স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসা । গল্পটা পড়ার অনুরোধ থাকল

আমার আব্বু আম্মুর সংসার জীবন ছিল মোট ১৮ বছর। এর মাঝে আমি পেয়েছি ১৪ বছর। এই চৌদ্দ টা বছরে একদিনের জন্য কখনো….. কোনদিন…..
তাদের মাঝে ঝগড়া বা মনোমালিন্য দেখিনি!
আব্বু মারা যাবার পর আম্মুকে আমি বলেছিলাম,
আচ্ছা আম্মু! তোমাদের কি জীবনেও ঝগড়া হয়নি? ঝগড়া ছাড়া কি কোনদিন এতবড় একটা জীবন পাড়ি দেয়া যায়?
আম্মু বলেছিলেন, ঝগড়া হয়নি এটাই সত্য। আমি রাগ করলে তোমার আব্বু চুপ থাকতো৷ সে রাগ করলে আমি চুপ থাকতাম।। 

 

[ads2]


আব্বু আম্মুর বোঝা পড়াটা এত দারুন ছিল তার সামান্য উদাহরণ দিই।
প্রতিবার খাবার শেষ করে 
আব্বু উঠে যাবার সময় পানির গ্লাস টা ভর্তি করে আম্মুর দিকে এগিয়ে দিতেন।

বাহির থেকে আব্বু আসার পর যদি আমরা কেউ দরজা খুলতাম, আব্বু দরজায় প্রশ্ন করতেন “তোমার আম্মু কোথায়”?
.
এমন আরো অজস্র কিছু আছে….
সেসব তো স্মৃতি….
আম্মুর ব্যাপারটা ভাবি… একজন মানুষের প্রতি কতটুকু সুধারণা থাকলে এত ঝড়, এত বিপর্যয়, এত চরম অনিশ্চয়তার মাঝে আগামী জীবনে তাকে পাবার প্রত্যাশায় এই জীবনটা কাটিয়ে দেয়া যায়??
আম্মুর জীবনের এই চরম অনিশ্চয়তায় আমি তার সন্তান না হয়ে কখন যেন বন্ধুতে পরিনত হয়ে গিয়েছিলাম… তাই গল্পে গল্পে একদিন আম্মু আমাকে বলছিলেন, তোমার আব্বুকে কখনই আমার মনে হয়নি যে সে আমার স্বামী! মনে হত সে বুঝি এখনো আমার প্রেমিক!!
কিছু প্রলভনও ছিল… আম্মুর উত্তর ছিল একটাই.. ” এত ভালবাসা তো কেউ দিতে পারবেনা”!

এই কথাগুলো কেন বলছি?
আসলে আজকাল আমরা বড্ড বেশি হিসেবী!
স্বামীরা স্ত্রীদের, স্ত্রীরা স্বামীদের পারস্পরিক অধিকারের বয়ান শোনান আর
“আমার এই অধিকার আমি পেলাম না”।
সেই নিয়ে ঝগড়া, অশান্তি…. দ্যান দরবার… এমনকি ডিভোর্সও হচ্ছে। একজনের জন্য অপরজনের ত্যাগ টা যদি মানুষ মূল্যায়ন করত! বুড়া স্বামী আর বুড়ি বৌয়ের প্রতি প্রেম হত প্রথম প্রেমের মত প্রবল।

ভালবাসাটা এমন নয় যে কয়টা রোমান্টিক ছবি ফেসবুকে আপলোড করলেই আমাদের বোঝাপড়াটা ভাল।
ভালবাসাটা হলো এমন…. প্রেমিক বা প্রেমিকা হওয়াতে!

আসল ব্যাপারটা হলো স্বামী স্ত্রী একে অপরের জন্য কতটা পারফেক্ট তা নয়… আসল ব্যাপারটা হলো তারা কে কার জন্য কতটা কম্ফর্টেবল।

আব্বুর গাদা গাদা ডিগ্রী, গাদা গাদা সার্টিফিকেট… মোটা একটা ফাইলে এখনো আমরা যত্ন করে রেখেছি। সেখানে আম্মুর হয়ত ন্যাশনাল আইডি কার্ড আর এমন কয়টা সরকারী কাগজ ছাড়া নিজের বলতে তেমন কিছুই নেই।
আজ আব্বুর সার্টিফিকেট পড়ে আছে। আব্বু নেই..
কিন্তু আম্মুর তো সার্টিফিকেট নেই।
স্মৃতি আছে….. কারণ তারা তো পারফেক্ট হতে চায়নি। হতে চেয়েছিল কম্ফর্টেবল!

লেখা: আতফিয়া সাদিয়া

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *