সিনিয়র বউ ৬ষ্ট পর্ব । সিনিয়র বউয়ের ভালোবাসা

সিনিয়র বউ
,
Sûmøñ Ãl Farabi
,
ঐ ছেলেটাকে দিয়ে রুহীর সম্পর্কে আমার সব কিছু জানতে হবে,,,
তাই জন্য ছেলেটাকে ডাকলাম ,,,

“”” আমায় ডাকলেন স্যার ??
“” তোমার নামটা যেন কি??
“” নয়ন,,,
“” ওহহ ,, নয়ন আমার যে পিএ আছে রুহী,,,
“”” হ্যা স্যার ,,
“”” ওনার ব্যাপারে সব খোঁজ খবর আমায় দিতে পারবে ,,,
“”” বুঝলাম না স্যার ,,
“”” মানে উনি কোথায় থাকে,,, কখন কি করে ,, বাসায় কে কে আছে ,, বিয়ে করছে কি না এসব আরকি,,,
“”” রুহী ম্যাডাম দেখতে অনেক সুন্দরী তাই না স্যার ,,
“”” বেশি কথা না বলে যেটা করতে বললাম সেটা করতে পারবে কি না সেটা বলো,,,
“”” অবশ্যই স্যার,,, কালকেই আপনাকে সব তথ্য জানাবো,,,

আরও কিছু বলবো এমন সময় আংকেল ফোন দিলো,,

“”” নয়ন তুমি যাও খোঁজ নাও,, আমি পরে তোমার সাথে কথা বলবো ,,,


“”” হ্যাঁ আংকেল বলেন ,,,
“”” তুমি নাকি আজকেই অফিসে জয়েন করছো,,,
“”” হুম ,,,
আপনাকে আমার কি যে করতে ইচ্ছে করছে ,,,
“”” কেন বাবা,, অফিস পছন্দ হয় নি ,,,
“”” পছন্দ হয় নি মানে ,, আমার মনে হচ্ছে অনেক আগেই এই অফিস টা করা উচিত ছিলো ,,,
“”” কেন?? কি এমন পেলে অফিসে ,,,
“” রুহীকে,,,
“”” কি?? সত্যি?? তাহলে আমি কালকেই গিয়ে আমার বউমাকে দেখে আসবো,,
“”” না না,, এখন আসার দরকার নেই ,, একটু সমস্যা আছে তো,, সল্ভ হয়ে গেলে আমি নিজেই ডাকবো,,,
“”” আচ্ছা ,, দেখো এবার যেন আর হারিয়ে না যায়,,,
“”” আর সুযোগ দিবো না ,,,,
“”” বায়,,,


কেবিনে বসে আছি,, কিন্তু কাজে কিছুতেই মন দিতে পারছি না ,, বার বার মনটা রুহীর কাছেই চলে যাচ্ছে ,,,
এতো ভাবলে চলবে না ,, উঠে রুহীর কেবিনে গেলাম,,,

“”” আসতে পারি??
( রুহীর হাতে কিছু একটা ছিলো যেটা ও খুব মনযোগ দিয়ে দেখছে ,,, আমার কন্ঠ শুনে লুকিয়ে নিলো,,, )
“”” স্যার আপনি কেন কষ্ট করে আমার কেবিনে আসতে গেলেন আমায় ডাকলে আমি চলে আসতাম ,,,
“”” ইটস ওকে ,, মিস রুহী আপনি কি আমায় পুরো অফিস টা ঘুরে দেখাতে পারবেন ,,
“”” অবশ্যই ,,, আসেেন,,,


রুহী সামনে সামনে যাচ্ছে আর আমি পিছনে পিছনে ,,,
হঠাৎ পিয়ন এসে একটা কাগজ আমার হাতে দিলো,,

“” কি এটা ,,
“”” জানি না স্যার ,,,
“”” মিস রুহী দেখেন তো কি লিখা আছে ,,,
রুহী কাগজ টা খুললো,,,
Sir please কিছু মনে করবেন না ,, আপনি দেখতে অনেক Sweet and Hot, আর অনেক Handsome ,,,
লেখাটা দেখে অনেক রাগ উঠলেও পরে রুহীর দিকে তাকিয়ে নিজেকে কন্ট্রোল করলাম ,, নয়তো প্রথম দিনেই এটা যে দিছে তার চাকরি দফারফা হয়ে যেত,,,
রুহীর মনে হচ্ছে শরীরে কেউ আগুন লাগিয়ে দিছে ,,, রুহী পিয়ন কে বললো
“”” কে দিছে এটা ,,,
“”” আমি জানি না ম্যাম।।
“”” মিস রুহী কন্ট্রোল ,,, এই যে তুমি,, বলো কে দিছে ,, আমি কিছু বলবো না ,,
“”” রিয়া ম্যাডাম ,,,
“”” আচ্ছা তুমি যাও,, মিস রুহী চলেন তো রিয়ার কেবিনে যাই,,, I mean মিস রিয়া,,, ,,,

শুধু রিয়া বলাতে আমার দিকে যেভাবে তাকলো,,, এর মানে হচ্ছে এখনো ফিলিংস আছে ,,, তবুও অপরিচিতদের মতো আচরণ করছে ,,,


“”” মিস রিয়া আসবো,,,
“”” স্যার আপনি আসতে গেলেন কেন,, আমায় ডাকলে ,,,
( আমার হাতে কাগজ টা দেখে রিয়া চুপ হয়ে গেল ,,, )
“”” এটা অফিস,, কে হট কে কুল সেটা বিচার করার জায়গা নয়,,, ( রুহী)
“”” সরি স্যার ,,,
“”” ইটস ওকে ,, কাজের ফাঁকে মজা করারও দরকার আছে , আমি কিছু মনে করি নি,, তবে একটু
“”” স্যার চলেন,, আপনাকে একটা ফাইল দেখনোর আছে,,,
( রুহী এক প্রকার জোর করেই নিয়ে আসলো,, ) ।

সেদিন টা এভাবেই কেটে গেল ,,,
পরের দিন সকাল বেলা অফিসে গেলাম ,,,

রুহীকে রুমে ডাকলাম ,,

“”” স্যার আসবো ,,,
“”” হুম ,,,
“”” কিছু বলবেন স্যার ,,
“”” আজ দুপুরে আমার সাথে,,,
“”” সরি স্যার ,,
“”” প্লিজ ,,
“”” আপনার আর কোনো কথা থাকলে বলুন ,,
“”” শুধু এটাই বলার ছিলো ,,
“”” তাহলে আমি আসছি,,

রুহী চলে যাচ্ছে ,,
এমন সময় আমি ওর হাতটা ধরলাম

“”” কি করছেন ,, হাত ছাড়ুন ,,
“”” এমন করছো কেন তুমি আমার সাথে,,
“”” আপনি হাত ছাড়ুন,,, কেউ দেখে ফেলবে ,,,
( রুহী হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে চলে গেলো,, )
“”” রুহী প্লিজ ,, রুহী,,,

রুহী পিছনে ফিরেও তাকালো না,,,

বসে বসে অফিসের ফাইলগুলো দেখছি,,,

“”” স্যার আসবো,,,
“”” নয়ন তুমি ? আসো,,, কিছু জানতে পারলে,,
“”” কিছু কেন স্যার সব কিছুই জেনেছি ,,,
“”” তাই,,
“”” উনি এখানে একটা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকে,,
“”” বাসায় কে কে থাকে,,,
“”” উনি ওনার মেয়ে আর একটা কাজের মেয়ে ,,,
“”” স্বামী ???
“”” স্বামী নেই স্যার ,, শুধু ঐ তিন থেকে চার বছরের বাচ্চা টা,,,
“”” আচ্ছা তুমি কাজে যাও,,,


আজ অনেক খুশি লাগছে ,,
আমার একটা মেয়ে হয়েছে ,,
রুহী এর পর আর কোনো বিয়ে করে নি,,
ও এখনো আমায় ভালোবাসে,,,
ওর ভালোবাসার কথা আমি ওর মুখ দিয়ে বলাবো,,,,

নয়ন কে ডাকলাম ,,

“”” স্যার ডাকছেন ,,,
“”” নয়ন এতো বড় একটা রুমে আমি সারাদিন একাই বসে কাজ করি কেমন জানি বোরিং লাগে কথা বলারও কেউ নেই ,,,
“”” তো স্যার এখন কি করবো,,
“”” মিস রুহীর কেবিনের সব জিনিস এই রুমেই নিয়ে আসেন,,, যেহেতু উনি আমার পিএ,, সব সময় সাথে থাকলে আমারও সময় ভালো কাটবে ,,,
“”” জ্বি স্যার ,,
“”” মিস রুহী কে বলে দেন আজ ওনার ছুটি,, কাল থেকে এখানে ওনার সব কিছু হবে ,,,
“”” আচ্ছা স্যার ,,,

এবার কই পালাবে ,,
যতক্ষণ অফিসে থাকবে আমার চোখের সামনে ,,,,

[ads1],
পরের দিন একটু সকাল সকাল অফিসে গেলাম ,,, এসে দেখি রুহী এখনো আসে নি ,, যাই হোক ভালোই হয়েছে ,,,
রুহীর ডেস্ক টা এমন জায়গায় আমি চোখ তুললেই ওকে দেখতে পারবো,, আর ও চোখ তুললে আমায় দেখতে পারবে ,,,

“”” আসবো স্যার ,,,,
“”” আরে মিস রুহী ,, আসুন আসুন ,, এখন থেকে আসার সময় আর পারমিশন নিতে হবে না ,,,
“”” এসবের মানে কি স্যার ,,,
“”” কোন সবের,,,
“”” আমার ডেস্ক এখানে নিয়ে আসার,,,
“”” ওহহ,,, আপনি তো আমার PA,, মানে Personal Assistant ,,, am i right ??
“”” হুম ,,,
“” Personal Assistant দূরে দূরে থাকলে ভালো দেখায় ,, তাই ,,,
“” যত্তসব ,,,

রুহী রাগ করে ওর ডেস্কে গিয়ে বসলো,,,
রুহী রাগলে এখনো ওকে পরীর মতো লাগে,, আর ওর রাগটাও ঠিক আগের মতোই আছে ,,,


এটা মেয়ে নাকি রোবট ??
ঐ যে মাথা নিচে করে ফাইল দেখা শুরু করছে একবার ও মাথা তুললো না,, ,,
আমি তখন থেকে ওর দিকে তাকিয়ে আছি আথচ ও আমার দিকে তাকাচ্ছেই না,,,
শুধু একবার মাথা তুললো ,,
চোখাচোখি হতেই আবার চোখ নামিয়ে নিলো , ,


“”” আসবো স্যার ,,
“”” আরে মিস রিয়া ,,,
“”” আসবো কি,,
“”” আসেন,,,
“”” কেমন আছেন স্যার ,,,
“”” ভালো,, আপনি ,,,
“”” আমিও,,
“”” কোনো দরকার ??
“”” না স্যার ,, আসলাম একটু আপনার সাথে সাথে কথা বলতে ,,,
“”” তাই,,, চলেন বাইরে থেকে ঘুরে আসি,,,
(আমার কথা শুনে রুহী আমার দিকে তাকালো,, আমি যদিও বা রিয়ার সাথে কথা বলছি কিন্তু আড় চোখে বার বার রুহীর দিকে তাকাচ্ছি ,, রুহীর মুখে কেমন জানি বিরক্তির ছাপ,, )
“”” কোথায় যাবেন স্যার ,,,
“”” পাশেই কোনো রেস্টুরেন্টে ,,,
“” চলেন সমুদ্র পারে যাই,,,
“” আজ না অন্য আর একদিন যাবো,,,
“”” ঠিক আছে ,,,

“”” মিস রুহী আমরা একটু বাইরে যাচ্ছি ,,, আপনি এদিক টা দেখিয়েন,,,

রুহী রাগে গজগজ করছে ,,,
আমার দিকে তাকিয়ে আছে মনে হচ্ছে চোখ দিয়ে আগুন বের হচ্ছে ,,,
আরে বাবা এতোই যদি জ্বলছে তাহলে এতো অভিনয় করার দরকার কি,,,,


“”” স্যার,,,
“”” কিছু বলবেন মিস রুহী ,,,
“”” আজ আমার মেয়ে একটু অসুস্থ ,, আমায় একটু তাড়াতাড়ি বাসায় যেতে হবে ,,,
( কলিজা টা কেঁপে উঠল ,,, আমার মেয়ে অসুস্থ ,,, )
“”” আমার মেয়ে অসুস্থ ,, Sorry ,, আপনার মেয়ে অসুস্থ আর আপনি অফিসে,,, মাথা ঠিক আছে আপনার ,, যদি কিছু হয়ে যায় তবে আপনার,,,,
“”” স্যার মেয়ে টা আমার,, আপনি এতো রিয়েক্ট করছেন কেন ,,,,
( রিয়া আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে ,,, )
“”” মিস রিয়া আপনি একটু আপনার ডেক্সে যান,,,
রিয়া চলে গেল ,,, আমি দরজা লক করলাম ,,,
রুহীর সামনে গেলাম,,,
রুহী শুধু আমার দিকে তাকিয়ে আছে ,,,

“”” সমস্যা কি তোমার,,,
“”” আমার তো কোনো সমস্যা নেই ,,,
“”” আমার মেয়ে অসুস্থ আর তুমি,, আমায় একবার জানাতে ,,,,
“”” দেখুন এটা অফিস ,, অফিসের নিয়ম আমায় মানতে হবে ,, আর আপনি আমার বস,,,, এটাও আপনাকে মনে রাখতে হবে ,, সো এমন কিছু করবেন না যাতে আমাদের নিয়ে সবাই হাসাহাসি করে,,,
“”” মানুষ কি বলে না কি করে সেটা আমার দেখার দরকার নেই ,,, আর আমার মেয়ের থেকে অফিস বড় হলো তোমার কাছে ,,
“”” অফিস আমায় মাইনে দেয় তাই এটার নিয়ম আমায় মানতে হবে ,,, আর বার বার আমার মেয়ে আমার মেয়ে করছেন কেন ,,,
“”” কেন?? আমি কি অধিকার রাখি না,,,
“”” না রাখেন না,,,
আমার হাতটা ছাড়ুন,,
( কখন যেন আবার ওর হাতটিও ধরছি,, )
“”” ওহহ,,, আচ্ছা আপনি এখনি চলে যান,,, আপনার মেয়ে কেমন হলো জানাবেন ,,,
( চোখে পানি টলমল করছে ,,,, এই পড়লো বোধহয় ,,, )

রুহী ব্যাগটা নিয়ে হন হন করে বের হয়ে যাচ্ছে ,,,
“”” আপনি এখন বাইরে যান আর যেখানে যান তাতে আমার কি,,,


আমার মেয়ে অসুস্থ এটা ভাবতেই ভিতর থেকে কেঁপে উঠছে,,,
কিন্তু রুহী তো আমার সাথে এমন ব্যবহার করেই যাচ্ছে ,,
কি করবো?
কিছুই তো মাথায় আসছে না ,,,
এভাবে দূরে দূরে থাকা তো আর সহ্য করতে পারছি না ,,,
আচ্ছা ওরও কি এমন অনুভূতি হচ্ছে ,,
যদি এমন হয় তবে ও এমন করে কেন আমার সাথে ,,,
দূর কিছু মাথায় আসছে না ,,,

এ অসময়ে আবার কে ফোন দেয়,,,

“” হ্যাঁ আংকেল বলেন ,,,
“”” কি?? কেমন আছো ,,
“”” ভালো আপনি ,,
“”” ভালো,, বউ মা কেমন আছে ,,
“”” ভালো তবে মেয়ে নাকি অসুস্থ ,,,
“”” কি বলিস,,, তুই কোথায় এখন ,,,
“”” অফিসে ,,,
“”” অফিসে তুই কি করিস,,,
“”” তো কি করবো,,,
“”” হারামজাদা তোর মেয়ে অসুস্থ আর তুই অফিসে বসে আছিস ,,,
“”” কি করবো কিছুই বুঝতে পারছি না ,,,
“”” তাড়াতাড়ি যা গিয়ে দেখে আয়,,,
“”” এখনি যাচ্ছি ,,,

ফোনটা রেখে নয়নের থেকে ঠিকানা নিয়ে গেলাম ,,,
কলিং বেল তিন চার বার বাজালাম ,,,
পাঁচ বারের সময় একটা মেয়ে এসে দরজা খুললো,,, মেয়েটা কান্না করছে ,,,

“” এটা কি মিস রুহীর বাসা,,,
“”” হুম ,, কে আপনি ,,,
“”” তুমি কাঁদছো কেন,,, আর রুহী কোথায়,,,
“”” আফা মনির জ্বর অনেক বাড়ছে ,,, রুহী আফা ভিতরে,,,

দৌড়ে রুমে আসলাম ,,,
আমায় দেখে রুহী উঠে জড়িয়ে ধরলো ,,,

“” সুমন আমাদের মেয়ে ,, আমাদের মেয়ে ,,,
রুহী এতোটাই কান্না করছে যে এর বেশি আর কোনো কথা বলতে পারছে না ,,,
মেয়েকে তাড়াতাড়ি করে কোলে নিয়ে হাসপাতালে নিয়ে আসলাম ,,, ,,,
রাগটা এতো পরিমাণে হচ্ছে যে ইচ্ছে করছে রুহীকে সজোরে থাপ্পড় দেই,,,
তখন যদি আমার সাথে এমন না করতো তাহলে এখন আমার মেয়ে একটু হলেও সুস্থ হতো,,
কিন্তু ওর চোখের পানির কাছে বার বার হেরে যাচ্ছি ,,,
অনেক কান্না করছে ,,
ও এখনো আমায় জড়িয়ে ধরে আছে ,,,,
বাচ্চা মেয়েদের মতো ,,,
.
..

….

..
.
To be continue

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *