রোমান্টিক প্রতিশোধ Part_9 end

#রোমান্টিক_প্রতিশোধ♥
পার্ট -9 end
লেখকঃ অদ্রিত আল মাসুদ

রোমান্টিক প্রতিশোধ part-1

রোমান্টিক প্রতিশোধ part-2

রোমান্টিক প্রতিশোধ part-3

রোমান্টিক প্রতিশোধ part-4

রোমান্টিক প্রতিশোধ part-5

রোমান্টিক প্রতিশোধ part-6

রোমান্টিক প্রতিশোধ part-7

রোমান্টিক প্রতিশোধ part-8

 

সবাই যখন হাসা-হাসি করছিল তখন আরহী মাথা নিচু করে ছিল।আমি সেখানে কিছু সময় থেকে ক্লাসের যাওয়ার জন্য রনা দিলাম।আমি যখন ক্যাম্পাসের মাঝে অর্থাৎ যেখান থেকে সবাই আমাকে দেখতে পাবে সেখানে হাসতেই আমার পা আটকে গেল।
.
কেন জানি আমি আর হাঁটতে পারছি না।কেন হাঁটতে পারছি না তা দেখার জন্য নিচে তাকালাম।নিচে তাকাতেই আমি অনেক অবাক হয়ে গেলাম।কারণ আরহী আমার দুই পা ধরে মাথা নিচু করে বসে রয়েছে।আমি কখনও ভাবতেও পারি নেই আরহী ভার্সিটির সবার সামনে আমার পা ধরবে।সবাই আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে।
.
—আপনি এইটা কি করছেন?আমার পা ধরছেন কেন?আর মাথাই বা নিচু করে আছেন কেন?(আমি)

—নিশ্চুপ।(আরহী।মাথা উপরে উঠাল।আরহীর দুই চোখ জলে ভরে গেছে)

—কি হল আমার পা ছাড়ুন।

—আজকে আর আমি তোমার পা ছাড়ব না।তুমি আগে আমাকে ক্ষমা করে একটা সুযোগ দাও।তারপরেই আমি তোমার পা ছাড়ব।

—কি বলছেন এইসব?ভার্সিটির সবাই আমাদের দেখছে।শুধু শুধু নিজেকে অপমানের পাত্র বানিয়ে কি লাভ?

—ভার্সিটির সবার সামনে কেন তুমি বললে আমি সম্পূর্ণ পৃথিবীর সামনে হাসির পাত্রী হতে রাজি আছি।তবুও আমাকে নিজেকে প্রমাণ করতে একটা সুযোগ দাও।আমি তোমাকে ভার্সিটির সবার সামনে জুতা দিয়ে মেরেছিলাম তাই আজকে তার জন্য ভার্সিটির সবার সামনে ক্ষমা চাচ্ছি।(কান্না করে)

—সাগর,এখানে কি হচ্ছে?আর আরহীরই বা তোর পা ধরে আছে কেন?(বন্ধু-বান্ধুবীরা সবাই এক সাথে)

—দেখছ না আমার পা ধরে শুধু শুধু বসে রয়েছে।আমাকে ক্লাসে যেতে দিচ্ছে না।

—আরহী,তুই সাগরের পা ধরে কান্না করছিস কেন?(আনিকা)

—দেখছিস না সাগর আমাকে ক্ষমা করছে না।আমি কতবার ওর কাছে ক্ষমা চেয়েছি কিন্তুু আমাকে ক্ষমা করছে না।তোরা একটু বল না আমাকে ক্ষমা করে দিতে।(কান্না করে)

—সাগর,অনেক হয়েছে।এইবার অন্তত মেয়েটাকে ক্ষমা করে দে।আরহী ত তোর কাছে কম ক্ষমা চায় নেই।তুই এতটা কঠোর,নিষ্টুর হতে পারলি কি করে?

—সাগর,জীবন সবাইকে দ্বিতীয় সুযোগ দেয়।তুই কি আরহীকে আর একটা সু্যোগ দিতে পারবি ন?তুই যদি আরহীকে ভাল হওয়ার জন্য আর সু্যোগ না দিস তাহলে ত আরহী এর থেকেও বেশি খারাপ হয়ে যাবে।(নিধি)

—সাগর,দেখ যে আরহী একদিন টাকার অহংকারের বসে তোকে জয়ের জুতা দিয়ে ভার্সিটির সবার সামনে জুতা দিয়ে মেরেছিল সেই আরহীই আজকে ভার্সিটির সবার সামনে তোর পা ধরে ক্ষমা চাচ্ছে।এতে কি তোর মনে একটুও দয়া হয় না?

—আমি কিছু চাই না।তুমি আমাকে একবার ক্ষমা করে তোমার বাসার চাকরানি করে রাখ তবুও আমার কোন অভিযোগ থাকবে না।তুমি যদি আমাকে দিনের পর দিন না খায়িয়ে রাখ বা পচা ভাত-তরকারি দিয়ে খেতে দাও তবুও আমি রাজি।কিন্তুু দয়া করে আমাকে দূরে ঠেলে দিল না।আমি যে তোমাকে ছাড়া থাকতে পারব না।(কান্না করে)

—দেখেছিস আরহী তোর জন্য সব করতে রাজি আছে।তোর কি মনে হয় না আরহী আর একটা সু্যোগ দেওয়া দরকার?

—ঠিক আছে।তোরা এত করে বলছিস যখন আজকে বিকালে উনার মা-বাবাকে নিয়ে আমার বাড়িতে আসতে বলে দে।আমি বিকালে বলব আমি উনাকে ক্ষমা করব কি না।

—আচ্ছা,আমি মা-বাবাকে নিয়ে আসব।

—এখন আমার পা ছাড়ুন।আমার ক্লাসের জন্য দেড়ি হয়ে যাচ্ছে।
.
তারপর আরহী আমার পা ছেড়ে দিল।আমি ক্লাসে চলে গেলাম আর আরহী চোখ মুছতে ক্লাসে চলে আসল।সম্পূর্ণ ক্লাস বসে ভাবলাম আরহীকে ক্ষমা করে আর একটা সু্যোগ দেওয়া কি ঠিক হবে?
.
আরহী আবার সু্যোগ দিলে আমার পরিবারের কোন ক্ষতি করবে না ত?আরহী আবার এইসব নাটক করছে না ত?যাতে করে আমাকে আর আমার পরিবারের সবাইকে মেরে ফেলতে পারে।
.
এইসব ভাবতে ভাবতে ক্লাস শেষ হয়ে গেল।ক্লাস শেষ হওয়ার পর আমি বাড়িতে চলে গেলাম আর আরহীও বাড়িতে চলে গেল।আমি বাড়িতে গিয়ে খেয়ে শুয়ে পরলাম।
.
শুয়ে শুয়ে ভাবছিলাম আরহী সু্যোগ দিব কিনা দিব না।ভাবতে ভাবতে আরও কিছু সময় চলে গেল।একটু পর বাড়ির বেল বেজে উঠল।আমি ভাবলাম শ্রেয়া হয়ত এসেছে।
.
তাই শুয়ে রইলাম।একটু পর মা আমাকে ডাকল।আমি গিয়ে দেখি আরহী এখনই ওর মা-বাবাকে নিয়ে আমাদের বাড়িতে এসে পরেছে।
.
—বাবা,আরহী বলল তুমি নাকি আমাদের ডেকেছ?আরহী তাই আমাকে অফিস থেকে ফোন করে নিয়ে আসল।(আরহীর বাবা)

—হ্যাঁ,ডেকেছিলাম।কিন্তুু এখন না বিকালের দিক।(আমি)

—তাতে কি হয়েছে?তুমি তখন ডেকেও আমাকে ক্ষমা করে আপন করে নিতে আর সেই কাজটা না হয় এখন করলে।তাতে সমস্যা কি?(আরহী।হাসি দিয়ে)

—কে বলেছে আমি আপনাকে ক্ষমা করে আপন করে নিব?আমি কি একবারও বলেছি আমি আপনাকে ক্ষমা করে আপন করে নিব?(কথাটা শুনার ওর আরহীর মুখে থেকে হাসি চলে গেল)

—অর্থাৎ তুমি আমাকে ক্ষমা করবে না?আর কত কষ্ট দিবে?তোমার যত ইচ্ছে কষ্ট দেও।তবুও আমাকে দূরে ঠেলে দিও না।আমি আর সহ্য করতে পারছি না।(কান্না করে)

—সাগর,আমার মেয়েটা ওর ভুল বুঝতে পেরেছে।তুমি এইবার অন্তত ওকে ক্ষমা করে দেও।(আরহীর মা)

—সাগর,মেয়েটাকে আর কষ্ট দিস না।(মা)

—তুমি ত সারাদিন বাড়িতে থাক না।শাশুড়ি মা দিনদিন বুড়ি হয়ে আসছে।সে এখন আর বাড়ির কাজ ঠিক মতো করতে পারে না। এখন তার বিশ্রামের প্রয়োজন।তাছাড়া শ্রেয়ার দেখাশোনা করার জন্য একজনের প্রয়োজন।তুমি না হয় আমাকে ক্ষমা করে চাকরানি বানিয়ে তাদের দেখাশোনার জন্য আমাকে রাখ।আমার কোন টাকার প্রয়োজন নেই।তবুও তুমি আমাকে দূরে ঠেলে দিও না।দয়া করে আমাকে একবার ক্ষমা করে আপন করে নেও।(কান্না করে)

—ঠিক আছে।আপনি এতে করে বলেছেন যখন আমি আপনাকে ক্ষমা করে দিলাম।কিন্তুু কখনও আপন করে নিব না।আমি সবসময় আপনাকে ঘৃণাই করব।

—তোমার আপনজনে হয়ে উঠার জন্য কি আমি একটা সু্যোগ পাব না?আপনজন নাই করলে অন্তত তোমার বাড়ির চাকরানি করে সারাজীবনের জন্য তোমার পায়ের নিচে রেখে দাও।আমি তোমার কাছে আর কিছুই চাই না।

—সাগর,আমার দেখাশোনার জন্য এখন কাউকে প্রয়োজন তাই তুই আরহী না হয় আমার জন্যই রেখে দে।

—ভাইয়া,ভাবীকে বাড়িতে থাকতে দে না।তুই ত বাড়িতে থাকিস না।আমি সারাদিন বাড়িতে একা একা থাকি।ভাবী থাকলে একজন খেলার সাথি পেয়ে যাব।(শ্রেয়া ড়িতে ডুকতে ডুকতে।আমি ভেবে দেখলাম শ্রেয়ার কথাটা ঠিক)

—সাগর,কি ভাবছিস?(মা)

—কিছু না।

—তাহলে কি আরহীকে থাকতে দিবি?

—দে না ভাইয়া।আমার জন্য?(শ্রেয়া আমার দিকে মায়াবি চোখে তাকিয়ে।আর করুণ কন্ঠে কথাটা বলল)

—তুই জানিস আমি তোর কথা কখনও ফেলতে পারব না।

—তার মানে তুমি আমাকে এই বাড়িতে থাকতে দিবে?

—হ্যাঁ।

—তোমাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।(আরহী আমাকে জড়িয়ে ধরল।আমি তাড়াতাড়ি নিজেকে ছাড়িয়ে নিলাম)

—কি হচ্ছেটা কি?আমি আপনাকে বাড়িতে থাকতে দিয়েছি চাকরানি হিসাবে।আমার বউ হিসাবে না।(রাগি কন্ঠে)

—দুঃখিত।

—আর হ্যাঁ আমি আপনাকে বাড়িতে থাকতে দিয়েছি এর মানে এই না যে আপনার যা ইচ্ছে তাই করতে পারবেন।এখন থেকে আপনার কাজ হল আমার বোনের সাথে খেলা,মায়ের যেনো কোন কষ্ট না হয় সেইদিকে খেয়াল রাখা।যদি আমি কখনও দেখছি আপনার জন্য আমার মা আর বোনের কোন ক্ষতি হয়েছে,কষ্ট পেয়েছে তাহলে সেইদিনই আপনাকে এই বাড়ি সারাজীবনের জন্য ছাড়তে হবে।কথাটা জানি মনে থাকে।

—আচ্ছা।(আমি বাহিরে চলে গেলাম)

—অবশেষে তুই সাগরের মনে জায়গায় করতে পেরেছিস।(আরহীর মা)

—কোথায় পারলাম?আমাকে ত মাত্র সাগর ওর বাড়ির চাকরানি হিসাবে রেখেছে।

—চিন্তা কর না।কিছুদিন তুমি ভাল মতো সংসারের কাজ কর।সাগর যা বলে শুন।তারপরে কোন একদিন দেখবে সাগর তোমাকে মেনে নিয়েছে।

—মা,আপনার কথাই জানি সত্যি হয়।নাহলে আমি সাগরকে ছাড়া মরে যাব।

—ভাবী তুমি চিন্তা কর না।দেখবে ভাইয়া তোমাকে ঠিকই মেনে নিবে আর মা যা বলল তাই হবে।আর নাহলে আমি ত আছি।আমি বললে ভাইয়া তোমাকে ঠিকই মেনে নিবে।

—তোমার জন্যই ত আজকে আমি এই বাড়িতে থাকার সু্যোগ পেলাম।

—অনেক কথা হয়েছে।চল সবাই মিলে আগে কিছু খেয়ে নেই।শ্রেয়া তুই গিয়ে পোশাক পরির্বতন করে আয়।আমি খাবার বাড়ছি।এমনিতেই সাগরকে বুঝাতে বুঝাতে আমি ক্লান্ত হয়ে গিয়েছি।

—আচ্ছা যাচ্ছি।

—মা,আমি এখন খাব না।(আরহী)

—কেন?

—ও ত আমার উপর রাগ করে বাড়ি থেকে না খেয়েই চলে গেল।ওকে রেখে আমি কি করে খাব?

—তুমি চিন্তা কর না।সাগর খেয়েই গেছে।তুমি খেতে বস।

—আচ্ছা।
.
এরপরে দেখতে দেখতে আরও কিছুদিন চলে গেল।সবকিছু ভাল মতোই চলতে লাগল।মার কাছে থেকে আরহী রান্না শিখে নিয়েছে।এখন আরহী নিজেই সব রান্না করে।
.
তার পাশাপাশি বাড়ির সব কাজ আরহীই করে।মাকে কোন কাজই করতে দেয় না।শ্রেয়া যখন বাড়িতে থাকে তখন শ্রেয়ার সাথে খেলা করে।মোটকথায় এতদিনে আরহী মা আর শ্রেয়ার অনেক প্রিয় পাত্রী হয়ে উঠেছে।
.
তাছাড়া আরহী এখন আমার অনেক খেয়ালও রাখে।প্রথম প্রথম আমার কাছে আরহীর এইসব বিরক্ত লাগলেও এখন আর তেমন বিরক্ত লাগে না।

আরহী গ্যাসের চুলায় দুধ গরম করতে দিয়ে শ্রেয়ার সাথে খেলছিল।শ্রেয়ার সাথে খেলতে খেলতে আরহী ভুলেই গিয়েছিল যে চুলায় দুধ গরম করতে দিয়ে এসেছে।
.
মা কি করতে যেন দরকারে রান্নাঘরে গিয়েছিল।তখন মা দেখতে পেল দুধ গরম হয়ে পরতে শুরু করেছে।মা এইটা দেখেই দুধ নামানোর জন্য হাত দিল।দুধের পাতিলটা অনেক গরম হয়ে যাওয়ায় আর মা তাড়াতাড়ির মধ্যে হাত দেওয়ায় মার হাত জ্বলে যায়।
.
সাথে সাথে হাত লাল হয়ে যায় আর দুধের পাতিলের দুধ একটু জন্য মার শরীরের পরা থেকে বেঁচে যায়।মা যখন ব্যাথা পেয়েছিল তখন চিৎকার দিয়েছিল।আমি ঘরে ছিলাম তাই মার চিৎকার শুনে তাড়াতাড়ি রান্নাঘরে গেলাম।
.
অন্যদিকে আরহী আর শ্রেয়া ঘরের মধ্য কানা-মাছি খেলছিল।তখন শ্রেয়ার চোখ বন্ধ ছিল।আরহী যখন মার চিৎকার শুনে তখন তাড়াতাড়ির মধ্যে আসতে গিয়ে শ্রেয়ার সাথে ধাক্কা লাগে।
.
তার জন্য শ্রেয়ার মাথা ঘরের টেবিলের কোণার সাথে গিয়ে লাগে।সাথে সাথে শ্রেয়ার মাথাও একটু কেটে যায় আর শ্রেয়া চিৎকার করে উঠে।এখন আমি কাকে রেখে কার কাছে যাব?
.
আমার মাথায় কিছুই ডুকছে না।অবশেষে মাকে ধরে নিয়ে সোফায় বসালাম আর শ্রেয়াকে মার পাশে বসালাম।আমি ব্যান্ডেজ,মলম এনে মা আর শ্রেয়াকে লাগিয়ে দিতে লাগলাম।মা আর শ্রেয়ার এই অবস্থা দেখে আমার মাথা গরম হয়ে গেছে।
.
—দাও আমি লাগিয়ে দেই।(আরহী)

—লাগবে না।(আমি)

—আরে দাও না।আমি লাগিয়ে দিচ্ছি।তুমি শুধু শুধু কষ্ট করছ কেন?

—আমার মা,বোনকে আমি লাগিয়ে দিব তাতে কিসের কষ্ট?আসলে সেইদিন আপনাকে সু্যোগ দেওয়াটাই আমার জীবনের সব থেকে বড় ভুল ছিল।সেইদিন যদি আপনাকে সুযোগ না দিতাম তাহলে আজকে এইসব কিছুই হত না।(রেগে)

—আসলে শ্রেয়া আমাকে খেলার জন্য ডাক দিয়েছিল।তাই আমি ভুলে গিয়েছিলাম যে চুলায় আমি দুধ বসিয়ে রেখে এসেছি।আর মাকে দেখতে যাওয়ার সময় ভুলে শ্রেয়ার সাথে ধাক্কা লেগে শ্রেয়া পরে যায়।

—আমি আর আপনার একটা কথাও শুনতে চাই না।আপনি এখনই আমার বাড়ি ছেড়ে চলে যান।আমি আপনাকে আমার বাড়িতে রেখে আমার পরিবারের জন্য আর কোন ক্ষতি ডেকে আনতে চাই না।

—দয়া করে আমার সাথে এমন কর না।আমি জানি আমার ভুল হয়েছে।বিশ্বাস কর আমি আর কোন ভুল করব না।(কান্না করে)

—আমি একবার বলেছি না?আপনি এখনই আমার বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাবেন।(চিৎকার করে)

—সাগর,তুই শুধু শুধু এমন করছিস কেন?আমাদের ত তেমন কিছুই হয় নেই।শুধু শুধু এত ছোট একটা বিষয়ের জন্য মেয়েটাকে বাড়ি থেকে বের করে দিচ্ছিস কেন?(মা)

—আমি চাইনা ঐ আর আমাদের বাড়িতে থাকুক আর এইটা মোটেও ছোট বিষয় না।তাছাড়া আজকে যদি তোমাদের বড় কিছু হয়ে যেত তাহলে কি হত?

—আমাদের কিছু ত হয় নেই।তাহলে তুই শুধু শুধু এমন করছিস কেন?

—তাছাড়া ভাইয়া আমার ত একটু খানি জায়গায়ই কেটেছে।তাই বলে তুই ভাবীকে বাড়ি থেকে বের করে দিবি?(শ্রেয়া)

—হ্যাঁ দিব।

—প্রথম প্রথম ত তুই ওর সাথে ভালো ব্যবহার করতি।কিন্তুু আমি দেখছি তুই কিছু দিন ধরে ওকে সহ্যই করতে পারছিস না।কি হয়েছে তোর?বল আমাকে।

—আমার কিছু হয় নেই।তুমি ওকে বাড়ি থেকে এখনই যেতে বল।

—না।ঐ এই বাড়ি থেকে কোথাও যাবে না।

—ঐ যদি এখন এই বাড়ি থেকে না যায় তাহলে আমি এই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাব আর কখনও এই বাড়িতে আসব না।

—না না।তুমি এই বাড়ি থেকে কোথাও যেও না।আমি এখনই তোমার বাড়ি থেকে চলে যাচ্ছি।(কান্না করে)

—আজকে ত রাত হয়ে গেছে।অন্তত আজকের রাতটা ওকে এই বাড়িতে থাকতে দে।(মা।কান্না করে)

—না।এখন তেমন রাতও হয় নেই যে ঐ যেতে পারবে না।এখন রাত আট টা বাজে।এখন ঐ ওর বাড়িতে যেতে পারবে।তাই ঐ এখনই যাবে।

—ঠিক আছে।আমি আমার ব্যাগ নিয়ে চলে যাচ্ছি।
.
আরহী কান্না করতে করতে নিজের রুমে চলে গেল।আমিও আমার রুমে চলে গেলাম।একটু পরে আরহী আমার রুমের সামনে এসে আমাকে বলল আমি চলে যাচ্ছি।তুমি ভাল থেকো।
.
কথাটা বলে আরহী কিছু সময় আমার দিকে তাকিয়ে ছিল।আরহীর চোখ দিয়ে পানি পড়ছিল আমি দেখতে পারছিলাম।তার কিছুসময় পর আরহী মাকে সালাম করে,শ্রেয়াকে আদর করে আরহীর বাবা-মার কাছে চলে গেল।
.
আমি আমার মতো বিছানায় বসে রয়েছি।আজকে আমার চোখ দিয়েও পানি গড়িয়ে পড়ছে।আরহী যখন যাওয়ার সময় আমার দিকে তাকিয়ে কান্না করছিল তখন আমি জানি আরহী মনে মনে কি চাচ্ছিল।
.
আরহী চাচ্ছিল একবারের জন্য আমি আরহীর কাছে গিয়ে আরহী জুড়িয়ে ধরে বলি আরহী তোমার এই বাড়ি থেকে কোথাও যাওয়ার দরকার নেই।তুমি তোমার বাড়ি থেকে কোথায় যাবে?
.
তুমি এই বাড়ি থেকে যেও না।এইসব বলে আরহীর চোখের পানি মুছে আমি আরহীকে জড়িয়ে ধরি।সত্য বলতে আমিও চাচ্ছিলাম আমি আরহীকে জড়িয়ে ধরে এইসব বলি।
.
কারণ আরহীর পরির্বতন আর আমার আর আমার পরিবারের উপর আরহীর ভালোবাসা দেখে আমিও আরহীকে ভালবেসে ফেলেছি।আরহী যখন লক্ষি বউয়ের মতো বাড়ির সবকাজ করত,রান্না করার সময় আরহীর কপালে ঘাম জমতো।
.
তখন আমার মতো আমি আরহীকে পিছনে থেকে গিয়ে জড়িয়ে ধরে আরহীর কপালের ঘাম মুছে দেই।কিন্তুু আমার হাতে যে বেশি সময় নেই।
.
যেইদিন ভেবেছিলাম আরহীকে সবকিছু ভুলে আপন করে নিব সেইদিন জানতে পারলাম আমি এই পৃথিবীতে আর কিছুদিনের অতিথি।কিছুদিন পর আমি চলে যাব না ফেরার দেশে।
.
কথায় আছে না কিছু মানুষের কপালে সুখ বেশিদিন থাকে না।আমিও সেই মানুষগুলোর মধ্যে একজন।তাই ত আমার সাথে এমনটা হল আর আমি চাইনি আমার জন্য আরহীর জীবন নষ্ট হয়ে যাক।
.
তাই ত সেইদিনের পর থেকে আমি আরহীর সাথে অনেক খারাপ ব্যবহার করতে শুরু করি।আমি অনেক ভেবেছি আরহীকে বাড়ি থেকে বের করার জন্য।কিন্তুু আরহীকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার জন্য কোন কারণই পাচ্ছিলাম না।
.
আর আজকে যখন একটা কারণ পেলাম হোক সেইটা ছোট সেইটাই দেখিয়ে আরহীকে বাড়ি থেকে বের করে দিলাম।আরহী আমার উপর রাগ করলেও কিছুদিন পর সেই আগের মতোই হয়ে যাবে।
.
এইসব ভাবতে ভাবতে কখনও যে রাত গভীর হয়ে গেছে তা নিজেও জানি না।আজকে শ্রেয়া আর মা আমার উপর রাগ করে আমাকে খেতে ডাকেনি।ভালই হয়েছে রাগ করেছে।তাছাড়া আর বাঁচবই কতদিন?
.
আরহীর কথা ভাবতে ভাবতে সারারাতে আর ঘুম আসল না।শেষরাতের দিকে হঠাৎ করেই আমি অজ্ঞান হয়ে গেলাম।সকালে মা নাস্তা তৈরি করে শ্রেয়ার সাথে বসে রয়েছে।
.
—শ্রেয়া,যা ত সাগরকে ডেকে নিয়ে আয়।(মা)

—না।আমি পারব না।তুমি যাও।

—তোকে যেতে বলেছি না।(রেগে)
.
শ্রেয়া নাস্তা রেখে উঠে আমাকে ডাকতে আসল।গতরাতে দরজা না লাগিয়েই বসে ছিলাম।তাই শ্রেয়া সরাসরি রুমে এসে আমাকে ডাকতে লাগল।কিন্তুু আমি উঠছি না।
.
—মা,ও মা।

—কি হয়েছে?(মা।আমার ঘরে এসে)

—দেখ না ভাইয়া উঠছে না।সেই কখন থেকে ডাকছি।

—কি বলিস?সর আমাকে দেখতে দে।
.
মা আমার কাছে এসে আমাকে দেখে বুঝতে পারল আমি অজ্ঞান হয়ে আছি।
.
—সাগর,ত অজ্ঞান হয়ে গেছে।(মা)

—কিন্তুু কেন?

—তা ত আমিও জানি না।

—মা,ভাইয়ার অাবার কিছু হয়নি তো ? (কেঁদে দিয়ে)

—না না।সাগরের কিছু হবে না।চল তাড়াতাড়ি সাগরকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করি।

—হ্যাঁ,চল।
.
তারপরে আশেপাশের মানুষ ডেকে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে গেল।ডাক্তার আমাকে দেখে মার কাছে আসল।
.
—সাগরের এখনই অপারেশন করতে হবে।আপনারা সবকিছু ব্যবস্থা করুন।(ডাক্তার)

—কিন্তুু কেন?আমার ছেলের কি হয়েছে?(মা)

—কেন?আপনারা জানেন না?

—না।

—সাগরের একটা কিডনি অনেক আগেই নষ্ট হয়ে গিয়েছে আর বাকি একটার অবস্থাও খুব বেশি ভালোনা ।এখন যদি কিডনির ব্যবস্থা করে সাগরের শরীরে না দেওয়া হয় তাহলে সাগরকে বাঁচানো আর সম্ভব না।

—কি?কিভাবে?আর আপনি ওকে ভালমতো পরীক্ষা না করেই কিভাবে বলতে পারলেন ওর কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে?

—সাগরকে পরীক্ষা আমি অনেক আগেই করেছি।তাছাড়া সাগর ত আজ থেকে এখানে আসে না।সাগর আগেও কয়েকবার এখানে এসেছে।আমি ওকে আগেও বলেছি ওর শরীরে কিডনি ট্রান্সফার না করলে ও মারা যাবে।আর কথা বলে সময় নষ্ট না করে আপনারা এখনই কিডনির ব্যবস্থা করুন।
.
ডাক্তার চলে গেল।মা আর শ্রেয়া বসে বসে কান্না করতে লাগল।এখন কোথা থেকে তারা কিডনি পাবে?তাদের রক্তের গ্রুপ এবং টিস্যু ও আলাদা।নাহলে তাদের মধ্য থেকেই কেউ একজন দিতে পারত।
.
অন্যদিকে আরহী কালকে রাতে এইবাড়িতে আসার পর থেকেই কান্না করে যাচ্ছে।আরহীর মা-বাবা আরহীকে বোঝানোর অনেক চেষ্টা করেছে।কিন্তুু আরহী বুঝতে চাচ্ছে না।আরহীর বার বার মনে হচ্ছে আজকে ছোট একটা ভুলের জন্য আরহী সবকিছু হারাল।
.
আরহী সারারাতে দুই চোখের পাতা একবারের জন্যও এক করে নেই।সকালে আরহী যখন আমার কথা ভাবছিল তখনই শ্রেয়া আরহীকে ফোন করে।শ্রেয়ার নাম্বার দেখে আরহী সাথে সাথে ফোন ধরে।
.
—হ্যালো,ভাবী। (কান্না করে)

—শ্রেয়া,তুমি কান্না করছ কেন?সবকিছু ঠিক আছে ত?(আরহী)

—ভাবী কিছু ঠিক নেই।তুমি তাড়াতাড়ি আমাদের বাড়ির পাশের হাসপাতালে চলে আস।

—হাসপাতালে কিন্তুু কেন?
.
শ্রেয়া সবকিছু আরহীকে বলল।আরহী শ্রেয়ার কথা শোনার সাথে সাথে হাত থেকে মোবাইল পরে গেল।তারপর আরহী কান্না করতে করতে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে গেলে।আরহীকে এমনভাবে যেতে দেখে আরহীর মা-বাবাও আরহীর পিছনে পিছনে গেল।
.
আরহী গিয়ে দেখে আমি অজ্ঞান অবস্থায় শুয়ে রয়েছি।আমাকে এমনভাবে দেখে আরহী আরও কান্না করে দেয়।আরহীর মা-বাবাও হাসপাতালে চলে এসেছে।আরহী কান্না করছিল তখনই ডাক্তার আবার আসে।
.
—আপনারা কি কিডনির যোগার করতে পেরেছেন?(ডাক্তার)

—না,ডাক্তার।(মা)

—যেখান থেকেই পারুন বি+ গ্রুপের সাথে সাথে রোগীর টিস্যুর সাথে মিল কোন ব্যক্তির অন্তত একটা কিডনি যোগার করুন।নাহলে সাগরকে আর বাঁচানো সম্ভব না।

—ডাক্তার,আমার ব্যাল্ড গ্রুপ বি+।আপনি আমার একটা কিডনি নিয়ে আমার স্বামীকে দয়া করে বাঁচিয়ে দিন।

—তাহলে ত ভালই হল।আপনি আমার সাথে চলুন।পরীক্ষা করে দেখি।আপনার কিডনি ভাল থাকলে একটা আপনার স্বামীকে দিতে পারব।
.
তারপর আরহী ডাক্তারের সাথে চলে যায়।ডাক্তার সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আরহীর একটা কিডনি আমার শরীরে দেয়।
.
আমাদের দুইজনকে অপারেশন করে একই রুমে পাশাপাশি রাখা হয়েছে।প্রায় একমাস পর আমরা দুইজনেই এখন অনেক সুস্থ।আমাকে আর আরহীকে দেখতে মা,শ্রেয়া,আরহীর মা-বাবা সবাই এসেছে।
.
—মা।(আমি)

—কি হয়েছে বল?(মা)

—কিছুদিনের মধ্যেই আমাকে এখান থেকে রিলিজ দিয়ে দিবে।তুমি বাড়িতে গিয়ে আমার বিয়ের ব্যবস্থা কর।

—কি?তোর ঘরে বউ থাকতে তুই আবার বিয়ে করতে পারবি?তোর একটু লজ্জা হল না?

—ভাইয়া,ভাবী তোকে নিজের কিডনি দিয়ে বাঁচাল।তারপরেও তুই ভাবীকে ক্ষমা করে আপন করে নিবি না?(শ্রেয়া)

—সাগর,আমার মেয়েটা তোমার জন্য নিজের জীবন বাজি রাখল।তারপরেও তুমি ওকে ছেড়ে অন্য কাউকে বিয়ে করবে?(আরহীর মা)

—সাগর,তুমি এমনটা কি করতে পারবে?(আরহীর বাবা।আরহী আমার দিকে তাকিয়ে চোখের পানি ফেলছে)

—তোমারও কি কিছু বলার বাকি আছে নাকি?তাহলে বলে ফেল।(আমি)

—তুমি অন্য কাউকে বিয়ে করে সুখি হও।আমি দূর থেকেই তোমার সুখ দেখে সুখি হব। আমি তোমার এই রুম ছেড়ে চলে যাব।(আরহী।কথাটা বলেই কান্না করে দিল)

—আরে পাগলি কান্না করছ কেন?আমি ত তোমাকেই বিয়ে করব।

—মানে?(সবাই একই সাথে)

—আসলে আমি চাই আমরা হাসপাতাল থেকে রিলিজ নিয়ে আমাদের জীবন নতুন করে শুরু করব আর তোমরা আমাকে কতকিছু বলে দিলে।

—আমরা তো মনে করছি তুই এখন আরহীকে ক্ষমা করতে পারিস নাই।

—যে আমার জন্য এতকিছু করল তাকে ক্ষমা না করে কি করে থাকতে পারি?এখন যাও তোমরা সবাইকে নিমন্ত্রণ দেও আর বাকি কাজগুলো শেষ করে ফেল।আমাদের যেদিন এখান থেকে রিলিজ দিবে সেইদিনই আমরা বিয়ে করব।

—আচ্ছা।
.
তারপর আমরা বাড়িতে গিয়ে আমরা বিয়ে করে নেই।এখন আর আমাদের কোন রাগ,অভিমান নেই।অন্যদিকে আমি এখন একজন বড় লেখক হয়ে গিয়েছি।কিছুদিন পরই আমাদের ঘর আলো করে নতুন অতিথি আসতে চলেছে।সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।
.
#সমাপ্ত

#বিঃদ্রঃ গল্পটির আসল উদ্দেশ্য হল জীবনে অহংকার বশত এমন কিছু করে বসবেন না যার জন্য পরে আপনারই ক্ষতি হোক। আশা করি গল্পটা পড়ে সবার ভাল লেগেছে।যারা যারা কষ্ট করে এতদিন ধরে গল্প পড়ে আমার পাশে ছিলেন সবাইকে ধন্যবাদ।আশা করি এমনভাবে সামনেও আমার পাশে থাকবেন।ধন্যবাদ।।

 

 

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *