সিনিয়র বউ । রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প

# সিনিয়র বউ
সম্পূর্ণ গল্প

নিধি আপুর সাথে দেখা করাটা বেশ
প্রয়োজন।
গতো কয়েক দিন ধরে তার সাথে দেখা হয়না।
২ ব্যাচ সিনিয়র হওয়ায় বেশ সম্মান দিয়েই চলতে হতো।
একদিন কলেজ ছুটির পর গেইটে দাঁড়িয়ে আছি, কখন বৃষ্টি থামবে এই আশায়।
বেশ কিছুক্ষণ এইভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে নিধি আপু আমাকে ডাকলেন।
কি ব্যাপার আবির??
এইভাবে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কি দেখতেছিস?????
তার কথাটা শুনে বেশ লজ্জায় পড়ে গেছিলাম।
যাইহোক পরিস্হিতি সামলে নিয়ে বললাম হয়েছে কি আপু বাইরে তো বৃষ্টি হয়।
আমার আবার ভিজলে বেশ সমস্যা হয় তাই দাঁড়িয়ে আছি।
নিধি আপু আমার কথাটা শুনে ব্যাগ থেকে একটা ছাতা বের করে বললেন এইটা নিয়ে যা কালকে আবার ফেরত দিবি।
মনে মনে বেশ খুশিই হলাম আকাশের যা অবস্হা তাতে বৃষ্টি থামার কোন চিন্হই নেই।
কিন্তু হটাৎ করে আমাকে ডেকে ছাতা দেওয়ার কি কোন কারন আছে????
বেশ ভাবার বিষয়।
পরের দিন কলেজে গিয়ে নিধি আপুকে ছাতাটা ফেরত দিলাম।
যাবার সময় আপু বললো আবির কলেজ ছুটির পরে তোর কোন কাজ আছে???
ছুটির পরে আমার সাথে দেখা করবি বলেই চলে গেলো।
আমিও তাই বাধ্য ছেলের মতো ছুটির পরে অপেক্ষা করতে থাকলাম।
একটু পরেই উনি এসে বললেন আবির একটা রিকশা ডাক তো।
আপুর কথা মতো রিকশা ডেকে দিলাম।
উনি উঠে পরলেন আর আমি দাঁড়িয়ে আছি।
ঠিক তখনি নিধি আপু বলে উঠলেন কিরে ক্যাবলার মতো দাঁড়িয়ে থাকবি না কি উঠবি রিকশা তে।
বেশ অবাক হলাম বলে কি মেয়েটা আমি নাকি তার সাথে রিকশা করে ঘুড়বো।
আমাকে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ধমক দিয়েই বললেন আমার কথা কি তোর কানে যাচ্ছে না????
কি আর করার বাধ্য হয়ে উঠে পড়লাম।
বাতাসে নিধি আপুর চুলগুলো উড়ছে। কেমন জানি পাগল করার মতো একটা ঘ্রান আসছে নাকে।
মনের খুশিতে মুখ থেকে গান বেড়িয়ে গেলো-
এই পথ যদি না শেষ হয় তবে কেমন হতো বলতো????
খেয়াল করলাম নিধি আপু বড় বড় চোখ করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। নিধি আপুর সাথে বেশকিছুক্ষন ঘোরাঘুরি করে বাসায় এসে ঘুমিয়েছিলাম।
ঘুম ভাংলো আম্মুর ডাকে।
ফ্রেস হয়ে আম্মুকে বললাম নাস্তা দিতে।
নাস্তার বদলে উনি উপদেশ দিচ্ছেন আমি নাকি ঠিকমতো পড়াশোনা করছিনা।
সন্ধ্যার দিকে বেশি বেশি আড্ডা দেই।
তাই এখন প্রতিদিন সন্ধ্যার সময় নিধি আপুদের বাসায় পড়তে যেতে হবে।
আম্মুর কথা শুনে অবাক না হয়ে পারলাম না।
এই বয়সে প্রাইভেট তাও আবার নিধি আপুর কাছে।
আম্মুকে অনেক ভয় পাই তাই আর না করতে পারলাম না।
আপুদের বাসায় গিয়ে নক করলাম।
আন্টি দরজা খুলে দিয়ে আপুর রুমে বসতে বললেন।
অনেকক্ষণ হলো বসে আছি তার আসার কোন খবর নাই।
উঠতে যাব এমন সময় তার আগমন হলো।
মেয়েটা আজকে শাড়ি পড়েছে তাও আবার হলুদ শাড়ি। কপালে টিপ।
অন্যরকম একটা পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই সময় আমার কি করা উচিৎ ঠিক বুঝতেছিলাম না।
আমাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বললেন এভাবে দেখতে হয়না মায়ায় পরে যাবো তো
[ads2]
আর তোর জন্য ভুনা খিচুড়ি রান্না করতেছি খেয়ে যাবি।
আজকে আর পড়তে হবে না বলেই চলে গেলেন।
কিন্তু আমি নিধি আপুর কথা ও কাজের কোন আগামাথা বুঝতেছি না।
আমার প্রতি এতো কেয়ারিং হওয়ায় কি কারন???
এখন প্রতিদিন নিধি আপুদের বাসায় যাই। পড়তে যাওয়া আমার উদ্দেশ্য না, ওখানে গেলে বিভিন্ন রকমের রান্না করে খাওয়াতো আমাকে।
খাবারের লোভ কার না থাকে বলেন????
ইদানীং নিধি আপু বেশ সময় আমাদের বাড়িতে কাটায় কখনো আম্মুর সাথে রান্না আবার কখনো আব্বুর সাথে দাবা খেলা।
আমি এসব বিষয় নিয়ে মাথা ঘামানোর প্রয়োজন মনে করতাম না।
পাশাপাশি বাসা তারপরে আবার বাবার বন্ধুর মেয়ে সেই সুবাদে তো আসতেই পারে।
কিছুদিন পরে সন্ধ্যা সময় বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে বাসায় ফিরে দেখি আব্বু আর নিধিু আপু গল্প করছে।
আব্বুর কথাগুলো এমন ছিলো –
দেখ মা তোর বাবার অবস্থা ও ভালো না কখন কি হয় বলা যায় না।
তাই বলছি তুই আর না করিস না।
কালকে ছেলেটার সাথে দেখা কর, আগামী সপ্তাহে বিয়ের কাজটা সেরে ফেলতে চাচ্ছি।
আমাকে দেখে আব্বু বললেন আবির তুই কালকে নিধির সাথে যাবি।
নিধি আপু আজ ওনেক সুন্দর করে সেজেছে,দারুন লাগছে মেয়েটাকে দেখতে।
কফিশপে গিয়ে দেখি ছেলেটা আমাদের আগেই এসেছে। পরিচয় পর্বটা সেরে নিলাম,নিধি আপু আমাকে ইশারা করলেন অন্য টেবিলে গিয়ে বসতে। পারসোনাল কথাবার্তা বলবে হয়তো ।
বের হওয়ার সময় খেয়াল করলাম নিধি আপু বেশ খুশি, হয়তো ছেলেটা তার পছন্দ হয়েছে।
হ্যা যেমনটা ভেবেছিলাম তাই নিধি আপু ছেলেটাকে পছন্দ করেছে আর তিন দিন পরেই বিয়ে। বিয়েটা যেহেতু আব্বুই ঠিক করছেন তাই বিয়ের সব আয়োজন আমাদের বাড়িতেই হবে।
বিয়ের ডেকোরেশন এবং লাইটিং এর সব দায়িত্ব আমার কাধে পরেছে।
আজকে নিধি আপুর বিয়ে, বউ এর সাজে কেমন লাগছে কেন জানি খুব দেখতে ইচ্ছে করছিলো।
তাই আর দেরি না করে চলে গেলাম দেখি সবাই আপুকে নিয়ে ব্যাস্ত।
আমাকে দেখে তার রুমে গিয়ে বসতে বললেন।
একটু পরে নিধি আপু হাতে একটা ব্যাগ নিয়ে আসলেন।
আবির এখানে পাঞ্জাবি আর পায়জামা আছে পড়ে নিবি আর হ্যা রেডি থাকবি বলেই চলে গেলো।
একটা বিষয় বুঝতে পারলাম না রেডি থাকতে বলার কারন কি????
যাইহোক এতো কিছু ভেবে কাজ নাই নিধি আপুর দেয়া পাঞ্জাবি আর পায়জামা টা পরেই নিলাম নিজেকে কেমন যানি বর বর মনে হচ্ছে।
বরযাত্রী আসার সময় হয়ে গেছে
বাইরে গিয়ে দেখি বাবা আর আলফাজ আংকেল এক জায়গাতে বসে কি জানি আলাপ করতেছে,
বাবার চোখেমুখে স্পষ্ট চিন্তার ছাপ।
কাছে গিয়ে জানতে পাড়লাম বর আসবে না মেয়ে নাকি খারাপ, অন্য ছেলের সাথে সম্পর্ক আছে।
খুব দ্রুতই খবর চারিদিক ছড়িয়ে পরলো যে বিয়েটা আর হচ্ছে না।
এই মুহুর্তে নিধি আপুর কি অবস্থা দেখা দরকার, গিয়ে দেখি নিধি আপু বেশ স্বাভাবিক,
মনে হয় সে কিছুই জানেনা।
আব্বু নাকি আমাকে খুজছে তাড়াতাড়ি সেখানে গেলাম আব্বু আমাকে দেখে বললেন পাঞ্জাবি পায়জামা তো পরেই আছিস আর বর যেহেতু আসবেনা তাই বিয়েটা তোকেই করতে হবে।
আমি আব্বুকে বললাম এটা কোন ভাবেই সম্ভব না আমি এখনো পড়াশুনা শেষ করিনি চাকরিবাকরি কিছু করিনা বিয়ে করে বউ কে খাওয়াবো কি?????
আব্বু আমার কথা শুনে খুব রেগে গিয়ে বললেন হারামজাদা আমার টাকাপয়সা কি কম আছে তোর মতো আর একজন কে পালতে কি আমার কষ্ট হবে??
মুখে মুখে তর্ক করলে থাপ্পড় দিয়ে সব কটা দাত ফেলে দিবো।
বুঝতে আর বাকি রইলো না যে মাইনকা চিপায় পরে গেছি। এখন নিধির দেয়া পাঞ্জাবি পায়জামার কথা মনে পড়ছে রহস্য তো আছে বটে।
কি আর করার এখন এসব ভেবে কোন লাভ হবে না তাই রোবটের মতো বিয়েটা করেই নিলাম।
বাসায় মেহমান দের বিদায় করতে করতে ১২ টার মতো বেজে গিয়েছে।
গতো দুইদিন অনেক ধকল গেছে ঘুম পাচ্ছে খুব রুমে গিয়ে দেখি নিধি আপু কার সাথে যানি কথা বলছে
[ads1]
ধন্যবাদ মিলন সাহেব।
আপনার সহযোগীতা না পেলে গাধাটাকে আপন করে পেতাম না খুব সহজে, আর হ্যা আপনার দেয়া পাঞ্জাবিটা তে ওকে খুব মানিয়েছে।
ওহ মনে পরেছে নিধি আপুর সাথে যে ছেলেটার বিয়ে ঠিক করেছিলেন তার নামই তো মিলন।
তাহলে এই কাজটা কি ওদের প্লান করা ছিলো। মেয়েটা আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে আর আমি অবাক হচ্ছি।

(গল্পটা কেমন হইছে আপনাদের মতামত কামনা করছি।)

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *