সিনিয়র বউ ৭ম পর্ব । সিনিয়র বউ এর অবহেলা

সিনিয়র বউ
.
৭ম পর্ব
,
রুহী খুব শক্ত করে আমায় জড়িয়ে ধরে আছে ,,, ওকে এতো করে বলছি যে কিছু হবে না,, ঠিক হয়ে যাবে কিন্তু ও কিছুতেই বুঝছে না,,,

“”” পেসেন্ট আপনাদের কে হয়??
“”” আমাদের মেয়ে,,,
“”” উনি কি আপনার wife ??
“”” হুম ,,,
“”” পেসেন্ট এর নাম ,,,
( আমি তো ওর নাম জানি না ,,, এবার রুহী আমার দিকে আর আমি রুহীর দিকে তাকিয়ে আছি ,,, )
“”” রোজা,,,,
“”” শুধুই রোজা,,,
“”” অধরা তাবাস্সুম রোজা,,,
“” বয়স??
“”” চার বছর এখনো হয় নি ,,, কিছু দিন বাকি আছে ,,,
“”” আচ্ছা ঠিক আছে ,,, Daughter of
“”” সুমন
“”” না,, রুহী,,,
“”” ঠিক করে বলেন কি দিবো,,, সুমন না কি রুহী??
“”” রুহী,,,,
“”” ঠিক তো,,,
“” হুম ,,,

নার্স চলে গেল ,,,
আমার মেয়ের নাম অধরা তাবাস্সুম রোজা,,, বাহ অনেক সুন্দর নাম তো,,,
আমি এমন এক অভাগা বাবা যে তার নিজের মেয়ের নামেই জানি না ,,,, এমনকি তার মেয়ের চিকিৎসা ও তার নিজের নামে হচ্ছে না ,, হচ্ছে তার মায়ের নামে,,,

রুহী ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে আসলো,,,

“”” আমার নামটা দিলে কি খুব সমস্যা হতো,,,
“”” হ্যা,,,
“”” কি সমস্যা ,,,
“”” অনেক সমস্যা ,,, আপনি আমার অনেক উপকার করেছেন ,,, এখন আসতে পারেন ,,,
“”” মানে ???
“”” আপনি এখানে বেশিক্ষণ থাকলে অনেকে অনেক কিছু ভাববে,,,
“”” কিন্তু আমি তো ওর বাবা,,,,
“”” প্লিজ এই অধিকার টা দেখতে আসবেন না ,,, ও জানে ওর বাবা নেই ,,, সো ওকে ওর মা নিয়ে বেঁচে থাকতে দেন,,,,
“”” কিন্তু ,,,
“”” আপনি প্লিজ চলে যান,,,
“”” আচ্ছা ,,, আমি বিলটা পে করে দিয়ে যাচ্ছি ,,,
“”” সেটার দরকার নেই ,, আমি দিয়ে দিবো,,,
“”” আমায় তুমি একবারেই সব থেকে বঞ্চিত করতে পারো না ,,,
“”” আপনি যদি এখনি এখান থেকে চলে না যান তাহলে আমি আমার মেয়ে কে নিয়ে এখান থেকে চলে যাবো,,,,
“”” না না,,, আমি যাচ্ছি ,,, আপনাকে অফিস থেকে এক সপ্তাহ ছুটি দেওয়া হলো,,,
“”” ধন্যবাদ ,, ওদিকে কোথায় যাচ্ছেন ,,,
“”” আমার মেয়ে কে দেখতে ,,,
“”” আপনি ওর কাছে যাবেন না ,,
“”” কি বলছো,,, আমি আমার মেয়ের কাছে যেতে পারবো না ,,,
“”” না,, পারবেন না ,, আর এতো আমার মেয়ে আমার মেয়ে করবেন না ,,, রোজা শুধু আমার মেয়ে,,,,
“”” শুধু কয়েকটি ছবি তলবো,,,
“”” না,,,
“”” আচ্ছা ছবি তুলবো না,, আমি শুধু এক নজর দেখে চলে যাবো,,,
“”” আপনি চলে যাবেন না কি না,,,,

রুহীর চোখ দিয়ে পানি ঝড়ছে,,,
লক্ষ করে দেখলাম আমার চোখ দিয়েও,,,
রুহী কেন আমার সাথে এমন করছে ,,,,
চলে আসার আগে শুধু রুহীকে একটা কথাই বললাম
“””আমার সাথে এমনটা না করলেও পারতে,,, একবার ভেবে দেখিও এই সেম কাজটা যদি আমি তোমার সাথে করতাম তাহলে তোমার কেমন লাগতো ,,,

আজ দোষ না করার পরও আমি অপরাধের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ,,, কি আজব নিয়ম,,,,
আমি কি এমন মহা পাপ করছি আল্লাহ যার শাস্তি তুমি এভাবে দিচ্ছো আমায়,,, নিজের মেয়ে কে একটা নজর দেখতে পারলাম না ,,,
চোখ ঝাপসা হয়ে গেছে ,,, গাড়ি চালাতেই পারছি না ,,,
চোখের পানি গুলো আজ এতো ঝড়ছে কেন,,,

নয়নকে ফোন করে বললাম আজ আর আমি অফিসে যাবো না,,,
এরপর ধীরে ধীরে গাড়ি চালিয়ে বাসায় আসলাম ,,,
ফ্রেশ হয়ে বসে আছি ,,, আম্মু ফোন দিছে ,,,

“”” বাবা কেমন আছিস ,,,
“”” হ্যা আম্মু ভালো,, তুমি ,,,
“” আমিও,,, রুহী কেমন আছে ,,,
“”” রুহী ভালো আছে তবে রোজা অসুস্থ ,,,
“”” রোজা মানে ,,,
“”” তোমার নাতনি ,,,
“”” কি?? কি হয়েছে ,,,
“”” প্রচন্ড জ্বর ,, জ্বরের কারণে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে ,, হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে আসলাম ,,
“”” তুই কোথায় এখন ,,,
“”” বাসায়,,,
“” তুই কি মানুষ ,,, আমাদের বংশের একমাত্র আশা হাসপাতালে আর তুই বাসায় বসে আছিস ,,,
“”” তো আমি কি করবো,,
“” তোকে কিছু করতে হবে না ,, তুই শুধু টাকার পিছনে ছুটে চল,,,
“”” আম্মু বোঝার চেষ্টা করো,,,
“”” তোকে কিছু বোঝাতে হবে না ,, যদি আমার নাতনির কিছু হয়,, তবে তোকে ,,,
( ফোনটা আব্বু নিলো,,, )
“”” তুই এখনি হাসপাতালে গিয়ে রুহীর সাথে আমাদের কথা বলাই দে,,,


সবাই আমায় ভুল বুঝছে,,
কেউ ভাবছে না যে ও তো আমার মেয়ে ,,
ওর পাশে থাকতে না পেরে আমায় যে কতটা কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে সেটা কেউ বুঝছে না,,,
কষ্টে যে আমারও ভিতরটা পুড়ে যাচ্ছে ,,,, কেউ কি সেটা বুঝবে না ,,,
সবাই শুধু নিজের মতো করে আমায় ভুল বুঝে যাচ্ছে ,,,

হাসপাতালে গেলাম ,,,
রোজা যে রুমে আছে সোজা সেই রুমে গেলাম
রোজা ঘুমাচ্ছে ,,,
রুহী পাশেই বসে আছে ,,,

“”” তুমি ,, না মানে আপনি ?? আপনি আবার কেন আসছেন,,,
“”” আস্তে কথা বলো ওর ঘুম ভেঙে যাবে,,,
“”” আপনি আবার কেন আসছেন ,,,
“”” আব্বু তোমার সাথে কথা বলবে ,,,
( রুহী কিছু টা থমথমে হয়ে গেল ,,, )
আমি ফোনটা ওর দিকে এগিয়ে দিলাম,,,

“” আপনি একটু বাইরে যাবেন প্লিজ ,,,
আমি বাইরে আসলাম ,,,
প্রায় ২৫ মিনিট পর রুহী বাইরে আসলো,,,
তাদের মাঝে কি কথা হয়েছে তা ঠিক জানি না তবে রুহী অনেক কান্না করছে ,,,
ওর চোখ দিয়ে এখনো পানি ঝড়ছে ,,,
রুহী আমার হাতে ফোনটা দিয়ে
আমায় চলে যেতে বলে ও আবার রোজার কাছে গেল ,,,,
এবার আমি আর কিছু বললাম না,,
কারণ আমি জানি কিছু বলে কিছু হবে না ,,,
বাসায় আসলাম ,,,,
এখন রাত,,,
নয়নকে ফোন দিয়ে রুহীর নাম্বার টা নিলাম,,

“”” হ্যালো,,,
“”” কে??
“”” আমি ,,,
“”” ওহহহ,,
“”” রোজা এখন কেমন আছে,,
“”” ভালো,, আগের থেকে সুস্থ ,,,
“” দরকার হলে ফোন দিও,,,
“” হুম ,,,

ফোনটা কেটে দিয়ে গ্যালারি তে গেলাম রুহীর কয়েক টা পিক আছে,, সেগুলো দেখবো,,,
কিন্তু গ্যালারীতে ঢুকে আমি অবাক ,, ২০ থেকে ২৫ টা রোজার পিক,,,
কলিজাটা শান্ত হয়ে গেল পিক গুলো দেখে ,,,
.
[ads1]
,
রোজার পিক গুলো দেখে আবার রুহী কে ফোন দিলাম ,,

“”” আবার ফোন দিছেন কেন,,,,
“”” রোজার পিক গুলো দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ,,,
“”” হুম ,,, বাই,,,

রুহী ফোন কেটে দিলো ,,,
পরের দিন সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে রোজার শরীর কেমন আছে সেটা জানার জন্য আবার রুহীকে ফোন দিলাম ,,,

‘”” হ্যালো,,,
“”” রোজার শরীর কেমন আছে ,,,
“”” ভালো,,,, ডাক্তার বলেছে সন্ধ্যায় রিলিজ দিবে,,,
“”” ওহহ,,, সকাল থেকে কিছু খেয়েছ,,,
“”” না,,, একটু পরে খাবো,,,
“”” আমি কি খাবার নিয়ে আসবো,,,
“”” তার দরকার নেই ,,, আমি নিজেই কিনে নিতে পারবো,,,
“”” না মানে আমি হাসপাতালে যাচ্ছি তো,,, তাই ভাবলাম নিয়ে যাই,,,
“”” হাসপাতালে কেন আসছেন আপনি,,,
‘”””” রোজাকে দেখতে ,,,
“”” তার দরকার নেই ,,,
“”‘ মানে ???
“”” মানে আপনার আসার প্রয়োজন নেই ,,,
“”” কি বলো?? আমার মেয়ে হাসপাতালে আর আমি যাবো না ,,,
“”” দেখুন এতো মেয়ে মেয়ে করবেন না ,,, ও শুধু আমার মেয়ে ,,,
“”” দেখো তুমি কিন্তু বেশি,,,,,
“”” আর ফোন না দিলে খুশি হবো,,, বার বার ফোন করে এমন ন্যাকামি আমার ভালো লাগে না ,,,,

রুহী ফোন কেটে দিলো ,,,
পরে আবার ফোন দিলাম কিন্তু রিসিভ করলো না ,,
রুহীর নাম্বার থেকে একটা মেসেজ আসলো,,,
“! ভুল করেও হাসপাতালে আসবেন না ,, নয়তো ভালো হবে না ,,, আপনি অফিসে যান,,,


কি করবো ??
মাথায় কিছুই আসছে না ,,,
অফিসে গিয়ে কি হবে কাজে তো কিছুতেই মন বসবে না,,,
তবুও অফিসে গেলাম ,,,
অফিসে কিছু সময় থাকলাম,,,
ঘড়িতে দেখি দুপুর ২ টা বাজে ,,,
নয়নকে সব কাজ দেখিয়ে দিয়ে আমি হাসপাতালে গেলাম ,,,
সোজা রোজা যে রুমে আছে সেই রুমে আসলাম ,,,
ভিতরে ঢুকে আমি অবাক ,,,
“”” আব্বু আম্মু ,,, তোমরা কখন আসলে,,,
আব্বু আমার সামনে এসে আমায় একটা থাপ্পড় দিলো,,,
কিন্তু কেন দিলো সেটা বুঝলাম না ,,,,
“”” পরীর মতো একটা মেয়ে এখানে একা একা আছে আর তোর কোনো দায়িত্ব নেই,,,
“”” আসলে আব্বু ,,,
“”” রুহী তুই চুপ থাক মা,, যা বলার আমি বলছি ,,,
“”” আব্বু আমি অফিসে ছিলাম ,,,
“”” এটার থেকে তোর অফিস বড় হয়ে গেল ,,,, মেয়েটা কি রুহীর একার,,,, রুহীকেই সব করতে হবে ,, কেন তোর কোনো দায়িত্ব নেই ,,,
“”” আমি তো আসতে ,,,, ( আমাকে বলতে না দিয়েই আবার আব্বু বলতে শুরু করলো )
“”” সকাল থেকে মেয়েটা কিছু খেয়েছে কি না একবার ও খোঁজ নিয়েছিস,,,,
“” আব্বু আমি তো ,,,
“”” তোকে কিছু বলতে হবে না ,, একবার আমরা আমাদের মেয়ে কে হারিয়েছি কিন্তু আবার হারাতে চাই না ,,, আমরা রুহীর সাথে ওর বাসায় যাবো,, তুই তোর টাকা নিয়ে থাক,,,

আমি কিছু বললাম না ,,,
শুধু মাথা নিচু করে সব শুনলাম ,,,
আব্বু কথাগুলো বলে বাইরে চলে গেল,,,
আম্মু ও আব্বুর পিছনে পিছনে গেলো,,,,

“”” আম্মু ও কে??
( রোজা আমায় দেখিয়ে বললো,,, ))
“”” আমি তোমার আব,,,,,
“”” উনি তোমার আংকেল আম্মু ,,,
( নিজের মেয়ের মুখে আংকেল ডাক শুনতে হচ্ছে এর থেকে কষ্টের আর কি হতে পারে ,,, )
“”” হ্যা মামনি আমি তোমার আংকেল ,,,
“”” কিন্তু তোমায় তো আগে দেখি নি ,,,
“”” আমি তোমার অনেক দূরের আংকেল তো তাই ,,,

রোজা হয়তো কিছু বলতো কিন্তু
চোখের পানি আর বাধা মানছে না,,
এই বোধ হয় বেরিয়ে গেলো,,,
তাড়াতাড়ি উঠে বেরিয়ে আসলাম ,,,
।.
..

….

..
.

সিনিয়র বউ Part-8

 

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *