রোমান্টিক প্রতিশোধ Part_7

#রোমান্টিক_প্রতিশোধ♥
পার্ট -7
লেখকঃ অদ্রিত আল মাসুদ

রোমান্টিক প্রতিশোধ part-1

রোমান্টিক প্রতিশোধ part-2

রোমান্টিক প্রতিশোধ part-3

রোমান্টিক প্রতিশোধ part-4

রোমান্টিক প্রতিশোধ part-5

রোমান্টিক প্রতিশোধ part-6

 

প্রায় আধা ঘন্টা পর আরহীর জ্ঞান ফিরে আসে।আরহী জ্ঞান ফেরার পর দেখে আরহী আরহীর মার কোলে শুয়ে রয়েছে আর আরহীর বাবা তার পাশে বসে রয়েছে।
.
আরহীর মা-বাবা আরহীর উপর যতই রেগে ছিল না কেন মেয়েকে এমন অজ্ঞান অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যেতে পারে নেই।শুধু আরহীর মা-বাবা কেন?কোন মা-বাবাই তাদের সন্তানকে এই অবস্থায় ফেলে রেখে যেতে পারবে না।
.
—এখন তোর শরীর কেমন লাগছে?(আরহীর মা)

—আমার শরীরের চিন্তা বাদ দেও।বাবা,সাগর এখন কোথায়?আমাকে একটু সাগরের কাছে নিয়ে চল।(আরহী)

—এখন আর সাগরের কাছ গিয়ে কি করবি?ছেলেটা যখন জীবিত ছিল তখন ত তার সাথে পশুর মতো ব্যবহার করেছিস।এখন গিয়ে আর কি লাভ?(আরহীর বাবা)

—বাবা,এমন করে বল না।আমাকে একটু সাগরের কাছে নিয়ে চল না।সাগরের কাছে গিয়ে অন্তত সাগরকে শেষ দেখা দেখে ওর কাছে ক্ষমা ত চাইতে পারব।

—তুই যা করেছিস তা কি ক্ষমার যোগ্য?তাছাড়া একটা লাশের কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইলেই কি আর না চাইলেই কি?

—বাবা,আমি তোমার পায়ে পরি।তুমি একটু আমাকে সাগরের কাছে নিয়ে চল।(আরহী আরহীর বাবার পা ধরে)

—তোর পা ধরতে হবে না।চল আমার সাথে।আমি তোকে সাগরের কাছে নিয়ে যাচ্ছি।
.
আরহীর বাবা-মা আর আরহী আমার লাশ দেখার জন্য বের হল।এক্সিডেন্ট হওয়ার পর লাশটি যেখানে রাখা হয়েছে সেখানের ঠিকানা আরহীর বাবা নিয়ে এসেছে।
.
আরহীর মা-বাবা কেউ আমার মা আর বোনকে আমার মৃত্যুর কথা বলে নেই।তারা ফোন করে কিভাবে বলবে সেইটাই তারা ভাবছে।দেখতে দেখতে তারা হাসপাতালে চলে আসল।
.
একজন তাদের লাশের কাছে নিয়ে গেল।আরহী,আরহীর মা-বাবা লাশটা দেখে অনেকটাই অবাক হয়েছে।কারণ সেখানে যার লাশ সেইটা আমার না অন্য কোন মানুষের।
.
—দেখেছ আমি বলেছিলাম না আমার সাগরের কিছু হয় নেই।সাগর আমাকে কখনও ছেড়ে যেতে পারে না।(আরহী)

—এইটা যদি সাগর না হয় তাহলে সাগর কোথায়?(আরহীর মা)

—সাগর এখানে নেই মানে সাগর এখনও জীবিত আছে।এমন ত না যে সাগর ওর মার কাছে চলে গেছে।

—হয়ত চলে গেছে।(আরহীর বাবা)

—বাবা,তুমি একটু শাশুড়ি মাকে ফোন করে জিজ্ঞাস কর না।সাগর ঐখানে গেছে নাকি না।

—আগে বাড়িতে যাই তারপর করব।
.
তারপর আরহীর বাবা আরহী আর আরহীর মাকে সাথে করে আরহীর বাড়িতে নিয়ে আসে।সেখানে এসে আরহী আমার মাকে ফোন করে কিন্তুু মা বলে আমি সেখানে নেই।তার সাথে বলে দেয় আমার মা আর শ্রেয়ার সাথে কোন ধরনের যোগাযোগ না করতে।
.
তারপর সেইদিনই আরহীকে সেখানে রেখে আরহীর মা আর বাবা তাদের নিজেদের বাড়িতে চলে যায়।তারাও আরহীর সাথে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।
.
দেখতে দেখতে আরও পনের দিন চলে যায়।এই পনের দিনে আরহী গাড়ি নিয়ে আমাকে অনেক জায়গায় খুঁজেছে।কিন্তুুআমাকে কোথাও খুঁজে পায় নেই।শুধু আরহী না আরহীর বাবাও আমাকে খুঁজেছে।কিন্তুু তিনিও আমাকে পায় নেই।
.
আমার মা ত এক প্রকার খাওয়া বন্ধ করেই দিয়েছে।কিন্তুু শ্রেয়ার জন্য খেতে হয়।মা যদি না খায় তাহলে শ্রেয়াও খাবার খায় না।শ্রেয়া প্রতিদিন স্কুল থেকে তাড়াতাড়ি বাড়িতে চলে আসে।
.
বাড়িতে এসেই আমাকে খুঁজতে থাকে।কিন্তুু আমাকে পায় না।তারপর আবার কান্না করতে থাকে।এইভাবেই পনের দিন কেটে যায়।
.
অন্যদিকে সেইদিন আমার এক্সিডেন্ট হওয়ার পর রাস্তা দিয়ে একজন ব্যক্তি আমাকে দেখে আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দিয়ে যায়।এক্সিডেন্ট তেমন গুরুতর না হওয়ায় আমার জীবন বেঁচে যায়।
.
পনের দিন পরে যখন আমার জ্ঞান ফিরে তখন দেখি একজন নার্স আমার পাশে বসে রয়েছে।আমাকে চোখ খুলতে দেখে ডাক্তারকে ডাক দিয়ে আনে।
.
ডাক্তার আমাকে দেখে বলে আমি এখন সুস্থ আছি আর নার্সকে বলে যায় আমার দেখাশোনা করতে।দেখতে দেখতে আরও দশদিন চলে যায়।সেই নার্সটি আমাকে সব সময় দেখাশোনা করে অনেক তাড়াতাড়ি সুস্থ করে দিয়েছে।নার্সটির নাম মিশু।
.
—আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।আমার সেবা করে এত তাড়াতাড়ি সুস্থ করিয়ে দেওয়ার জন্য।(আমি)

—কি যে বলেন।এইটা ত আমার কাজ।(মিশু)

—তবুও আপনাকে ধন্যবাদ।

—আমাকে কি আপনার অটোগ্রাফ দিবেন?(কথাটা শুনে আমি অনেকটা অবাক হলাম)

—আমার মতো গরিব ছেলের অটোগ্রাফ নিয়ে আপনি কি করবেন?

—কে বলছে আপনি গরিব?আপনি কত জনপ্রিয় একটা মানুষ সেই ধারণা আপনার নেই।

—আমি আবার জনপ্রিয় হলাম কি করে?

—দাঁড়ান আমি দেখাচ্ছি।

—আচ্ছা।(মিশু জানি কোথায় চলে গেল।কিছু সময় পর হাতে কি জানি নিয়ে ফিরে আসল)

—এই যে এইভাবে।(মিশু হাতের জিনিসটা আমাকে দেখাল।আরে এইটা ত আমার লেখা বই।এক্সিডেন্ট হওয়ার কিছুদিন আগে নাহিদ ও তার বন্ধুদের কাছে দিয়ে এসেছিলাম।তারা বলেছিল ছাপাবে নাহলে কোন একটা মেলায় পাবলিশ করবে)

—আরে এইটা ত আমার লেখা বই।আপনি কোথায় পেলেন?

—কিছুদিন আগে আমি এইটা একটা মেলা থেকে কিনেছি।

—অহ।তার মানে তারা এইটা পাবলিশ করে দিয়েছে।

—হ্যাঁ।আপনি কি অনেক সুন্দর গল্প লেখেন।তাছাড়া আপনার গল্পগুলো থেকে আমি অনেক কিছু শিখতেও পেরেছি।

—ধন্যবাদ।

—এখন কিন্তুু আমাকে আপনার অটোগ্রাফ দিতে হবে।

—আচ্ছা।দিব।

—কিছু না মনে করলে একটা কথা জিজ্ঞাস করি?

—কি কথা?

—আপনার যখন চিকিৎসা হচ্ছিল তখন দেখলাম আপনার শরীরে অনেক মারের দাগ।সেই দাগগুলো কিসের?

—আরে ঐগুলো কিছু না।

—আমাকে বলবেন না এইটা সরাসরি বললেই পারেন।

—আপনি এতদিন আমার এত সেবা করলেন আপনাকে বলব না ত কাকে বলব?

—তাহলে বলেন ঐগুলো কিসের দাগ?

—আসলে আমি যেখানে কাজ করতাম সেইখানে কিছু ভুল হলে মানুষদের গরুর মতো মারে।তাই কয়েকবার আমাকেও মেরেছে।

—অহ।এখন আমাকে অটোগ্রাফ দিন।(একটা কাগজ এগিয়ে)

—আচ্ছা।

—শুধু মিশুকে অটোগ্রাফ দিলেই হবে না আমাদেরকেও দিতে হবে।(বাকি নার্সরা)

—আচ্ছা,দিব।

.
তারপর সেখানে আরও পাঁচদিন থেকে বাড়িতে চলে আসি।বাড়িতে এসে দেখি আরহী সোফায় বসে রয়েছে।চোখের নিচে কেমন কালো হয়ে গেছে,আগের থেকে কিছুটা কালো হয়েছে,তার সাথে অনেকটা শুকিয়ে গেছে।
.
—ম্যাডাম,আমাকে ক্ষমা করে দেন।আমার ভুল হয়ে গেছে।একমাস আমি আপনার কাজ করতে পারি নেই।(আমি।আরহীর পা ধরে)

—আরে আরে কি করছ?আগে বল তুমি এতদিন কোথায় ছিলে?জানো এই একমাস আমি তোমাকে কত জায়গায় খুঁজেছি?তুমি এতদিন কোথায় ছিলে?আর তোমার মাথায় ব্যান্ডেজ করা কেন?(আরহী।কান্না করে)

—ম্যাডাম,আপনি কান্না করছেন কেন?চাকরের জন্য কেউ কান্না করে?আর একটা চাকরকেই এত খুঁজেছেন কেন?অহ!বুঝেছি।আপনি হয়ত ভাবছেন আমি বাকি দুইমাস আপনার কাজ না করেই চলে যাব।কিন্তুু ম্যাডাম আপনি দশ লক্ষ টাকা দিয়ে আমার বোনের জীবন বাঁচিয়েছেন।আমি আপনার দেওয়া কাজ আর আপনাকে ডির্ভোস না দিয়ে কি করে যাই বলুন ত।

—ঐ তুই এত বেশি বুঝছ কেন?আমি কি একবারও বলেছি তুই আমাকে ডির্ভোস দে।

—না।কিন্তুু আমাদের মধ্যে ত এইটাই চুক্তি হয়েছিল তাই বললাম।

—তোর চুক্তির কাথায় আগুন।এখন বল তুই এতদিন কোথায় ছিলি?জানিস তোর চিন্তা করতে করতে আমি এতদিন ঠিক মতো ঘুমাতে পারি নেই,খেতে পারি নেই,মোটকথায় কোন কাজই ঠিক মতো করতে পারি নেই।(আমার কলার ধরে।আরহীর চোখের কোণে জল)

—আসলে ম্যাডাম সেইদিন আপনাদের বাড়ি থেকে আসার পর রাস্তায় আমার এক্সিডেন্ট হয়েছিল।

—কি?তোর এক্সিডেন্ট হয়েছিল?কোথায় দেখি?কিভাবে হয়েছে?

—আরে ম্যাডাম,একটা চাকরের কি হল আর না হল তা দেখে কি করবেন?

—আর একবার যদি তুই নিজেকে চাকর বলেছিস তাহলে তোর জন্য ভাল হবে না।

—চাকর যখন তাহলে ত চাকরই বলব।আর একমাস কাজ করতে পারি নেই।আমার জন্য আপনার ঘুম,খাওয়ায় সমস্যা হয়েছে এর জন্য যদি আপনি আমাকে মারতে চান তাহলে আমাকে মারতে পারেন।আমি কিছু বলব না।(আমি আমার প্যান্টের বেল্ট খুলে দিলাম)

—আমি কি এতই খারাপ?যে তোমার এই অসুস্থ অবস্থায়ও তোমাকে মারব?

—আপনি কি নিজেকে ভাল মনে করেন?

—আমি জানি আমি ভাল না।কিন্তুু এতটাও খারাপ না যে তোমার এই অবস্থায় আমি তোমার উপর অত্যাচার করব।তাছাড়া আমি তোমাকে ভালবাসি।

—ভালবাসেন?তাও আবার আপনি?আচ্ছা,ভালবাসতে ত একটা মন লাগে আপনার কি সেই মনটা আছে?আমার ত মনে হয় না আপনার কোন মন আছে।

—এমন করে বল না।আমার অনেক কষ্ট হয়।

—আপনি কষ্টের কি দেখেছেন?আপনি ত শুধু মানুষকে কষ্ট দিতেই পারেন।

—এমন করে বল না।দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দাও।(আমার পা ধরে)

—ছি: ছি: এইটা আপনি কি করছেন?একজন চাকরের পা ধরছেন?এতে করে ত আপনার অপমান হবে।তাড়াতাড়ি আমার পা ছাড়েন।

—না।তুমি আগে আমাকে ক্ষমা কর তারপরেই আমি তোমার পা ছাড়ব।

—আমি বলছি আমার পা ছাড়েন।(এক প্রকার জোড় করেই আমার পা ছাড়িয়ে নিলাম)

—ম্যাডাম,যদি কোন কাজ থাকে তাহলে বলুন।আমি করে দিচ্ছি।নাহলে আমি বাহিরে যাব।

—কোথায় যাবে?

—সেইটা আপনাকে বলার প্রয়োজন মনে করি না।যদি কাজ থাকে তাহলে বলুন আমি করে দিয়ে যাচ্ছি।

—না।এখন কোন কাজ নেই।
—তাহলে আমি যাই।কিছু সময় পরে আসব।
.
কথাটা বলেই আমি বেরিয়ে আসলাম।এখন আবার নাহিদের কাছে যেতে হবে।অনেকদিন ধরে কথা হয় না।

আমি নাহিদের অফিসে যেতেই দেখলাম সেখানে নাহিদ এবং নাহিদের বাকি বন্ধুরাও বসে কি জানি কথা বলছে।আমিও তাদের কাছে গেলাম।
.
—আরে সাগর ভাই যে এতদিন কোথায় ছিলেন?জানেন আমরা আপনাকে কত খুঁজার চেষ্টা করেছি?আপনার মোবাইল বন্ধ,এমনকি বাসার ঠিকানাও নেই যে আমরা সেখানে গিয়ে আপনার খুঁজ নিব।(নাহিদ)

—আসলে আমার মোবাইল হারিয়ে গেছে আর এতদিন আমার শরীর ভাল ছিল না।তাই আসতে পারি নেই।(আমি)

—কি হয়েছিল আপনার?

—একমাস আগে এক্সিডেন্ট হয়েছিল।আজকেই সম্পূর্ণ ভাবে সুস্থ হয়ে বাসায় এসে আপনার কাছে চলে আসলাম।

—অহ।আপনাকে যার জন্য এতদিন খুঁজছিলাম।তা ত বলাই হল না।(নাহিদের বন্ধু)

—হ্যাঁ,বলেন।

—আপনার গল্প গুলো আমরা সবাই নিজ নিজ দোকানে এবং বিভিন্ন মেলায় পাবলিশ করেছি।আর বইগুলো অনেক বিক্রিও হয়েছে।এখন আমরা চাই আপনি এমনি আমাদের আরও বই লিখে দেন আর আমরা সেইগুলো পাবলিশ করি।

—আচ্ছা,দিব।

—আমাদের কথা অনুসারে বই ছাপানোর খরচ রেখে যা লাভ হয়েছে সেই টাকা গুলো এই খামের মধ্যে আছে।আপনি এইগুলো নিয়ে যান।

—ধন্যবাদ,আমাকে সাহায্য করার জন্য।

—ধন্যবাদ ত আপনাকে দেওয়া দরকার।আপনার জন্য আমাদের কোম্পানির এত নাম হচ্ছে।

—তা পরবর্তী বই কবে পাব?

—দশদিনের মধ্যেই।আমি তাহলে এখন আসি।শরীরটা একটু ভাল লাগছে না।

—আচ্ছা,আপনি বাসায় গিয়ে বিশ্রাম নিন আর আমাদের নাম্বার নিয়ে যান।বাসায় গিয়ে সময় করে মোবাইল কিনে আমাদের ফোন দিয়েন।

—আচ্ছা।
.
নাম্বার নিয়ে সেখান থেকে চলে আসলাম।সেখান থেকে বাহিরে এসে খাম খুলে দেখলাম সেখানে সব মিলিয়ে ৫০০০০/= টাকা আছে।আমার সব সময় স্বপ্ন ছিল নিজের রোজগার করা প্রথম টাকা দিয়ে জয়া আর মাকে কাপড় কিনে দিব।
.
তাই তাদের জন্য কাপড়,আমার জন্য মোবাইল কিনে রাজুর কাছে চলে গেলাম।রাজুর কাছে গিয়ে মা আর শ্রেয়ার কাপড় আর কিছু টাকা দিয়ে দিলাম।যাতে মাকে দিয়ে আসে।
.
মার উপর যত রাগ থাকুক না কেন তাদের ত আর কষ্টে দেখতে পারি না।রাজুকে সব কিছু দিয়ে আমি বাড়িতে চলে আসলাম।বাড়িতে এসে কিছুটা অবাক হলাম।
.
কারণ সেখানে মা,শ্রেয়া,আরহীর মা-বাবা সবাই আছে।আমাকে দেখে মা আর শ্রেয়া আমার কাছে চলে আসল।মা আমার মাথায় ব্যান্ডেজ করা দেখে কান্না করে দিয়েছে।মার সাথে জয়াও কান্না করে দিয়েছে।
.
—বাবা,তোর মাথায় কি হয়েছে?তুই এতদিন কোথায় ছিলি?(মা।কান্না করে)

—বাবা?কে বাবা?আর আমি এতদিন কোথায় ছিলাম সেইটা আপনাকে বলব কেন?আপনি আমার কি হোন?(আমি)

—ভাইয়া,তুই মার সাথে এমন ভাবে কথা বলছিস কেন?তোর কথা শুনে মনে হচ্ছে তুই মাকে চিনিস না।(শ্রেয়া)

—ভাইয়া?কে ভাইয়া?আমি ত আপনার ভাইয়া না।

—সাগর,তুই এমনভাবে কথা বলছিস কেন?আমি তোর মা আর ঐ তোর বোন।

—আমার কোন মা,বোন নেই।আমার মা,বোন ত অনেকদিন আগেই আমাকে মরতে বলেছিল।একমাস আগে ত আমি প্রায় মরেই গিয়েছিলাম।কিন্তুু কি করে যে বেঁচে আসলাম কে জানে।

—সাগর,আমি জানি তুই আমার উপর রেগে আছিস।তোর রাগটা স্বাভাবিক।কিন্তুু বিশ্বাস কর আমি ইচ্ছে করে তোকে ঐসব বলতে চাই নেই।আমি মনে করেছিলাম তুই আসলেই আরহীকে মেরে টাকা এনে আমাদের দিয়েছিস।

—যে মা নিজের সন্তানের মুখের কথায় বিশ্বাস করে না তাকে আমি বিশ্বাস করব কেন?সেইদিন আমি কত করে বলেছিলাম আমি ম্যাডামের উপর হাত তুলি নাই তবুও আমার কথায় কেউ বিশ্বাস করে নাই।

—সাগর,তোমার মা আর বোনের কোন দোষ নেই।আমি তোমার মাকে অনেক কিছু শুনিয়েছিলাম তাই তোমার মা,বোন তোমার সাথে এমন খারাপ ব্যবহার করেছে।(আরহীর মা)

—ম্যাডাম,আপনার মাকে দয়া করে আমার পরিবারের বিষয়ে কিছু বলতে না করে দিন।আমার পরিবারের বিষয়ে তার কথা সাজে না।

—সাগর,ভুলে যেও না আমার মা তোমাকে শাশুড়ি হয়।তাই মা তোমার পরিবারের বিষয়ে কথা বলতেই পারে।

—শাশুড়ি?কিভাবে?আমার ত বউই নেই।তাহলে শাশুড়ি আসল কি করে?

—বউ নেই মানে?তাহলে আমি কে?

—আপনি ত আমার ম্যাডাম।আমার মালকিন।দশ লক্ষ টাকা দিয়ে একবছরের জন্য রেখেছেন।

—সাগর,আমি জানি তুমি আমার মেয়ের উপর রেগে আছ।তোমার রাগ করাটা স্বাভাবিক।ঐ তোমার সাথে যা করেছে তা ক্ষমার যোগ্য না সেইটাও আমি জানি।কিন্তুু বিশ্বাস কর ঐ আমাদের যা বলেছে আমরা তা শুনেই তোমার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছি।তার সাথে তোমার মাকে অনেক কিছু বলেছি।আমাদের জন্য অন্তত তোমার মা,বোনকে কষ্ট দিও না।

—কার মা?কার বোন?আমার ত কোন মা,বোন নেই।যে বোনের জন্য নিজেকে এক বছরের জন্য বিক্রি করে দিয়েছি।তার আমাকে ভাই বলতে ঘৃণা করে।মার যাতে কষ্ট কম হয় সেই জন্য দুপুরবেলা রোদে রিশকা চালিয়ে টাকা রোজগার করে এনে দিতাম।সে আমাকে তার ছেলে বলে পরিচয় দিতে ঘৃণা করে,আবার বলে ছোট থাকতেই মেরে ফেললে ভাল হত।তারা আমার মা,বোন কি করে হয়?

—ভাইয়া,আমি যা কিছু করেছি তার জন্য আমি জানি তুই আমার উপর রাগ করে আছিস।কিন্তুু বিশ্বাস কর আমি ইচ্ছে করে এইসব করতে চাই নেই। আন্টি যখন আমার মাকে খারাপ খারাপ কথা বলছে সেইগুলো শুনে আমার অনেক কষ্ট হয়েছিল।তাই রাগের মাথায় তোকে ঐসব বলে ফেলেছি।দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দে।আমি আর কখনও তোকে কিছু বলব না।জানিস তুই একমাস নিখুঁজ ছিলি তখন আমি প্রতিদিন তোর কথা ভেবে কান্না করতাম।আমি আর তোকে ছাড়া থাকতে পারব না।তুই আর আমার উপর রাগ করে থাকিস না।(আমাকে জড়িয়ে ধরে।কান্না করে)

—সাগর,আমি জানি তুই আমার উপর রেগে আছিস।কিন্তুু হঠাৎ করে তোর কাছে এত টাকা কোথা আসল?আর তুই প্রতিদিন এত টাকা কোথাই বা পেতি তা আমি জানতাম না।তাই আরহীর মা আমাকে যা বলেছে আমি তাই বিশ্বাস করে নিয়েছি।আমি মা হয়ে তোর সামনে হাত জোড় করে ক্ষমা চাচ্ছি।তুই আমাকে ক্ষমা করে দেন আর আমার উপর রাগ করে থাকিস না।(মা আমার সামনে হাত জোড় করে কান্না করতে করতে)

—মা,তুমি এইসব কি করছ?ছেলের সামনে কি কেউ হাত জোড় করে ক্ষমা চায়?এতে ত আমার পাপ হবে আর তুমি হাত নামাও।তোমাদের দুইজনের উপর অভিমান ছিল এইটা ঠিক।কারণ তোমরা দুইজনের কেউই আমার কথায় বিশ্বাস কর নেই।উল্টো অন্য কারো কথা বিশ্বাস করে আমাকে অনেক কিছু বলেছ।

—ভাইয়া,এইবারের মতো ক্ষমা করে দাও।আমি আর কখনও তোমাকে অবিশ্বাস করব না।(কান্না করে)

—হয়েছে পিচ্ছি আর কান্না করতে হবে না।আমি তোকে ত সেইদিনই ক্ষমা করে দিয়েছিলাম।

—তাহলে এতদিন কোথায় ছিলে?জানো আমি তোমার জন্য প্রতিদিন রাতে কান্না করতাম।

—হ্যাঁ রে বাবা তুই এতদিন কোথায় ছিলি?

—আসলে মা সেইদিন রাস্তা দিয়ে আসার সময় আমার এক্সিডেন্ট হয়েছিল আর এতদিন হাসপাতালেই ছিলাম।কিন্তুু এখন সুস্থ আছি।

—তাই বলে আমাদের একটা ফোন দিয়ে জানাবি না।

—তোমাদের উপর একটু অভিমান ছিল তাই আর জানাইনি।

—সাগর,আমাদেরও ক্ষমা করে দাও।সেইদিন আরহী কথা শুনে তোমাকে আর তোমার মাকে যা নয় তাই বলে অপমান করেছি।আসলে আমি জানতাম না আমার মেয়ে আমাদেরকে এত বড় মিথ্যা কথা বলবে,আমাদের বিশ্বাস নিয়ে এইভাবে খেলা করবে।আর একমাস আগে যা হয়েছে তাতে আরহীর কোন দোষ নেই।সেইদিন দুপুর থেকে আরহী আমার কাছে গিয়ে কান্না করছিল তাই আমি ভাবলাম তুমি হয়ত আরহীকে কিছু করেছ তাই আরহী এমন করে কান্না করছে।তাই তোমাকে যা নয় তাই বলে ফেলেছি।

—সাগর,আমরা যা করেছি তার জন্য সত্যিই আমরা লজ্জিত।তুমি আমাদের ক্ষমা করে দাও।(আরহীর মা-বাবা আমার সামনে হাত জোড় করে আছে।আর যাই হোক তাদের ত কোন দোষ নেই।আরহী তাদের মিথ্যা বলেছে আর সেইটাই তারা বিশ্বাস করে আমাকে ঐসব বলেছে।তাই তাদেরও ক্ষমা করে দিলাম)

—আপনারা হাত নামান।আপনারা আমার গুরুজন।আমার সামনে এমন করে হাত জোড় করে থাকলে এইটা দেখতে ভাল দেখায় না।আর আমি ত আপনাদের ছেলের মতোই।ছেলের কাছে কি মা-বাবা ক্ষমা চায়?তাই আমার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে না।

—বেয়ান,আপনিও আমাকে ক্ষমা করে দিন।আমি আপনাকে না বুঝে অনেক কিছু বলে ফেলেছি,আপনার লালন-পালনে প্রশ্ন উঠিয়েছি।কিন্তুু দেখেন আমার লালন-পালনেই যে কিছু কম ছিল সেইটা আমি বুঝি নেই।(হাত জোড় করে)

—না না।ক্ষমা চাওয়ার কি আছে?আমরা আমরাই ত।

—সাগর,তুমি ত সবাইকে ক্ষমা করে দিলে আমাকে কি ক্ষমা করবা না?(আরহী)

—সাগর,আমরা যা করেছি তার জন্য সত্যিই আমরা লজ্জিত।তুমি আমাদের ক্ষমা করে দাও।(আরহীর মা-বাবা আমার সামনে হাত জোড় করে আছে)

—আপনার মতো মেয়ে ক্ষমা পাওয়ার কোন অধিকার নেই।

—কেন?

—আমার থেকে আপনিই সেইটা ভাল জানেন।

—মা-বাবা তোমরা একটু বল না আমাকে ক্ষমা করে দিতে।আমি আর কখনও ওর সাথে খারাপ ব্যবহার করব না।

—সাগর,আমরা যা করেছি তার জন্য সত্যিই আমরা লজ্জিত।তুমি আমাদের ক্ষমা করে দাও বাবা

—তুই যে কাজ করেছিস তার পরে কোন মুখে তোকে ক্ষমা করে দেওয়ার কথা বলব?তোর জন্য আমি সাগরকে এমনি সাগরের মাকেও কত কিছু বলেছি।ঐসব ভাবতেও আমার নিজের প্রতি ঘৃণা হচ্ছে।

—শাশুড়ি মা,আপনি আপনার ছেলেকে একটু বুঝান না যাতে আমাকে ক্ষমা করে দেয়।আমি আর কখনই ওর সাথে খারাপ ব্যবহার করব না।(কান্না করে।মার পা ধরে)

—বউ মা,তুমি কোন মুখে আমাকে এই কথাটা বললে?তোমার কি একটুও লজ্জা করল না?তুমি আমার মেয়েকে মেরে ফেলতে চেয়েছিলে।তার উপর আমার আমার ছেলের উপর এত অত্যাচার করেছ।তারপরেও তুমি কিভাবে ভাব আমি আমার ছেলেকে বলব যাতে ঐ তোমাকে ক্ষমা করে দেয়।

—মা,আমি না বুঝে ভুল করে ফেলেছি।দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দেন।(কান্না করে)

—সাগর প্লিজ

—কখনই না।সাগর,বাবা চল আমরা বাড়িতে চলে যাই।

—মা,তুমি আর শ্রেয়া বাড়িতে চলে যাও।আমি এখন যেতে পারব না।

—কেন?ভাইয়া তুই কি এখনও আমার উপর রাগ করে আছিস?তাই আর বাড়িতে যাবি না?

—না রে পিচ্চচি।

—তাহলে কেন যাবি না?

—আমার ঋণ এখনও শুধ হয় নেই।আরও একমাস বাকি আছে।একমাস শেষ করে ডির্ভোস দিয়ে একবারে তোদের কাছে যাব।

—আচ্ছা।

—আর মা এই টাকাগুলো রাখ।(অনেকগুলো টাকা দিয়ে দিলাম)

—এতগুলো টাকা তুই কোথায় পেলি?(অবাক হয়ে।মাকে সব বললাম)

—বাবা,আমি তোকে দোয়া করি তুই অনেক বড় হবি।

—এখন তোমরা সাবধানে বাড়িতে চলে যাও।

—আচ্ছা।
.
মা আর শ্রেয়া চলে গেল।কিছু সময় পর আরহীর মা-বাবাও চলে গেল।দেখতে দেখতে বাকি দিনটাও চলে গেল।রাতটাও ভাল মতো কাটল।কিন্তুু পরেরদিন থেকে শুরু হল আরহীর পাগলামি।


পরেরদিন আমি আরহীকে ভার্সিটিতে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনেক সময় ধরে গাড়ির সামনে দাড়িয়ে আছি।কিন্তুু আরহী আসছে না।তাই আমি আরহীকে ডাকার জন্য ঘরের ভিতরে গেলাম।
.
—ম্যাডাম,আপনার তৈরি হতে আরও কত সময় লাগবে?(আমি)

—নিশ্চুপ।(আরহী)

—কি হল?কিছু বলছেন না কেন?

—তুমি একটু ঘরের ভিতরে আস।তাহলেই বুঝতে পারবে।

—না।আমি আপনার ঘরের ভিতরে যেতে পারব না।
—কেন?

—আমি ঘরের ভিতরে গেলে আবার আপনিই বলবেন আমি আপনার সুযোগ নেওয়ার জন্য আপনার ঘরে এসেছি।

—না।বলব না।তুমি তাড়াতাড়ি ঘরের ভিতরে আস।নাহলে আমাদের যেতে আরও অনেক দেড়ি হবে।

—আপনার দেড়ি হোক এতে কোন সমস্যা নেই।কিন্তুু আমি আপনার ঘরে যেতে পারব না।

—আমি একবার বলছি না তাড়াতাড়ি ঘরের ভিতরে আস।যদি এখনই ঘরের ভিতরে না আস তাহলে তোমার জন্য ভাল হবে না।(কিছুটা রেগে)
.
ম্যাডামের আদেশ পালন করার জন্য আমি ঘরে প্রবেশ করলাম।আমি ঘরের ভিতরে গিয়ে দেখি আরহী ছায়া,ব্লাউজ পড়ে তার হাতে শাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।আমি সাথে সাথে আমার মুখ ঘুরিয়ে নিলাম।
.
—কি হল মুখ ঘুরিয়ে নিলে কেন?(আরহী)

—আপনি শাড়ি না পরে হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন কেন?আর আমাকেই বা এখানে ডাকলেন কেন?(আমি)

—আগে বল তুমি শাড়ি পরাতে পারবে?

—হ্যাঁ,কিন্তুু কেন?

—তাহলে আমাকে পরিয়ে দাও।

—কেন?আপনি না শাড়ি পরতে পারেন?

—কে বলেছে?আমি ত শাড়ি পরতে পারি না।

—তাহলে আমার এক্সিডেন্ট হওয়ার আগে আপনি কি করে শাড়ি পরতেন?

—ঐদিন গুলোতে আমি মাকে ফোন করতাম আর মা আমাকে বলে দিত।সেই অনুসারেই আমি শাড়ি পরতাম।

—তাহলে আজকে শাড়ি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন কেন?আপনার মাকে ফোন করে জিজ্ঞাস করে নিন কিভাবে শাড়ি পরতে হয়।

—মা ত আমার ফোন ধরে না।

—কেন?

—মা বলেছে যতদিন না তুমি আমাকে আমার কাজগুলোর জন্য ক্ষমা করবে ততদিন পর্যন্ত মা আমাকে তার সাথে যোগাযোগ করতে না করেছে।

—অহ।তাহলে এখন আর কি করার আছে।আপনি শাড়ি বাদ দিয়ে আগে যেই কাপড় পরতেন সেইগুলোই পরেন।

—না।আমি সেইগুলো পরতে পারব না।

—কেন?

—আমি যেইদিন থেকে শাড়ি পরা শুরু করেছি তার পরেরদিনই আমার সব ছোট কাপড় জ্বালিয়ে দিয়েছি।

—তাহলে এখন আপনি এইভাবেই বসে থাকুন।আমি চললাম।

—কোথায় যাচ্ছ?

—বাহিরে।

—কেন?

—আপনি এমনভাবে শাড়ি না পরে দাঁড়িয়ে আছেন তাহলে আমি কি করব?

—তুমি ত শাড়ি পরাতে জানই।আমাকে একটু শাড়ি পরিয়ে দাও তাহলেই ত হয়।

—আমি পারব না।

—কেন?ভয় হয়?

—কিসের ভয়?

—তুমি যদি আমাকে শাড়ি পরিয়ে দাও।তাহলে আমাকে ক্ষমা করে দিয়ে আবার আমাকে ভালবেসে ফেলবে।

—ভালবাসব?তাও আবার আপনাকে?কোনদিনই না।আর আপনাকে ক্ষমা করার ত কোন প্রশ্নই উঠে না।

—তাহলে আমাকে শাড়ি পরিয়ে দাও।

—ঠিক আছে দিন।
.
কি আর করার বাধ্য হয়ে শাড়ি পরিয়ে দেওয়ার জন্য রাজি হতে হল।শাড়ি যদি না পরিয়ে দেই তাহলে আমার ভার্সিটিতে যাওয়া হবে না।তার উপর কিছুদিন পরই আবার পরীক্ষা শুরু হবে।
.
এমন অবস্থায় ভার্সিটিতে না গেলে পরে সমস্যায় পরতে হবে।আমি আরহীকে শাড়ি পরিয়ে দেওয়ার সময় খেয়াল করলাম যখন আমার হাত আরহীর শরীরে লাগছে তখনই আরহী চোখ বন্ধ করে ফেলছে।
.
আরহী এমনটা কিসের জন্য করছে তা আমি বুঝলাম না।আরহীর এই ভাব দেখে আমার শরীরের রক্ত গরম হচ্ছিল।আরহীকে শাড়ি পরানো শেষ হলে আরহীকে নিয়ে ভার্সিটিতে চলে গেলাম।
.
ভার্সিটিতে আরহীকে নামিয়ে দিয়ে আমি গাড়ি রাখতে চলে গেলাম।আমি যেই গাড়ি রেখে ক্যাম্পাসে এসেছি আমাকে দেখে আনিকা,নিধি আরও কয়েকজন আমার কাছে আসল।
.
—সাগর,এইটা কি হল?তুমি এমনটা কি করে করতে পারলা?(আনিকা)

—আমি আবার কি করলাম?(আমি)

—দেখেছিস আনিকা আমাদের ট্রিট দিতে হবে দেখে সাগর এতদিন ভার্সিটিতে আসে নেই,এমনকি আজকেও কেমন নাটক করছে।(নিধি)

—আরে আরে তোমরা যদি আমাকে না বল কিসের জন্য তোমাদের ট্রিট দিব তাহলে আমি বুঝব কি করে?

—তুমি জান না আমরা তোমার কত গল্পের পাঠক,এমনকি আমরা তোমার গল্পের কতবড় ভক্ত?তবুও তুমি আমাদের সাথে এমনটা কি করে করতে পারলে?

—আমি কি করেছি সেইটাই ত আমি জানি না।
—তোমার লেখা বই বেরিয়েছে তুমি আমাদের আগে বল নেই কেন?(কিছুটা রাগি কন্ঠে)

—অহ।এই জন্য আপনারা সবাই রাগ করে আছেন?

—হ্যাঁ।আগে বল তোমার বইয়ের কথা আমাদের কেন বল নেই?

—আমি বই জমা দেওয়ার পর ত আর ভার্সিটিতে আসি নেই।তাহলে তোমাদের কি করে বলব?

—কেন?মোবাইলে কি বলা যেত না?তাছাড়া এতদিন কোথায় ছিলে?

—আমার এক্সিডেন্ট হয়েছিল তাই এতদিন হাসপাতালে ছিলাম।

—এখানে হচ্ছেটা কি?(আরহী।কোথা থেকে জানি আসল।মুখ একদম লাল হয়ে গেছে।দেখেই বুঝা যাচ্ছে অনেক রেগে আছে)

—কেন?দেখতে পাচ্ছিস না আমরা সাগরের সাথে কথা বলছি।

—সাগর,তুমি এখনই আমার সাথে চল।(আমার হাত ধরে)

—কিরে হঠাৎ স্বামীকে এত আগলে রাখা হচ্ছে কেন?মনে হচ্ছে তোর স্বামীকে তোর কাছে থেকে কেউ কেড়ে নিয়ে যাবে।

—তোরা যেমন করে আমার স্বামীকে ঘিরে ধরে আছিস আমার ত তাই মনে হচ্ছে।আমার মনে হচ্ছে সাগর কোন মধুর ভান্ডার আর তোরা সবাই মৌমাছি।

—সাগর যা করেছে তার জন্য আমরা কেন অনেকেই মৌমাছি হতে রাজি।

—সাগর হঠাৎ এত জনপ্রিয় হয়ে গেল কি করে?
—সাগর,ত এখন বড় লেখক হয়ে গেছে।ওর যেমন বই ছাপে,তেমনি সংবাদপত্রে ওর লেখা ছন্দও ছাপে।আমার ত মনে হয় সাগরের এইসব করেছে তা তুই কিছুই জানিস না।

—তোরে কে বলেছে?আমার স্বামীর সম্পর্কে আমি সবকিছু জানি।(কথাটা বলেই আরহী আমার হাত ধরে টানতে লাগল)

—ম্যাডাম,এইটা কি হচ্ছে?

—কি হচ্ছে মানে?আমি তোমাকে আমার সাথে ক্লাসে নিয়ে যাচ্ছি।

—আমার হাত-পা আছে।আমি পঙ্গু না যে আমাকে ধরে নিয়ে যেতে হবে।তাই আমার হাত ছাড়ুন।

—না,ছাড়ব না।

—কোন অধিকারে আপনি আমার হাত ধরেছেন?একটা চাকরের হাত ধরা আপনার সাজে না।

—তুমি আমার স্বামী।আমার সম্পূর্ণ অধিকার আছে তোমার হাত ধরার।(আমি ছাড়া দিয়ে আমার হাত ছাড়িয়ে নিলাম)

—কিসের স্বামী?আমি আপনার স্বামী না।যে মেয়ে তার বন্ধুর জুতা দিয়ে ক্যাম্পাসের সবার সামনে আমাকে জুতা দিয়ে মারতে পারে,আমার মেরে ফেলার জন্য তার বন্ধুদের পাঠায় তাকে আমি আমার স্ত্রী হিসাবে মানি না।

—আমি তোমার কাছে ত ক্ষমা চেয়েছি।একবারের জন্য আমাকে ক্ষমা করে দিয়ে আপন করে নেওয়া যায় না?(চোখের কোণে জল)

—আপনি যদি শুধু আমাকে মারার চেষ্টা করতেন বা আমাকে মেরে ফেলতেন,এমনকি আমার সাথে যা করার করতেন আমি আপনাকে ক্ষমা করে আপন করে নিতাম।কিন্তুু আপনি আমার ছোট বোনটাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিলেন।যে আমার বোনকে মারার মতো জঘন্য কাজ করতে পারে আমি তাকে কোন দিনও আপন করে নিব না।

—সাগর,আমাকে একবার ক্ষমা করে আপন করে নেও।দেখবে আমি তোমার মনের মতো বউ হয়ে উঠব।তোমার ঘরের লক্ষি বউ হয়ে দেখাব।(কান্না করে)

—লক্ষি বউ ত দূরের কোথা আগে একটা ভাল মেয়ে উঠে দেখান।তারপর মানুষের মনের মতো বউ হওয়ার চেষ্টা করুন।

—তুমি আমাকে বল আমার কি করতে হবে?আমি তোমার তোমার জন্য সব করতে পারি।

—আরে আরে বাদ দেন।আপনি জানেন আপনার মুখ দেখলেই আমার বমি আসে।যদি বোনের চিকিৎসার জন্য আপনার কাছে এক বছরের জন্য বিক্রি করে দশ লক্ষ টাকা না নিতাম তাহলে কবেই আমি আপনার থেকে দূরে চলে যেতাম।
.
কথাটা বলেই আমি সেখান থেকে চলে আসলাম।কিছু দূর আসার পর পিছনে থেকে আরহীর কান্নার শব্দ পেলাম।আরহীর কান্নার শব্দ পেয়েও আমি পিছনে ফিরে না তাকিয়ে চলে আসলাম।
.
কারণ আরহী কান্না করতে করতে মরে গেলেও আমার কিছু যায় আসে না।আরহী আমার আর আমার পিচ্ছিটার সাথে যা করেছে তার সামনে এইসব কিছুই না।
.
—আরহী,কান্না থামা।(আনিকা)

—আনিকা,দেখেছিস সাগর আমাকে কি বলে গেল?আমাকে দেখলে নাকি ওর বমি আসে।(আবার কান্না করতে লাগল)

—তুই ওর সাথে যা করেছিস তার কাছে ত এইসব কিছুই না।

—আমি যা করেছি তার জন্য ত ওর কাছে বারবার ক্ষমা চেয়েছি।কিন্তুু সাগর আমাকে ক্ষমা করছেই না।

—আরহী,অনেক সময় ক্ষমা চাইলেই সবকিছু আগের মতো হয় না।

—তাহলে তুই বল আমি কি করব?আমি এখন সাগরকে ছাড়া বাঁচতে পারব না।

—তুই না বলতি সাগর ওর নিজের জীবন থেকেও ওর মা আর বোনকে বেশি ভালবাসে?

—হ্যাঁ।কিন্তুু তারা দুইজনেও আমার সাথে কথা বলে না।

—তাহলে আগে গিয়ে তাদের দুইজনের কাছে ক্ষমা চা।যদি তারা তোকে ক্ষমা করে আপন করে নেয় তাহলে সাগরও তোকে ক্ষমা করে আপন করে নিবে।এখন কান্না বন্ধ করে আমার সাথে ক্লাসে চল।
.
তারপর আরহী চোখ মুছে ক্লাসে চলে গেল।সম্পূর্ণ ক্লাস চলার সময় আরহী আমার দিকে তাকিয়ে ছিল।ক্লাস শেষ করে আরহীকে নিয়ে যখন বাড়িতে আসছিলাম তখন আরহী মাঝপথে গাড়ি থামাতে বলল।

চলবে…… 

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *