সিনিয়র আপু যখন গার্লফ্রেন্ড _ রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প

সিনিয়র আপু যখন গার্লফ্রেন্ড 

,
ঠাস.(জিনিয়া)
-থ্যাংকস(আমি)
-দূর হও এখান থেকে
-চড়টা না মারলেও পারতে.
আমি শুধু আমার ইচ্ছাটা প্রকাশ করছি.
তোমার মতামত কিন্তু জিজ্ঞেস করিনি|
-তুই যাবি?
-যাচ্ছি তো আজিব!
-ঐ আমি আজিব না??
আমি আজিব?
-সেটা আমি কেমনে বলব?? আজিব!
-আবার??
একটা মেয়েকে এসে জিজ্ঞেস কর তোমার সাথে পাবলিক টয়লেটে যাবে কিনা আর আমাকে বলছ আজিব?
-আরে আমি তো তোমাকে বলছি আমার কাছে ব্যাগ আছে আর পাবলিক টয়লেটে ব্যাগ রাখার জায়গা নেই.
তাই তুমি ব্যাগ নিয়ে দাড়িয়ে থাকবে আর আমি
-হইসে-হইসে আশেপাশে ছেলে ছিল না?
-ছিল বাট মেয়েদের হাতে ব্যাগ ধরিয়ে টয়লেটে যাবার মজাই আলাদা|
এতে অনেক সময় মেয়েরা তাদের নাম্বার মাঝে-মাঝে আমার ব্যাগের ভিতর রেখে দেয়|
-তারমানে আমার নাম্বার নেয়ার জন্য এতো কিছু?
-হুহ!গত তিনমাস ধরে তোমার নামটা জানছি|
এবার নাম্বারটা দিলে ধন্য হতাম|
-ঠাস
-আজিব!!! হইসে অন্য মাইয়ারে ট্রাই মারি
-এই শোন
-আপাদত বয়রা হয়ে গেছি কান ঠিক হলে শুনব|||
চলে আসলাম জিনিয়ার সামনে থেকে|
কপাল আমার! গত তিনমাস যাবত মেয়েটার পিছনে দিনরাত ঘুরছি|
ওহ সরি! শুধু দিন ঘুরছি| রাতে তো ঘুমাই|
কিন্তু আজ পর্যন্ত খালি নামটা জানতে পারছি|
হেতের বান্ধুবীগুলাও একেকটা হিটলার|
এইতো সেদিন ওর একটা বান্ধুবী নিশিকে ডাক দিলাম-
-নিশি ও নিশি (আমি)
-জ্বি ভাইয়া বলেন…(নিশি)
-আহ!
-কি হলো?
-আমার মতো হ্যান্ডসামকে ভাইয়া বললে জানু বলবা কারে??
-ওহ তাই বুঝি??
-হ্যা গো| তুমি কত্ত কিউট| কি চোখ তোমার কি ঠোট কি গাল| সবগুলাই ফাস্টক্লাস টাইপ|
-রিয়েলি?
-হ্যা গো রিয়েলি| আচ্ছা জিনিয়ার নাম্বারটা দাওনা|| -আমারটা দেই?
-তোমারটা নিয়ে কি খাটাই খাব?
-জিনিয়ারটা পাবেন না| আমারটা লাগলে দিতে পারি|
তোমারটা যেদিন লঅগবে সেদিন থেকে আর ফোন চালাব না|
-মানে কি?
-মানে হলো তুমি হিংসুটে| তোমার মুখ,ঠোট,চোখ,নাক
সব থার্ডক্লাস|
-হাউ ডেয়ার ইউ টু সে দেট?
-আই ডেয়ার টু সে দেট ইউ কালি,মুটি,হিংসু
টে,ফহিন্নি.
আর মনে নাই পরে বলবে নে
-আপনার সাথে বলাই ভুল হইসে|
-তাই তো ভুলের পরিনাম ভোগ করতেছ|
-ই
-দাত ভেঙ্গে যাবে তো|
-ওফ!পেইন!
-সেইম টু ইউ
অতঃপর নিশি চলে গেছিল|
সবগুলো বান্ধুবিগুলো একরকম|
জান দিয়ে দিবে কিন্তু নাম্বার দিবে না|আমিও হাল ছাড়ার পাত্র নই|
প্রতিদিন উদ্ভট কাজ করি জিনিয়ার সামনে|
জিনিয়া এতে বিরক্ত হয় না মজা পায় তা আমি জানি না তবে আমি এসব করতে-করতে বিরক্ত হয়ে যাচ্ছি জিনিয়ার হাতে দুইটা চড় খাইছি|
কই আমার রুমে এসে বালিশ ভেজানোর কথা|
কিন্তু আমি দুইটা চড় এন্টারটেইনমেন্ট লাগতাছে|
আমি দুই গালে হাত দিয়া বাসায় যেতে লাগলাম|
হঠাৎ সামনে সায়েমের সাথে দেখা|
সায়েম আমার হেব্বি ভালেঅ কুতু-কুতু দোচ|
-কিরে গালে হাত কেন?(সায়েম)
-আরে এমনি|(আমি)
-কেউ চড় দিছে নি?? হাহা…
-আরে না| অন্য ঘটনা|
-তাহলে নির্ঘাত কেউ জুতা দিয়া মারছে|
-আরে গাধা প্রিতু দুই গালে দুইটা পাপ্পি দিছে|(বাই দ্যা ওয়ে প্রিতু সয়েমের জিএফ)
-কি প্রিতু??আজকা তো এই মাইয়ারে খাইছি|
-কই খাবি? আমার বাসা খালি আছে| আসতে পারিস|
-কুত্তা জানি কোনহানকার| গেলি এখার থেকে?
-আরে যাচ্ছি তো আজিব!
-তুই আজিব| তোর শশ্বুড় আজিব
-আমার শশ্বুড় আজিব সেটা জানি(হুহ-হুহ আমি তো এহনো বিয়াই করি নাই)
বাট আমি-আমি আজিব কেমনে?(হুহ-হুহ আমি তো এহনো বিয়াই করি নাই)
-তুই যাবি? না জুতা হাতে নিমু?
-হাতে নে| এতে আমার যেতে হবে কেন? ছেড়া জুতা নাকি যে আমি দেখলে লজ্জা পাবি?
-ওহহহ গড! দোচ তুই যা তো আমি প্রিতুরে দেইখা আসি|
-ছবি তুইলা নিয়া আসিছ|
-বাপের জন্মে না|
-মায়ের জন্মে আনিস| বাই|
-ওহ মেন্টালটা গেছে!
বাসায় এসেই ঘুম দিলাম| আমি উড়ছি|
আমার গায়ে প্যারাসুট বাধা|
পাশে একটা মেয়েও আছে|
মেয়েটার গায়েও প্যারাসুট|
দুজনদুজনের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি|
হঠাৎ মেয়েটার কানা হয়ে গেল|
নির্ঘাত ইদুরে কাটছে|
আমি মেয়েটাকে বাচাতে গিয়ে মেয়েটাকে জড়িয়ে ধরেছি|
-এই সাইফুল(মা)
ওফফফ! দিল আমার স্বপ্নটার বারোটা বাজিয়ে| মাত্র জড়িয়ে ধরেছিলাম| দুর!
ভাললাগেনা| হাতমুখ ধুয়ে হাল্কা নাস্তা করে ল্যাপটপ নিয়ে বসলাম| মাথায় দুষ্টুবুদ্ধি আসল|
জিনিয়াকে ফেসবুক থেকে ব্লক করে দিলাম| এবার স্টাটাস মারলাম “দুানয়ায় কত লোকের গার্লফ্রেন্ড মরতেছে আমারটা মরে না কেন?? মরলে একটু শান্তি পাইতাম”
স্টাটাস মারার দশমিনিটের মধ্যে একটি মেয়ে আইডি থেকে কমেন্ট-
-তোর গার্লফ্রেন্ড আছে?? চিট,সিটার,পাগল ব্লা-ব্লা-ব্লা”|
.
আমি একটা মেয়ের মুখে আমার বিষয়ে এত্ত ভাল-ভাল গালি শুনে হতবাক|
আমিও রিপ্লাই দিলাম
. -আপু যাস্ট চিল|(আমি)
-ঐ আমি তোর আপু?(মেয়েটা)
-আরে না তো| সিস্টার|
-কালকে আয় স্কুলে| তোর শ্রাদ্ধ করব|
-বেচে আছি তো আমি|
-মেরেই করব|
. রিপ্লাইগুলো ট্রল হয়ে গেছে|
বুঝতে পারতেছি না কে মেয়েটা|
আমি তো স্কুলে যাইতে ভয় পাইতেছি|
কি জানি হয়!
আজ স্কুল গেট দিয়ে ঢুকতউ হাত পা কাপছে|
কিন্তু সবকিছুই কেমন জানি স্বাভাবিক লাগতেছে|
সাইফুলকে মারবে অথচ কোন প্রস্তুতি নাই| আজিব লাগতেছে|
এই মারল বলে ফিলংস হচ্ছে|
হঠাৎ গেটের কাছে কি যেন ফাটল|
চোখ বন্ধ করে এক দৌড়ে ক্লাসে”
সাইফুল কেমনে বাচবি ভাপ বাপ!”
ক্লাসে ঠুকেই মাথা নিচু করে বসে আছি| যেন কেউ দেখতে না পায়|
হঠাৎ মনে হলো কেউ কলার ধরে টানছে|
খাইছেরে! সাইফুল তুই শেষ| ভয়ে-ভয়ে মাথাটা উপরে তুললঅম| এমা! এ তো জিনিয়া| জিানয়ার এত্ত বড় সাহস আমার কলার ধরছে|
ঐ সাইফুলের কলার ধরা মানে ৪৪০ ভোল্টের ঝটকা লাগা|(আমি)
-কপি ডায়লগ|(জিনিয়া)
-তো নতুন কইত্তে বানামু|
-জানিনা| ঐ তোর জিএফ কবে হইছে??
-তুই? আবার জিএফ?
-তোর মত লুচুকে তুই ছাড়া কি বলব?
-এ!আম
ি লুচু?
-খালি লুচু না| বৃহৎ লুচু|
-ঐ মুখ সামুলয়ে কথা বল বলতেছি|
-কি করবি শুনি? কি করবি?
-এই যে এভাবে জড়িয়ে ধরব|
জিনিয়াকে জড়িয়ে ধরলাম| জিনিয়া বুকের মাঝে কিল ঘুষি দিতে লাগল|
আমরা যে ক্লাসে ছিলাম সেটা মনেই নাই| জিনিয়াকে ছেড়ে দেখি সবাই আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে|
. -এ সবাই ১০ টাকা করে দে|(আমি)
-কেন?(সবাই)
-ঐ যে লাইভ সিনেমা দেখলি| টাকা দিবি না?
. এটা বলতেই জিনিয়া লজ্জা পেয়ে বেরিয়ে গেল| কি আর করা আমিও পিছন-পিছন দৌড় দিলাম| জিনিয়া পাঠাগারে গিয়ে বসল| আমিও বসলাম|
-কি মেডাম এমনিতে তো খুব ভাব নাও যে আমাকে লাভ কর না| তো কাল ফেসবুক চেক করলা যে?(আমি)
-আমি অলটাইমই করি| না মানে.(জিনিয়া)
-হইছে বুঝছি| সামথিং-সামথিং
-নাথিং-নাথিং|
-সত্যি?
-ওকে তাহলে আর কি করা| ঐ যে একটা কিউট মাইয়া যাচ্ছে| ট্রাই মেরে দেখি|
-ঐ এখান থেকে উঠলে তোর শ্রাদ্ধ করব|
-আরে তুমি তো প্রেম করবা না| তো অন্যজনের সাথে করতে গেলে কাটি করছ কেন|
-চুপ করে বসে থাকতে বলছি|
বসে থাক|
-এ! আমার মত বাচ্চাকে এভাবে কেউ ধমকায়!
-তুমি বাচ্চা??? হা ,হা, হা.জোক অফ দ্যা ইয়ার|
-জোকের কি আছে! মা বলে আমি যতই বড় হই তার কাছে বাচ্চা থাকব|
-আমি তোমার মা না|
-তো কে তুমি?
-তোমার জিএফ| না মানে
-যা বুঝার বুঝে নিয়েছি| চল ডেটিং এ যাব|
-ঐ প্রোপজ করছ??
-আমি কেন করব?
-কেন তুমি লাভ করনা? তুমিই করবা|
-করব না| করব না| করব না|
-ঠাস
প্রোপজ কর|
-আরে এমন চড় মারলে রাস্তার পাগলও তোমাকে প্রোপজ করবে|
-তাইনা? তারাতারি কর| . হাটু গেরে বসলাম| দুর হাটুতে ব্যাথা পাচ্ছি| একেবারে মাটিতে বসে পড়লাম| জিনিয়া হা করে তাকিয়ে আছে| জিনিয়ার হাতটা ধরলাম| এবার-
. -এই শুরছ…বউ হবা আমার? আমার কাপড় ধোয়ার দায়িত্ব নিবা? আমার রান্না করার দায়িত্ব নিবা? আরও কিছু দায়িত্ব আছে| এখন মনে নাই পরে বলব|
এসব দায়িত্ব নিবা?
-এটা প্রোপজ?
-এর থেকে ভালো পারিনা| প্রেম করলে কর না করলে গেলাম|
-আরে না-না| বউ হবো তো তোমার| তোমার সব দায়িত্ব নিব|
-সত্যি?
-তিন সত্যি|
-আচ্ছা কিছু অর্ডার দেও|
-তুমি দাও|
. বহুত কিছু অর্ডার করলাম| ওয়েটার সব দিতেই সনে পড়র হাত ধুতে হবে| বেসিনে গিয়ে হাত ধুয়ে আসলাম| টেবিলে এসে দেখি খাবার অর্ধেক শেষ| এটা জিনিয়া তো! না রাক্ষস!
. -এই আমি কি খাব?(আমি)
-কেন আছেতো| সেগুলো খাও|(জিনিয়া)
-কদিন যাবত খাও না?
-গত রাত থেকে|
-বুঝছি| আচ্ছা আমাকে খাইয়ে দাও না|
-এই এত হইছে?
-আচ্ছা দিচ্ছি|
. জিনিয়া নিজ হাতে খাইয়ে দিচ্ছে| আমি খাচ্ছি| সত্যই মেয়েটাকে আমি নিজের করে পেয়েছি| ভালবাসি জিনিয়া তোকে| এসব ভাবতে ভাতে খাবার শেষ| বিল আসল|
. -ওহ শিট! আমার জরুরি কাজ আছে| যেতে হবে| জিনিয়া তুমি বিলটা দিয়ে দিও|(আমি)
-হইছে কোন জরুরি কাজ নাই বুঝছি|
কসেন বিল আমিই দিচ্ছি|(জিনিয়া)
-থ্যাংক ইউ| -আচ্ছা নিজের জিএফকে দিয়ে বিল দিলা লজ্জা করে না?
-কনে করব? তোমার কাছ থেকে-থেকে ধার নিছি বুঝছ? চাকরি পেলে দিয়ে দিব|
-হিইছে দিতে হবে না| আমাকে শুধু নিজের বউ করে নিও| এমনিতেই শোধ করে নিব|
-নিব-নিব| তার মানে এখন থেকে সব বিল তুমি দিবা| কত্ত মজা!
-কি? তোমার খবর আছে
-আচ্ছা বাদ দাও বাদামের বিলটা আমি দিব নে|
-হইছে সাহেব একটাও দিতে হবে না| বানর একটা|
-হেহে! বানরের বউ বানরনি|
-হুম হতেই তো হবের|
-লাভ ইউ| একটা কিসি দাও না?
-ঐ এটা কি?
-হাত
-এটা দিয়ে চাপার দাত সব ফেলে দিব|
-থাক-থাক| আমার কিসি চাইনা| দাত চাই|
-গুড বয়|
. এভাবেই আমাদের খুনশুটি চলতে থাকবে| যতদিন বেচে আছি ততদিন।
( কেমন হল জানাতে ভুলবেন না। আর ভালো লাগলে এড হতে পারেন)

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *