রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প

এক্সকিউস মি! শুনছেন? আপনাকে একটা কথা বলতে চাই। একটু শুনবেন প্লিজ।
(পেছনে তাকিয়ে দেখি একটি অপূর্ব সুন্দরী মেয়ে দাঁড়িয়ে)
-অবশ্যই বলুন। কোনো সমস্যা কি??
-জ্বী। আসলে আপনাকে আমি একদিনের জন্যে আমার বয়ফ্রেন্ড বানাতে চাই। প্লিজ, না করবেন না। খুব বিপদে পরে আপনার কাছে এসেছি।
-(আমি বিষ্মিত চোখে) মানে কি? আপনার বয়ফ্রেন্ড আমি! আপনাকে আমি চিনি না, জানি না। কেনো আমার গার্লফ্রেন্ড বানাবো আপনাকে? তাও আবার মাত্র এক দিনের জন্যে??
-খুব সমস্যা না হলে আপনার কাছে আমি আসতাম না। আমার নাম নীলা। রাবিতে আইন নিয়ে পড়ছি। যদি কিছু মনে না করেন, এই রাস্তার মাঝে কথা না বলে, কাছে ধারের কোনো কফিশপে গিয়ে কথা বলি?
(আমি আর কথা না বাড়িয়ে ওর সাথে গেলাম। ভাবলাম, দেখি না কি হয়)
.
(কফিশপে ঢুকেই ওই মেয়েটা প্রথমে দুই কাপ কফির অর্ডার দিলো, তৎক্ষণাৎ আমি বলে উঠলাম),,
-কি বলতে এসেছেন,,তাড়াতাড়ি বলুন। আমার বেশি সময় নেই।
-হুমম। আমি জানি ভাইয়া। আমি এটাও জানি, আপনি একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার।
-তুমি… সরি,, আপনি কিভাবে জানলেন?
-আমাকে তুমি বললে হবে। আমি সব জানি। আর, এও জানি যে, আপনার নাম নিলয়। আসলে, আমার এক ক্লোজ ফ্রেন্ড আপনাকে সেইদিন দেখিয়ে বলছিলো। আরও বলেছিলো, আপনি নাকি খুব ভালো মানুষ।
-আচ্ছা, ঠিক আছে। আর, কথা না বাড়িয়ে আসল কথায় আস।
-হ্যাঁ, আসলে, ভাইয়া আমি না একটা ছেলেকে খুব ভালোবাসি। আর, ওকে ছাড়া আমি বাঁচবো না।
-ভালো কথা,, এতে আমি কি করবো?
-আসলে, আগামীকাল আমাকে একটি ছেলেপক্ষ দেখতে আসবে। বাবা ঠিক করে ফেলেছে। এখন আপনি একমাত্র ব্যাক্তি যে, আমাকে এই বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারেন।
(শুনে পা থেকে মাথার চুল পর্যন্ত জ্বলছিলো। সালা, জীবনে করলাম ডা কি? শুধু ক্যারিয়ারের পিছিনেই ছুটলাম। কিন্তু, আজ পর্যন্ত কপালে একটা মেয়েও জুটলো না। আর, এখন এই মেয়ে আমাকে খেলার পুতুল পাইছে। শতকোটি প্রণাম সেই প্রেমিক পুরুষ কে, যে এত সুন্দর মেয়েটিকে কি নিখুঁত ভাবে পটাইছে। আহ!!একবার যদি দেখা পাইতাম তার!!) তারপর প্রশ্ন করলাম,,
-তোমার নিজের বয়ফ্রেন্ড থাকতে আমাকে কেনো?
(ইতিমধ্যে কফির কাপ দিয়ে গেলো ওয়েটার)
মেয়েটি তার কর্ণকেশে হাত বুলাতে বুলাতে একরেশ লজ্জা নিয়ে বলতে লাগল,,,
-আসলে ও না আমার থেকে দুই বছরের জুনিয়র। আর, ও এখনো লেখাপড়ায় নিয়ে ব্যাস্ত আছে। তাই, আপাতত ওর কথা বলতে পারছি না।
(এইবার আর রাগ সংগত না করতে পেরে বলেয় দিলাম,,)
-ওহহ তাই না!! তোমার বয়ফ্রেন্ড কে যদি একবার দেখতে পারতাম,,মনটা শান্ত হইত।
-কেনো? কি হয়েছে?
-নাহ,,কিছু না। এমনিই।
-তাইলে,,আপনি আমাকে হেল্প করবেন তো??
(ভাবলাম নিজে তো কখনো কিছু করতে পারলাম না,, এ তো বাচ্চা মেয়ে,,,একটু হেল্পই তো চাইছে।। একটু হেল্প করলে তেমন কোনো সমস্যা হবে না)
-আচ্ছা ঠিক আছে। বলো কি করতে হবে আমায়?
-তেমন কিছু না। আগামীকাল সকাল এগারো টার দিকে ছেলেপক্ষ দেখতে আসবে। আপনি শুধু,, তার আগে যেকোনো সময়ে আমার বাড়ি আসবেন,,আর আমার বাবাকে বলবেন আপনি আমাকে খুব ভালোবাসেন। আর, আমাকেই বিয়ে করতে চান।
-তারপর, পরে যখন জানাজানি হবে, তখন তুমি তোমার বাবা মাকে কি বলবে?
-ও আমি মেনেজ করে নিবো।
-আচ্ছা,,,ঠিক আছে। আমি আগামীকাল সাড়ে দশটার দিকে যাবো।
-ohh,,, thank you very much,,ভাইয়া। এই নিন আমার ঠিকানা আর মোবাইল নাম্বার। আমি আগামীকাল সোয়া দশটার দিকে আমার বাড়ির সামনে অপেক্ষা করবো। আপনি আসলে আপনাকে নিয়ে একসাথে বাড়ি ঢুকবো। তাহলে এখন যাই। বিল টা দিয়ে দিয়েন।। ওকে ভাইয়া?
(কি আর করার,, অগত্যা বিল দিয়ে বেরিয়ে আসলাম)
.
পরের দিন সকালে যেই বের হতে যাব,, কাজটি করার জন্যে,,,তখনই আম্মু ডেকে বলল,,
-খোকা,, আজ এগারো টার দিকে তোকে এক জায়গায় নিয়ে যাবো। যাবি তো?
-কোথায় মা? কিছু হয়েছে?
-সেটা তুই গেলেই বুঝতে পারবি। এখন যেখানে যাচ্ছিলিস সেখানে যা। পরে তোকে মেসেজ করে ঠিকানাটা বলে দিবো।
(ঠিকাছে বলে বেরিয়ে এলাম)
যথা সময়ে নীলার বাড়ির সামনে গিয়ে নীলার সাথে ওদের বাড়ির মধ্যে ঢুকলাম
আংকেল কে দেখে সালাম দিয়ে আমতা আমতা করে বলতে লাগলাম,,
-স্যার,,আসলে হয়েছে টা কি…মানে…আর কি!!
এমন সময় নীলা পেছন থেকে ইশারা করে বলল,, প্লিজ ভাইয়া,,, বলুন,,প্লিজ অমন করবেন না।
সাহস জুগিয়ে শেষ পর্যন্ত কথাটা বলেই ফেললাম,,
-স্যার,, আমি আপনার মেয়েকে অনেক ভালোবাসি,, আর, আপনার মেয়েকে বিয়ে করতে চাই।
নীলার বাবা নীলার দিকে তাকিয়ে বলল,,
-ও যা বলছে তা কি সত্য?
-জ্বী আব্বু। সত্যি। আর,, আমিও ওকে অনেক ভালোবাসি।
নীলার বাবা কি যেন ভেবে আমাকে বিদায় দিলো। অবশ্য,, একটা চড় খাবার জন্যে যথেষ্ট প্রস্তুতি ছিলো আমার। যাই হোক,,, এ যাত্রার মতো চড় খাওয়ায় হাত থেকে তো বাঁচলাম।
ওদের বাড়ি থেকে বেরিয়েই একটা চা-র দোকানে গিয়ে সিগারেট ধরালাম। এমন সময় নিলার মেসেজ,,
-“থ্যাংকস ভাইয়া,,আব্বু আমাদের রিলেশন টা মেনে নিয়েছে। আর,, ওই পাত্রপক্ষকেও মানা করে দিবে বলেছে।”
-উফফ,,,শান্তি….
বলেই এক টানে সিগারেট টা শেষ করলাম।
ঠিক তখনই মনে পড়ল,,মা বলেছিলো, ১১ টার দিকে কি যেনো কাজ আছে। মেসেজ চেক করে দেখি অনেক আগেই মা আমাকে মেসেজ করে ঠিকানা পাঠিয়েদিয়েছে।
আমি আর দেরী না করে একটা রিক্সা দেকে মোবাইল থেকে মেসেজ টা রিক্সাওয়ালাকে দেখাই বললাম,,
-কতো নেবেন মামা?
রিক্সাওয়ালা আমার দিকে কেমন করে তাকিয়ে বলল,,,
-কয়কালের ডেট এক্সপায়ার জিনিস খাইছেন,,,যে, ঘোর এখনো কাটে নাই?
-আর, একটা কথা কও… থাবরায়াইয়া দাঁত যে কয়টা আছে ফেলাই দিমু…
-আপনে আগে ঠিকানাডা দেহেন,,তারপর পিছনে তাকান,,,তারপর কথা কন…
আমি মেসেজ টা দেখে আর পিছোনে তাকিয়ে খুব লজ্জিত হলাম।
মেসেজ এ যেই ঠিকানা টা লেখা তার সামনেই আমি দাঁড়াই আছি। রিক্সাওয়ালাকে বললাম,,
-মামা,,কিছু মনে কইরেন মা। আসলে আমি মেসেজটা না দেখেই আপনাকে দেখাইছি।
(তৎক্ষণাৎ, আমার আব্বু-আম্মুর আগমন)
-কিরে তুই তো দেখছি আগেই চলে এসেছিল।
আমতা আমতা করে বললাম,,
-হুম,,আসলাম,,বল কি কাজ?
-তোর জন্যে মেয়ে দেখতে এসেছি। তুই মানা করতিস তাই তোকে তখন বলি নাই।
(পুরো বেপারটা সেই মুহূর্তে আমার মাথায় খেলে গেলো,,)মনে মনে আম্মুকে বললাম,, “আম্মু তোমার এই গুণধর ছেলে তোমাদের স্বপ্নকে আগে থেকেই জলাঞ্জলি দিয়ে ফেলেছে।” মা বলল,,
-যা,,দুই কেজি মিস্টি নিয়ে আয়। আমরা বাড়ির ভেতর যাচ্ছি। তুই, মিস্টি নিয়ে আয়।
(আমি খুসি হবো নাকি দুঃখ পাবো কিছুই বুঝতে পারছি না)
মিস্টির দোকানে অবস্থান কালে আম্মুর ফোন,,
-খোকা,,তুই বাড়ি চলে যা,, তোর বিয়ে এখানে আমি দেবো না। তুই,, বাড়ি চলে যা আমি সব বলছি।
(তারপরের কাহিনি তো খুব ভালো করেই বুঝতে পারছেন)
[ads2]

(ভালোই কাটছিল তার পরের কিছু দিন। কিন্তু, একদিন,,,)
আমার ভাই আমার কাছে একটি আবদার নিয়ে আসে।
-ভাইয়া,,ও ভাইয়া,,
-কি হয়েছে কি বল,,
-বলছি কি,, আমি না একটা মেয়েকে খুব ভালোবাসি। আর, ওকে ছাড়া আমি বাঁচবো না। ও আমার জীবনের সব।আমি ওকে বিয়ে করতে চাই।
খাবি খেয়ে বললাম,,,
-তোর জীবনের সব মানে? তোর বয়স কতো তাই বল?
-কেনো তুমি জানো না,,,বিশ।
-বাহ বাহ,,, আগে লাইফে এ কিছু কর,,তারপর দেখা যাবে।
-না,,ভাইয়া। তাইলে,,ওকে যে ওর বাবা বিয়ে দিয়ে দিবে। তুই কিছু একটা কর।
-নাহ,,আমি কিছু করতে পারবো না। তাছাড়া, আব্বু-আম্মু কখনই তোদের বিয়ে মেনে নিবে না।
-প্লীজ,,, ভাইয়া,,,একমাত্র তুই পারিস আমাকে আর ওকে বাঁচাতে। নইলে,,আমার সুইসাইড করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।
অগত্যা, আমার আর কিছু করার রইলো না। ছোটো ভাই বলে কথা। যে করেই হোক বেপারটা নিয়ে সিরিয়াস হতে হবে। আমি বললাম,,
-যা, আগে তোর গফ এর সাথে আমি কথা বলবো,,তারপর যা করার করবো। ওকে কাল আমার সাথে কোনো একটা কফিশপে দেখা করতে বল।
-Thank you very much,, ভাইয়া,,love u,, আমি এখনি ওকে ফোন করে জানাচ্ছি।
.
(পরেরদিন যথা সময়ে ভাইয়ে নিয়ে কফিশপে উপস্থিত। কফিশপের বাইরে থেকে ভাই আমার বলল,,)
-ভাইয়া,,আমি ওর জন্যে একটা ফুলের বুকে কিনে নিয়ে আসি,,চারশ টাকা দে..
-এই নে।
-ও এখনি আসবে। তুই, কফিশপের ভিতরে গিয়ে বস।
-ঠিক আছে। আমি গিয়ে বসছি। তুই টাড়াতাড়ি আয়।
কফিশপে বসে আছি একাকি,,এমন সময় দেখি,, সেই সুন্দরী মেয়ে মেয়েটি (নীলা) টিপটপ করে হেঁটে আসছে। আমাকে দেখেই ও বলল,,
-আরেহহ,,ভাইয়া না? কেমন আছেন? আর, আপনি এখানে?
-না, একটু কাজে এসেছিলাম। তা, তুমি হঠাৎ, একা একা এখানে?
-হুম,, আমারও একটু কাজ ছিলো।
-ও আচ্ছা।
(এমন সময় আরিফের আগমন)
-আরে,, নীলা,,তুমি চলে এসেছো। যাক, ভালোই হলো।
আমার কৌতুহল হলো। আমি যেই জিজ্ঞেস করতে যাবো,,তখনই আমার ভাই বলে উঠলো,,
-নীলা,, এ আমার ভাইয়া, মি. নিলয়। তোমাকে তো সেদিন আমার ভাইয়ার কথা বলেছিলাম। শুধু, ও যে আমার ভাইয়া সেটাই বলা হয় নি। ভেবেছিলাম, তোমাকে সারপ্রাইজ দিবো।
(নীলাও ভেবাচেকা খেয়ে গেছে ইতিমধ্যে)
আরিফ আবার বলে উঠল,,
-আর, ভাইয়া,, ও হলো নীলা। আমার…..
-ভাই আমার (করুণ স্বরে) থাক,, আর বলা লাগবে না। যা বোঝার আর যা শোনার তা আমার হয়ে গেছে।
(আমি তখন খিল খিল করে হাসতে হাসতে চেয়ারে বসে পড়ি। মনের মধ্যে একটা সিনেমার প্রবাদ খুব মনে আসছিলো,,”কার বাইক কে চড়ে,,যার, বাইক তার কপাল পোঁড়ে”)

#ভাগ্যের_পরিহাস

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *