সিনিয়র রাগী মেয়ে যখন গার্লফ্রেন্ড

 যখন গার্লফ্রেন্ড

রাস্তাদিয়ে হাটতেছি আর বন্ধুর সাথে দুষ্টামি করতেছি। হঠাৎ একটা মেয়ের উপর পড়ে গেলাম। মেয়েটা ঠাস ঠাস করে দুইটা থাপ্পর মারল। আর বলল…….
-মেয়ে দেখলেই গায়ের উপর পড়তে ইচ্ছা হয়???
-আপনার ছেলে দেখলেই গায়ের উপর পড়তে ইচ্ছা হয়???
.
এ কথা শুনার,পর মেয়েটার চোখ লাল হয়ে গেছে।পাশে তাকিয়ে দেখলাম বন্ধু হাওয়া হয়ে গেছে।আর মেয়েটার এই চেহেরা দেইখা আমি একটা দৌড় দিতে যাব তখন মেয়েটা আমাকে ধরে ফেলল…..
-কি কই পালাবি??কি জানি বলছিলি??
-আরে না আপু কি বলব। বললাম আপনি অনেক ভালো মিষ্টি একটা মেয়ে…..
-ওহ তাইনা???
-আপু পিছনে দেখেন আপনার বাবা আসতেছে……
.
আমাকে ছেড়ে পিছনে তাকাল। আমি এক দৌড়ে ওখান থেকে হাওয়া হয়ে গেলাম।সামনে তাকিয়ে বলতে লাগল…..
-কিরে পালালি কেন।তোরে আরেকবার পেয়ে নেই বুজতে পারবি আমি কি জিনিস….

.
আর আমি এক দৌড়ে আবুলের দোকানে আসলাম।এসে দেখি রাফি এখানে বসে চা খাচ্ছে.।আমাকে দেখে বলল….
-কিরে আলভী তুই ফিরে আসলি কেমনে??
-কেনরে?ওই মাইয়া কি বাঘ নাকি
??
-বাঘের চেয়েও কমনা….শুন তাহলে…
-আচ্ছা বল….??
-ওই দিন এক ছেলে প্রপোজ করছিলো??
-পরে কি হইছে???
-ছেলেটাকে বাবা হওয়াকে কোনো চান্স রাখছে না…
-দোস্ত মেয়েটার নাম কিরে?
-মিম..
-বাহ খুব সুন্দর। দোস্ত আমি তো পরে গেছি????
-কই পরছোস??
-মেয়েটার প্রেমে…

-ভাই বাচাঁর ইচ্ছা আছে নাকি গেছে??

দুর বলদ।দেখিস পটায়া ফেলবো..তুই ও সাথে থাকবি…
-না ভাই মাফ কর আমাকে..
-নিলারে তাইলে কিছু বলতে হবে???
-কি বলিস না যে।আমি তোর পাশে না থাকলে কে থাকব.??
-গুড
.
তারপর তার সাথে আড্ডা দিয়ে বাসায় চলে আসলাম।বাসায় এসে আম্মুকে বললাম…
-আম্মু ক্ষুধা লাগছে?খেতে দাও???
-কিরে মহারাজা কই থেকে আসলি??
-তোমার বউমারে দেখে আসলাম।
-ওই বুয়া ঝাড়ুটা রেডি কর??
-না আম্মু একটা বই মেলায় গেছিলাম। বই দেখে আসছি। তারাতারি খাবার দাও???
-ওকে চুপ কইরা বস??
.
খাওয়া,দাওয়া শেষ কইরা রুমে গেলাম।এক ঘুমেই রাত কাবার। পরদিন সকালে রাফিরে নিয়া বের হলাম।রাফি বলল…
-ওই দেখ তোর ক্রাস??
-তাকায়া দেখি মিম দাড়িয়ে আছে।আচ্ছা দোস্ত তুই থাক আমি আসতেছি??
-ওকে যা।
.
আমি মিমের সামনে গেলাম।আমাকে দেইখা রাগে কটমট করতাছে।আমি তখন বললাম…….
-আপনার ফোনটা দেন তো???
-আমার ফোন দিয়া কি করবি???রেগেমেগে
-আসলে বাসায় একট কল দিব..দেন তো?
-কিচ্ছুক্ষণ ভেবে বলল । এই নে??
-মোবাইলটা নিয়ে আমি নিজের নাম্বারে ওই কল দিলাম। পরে বললাম…..
-নেন আপু কেউ কল ধরে না….
-ওহহহ দে??
-দিয়ে দিলাম
.
আমি রাফির কাছে আসলাম।আসতেই বলল…..
-কিরে আলভী কি বলছিলি রে??
-কিছু না মামা।ওর ফোন নাম্বার নিয়ে আসলাম…..
-কি বলস তুই??তুই নাম্বার চাইলি আর দিয়ে দিল….
-হুহ দিয়া দিছে।আচ্ছা চল…
.
তারপরে তার সাথে কতক্ষন আড্ডা দিয়ে বাসায় আসলাম বাসায় এসে ফ্রেশ হলাম।একটু ঘুমালাম।বিকেলবেলায় রাফিরে নিয়ে ঘুরতে বের হলাম।হঠাৎ দেখলাম পিচ্ছিরা ক্রিকেট খেলতেছে।আমি বললাম…..
-রাফি তুই দুইটা বল কর আমি দুইটা বারি দেই???
-ওকে যা ওদের কাছ থেকে ব্যাট নিয়ে আয়??
-আচ্ছা চল???
.
পিচ্ছিরা তো কোনো মতেই ব্যাট বল দিতে রাজি না।তবুও অনেক কষ্টে রাজি করালাম।রাফি প্রথম বল করল। আমি ব্যাটে লাগাতে পারিনি।যখম দ্বিতীয় বল করল।দিলাম এক বারি।বলটা হাওয়ায় ভাসতে ভাসতে একটা বাড়ির জানালায় লাগছে। জানালাটা কাচের হওয়ায় জানালাটা ভেঙ্গে বল ঘরে ডুকে গেছে।পিচ্ছিরা আইসা বলল….
-আলভী ভাই যেমনেই হোক বলটা এনে দাও।
-ভাই এখন টাকা আনি নাই। কালকে তোদের বলের দাম দেই???
– না ভাই এখন লাগবে। এখন দাও
.
কি বিপদে পড়লাম মাইরি।কি আর করা কোনো উপায় না পেয়ে পাইপ বেয়ে উপরে ওঠলাম।রুমের ভিতর থেকে বল নিয়ে আসার সময় যা দেখলাম……………….

তা হলো…….মিম ওয়াশরুম থেকে শুধু টাওয়াল পরা অবস্থায় বের হচ্ছে।আর আমি দেইখা হা কইরা তাকায়া আছি।হঠাৎ ও আমাকে লক্ষ্য করল।আমাকে দেইখা এক চিৎকার দিল………
-তুইইইইইইই এখানে??
-আপনিইইইই এখানে???
-মানে আমার বাসা আমি থাকব না তো কে থাকবে?????
-ওহহহ এরা আপনার বাসা???
-হুহ।আচ্ছা তুই কিছু দেখিস নি তো??
-আমি মোটেও ওরকম না….
-ওহহ
.
মিমের আম্মু ডেকে বলল….
-কি হয়েছে মিম??
-কিছুনা আম্মু?? তেলাপোকা
-ওহহহহহ।তাই এভাবে চিৎকার করা লাগে
.
বলেই চলে গেল?আর মিম আমাকে বলল তুই এখান থেকে যাবি???যাব যাব তার আগে শুনেন আপনাকে ওই অবস্থায় যা লাগছিলে না।
.
বলেই তারাতারি নিছে চলে আসছি।তারাতারি নামার কারনে পায়ে একটু ব্যাথা পাইছি।আর ওই দিকে মিম বলতাছে….. তোরে আরেকবার পাইয়া নেই লুচু ছেলে তোরে বুঝাব মজা।
.
আর এদিকে আমি পিচ্ছিদের বলটা দিয়ে দিলাম।আর রাফিরে বললাম……..
-দোস্ত এখানে এসে ভালোই হইসে??
-ভালো হইল কেমনে??? তুই তো ব্যাথা পাইলি….
-আমি কার রুমে ডুকছিলাম জানিস???
-কার রুমে??
-মিমের রুৃমে??আর এটা মিমদের বাসা…
-মামা কি বলস এগুলা???
-হ মামা সত্যি..
.
তারপর ওর সাথে কিছু সময় পার করে বাসায় আসলাম।পায়ে অনেকটুকু ব্যাথা পাইছি। আর সেটা আম্মু দেইখা হেব্বি বকাও দিছে।পরে রাতের খাবার খেয়ে এগারোটার দিকে মিমরে কল দিলাম……
-হ্যালো??
-কে আপনি?
-আলভী…..
-আলভী আবার কে??
-মনে নাই বিকেলের কথা???
-তার মানে তুই সেই শয়তান???
-হুম
-আমার নাম্বার পাইলি কেমনে??
-এমনে এমনে???
-আমি আপনাকে তুমি বলে ডাকব….
-আমি তো তোর সিনিয়ার জানোস??
-তোহ কি হয়ছে??
-আচ্ছা মিম তোমার এফবি আইডি দাও???
-কি বল্লি তুই.???একে তো তুমি করে বলছিস তারপরে আবার মান ধরে??
-হুহ..এফবি আইডি দাও??
-দিমু না তোরে??
-না দিলে সারারাত ডিস্টার্ব করব??
-কোনো উপায় না পেয়ে দিল….
.
তারপর ফোনটা রেখে দিলাম।এফবি তে নক দিলাম।কিছুক্ষণ কথা বললাম।পরে বাই দিয়ে দিছে।
আমিও ঘুমিয়ে পড়লাম।পরদিন সকাল থেকে ওর পিছু পিছু চললাম।ও যেখানে আমিও সেখানে।বিকেলে তার বাড়ির সামনে দাড়িয়ে থাকা। রাতে অনেক কল দেয়া।আবার মেসেজ করা।মিম অনেক বিরক্ত হতো।বাট এভাবে চলতে লাগল দিনগুলা।হঠাৎ একদিন ওরে প্রপোস করে বসলাম…….
-তুৃমি কি আমার মিহির আম্মু হবা।অনেক ভালোবাসা দিব তোমাকে।আমি তোমাকে ভালোবাসি….
-ঠাস ঠাস কইরা দুইটা চর মারল….লজ্জা লাগে না ছোট হয়ে বড়দের প্রপোজ করতে…
.
বলেই চলে গেল। আমার অনেক কষ্ট ও হয়ছিলো.।কিন্তু আমি তো ছাড়ার পাএ নই। ওরে যেমনেই হোক পটামো…।ওখান থেকে রাফির কাছে আসলাম…..
-কিরে আলভী তোর গাল লাল কেন???
-আরে বলিস না মিম কিছ করছে..
-তা দেখতেই পারতেছি…আরেকটু কম জোড়ে দিলেও পারত??
-যাবি সামনে থেকে???
.
তারপর নিজেই বাসায় এসে পড়লাম।আসার পরে আম্মু জিজ্ঞেস করল….
-কিরে তোর গাল লাল কেন.???
-লাল না তো????কই???
.
বলেই রুমে চলে আসলাম।রুমে শুয়ে আছি। আম্মু রাতে খাওয়ার জন্য ডাকছিলো খাই নাই।কিছু ভালো লাগছে না। পরে আবার মিমরে কল দিলাম.।বাহ নাম্বারটা ব্লকলিস্ট করে ফেলছে। এফবিতে লগ ইন দিলাম।পরে অনেক মেসেজ দিলাম রিপ্লে দেয়না।রাতে ঘুমিয়ে পরলাম। সকালে ওঠে আবার মেসেজ দিলাম।রিপ্লে আসল না।বিকেলে ওর বাসার সামনে দাড়িয়ে থাকি।আর সুযোগ পেলেই প্রপোজ করি।আর এর বদলে শুধু থাপ্পর খাইছি।আর নানান কথা।মিমরে অনেক মেসেস করে রাখা। সারাদিন পিছুপিছু ঘুরা। সুযোগ পেলেই প্রপোজ করা। এভাবে কেটে গেল তিনটা মাস…..
.
হঠাৎ একদিন দেখলাম একটা ছেলের সাথে বসে আছে।মিমরে ওই ছেলের সাথে দেখে বুকের ভিতর চিনচিন ব্যাথা করতেছে। আমি কাছে গেলাম। ওরে প্রপোজ করতেই যা করল…………….

তা হলো….
-মিম এই ছেলের সাথে এভাবে বসে আছো কেন???
-তোরে বলতে হবে??
-তো কাকে বলবা???কারন আমি তোমাকে ভালোবাসি…..আই লাভ ইউ মিম….
-ঠাস ঠাস কইরা দুইটা থাপ্পর মারল।আর বললল…..
-তুই এত ছ্যাচরা আর ছোটলোক হবি জানতাম না তো.?তোরে আমি ভালোবাসি না কতবার বলব।তোরে দেখলেই আমার অসহ্য লাগে।আর এইটা আমার বি এফ।প্লিজ তোর দুইটা পায়ে ধরি। তুই আমাকে আর ডিস্টার্ব করিস না।কান্না করে করে বলল..
.
-কিছু বললাম না সেখান থেকে মাথা নিচু করে চলে আসলাম।মনে মনে একটাই প্রতিজ্ঞা করলাম। ওর সামনে আর কোনোদিন যাব না।যে আমাকে দেখতে পারেনা আমাকে অসহ্য লাগে তার কাছে না জাওয়াটাই ভালো।আর ওর তো বি এফ আছে ভালোই থাকবে।প্রিয় মানুষটা ভালো থাকুক সবাই চায়।যাব না আর কোনোদিন ওর সামনে..
Koster golp 2019
-এসব ভাবতে ভাবতে একটা টং দোকানে এলাম।দেখি রাফিও সেখানে বসে আছে।ডাক দিলাম…..
-রাফি এদিকে আয় তো???
-কাছে এসে বলল…কিরে তোর চেহারা এরকম লাগছে কেন???
-আরে এমনি। আচ্ছা দোস্ত যা দুইটা সিগারেট নিয়ে আয়?
-আকাশ থেকে পড়ল..আলভী সূর্য আজকে কোনদিক দিয়ে ওঠছে????আমি সিগারেট খাইতাম বলে কত বকা দিতি। আর আজকে তুই নিজেই চাইছিস।বলতো কি হইছে???
-আগে সিগারেট আন পরে বলতাছি.??
-রাফি সিগারেট নিয়ে আসল….এই নে সিগারেট???? এখন বল কি হইছে???
-সিগারেট ধরলাম প্রথম টানে অনেক কাশি ওঠল।দুই তিন টান দেওয়ার পর ঠিক হয়ে গেল.।তারপর ওকে সব খুলে বললাম।ও আমাকে বলল…
-ও এরকম না করলেও পারত।সমস্যা নাই একটা গেছে ১০ টা আসব.
-হাহাহা।কষ্টের মাঝেও হাসি ওঠে।আর একটা সত্যি কথা হলো…নিকোটিনের ধোয়ার সাথে আমার কষ্টগুলোও কেমন উড়ে যাচ্ছে……..
.
-রাফির সাথি আরো কিছুক্ষণ কাটিয়ে বাসায় এসে পড়লাম।সাথে কতগুলা সিগারেট ও নিলাম।রাতের বেলায় মিমের জন্য অনেক কষ্ট হচ্ছে। ওর কথা খুব মনে পরছে।ওর কথা মনে পড়তেই কান্না চলে আসল।সিগারেটগুলো নিয়ে ছাদে চলে গেলাম।বাহ চাদঁটাও আজকে ভালো কিরন দিচ্ছে। সিগারেটগুলো একে একে সব শেষ করে দিলাম।কষ্ট কিছুটা কমছে।একা বসে রাতের আকাশটা দেখতেছি।আর ভাবতেছি কালকে নানুর বাসায় চলে যাব। আর ওদিকে মিম ভাবতেছে আলভী সাথে এরকম না করলেও পারতাম দেখা হলে কালকে সরি বলে দিব।
.
পরদিন সকালে আম্মুকে বললাম…
-নানুর বাসায় যাব…?
-কবে??
-আজকে.।কেন সমস্যা আছে??
-না। আচ্ছা তোর কি কিছু হইছে??
-নাতো?
-তোরে এতবার বলার পরেও তুই তের নানুর বাসায় যাস না। আজকে তুই একেবারে পাগল হয়ে গেলিযে???
-এমনি.. যেতে দিবা কিনা?
-আচ্ছা যা
.
বাসা থেকে নানুর বাসায় চলে আসলাম।আর ফোন নিয়ে আসিনি।আসার সময় রাফিরে বলে আসছিলাম।নানুর বাসায় আসার পরে তারা আমাকে পেয়ে অনেক খুশি। কয়েকটা দিল থাকলাম।১৫ দিনের মত হবে।একটা মামাতো বোন আছে ওর সাথে ভালোই মিল হয়ে গেছে।ওরে আমার সব খুলে বললাম।আর এদিকে আমার আর থাকতে বেশি ভালো লাগছিল না। তাই বাসায় চলে আসলাম।সাথেও মামাতো বোন টা আসল।ও কয়েক দিন থেকে চলে যাবে……।আর ওর নাম নিলিমা।
.
বাসায় এসে ফ্রেশ হলাম।তারপরে রাফির সাথে দেখা করতে যাচ্ছি।ভাবছেন???এত সহজে মিমকে ভূলে গেলাম???আরে না মরে যাওয়ার আগে ওকে ভূলা সম্ভব না।আমার প্রত্যকটা রাত জানে কতটা কষ্টে ছিলাম আমি।ওর কথা যখন খুব মনে পড়ত। সিগারেটের ধোয়ার সাথে উড়িয়ে দিতাম কষ্টগুলোকে।
.
-যাক বাবা চলে আসলাম রাফির কাছে….
-কিরে কেমন আছোস??
-ভালো।তুই???
-আছি কোনোরকম…
-আচ্ছা আলভী শুন?
-কি??
-মিম তো তোরে খুজে প্রায় পাগল হয়ে যাইতেছে??
-কেনরে আমাকে খুজে কেন???
-তুই ই জিজ্ঞেস করিস???
-আচ্ছা বাদ দে। সিগারেট নিয়ে আয়…….
-ও সিগারেট আনল….
.
সিগারেট টা খাইতে যাব তখন দেখলাম মিম আসতেছে।তার চেহারা কেমন মলিন হয়ে গেছে।চোখের নিছে কালি পরে গেছে। আর আমার কাছে এসে যা করল……….

-ঠাস ঠাস ঠাস ঠাস……
-মারলেন কিল্লাই????
-সিগারেই খাও কেন???(তুমি করে বলল।আকাশ থেকে পরলাম)
-আমার যা ইচ্ছা খাব আপনি বলার কে????(নিজেকে সামলে)
-তুমি আমাকে আপনি আপনি ডাকছিস কেন???(কলার ধরে)
-বড়দের আপনি আপনি করে ডাকতে হয়…
-ওমা তাই??
-হুম
.
বলার সাথে সাথেই আমার সিগারেট মাটিতে ফেলে দিল।আর আমাকে জড়িয়ে ধরল.। বলতে লাগল…….
-আলভী আমাকে মাফ করে দাও।আমি এটা করতে চাইনি।আসলে আমি বুজতে পারিনি। তুৃমি যখন আমাকে বিরক্ত করতা??? তখন আমার খুব অসহ্য লাগত।আর এই বিরক্তির মধ্য কখন যে আমি তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি বুজতে পারিনি।যখন তুৃমি চলে গেছো???আমি তোমাকে অনেক মিস করতে থাকি। তোমাকে না পেয়ে রাতে কান্না করতাম।অনেক ভালোবাসি তোমাকে….(এক নিশ্বাসে বলল)
-এই কথাগুলা শুনে ভ্যাবাচ্যকা খেয়ে গেলাম।কি করব বুজতে পারতেছি না।আর মিম যেহেতু আমাকে এতদিন কষ্ট দিছে। আমিও একটু কষ্ট দেই।পরে না হয় মেনে নিব।নিজেকে সামলে তখন বলতে লাগলাম………….
-কি করছেনটা কি???লোকে দেখলে কি বলবে.???আর আপনার কাছে কি ভালোবাসা মানেটা কি???আজকে একজনকে পাইলেন আবার কালকে আরেকজন।বাহ ভালোই নাটক পারেন। নোবেল দেওয়া উচিত আপনাদের মত মেয়েদের…
.
বলেই ওখান থেকে রাফিরে নিয়া চলে আসলাম।মিম কথাগুলো শুনে কান্না করে দিসে।আমারও কম কষ্ট হইছে না। কথাগুলো বলতে অনেক কষ্ট হয়ছে।কলিজাটা ছিরে যাচ্ছিল।ওখান থেকে বাসায় আসলাম।বোনের সাথে আড্ডা দিলাম।আর রাতে একটা প্যাকেট সিগারেট শেষ করলাম।
.
পরদিন বোন বলল বাহিরে ঘুরতে যাবে।আমিও তাকে আমার সাথে নিয়ে আসলাম।নিয়ে আসছি তো ঠিক ওই নিজেরে কেমন জানি আনইজি মনে হচ্ছে।ওর সাথে অনেক্ষন ঘুরলাম।এদিকে ওর সাথে ঘুরতে একটুও ভালো লাহতেছে না।ওকে বললাম…..
-চল এখন বাসায় চলে যাই???
-না ভাইয়া ফুসকা খাব???
-ফুসকা খাবি???আচ্ছা চল??
-ওকে
.
তারপর ওরে নিয়া ফুসকা হাউজে ডুকলাম।ফুসকা অর্ডার দিলাম এক প্লেট।পরে নিলিমা ফুসকা খেতে লাগল।হঠাৎ নিলিমা কি মনে কইরা আমাকে বলল….
-হা কর ভাইয়া???
-না এসব খাই না?
.
একথা বলতেই দেখলাম মিমও ফুসকা হাউজে ডুকতাছে।কি টাইমিং বাবা।আমি মিমরে দেখায়া ওর হাতের ফুসকাটা খেয়ে ফেললাম..।মিম দেইখা রাগে গজগজ করতে লাগল।একসময় কান্না করে মিম ওখান থেকে চলে আসল।আর এদিকে নিলিমা আমাকে বলল…..
-ভাইয়া প্রথমে খেতে চাইলা না পরে আবার খেয়ে নিলা….???
-আরে তোর এত বুজতে হবে না তুই খা..?
.
তারপর ওর খাওয়া শেষ হলো।নিলিমাকে নিয়ে বাসায় চলে আসলাম।আর শুয়ে শুয়ে ভাবতে লাগলাম।কি কপাল মাইরি।একবারে অস্থির একটা টাইমিং মিলছে।মিম এবার বুজুক প্রিয় মানুষটাকে অন্যকারো সাথে দেখলে কত কষ্ট হয়। আমার অনেক কষ্ট হতো।
.
পরেরদিন নিলিমা আবার বায়না ধরল ওরে নিয়ে আজকেও ঘুরতে যেতে হবে।তারপর ঘুরাঘুরি করতেছি এমন আমার চোখে একটা পোকা পড়ল।আমি বললাম….
-দেখ তো নিলিমা চোখে কি জানি পরছে???
-নিলিমা আমার চোখটা কাছে নিয়ে একটা ফু দিল??
.

আর এটা মিম দেখছে কাছে এসে…
-ঠাস ঠাস করে নিলিমাকে চড় মারল।আর বলতে লাগল…অন্যর বি এফ এর সাথে ঘুরতে লজ্জা লাগে না।লজ্জা সরম কিছু নাই।ছেলে দেখলেই গায়ে হাত দিতে মন চায়???
-কথাগুলো শুনে নিমিলা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল।
.
তখন আমি ঠাস ঠাস করে দুইটা চর মারলাম মিমকে।আর বলতে লাগলাম………
-কি ভেবেছিস নিজেরে???আর শুন ও আমার জি এফ। ওর ঠিকই লজ্জা আছে তর লজ্জা নাই। আর শোন আমি তোকে ভালোবাসি না। বাই ভালো থাক(তুই করে বললাম)
-মিম কথাগুলো শুনে কান্না করতে করতে বাসায় চলে গেল…
.
আর নিলিমা আমাকে বলতে লাগল…….
-ভাই এটাই কি তোমার মিম???মেয়েটা এখন সত্যি তোমাকে অনেক ভালোবাসে।ওরে আর কষ্ট দিও না।এখন মেনে নাও.।
-সরিরে?আমার জন্য চর খাইলি??
-আরে না ভাইয়া প্রবলেম নাই??তুমি ওরে মেনে নিও মেয়েটা অনেক ভালো।
-হুহ।
.
তারপরে ওকে নিয়ে বাসায়,আসলাম।ভাবছি মিমকে আর কষ্ট দেওয়া যাবে না।চরটা না মারলেও পারতাম। নিজের ও অনেক কষ্ট হয়তেছে। কালকেই ওরেই মেনে নিব।রাতের বেলায় ছাদে বসে আছি তখন একটা নাম্বারে অচেনা নাম্বারে কল আসল……..
-হ্যালো বাবা আলভী তুমি তারাতারি হসপিটালে চলে আস???
-আপনি কে??আর আমি হসপিটালে আসব কেন???
-বাবা মিম সুইসাইড করতে গেছিলো।এখন হাসপাতালে ভর্তি।
.
এ কথা শুনার পর পায়ের নিজ থেকে মাটি সরে গেছে।আমি তারাতারি হাসপাতালে গেলাম।ভাবতে লাগলাম মিমের যদি কিছু হয়ে যায়। তাহলে আমি নিজেকে শেষ করে দিব।কতক্ষন পর ডাক্তার বের হলো……
-ডাক্তার মিম বাচবে তো???(কান্না করে)
-আল্লাহ রহমনে এখন তিনি বিপদ মুক্ত। একটু পরে জ্ঞান ফিরলে দেখা করতে পারবেন..।
.
ডাক্তার চলে গেল। আমি সেখানে বসে রইলাম।চারঘন্টা পর মিমের জ্ঞান ফিরল।সবাই একে একে ভিতরে দেখা করতে গেছে। আমি সবার লাস্টে গেছি।আমাকে দেখে সবাই বের হয়ে গেল।মিমের পাশে বসতেই অভিমানে মুখটা অন্যদিকে ফিরিয়ে নিল।তখন আমি বলতে লাগলাম…
-কিহলো মরতে গেছিলা কেনো???
-নিশ্চুপ…
-কি বলতাছি আমি???
-তুৃমি অন্যকারো হবা এটা আমি মেনে নিতে পারব না।তাই মরে যাওয়াটা ভালো।
-আমি তো তোমারই আছি??
-তাহলে ওই মেয়েটা কে???
-ওটা আমার মামাতো বোন ছিল।
-তাহলে তুমি বললা কেন তোমার জি এফ??
-তোমাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য বলছিলাম….
-বাবু আমার না মিস্টি খাইতে ইচ্ছা করতেছে….
-আচ্ছা দাড়াও মিষ্টি নিয়ে আসি..?
-না তোমার কাছে যেই মিষ্টি আছে ওইটা??
-আমার কাছে আবার কিসের মিষ্টি???
-মাথাটা নিছে নামাও???
-নিছে নামাতেই চারটা ঠোঠ এক করে দিল
.
হঠাৎ মিমের মা বাবা কেবিনে ডুকল।দেখল মিম আমাকে কিছ দিতাছে। তখন ওনারা বলল…
-আরে বিয়ের পরে ওসব করিস???
-মিম লজ্জা পেয়ে বলল তোমরা যাও এখন?
-ওনারা চলে গেলেন
.
মিম আবার আমাকে জড়িয়ে ধরে বলল….
-কখনো ছেড়ে যাবা নাতো??
-জীবন থাকতে নাহ…
.
তারপর আমি চারটা ঠৌঠ এক করে দিলাম।যান মিয়ারা গল্প তো শেষ। এখন কিছ করতে তো দিবেন নাকি????😊😊😊

The End

Comment plz

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *