সিনিয়র ভাবি যখন বউ । রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প । শেষ পর্ব

সিনিয়র ভাবি যখন বউ

শেষ পর্ব

.
মেহতাব হোসেন মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে চলে গেলেন। নীলার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল। ওকে কাব্যকে ভুলতে হবে। না, না এটা অসম্ভব। নীলা লাফ মেরে বিছানায় শুয়ে বালিশ আকড়ে ধরে কাঁদতে লাগল।
– আব্বু এটা কি বলছে? কাব্যকে আমি ভুলব কি করে? কাব্যকে তো আমি আমার জীবনের চেয়েও বেশী ভালোবাসি। আব্বু আমাকে কাব্যর থেকে আলাদা করতে চাইছে কেনো?
নীলা ফুফিয়ে ফুফিয়ে কাঁদতে লাগল। বালিশ আঁকড়ে ধরে কাঁদতে লাগল।
.
মিরা বিছানায় শুয়ে আছে। আর কাব্য সোফায়। এটা প্রতিদিনকার ঘটনা। কাব্য এপাশ ওপাশ করছে। আর মিরা এক দৃষ্টিতে কাব্যের দিকে তাকিয়ে আছে। কি আছে ওর এই মুখে? ছেলেরা আবার মায়াবী আর সুন্দর হয় নাকি। কি করে ছাড়ি ওকে? যে আমার দুঃসময়ে পাশে থেকেছে।
– কাব্য…
কাব্য পাশ ফিরে তাকাল মিরার দিকে,
– কি? এনিথিং রং?
– নাহ।
– তাহলে…
মিরা দ্বিধা হচ্ছে কথাটা বলতে।
– কি হল বল?
– না মানে, বিছানায় এসে শুয়।
কাব্য মিরার দিকে তাকাল মিরা উৎফুল্ল দৃষ্টিতে বলছে।
– নাহ, সোফায় শুতে পারব। অসুবিধা হচ্ছে না তো। তুমি ঘুমিয়ে পড়ো…
– একটাদিনইতো।
মিরার কথা শুনে কাব্যের মুখ মলিন হয়ে গেল। আসলেই তো। কাল ওরা ডিভোর্স এর জন্য এপ্লাই করবে। এটাই হয়তো শেষ রাত।
– প্লিজ…
কাব্য মিরার দিকে তাকাল। মিরা যেন খুব করে চাইছে কাব্য যেন ওর পাশে শুয়। কাব্য ওতো চাইছে।কিন্তু….
– ওক্কে…
কাব্য বালিশ নিয়ে বিছানায় রাখল। মিরার পাশে গিয়ে শুলো। মিরা চিৎ হয়ে শুলো। কাব্যও একি রকম শুলো। মাঝখানে কোনো বালিশ নেই।
.
আমার অস্বস্থি লাগছে। মিরার পাশে এরকমভাবে শুতে..
– মাঝখানে একটা বালিশ রাখি। আমি তো আবার বেশী এপাশ – ওপাশ হই। কখন আবার তোমার পেটে ডিসুম করে ঘুসি বসিয়ে দেই।
মিরা হাসল,
– লাগবে না।
– ওও।
কিছুক্ষণ নিরবতা..
– আচ্ছা কাব্য, মানুষ বড় অদ্ভুত তাই না। কখন কাকে ভালোবেসে ফেলে। বলা যায় না।
আমি মিরার দিকে তাকালাম। মিরা নিরব দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আমার দিকে।
– হুম, আসলেই…।
– একটা কাজ করবে?
মিরার আমার দিকে প্রশ্ন ছুড়ে মারল।
– কি?
– আমার পেটে একবার হাত রাখবে।
আমি চমকে উঠলাম। অবাক বিষ্ময় নিয়ে মিরার দিকে তাকালাম। মিরার দৃষ্টি বরাবরের মতোই শান্ত। মেয়েটা এমন কেনো? আমাকে অবাক করিয়ে দিল। অথচ নিজে একেবারেই শান্ত।
– কি হল?
আমি ইতস্তত বোধ করলাম,
– না মানে..
– একবারই তো। তোমার ভালো না লাগলে না থাক। শুধু, একটা জিনিস অনুভব করিয়ে দিতে চাই তোমাকে। আর আমিও।
– কি?
– অনুভব করতে চাই। প্লিজ একবার হাতটা রাখো।
নিরীহ দৃষ্টিতে তাকাল আমার দিকে। এখানে নেই কোনো লোভ আর পাপ। নিষ্পাপ একটা মেয়ে যেন মিরা।
– আচ্ছা।
– হুম, প্লিজ..
মিরা সোজা হয়ে শোয়া। চোখ বন্ধ করে নিল। মিরা পেটটা আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে। এখানেই রয়েছে একটা দেহের অস্তিত্ব। আমি কাপা কাপা হাতটা এগিয়ে নিলাম। হাত প্রচুর কাঁপছে। আমি প্রায় ঘামছি। অবশেষে হাত রাখলাম। মিরা জোরে একটা শ্বাস নিল। যেন কিছু অনুভব করছে। আমার স্পর্শ। আর আমি অনুভ করছি একটা অস্তিত্ব। আমি মিরার দিকে তাকালাম চোখ বন্ধ করেই আছে। আর মুখমণ্ডল এ যেন মায়া ছড়িয়ে পড়ছে। একটা নেশাবোধ হচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছি মিরার মায়াবী মুখে। মিরা চোখ খুলে আমার দিকে তাকাল,
– কিছু অনুভব করছো?
চোখ কোণে খানিকটা পানি জমে আছে।
– হুম।
– কি?
– একটা অস্তিত্ব যেটা আস্তে আস্তে বেড়ে উঠছে। খুব ভালো লাগছে।
– তাহলে আর কিছুক্ষণ রাখো। আর অনুভব করো।
– হুম।
আমি হাসলাম। মিরাও। মিরা হাতটা আমার মাথায় নিয়ে এল। চুলে বিলি কেটে দিতে লাগল।
– কাল কটায় যাচ্ছি?
– একজন লয়ারে কাছে যেতে হবে। বিকেলে..
– হুম।
আমি পেট থেকে হাত সরিয়ে নিলাম। এখন ঘুমাও মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি।
– আচ্ছা।
আমি মিরার চুলগুলোতে হাত বুলিয়ে দিতে লাগলাম। বাতাসে চুলগুলো উড়ে এসে আমার মুখে পড়ছে। মিষ্টি একটা ঘ্রান। মিরা চোখ আস্তে আস্তে বন্ধ হয়ে এলো। আমিও ঘুমানোর প্রস্তুতি নিলাম।
.
ঘুমিয়ে পড়লাম। ঘুম ভেঙে গেলে চোখ খুলে দেখলাম সকাল হয়ে গেছে। পাশে হাত দিয়ে দেখলাম মিরা বিছানায় নেই। গেল কোথায়? আমি উঠে বসলাম। এমন সময় দরজা ঠেলে রুমে ডুকল মিরা।
– গুড মর্নিং। কফি..
এগিয়ে এসে কফির মগ টেবিলে রাখল। আমি ভ্রু কুচকালাম।
– তুমি রান্নাঘরে গিয়েছিলে?
– এমনি শুধু গিয়েছিলাম। আম্মু কফি বানিয়ে দিল তোমার জন্য।
– একা একা নিচে যাওয়ার কি দরকার? যদি কোনো অঘটন ঘটে?
– আরে কিচ্ছু হবে না। এতো ভেবো না তো।
– এহ! উনি জানেন কিছু হবে না। চুপটি করে এখানে বসো। আমি ওয়াসরুম থেকে আসছি।
ওয়াসরুমে গিয়ে ফ্রেস হয়ে নিলাম। এসে কফি খেয়ে নিলাম।
– কাব্য
– হুম।
মিরার দিকে তাকালাম,
– একটা কথা বলি?
– বলো। যতটা মন চায়।
মিরা হাসল,
– ডিভোর্স এর পরেও কি আমার যত্ন নিবে?
আমি চোখ তুলে মিরার দিকে তাকালাম। শুধু দ্বিধা ফেলে দেয় মেয়েটা।
– হুম। তখন তো তোমার কেয়ার করার জন্য ভাইয়া থাকবে।
– কোথায় তোমার ভাইয়া?
এই ফেসে গেলাম। এখন কি বলি?
– না, মানে তুমি যখন দেখেছ। তখন এখানেই কোথাও আছে। খুব তাড়াতাড়ি বের করে নিবে
আব্বু খোজার জন্য লোকজন পাটিয়ে দিয়েছে বিভিন্ন জায়গায়।
– হুম।
মুখ উদাস হয়ে গেল।
– ভুল কিছু বলে ফেললাম?
– নাহ।
– তাহলে উদাস কেনো?
– এমনি..
সকালের খাবার মিরাকে খাইয়ে দিলাম। আস্তে আস্তে বিকেল গড়িয়ে এলো। মিরা রেডি আমিও রেডি। আম্মুকে বেড়ানোর কথা বলে বেরিয়েছি। আমি নিশ্চুপ গাড়ি চালাচ্ছি। মিরাও। গাড়ির বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে। তবে প্রতিদিনের মতো উৎফুল্ল নয়।আমি মোবাইল নিয়ে নীলাকে কল করলাম। প্রথম বার রিসিভ করল না। পরে নিজেই ফোন করল,
– হ্যালো নীলা।
ওপাশ থেকে,
– হুম।
– আমি ডিসিশন নিয়ে নিয়েছি।
– কি?
– মিরাকে নিয়ে এখন একজন লয়ারের কাছে যাচ্ছি। ডিভোর্সের এপ্লাই করার জন্য।
আমি মিরার দিকে তাকালাম। মিরা গাড়ির বাইরের দিকেই তাকিয়ে আছে।
– তো..
– মানে! তুমি খুশি না?
– নাহ, তোমার মতো ছেলেকে আমি ভালো না বাসলেই খুশি হতাম।
– মানে কি বলছো এসব?
– কেনো? ভুল কিছু বললাম নাকি? তুমি কি ভেবেছো, আমি কচি খুকি যে কিছু বুঝিনা। তোমরা স্বামী -স্ত্রী এক ছাদের নিচে থাকো তোমাদের মাঝে কিছু হয়নি। এটার কোনো গ্যারান্টি আছে?
– নীলা বিলিভ মি..। সত্যি আমাদের মাঝে কিছু হয়নি। তুমি মিরাকে জিজ্ঞেস করো।
– ওকে আর কি জিজ্ঞেস করব? তোমাদের মতো ছেলেদেরকে আমার চেনা আছে। আর আমি তো কখনো তোমাকে ভালোবাসিনি। শুধু টাইম পাস ছিল। কি ভেবেছিলে তুমি বিয়ে করেছো এতে আমি কষ্ট পেয়েছি। আরে এটাতো ইম্পসিবল। আমি শুধু অভিনয় করেছিলাম এতদিন। এখন তো তুমি বিবাহিত আর আমার আপদও বিদায়।
– নীলা তুমি এতোটা নিচে নামতে পারলে।
– আরে রাখ তোর ডায়লগ। নীলা সব পারে।
আমি কেঁদে দিলাম।
– নীলা তুমি…
– আরে ফোন রাখ।
টুত টুত টুত
কেটে দিল। আমি কাঁদছি নীলা আমার সাথে এরকম প্রতারণা করল। ঠাস করে গাড়ির দরজা খুলে বাইরে বেরোলাম। নিজের চুল নিজে ছিঁড়তে ইচ্ছে করছে। ফোনটা আছাড় মারলাম। মিরা হকচকিয়ে গেল। নিরব পাঠক ওও। মুহুর্তের মধ্যে কি ঘটে গেল বুঝতে পারছে না। বাইরে বেরোল। আমার কাছে এসে আমার গালদুটো ধরে ওর চোখের দিকে করল,
– কি হয়েছে কাব্য? হঠাৎ কি হল তোমার?
আমি ফুফিয়ে ফুফিয়ে কাঁদতে লাগলাম।
– তুমি কাঁদছ কেনো কাব্য? কি হয়েছে তোমার?
মিরা ভাঙা ভাঙা গলায় বলল। মিরাও কেঁদে দিয়েছে।
– মিরা, নীলা
কাঁদতে লাগলাম।
– কি হয়েছে নীলার?
– নীলা আমাকে ধোকা দিয়েছে। আমার সাথে প্রতারণা করেছে।
আমি কান্না ভেঙে পড়লাম। মিরাকে জরিয়ে ধরলাম। মিরা আমাকে শক্ত করে আকড়ে ধরল।
– তুমি কেদো না প্লিজ। কেদো না…
আমি কেঁদেই চলছি। নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছি না।
মিরা আমাকে স্বান্তনা দিচ্ছে বারবার। মিরা গাড়ির ড্রাইভারকে ফোন করে আসতে বলল। ড্রাইভার এসে পড়লে মিরা আমাকে গাড়িতে তুলে নিল। ওর কাধে মাথা চেপে ধরল।
– কেদো না প্লিজ শান্ত হোও।
বাড়ি ফিরলাম। ড্রাইভার ভাই আমাকে ধরে রুমে নিয়ে গেল। আমার ভেঙে পড়া দেখে আম্মু পাগল প্রায়। মিরা এসে আমাকে বারবার জরিয়ে ধরে সান্ত্বনা দিতে লাগল। আম্মুও এসে বারবার জিজ্ঞেস করতে লাগল কি হয়েছে? মিরা আম্মুকে সব বলল। আম্মু বাকরুদ্ধ হয়ে গেল। খুব বড় খারাপ কাজ করে ফেলেছেন উনার সাথে। সন্ধে হয়ে গেছে। আমি মেনে নিতে পারছি না যে, নীলা আমার সাথে এরকম করতে পারল। আমি খুব কষ্ট হচ্ছে। মিরা বারবার আমাকে সান্ত্বনা দিচ্ছে। মিরা নিজের হাতে খাবার খাইয়ে দিল। রাতে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিল।
.
এখন অনেকটাই স্বাভাবিক আমি। মিরার কারনে। মিরা নিজেই আমার কেয়ার করে এখন। আম্মু আমারদিকে অপরাধী দৃষ্টিতে তাকাল। সেদিন,
– তোর সাথে খুব খারাপ কাজ করে ফেললাম রে কাব্য।
আমম্মু কেদে দিলো,
– আম্মু প্লিজ তুমি নিজেকে দোষারোপ করো না। যে চলে যাবে তাকে যেতে দিতে হয় আর নীলা তো আমাকে ভালোবাসেনি তাহলে…। এরকমভাবেই দিনগুলো কাটছিল। এখন মাঝে মাঝে ঘুরতে যাই মিরাকে নিয়ে।
.
কাব্য এখন একটু স্বাভাবিক হয়েছে। ছেলেটা একেবারে ভেঙে পড়েছিল। এখন বারান্দায় বসে আছে। আমিও গেলাম,
– কাব্য..
ঘুরে তাকাল আমার দিকে। মন ভোলানো একটা হাসি দিল,
– কি?
– না, মানে সেদিন আমরা ডিভোর্স এর জন্য যাচ্ছিলাম তাই না।
– তো..
– না মানে তুমি তো চাও আমাদের ডিভোর্স হোক। সেদিন তো যাইনি তাহলে..
[খুব কষ্ট করে বলল মিরা [
– তুমি ডিভোর্স চাও তো। কালই যাবো আমরা লয়ারের কাছে।
কাব্য রেগে গেল। উঠে বারান্দা থেকে চলে যাচ্ছিল। আমি জোর করে ধরলাম।
– প্লিজ তুমি রাগ কর না আমিতো শুধু…
– ছেড়ে দাও আমায়। কেউ ভালোবাসে না আমাকে। ছেড়ে দিতে চাও তো আমাকে ওকে চলে যাও। যেতে পারো আঠকাবো না তোমাকে।
বুঝলাম কাব্য খুব রেগে গেছে।
– কাব্য শান্ত হোও প্লিজ। ওটা তো তুমিই..
– হ্যা বলেছিলাম। তাই বমে এখন তুমিও চাও সেটা। ছেড়ে দাও আমায় আমি জানি কেউ আমাকে ভালোবাসে না।
আমি জোর করে কাব্যকে বিছনায় বসালাম। ছেলেটা কাঁদছে ওর মাথাটা আমার বুকে রাখলাম।
– আমি কি খুব খারাপ?
কাঁদতে কাঁদতে বলল।
– কে বলল তুমি খারাপ?
– তাহলে ছেড়ে চলে যেতে চাও কেনো?
– সরি, আর বলবো না। এই কান ধরলাম। এবার হাসো কাব্য হেসে দিল।
.
মিরাকে নিয়ে বেড়াতে এলাম পার্কে। একটা ব্রেঞ্চে বসে ছিলাম। হঠাৎ ভাইয়ার মতো কাউকে চোখ পড়ল। আমি এগিয়ে গেলাম। পিছনে গিয়ে কাধে হাত রাখলাম। পিছনে ফিরতেই আমি চমকে উঠলাম। এতো ভাইয়া। ভাইয়াকে দেখেই আমি জরিয়ে ধরলাম।
– ভাইয়া তুই এতোদিন কোথায় ছিলি? তুই জানিস তোকে কতো খুঁজেছি?
আমি কেঁদে দিলাম।
ভাইয়া ও আমাকে জরিয়ে ধরল।
– সরি রে বাসায় যেতে পারলাম না আমি। শুধু মিরাকে একটা জবাব দেয়ার ভয়ে।
– এতোদিন কোথায় ছিলি?
– সেদিন যখন বন্ধুর কার নিয়ে একটা কাজে যাচ্ছিলাম। তখন সেখানে যাওয়ার সময় আমি এক্সিডেন্ট করি। আর তারপর আল্লাহর অশেষ কৃপায় বেচে ফিরি।
মিরা ভাইয়াকে দেখে কেঁদে দিল। দৌড়ে গিয়ে জরিয়ে ধরল,
– কোথায় ছিলে এতোদিন তুমি? এতো কষ্ট কেনো দিলে আমাকে।
ভাইয়া কেঁদে ফেলল,
– সরি মিরা তোমাকে আমি কষ্ট দিতে চাইনি।
ভাইয়া মিরাকে জরিয়ে ধরা থেকে ছাড়ল,
– মিশু..
বলতেই একটা মেয়ে এগিয়ে এলো। বেশ সুন্দর..
– সরি মিরা। আমাকে ক্ষমা করে দিও। আমি তোমাকে ভালোবাসতাম ঠিকই কিন্তু এই মেয়েটাকে দেখছ। এই মেয়েটাই আমার জীবনটা বাঁচিয়েছে। সেবা করে সুস্থ করে তুলেছে। ওর ভালোবাসা আমি কিভাবে উপাখ্যান করি বলো?আমি মিশুকে ভালোবাসি।
ভাইয়া নিচের দিকে তাকিয়ে আছে। মিরা পিছু হাঠতে লাগল। আমি নিরব দর্শক। কি হতে পারে ভাবছি? মিরা নিজেকে সামলে নিলো। আমার পাশে এসে হাত ধরে আমাকে এগিয়ে নিয়ে গেল।
– ধন্যবাদ মিঃ নিশান। আপনি বেশ বড় দ্বিধার হাত থেকে বাঁচালেন আমাকে। আসলে কাব্য আমার স্বামী। আমি ওকে না আপনাকে ভালোবাসি তা নিয়ে দ্বিধায় পড়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু, যদি কখনো আপনার সাথে দেখা পড়ত। তখন আমি কাব্যকেই বেছে নিতাম। আই রিয়েলি লাভ হি। চল কাব্য.. আমাকে টেনে নিয়ে গাড়িতে উঠালো। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলাম। কি করছে মিরা?
– গাড়ি স্টার্ট করো।
– মিরা..
– কোনো কথা না।
আমি গাড়ি স্টার্ট করলাম সোজা বাড়িতে গেলাম। মিরা বাসায় গিয়ে সোজা রুমের দিকে গেলো সিঁড়ি বেয়ে। আমিও গেলাম। বারান্দায় গিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে থাকল,
– এটা কি হল? মিরা..
– কেনো কি হল?
– ভাইয়াকে তুমি রেখে চলে এলে। আর মিথ্যা বললে কেনো?
– কোনটা?
– তুমি আমাকে ভালোবাসো।
মিরা কটমট করে আমার দিকে তাকাল।
– আসলে তুমি একটা গাধা। কোনটা মিথ্যা কোনটা সত্য তাও জানো। কথাটা সত্য ছিল। মিরা চলে গেল।
আমি হিসেব মিলাতে লাগলাম। কি বলে গেল মিরা?
.
ও,টির বাইরে দাঁড়িয়ে আছি। ভিতরে আমার মিরা। মিরার প্র‍্যাগনেন্সির পেইন উঠেছে। প্রসব ব্যাথা। হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। আমি কান্নায় ভেঙ পড়লাম বসে পড়লাম ও,টির সামনে। আম্মু বারবার সান্ত্বনা দিচ্ছে আমাকে। আমি ভাবছি, কি হবে আমার সাদা পরীটার? অতঃপর অপেক্ষার প্রহর শেষ হল। ডাক্তার বেরিয়ে এলেন। আমার অবস্থা বুঝে আমি কিছু জিজ্ঞেস করার আগে বললেন,
– কংগ্রেচুলেশন.. আপনার একটা মেয়ে সন্তান হয়েছে।
– আর মিরা।
– নাও, দে আর সেইফ।
আমি খুশিতে ডাক্তারকে জরিয়ে ধরলাম। ও,টির ভিতরে ডুকতেই মিরা আমার দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিল।
আমি পাশে গিয়ে মিরার হাত ধরলাম,
– তুমি হাসছো। জানো আমার কি অবস্থা হয়েছে? তোমার কষ্ট হয়নি তো।
মিরা আমার হাত শক্ত কিরে ধরল,
– তুমি পাশে থাকলে আমি কিছুতেই কষ্ট বা ভয় পাইনা।
আমি আমার মাথা মিরার মাথায় ঠেকালাম।
– শুধু, বউকে নিয়ে থাকবে। মেয়েকে কোলে নিবে না।
আমি মুচকি হেসে মেয়েটাকে কোলে নিলাম,
– আচ্ছা, মেয়েটা আমার মতো হল কি করে?
মিরা রহস্যময়ী হাসি দিল। কিছুটা অজানা আর রহস্যের মধ্যেই থাক। তবে ভুল কিছু ভাবিয়েন না।
.
.
.
সমাপ্ত….

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *