রোমান্টিক প্রতিশোধ Part_8

#রোমান্টিক_প্রতিশোধ♥
পার্ট -8
লেখকঃ অদ্রিত আল মাসুদ

রোমান্টিক প্রতিশোধ part-1

রোমান্টিক প্রতিশোধ part-2

রোমান্টিক প্রতিশোধ part-3

রোমান্টিক প্রতিশোধ part-4

রোমান্টিক প্রতিশোধ part-5

রোমান্টিক প্রতিশোধ part-6

 

.
—ম্যাডাম,গাড়ি থেকে নামলেন কেন?(আমি)

—আমি এক জায়গায় যাব।তুমি বাড়িতে চলে যাও।(আরহী)

—গাড়িতে উঠেন।আমি আপনাকে নিয়ে যাই।

—না না।তুমি বাড়িতে চলে যাও।আমি চলে যেতে পারব।

—আচ্ছা।

.
আমি গাড়ি নিয়ে চলে আসলাম।আরহী তারপরে কোথায় চলে গেল তা আমি জানি না।সন্ধ্যার সময় আরহী বাড়ি ফিরে আসল।আরহীর মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছে কোন একটা কারণে আরহীর মন খারাপ।
.
পরেরদিন সকালে আবার আরহী আমাকে ডাক তাকে কাপড় পরিয়ে দেওয়ার জন্য।আমি আগেই ভেবে রেখেছিলাম আরহী আমাকে আজকেও ডাকবে।তাই আমি কিভাবে শাড়ি পরতে হয় তার একটা ভিডিও নামিয়ে রেখেছিলাম।আরহী যখন আমাকে ডাকল আমি আরহীকে ভিডিওটা দিয়ে দিলাম।
.
তারপরে সেখান থেকে চলে আসলাম।আজকেও ভার্সিটি থেকে আসার সময় আরহীকে গাড়ি থেকে নেমে গেল।এইভাবেই চলতে লাগল দিন।দেখতে দেখতে আরও পনের দিন কেটে গেল।এর মধ্য আরহী প্রতিদিন বারবার আমার কাছে আসতে চেয়েছে।
.
কিন্তুু আমি আরহী সবসময় দূরে ঠেলে দিয়েছি।তাছাড়া এর মধ্য আমার আরও দুই-তিনটা বই বেরিয়েছে।আরহী প্রতিদিন কোথায় যায় সেইটা আমি এখনও জানি না।মা আর শ্রেয়াকে অনেক দিন ধরে দেখা হয় না।
.
তাই আজকে আরহী বিকালের দিকে মা আর শ্রেয়াকে দেখতে গেলাম।বাড়িতে গিয়ে আমি অনেকটা অবাক হলাম।কারণ মা রান্না করছে আর শ্রেয়ার সাথে আরহী খেলা করছে।আরহীকে এখানে দেখে আমার রাগটা বেড়ে গেল।তার থেকে বেশি রাগ হল মার উপর।কারণ সবকিছু জানার পরও মা আরহীকে কি করে ক্ষমা করল?
.
—মা মা।(আমি।অনেকটা রাগে)

—কি হয়েছে?আর তুই কখন আসলি?(মা)

—কখন এসেছি সেইটা পরে জানলেও হবে।আগে বল এই মেয়ে আমাদের বাড়িতে কি করে?কে ওকে আমাদের বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করতে দিয়েছে?

—আরে আস্তে আস্তে।আরহী শুনতে পাবে ত।

—শুনতে পাক তাতে আমার কি?আগে বল ঐ কোন সাহসে আমার বাড়ির ভিতরে এসেছে?আর শ্রেয়ার সাথে খেলার অধিকারই বা ওকে কে দিয়েছে?দূর তোমার সাথে কথা বলে কি হবে?আমি সরাসরি ওকেই জিজ্ঞাস করব।

—না।সাগর এমন করিস না।(কে শুনে কার কথা?আমি আরহীর সামনে চলে গেলাম)

—আপনি কোন সাহসে আমার বাড়িতে আসছেন?আর আমার পিচ্ছির সাথে আবার খেলা করছেন কোন সাহসে?শ্রেয়াকে মারতে না পেরে আবার মারতে চলে এসেছেন?

—না।সাগর তুমি আমাকে ভুল বুঝছ।

—আমি আপনাকে ভুল বুঝছি না।শেষবারের মতো ভাল করে বলছি আমার বাড়ি থেকে চলে যান।এইটা আপনার বাড়ির না যে যা ইচ্ছে করতে পারেন।

—এইটা ত আমারও বাড়ি।আর আমি আমার ননদের সাথে খেলব না ত কে খেলবে?

—কিসের ননদ?এখানে আপনার কোন ননদ থাকে না।আমি ভালই ভাল এখান থেকে চলে যান।

—না।আমি যাব না।এইটা যেমন তোমার বাড়ি তেমনি আমারও বাড়ি।

—আমার মতো কি এই বাড়িটাকেও আপনি আপনার বাবার টাকায় কিনেছেন?আমি শেষবারের মতো বলছি আপনি এখনই আমার বাড়ি থেকে চলে যান আর আমার পরিবারের থেকে দূরে থাকবেন।

—না।আমি যাব না আর এইটা যেমন তোমার পরিবার তেমনি আমারও পরিবার।তোমার ইচ্ছে তুমি তাদের থেকে দূরে থাক কিন্তুু আমি দূরে থাকব না?

—ঠাসস ঠাসস ঠাসস ঠাসস।তোরে ভাল মতো বললে তোর ভাল লাগে না?তোরে যদি আর কখনও আমার পরিবারের আশে পাশে বিশেষ করে শ্রেয়ার পাশে দেখেছি তাহলে আমি তোকে মেরেই ফেলব।

—তোমার যদি ইচ্ছে হয় তাহলে আমাকে মেরে ফেল কিন্তুু আমি আমার পরিবার আর শ্রেয়ার থেকে দূরে থাকব না।(কান্না করে)

—তুই ত ভাল তোর ঘাড়ও আমার বোন আর আমার পরিবার থেকে দূরে থাকবে।
.
কথাটা বলেই আমি আরহীর হাত ধরে আরহীকে ঘরের বাহিরে নিয়ে একটু ধাক্কা দিয়েই হাত ছেড়ে দেই।ধাক্কা দেওয়ায় আরহী পাকাতে পরে যায়।তারপর আমি আরহীর মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দেই।
.
—সাগর,তুই মেয়েটার সাথে এমনটা কেন করলি?(মা)

—আগে বল তুমি ওকে ঘরে ডুকতে দিয়েছ কেন?আর শ্রেয়ার আশেপাশেই বা আসতে দিয়েছ কেন?(আমি)

—অনেকদিন ধরেই মেয়েটা আমার আর শ্রেয়ার কাছে এসে ক্ষমা চাচ্ছিল আর কান্না করছিল তাই আজকে ক্ষমা করে ঘরে নিয়ে আসলাম।

—অনেক দিন মানে?ঐ কবে থেকে আমাদের বাড়িতে আসে?

—আজ পনের দিনের বেশি হয়ে আসল।প্রতিদিন আসে আর আমার আর শ্রেয়ার পা ধরে ক্ষমা চায়।প্রথম প্রথম ত আমরা ওকে ঘরের ভিতরে ডুকতেই দিতাম না।কিন্তুু প্রতিবেশিরা খারাপ বলবে তাই ঘরে ডুকতে দিতাম।

—তাই বলে ক্ষমা করতে হবে?তুমি জান ঐ কত খারাপ?ঐ মেয়েটা গিরগিটির মতো।আজকে ক্ষমা চাচ্ছে যাতে কালকে কোন বড় ক্ষতি করতে পারে।ওর এইসব নাটক।

—না রে বাবা।আমার মনে হয় না আরহী এইবার কোন নাটক করছে।নাটক করলে মানুষ এতদিন এসে ক্ষমা চায় না।আমি বলি কি তুইও মেয়েটাকে ক্ষমা করে আপন করে নে।

—ওকে আমি কোনদিনই ক্ষমা করব না।আর আমি কোনদিন জানি না দেখি ঐ আর আমাদের বাড়ির সিমানায় এসেছে।তাহলে আমার থেকে খারাপ আর কেউই হবে না।

—ভাইয়া,তুই ভাবীর সাথে এত খারাপ ব্যবহার করছিস কেন?জানিস ভাবী প্রতিদিন আমাকে স্কুলে থেকে নিয়ে আসতে যায়।তাছাড়া আমাকে অনেক চকলেটও কিনে দিয়েছে।

—তুই কালকে থেকে আর ওর সামনে যাবি না।এমনকি ওর সাথে একটা কথাও বলবি না।তাহলে আমি আর কখনও তোর সাথে কথা বলব না।
.
কথাটা বলেই আমি আমার রুমে চলে গেলাম।শুধু শুধু মেজাজটাই গরম করে দিয়েছে।ভাবছিলাম এসে মার হাতে খাবার খেয়ে জয়ার সাথে খেলব।কিন্তুু তা আর হল না।
.
এখন আমি বুঝতে পেরেছি।আরহী প্রতিদিন ভার্সিটির পর তাহলে এখানে আসত।এখন আবার মা আর শ্রেয়াকে আমার কাছে থেকে কেড়ে নেওয়ার জন্য নতুন বুদ্ধি করেছে।এইবার আর আমি আরহীর এই কুবুদ্ধি সফল হতে দিব না।
.
আমি কোন মতেই আরহীকে আমার মা আর জয়ার আশেপাশে আসতে দিব না।মা ত সহজ-সরল আর জয়া ত পিচ্ছি ওনাদের মন এমনিই ভুলাতে পারে।কিন্তুু আমি আরহীকে জীবনেও ক্ষমা করব না।
.
আরহীর মতো মেয়ে ক্ষমার না শাস্তি পাওয়ার যোগ্য। এইসব ভাবতে ভাবতে মা খাবার খাওয়ার জন্য ডাক দিল।প্রথমে বলেছিলাম খাব না।কিন্তুু মা আর শ্রেয়া অনেক জোড়াজোড়ি করার পর খেতে রাজি হলাম।

খেতে বসে শ্রেয়াকে খায়িয়ে দিলাম আমি খেলাম।তারপর কিছুসময় শ্রেয়ার সাথে খেলে আমি বাড়িতে চলে আসলাম।বাড়িতে এসে দেখি আরহী নিজের রুমে শুয়ে শুয়ে কান্না করছে।
.
আমি ঐদিকে খেয়াল না দিয়ে আমার রুমে গিয়ে পরতে বসলাম।পড়ালেখা শেষ করে আমি আরহীকে ডাক দিয়ে খেতে বসলাম।খাবার সময় আরহী বারবার আমার দিকে তাকাচ্ছিল আর হাত দিয়ে ভাতের উপর হাত রেখে বসে ছিল।কিন্তুু কিছু খাচ্ছিল না।
.
—ম্যাডাম,কষ্ট করে একটু তাড়াতাড়ি খাবারটা শেষ করুন।(আমি)

—কেন?আর তোমাকে কতবার বলেছি না আমাকে ম্যাডাম বলে ডাকবে না।আমাকে আমার নাম ধরে ডাকবে।(আরহী)

—কারণ থালা-বাসন গুলো ত আমাকে ধুতে হবে।আপনি ত আর ধুবেন না।তাছাড়া একটা চাকর তার মালকিনকে নাম ধরে ডাকাবে এইটা ঠিক না।

—থালা-বাসন না হয় আমি ধুয়ে দিব।আর আমি যখন বলেছি তখন তুমি আমাকে নাম ধরেই ডাকবে।

—পারব না আর আমাদের কন্টাকের বাকি আছে মাত্র দশ দিন।এই দশ দিন নাটক করে থালা-বাসন ধুয়ে লাভ নেই।পরে আবার বলবেন চাকরটায় শেষের দিকে ভাল মতো কাজ করে নেই।

—নিশ্চুপ

—আর হ্যাঁ আপনাকে একটা কথা বলার ছিল।

—কি বলবে বল আমি তোমার কথা শুনার জন্য সবসময় তৈরি আছি।

—শেষবারের মতো বলে দিচ্ছি কালকে থেকে আমার বাড়িতে আর যাবেন না।

—গেলে কি করবে?

—আজকে ত শুধু ঘর থেকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছি।কালকে থেকে ঘরের ভিতরেই ডুকতে দিব না।

—দেখা যাবে।আমি ত যাবই।

—গেলে শুধু শুধু মার খাবেন আর কিছুই না।

—তোমার যত ইচ্ছে আমাকে মার।আমি কিছু বলব না।তবুও আমাকে ক্ষমা করে দেও।(কান্না করে)

—হয়েছে হয়েছে।এখন ন্যাকা কান্না বন্ধ করেন।আর ক্ষমা সেইটা ত আমি আপনাকে কোনদিনই করব না।

.
এইভাবেই কেটে গেল সেইদিন রাত।পরেরদিন ভার্সিটির ক্লাস শেষ হওয়ার পর আরহী আর আমার সাথে গাড়িতে আসল না।আমাকে বলল গাড়ি নিয়ে বাড়িতে চলে যেতে।আমি জানতাম আরহী আজকেও আমার বাড়িতে যাবে।তাই আমি গাড়ি রেখে আমার বাড়িতে চলে গেলাম।

.
বাসার ভিতরে ডুকে দেখি আরহী ওর সব বান্ধুবীদের নিয়ে আজকে বাড়িতে এসেছে।যাতে করে আমি আজকে আর আরহীকে আর না বকতে পারি।
.
—সাগর,তুমি এসে গেছ?(আরহী)

—সাগর,তুই ত আমাদের ট্রিট দিলি না।তাই আজকে আরহী বলল আমাদের তোমাদের বাড়িতে নিয়ে আসবে।তাই আমরাও চলে আসলাম।(আনিকা)

—তোমরা সবাই এখানে এসে ভালই করেছ।তোমরা সবাই বসে গল্প কর আমি একটু মার কাছে যাই।(আমি)

—আচ্ছা।(আমি মার কাছে চলে গেলাম)

—মা,এইসব কি হচ্ছে?কালকে বারবার না করার পরেও তুমি আজকে আরহীকে ঘরের ভিতরে ডুকতে দিয়েছ কেন?

—কি করব বল?বউ মা তোর আর ওর বান্ধুবীদের নিয়ে আসল।তাই আমি আর না করতে পারলাম না।

—তাই বলে ঐ মেয়েটাকেও ঘরের ভিতরে ডুকতে দিতে হবে?

—আরহীকে ঘরের ভিতরে ডুকতে না দিলে কেমন একটা দেখায় না।তাই ডুকতে দিলাম।
.
কি আর করব আমার কথা শুনে আমার মাথা আরও বেশি গরম হয়ে গেল।আমি আর কিছু না বলে আমার রুমে চলে গেলাম।কারণ বাহিরে থাকলে আরহী দেখা মাত্রই আমার মাথা গরম হয়ে যাবে আর আমি এমন কিছু করে বসব যা করা ঠিক হবে না।একটু পর আরহী আমার রুমে আসল।
.
—কি কেমন দিলাম?কালকে রাতে না বলেছিলে আমি যদি বাড়িতে আসি তাহলে আমার সাথে কালকের থেকেও খারাপ কিছু করবে?কৈ আজকে দেখি কিছুই করতে পারলে না।(আরহী)

—দেখেন আমার মাথা এমনিতেই খারাপ আছে।আপনি ভালই ভাল এখান থেকে চলে যান।নাহলে আমি কি করব নিজেও জানি ন।(আমি)

—তুমি ধমকি ছাড়া আর কিছু করতে পারবে না সেইটা আমি ভাল করেই জানি।শুধু শুধু ধমকি দিয়ে লাভ নেই।

—আমি কিন্তুু ধমকি দিচ্ছি না।

—এইটা যদি ধমকি না হয় আর তুমি পুরুষ হয়ে থাক তাহলে আমাকে পারলে বাড়ি থেকে বের করে দেখাও।
.
কথাটা বলেই আরহী চলে গেল।আমার রাগ আরও বেড়ে গেল।ওর মতো খারাপ মেয়ে নাকি আজকে আমাকে চ্যালেঞ্জ করছে?এত বড় সাহস ওর।
.
ওকে ত আমি আজকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দিব।কিন্তুু তার আগে ওর বান্ধুবীদের বাড়ি থেকে বের করতে হবে।কিন্তুু ওদের ত আমি বাড়ি থেকে বের করে দিতে পারব না।
.
আমাকে এমন কিছু করতে হবে যাতে ওদের যে বাড়িতে এনেছে সেই জানি ওদের বাড়ি থেকে বের করে দেয়।কি করা যায় কি করা যায়?হ্যাঁ,একটা বুদ্ধি পেয়েছি।
.
বুদ্ধিটা হল আরহীর দুর্বলতার সুযোগ নিব আর আরহী নিজেই ওর বান্ধুবীদের বাড়ি থেকে তাড়াবে।যা ভাবা তাই কাজ।আমি ঘর থেকে বেরিয়ে সরাসরি আরহীর বান্ধুবীদের কাছে গেলাম।সেখানে গিয়ে নিধির পাশে বসলাম।
.
সেখানে আরহীও ছিল আর মা রান্না ঘরে ওদের জন্য কিছু রান্না করছিল।আমি নিধি আর বাকিদের সাথে কথা বলতে লাগলাম,হাসা-হাসি করতে লাগলাম।
.
হাসা-হাসির এক পর্যায়ে আমরা হাত ধরে কথা বলি,একজন আরেক জনের উপর গিয়ে পরে
নিধিও বারবার আমার শরীরের উপর এসে পরছিল।এইটা আরহী দেখছে আর রাগে ওর মুখ লাল হচ্ছে।
.
—অনেক হয়েছে।(আরহী।রেগে)

—তোর আবার কি হল?হঠাৎ এমন করছিস কেন?(আনিকা)

—তোরা এখন যার যার বাড়িতে যা।

—কেন?ওরা এত তাড়াতাড়ি যাবে কেন?মা ওদের জন্য রান্না করছে ওরা আগে সব খাবে তারপরেই যাবে।(আমি)

—না।ওরা সবাই এখনই আমার বাড়ি থেকে বের হবে।

—তুই হঠাৎ এমন করছিস কেন?তোর কি হয়েছে?যদি কোন সমস্যা হয়ে থাকে আমাদের বল আমরা তার সমাধান করে দিচ্ছি।(নিধি)

—আমার সমস্যা হলো তোরা।তোরা এখন তাড়াতাড়ি বাড়ি থেকে বের হ।

—আমরা?আমরা আবার তোর কি করলাম?

—থাক না আর একটু।আমরা সবাই ত মজাই করছিলাম।দেখছ না আমরা কত কিছু নিয়ে কথা বলছি?

—আর কথা বলতে হবে না।এখন তাড়াতাড়ি আমার বাড়ি থেকে বের হ।

—আগে ত বল আমরা তোর কি করলাম?

—আমার স্বামীকে নিয়ে তোরা টানাটানি করছিস আবার বলস আমি কি করলাম?তোদের আমার বাড়িতে আনাই সব থেকে বড় ভুল হয়েছে।এখন দেখি তোরা আমার সংসার ভাঙ্গার ব্যবস্থা করছিস।

—আমরা ত এমন কিছুই করি নেই।

—আমি আর একটা কথাও শুনতে চাই না।তোরা ভালই ভাল সবাই চলে যা।নাহলে আমি তোদের সবাইকে মেরে বাড়ি থেকে বের করব।
.
কথাটা শুনেই ওরা সবাই একে একে চলে গেল।কারণ ওরা জানে আরহী কতটা খারাপ।বিশেষ করে ওর রাগ উঠলে ঐ যা চায় তাই করতে পারে।ওরা সবাই যাওয়ার পর আরহী এসে আমার কলার ধরল।
.
—তোর সাহস কি করে হয় আমার সামনে অন্য মেয়েদের গায়ে পরে কথা বলতে,ফাজলামি করতে?নিজের ঘরে বউ রেখে অন্য মেয়েদের সাথে কথা বলতে তোর লজ্জা করে না?(আরহী)

—কে বউ?আমি আপনাকে আগেও বলছি আর এখনও বলছি আমি আপনাকে আমার বউ মানি না।তাছাড়া আর দশদিন পর আমাদের ডির্ভোস হয়ে যাবে।এখন শুধু শুধু অধিকার দেখিয়ে কি লাভ?(আমি)

—তুমি কি সত্যিই আমাকে ডির্ভোস দিয়ে দিবে?(করুণ কন্ঠে)

—আপনার কি মনে হয় আমি আপনার সাথে ফাজলামি করছি?যদি আপনি ভেবে থাকেন আমি ফাজলামি করছি তাহলে আপনি ভুল ভাবছেন।

—আমাকে ছেড়ে থাকতে তোমার কষ্ট হবে না?

—না।

—তুমি না আমাকে ভালবাসতে?এত তাড়াতাড়ি আমাকে ভুলে যেতে পারলে?

—আপনি ঠিকই বলেছেন আমি আপনাকে ভালবাসতাম কিন্তুু এখন আর বাসি না।

—আমি জানি আমি অহংকারে বসতে তোমার সাথে গত সাত মাস যে পশুর মতো ব্যবহার করেছি তার জন্য তুমি আমাকে বিশ্বাস করতে পারছ না।কিন্তুু বিশ্বাস কর আমি যা করেছি সব অহংকার বশত করে ফেলেছি।আমি এখন আমার ভুল বুঝতে পরেছি।দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে কাছে টেনে নাও।

—আপনি অহংকার বশত আমার সাথে যা করেছিলেন আমি তা মেনে নিতাম।আমি জানি যাদের টাকা থাকে তাদের অহংকারও থাকে।আপনি যদি অহংকার বশত আমাকে শাস্তি দিতে দিতে আমাকে মেরে ফেলতেন তবুও আমি আপনাকে ভালবেসে যেতাম।কিন্তুু আপনি আমার উপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য,আমাকে বিয়ে করে চাকর বানিয়ে শাস্তি দেওয়ার জন্য শেষ পর্যন্ত আমার ছোট বোনটাকে গাড়ি দিয়ে মেরে ফেলতে চেয়েছিলেন?আপনি এইটা করতে কি করে পারলেন?আমাদের বিয়ে হওয়ার আগে আপনি শ্রেয়ার সাথে এসে কত খেলেছেন।যখন আপনি শ্রেয়ার এক্সিডেন্ট করলেন তখন কি ওর মায়া ভরা মুখটা একটু আপনার চোখে ভেসে আসে নেই?

–আমি জানি শ্রেয়াকে এক্সিডেন্ট করে আমি ভুল করেছি।কিন্তুু সেইদিন তুমি ভার্সিটির সবার সামনে আমাকে অপমান করেছিলে তাই আমার মাথাটা অনেক গরম ছিল আর তাই তোমাকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য শ্রেয়াকে এক্সিডেন্ট করেছিলাম।কিন্তুু বিশ্বাস কর আমি শ্রেয়াকে মারতে চাই নেই।আমি শুধু চেয়েছিলাম যাতে করে ছোট একটা এক্সিডেন্ট হয় আর তুমি যখন আমার কাছে টাকা নিতে আসবে তখন আমি তোমাকে শর্ত দিয়ে বিয়ে করে নিব।

—ছোট এক্সিডেন্ট?সেইটা কি ছোট এক্সিডেন্ট ছিল?জানেন সেইদিন আমার পিচ্ছিটার কত রক্ত বেরিয়েছিল?মানলাম আপনি শ্রেয়ার ছোট এক্সিডেন্ট করে আমাকে এক বছরের জন্য চাকর বানাতে চেয়েছিলেন।কিন্তুু সেইদিন যদি আমি আপনার কাছে না যেতাম তাহলে আমার বোনটাকে আমি কি করে বাঁচাতাম?শ্রেয়া ত সেইদিন টাকার অভাবে আমার সামনেই মারা যেত।
—কিন্তুু শ্রেয়া ত আর মরে নেই।তাছাড়া তুমিই ভাব কে একবছরের কাজ করানোর জন্য তার চাকরকে দশ লক্ষ টাকা দিবে?এমন বোকা মানুষ কি পৃথিবীতে আছে?কিন্তুু আমি তোমাকে দিয়েছি।কারণ আমি জানতাম টাকা না দিলে জয়া মারা যাবে।তাছাড়া শুধু দশ লক্ষ টাকা কেন যদি আরও বেশি লাগত তাহলে আমি আরও বেশি টাকা দিতাম।তাহলে কি আমাকে সেই ভুলটার জন্য ক্ষমা করে দেওয়া যায় না?

—আপনি এতগুলো টাকা দিয়েছেন কারণ আপনি যানতেন যদি আপনি টাকা না দেন তাহলে আমার বোন মারা যাবে আর আমার বোন মারা না গেলে আপনি নিজেকে জীবনে ক্ষমা করতে পারতেন না।তাছাড়া এমন ত না যে আপনি এক্সিডেন্ট এরপর আমার বোনের প্রতি মুহূর্তের খবর রাখার জন্য কাউকে রেখেছিলেন?যাতে আমি আপনার কাছে টাকা না আনতে গেলে শেষ পর্যন্ত আপনি গিয়ে টাকা দিয়ে আসতেন?কি রেখেছিলেন নাকি?

—নিশ্চুপ

—কি হল কথা বলছেন না কেন?(চিৎকার করে)

—না।

—তাহলে সেইদিন আমার বোনটা মরে গেলে তার দায়ি কে নিত?আমার বোন মরে গেলে আপনি কি পারতেন আমার বোনকে ফিরিয়ে দিতে?(এইবারও চিৎকার দিয়ে)

—না।(মাথা নিচু করে)

—তাহলে কি করে ভাবেন আমি আপনাকে এত তাড়াতাড়ি ক্ষমা করে দিব?আর হ্যাঁ আপনি এই এক বছরে আমাকে যে কষ্টগুলো দিয়েছেন,আমার সাথে পশুর মতো যেমন ব্যবহার করেছেন,আর আমার বোনের জায়গায় আপনার মা বা বাবার এক্সিডেন্ট করে মারার চেষ্টার পর দশ লক্ষ টাকা দিয়ে আপনাকে এক বছরের জন্য আপনাকে কিনে চাকরানী বানানোর পর আপনি আমার সাথে যেমন ব্যবহার করেছেন তেমন ব্যবহার কেউ আপনার সাথে করার পর আপনি যদি তার কাছে ফিরে যেতে রাজি থাকেন আর তাকে ক্ষমা করে আপন করে নিতে পারেন তাহলে আমাকে এসে বলিয়েন তারপর আমি আপনাকে ক্ষমা করে আপন করে নিব।এখন আপনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে পারেন।

—আর একটু থাকি না।(করুণার কন্ঠে)

—না।আপনি মনে মনে ভাবতে পারেন আমি এখনও আপনার চাকর আর আপনাকে এমনভাবে তাড়িয়ে দিচ্ছি আপনাকে মারছি।আমার এইটা করা ঠিক না।আমি জানি আমার এইগুলো করা ঠিক না।কিন্তুু আমার পরিবারকে আপনার থেকে দূরে রাখতে,তাদের জীবন বাঁচাতে আমার এমন ব্যবহার করতে হচ্ছে।আমি এই পৃথিবীতে সব জায়গায় আপনার চাকর শুধুমাত্র আমার বাড়ি ছাড়া।আমার বাড়িতে আমি মালিক আর আপনি একটা বিনা দাওয়াতের অতিথি।

—তুমি ভুল ভাবচ্ছ আমি এইসব ভাবছি না।তোমার যেমন ইচ্ছে আমার সাথে তেমন ব্যবহার কর।আমি কিছু বলব না।

—আমি ভুল ভাবি আর ঠিক তাতে কিছু যায় আসে না।আপনি এখন আসতে পারেন।
.
কথাটা শেষ করেই আমি আরহীর হাত ধরে ঘরের বাহিরে রেখে দরজা আটকিয়ে দিলাম।একটু পর মা আসল।
.
—কিরে সবাই কোথায় গেল?আর তুই চিৎকার করছিলি কেন?(মা)

—এমনি আর ওদের একটু কাজ ছিল তাই চলে গেছে।(আমি)

—আমি যে ওদের জন্য কষ্ট করে রান্না করলাম।এইগুলোর কি হবে?

—ওরা বলেছে অন্য একদিন এসে খেয়ে যাবে।
.
তারপর আমি আমার রুমে চলে গেলাম।জয়া স্কুল থেকে আসার পর এক সাথে বাড়িতে চলে আসলাম।দেখতে দেখতে দশদিন কেটে গেল।

.
এই দশদিন আমি বারবার না করা সত্যেও আরহী প্রতিদিন আমার বাড়ির সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।আমি বাড়িতে ছিলাম তাই ঘরে ডুকতে সাহস পায় নেই।
.
আজকে ভার্সিটি বন্ধ।আমি বাহিরে গিয়েছি আর আরহী বসে বসে চা খাচ্ছিল।তার সাথে ভাবছিল কি করে আমার কাছে ক্ষমা চাওয়া যায়।একটু পর আরহীর বাড়িতে আরহীর মা আর বাবা আসে।
.
এতদিনে আরহী মা-বাবা আরহীর সাথে একবারের জন্যও যোগাযোগ করে নেই।তার উপর আজকে হঠাৎ করে বাড়িতে চলে আসল।এইটা দেখে আরহী অনেকটা অবাক হল।
.
—মা,আমি জানতাম তোমরা আমাকে ক্ষমা করে দিবে আর আমাকে কাছে টেনে নিবে।কারণ তোমরা আমাকে ছেড়ে বেশি দিন থাকতে পারবে না।(আরহী।ওর মার কাছে যেতে যেতে)

—যেখানে আছো সেখানে দাঁড়িয়ে যাও।(আরহীর মা)

—কেন মা?

—আমরা এখানে তোমাকে ক্ষমা করতে আসে নেই বা তোমাকে কাছে টেনে নিতেও আসি নেই।

—তাহলে হঠাৎ আসলে যে?(অভিমানী শুরে)

—সাগর আমাদের ডেকেছে।তাই আমরা এসেছি।কোথায় সাগর?(আরহীর বাবা)

—ও ত বাড়িতে নেই।সকাল সকালই জানি কোথায় বেরিয়ে গেল।

—তাহলে আমাদের আসতে বলল কেন?

—জানি না।

—তোমরা একটু বস।যদি চলে আসে।আর আমি তোমাদের জন্য চা আনছি।

—ঠিক আছে আর তোমাকে কষ্ট করে আমাদের জন্য কিছু আনতে হবে না।আমরা এমনিতেই ঠিক আছি।

—অন্তত এক কাপ চা ত খাও।

—তুমি যা করেছ তারপরে তোমার হাতে চা কেন পানিও খেতেও ঘৃণা করে।
.
আরহী আর কিছু বলতে পারল না।তাই চুপ করে বসে রইল।একটু পর আমি বাহিরে থেকে চলে আসলাম।ঘরে ডুকে দেখি আরহীর মা-বাবা চুপচাপ বসে রয়েছে আর আরহীও তাদের পাশে আছে।
.
—আপনারা তাহলে চলে এসেছেন?(আমি)

—হ্যাঁ।(আরহীর বাবা)

—বাবা,আমাদের হঠাৎ ডাকলে কেন?এমন কি দরকার ছিল যার জন্য আমাদের ডাকলে?(আরহীর মা)

—দরকার ত ছিল।

—কি দরকার?(আরহী)

—আপনাদের জিনিস আপনাদের হাতে তুলে দিতে হবে না?নাহলে পরে আবার কিছু হয়ে গেলে আমার উপর দোষ পরবে।

—আমাদের জিনিস মানে?

—তুমি কি বলছ একটু পরিষ্কার করে বল।

—আপনাদের জিনিস মানে আপনাদের মেয়েকে আপনাদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য আজকে আপনাদের ডেকেছি।

—সাগর,তুমি এইসব কি বলছ?আমাকে মা-বাবার হাতে তুলে দিবে মানে?আর কেনই বা তুলে দিবে?

—আমি ঠিকই বলছি।

—সাগর,তোমার হাতের ঐ কাগজটা কিসের?

—এইটা আপনাদের মেয়েকে আপনাদের হাতে তুলে দেওয়ার কাগজ।

—মানে?

—এইটা ডির্ভোস পেপার।

—কি?

—হ্যাঁ।আজকে এখনই আমি আপনাকে ডির্ভোস দিব।তারও আপনার মা-বাবার সামনে।আমি চলে যাওয়ার পর আপনি নিজের কিছু করে বসলে যাতে আমার উপর দোষ না পরে তাই আমি আপনার মা-বাবাকে ডেকেছি।

—সাগর,দয়া করে আমাকে ডির্ভোস দিও না।আমি এই একটা শেষ আশা নিয়ে বেঁচে আছি।দয়া করে আমাকে ডির্ভোস দিয়ে আমার আশারা শেষ করে দিও না।সাগর আমি আমার ভুলের জন্য তোমার কাছে হাজার বার ক্ষমা চেয়েছি।কিন্তুু তুমি আমাকে ক্ষমা কর নেই।তবুও আমার কোন দুঃখ নেই।তুমি আমাকে সারাজীবন নিজের চাকরানি করে রাখ আমি কিছু বলব না।কিন্তুু তুমি আমাকে ডির্ভোস দিও না।(আমার পা ধরে কান্না করে)

—কি করছেন টা কি?আমার পা ছাড়ুন।

—না।আগে বল তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছতারপরেই আমি তোমার পা ছাড়ব।

—হয়েছে আর ভাব করতে হবে না।তাড়াতাড়ি কাগজটায় সাইন করে দিন।(আমি পা ছাড়িয়ে)

—না।আমি জীবিত থাকতে এই কাগজে সাইন করব না।

—সাগর,বাবা আমি জানি আমার মেয়েটা ভুল করেছে।ওকে ওর ভুল শুধরানো জন্য কি তুমি একটা সুযোগ দিবে না?

—তুমি ওকে ডির্ভোস দেও আমরা কিছু বলব না।কিন্তুু ওকে ওর ভুল শুধরানোর জন্য একটা সুযোগ ত দিবে।

—আমরা জানি ওর কাজগুলো ক্ষমার যোগ্য না।তবুও তুমি কি ওকে একটা সুযোগ দিবে না?(করুণ শুরে)

—আপনারাই বলুন আপনাদের মেয়েকে কি করে সুযোগ দিব?ওকে বিশ্বাস করে সুযোগ দিতেও আমার ভয় করে।ঐ একবার আমার বোনকে মারতে চেয়েছে।ওকে সুযোগ দিয়ে যদি আমার ঘরে নিয়ে যাই তারপরে যদি আমার পরিবারকে মেরে ফেলে?তখন কি হবে আমার?

—ঐটা ত আমারও পরিবার।ওদের আমিও ভালবাসি।আমাকে দয়া করে বিশ্বাস করে একটা সুযোগ দেও।আমি তোমার কাছে আর কিছুই চাই না।

—আপনাকে বিশ্বাস করে আবার সুযোগ দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব না।আমি সাইন করে দিয়ে গেলাম।আজকে থেকে আপনি আমি দুইজনেই মুক্ত।আমি আপনার অত্যাচার,চাকরের চাকরি থেকে মুক্ত।আমার একটু কাজ আছে তাই আমি চলে যাচ্ছি।আশা করি আপনি সাইন করে ডির্ভোস পেপারের এক কপি আমাকে পাঠিয়ে দিবেন।
.
কথাটা শেষ করে আমি কাগজ সাইন করে ঘর থেকে আমার ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে আসলাম।আমি আসার সময় আরহী নিচে বসে বসে কান্না করতে লাগল।
.
—আরহী,অনেক কান্না করেছিস এইবার কান্না থামা।(আরহীর বাবা)

—তোর ভুলে তুই সাগরকে হারিয়েছিস।এখন আর কান্না করে লাভ কি?(আরহীর মা)

—মা,আমি মানি আমি না বুঝে একটা ভুল করে ফেলেছি।কিন্তুু আমি ত হাজার বার সাগরের কাছে ক্ষমা চেয়েছি।সাগর কি আমাকে ক্ষমা করতে পারত না?(আরহী)

—পারত কিন্তুু করে নেই।

—মা,আমি সাগরকে ছাড়া বাঁচব না।তুমি যেভাবেই পার আমাকে আমার সাগর ফিরে দাও।(কান্না করে)

—সাগর,তোকে ডির্ভোস দিয়ে চলে গেছে।এখন আর চাইলেও সাগরকে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব না।তাই কান্না বন্ধ কর।

—না।বাবা,আমি তোমার কাছে যখন যা চেয়েছি তুমি আমাকে এনে দিয়েছ।শেষবারের মতো তোমার কাছে সাগরকে চাইছি দয়া করে আমাকে এনে দাও।আমি কথা দিচ্ছি আমি আর কখনও তোমার কাছে কিছু চাইব না।

—মা,আমার আমার পক্ষেও আর সাগরকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব না।

—তোর কাছে সাগরকে একজনই ফিরিয়ে দিতে পারে।

—কে?মা তুমি বলে দেও কে আমার কাছে সাগরকে ফিরিয়ে দিতে পারে।নিজেকে বিক্রি করে হলেও আমি সাগরকে ফিরে পেতে চাই।

—সাগরের মা আর ওর বোন।সাগর সাগরের মার আর বোনের সব কথা শুনে।সাগর ওর বোনের ইচ্ছে পূরণ করার জন্যই তোকে বিয়ে করেছিল।এখন একমাত্র তারা দুইজনেই পারে তোর কাছে সাগরকে ফিরিয়ে দিতে।

—হ্যাঁ,তুমি ঠিক বলেছ।যদি তারা দুইজন তোকে মন থেকে মেনে নেয় তাহলে সাগরও তোকে মেনে নিবে।
.
কথাটা শুনার সাথে সাথে আরহী চোখ মুছে ডির্ভোস পেপার ছিড়ে গাড়ি নিয়ে মা আর শ্রেয়ার কাছে চলে গেল।অন্যদিকে নাহিদের সাথে আমার কিছু কাজ ছিল তাই আমি কাজটা শেষ করে বাড়িতে গেলাম।
.
আমি বাড়িতে গিয়ে কিছুটা অবাক হলাম।কারণ মা আর শ্রেয়ার সাথে আরহী আর আরহীর মা-বাবাও বসে ছিল।আমি ওনাদের এখানে আশা করি নেই।
.
—আপনারা?আপনারা আবার এখানে কেন?(আমি)

—শুনলাম তুই নাকি আরহীকে ডির্ভোস দিয়ে এসেছিস?কথাটা কি সত্য?(মা)

—হ্যাঁ।

—এখন তাহলে মেয়েটা কোথায় যাবে?

—আমি জানি নাকি কোথায় যাবে?ওনার যেদিকে চোখ যায় চলে যাক।কিন্তুু আমার বাড়িতে থাকতে পারবে না।

—তুই জানিস না মুসলিম মেয়েদের একবারই বিয়ে হয়?ওদের বারবার বিয়ে হয় না।

—জানি।কিন্তুু তাতে আমি কি করব?

—জানিস যখন আরহীকে ডির্ভোস দিয়েছিস কেন?

—ডির্ভোস দিব না ত কি করব?ওর মতো খুনিকে আমি আমার আশেপাশেও দেখতে চাই না।ঐ আমার বোনকে মারতে চেয়েছিল।ওকে আমি কোনদিন ক্ষমা করব না।

—আমি জানি শ্রেয়াকে তুই অনেক ভালবাসিস,শ্রেয়ার জন্য তুই সবকিছু করতে পারিস আর শ্রেয়ার ক্ষতি যারা চায় তাদের তুই দুই চোখেও দেখতে পারিস না।কিন্তুু তাই বলে আরহীর জীবনটা তুই এইভাবে নষ্ট করে দিস না।

—আমি ত নষ্ট করছি না।আমি ত ওকে ডির্ভোস দিয়েই এসেছি।

—আমি জানি শ্রেয়াকে মারতে চেয়েছিল দেখে তুই আরহীর উপর রেগে আছিস।কিন্তুু রাগের মাথায় নেওয়া কোন সিব্ধান্ত কোনদিন সঠিক হয় না।উল্টো অনেক বড় ক্ষতি হয়।তাই আমি বলে কি তুই আরহীকে ক্ষমা করে আপন করে নে।

—তুমি আমাকে ক্ষমা না করলে অন্তত আমার ভুলটা সংশোধন করার একটা সুযোগ ত দিবে?(আরহী।কান্না করে)

—ভাইয়া,ভাবীকে একবার নাহয় সুযোগ দে।তুই ত আমাকে সবসময় বলছি মানুষ যতবড়ই ভুল করুক না কেন তাকে ক্ষমা করে দেওয়া উচিত।

—আমি যেমন তোমাকে আমার চাকর বানিয়ে রেখেছিলাম।তুমি যদি বল আমি সারাজীবনের জন্য তোমার চাকর হতে রাজি আছি।তবুও আমাকে দূরে ঠেলে দিও না।

—সাগর,আমি জানি আমাদের মেয়ে ভুল করেছে।ঐ ওর ভুল বুঝতেও পেরেছে।তুমি কি ওকে একটা সুযোগ দিবে না?(আরহীর বাবা)

—সাগর,মানুষ যদি মানুষকে তার ভুল সংশোধন করতে দ্বিতীয় সুযোগ না দেয় তাহলে মানুষ ত আরও বেশি করে ভুল করবে।তাই আমি বলি কি ওকে আর একটা সুযোগ দেও।(আরহীর মা)

—দেখ,আরহী ওর ভুল বুঝতে পেরেছে।তাছাড়া আমি বুড়ো হয়ে এসেছি।আমাকে দিয়ে এখন আর এত কাজ করা সম্ভব হয় না।যদি আরহী আমাদের দেখাশোনার জন্য থাকতে চায় আর ওর ভুল সংশোধন করতে চায় তাহলে ওকে একটা সুযোগ দে।

—তুমি আমাকে চাকরানি বানিয়ে আমার উপর যত অত্যাচার করার কর।আমি কিছু বলব না।তারপরেও যদি তোমার মনে হয় আমি তোমার যোগ্য না তাহলে আমাকে ছেড়ে দিও।আমি আর কিছু বলব না।কিন্তুু আমাকে এখন দূরে ঠেলে দিল না।দয়া করে আমাকে একটা সুযোগ দাও।(কান্না করে)

—ঠিক আছে।এখন আপনারা যেতে পারেন।আমি আজকে রাতে ভেবে কালকে আপনাদের বলব কোনো সুযোগ দিব কিনা।

—আচ্ছা।
.
তারপরে সবাই চলে গেল।রাতে খেয়ে আমি ভাবতে লাগলাম কি করা যায়।কিছুসময় ভেবে আমি ঘুমিয়ে পরলাম।পরেরদিন ভার্সিটিতে আমি আনিকা,নিধি আরও কয়েকজন মেয়ে এবং ছেলের সাথে হেসে হেসে কথা বলছিলাম তখনই আরহী রেগে কোথা থেকে জানি আসল।
.
—তোমাকে বলেছি না ওদের সাথে তুমি হেসে হেসে কথা বলবে না?(আরহী)

—কেন?আমি ওদের সাথে হাসা-হাসি করলে আপনার কি সমস্যা?(আমি)

—তোমাকে কোন মেয়ের সাথে হেসে কথা বলতে দেখলে আমার ভয় হয়,কষ্ট হয়।

—কিসের ভয়?

—তোমাকে হারানোর ভয়।

—কেন?

—কারণ আমি তোমাকে ভালবাসি।
.
কথাটা শুনার পর আমি চুপ করে রইলাম।একটু পরেই আমার পাশে থাকা মেয়েগুলোর মধ্যে একজন আরেকজনের কাছে বলতে লাগল যে মেয়ে তার স্বামীকে পরপুরুষের জুতা দিয়ে ভার্সিটির সবার সামনে মারতে পারে সে নাকি আবার ভালবাসে।
.
কথাটা বলেই ওরা সবাই হাসতে লাগল।ওদের কথা শুনে আমারও হাসি পেল।কারণ ওরা কিছু ভুল বলে নেই।ওরা ঠিকই বলেছে।তারপর আরহী যা করল তা দেখে আমি অনেকটা অবাক হলাম।আমি কখনও ভাবতেও পারি নেই আরহী মতো মেয়ে ভার্সিটির সবার সামনে এমন কিছু করতে পারে।
.
#চলবে

 

 

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *