সেই মায়া মাখা মুখ _ কষ্টের ভালোবাসার গল্প

ইসিতার একটা ছবি ছিলো মোবাইলে। সেই মায়া মাখা মুখ। চির চেনা হাসি।

সেটাও ডিলিট করে দিছি। শুধু শুধু মায়া বাড়িয়ে কি লাভ? তার ব্লক লিস্টে আমি আজ চার মাস। ভাবতেই অবাক লাগে যে মানুষটা জাহিদ ছাড়া কিছু বুঝতো না আজ সেই জাহিদ কে ইসিতা দু চোখেও দেখতে পারে না।
অবশ্য দোষটা আমারই ছিলো। কি দরকার ছিলো ইসিতাকে প্রপোজ করার?এমিনেই তো অনেক ভালোছিলাম।
কথায় আছে না অতি চালাকের গলায় দড়ি। আমারো একি দশা।
(কি হয়েছিলো চার মাস আগে? চলুন দেখে আসি।)
.
ssc দেওয়ার পর নতুন কলেজে এডমিশন নিলাম। গ্রামের বাড়ি ভোলা। সেখান থেকেই মাধ্যমিকটা শেষ করে এখন ঢাকায় একটা মাঝারি টাইপের কলেজে ভর্তি হলাম।
কলেজের মাঠে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি। বাব্বাহ এতো বড় কলেজ।
তখনি পিছন থেকে ডাক,
-এইযে মিস্টার! বিজ্ঞান ভবন টা কোন দিকে?(ইসিতা)
আমি ইসিতার দিকে একনজর তাকালাম, চেহারাটা পরীর মত না হলেও হাসিটা পরীকেও হারমানাবে। চোখ ফিরানো যায় না।
-এই যে, বয়রা নাকি! (ইসিতা)
-জ্বী না, আমিও খুঁজতেছি, বিজ্ঞান ভবন। (আমি)
-তাহলে মাঠের মাঝখানে কি করেন, আকাশের তারা গুনেন? (ইসিতা)
-আপনার মত সুন্দরীদের কে দেখি!
-what?
-না মানি খুঁজতেছি আমিও।
-তাইলে চলেন এক সাথে খুঁজা যাক।
আমি ইসিতার পিছন পিছন খুঁজতে লাগলাম।
কিছুক্ষন পর,,,
-আমি মেয়ে মানুষ আমার পিছন পিছন হাটতে লজ্জা করে না আপনার?(ইসিতা)
-আমারা ক্লাসমেট লজ্জার কি আছে? (আমি)
-আমার সাথে পরিচয় না হলে কি আপনি মাঠের মধ্যেই দাঁড়িয়ে থাকতেন?
-হয়তো বা!
-আজব তো!By The Way, আমি ইসিতা। আপনার নাম?
-আমি জাহিদ, গ্রামের বাড়ি ভোলা। এখানে বুবুর বাসায় থাকি। বাসা বেশি দূর না কলেজ থেকে ৫ টাকা বাস ভাড়া। (আমি)
-এতো কিছু জানতে চাইনি।
-যদি প্রয়োজন হয় তাই বলে দিলাম।
কিছুক্ষন খুঁজার পর আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্থান পেয়ে গেছি ।
ইসিতা চলে গেলো, নিজের মনে। আমি একটা বেঞ্চে গুটি মেরে বসে পরলাম।
আজকে কলেজ লাইফের প্রথম দিন। তাই কারো সাথে পরিচয় হয়নি ।
ইসিতার সাথেই প্রথম পরিচয়। ক্লাসে তিন চার জনের সাথে কথা হয়েছে, সবার সাথে পরিচিত হতে হলে একটু সময় নিতে হবে।
ক্লাস চলাকালীন কত বার যে ইসিতার দিকে তাকিয়েছি মেয়েটা একটা বারও ফিরে চাইলো না।
সন্দরী হলে যা হয় আরকি?
প্রথম দিনটা ভালোভাবে কাঁটলো। বিশেষ করে ইসিতার সাথে পরিচিত হয়ার পর দিনটার মাধুর্যতা তিন গুন বৃদ্ধি পেলো।
আমাদের ঘনিষ্ঠ হতে বেশি সময় লাগলো না। মাত্র এক সাপ্তাহ এর ব্যবধানে আমরা আপনি থেকে সরাসরি তুই তে পৌছে গেলাম।
আমরা দুজন বেস্ট ফ্রেন্ড। কলেজ লাইফে যত কথা বলেছি তার তিন ভাগের দুই ভাগ ইসিতার সাথে বাকি এক ভাগ অন্যদের সাথে।
দেখতে দেখতে চারটা মাস পার হলো, । এরি মধ্যে আমি ইসিতার প্রতি ফিদা হয়ে গেলাম। কথায় আছে না একটা ছেলে আর একটা মেয়ে কখনো বেস্ট ফ্রেন্ড আকারে থাকতে পারে না।
এখন ইসিতা কথা বলতে গেলে তার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকি । কথার মধ্যে তুমি করেও বলি, তাতে ইসিতা একটু মাইন্ড করে।
.
আজ তিনদিন ইসিতা আমার সাথে কথা বলছে না। সধু রাগ দেখায়।
একলা একলা থাকে। আমার থেকে দূরে দূরে থাকে।
আমি অনেক বার কথা বলার বৃথা চেষ্টা করলাম।
ইসিতার এক বান্ধবীর সাথে কথা বলে ইসিতার ব্যাপারে কিছু জানতে পারলাম।
কথা গুলো আমার গায়ে কাঁটার মত গাঁথলো, ।
” ইসিতার একটা রিলেশন আছে, । এই কলেজ লাইফে তাদের রিলেশন শুরু। এখন আমার জন্য তাদের রিলেশনে সমস্যা হইতেছে। আমার জন্য ইসিতা কে অনেক বকা শুনতে হয়। তাই ইসিতা আমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিলো। ”
কথা গুলো শুনার পর মনটা একে বারেই ভেঙে গেলো। ইসিতাকে কত ভালোবাসি সেটা এখন হারে হারে বুঝতে পারি। তার চিন্তাই সারাটা দিন পার হয়।
দুঃখ একটাই ইসিতাকে ভালোবাসি কথাটা বলা হয়নি।
.
আজ প্রতিজ্ঞা করলাম ইসিতাকে প্রপোজ করবো। যেই ভাবা সেই কাজ, । কলেজে এসে ইসিতাকে খুঁজতে লাগলাম।
পেয়েও গেলাম ।
-তোর সাথে কিছু কথা ছিলো , (আমি)
ইসিতা শুনেও না শুনার ভান করলো।
আবার ডাক দিলাম
-ইসিতা,,
– প্লিজ জাহিদ ডিস্ট্রাব করিস না, আমাকে, (ইসিতা)
আমি আর কিছু না ভেবেই সরাসরি বলে দিলাম,,
-I LOVE YOU,
ইসিতা রাগ সামলাতে না পেরে আমার গালে দুইটা বসিয়ে দিলো, । পুরো ক্লাসরুমটা নিস্তব্ধ হয়ে গেলো।
-কি ভাবিস নিজেকে তোর সাথে কথা বলেছি সে জন্য তোকে আমি পছন্দ করি? তোকে ইগনোর করি কি জন্য বুঝছ না ? তোর জন্য আমার প্রবলেম হইতেছে বুঝছিস! আর কোনোদিন আমার সামনে আসবি না। (ইসিতা)
সেইদিন টা কেমন করে পার হলো জানি না।
তারপর থেকে কলেজে যাওয়া হয় না। গেলেও একা একা থাকতে হয় মন মরা হয়ে। সেইদিনের ঘটনার পর আমার সাথে কেউ ভালোভাবে কথা বলে না।
নিজের গ্রামে চলে আসলাম, । আমি ঢাকা আর দুই দিন থাকলে আমার মৃত্যু অবধারিত থাকতো।
(এই ছিলো আমার চার মাস আগের ইতিহাস)
.
মোবাইল থেকে ইসিতার ছবিটা ডিলিট করে দিলাম। আমি তাকে ভুলে যেতে চাই। নিজিকে বুঝালাম বামুন হয়ে চাঁদে হাত দিতে নেই।
গ্রামের দিন গুলো ভালো ভাবেই কাঁটতে লাগলো । এরি মধ্যে ইসিতার কথা প্রাই মনে পরতো। তখন চোখের পানি ঝরানো ছাড়া আর উপায় থাকতো না। একবার মনে হত আবার ঢাকা চলে যাই ইসিতাকে একটা নজর দেখে আসি।
পরে বিবেক বাধা দিলো । সে আমাকে দেখলে কি মনে করবে।
বলবে ছেলেটার লাজ নেই, এত অপমানের পর আবার আসছে।
চলবে,,,,,,,

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *