটাকে মারছ?তুই এতটা নিষ্টুর কি করে হতে পারলি রে?তুই একবার নিজের মনকে প্রশ্ন করত সাগরের কি দশ লক্ষ টাকার বিনিময়ে এত কষ্ট পাওয়ার কথা ছিল?(নিধি)

—কালকে যদি সাগর না থাকত তাহলে তোর কি হত একবার ভেবে দেখেছিস?আবার শুনলাম তুই নাকি ওকে মেরে ফেলার জন্য জয়দের পাঠিয়ে ছিলি।রাস্তায় মানুষ ছিল দেখে ওরা শুধু ওর হাত-পা ভাঙ্গতে পেরেছে।

—এতটা খারাপ একটা মানুষ কি করে হতে পারে?একটা মানুষের জীবনের চেয়ে কি তোর কাছ দশ লক্ষ টাকা বড় হয়ে গেল?

—আরহী,তুই ত কখনও এমন ছিলি না?তুই এতটা খারাপ,অহংকারী কি করে হয়ে গেলি?

—আমি জানি না।আমি যখনই ওকে দেখি তখনই ওরা করা অপমানগুলোর কথা মনে পরে যায় আর হাতের কাছে যা থাকে তাই দিয়ে মারতে ইচ্ছে করে।

—তুই শুধু ওর করা অপমানগুলোই মনে রাখলি?ছেলেটাকে তোকে যে এতটা ভালবাসে ত কি তোর চোখে একবারও পরে নেই?

—তুই একবার সাগরের দিকে তাকিয়ে দেখ।তোর করা কত অপমান,অত্যাচার গুলো ছেলেটি সহ্য করে।কিন্তুু ওর মুখ দেখে কেউ বুঝতেই পারবে না ছেলেটির মনে কত কষ্ট।সবসময় সবার সাথে কেমন হাসি মুখে কথা বলে।(কিছুদূর দিয়ে আমি কয়েকজন ক্লাসমেটের সাথে ক্লাসে যাচ্ছিলাম)

—আমি যখন ওর গল্পগুলো পড়ি তখন বুঝতে পারি ওর মনে কত কষ্ট।ওর সবগুলো গল্পের মধ্যেই কষ্ট দিয়ে ভরা।আমি সাগরকে মাঝে মাঝে বলি রোমেন্টিক গল্প লিখতে।কিন্তুুু সাগর বলে ওকে দিয়ে রোমেন্টিক গল্প লেখা সম্ভব না।

—সাগর,রোমেন্টিক গল্প কিভাবে লিখবে?যার মনে এত কষ্ট থাকে সে কি রোমেন্টিক গল্প লিখতে পারে?

—আরহী,তোকে বেশি কিছু বলব না।শুধু একটা কথাই বলব।

—কি কথা?

—সব মেয়ের স্বপ্ন থাকে হিরার মতো একটা স্বামী পাবে।কিন্তুু তুই নিজের পায়েই নিজে কুড়াল মেরেছিস।

—মানে?

—মানে তুই হিরার মতো স্বামী পেয়েও হারিয়ে ফেললি।
.
তারপর আনিকা আর নিধি চলে গেল।আরহী বসে বসে ভাবতে লাগল আসলেই কি আমি হিরার মতো স্বামীকে পেয়ে হারিয়েছি?তারপর ক্লাসে শেষ হওয়ার পর আমি আরহীকে বাড়িতে দিয়ে আসলাম।
.
তারপরে কাকার দোকান থেকে রিকসা নিয়ে কালকের লোকটির দেওয়া ঠিকানায় চলে গেলাম।

আমি অফিসে যাওয়ার পর আমাকে সেই লোকটির রুমে নিয়ে যাওয়া হল।সেখানে গিয়ে দেখলাম লোকটি আরও চার-পাঁচজন লোকের সাথে বসে রয়েছে।লোকটির নাম নাহিদ।
.
—মিস্টার সাগর,আসেন আসেন।(নাহিদ)

—আপনারা হয়ত মিটিং এ ব্যস্ত।আমি নাহয় পরে আসি।(আমি)

—আরে না না।আমরা সবাই ত আপনার জন্যই অপেক্ষা করছি।

—আমার জন্য???(অবাক হয়ে)

—হ্যাঁ।

—কিন্তুু কেন?

—ওনারা সবাই আমার বন্ধু।(আমাকে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিল)

—তাহলে আপনিই সেই সাগর?আপনার গল্পের কথা নাহিদ আমাদের প্রতিদিন বলত।তাই একদিন আমরা নাহিদের কাছে থেকে আপনার প্রোফাইলের নাম জেনে আমরাও আপনার গল্প পড়তে শুরু করি।

—নাহিদ যখন আপনার গল্প সম্পর্কে বলত তখন ভাবতাম নাহিদ হয়ত আমাদের একটু বেশিই বাড়িয়ে বলছে।কিন্তুু যখন আমরা আপনার গল্প পড়তে শুরু করলাম তখন বুঝলাম নাহিদ আমাদের যা বলেছে তা অনেক কম।আপনার গল্প আসলেই অনেক ভাল হয়।

—কিযে বলেন।আপনাদের ভাল লাগলেই ভাল।

—আমরা কখনও ভাবতেই পারি নেই আমরা আপনাকে আমাদের সামনে দেখব।

—নাহিদ,কালকে আপনার সম্পর্কে সব বলেছে।আমরা সবাই আপনাকে সাহায্য করব একটা বড় লেখক হয়ে উঠতে।

—আপনাদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

—আপনাকে ত বলাই হয় নেই।ওরা সবাই বিভিন্ন লেখকদের বই বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে।ওরা চায় আপনি ওদের জন্য বই লিখে দেন।

—আপনি কি আমাদের জন্য বই লিখবেন?যাতে করে আমরা আপনার আপনার বইগুলো বিক্রি জায়গায় বিক্রি করতে পারি?

—এইটা ত আমার জন্য সুভাগ্য যে আমি আপনাদের মতো মানুষদের জন্য বই লেখার সুযোগ পাচ্ছি।
.
তারপর তাদের সবার সাথে কথা বলে চলে আসলাম।তারা আরও বলেছে যদি আমার লেখা বইগুলো বেশি মানুষেরা কিনে তাহলে তাদের অংশের টাকা রেখে বাকি টাকাগুলো আমাকে দিয়ে দিবে।
.
আজকে আমি অনেক খুশি।আমার লেখা বইগুলোও ছাপানো হবে এইটা শুনার পর আমার অনেক ভাল লাগছে।তাই আজকে আর আমি রিকসা চালালাম না।রিকসা রেখে আমি বাড়িতে চলে আসলাম।
.
কেন জানি আজকে মা আর জয়াকে দেখতে অনেক ইচ্ছে করছে।তাই বাড়িতে আসার রাস্তায় আমি দূর থেকে জয় আর মাকে দেখে এসেছি।
.
বাড়িতে এসে দেখি আরহী নিজের মোবাইলে কি জানি পড়ছে।আরহীর মুখ দেখে বুঝা যাচ্ছে আরহী অনেকটা রেগে আছে।তাই আমি আরহীকে কিছু না বলে আমার রুমে চলে আসলাম।
.
আরহী আমাকে দেখতে পেয়ে আমার পিছনে পিছনে আমার রুমে চলে আসল।আমি বিছানায় শুব তখনই দেখলাম আরহী রাগি মুখ নিয়ে আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
.
—ম্যাডাম,আপনি?আমাকে দিয়ে কি কোন কাজ ছিল?আমাকে ডাক দিতেন আমি চলে আসতাম।আপনি শুধু শুধু কষ্ট করে আসতে গেলেন কেন?(আমি)

—কাজ আছে তাই ত এসেছি।(আরহী)(রাগি কন্ঠে)

—কি কাজ বলেন?আমি করে দিচ্ছি।আপনার জন্য খাবার আনতে হবে?নাকি বেলটা এনে দিব যাতে আপনি আমাকে মারতে পারেন?

—তোকে মারব কেন?

—আপনার মুখ দেখে মনে হচ্ছে আপনি রেগে আছেন।তাছাড়া কালকে রাতে আপনার বন্ধুদের পিছনে মানুষ লাগিয়ে দিয়েছিলাম তার জন্য যদি রাগ করে মারতে চান তাই আরকি বেল এনে দিতাম।

—ঐ তোকে এত বেশি বুঝতে কে বলেছে?আমি কি একবারও বলেছি আমি তোকে মারব?বা আমাকে বেল এনে দে?

—বলেন নাকি ঠিকই।কিন্তুু গত সাত মাসে আপনার যদি রাগ উঠত তাহলে আপনি ত বেল দিয়ে আমাকে মেরেছেন তাই বললাম।

—আ…..(আরহী কিছু একটা বলতে গিয়েও থেমে গেল।কারণ আরহী জানে আমি কিছু ভুল বলি নেই।আরহী গত সাত মাসে কারণে অকারণে আমাকে শুধু মেরেছেই।)

—তা ম্যাডাম,কি কারণে এসেছিলেন সেইটা ত বললেন না।

—তোর লেখা সব গল্পতে সব সময় নায়িকার নাম একটাই থাকে কেন?সেই মেয়েটা তোর কে হয়?

—কোন গল্পতে?একটু ভাল করে বলেন বুঝচ্ছি না।

—ফেসবুকে তোর আইডিতে তুই যে গল্পগুলো লেখিস আমি সেই গল্পের নায়িকার কথা জিজ্ঞাস করছি।(অনেকটা রাগি কন্ঠে)

—আপনি কি আমার গল্প পড়েছেন?

—হ্যাঁ।এখন তোকে যা জিজ্ঞাস করছি তুই ভাল মতো তার উওর দে।(এত সময়ে বুঝতে পেরেছি আরহী কেন রাগ করেছে।কিন্তুু সেই মেয়েটা যেই হোক না কেন এতে আরহী রাগ করবে কেন সেইটা আমার মাথায় ঠুকচ্ছে না)

—একজন চাকর তার গল্পের মধ্যে যে মেয়ের নামই নায়িকার জায়গায় রাখুক না কেন এতে আপনার সমস্যা টা কি সেইটাই ত আমার মাথায় ডুকছে না।

—সেইটা তোর বুঝচ্ছে হবে না।আমি তোকে যা জিজ্ঞাস করেছি তুই তাড়াতাড়ি তার উওর দে।ঐ মেয়ে তোর কি হয়?ঐ মেয়েটির সাথে তোর কিসের সম্পর্ক?(চিৎকার করে)

—এখন কোন সম্পর্ক নেই।কিন্তুু ভবিষ্যৎ এ হবে।

—ভবিষ্যৎ এ হবে মানে কি?ঘরে তোর বউ থাকতে তুই অন্য মেয়ের সাথে সম্পর্ক করবি তোর লজ্জা লাগে না?

—বউ?কে বউ?আমার ত কোন বউ নেই?

—তাহলে আমি কে?তুই না আমাকে বিয়ে করেছিস?এত তাড়াতাড়িই সব ভুলে গেলি?

—আপনি আমার বউ?হাহাহাহাহা।কথাটা শুনে হাসি পেল।(হাসতে লাগলাম)

—কেন?

—যে মেয়ে তার স্বামীকে পরপুরুষের জুতা দিয়ে মারতে পারে,স্বামীর সাথে বাড়ির চাকরের মতো ব্যবহার করে,তাছাড়া আরও কত কিছু করেছে সেইটা নাহয় নাই বললাম আর সে নাকি আমার বউ।তাছাড়া আমি ত আপনার আর তিন মাসের স্বামী।তারপরেই ত আমাদের ডির্ভোস হয়ে যাবে।তাই আমাকে স্বামী ভাবাটা বন্ধ করেন।এতদিন আমাকে যেমন চাকর ভেবেছেন বাকি তিনমাস তেমনিই চাকর ভাবে শেষ করে দিয়েন।

—(আরহী মাথা নিচু করে রইল)

—তাছাড়া আমার জীবনে অন্য কোন মেয়ে আছে কি না?সেইটা জেনে আপনি কি করবেন?একটা চাকরের জীবনে কেউ আসল কিনা সেইটা জেনে আপনার কোন লাভ হবে বলে আমার ত মনে হয় না।

—(আরহী মাথা নিচু করে চলে যেতে লাগল।যাওয়ার সময় আরহীর চোখের কোণে একটু জল দেখলাম)

—আর হ্যাঁ,আমার প্রতি গল্পে নায়িকার স্থানে যে নামটা ব্যবহার করি সেই মেয়েটা নামের আমার জীবনে কেউ নেই।নামটা আমার ভাল লাগে তাই ব্যবহার করি।কিন্তুু আপনার এক বছরের ঋণ শোধ করার পর অর্থাৎ বাকি তিন মাস শেষ হওয়ার পর আমি আপনাকে ডির্ভোস দিয়ে আর একটা বিয়ে করব।তারপর আমার মেয়ে হলে আমার মেয়ের নাম ঐ নামটাই রাখব।(এতদিন ধরে অনেকেই আমাকে আমার ইনবক্সে জিজ্ঞাস করেছেন আমি প্রতি গল্পে নায়িকার নাম আরহী লেখি কেন?আশা করি আজকে সবাই উওর পেয়ে গেছেন।আসলে নামটা আমার অনেক পছন্দ হয় এবং যদি কখনও আমি বিয়ে করি আর আমার মেয়ে হয় তাহলে আমার মেয়ের নাম আমি আরহী রাখব।)

—কথাটা শুনে আরহী দৌঁড়ে চলে গেল।
.
আরহী দৌঁড়ে আরহীর রুমে চলে গেল।আরহী না চাইতেও কেন জানি আরহীর চোখ দিয়ে জল বের হচ্ছে।আরহী বুঝতে পারচ্ছে না কেন এমনটা হচ্ছে।
.
বার বার শুধু মনে পরচ্ছে তিন মাস ওর সাগর আমাকে ডির্ভোস দিয়ে অন্য কাউকে বিয়ে করবে।আরহী আরহীর মনকে বুঝানোর চেষ্টা করছে যে সাগর যদি অন্য কাউকে বিয়ে করে তাহলে আমার কি?
.
আমি ত সাগরকে ভালবাসি না।সব সময় ত অপমানই করেছি।তাহলে সাগর অন্য কাউকে বিয়ে করলে আমার এত কষ্ট লাগবে কেন?আরহী এইসব ভাবচ্ছে আর বার বার নিজের চোখের জল মুচ্ছে।কিন্তুু একটু পরেই আবার চোখ জলে ভরে যাচ্ছে।

চলবে…… 

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *